বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (6 জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন। কথাগুলো বলার সময় তিনি উল্লেখ করেন, অনেকের জন্য আশার কথা ছিল যে, এলপিজির দাম আরও বাড়বে। কারণ বিইআরসি ইতিমধ্যে দাম ৫৩ টাকা নয়, বরং আরও বেশি কিছু নির্ধারণ করেছে। এর কারণে অনেক ব্যবসায়ী সুযোগ নেওয়ার চেষ্টাও করছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রত্যেক জেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করতে। এ বিষয়ে গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়েছে। উপদেষ্টার মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনও কারণ নেই, বরং এটি এক ধরনের কারসাজি। সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের মাধ্যমে। কারা এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত, তা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, মূলত খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলেমিশে এই ব্যাপারটি ঘটিয়েছে।
Author: bangladiganta
-

ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শুধুমাত্র সরকারের পক্ষে মূল্যস্ফীতির হার কমানো সম্ভব নয় যদি না ব্যবসায়ীরা তাদের সহযোগিতা প্রকাশ করে। তিনি আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো খুবই চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত বেশ স্থিতিশীল হয়েছ, কিন্তু এখনি সুদের হার কমানো সহজ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির সহযোগিতা ছাড়া সরকারের পক্ষে মূল্যে নিয়ন্ত্রণ আনা কঠিন।
অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, দীর্ধ দিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে বেশ অনিয়মের মাধ্যমে কিছু সুবিধাভোগী ঋণ নিয়ে লোপাট ও অর্থ পাচার করেছে, যার ফলে ব্যাংক খাতের অবস্থা খুব খারাপের দিকে গড়িয়েছে। পরবর্তীতে অস্থায়ী সরকারের সময় এসব দুর্নীতির তথ্য বের হয়ে আসে এবং ব্যাংকখাতে নানা সংস্কার চালু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হলেও বর্তমানে ব্যাংকিং খাত বেশ স্থিতিশীল। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ব্যাংক সুদের হার কমালে সমাধান হয় না, কারণ মূল্যস্ফীতি কেবল আর্থিক নীতির ওপর নির্ভর করে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ট্রেজারি বিলের হার কমে গেছে, যা বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে। যদি সরকার ট্রেজারি বিল বা ঋণ বাড়ায়, তবে মানুষ ব্যাংকে অর্থ রাখবেন না, বরং সঞ্চয়পত্র বা ট্রেজারি বিলের দিকে ঝুঁকবে, যা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, ব্যাংক সংস্থাগুলি মূলত সঞ্চয় ও ক্রেডিটের মাঝে সম্পর্ক তৈরি করে, যা ব্যাংকারদের পাণি।
অর্থাৎ, তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংকিং খাত সাধারণত স্থিতিশীল থাকলেও, ইনফ্লেশনের মাত্রা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইনফ্লেশন নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধুমাত্র মনিটারি নীতিই যথেষ্ট নয়, বরং অর্থনীতির অন্যান্য দিক নিয়েও নজর দিতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, শুল্ক বা জরিমানা দেওয়ার মাধ্যমে বা চাঁদাবাজি করে সমস্যা সমাধান হয় না।
অর্থ উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, কমিউনিটি, হোলসেলার ও রিটেইলার ট্রেডারদেরও সহায়তা দরকার। বাজারের স্বচ্ছতা ও মনিটরিংয়ের জন্য সরকারের সহায়তা জরুরি। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ফিসক্যাল ও মনিটারি নীতির পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থা ও অন্যান্য সংগঠনের সহযোগিতা ও সজাগ দৃষ্টি দরকার।
অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এখনো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বস্তি আনার জন্য অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি পরবর্তী সরকারকে সব ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিবিএ) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
-

এক দফা কমার পর ফের বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বেড়ে গেছে, এক দফা কমার পরই এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ১০৫০ টাকা বাড়ানোর মাধ্যমে ২২ ক্যারেটের সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এই নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্পূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি মানে, এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লক্ষ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা।
আরও জানা যায়, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা। সবশেষে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য হতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জানুয়ারি বাজুস দেশে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল, তখন ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের দামের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। সেই সময়ে অন্য ক্যাটাগরির দামও কমানো হয়েছিল।
এটি হলো এই বছর দেশের বাজারে পঞ্চমবারের মত সোনার দাম সমন্বয়, যেখানে দাম তিন দফা বেড়েছে আর কমেছে দু’দফা।
-

