ইরান একপেশে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, তারা দেশের বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের পর সীমাহীন ইন্টারনেটের প্রবেশাধিকার পুনরায় চালু করবে না। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই চলমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ব্যবহারে করে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করতে পারে, যা দেশের নাগরিকদের জন্য এক প্রকার প্রযুক্তিগত একান্ততা সৃষ্টি করবে।
ইন্টারনেট স্বাধীনতা সংস্থা ফিল্টারওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাধারণ সেন্সরশিপ ব্যবস্থা ছাড়াও একটি সম্পূর্ণ পৃথক জাতীয় সিল করা ইনট্রানেট চালু করতে চাইছে। এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদন বা সুরক্ষা যাচাই প্রাপ্ত ব্যক্তিরাই এই স্বল্প পর্যায়ের নেটওয়ার্কে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। সর্বসাধারণের জন্য থাকবে শুধুমাত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, বাইরের দুনীর সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এক ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক, যেখানে নাগরিকরা সীমিত কার্যকলাপ করতে পারবেন।
সম্প্রতি মাসব্যাপী দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমন করতে ইরান দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ফোন, ইন্টারনেট সেবা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন, যারা তিনি বলছেন সহিংসতা ছড়াচ্ছে এবং প্রতিবাদকারীদের সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই প্রতিবাদকদের সমর্থন প্রকাশ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা মূলত বিক্ষোভ দমন কার্যক্রমের আড়ালে প্রকৃত সত্যটিকে গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঢাকাধীচ্ছে। মার্কিন ভিত্তিক সংস্থা এইচআরএনএর তথ্যে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন, মূলত প্রতিবাদকারীরাই। তবে দেশ ত্যাগ করা ইরানিরা বলছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।