Author: bangladiganta

  • সব রেকর্ড ভেঙে দেশের বাজারে সোনার দামে নতুন ইতিহাস

    সব রেকর্ড ভেঙে দেশের বাজারে সোনার দামে নতুন ইতিহাস

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা মতে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২,৬২৫ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, যার ফলে ভালো মানের সোনার দাম এখন দুই লাখ ৩৪ হাজার টাকারও বেশি। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের মূল্য।

    বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। নতুন এই দাম ১৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটির মতে, এই দামবৃদ্ধির মূল কারণ হলো বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়া। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম এখন প্রতি আউন্স ছাড়িয়েছে ৪ হাজার ৬২০ ডলার।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম এখন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।

    অপরদিকে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রূপার দাম অপরিবর্তিত আছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।

  • মোবাইল ফোন আমদানি শুল্ক কমলে দাম পড়বে কম

    মোবাইল ফোন আমদানি শুল্ক কমলে দাম পড়বে কম

    মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের উদ্যোগে আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দ্বারা। একই সঙ্গে, দেশের মোবাইল উৎপাদনকারীদের জন্য ব্যবহৃত উপকরণের আমদানি শুল্কও ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেন এনবিআর। সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    নতুন ঘোষণায় জানানো হয়েছে, মোবাইল ফোনের আমদানিতে বিদ্যমান ৬০ শতাংশ শুল্ক কমে এসে এখন আরামদায়কভাবে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি, দেশীয় মোবাইল প্রস্তুতকারকদের জন্য উপকরণের আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে, উপকরণ আমদানির শুল্কও ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে এখন মাত্র ৫ শতাংশে নেমেছে।

    এনবিআর বলছে, এই শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্য থাকার মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫,৫০০ টাকা কমে যাবে। একইভাবে, ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশের তৈরি মোবাইলের দাম প্রায় ১,৫০০ টাকা হ্রাস পাবে।

    এই শুল্ক ও করের হ্রাসের ফলে মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সহায়ক হবে এবং দেশের নাগরিকরা সহজে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার। সরকারের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে যাতে সব ধরনের মোবাইল ফোনের মূল্য সাধ্যের মধ্যে থাকে।

  • নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের ঠেকাতে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির

    নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের ঠেকাতে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির

    জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) কঠোরভাবে নিশ্চিত করেছে যে, ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের কোনোভাবেই আগামী নির্বাচনেও অংশগ্রহণের ছাড় দেওয়া হবে না। দলটির একান্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ঘোষণা এসেছে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর স্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে, যেখানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনে বর্তমানে পেশিশক্তির প্রদর্শনী অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে অনেক মানুষ শত শত জনসাধারণ নিয়ে হাজির হচ্ছে, কেউ কেউ আইনজীবীদের মহড়াও দিচ্ছেন। এ অবস্থা সম্পূর্ণরূপে সুষ্ঠু ও নিখুঁত নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না করে উল্টো বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।”

    আসিফ মাহমুদ আরও যোগ করেন, “বিএনপির কাছ থেকে আমরা ইঙ্গিত পেয়েছি, তারা তাদের নিজস্ব অন্তর্দৃষ্টির দারে গণতন্ত্রের দাবিদার হলেও, তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা সরাসরি গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ভোটের স্বচ্ছতা অসম্ভব হয়ে উঠছে।”

    দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বললেন, “যারা এক সময় দেশের সম্পদ চুরি করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে, কঠোরভাবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে ওঠা এই ব্যক্তিরা এখন বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করছে, যা বেআইনি। দ্বৈত নাগরিক হেফাজতে কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারে না, তা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।”

    তিনি হুঁশিয়ার করেন, “যদি এই নির্বাচনেও এসব অযোগ্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে প্রতিবাদ করতেই প্রস্তুত থাকবো। এই নির্বাচন কমিশনকে কোনওভাবেই দায়সারা বা অস্পষ্ট নির্বাচন করার অনুমতি দেওয়া হবে না।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মুসা। এই দলের দৃঢ় এ অবস্থান, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুসংগঠিত ও নিরপেক্ষ রাখতে নিরন্তর সচেতনতা ও প্রতিরোধের বার্তা দেয়।

  • রুমিন ফারহানা থেকে হুমকি: বললেন, ‘আমি না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার’

    রুমিন ফারহানা থেকে হুমকি: বললেন, ‘আমি না বললে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার’

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর একটি ইউনিয়নসহ) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন পরিচালনা করতে গেলে, সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান হেনস্তা ও হুমকির শিকার হন।

    ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন রুমিন ফারহানা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তিনি তাকে বলেন, আমি শেষ বারের মত আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি, আমাকে আর এ ধরনের কথা শুনতে চাই না। যদি পারো, থামিয়ে দাও। আজ আমি ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলছি, পরবর্তীতে এরকম করবেন না। এছাড়াও তিনি যোগ করেন, অন্যরা আপনাদের বেআইনিভাবে কাজ করতে দেয়, খোঁজ নিয়ে দেখো।

    রুমিন ফারহানা আরও জোর দিয়ে বলেন, আমি রুমিন ফারহানা। আমি কোনো দলের পক্ষ নি। বললেন, যদি আমি না বলি, আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার, মাথায় রাখবেন। বললেন, যারা এখন আপনাদের সাথে কাজ করছে, তারা শেখ হাসিনার সময়ে কানে ধরে খাটের নিচে থাকত।

    উল্লেখ্য, এই বিধি লঙ্ঘনের অভিযানে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, তারা নির্বাচন আচরণবিধি ১৮ এর সরাসরি লঙ্ঘন করে সমাবেশের আয়োজন করে। বিষয়টি নিয়মের বাইরে থাকায় আমরা সেখানে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা দিই। তাদের চলে যাওয়ার সময়, অনুষ্ঠানের আয়োজক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রত্যাখ্যাত হয়ে সমাবেশের আয়োজন করতে না পেরে, ওই প্রার্থী আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আমি এই বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবগত করেছি।

  • ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জুলাই যোদ্ধারাও অবদান রেখেছেন: তারেক রহমান

    ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জুলাই যোদ্ধারাও অবদান রেখেছেন: তারেক রহমান

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যদি ক্ষমতায় আসে বিএনপি, তবে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জুলাই যোদ্ধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই দিন তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন। তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ২০২৪ সালে জুলাই যোদ্ধারা সক্রিয় ছিলেন। যদি বিএনপি ক্ষমতায় যায়, তবে তারা জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আলাদা একটি বিভাগ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় অংশগ্রহণ করেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।

  • ছাত্রদলের মুখোমুখি নির্বাচন কমিশন, তিন অভিযোগে ঘেরাও

    ছাত্রদলের মুখোমুখি নির্বাচন কমিশন, তিন অভিযোগে ঘেরাও

    এয়োথ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও করেছে। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংগঠনের ঘেরাও কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয় হলো ব্যালট পেপার। ভোটের প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার করার জন্য কিছু ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। এই সব আচরণের পেছনে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ইন্ধন রয়েছে বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা।’

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতোই আমাদের হেয় করার জন্য তারা (নির্বাচন কমিশন) একের পর এক এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

    এর পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি স্বারকলিপি सौপর্দ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    তাদের তিনটি মূল অভিযোগ হলো:

    1. পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।

    2. একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে, দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

    3. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিতর্কিত নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।

  • তারেক রহমানের ঘোষণা: জুলাই যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা, পৃথক দপ্তর খোলার প্রতিশ্রুতি

    তারেক রহমানের ঘোষণা: জুলাই যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা, পৃথক দপ্তর খোলার প্রতিশ্রুতি

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তারা ৭১ সালের মতই মুক্তিযোদ্ধা। যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের কষ্টের কথা মাথায় রেখে একটি বিশেষ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সংযুক্ত পৃথক বিভাগ তৈরি করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ে যা গণহত্যা হয়েছে, তা স্রেফ এক ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড।

    আজ সোমবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া সবাই মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘তাঁরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন। একইভাবে, চব্বিশে যোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ করেছেন।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা ও স্বাধিকার রক্ষার জন্য। আবার ২০২৪ সালে যুদ্ধ হয়েছে এই অধিকারকে রক্ষা করতে। তাঁর মতে, জুলাই যোদ্ধাদের সাহসী ভূমিকার কারণে ফ্যাসিবাদী শাসকরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।’

    বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘চব্বিশের আন্দোলন কোনও এক ব্যক্তির বা দলের বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়। এটি ছিল জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। যারা স্বাধীনতা রক্ষার এই আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

    তারেক রহমান ভবিষ্যতের নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা জানি, যদি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে ব্যর্থ হই, তাহলে পরবর্তী সময়েও এ ধরনের শোকসভাই করতে হবে। এখন আমাদের উচিত, আর কোনও শোকসভা নয়, বরং জনগণের বিজয়গাঁথা রচনা করা।’

    তিনি জানিয়ে দেন, জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিএনপি একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি রাখছে। ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দেশের মানুষের সমর্থনে যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে জুলাই যুদ্ধের শহীদ ও আহত পরিবার, যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের কষ্টগুলো কিছুটা হলেও লাঘব করার জন্য আমরা একটি নতুন বিভাগ তৈরি করব এই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে। এই বিভাগের দায়িত্ব হবে তাঁদের দেখাশোনা ও যত্ন নেওয়া।’

    মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।

  • আইনজীবীর মন্তব্য: পার্টিকেই নিষিদ্ধ করেছে, ব্যক্তিকে নয়

    আইনজীবীর মন্তব্য: পার্টিকেই নিষিদ্ধ করেছে, ব্যক্তিকে নয়

    জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুল রহমানেল মাছউদ বললেন, সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করলেও কোনো ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করেনি। আজ রোববার, ১৮ জানুয়ারি, নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিলের শেষ দিনের শুনানিতে আইনজীবীর যুক্তিতর্কের সময় এই মন্তব্য করেন তিনি।

    বিশেষ করে টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে আপিল শুনানির কেন্দ্রে ছিল। ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. লিয়াকত আলী, যিনি অভিযোগ করেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নিষিদ্ধ দলের নেতা হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।

    শুনানিতে লিয়াকত আলীর আইনজীবী যুক্তি দেন, দল নিষিদ্ধ থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচন করার কোনও বাধা নেই। এসময়, নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। এই মন্তব্যের পর, সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর, নির্বাচন কমিশন আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নের বৈধতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

    উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন সময়সূচির অংশ হিসেবে, মনোনয়নপত্র বাছাই, আপিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ এবং ভোটগ্রহণের নির্দিষ্ট তারিখগুলি নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমান সূচী অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত।

  • অস্ত্র লুটের সংক্রান্ত নিশ্চিতকরণ: নির্বাচনকালে ব্যবহার হবে না

    অস্ত্র লুটের সংক্রান্ত নিশ্চিতকরণ: নির্বাচনকালে ব্যবহার হবে না

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের লট হওয়া অস্ত্র কোনওভাবেই ব্যবহার হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশের হাতে থাকা বা লুট হওয়া অস্ত্রের কোনও অপব্যবহার ঘটবে না, সেটি আমি অত্যন্ত নিশ্চিত।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী সদরদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা সহকারী পুলিশ সুপারদের জন্য অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজের সমাপ্তিতে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণের পরে এই কথা জানান তিনি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, যেহেতু সীমান্ত থেকে অস্ত্রপ্রবেশসহ নানা চেষ্টার মাধ্যমে কিছু অস্ত্র দেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করা হয়, তবে পুলিশের সংগ্রামের ফলস্বরূপ সেগুলো উদ্ধার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় পুলিশ সদস্যরা কোনও ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। তারা কোনও প্রার্থী বা তার এজেন্টের কাছ থেকে খাবার বা অন্য কোন সুবিধা নিতে পারবেন না।

    এমন নিঃস্বার্থ ও পেশাদার পুলিশি দায়িত্বের মাধ্যমে আশা করা যায়, এ বার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    উল্লেখ্য, দেশের জঙ্গি ও চরমপন্থি গ্রুপসমূহ আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছিলেন, জঙ্গিবাদ বর্তমানে বলতে গেলে কমে গেছে। তবে কিছু ফ্যাসিস্ট জঙ্গি থাকলেও তারা এখন অন্য দেশে অবস্থান করছে, এবং ফেরত এনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরী ও অন্যান্য অতিথিরা।

    কুচকাওয়াজে অংশ নেন ৪১তম বিসিএস (পুলিস) ব্যাচের ৮৭ জন, ২৮তম বিসিএস এর ১ জন, ৩৫তম বিসিএস এর ৩ জন, ৩৬তম বিসিএস এর ১ জন, ৩৭তম বিসিএস এর ২ জন ও ৪০তম বিসিএস এর ২ জন প্রশিক্ষণার্থী।

    বিশেষ অবদানের জন্য এই ব্যাচের মধ্যে বেস্ট প্রবেশনার হিসেবে পুরস্কার পান সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। পাশাপাশি আরও বেশকিছু অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়: বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড পান মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ ও বেস্ট শ্যুটার হিসেবে সালমান ফারুক। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

    এই ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী, যারা ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চাকরির প্রথম দিন শুরু করবেন, আজকের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে মুখে বাস্তব জীবনযাত্রায় প্রবেশ করছেন। তারা বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের প্রকৃত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।

  • চিফ প্রসিকিউটর: ‘মব’ শব্দ ব্যবহারের আগে সংযত থাকুন

    চিফ প্রসিকিউটর: ‘মব’ শব্দ ব্যবহারের আগে সংযত থাকুন

    আলোচনায় বক্তারা মামলা জট, বিচারক সংকট ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক দৃঢ়প্রতিজ্ঞা থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও দৃঢ়তা দেখাতে হবে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে দেশের বিচার ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও নিরপেক্ষ হতে পারে।