Author: bangladiganta

  • দেশে সোনা-রুপার দাম বাড়ল, ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা

    দেশে সোনা-রুপার দাম বাড়ল, ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সমিতির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দামে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। এ পরিবর্তনে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায়। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) একই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর 상승ের প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়েছে, তাই ভরি ভিত্তিক দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামের বিবরণে দেখা যায়— ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির (সোনার ঐতিহ্যবাহী মান) প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রুপার দামে теж বাড়তি দেখা গেছে। বাজুস জানিয়েছে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার ভরি দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে মাঝপ্রস্থ সংকট ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় স্থানীয় বাজারেও ওঠানামা বাড়ছে। জনপ্রিয় বিশ্ববাজার তথ্যসূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৮২৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে বছরের শুরুতে গত ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে ওঠানামা দেখা গিয়েছিল।

    উল্লেখ্য, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে তীব্র উত্থানের প্রভাবে রেকর্ড পরিমাণ বাড়তি শুল্ক হিসেবে দেশের বাজারেও এক ধাক্কায় বড় রকমের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। ২৯ জানুয়ারি একদিনে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বৃদ্ধি করে বাজুস ভালো মানের সোনার মূল্য একবারে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে গিয়েছিল — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ একদিনে বৃদ্ধি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত।

    বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দর ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বজায় থাকলে ঘরের বাজারেও দামের ওঠানামা চলতেই পারে; তাই ক্রেতা-বিক্রেতাদের সর্বশেষ রেট অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

  • বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ালো ৩৪.৬৬ বিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ালো ৩৪.৬৬ বিলিয়ন ডলার

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গ্রস রিজার্ভ এখন ৩৪ হাজার ৬৬০.৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৩৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাব ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানের।

    আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ দেখালে পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৯৭৭.৮৯ মিলিয়ন ডলার। তুলনামূলকভাবে, গত ৯ এপ্রিল গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৬৪৫.০৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৯৫২.৬৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গত কয়েক দিনে গ্রস রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৫.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ২৫.২৩ মিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, নিট রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুযায়ী: মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদী দায় (short-term liabilities) বাদ দিলে যেটি বাকি থাকে, সেটিকেই নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই মাপকাঠিতে দেশের রিজার্ভের অবস্থা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে থাকে।

  • হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধ থাকলে লোহিত ও পারস্য উপসাগর বন্ধের হুঁশীয়া ইরানের

    হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধ থাকলে লোহিত ও পারস্য উপসাগর বন্ধের হুঁশীয়া ইরানের

    ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করেছেন, যদি মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ অব্যাহত রাখে তবে ইরান লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্য দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে। এই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে।

    আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজে অবরোধ জারি রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি আরও যোগ করেছেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে কোন রকম রফতানি-আমদানিও চলতে দেবে না।

    এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজারো সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। সংবাদমাধ্যমটি সেনা পাঠানোর বিষয়ে অবগত কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়েছে, যদিও রয়টার্স এই তথ্যকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। বিবিসি ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে খবরটি প্রচার করেছে।

    রিপোর্ট বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপের কথা ভাবতে পারে। একই সময়ে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে ওয়াশিংটন দুইটি নতুন শর্ত দিয়েছে বলে প্রতিবেদন বলেছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা দুই দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে এবং তিনি দাবি করেছেন, আলোচনায় ‘সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের’ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ ও অবাধে’ পুনরায় খুলে দিতে হবে—অর্থাৎ, ইরান যদি প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেয়, তাদের নিজস্ব জাহাজও চলাচলে বন্ধ থাকবে।

    আরেকটি শর্ত হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিদলকে যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা স্বাক্ষরের পূর্ণ কর্তৃত্ব IRGC (ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী)-এর কাছ থেকে পেতে হবে, এবং ইসলামাবাদে হওয়া যেকোনো সমঝোতায় ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্মতিও থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা কেবল তখনই আলোচনায় ফিরবে যখন ইরানের প্রতিনিধিদল চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার ‘পূর্ণ ক্ষমতা’ নিয়ে উপস্থিত হবে।

