Author: bangladiganta

  • পোস্টাল ব্যালট দখলের অপচেষ্টা ও ভোটের পরিস্থিতি আলোচনা

    পোস্টাল ব্যালট দখলের অপচেষ্টা ও ভোটের পরিস্থিতি আলোচনা

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার নামে পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা চলছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এই মন্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, একাত্তরে যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা এখন আবার জনগণের সামনের আসতে চাইছে। এই শক্তিগুলোর কারণে লাখো মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। ইতিহাস এই সব শক্তির সত্যতা জানে, আর নতুন করে চিনতেই প্রয়োজন নেই। এখন সময় এসেছে জনশক্তির শাসন প্রতিষ্ঠার।

    তিনি অভিযোগ করেন, যারা ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অপচেষ্টায় লিপ্ত, তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বোনদের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে এবং টাকা দিয়ে ভোট কিনে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সৎ শাসনের কথা বলে নিজেদের মধ্যে অসৎ পথে হাঁটছে এইসব শক্তি। নির্বাচনের আগে যারা এমন অবৈধ কাজ করছে, তাদের পক্ষে সৎ শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলেই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। বিএনপিকে ভোট দিলে আবারও সেই সুযোগ ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে মানুষ ভোটাধিকার পেয়েছে যা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এই অধিকার হরণ হলে দেশের জন্য ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। সেটি রোধ করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রার্থীরা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েও প্রস্তুতি নেবেন।

    তারেক রহমান আরও stress করেন, এবারের নির্বাচনে দেশের মানুষ ন্যায়পরায়ণতা ও সততার পক্ষে রায় দেবে। ভোটাধিকার কোনভাবেই হরণ হলেও দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে যেন ভোটার অধিকার কেউ কেড়ে নিতে না পারে।

    তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রতিটি পরিবারের মা-বন ও কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড থাকবে, যার মাধ্যমে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রবাসী তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তারাও বিদেশে বিপুল বেতনে কাজ পেতে পারবেন।

    তারেক রহমান বলেন, মহাসড়ক থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের ভাঙা রাস্তা-ঘাটই তার কথার প্রমাণ। গত ১৫ বছরে যারা নির্বাচন নিয়ে প্রহসন চালিয়ে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, তারা উন্নয়ন করতে সক্ষম হননি। স্কুল, কলেজ ও রাস্তাঘাটের সর্বনাশ হয়েছে। দেশ দুর্নীতির টানাপোড়েনে এখন ছিন্নভিন্ন; লুটপাট চলছে জাতীয় সম্পদে।

    তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানান, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে এগিয়ে আসার। কারণ, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এলাকার সমস্যা সমাধানে যোগ্য জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন, যা জনগণের সরকারের মাধ্যমে সম্ভব। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে এ সুযোগ আসবে।

    জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ।

  • প্রথম নির্বাচনি প্রচারণায় acteurs প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিতর্কের ঝড়

    প্রথম নির্বাচনি প্রচারণায় acteurs প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিতর্কের ঝড়

    নির্বাচন প্রচারণার শুরুতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে তর্ক বিতর্কের ধারা গড়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি বলেন, ‘‘কেউ নির্দিষ্ট করে বলছেন না, তবে বোঝা যাচ্ছে কেউ যেন বেহেশতের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাইছে। এর আগেও তারা মানুষকে ঠকিয়েছে, স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনের পর তাদের কী অবস্থা হবে তা সবাই বুঝে গেছে।’’ এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি ‘কেউ’ বলে কার সাথে ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। অপর দিকে, একই দিন বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতের নেতৃত্বে শরিক দলগুলো প্রথম নির্বাচনি সমাবেশ করে। সেখানে জামায়াতের এক নেতা বলেন, ‘‘আমি দেখতে পাচ্ছি, বড় দল হিসেবে পরিচিত এই দলের প্রধানের বক্তৃতার বিষয়বস্তু শুধুই জামায়াত ইসলামীর. তিনি বলেছেন, জামায়াত জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে, কিন্তু তিনি কাকে এই মন্তব্যের জন্য স্বীকৃতি দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট করেননি।’’প্রচারণার প্রথম দিনে নেতারা পরস্পরের প্রতি তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হলেও, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক বিতর্কের আঙিনা বেড়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের জনসভায় বক্তব্যের সময় ‘বিএনপি’র নাম উল্লেখ না করলেও, তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’, তার টাকার উৎস ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেন। এই কার্ড ও উন্নয়নের অজুহাতে জনগণের বিরোধিতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে আসে। জামায়াতের এক নেত্রী বলেন, ‘‘সরকারের এই টাকা সোর্স কী? এটি জনগণের ট্যাক্সের টাকা, যা সাধারণ মানুষকে দিয়ে হয়।’’এছাড়াও, জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মন্তব্য, ‘‘১৭ বছর পর লন্ডন থেকে একজন মোফতী এসেছেন, যিনি মুসলমানদের কুফরি বলে আখ্যা দিচ্ছেন। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই, যেখানে ভারতের আশীর্বাদ নেওয়া শাসকরা থাকবেন না,’’—বলেন।তিনি আরও বলেন, ‘‘সবকিছুর মালিক একজন, এবং সেই হলো আল্লাহ। তবে কেউ কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাইছে, যা খুবই গর্হিত।’’ এ সময়, বিচার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বিতর্ক তুলনা ও তর্ক-বিতর্ক গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর, তবে এই উত্তাপ যেন বিশৃঙ্খলায় রূপ না নেয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশনও জানায়, এই প্রথম দিনে দলগুলো পৃথক পৃথক মতবিনিময় ও বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘‘প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব ইশতেহার প্রকাশে স্বাধিকার পায়। আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবে কে ভালো, কে খারাপ।’’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ২৯৮টি আসনে মোট ১৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এবারের নির্বাচনে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিবন্ধনবিহীন দলগুলো অংশগ্রহণ করতে পারছে না। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