৫ অগাস্টের আগে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা নয়: তারেক রহমান
বিএনপি নতুন নেতৃত্বে গঠিত হলে জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে দলের নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এখনো ৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। তিনি উল্লেখ করেন, আমার সামনে দুটি উদাহরণ রয়েছে—একটি, ১৯৮১ সালের জানাজা; অন্যটি, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজা। এর পাশাপাশি, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ঘটনাও আমার মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই সব ঘটনা শুধুমাত্র আমার নয়, বরং আমাদের দলের নেতাকর্মীদের এবং সাধারণ দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। আমাদের মনে রাখা উচিত, অতীতের এই সময়গুলো ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় এক হোটেলে সংবাদসংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান আরও বলেন, ৫ অগাস্টের মতো হিংসা, প্রতিশোধের উদ্রেক হলে যার পরিণতি কী হতে পারে তা আমরা দেখেছি। এজন্য আমি সকলের প্রতি অনুরোধ রইল—মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের চেষ্টা করে মূল্যবান আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। কখনো যেন এসব মতবিভেদ বিভেদে পরিণত হয় না, কারণ বিভেদ দেশের একটি বৃহত্তর ক্ষতি করে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেকের মুখে হতাশার কথা শোনা যায়, তবে ভবিষ্যত প্রজন্মের মনে এখনও আশা রয়েছে এবং পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ফিরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন পরিবারের সাথে। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। এই শোকের মধ্য দিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যেই শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এরপরই প্রথম কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করতে উপস্থিত হন তিনি। ঢাকার এক সাংবাদিকের কাছে মাননীয় সম্বোধন ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট পদক্ষেপ জানিয়ে বলেন, দয়া করে আমার নামের আগে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করবেন না। তিনি বলেন, দেশে ফিরে আসার পরে আমি বিভিন্ন স্থানেই গিয়েছি, যেমন সাভার এবং অন্যান্য এলাকায়। আমি মনে করি, তরুণ সমাজ নতুন গাইডেন্স এবং আশার স্থান খুঁজছে। প্রত্যেক প্রজন্মের জন্যই সেই গাইডেন্সের প্রয়োজন। আমি বুঝতে পারছি, আমরা যারা রাজনীতিতে আছেন, আমাদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে, কিন্তু সব কিছু পূরণ সম্ভব না। তবে যদি আমরা ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে সামনে রেখে দেশাধীন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে আমি বিশ্বাস করি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে একটি সঠিক দিকনায়না দিতে পারব।
-

জাতীয় পার্টির ৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পেলেন
জাতীয় পার্টির মোট ২৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে চারজনের প্রার্থিতা শনিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে বৈধতা পেয়েছেন। রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টার দিকে শুনানি শেষ হওয়ার পর জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, সারাদেশে জাতীয় পার্টির জন্য মোট ২৪৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ২৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। আজকের শুনানিতে ৯ জনের প্রার্থিতা শুনানি হয়, এর মধ্যে চারজনের প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে অন্য একজনের প্রার্থিতা স্থগিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশাবাদী আমাদের সব প্রার্থী বৈধ বলে বিবেচিত হবে। যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তাদের মধ্যে একটি ছিল যিনি তিতাস গ্যাস বিলের বকেয়া নিয়ে সমস্যার কারণে প্রার্থীতার জন্য অযোগ্য হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি বকেয়া বিল পরিশোধের পর পুনরায় আবেদন করেছেন। অন্য একজনের ক্ষেত্রে প্রার্থী ফরম জমা দেওয়ার পর তা গ্রহণ না হওয়ার কারণে পুনরায় জমা দেওয়া হয়েছে। আরেকজনের ক্ষেত্রে বৈধ নাগরিকত্বের সনদ না থাকায় প্রার্থিতা গ্রহণ হয়নি, তবে পরে সেটা জমা দেওয়া হয়েছে।
মহাসচিব উল্লেখ করেন, আপিল শুনানির মধ্যে যেখানে প্রার্থিতা স্থগিত হয়েছে, সেখানে তার কারণ হলো ওই প্রার্থী ভুলক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
-

তাসনিম জামা ফুটবল প্রতিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকের জন্য ভোট চান। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে তিনি এ কথা প্রকাশ করেন। ওই দিন আপিল শুনানিতে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
তাসনিম জারা বলেন, ‘আমাদের আপিল মঞ্জুর হয়েছে। আমি ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছি এবং আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আমি নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। দেশ-বিদেশের মানুষ অনেক শুভকামনা, দোয়া জানিয়েছেন। রাস্তায় মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করেছেন। তাই আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জনসমর্থনে আমি আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। এখন আমি ফুটবল মার্কার জন্য আবেদন করব, কারণ আমাদের পছন্দের প্রতীক এটি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কাজটি হবে।’
উল্লেখ্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পার্টি ছাড়ার পর ডা. তাসনিম জারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গত ৩ জানুয়ারি ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। এর পর তিনি ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন।
-

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিএনপি থেকে জামায়াত-এনসিপির জোট এগিয়ে: নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক জোটগুলো মধ্যে বিএনপির জোট থেকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অনেক এগিয়ে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।নাহিদ ইসলাম আরও জানান, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জানিয়েছেন যে, আমাদের এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পর্কে পূর্ণ আস্থা জন্মায়নি। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলে সুবিধা করতে সরকারি সিগন্যালিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন তিনি, যেখানে অনেক সুবিধাভোগীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন চলছে। এ জন্য তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।নাহিদ আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির খুনের ঘটনায় বিচার না হওয়ার কারণে দেশের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তিনি এবং তার দল মাঠে কাজ চালিয়ে যাবেন। নির্বাচনী প্রস্তুতিতে তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিএনপির জোট থেকে জামায়াত ও এনসিপির জোট অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে বলে তিনি মনে করেন।
-

তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত: মির্জা ফখরুল
নির্বাচন কমিশনারের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ খবর জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এই কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা হয়েছে। এতে দলের স্থায়ী কমিটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণ ও অন্যান্য বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সদস্যরা। পাশাপাশি, দলটি যেন সফলভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে, তার জন্য সবাই দোয়া করেছেন।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তারেক রহমানের সফরের নির্ধারিত ছিল। এই সফরে সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, জুলাইয়ে শহীদদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে এই সফর স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখনো বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে গণমাধ্যমে হত্যা-নিপীড়নের খবর প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, সভার মধ্যে ছিল টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলাগুলোর সফর। এই সফরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, শহিদদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা ছিল।
-

জাপা ও এনডিএফ প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের নেতৃত্বাধীন) এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ), যার নেতৃত্বে আছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, তাদের প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সেটিই জানতে চেয়ে হাইকোর্টে রুল জারি করা হয়েছে। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল প্রদান করেন। এই মামলা নিস্পত্তির জন্য শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
গত সপ্তাহে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট দায়ের করা হয়। রিটকারী ছিলেন ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, যিনি ২০১৭ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই রিটের সঙ্গে বিবাদী হিসেবে যুক্ত ছিলেন আইনসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব।
উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) ২৪৩ আসনের মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করে। ২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির (আনিসুল ইসলাম) পরিচালনায় নতুন জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯ আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে।
আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির তার যুক্তিতে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট মহাজোট হিসেবে পরিচিত। এই মহাজোটের সদস্যরা জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধে যুক্ত। এতে বলা হয়, এই সংগঠনের কিছু অংশ—যেমন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় পার্টি (এরশাদ ও মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন), তরিকত ফেডারেশন—ও অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তাই, সংবিধানের ৬৬(২)(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তারা নির্বাচনের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
অতিরিক্তভাবে, তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন দিয়ে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে। যার অর্থ, আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গসংগঠন, এবং এর সহযোগী সংগঠন—যেমন ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি—সবই এই কার্যক্রমে যুক্ত। ভ্রাতৃপ্রতিম হিসেবে পরিচিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ দলগুলো তার নীতি ও আদর্শ সমর্থন করে আসছে। এইসব দলের প্রার্থীরা কিভাবে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বৈধতা পেতে পারে, সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-

দ্বিতীয় দিনের প্রথমার্ধে ২৭ আপিল মঞ্জুর, ৫টি নামঞ্জুর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রার্থীর আপিলের দিকে নজর ছিলো দেশের নির্বাচনী বাতাবরণে। গতকাল থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এই আপিল শুনানি শুরু হয়। আজ রবিবারের প্রথমার্ধে (সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা) মোট ৩৫ জন প্রার্থীর আপিল শুনানি সম্পন্ন হলো। এর মধ্যে ২৭ জনের আপিল মঞ্জুর করা হয় এবং ৫ জনের আপিল নামঞ্জুর ঘোষণা করা হয়। এছাড়া, পুরো তালিকায় ৩জনের আপিল বিবেচনাধীন রাখা হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুনানি বিকেল ২টায় শুরু হবে।
এই প্রথম পর্যায়েই মোট ২৭ জন প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর করা হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: চাঁদপুর-২ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মুবিন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় পার্টির মো. আতিকুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী খন্দকার রুহুল আমীন, টাঙ্গাইল-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের হাসানাত আল আমীন, টাঙ্গাইল-৮ আসনে মো. শহীদুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম তালু, জয়পুরহাট-২ আসনে অ্যাবি পার্টির প্রার্থী এস. এ জাহিদ, রাঙামাটি (২৯৯) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা, ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৬ আসনে বাসদ প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী এবং আরও অনেক প্রার্থী।
অপরদিকে, আপিল নামঞ্জুর করা প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ, রাজশাহী-৩ আসনের মোসা. হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ আসনের মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলার মিজ তাসলিমা বেগম ও রংপুর-৪ আসনের মো. জয়নুল আবেদিন। এছাড়া, ৩ জন প্রার্থীর আপিল বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে—কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান, ভোলা-২ আসনের মহিবুল্যাহ খোকন, ফরিদপুর-৪ আসনের আবদুল কাদের মিয়া।
প্রথম দিনের মতো এই দিনেও মনোনয়ন বাছাইয়ের বিভিন্ন আপিলের ব্যাপক সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিলো। মার্চ ১ থেকে ৭২০টির বেশি মনোনয়ন বাতিলের তালিকা প্রকাশের পর, গত ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় আপিল গ্রহণের কার্যক্রম। আপিল শুনানি ৯ জানুয়ারি শেষ হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চলছে ধারাবাহিক বিচার। আজ রবিবার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। পরের দিনগুলোতে আরও বিভিন্ন নম্বরের আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আপিলের নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবেন ২১ জানুয়ারি, এর পর প্রতীক বরাদ্দ হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণের দিন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত।