    এর আগের শান্তি আলোচনা, যা পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। সেই বৈঠকটি গত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত প্রথম সরাসরি উচ্চ পর্যায়ের সাক্ষাৎকার ছিল—ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটি সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। এখন চলতি সপ্তাহের শেষে আবারও ইসলামাবাদে প্রতিনিধিদল ফিরতে পারে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।

    রয়টার্স ইরানি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উক্তি জমা করে জানিয়েছে, এখনো মার্কিন কর্মকর্তারা এসব পরিকল্পনা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সমঝোতার দিকেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

  • নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে সরকারের অর্জন সন্তোষজনক নয়

    নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে সরকারের অর্জন সন্তোষজনক নয়

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর গঠন হওয়া সরকারের দুই মাস কেটে গেলেও নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন দেখা যায়নি। জ্বালানি সংকটে সারা দেশে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, নিত্যপণ্যের দাম আগেই নাগালের বাইরে ছিল — এখন তা আরও বেড়েছে। প্রতিদিন শিশু মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক খবর আসছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও প্রত্যাশামত উন্নত হয়নি। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন অনেক ক্ষেত্রে আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘দায়িত্বশীল তারবিয়া’ বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা নগর সভাপতি আলহাজ্ব মুফতী আমানুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন এবং সেক্রেটারি আলহাজ্ব মুফতী ইমরান হুসাইন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

    বৈঠকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, সংস্কার নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জনমনে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন অধ্যাদেশ — গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, মানবাধিকার অধ্যাদেশ ও বিচার বিভাগ সম্পর্কিত অধ্যাদেশসমূহ বাতিলের কারণে জনমনে সরকারের নীতি ও মনোভাব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তারা বারবার এসব অধ্যাদেশ বাতিল না করার অনুরোধ করলেও তা বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে জনগণের মধ্যে ‘আওয়ামী আমলের মতো দুঃশাসন’ ফিরে আসার আশংকা তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার আবারও স্বৈরাচারী আচরণ করে তাহলে তাদের বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হবে।

    বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান, এবং আবু গালিব, শেখ হাসান, ওবায়দুল করিম।

    আরও বক্তব্য রাখেন নগর সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, আলহাজ্ব আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাঃ দ্বীন ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি ইসহাক ফরীদি, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক গাজী ফেরদাউস সুমন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মঈন উদ্দিন ভূঁইয়া, এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, কাদেরি মোঃ জামাল উদ্দিন ও মাওঃ নাসিম উদ্দিন প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম কিবরিয়া, বন্দ সরোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব মোঃ বাদশা খান, আলহাজ্ব মারুফ হোসেন, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, মুফতি আমানুল্লাহ, এইচ এম আরিফুর রহমান, গাজী মিজানুর রহমান, মোঃ মঈন উদ্দিন, সদস্য আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম টুটুল মোড়ল, মোঃ শহিদুল ইসলাম সজিব, মোঃ কবির হোসেন হাওলাদার, আবুল কাশেম, মোঃ বাদশা খান, মোঃ মিরাজ মহাজন, শ্রমিক নেতা মৌলভী আল আমিন, যুব নেতা মোঃ আব্দুর রশিদ, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম নেতা হাফেজ মাওলানা ইমদাদুল হক, ছাত্র নেতা মোঃ মাহদী হাসান মুন্না সহ আরও আঞ্চলিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    অবশেষে নেতৃত্বরা সরকারের প্রতি আবারও জোরালো আহ্বান জানান—দ্রুত সময়ের মধ্যে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ, মূল্য স্থিতিশীল করা, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং আইন-শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের জন্য পদক্ষেপ নিলে জনগণের আস্থা ফেরত আসতে পারে।

  • রোনালদো চান ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলা

    রোনালদো চান ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলা

    পর্তুগালের ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আবারও সবাইকে চমকে দিয়েছেন। সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে খেলা এই ৪১ বছর বয়সী তারকা জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলাও তার পরিকল্পনার মধ্যে আছে। সম্প্রতি পিয়ের্স মরগানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