  • বহু প্রার্থী ও দুটি ব্যালটে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে

    বহু প্রার্থী ও দুটি ব্যালটে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে

    এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। এছাড়া, সারাদেশে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি হওয়ায় ভোট গ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়ায় আগের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই নির্বাচনে বিদেশ থেকে প্রায় ৫০০ পর্যবেক্ষক ও সংবাদদাতা অংশ নেবেন।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (বিএনসিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন ইসি সচিব।

    সচিব বলেন, এবারে প্রবাসী ভোটার এবং অভ্যন্তরীণ ভোটার উভয়ের জন্য আলাদা ধরনের ব্যালট ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ব্যালট ও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে ভোট গণনাও সময়সাপেক্ষ হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন।

    এমনই এক পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন পোস্টাল ভোটার হিসাবে নিবন্ধিত। যদিও এক কেন্দ্রে সাধারণত ৩ হাজার ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের চাপ বেড়ে ৫-৬ গুণ হতে পারে, যা ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব সৃষ্টি করতে পারে।

    আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকা নিয়ে সচিব জানান, ইসি ৮৩টি সংস্থাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৬টি সংস্থা এখন নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন, যা পরে ২৭৫ থেকে ৩০০ জনে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি, কমনওয়েলথের ১০ জন এবং তুরস্কের ৯ জন প্রতিনিধি আসার কথা রয়েছে। সর্বমোট প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এই নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন। তাঁদের জন্য অপ্রত্যাশিত হলো ভিসার সুবিধা প্রদান।

    নির্বাচনে কালো টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে আলোচনা হয়েছে বলেও সচিব জানান। তিনি জানান, পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা আমাদের নেই, তবে লেনদেনের ওপর একটি সীমা নির্ধারণের চিন্তা চলছে। আই-ব্যাংকিং সেক্টরেও একই নীতি কার্যকর করা হতে পারে।

    সচিবের তথ্যমতে, গতকাল রাত পর্যন্ত প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৮১ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন এবং নারী প্রার্থী ৭৬ জন। রাজনৈতিক দলগুলো সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, যা মোট ২৮৮ জন। ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ প্রার্থী থাকলেও পিরোজপুর-১ আসনে দুইজন প্রার্থীই শেষ।

    ভোটারদের জন্য সতর্কতাও দেওয়া হচ্ছে, যেন তারা তাদের এনআইডি কার্ড অন্য কারো কাছে হস্তান্তর না করে। সচিব বলেন, মিরপুরে এনআইডি কার্ড নেওয়ার ঘটনাটি আচরণবিধি লঙ্ঘন। ভোটারদের সচেতন থাকতে উপদেশ দেন।

    টিআইবির দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ক উদ্বেগের বিষয়ে বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া ধীর গতির। তবে, কেউ যদি গোপনে প্রার্থী হন এবং পরে তা উঠে আসে, তবে আইন অনুযায়ী স্বক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য এবার ১৬,০০০ এর বেশি বিএনসিসি ভলান্টিয়ার কাজ করবে। তারা এর ডেপ্লয়মেন্ট স্ট্রাকচার ও পরিকল্পনা শুরুর জন্য প্রস্তুত। জানানো হয়, আগামী রোববার তাদের কার্যক্রম চূড়ান্ত হবে।

  • সেনাপ্রধানের ঘোষণা: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোটে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবো

    সেনাপ্রধানের ঘোষণা: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোটে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবো

    সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন।

    সেনাপ্রধান বলেন, দেশের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচন নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি দায়িত্বের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনী সংস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সবাইকে একযোগে কাজ করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, যারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর জন্য চট্টগ্রাম জেলার সামগ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের উপর একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি এই পরিকল্পনার ওপর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনী পরিস্থিতি ইতিমধ্যে বেশ শুভ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ।

    সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

    এছাড়াও, তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা অংশ নেন। এই সভায় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে, প্রত্যাশিত শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের অবদান ও দায়িত্বের ব্যাপারে আলোচনা চলমান থাকে।

  • এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি এ কথা বলেন বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, যেখানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ ছিবগাত উল্লাহ।

    তিনি জানান, অতীতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শুধুমাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে কমপক্ষে দু’জন পুলিশ ও তিনজন আনসার থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আরও বেশি সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হবে, যেখানে তিনজন পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

    তিনি আরও জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছয়জন পুরুষ ও চারজন মহিলা আনসার সদস্য লাঠিসহ মোতায়েন থাকবেন। তিনি বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে। এজন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    উপদেষ্টা আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও ব্যাপক হবে। প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, বডি ওর্ণ ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের ব্যবহারে। প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তারা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন করে ভোট দিতে পারবেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও নির্বাচনী সহায়তায় অংশ নেবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে দুই ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথমে চলমান দায়িত্বশীল বাহিনী থাকবেন, আর দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

    সঙ্গে তিনি জানান, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের সিআইডি কর্মকর্তাদের মধ্যে কৃতিত্বের ভিত্তিতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ও বিতর্কিত সংখ্যা উদ্বেগজনক

    নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ও বিতর্কিত সংখ্যা উদ্বেগজনক

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আজ শুক্রবার ঢাকার ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৮৯১ জন প্রার্থী কোটিপতি। এর মধ্যে ২৭ জন অর্থাৎ প্রায় ৩ শতাংশ সবথেকে বেশি সম্পদবিশিষ্ট প্রার্থী, অর্থাৎ শতকোটিপতি।মূলত হলফনামার মাধ্যমে প্রার্থীদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মূল্যায়ন করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। টিআইবির আউটরিচ এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই নির্বাচনে মোট প্রার্থীর প্রায় ২৫ শতাংশেরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় রয়েছে। এই ঋণের পরিমাণ মোট ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তুলনামূলকভাবে, গত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম সংখ্যক প্রার্থী থাকলেও, তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।এছাড়াও, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ। অতীতে, অর্থাৎ গত পাঁচ নির্বাচনে মোট ৭৪০ জন বা সাড়ে ৩১ শতাংশ প্রার্থী বিরুদ্ধে মামলা ছিল।প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫ টি রাজনৈতিক দলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী সংখ্যা ১১,৯৮১ জন। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীর সংখ্যা ১৬৯৬ জন।শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে দেখা যায়, প্রার্থীদের মোট ৭৬.৪২ শতাংশ হাইস্কুল বা তার বেশি ডিগ্রিধারী, যার মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ২৮.৩৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে বেশি, ৪৭.৯৮ শতাংশ, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন ৮.৯৪ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পাস করেছেন কিছু বেশি। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার এই ডিগ্রিধারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিগত নির্বাচনের তুলনায়, নবম নির্বাচন ৭১.২৩%, দশম নির্বাচন ৭১.৯১%, একাদশ ৬৭.৩০%, দ্বাদশ ৫৯.৩৩%, আর এবারে ৭৬.৪২ শতাংশ প্রার্থী শিক্ষাগত দিক থেকে উচ্চমানের।প্রারম্ভিক অংশগ্রহণের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। এবার মোট প্রার্থীর মাত্র ৪.০২ শতাংশ নারী, যেখানে নারীর প্রতিনিধিত্বের বাধা হিসেবে প্রাথমিকভাবে দেখা হয়েছে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারীর সংখ্যা কম থাকাকে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বধীন জোটের ৬ জন প্রার্থী এবং বিএনপির নেতৃত্বধীন জোটে মোট ২৪ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।প্রার্থীদের বয়সের ভিত্তিতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ৪৫-৫৪ বছর বয়সী, মোট ৬৫১ জন। এরপর ৫৫-৬৫ বছর বয়সী প্রার্থী ৫৩১ জন, ৩৫-৪৪ বছর বয়সী ৪১৪ জন, ৬৫ বছরের বেশি ৩৭৮ জন, এবং ২৫-৩৪ বয়সী প্রার্থী ২০৫ জন। কোন কোন প্রার্থীর বয়স উল্লেখ নেই বা অস্পষ্ট।প্রার্থীদের মূল পেশার মধ্যে ব্যবসায়ীরা সর্বাধিক, মোট ৪৮ শতাংশ। এরপরই থাকছে আইন ও শিক্ষকদের পেশা, যথাক্রমে ১২.৬১% ও ১১.৫৬%। এছাড়া চাকরিজীবী ও কৃষিজীবীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। নতুন করে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে পেশা হিসেবে রাজনীতিকে দেখিয়েছেন মাত্র ২ শতাংশ প্রার্থী।

