Author: bangladiganta

  • বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকলেও র‍্যাংকিংয়ে ইমন-সাইফ-জাকেরের উন্নতি

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকলেও র‍্যাংকিংয়ে ইমন-সাইফ-জাকেরের উন্নতি

    নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলেও বাংলাদেশের তিনজন ব্যাটার—পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান ও জাকের আলি অনিক—আইসিসির র‍্যাংকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি করেছেন। বুধবার প্রকাশিত আইসিসির সাপ্তাহিক আপডেটে দেখা গেছে, দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকলেও এই ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে এসেছেন।

    পি-টেন্টি ব্যাটিং র‍্যাংকিংয়ে পারভেজ হোসেন ইমন ২ ধাপ এগিয়ে ৪১ নম্বরে পৌঁছেছেন। এর আগে তার রেটিং পয়েন্ট ছিল ৫৪২, যা তার ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ। সাইফ হাসান ২ ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ৪২তম স্থানে এসেছেন, আর জাকের আলি একইভাবে ৭২তম অবস্থানে পৌঁছেছেন।

    অপরদিকে, কিছু ক্রিকেটার অবনতি ঘটেছে। তানজিদ হাসান তামিম (২১তম) ও লিটন দাস (৫৪তম) র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়েছে। তবে তাওহিদ হৃদয় অবস্থা অপরিবর্তিত রাখে ৪৭ নম্বর পদে রয়েছেন।

    বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ৯ নম্বরে নিজের অবস্থান ধরে রাখলেও অন্যদের পারফরম্যান্স বেশ অবনমন ঘটিয়েছে। শেখ মেহেদি (২১), রিশাদ হোসেন (২৭), নাসুম আহমেদ (৩৫) ও তানজিম সাকিব (৪৯) র‍্যাংকিংয়ে বড় পতন দেখা গেছে। অলরাউন্ডারদের মধ্যে সেরা চল্লিশে বাংলাদেশের কেউ নেই; শেখ মেহেদি ৪৫ নম্বরে নেমে গেছেন।

    ভারতের অভিষেক শর্মা টপ ব্যাটিং র‍্যাংকিংয়ে প্রথম স্থানে রয়েছেন, তার পয়েন্ট ৮৭৭। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফিল সল্ট, আর তৃতীয়ে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান।

    বোলিং র‍্যাংকিংয়ে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী শীর্ষে থাকলেও অন্যদের মধ্যে রশিদ খান অবস্থান ধরে রেখেছেন। বিশাল চমক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশ ২১ ধাপ এগিয়ে ৩ নম্বরে পৌঁছেছেন। এছাড়া, জাসপ্রিত বুমরাহ ৭ ধাপ এগিয়ে ৮ম স্থানে রয়েছেন।

  • নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে শ্রীলঙ্কা বিদায় নিল সেমিফাইনাল থেকে

    নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে শ্রীলঙ্কা বিদায় নিল সেমিফাইনাল থেকে

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে শ্রীলঙ্কাকে জয়ই করতে হত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড তাদের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে বন্ধ ঘোষণা করে জয় পায় ৬১ রানে। এর ফলে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়, আর বিপরীতে নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যায়। দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। যদি পাকিস্তান হারে শ্রীলঙ্কার কাছে, তবে নিউজিল্যান্ডের জন্য হেরেও চলে যাবে তারা সেমিফাইনালে। আবার, যদি স্যান্টনাররা ইংল্যান্ডকে হারাতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে সেরা চারদলে পৌঁছে যাবে। তবে, পাকিস্তান যদি শ্রীলঙ্কাকে হারায় এবং নিউজিল্যান্ড শেষ ম্যাচে হারে, তখন রানরেটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এ জয়ের ফলে নিউজিল্যান্ড দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, পাকিস্তান এক পয়েন্টে তৃতীয় স্থান ও স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দুটি হারে তলানিতে।

    ম্যাচের শুরুতেই নীল আকাশের নিচে জোড়ালো শুরু করে নিউজিল্যান্ড। প্রথম বলেই পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাটারকে ফেরান কিউই পেসার ম্যাট হেনরি। পাথুম নিশাঙ্কা শূন্যরানে আউট হন, আর তৃতীয় ওভারেই চারিথ আসালাঙ্কাকেও আউট করেন তিনি। আসালাঙ্কা যিনি ৯ বল খেলেছেন, সতর্কতার সাথে মাত্র ৫ রান করেন।