    রোনালদো বলেছেন, “২০৩০ আসরে খেলার সম্ভাবনা এখন আছে। কারণ ৪১ বছর বয়সেও আমি প্রতি সপ্তাহে গোল করছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে এখনও যদি বর্তমান ফর্ম ধরে রাখেন এবং নিয়মিত গোল করতে পারেন, তাহলে আরও কয়েক বছর খেলতে চান।

    তাঁর কথায়, “হয়তো আমি আরও চার বছর খেলা চালিয়ে যেতে পারব। এমন ফর্ম ধরে রাখতে পারলে আমি ৫০ বছর পর্যন্তও খেলতে পারি।” এই মন্তব্যে ফুটবল বিশ্বে পুনরায় আলোচনা তুঙ্গে ওঠেছে।

    ২০৩০ বিশ্বকাপটি স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো আখড়া হবে। নিজ দেশ পর্তুগালের মাটিতে খেললে রোনালদো জন্য তা বিশেষ অভিজ্ঞতা হবে—ফ্যানদের সামনে আবারও নিজ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে তিনি সেটিকে গুরুত্ব দেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    বর্তমানে আল-নাসরে রোনালদো দারুণ ফর্মে রয়েছেন এবং নিয়মিতই গোল করে যাচ্ছেন। ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা ৯৬৮ উল্লেখ করা হচ্ছে, যা তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় রাখে। এই সূত্র ধরেই তিনি ২০৩০ পর্যন্ত খেলার সম্ভাব্যতা নিয়ে আশাবাদী থাকলেন।

  • চোখের জলে চিরবিদায় — পঞ্চভূতে বিলীন হলেন আশা ভোসলে

    চোখের জলে চিরবিদায় — পঞ্চভূতে বিলীন হলেন আশা ভোসলে

    ভারতীয় উপমহাদেশের অমর সুরসুধা আশা ভোসলে আকাশে মিলিয়ে গেলেন। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্ক কবরস্থানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবার, শিল্পী ও অসংখ্য ভক্ত—আনন্দ ভোসলে তার মায়ের শেষকৃত্য সভায় অসলগ্নতায় মুখাগ্নি করেন।

    লোয়ার পারলের আশার বাসভবন সকাল থেকেই ভক্তাঙ্গন ও শ্রদ্ধাশ্রোতের সমাগমে ভেঙে পড়েছিল; তবে আনন্দের বদলে ছেঁদে ছিল গভীর শোক। বর্ণিল ক্যানভাসে না, বরং কালি ঢাকার মতো সানসারী শোকে মোড়া ছিল পুরো এলাকা। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন বলিউড, সংগীত ও ক্রীড়া অঙ্গনের একঝাঁক বিশিষ্ট নাম—অমির খান, শচীন টেন্ডুলকার, এ আর রহমান, জাভেদ আলি, টাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন মুকেশ, জ্যাকি শ্রফসহ অনেকে। রাজনীতিবিদরাও শেষকৃত্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    আশার মৃতদেহ শোভাযাত্রা শেষে শিবাজী পার্ক শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চারপাশ সাদা-হলুদ ফুলে সাজানো শববাহী গাড়ি এবং পথ দুধারে ভিড় করেছিল অসংখ্য ভক্ত—চোখের জলে, ফুলের হাতে সবাই শ্রদ্ধা জানালেন। বিনোদন জগতের নামরা ও রাজনীতি-খেলার বড়দের উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

