আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামনের দিকে এগিয়ে আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার এবং বিএনপি থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ মো. শহিদুল আলম। নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তারা নিজেদের হলফনামা জমা দেন, যেখানে তাদের অর্থ-সম্পদ ও আয়ের বিশদ বর্ণনা রয়েছে।
বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের ব্যক্তিগত স্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থের পরিমাণ মাত্র ৩ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে ২০ হাজার টাকা জমা রয়েছে। তিনি ১০ তোলা স্বর্ণের মালিক হলেও কোনও স্থাবর সম্পদ নেই। তার মাসিক আয় ব্যবসা থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। পারিবারিক সম্পদের ক্ষেত্রে তার স্ত্রী মিসেস ফাতিমা বেগমের নামে ব্যাংকে ২ লাখ টাকা, ১০ তোলা ওজনের স্বর্ণালংকার ও এক লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান তার তিন ছেলের নামেও রয়েছে বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ, যার মধ্যে রয়েছে চারটি ফ্ল্যাট, দুইটি কৃষি জমি ও বিভিন্ন অপ্রতিভ ভূখণ্ডের মালিক।
অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশারের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ১ হাজার ৫১২ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৮৬ হাজার ৪শ’, ব্যাংকের লভ্যাংশ ৫১ হাজার ৬২৬ টাকা এবং মাদ্রাসায় চাকরির বেতনের মাধ্যমে তিনি মোট আয় করেন ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৬ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদি অর্থ আছে ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৩০ টাকা, ব্যাংক জমা ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৩ টাকা এবং একটিমাত্র গড়ি রয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তার কাছে রয়েছে ৩ একর কৃষি জমি ও ২০ বিঘার অংশে যৌথ মালিকানাধীন জমি। বিগত সরকারের সময় তার নামে বেশ কিছু মামলা দায়ের হয়েছিল, যার মধ্যে দুটি মামলা বর্তমানে চলমান আছে।
বিপরীতে, বিএনপি থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মোঃ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের মোট সম্পদ রয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৫০ লাখ, এবং স্থাবর সম্পদ প্রস্তুত প্রায় এক কোটি টাকা। তার নগদ অর্থের পরিমাণ ৩৫ হাজার ১১৮ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৭ টাকা, কোম্পানির শেয়ার ২৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪ টাকার, এবং একটি ২৬ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি। স্থাবর সম্পদ হিসেবে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ১৩৪.৫২ শতক কৃষি জমি, বসত বাড়িসহ আরও কিছু অপ্রতিবর্তনীয় সম্পদ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, তার বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ ৫ হাজার ৮৩১ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খামার থেকে আয় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা, শেয়ার কেনা-বেচা থেকে ৪ লাখ ৪ হাজার quadrিশ ষসে, চিকিৎসা পেশা থেকে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৭ টাকা, জমি ক্রয় বিক্রয় থেকে ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩ টাকা এবং ব্যাংকের সুদ থেকে ২০ হাজার ৭৫ টাকা আয় করেন। তাঁর স্ত্রীর নামে আছে আরও বিশাল সম্পদের হিসাব—১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৬ টাকার আয়ের পাশাপাশি তার পৈত্রিক সূত্র, দানপত্র, নানা অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে totaling প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরা-৩ আসনে বর্তমানে মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা চারজনের মনোনয়ন বাতিল করেন এবং কিছু প্রার্থী আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীতা ফেরত পান। এই আসনে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি থেকে কাজী আলাউদ্দীন, জামায়াত থেকে হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার, জাতীয় পার্টি থেকে মোঃ আলিফ হোসেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে রুবেল হোসেন, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মোঃ শহিদুল আলম।
