নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ও বিতর্কিত সংখ্যা উদ্বেগজনক

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আজ শুক্রবার ঢাকার ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৮৯১ জন প্রার্থী কোটিপতি। এর মধ্যে ২৭ জন অর্থাৎ প্রায় ৩ শতাংশ সবথেকে বেশি সম্পদবিশিষ্ট প্রার্থী, অর্থাৎ শতকোটিপতি।মূলত হলফনামার মাধ্যমে প্রার্থীদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মূল্যায়ন করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। টিআইবির আউটরিচ এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই নির্বাচনে মোট প্রার্থীর প্রায় ২৫ শতাংশেরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় রয়েছে। এই ঋণের পরিমাণ মোট ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তুলনামূলকভাবে, গত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম সংখ্যক প্রার্থী থাকলেও, তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।এছাড়াও, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ। অতীতে, অর্থাৎ গত পাঁচ নির্বাচনে মোট ৭৪০ জন বা সাড়ে ৩১ শতাংশ প্রার্থী বিরুদ্ধে মামলা ছিল।প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫ টি রাজনৈতিক দলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী সংখ্যা ১১,৯৮১ জন। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীর সংখ্যা ১৬৯৬ জন।শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে দেখা যায়, প্রার্থীদের মোট ৭৬.৪২ শতাংশ হাইস্কুল বা তার বেশি ডিগ্রিধারী, যার মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ২৮.৩৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে বেশি, ৪৭.৯৮ শতাংশ, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন ৮.৯৪ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পাস করেছেন কিছু বেশি। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার এই ডিগ্রিধারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিগত নির্বাচনের তুলনায়, নবম নির্বাচন ৭১.২৩%, দশম নির্বাচন ৭১.৯১%, একাদশ ৬৭.৩০%, দ্বাদশ ৫৯.৩৩%, আর এবারে ৭৬.৪২ শতাংশ প্রার্থী শিক্ষাগত দিক থেকে উচ্চমানের।প্রারম্ভিক অংশগ্রহণের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। এবার মোট প্রার্থীর মাত্র ৪.০২ শতাংশ নারী, যেখানে নারীর প্রতিনিধিত্বের বাধা হিসেবে প্রাথমিকভাবে দেখা হয়েছে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারীর সংখ্যা কম থাকাকে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বধীন জোটের ৬ জন প্রার্থী এবং বিএনপির নেতৃত্বধীন জোটে মোট ২৪ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।প্রার্থীদের বয়সের ভিত্তিতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ৪৫-৫৪ বছর বয়সী, মোট ৬৫১ জন। এরপর ৫৫-৬৫ বছর বয়সী প্রার্থী ৫৩১ জন, ৩৫-৪৪ বছর বয়সী ৪১৪ জন, ৬৫ বছরের বেশি ৩৭৮ জন, এবং ২৫-৩৪ বয়সী প্রার্থী ২০৫ জন। কোন কোন প্রার্থীর বয়স উল্লেখ নেই বা অস্পষ্ট।প্রার্থীদের মূল পেশার মধ্যে ব্যবসায়ীরা সর্বাধিক, মোট ৪৮ শতাংশ। এরপরই থাকছে আইন ও শিক্ষকদের পেশা, যথাক্রমে ১২.৬১% ও ১১.৫৬%। এছাড়া চাকরিজীবী ও কৃষিজীবীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। নতুন করে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে পেশা হিসেবে রাজনীতিকে দেখিয়েছেন মাত্র ২ শতাংশ প্রার্থী।