    আশা ভোসলে গত ১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ভাষা-সংগীতের এক সময়হীন প্রতিভা ছিলেন; মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    ১৯৪৩ সালে তার সংগীতজীবন শুরু হয়, এবং আটেরও বেশি দশক ধরে তিনি শিল্পী হিসেবে দেশের সংগীতাঙ্গনকে আলোকিত করেছেন। শুধুমাত্র হিন্দি ভাষায়ই নয়, প্রায় ২০টি ভারতীয় ভাষা ও কয়েকটি বিদেশি ভাষায়ও গানের রেকর্ড করেছেন। পরিচালিত সিনেমায় তার কণ্ঠ কণ্ঠে গেঁথে আছে—৯২৫টিরও বেশি ছবিতে গান গাওয়ার রেকর্ড আছে এবং প্রায় ১২ হাজারের কাছাকাছি গান তিনি রেকর্ড করেছেন বলে ধারণা করা হয়। তার সংবর্ধনা হিসেবে ভারত সরকার ২০০৮ সালে তাকে পদ্মভূষণ দিয়েছিল এবং ২০১১ সালে গিনেস-বুক তাকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ড করা কণ্ঠকার হিসেবে সংবর্ধিত করেছিল।

    ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে তিনি ছিলেন গণপতরাও ভোসলেকে বিয়ে করেছিলেন; তখন তার বয়স ছিল ১৬। ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে তিনি বিখ্যাত সঙ্গীতকার আর.ডি. বর্মনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; আরডি বর্মন ১৯৯৪ সালে মারা যান।

    আজ সেই সুরের আলো নীরব—কিন্তু গানগুলো থেকে আশা ভোসলের কণ্ঠ আজীবন প্রাণ বাঁচিয়ে রাখবে। শিল্পী মানুষ ও সংস্কৃতির জগতে তাঁর অবদান অনবদ্য থাকবে।

  • আশা ভোঁসলের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে কেন যোগ দেননি সালমান-বছরুখ?

    আশা ভোঁসলের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে কেন যোগ দেননি সালমান-বছরুখ?

    সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের প্রতি শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে ভারতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্রশিল্পী, গায়ক ও শ্রোতা—সকলেই তার বিদায়ে আবেগে ভাসলেন। রণবীর সিংসহ বহু বলিউড তারকা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন, তবু দুই বড় তারকা—সালমান খান ও শাহরুখ খান সেখানে ছিলেন না, যা অনেকের মধ্যে প্রশ্ন-উত্তেজনা তৈরি করেছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় সৈরভায় মুম্বাইতেই অবস্থান করছিলেন সালমান ও শাহরুখ। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিবেচনায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন না। যদিও এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে উভয়ের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসে না। অনেকে অনুপস্থিতি নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন, আবার অনেকে নিরাপত্তা-কারণকে বিবেচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত বোঝার চেষ্টা করেছেন।

    তবে উভয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আশা ভোঁসলের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেছেন। শাহরুখ লিখেছেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে আশা ছেড়ে চলে গেলেন। তার কণ্ঠ ভারতীয় সিনেমার এক শক্ত বিন্দু ছিল, যা আগামীর প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে।” সালমান লিখেছেন, “এটা ভারতের সংগীত জগতের এক বিশাল ক্ষতি। আশা জির অনবদ্য কণ্ঠ আমাদের ছুঁয়ে যায়—তার গান আগামী প্রজন্মকে প্রেরণা দেবে।”

    আশা ভোঁসল ১২ এপ্রিল মারা যান। এক দিন আগেরই (১১ এপ্রিল) তিনি শারীরিক অস্বস্তিতে আক্রান্ত হয়ে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন; প্রথমে আশার দ্রুত সেরে ওঠার প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু শেষক্ষণে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

    অবিভাজ্য করা যায় না—আশার কণ্ঠ ও গান ভারতীয় সংগীত ও সিনেমায় চিরস্মরণীয় ছাপ রেখেছে। শেষকৃত্যের ছোট-বড় সব মুহূর্তই শিল্পীজীবনের বার্তা ও সমবেদনার প্রতিচ্ছবি; অনুপস্থিতি নিয়ে যত প্রশ্নই উঠাক, তার প্রতিভা ও অবদান রয়ে গেছে কোটি শ্রোতার মনে।