    এরপর রাচিন রবীন্দ্র তার স্পিন বোলিং দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে কোণঠাসা করে ফেলেন। একের পর এক ব্যাটার কে ফিরিয়ে নিয়ে ম্যাচের কৌশল অধিকার করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে প্রত্যেকে আলাদাভাবে রান করেন — কুশল মেন্ডিস ১১, পাভান রতœায়েক ১০, দলের অধিনায়ক দাসুন শানাকা ৩ ও দুশমান্থা হেমন্ত ৩।

    অপর দিকে, দুনিথ ভেল্লালাগেকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান কামিন্দু মেন্ডিস। কিন্তু এই লড়াই ম্যাচ জয় করতে যথেষ্ট ছিল না। ২৩ বলে ৩১ রান করে আউট হন তিনি। ভেল্লালাগে থাকেন ২৯ রানে। অন্যরা অবদান রাখেন চামিরা ৭ রান ও থিকসানা ২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ফলশ্রুতিতে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৭ রান করে।

    নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট পান রাচিন রবীন্দ্র, যা তার আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং ফিগার। এছাড়া দুটি উইকেট পান ম্যাট হেনরি।

    ম্যাচের শুরুতে টস জিতে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। ওপেনার ফিল অ্যালেন ঝাঁকি দিতে চাইছিলেন, কিন্তু চতুর্থ ওভারেই থিকসানার বলে শূন্যরানে ফেরেন। তিনি ১৩ বল খেলেছেন, ২৩ রানে আউট। অন্য ওপেনার টিম সেইফার্ট মাত্র ৮ রানে থাকেন।

    তৃতীয় উইকেট জুটিতে রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস বলে সফলতা দেখান। দুজন গড়েন ৪৩ রানের জুটি। এরপর ব্যাটিংয়ে গতি ধীর হয়ে গেলে পাকিস্তানিরা বেশ কষ্টে পড়েন। ১২ থেকে ১৬তম ওভার পর্যন্ত মাত্র ১৫ রান আসে। রাচিন ৩২, ফিলিপস ১৮, মিচেল ৩ ও চ্যাপম্যান শূন্যরানে আউট হন।

    শেষ চার ওভারে চাপ মোকাবিলা করে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন দলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চি। দুজনের জুটি গড়ে ৮৪ রান। স্যান্টনার ২৬ বলে দুটি চার ও চার ছয়ে ৪৭ রান করেন। আর ম্যাককঞ্চি ২৩ বলের মধ্যে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন।

    শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন মহেশ থিকসানা ও দুশমান্থা চামিরা। এক উইকেট পান দুনিথ ভেল্লালাগে।

  • বিশেষ রাসায়নিক স্প্রে করে শিশির নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় দল

    বিশেষ রাসায়নিক স্প্রে করে শিশির নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় দল

    চেন্নাইয়ের মাঠে সন্ধ্যার পর থেকে শিশিরের প্রভাবটি অনেক সময় ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত এই সময়ের শিশিরের কারণে ব্যাটিং ও বলের গ্রিপে সমস্যা হয়, যা খেলোয়াড়দের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, জেতার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখতে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা এক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করছে, যা অ্যান্টি-শিশির স্ট্রিপ বা রোড কোটের মতো কাজ করে। এটি এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের আউটফিল্ডে স্প্রে করে শিশিরের প্রভাব কমানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই রাসায়নিকের নাম ‘ডিউ কিউর’, যা মূলত আমদানি করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের মেজার লিগ বেসবলের জন্য ব্যবহৃত ভেন্যুগুলিতে। মঙ্গলবার ও বুধবার দুপুরে আউটফিল্ডে পানি মিশিয়ে এই রাসায়নিক স্প্রে করা হয় এবং আজ (বৃহস্পতিবার) আবার একই প্রক্রিয়া চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ম্যাচ শুরুর সময় পর্যন্ত এর কার্যকারিতা বজায় থাকে।সূত্রের ভাষ্য, একবার এই রাসায়নিক স্প্রে করার পর ঘাসের পাতা আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না। ভেজা ভাব দ্রুত শুকিয়ে যায়, ফলে শিশিরের প্রভাব কমে যায় এবং ম্যাচে ফলাফল পরিবর্তনে এটি সহায়তা করে। ভারতীয় ক্রিকেটাররাও অনুশীলনের সময় মাঠের পরিস্থিতি পরীক্ষা করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল matches এর জন্যও এই উপায় ব্যবহার হতে পারে, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। আগামী মাসে আইপিএল শুরু হলে সব ভেন্যুতেই এটি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে, কারণ অতীতে শিশিরের কারণে ম্যাচের ফলাফলে পরিণতি әсер করেছে।