  • সাবেক প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    সাবেক প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মোঃ নাঈমুল ইসলাম খান এবং তার স্ত্রী সাংবাদিক নাসিমা খান মন্টির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলায় চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে। সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলাগুলোর বিষয়কতালিকা জানান, ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর, দুদকের সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামি নাঈমুল ইসলাম খান ও তার স্ত্রী নাসিমা খান মন্টির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণেই ২০২২ সালে ১৭ জুলাই দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তারা সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং সময় বৃদ্ধির জন্য কোনো আবেদনও করেননি। উল্লেখ্য, এসময় তারা যথাযথ নিয়মে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেননি। এ কারণে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দুদক এই মামলার ব্যবস্থা নেয় ও চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

  • কুমিল্লায় আদালতের এজিপি ও এক যুবক অস্ত্রসহ আটক

    কুমিল্লায় আদালতের এজিপি ও এক যুবক অস্ত্রসহ আটক

    কুমিল্লায় পুলিশ কুমিল্লা আদালতের এক সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) ও এক যুবককে অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ আটক করেছে। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন এবং মোট ১০টি গুলি।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের টমছমব্রিজ এলাকা থেকে প্রথমে আরিফুল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। আটককালে তাঁর কাছ হতে পাঁচটি গুলি এবং একটি ছুরি পাওয়া যায়। পরে আরিফুলের মোবাইল তল্লাশি করে অস্ত্রের ছবি শনাক্ত করা হলে তিনি তদন্তে জানান যে ছবিটি কুমিল্লা আদালতের এজিপি আই এম মাসুদুল হক ওরফে মাসুমের বাসায় রয়েছে।

    আরিফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাসুদুল হক (৫১)-এর বাড়ি তল্লাশি করা হয়। ওয়ার্ডরোব থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং আরও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উভয় ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এভাবে মোট ১০টি গুলিই উদ্ধার হয়েছে—৫টি আরিফুলের কাছ থেকে এবং ৫টি মাসুদুলের বাড়ি থেকে।

    মাসুদুল হককে জামায়াতপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের ছোট ভাই। আরিফুল ইসলাম কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টমছমব্রিজ এলাকা থেকে সকাল ছয়টার পর আরিফুলকে আটক করা হয় এবং পরে মাসুদুলের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

    অভিযোগ ও ঘটনার বিষয়ে জানাতে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি।

    কুমিল্লা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন। থানার মামলার নথিপত্র পেলেই সরকারি কৌন্সিলরের সঙ্গে পরামর্শ করে এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখবেন; এরপর মন্ত্রণালয় এজিপি হিসেবে মাসুদুলের দায়িত্বসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

    সূত্র: প্রথম আলো

  • হাদি হত্যা: ফয়সালের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ রুবেলকে ৬ দিনের রিমান্ড

    হাদি হত্যা: ফয়সালের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ রুবেলকে ৬ দিনের রিমান্ড

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় পুলিশের দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকা আদালত ফয়সাল রুবেল আহমেদ (৩৩) কে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মো. রুকনুজ্জামান এই তথ্য জানিয়েছেন।

    সিআইডি জানিয়েছে, বুধবার রাতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বক্তব্যে রেজিস্টার অনুযায়ী তিনি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

    গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রোর (পূর্ব) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঞা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর জামাল উদ্দিন মার্জিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রুবেলের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

    আদালতে রুবেল বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি দাবি করেন, তথ্য যাচাই-বাছাই করলে সেও নির্দোষ প্রমাণিত হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে নিজেই হাদির হত্যার বিচার দাবি করেছিলেন।

