ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় পুলিশের দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকা আদালত ফয়সাল রুবেল আহমেদ (৩৩) কে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মো. রুকনুজ্জামান এই তথ্য জানিয়েছেন।
সিআইডি জানিয়েছে, বুধবার রাতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বক্তব্যে রেজিস্টার অনুযায়ী তিনি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রোর (পূর্ব) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঞা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর জামাল উদ্দিন মার্জিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রুবেলের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
আদালতে রুবেল বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি দাবি করেন, তথ্য যাচাই-বাছাই করলে সেও নির্দোষ প্রমাণিত হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে নিজেই হাদির হত্যার বিচার দাবি করেছিলেন।
রুবেল আরো বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার বন্ধু। করোনার সময় টিম পজিটিভ বাংলাদেশে যোগ দিয়েছিলেন এবং মানবিক কাজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য নন, বর্তমানে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং মোটেই দোষী নন। হত্যাকাণ্ডের তিন মাস আগে লাইসেন্স বিক্রির বিষয়ে ফয়সালের সঙ্গে মাত্র তিন মিনিটের কথোপকথন হয়েছে, বলে দাবি করেছেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে লক্ষ্য করে নির্বাচনী পরিপ্রেক্ষিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের মনোবল দুর্বল করা লক্ষ্যে রুবেল ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে বলে তথ্য রয়েছে। একই সময়ে পুলিশের অভিযোগে ঘটনার পর রুবেল আত্মগোপনে চলে যান এবং তিনি ফয়সাল করিম মাসুদের কাছে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তদন্তে রুবেলের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গুরুত্বসহকারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ড প্রয়োজন, এমনটাই আদালতে বলা হয়েছিল।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুবেলকে ৬ দিনের হেফাজত দেয়।
ঘটনার পটভূমি: ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় ঢামেকে নেওয়া হলে অপারেশনের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়ার কথা বলা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
হাদির গুলিবিদ্ধ হবার পর ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ বিষয়ে মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুতে মামলাটি হত্যা হিসেবে রূপান্তরিত হয়।
মামলাটি প্রথমে ডিবি তদন্ত করে। ডিবি ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল/দাউদ)সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে রয়েছে, আর প্রধান ফয়সালসহ ৬ জন পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ডিবির দেওয়া চার্জশিটকে না মেনে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন। ওইদিন শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন মেনে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