  • নাহিদ-লিটনের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে নর্থ জোনের সহজ জয়

    নাহিদ-লিটনের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে নর্থ জোনের সহজ জয়

    নিজেদের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় পাওয়ার পরেও সাউথ জোনের জন্য বলতে হয়নি। আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বোর্ডের ক্রিকেট লিগে নর্থ জোনের সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা। আফিফ হোসেন ও সৌম্য সরকার ব্যাটিংয়ে কিছুটা প্রতিদান দিলেও, বল হাতে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়রা তাদের দাপটে ভেঙে পড়ে সাউথ জোন। এর ফলে টানা দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে পৌঁছে গেছে নর্থ জোন।

    প্রথমে ব্যাট করে সাউথ জোন ৩০ ওভার ৫ বলেঃ ১৪৪ রান করে অলআউট হয়। তাদের জবাবে নর্থ জোন ম্যাচের অবশিষ্ট ১৪০ বল রেখে ৬ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট হয়েছে ৪, যা ফাইনালে উঠার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। অন্যদিকে, সাউথ জোনের পয়েন্ট এখন ২, তাদের জন্য এখনো ফাইনালে ওঠার দরজা খোলা থাকলেও শেষ ম্যাচে ইস্ট জোনের বিপক্ষে জিততেই হবে।

    সাউথ জোন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে। ওপেনার আনিসুল ইসলাম প্রথম বলে ফিরে যান। এরপর জাওয়াদ আবরার ১০ রানে ফেরেন। সৌম্য সরকার ও আফিফ হোসেন ধ্রুবও ব্যর্থ হন, ফলে দল উদ্বিগ্ন। ১৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ মিথুন ও নুরুল হাসান সোহানের জুটির শুরু হয়, যেখানে মিথুন ব্যক্তিগত ২৪ রানে রানার শিকার হন।

    রবিউল হককে নিয়ে নতুন করে জুটি বাঁধার চেষ্টা করেন মিথুন। ২২ বলের ক্যামিও ইনিংসে ২৯ রান করেন তিনি, কিন্তু রবিউল ফেরেন ১২০ রানে। এরপর আর টেলেন্টেড ব্যাটসম্যানদের সহায়তায় ইনিংস খুব বেশি এগোতে পারেনি। নিজে ফিফটি পূর্ণ করেন ও ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন। সাউথ জোনের বোলার মুস্তাফিজুর রহমান ৫ ওভার বল করে ২৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন, যা ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত।

    জবাবে, নর্থ জোনের শুরুটা কঠিন ছিল। প্রথম ২৮ রানে তাদের তিন উইকেট পড়ে। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা সামলে নেন। চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও লিটন কুমার দাসের মধ্যে ৮০ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। হৃদয় ৩৩ রান করে ফেরেন, সেখানে লিটন দাসের অবদান ছিল অপরিহার্য। তিনি ৬৫ বলে ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন, দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান।

    নর্থ জোনের তিনজন ক্রিকেটার- এস এম মেহরব, নাহিদ রানা ও লিটন দাস গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স করেন। গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেটের জন্য, ম্যাচের সেরা হিসেবে নির্বাচিত হন নাহিদ রানা।

  • ভারত জিতলো but সেমির স্বপ্ন রাখল জিম্বাবুয়ে

    ভারত জিতলো but সেমির স্বপ্ন রাখল জিম্বাবুয়ে

    সুপার ৮ পর্বের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানের হারের পর ভারতের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আদৌ পথ খোলা ছিল কি-না, তা নিয়ে ছিল উদ্বেগ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭২ রানের দাপুটে জয় যেন ভারতের আশা জাগিয়ে দেয় এবং তাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা অব্যাহত রাখে। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচ হারায় সিকান্দার রাজা ও তার দল এই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল।

    জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করা শুরু করে। দুই ওপেনার কল্যাণের থেকে দুর্দান্ত সূচনা পায় স্বাগতিক দল, এরপর আরও ইতিবাচক ছিলেন אחרים। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী রানের গতি ধরে রাখতে পারেননি ব্যাটাররা, ফলে কিছুটা ব্যবধান কমলেও জেতার জন্য দরকার ছিল আরও বেশি রান।

    ম্যাচে চোখ এড়ানোর মতো পারফরম্যান্স দেন ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। তিনি ৫০ পূরণের পর ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন, এবং মাত্র ৩ রান প্রয়োজন ছিল সেঞ্চুরি করতে। মাঠ ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি করেন ৯৭ রান, ৫৯ বলে আটটি চার ও ছয়টি ছয়ে সাজানো এটি।

    অপর ওপেনার মারুমানি ২০ বলে ২০ রান করে আউট হন। দ্বিতীয় উইকেটে ডিওন মায়ার্স করেন ৬ রান। দলনেতা সিকান্দার রাজা ২১ বল থেকে ৩১ রান করেন। অন্যরা বেশির ভাগই ব্যর্থ হন; রায়ান বার্ল রান পাননি, টনি মুনয়োঙ্গা ১১, মুসেকিয়া ৭ ও ব্র্যাড ইভান্স ১ রান করে মাঠ ত্যাগ করেন। এভাবে, জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হয় ১৮৪ রানে, যা তাদের জন্য একটি সংগ্রামমূলক স্কোর ছিল। ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অর্শদিপ সিং, যিনি তিনটি উইকেট নিয়েছেন।

    এর আগে, চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। দ্রুততর আক্রমণাত্মক শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার। ১৫ বলে স্যাঞ্জু স্যামসন আউট হওয়ার পরেও পাওয়ার প্লে-তে ভারত ৮০ রান তোলে। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটি গড়েন তারা। ইষাণ কিষাণ ২৪ বলে ৩৮ রানে আউট হন।

    অভিষেক শর্মা মাত্র ২৬ বলে ফিফটি তুলে নেন, কিন্তু এরপর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ৫৫ রানে আউট হন তিনি। তার এই ইনিংস চারটি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব শুরুর ধাক্কা সামলে ১৩ বলে ৩৩ রান করেন।

    দুইজনের প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সের পর, হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা পঞ্চম উইকেট জুটিতে খুবই সাবলীলভাবেই ব্যাট করেন। এই জুটিতে তারা ৩১ বলে ৮৪ রান তোলেন। হার্দিক পান্ডিয়া ফিফটি করেন ২৩ বলে, যেখানে তিনি চারটি চার ও চারটি ছয়সহ ৫০ রান করেন। তিলক ১৬ বলের ইনিংসটি চারটি চার ও চারটি ছয়ে ৪৪ রানে রূপ দেন। পুরো ২০ ওভার শেষ করে ভারত করে ৪ উইকেটে ২৫৬ রান।

    জিম্বাবুয়ের পক্ষে একটি করে উইকেট পান চারজন বোলার।

  • ইলহান ও রাশিদাকে মার্কিন থেকে বহিষ্কার করা উচিত: ট্রাম্পের দাবি

    ইলহান ও রাশিদাকে মার্কিন থেকে বহিষ্কার করা উচিত: ট্রাম্পের দাবি

    ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি নিজেকে একজন ক্ষ্যাপাটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত, তার এই ব্যতিক্রমী আচরণ আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। তিনি সম্প্রতি তার স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণের সময় বিক্ষোভের মধ্যে দুই মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইবকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, এই দুই সংরক্ষিত নারী জননেতাকে ‘যেখান থেকে এসেছিলেন, সেখানেই ফেরত পাঠানো উচিত’। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের অভিবাসননীতি এবং তার প্রশাসনের সমালোচকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    বিশেষ করে, তারা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান রাশিদা তালাইব এবং সোমালি বংশোদ্ভើতা ইলহান ট্রাম্পের ও তার প্রশাসনের অভিবাসন দমননীতির সমালোচনা করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের ভাষণের সময়, তিনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় কথা বলেন এবং চেয়েছিলেন যেন এই দুই মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাম্প বলেন, তারা কেবল দেশটিকে ক্ষতি করতে পারে, দেশের জন্য কোনো উপকারী কাজ করতে পারে না।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার তিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছিলেন, এই দুই নারী কুটিল ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, এবং তাদের যেন অবিলম্বে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি আরও গালাগালি করে দাবি করেন, তারা অসুস্থ, মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং কম বুদ্ধিসম্পন্ন।

    ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সময়, তার দুটি ভাষণে উল্লেখযোগ্য ছিল যখন তিনি বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধের অভয়ারণ্য’ শহরগুলো বন্ধ করা প্রয়োজন—যেখানে অভিবাসন ও কাস্টমস এজেন্সির সঙ্গে অসহযোগিতা দেখা যায়। এ সময়, ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইব অসহযোগিতার প্রতিবাদে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘আপনাদের হাত দিয়ে আমেরিকানদের হত্যা করা হচ্ছে!’ এই ঘটনাগুলো আবারও স্পষ্ট করে দেয় ট্রাম্পের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন ও উত্তেজনা কতটা বেড়ে গেছে।

  • আফগান সেনাদের নির্মম আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক ক্ষতি এবং জীবিত ধরে নেওয়ার দাবি

    আফগান সেনাদের নির্মম আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক ক্ষতি এবং জীবিত ধরে নেওয়ার দাবি

    খাইবার পাখতুনখাওয়ায় আফগানিস্তান সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় সম্প্রতি সংঘটিত এক তীব্র সংঘর্ষে ৪০টি পাকিস্তানি সেনা চৌকি দখল করেছে আফগান সেনারা। এর সাথে অতিরিক্ত অভিযোগ তুলেছে তারা, যে, ব্যাপক সংখ্যক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন ও কিছু সেনা জীবন হারিয়েছেন, তাদেরকে জীবিত ধরে নেওয়া হয়েছে।

    এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে গত সপ্তাহে ঘটানো এক বিমান হামলার উত্তরে। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, তীব্র এই লড়াইয়ে পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও পরিষ্কার করেছেন যে, অনেক সেনাকে হত্যা করা হয়েছে এবং কিছু সেনা জীবন বাঁচিয়ে ধরে আনা হয়েছে।

    আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এই হামলার পেছনে মূলত নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাব হিসেবে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে।

    তাদের দাবি, এই সংঘর্ষে অন্তত ৪০টি পাকিস্তানি সেনা চৌকি দখল করা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি সেনারা পাল্টা দাবি করছে, আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে ব্যাপকসংখ্যক সেনা নিহত হয়েছে এবং তারা সীমান্তের অনেক চৌকি ধ্বংস করে দিয়েছেন।

    এই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে তোলো নিউজের সূত্র ও বয়েনের রিপোর্ট।

  • আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা ও কাবুলে হামলা

    আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা ও কাবুলে হামলা

    আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন তীব্র পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার বেশিরভাগ কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের হামলা ও পাল্টা হামলা। এরই মধ্যে কাবুল, কান্দাহার এবং অন্যান্য প্রান্তে পাকিস্তানের আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি সেনারা এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং আরও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

    বিবিসি জানাচ্ছে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এক্সে সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর ভাষায় আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণা আসার পরই পাকিস্তানি বাহিনী বিভিন্ন বড় শহর ও প্রদেশে ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে। কংক্রিটে, এই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তান সর্বোচ্চ কূটনৈতিক ও সামরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, পাকিস্তানি পচার বা আর্মি ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা হয়েছে। এ অভিযানে, কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারের বেশ কিছু সেনা চৌকি ধ্বংস করা এবং আরও কয়েকটি দখল করেছে পাকিস্তানি বাহিনী।

    মোশাররফ জাইদি আরও জানান, বিমান থেকে বোমা বর্ষণে আফগান সেনাবাহিনীর দুইটি হেডকোয়ার্টার, তিনটি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, দুইটি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টির বেশি ট্যাংক ও বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি অস্ত্র ধ্বংস হয়েছে।

    অপরদিকে, এক বছর আগে, অক্টোবর মাসে, দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও সবসময়ই বিচ্ছিন্নভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতেও পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়ে বেশ কিছু এলাকা ধ্বংস করে। তবে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানি বিমান বাহিনী লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে। তারাও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ‘এর বদলা তারা নেবে।’

    বুধবার কারো দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান খাইবার পাখতুনখোয়ার ডুরান্ড এলাকার পাকিস্তানি সেনা চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ এই হামলার কথা জানালেও পরে তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেননি। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, বিভিন্ন সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