  • ফের মাইন বিস্ফোরণ: পাঁচ দিনে দুই রোহিঙ্গা যুবক পা হারালেন

    ফের মাইন বিস্ফোরণ: পাঁচ দিনে দুই রোহিঙ্গা যুবক পা হারালেন

    বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসন্নিকটে উখিয়ার পালংখালী এলাকায় বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ফের একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণ ঘটে, এতে মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের চাকমাকাটা এলাকায় ওই বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউনুছকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালং কর্তৃপক্ষের এমএসএফ হাসপাতালে নেয়। পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শান্তনু ঘোষ জানান, ইউনুছের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এটি ওই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা। এর পাঁচ দিন আগে, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় মো. সাদেক (২৫) নামে আরেক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতরভাবে আহত হন।

    সাদেক উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবির (ক্যাম্প-১০) এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে জেলেদের সঙ্গে মাছ ধরতে যাওয়ার পর ফেরার পথে দুর্ঘটনাবশত মাইনের ওপর পা পড়লে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সাদেকের বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয় এবং ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    উভয় ঘটনায় স্থানীয়রা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মাইন ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান রয়েছে বলে সতর্ক করেন। তারা দ্রুত মাইন নিষ্কাশন ও নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

  • বাংলাদেশে পেপ্যাল চালু করতে কমিটি গঠন: প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশে পেপ্যাল চালু করতে কমিটি গঠন: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যালের কার্যক্রম চালু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোকে কার্যকরভাবে চলমান রাখতে এবং পেপ্যালের কার্যক্রম বাংলাদেশে আনতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এসব কেন্দ্রের দক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত করা এবং পেপ্যালের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার দায়িত্ব নিচ্ছে।

    এর আগে বিভিন্ন সময়ে পেপ্যাল বাংলাদেশে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে এসেছে। বিশেষত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক ওই সংস্থাটি এই বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল।

    গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ. মনসুরও জানিয়েছেন যে পেপ্যাল বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করবে। তিনি বলেছিলেন, মূলত ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও আইটি খাতে সহজ ও নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

    ওই সময় পেপ্যালের দক্ষিণ এশিয়া (সিঙ্গাপুর ভিত্তিক) টিমও বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও আইসিটি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সহযোগিতার সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে আলোচনা করেছে।

  • ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি মানুষের কথা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি মানুষের কথা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ও তাদের ত্যাগ ভুলে গেছে। তিনি এ মন্তব্য করেন শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি বক্তৃতায়।

    নাহিদ বলেন, ‘‘এই দেশ মেলে রেখেছে শ্রমজীবী মানুষের রক্ত ও ত্যাগের ওপর ভিত্তি করে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার সংগ্রাম হোক বা ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—এমনকি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও যারা জীবন দিয়েছে, তাদের অধিকাংশই ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ।’’

    তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি মাত্র এক মাসের মধ্যে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ‘‘নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে, গণভোটের গণরায়কে অবজ্ঞা করেছে—এই সরকার নাগরিকবিরোধী,’’ বলেন নাহিদ।

    নাহিদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, ‘‘রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের ফল ভোগ করতে হবে—এই দেশের মানুষ সেটা সহ্য করবে না। প্রয়োজন হলে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিকসহ সকল নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’’

    একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের কথা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ঐক্যে দাঁড়িয়ে তারা একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন। ‘‘রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ—সব জায়গায় ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন ব্যবস্থায় শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্য বজায় রাখতেই হবে,’’ তিনি বলেন।

    নাহিদ বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি—allied সংগঠনগুলো ঐক্যের পথে রয়েছে। তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনাদের সম্মিলিত শক্তিতেই দেশের নতুন পথ গড়ে উঠবে—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রূপকথাকে বাস্তবে পরিণত করতে হবে।’’

    শ্রমিকদের রাজপথে নামার প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘এবার যে শুধু সংসদ নয়, রাজপথে নামারও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব—জুলাই সনদ, গণভোট ও শ্রমিকদের অথচ প্রদত্ত প্রতিটি দাবিকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’’

    সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি অন্য একটি আকর্ষণীয় অনুরোধও জানান: ‘‘ঐক্যবদ্ধ হন, সংগঠিত হন এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিজ দায়িত্ব পালন করুন—এভাবেই আমরা পরিবর্তন আনতে পারব।’’