    রুবেল আরো বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার বন্ধু। করোনার সময় টিম পজিটিভ বাংলাদেশে যোগ দিয়েছিলেন এবং মানবিক কাজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য নন, বর্তমানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং মোটেই দোষী নন। হত্যাকাণ্ডের তিন মাস আগে লাইসেন্স বিক্রির বিষয়ে ফয়সালের সঙ্গে মাত্র তিন মিনিটের কথোপকথন হয়েছে, বলে দাবি করেছেন তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে লক্ষ্য করে নির্বাচনী পরিপ্রেক্ষিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের মনোবল দুর্বল করা লক্ষ্যে রুবেল ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে বলে তথ্য রয়েছে। একই সময়ে পুলিশের অভিযোগে ঘটনার পর রুবেল আত্মগোপনে চলে যান এবং তিনি ফয়সাল করিম মাসুদের কাছে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তদন্তে রুবেলের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গুরুত্বসহকারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ড প্রয়োজন, এমনটাই আদালতে বলা হয়েছিল।

    আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুবেলকে ৬ দিনের হেফাজত দেয়।

    ঘটনার পটভূমি: ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় ঢামেকে নেওয়া হলে অপারেশনের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়ার কথা বলা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

    হাদির গুলিবিদ্ধ হবার পর ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ বিষয়ে মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুতে মামলাটি হত্যা হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

    মামলাটি প্রথমে ডিবি তদন্ত করে। ডিবি ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল/দাউদ)সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে রয়েছে, আর প্রধান ফয়সালসহ ৬ জন পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    ডিবির দেওয়া চার্জশিটকে না মেনে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন। ওইদিন শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন মেনে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

  • বিএনপি বহিষ্কার করল ৫৯ বিদ্রোহী প্রার্থী

    বিএনপি বহিষ্কার করল ৫৯ বিদ্রোহী প্রার্থী

    দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অভিযোগে ৫৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিএনপি। বুধবার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগের দফায় ৩০ ডিসেম্বর বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। নতুন এই আদেশে বহিষ্কৃত নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বহিষ্কৃতদের নাম বিভাগ ও আসনভিত্তিকভাবে নিচে দেওয়া হলো:

    রংপুর বিভাগ:

    দিনাজপুর-২: আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫: এ জেড এম রেজয়ানুল হক, নীলফামারী-৪: রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।

    রাজশাহী বিভাগ:

    নওগাঁ-৩: পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১: তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩: দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫: ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩: কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৪: জাকারিয়া পিন্টু।

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়া-১: নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২: মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫: অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩: ডা. শহীদুল আলম, বাগেরহাট-১: ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ, বাগেরহাট-৪: খায়রুজ্জামান শিপন।

    বরিশাল বিভাগ:

    বরিশাল-১: আব্দুস সোবহান, পিরোজপুর-২: মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন।

    ঢাকা বিভাগ:

    নারায়ণগঞ্জ-১: সাবেক সাংসদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২: মো. আতাউর রহমান খান আঙুর, নারায়ণগঞ্জ-৩: অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম; টাঙ্গাইল-১: মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩: লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫: ফরহাদ ইকবাল।

    নরসিংদী-৫: মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী, মুন্সিগঞ্জ-১: মো. মুমিন আলী, মুন্সিগঞ্জ-৩: মো. মহিউদ্দিন।

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    কিশোরগঞ্জ-১: রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫: শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল; ময়মনসিংহ-১: সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-১০: এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১: মো. মোর্শেদ আলম; নেত্রকোণা-৩: মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, শেরপুর-৩: মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ।

    মাদারিপুর-১: লাভলু সিদ্দিকী, মাদারিপুর-১: কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা, মাদারিপুর-২: মিল্টন বৈদ্য; রাজবাড়ী-২: নাসিরুল হক সাবু, গোপালগঞ্জ-২: এম এস খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, গোপালগঞ্জ-৩: হাবিবুর রহমান হাবিব।

    সিলেট বিভাগ:

    সুনামগঞ্জ-৩: আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪: দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সিলেট-৫: মামুনুর রশীদ (চাকসু), মৌলভীবাজার-৪: মহসিন মিয়া মধু, হবিগঞ্জ-১: শেখ সুজাত মিয়া।

    কুমিল্লা বিভাগ:

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১: কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫: কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল; কুমিল্লা-২: আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭: আতিকুল আলম শাওন, চাঁদপুর-৪: এম এ হান্নান।

    চট্টগ্রাম বিভাগ:

    চট্টগ্রাম-১৪: মিজানুল হক চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম রাহী, চট্টগ্রাম-১৬: লিয়াকত আলী (চেয়ারম্যান); নোয়াখালী-২: কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬: ফজলুল আজীম ও তানবীর উদ্দীন রাজীব।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের শৃঙ্খলা রক্ষাসহ আগামির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল পর্যায়ে সম্মিলিত ও নিয়মিত সিদ্ধান্ত প্রয়োগই বিএনপির নীতি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থিতা কার্যকর করার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি অব্যাহত থাকবে।