    সম্প্রতি, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের নানা প্রদেশে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, এই আক্রমণ তালেবানপন্থি সংগঠনের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। তবে তালেবান এই ধরনের আক্রমণের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে, বলছে তারা লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে।

    কিছু দিন আগে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তে পাকিস্তানি সেনা ও তালেবানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তালেবান পক্ষের দাবি, পাকিস্তানি সেনারা রাতে তাদের চৌকি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ চালু করে, যা এখন যুদ্ধযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে তালেবানকে বাহিনী হিসেবে সমর্থন দেয় পাকিস্তান। তবে পরে তারা অভিযোগ তোলে যে পাকিস্তান তালেবানের পকা আশ্রয়দাতা। দীঘদিন ধরে পাকিস্তান প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পাকিস্তান আরও ৬০০টির বেশি হামলার শিকার হয়েছে।

    দীর্ঘ সীমান্তের প্রায় ১৬০০ মাইল (প্রায় ২৫৭৪ কিলোমিটার) দীর্ঘ এ পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে এই অশান্তি চলমান রয়েছে। দেশ দুটির মধ্যে এই সংঘর্ষের প্রভাব এখনও পুরোপুরি কমেনি।

  • পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা নিহত!

    পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা নিহত!

    পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আবারও উত্তেজনার পারদ চড়ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়েছে, যার নাম ‘অপারেশন গজব-লিল হক’। এই অভিযানের ফলে আফগানিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)-এর ইউরোপ শাখা।

    বৃহস্পতিবার ভোরে এক্স (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) এ সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। ওসিন্টের দাবিসা অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর হামলায় কাবুলে তালেবান সরকারের শীর্ষ এই নেতা ও তার সাথে থাকা কিছু উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে এটি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর তালেবান ক্ষমতা গ্রহণ করে। হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সেই সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও নীতিনির্ধারণী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    অভিযোগ রয়েছে, এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিমান বাহিনী নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে অভিযানে নামে। এই হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন বলে আফগান পক্ষের দাবি। এর প্রতিক্রিয়ায় আফগান সেনারা ডুরান্ড লাইনে হামলা চালায়।

    এদিকে, শুক্রবার ভোরে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় পাকিস্তান আবারও হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে আফগান তালেবানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন। তালেবানের মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, কান্দাহার প্রদেশের দামান জেলায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বোমাবর্ষণ হয়েছে, যদিও এতে কেউ হতাহত হয়নি। সেখানে তালেবান সীমান্ত রক্ষা দলের একটি ঘাঁটি রয়েছে।

    তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের সীমান্তে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগান নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং কিছু পাকিস্তানি সৈন্যকে আটক করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, এই হামলায় ৫০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন, তবে এই সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    অপরদিকে, পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আফগান তালেবানের ২৭টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের বাহিনীর।

  • ইরানের তিন পারমাণবিক কেন্দ্র ভেঙে ফেলার শর্ত দিলো যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের তিন পারমাণবিক কেন্দ্র ভেঙে ফেলার শর্ত দিলো যুক্তরাষ্ট্র

    সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই আলোচনা হয়েছে। এর পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভবিষ্যতে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।

    মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নজর ছিল এই বৈঠকে কোন সমঝোতা হয়ে ওঠে কি না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল সূত্র জানিয়েছে, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য একটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। সেটি হলো, ইরানকে তাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র—ফোর্ডো, নাতানজ ও ইসফাহান—ভেঙে ফেলে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, ইরানের কাছে থাকা সকল সমৃদ্ধকরণকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র আরও বলছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এখন শূন্যে নামিয়ে আনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। তবে স্বাস্থ্যসেবা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানোর জন্য কিছু সীমিত পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে পারে।

    অন্যদিকে, যদি ইরান এই শর্তগুলো মানতে রাজি হয়, তবে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা দেওয়া হবে—অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা মুক্তি পেতে পারে। তবে, এই শর্ত মানা গেলে ভবিষ্যতে আরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যদি ইরান এই চুক্তি মানবে না, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে, ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে রণতরীসহ এক ডজনের বেশি যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করেছে। এ ছাড়াও, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের মতো যুদ্ধজাহাজও ওই অঞ্চলে উপস্থিত হচ্ছে।

    এই সমস্ত কর্মকাণ্ড ও আলোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের সূত্রে।