Author: bangladiganta

  • নতুন পোশাকে ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তি হবে: জামায়াত আমির

    নতুন পোশাকে ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তি হবে: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও তিনি আর দেখতে চান না। নতুন কোনো নাম বা নতুন কোনো সাজে ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ৫ আগস্টের সেই ভয়াবহ পরিণতি আবারও ঘটবে—তাই সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে এবং ফ্যাসিবাদের যে কোনো চিহ্ন দ্রুত নির্মূল করার চেষ্টা করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর আদর্শ স্কুল মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জমায়েতভুক্ত যারা এখানে বসে আছেন, তাদের মধ্যে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ মানুষ গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি, এমনকি অনেকেই জীবনে একবারও ভোট দেননি। যারা এই ভোট কেড়ে নিয়েছিল, তাদের তিনি ‘ভোট ডাকাত’ বলে অভিহিত করেন। ‘‘আপনি কি নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান? আমরা চাই না,’’ তিনি বলেন।

    তিনি বলেন, এই ৪০ শতাংশই হলো বিপ্লবের মূল শক্তি। তাদের হাত ধরেই আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং তাদের কারণেই আজ জনসমাবেশে আমরা কথা বলছি। ‘‘আপনাদেরকে স্যালিউট,’’ বলেন আমির। কিন্তু তিনি যোগ করেন, সংগ্রাম এখানেই শেষ হবে না—দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা ফিরে যাবে না।

    শফিকুর রহমান বলেন, যারা নিজেদের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, দখল-বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা—এসব থেকে বিরত রাখতে পারে, তারা ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবে। আর যারা এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখুক, জাতি তাদের চক্রান্ত বুঝে ফেলবে এবং তাদের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখাবে না।

    তিনি সরাসরি কারো বিরুদ্ধে আক্রমণ না করলেও স্মরণ করিয়ে দেন, যাদের দ্বারা ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল এবং যারা তাদের মূল দোসর ছিল, তারা এখনতখন দৃশ্যমান নয়। ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান—‘‘আমরা যে কষ্ট ভোগ করেছি, তা যেন আর কেউ জনগণের ওপর না ফেলে। মেহেরবানী করে এই কষ্ট আর কেউ যেন না দেয়।’’

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও কিছু জায়গায় ফ্যাসিবাদের ছায়া কাজ করছে। যদি তা বন্ধ করা না যায়, আগামী ১২ তারিখ জনগণ দুই রকমের ‘না’ ভোট এবং অনেকগুলো ‘না’ ভোট দেবে, ইনশাআল্লাহ। জনগণের মুখে এখন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনীতির কাঠামো বদলের ইচ্ছা স্পষ্ট হওয়ায় তিনি আশাবাদী যে গণভোটে মানুষ বদলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলবে।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় শিশু-তরুণ-যুবক-বৃদ্ধ এবং নারী—সবাই রাস্তায় নেমেছে। নির্বাচনী মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১০ দলকে বিজয়ী করা মানে আধিপত্যবাদের, চাঁদাবাজদের, দখলদারদের, ফ্যাসিবাদের, ব্যাংক ডাকাতদের এবং নারীর ইজ্জত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বড় একটি প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে ওঠা।

  • ঐতিহাসিক রেকর্ড: এক ভরি সোনার দাম ছুঁলো ২ লাখ ৪৪ হাজার

    ঐতিহাসিক রেকর্ড: এক ভরি সোনার দাম ছুঁলো ২ লাখ ৪৪ হাজার

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সমিতি বলছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়ানোর ফলে ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকার Zucker-এর ওপরে উঠে গেছে — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় এবং নতুন দাম আগামী ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে বলেছে।

    সংগঠনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য বাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্র হিসেবে গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি থেকে জানা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭৪৫ ডলারের ওপরে উঠেছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের মোট ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২,৪৪,১২৮ টাকা। অন্য শ্রেণির দামগুলো হল: ২১ ক্যারেট — ২,৩২,৯৮৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট — ১,৯৯,৭৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা — ১,৬৩,৮২১ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রূপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। জানানো হয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬,৫৯০ টাকা; ২১ ক্যারেট — ৫,২৯৯ টাকা; ১৮ ক্যারেট — ৫,৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,০৮২ টাকা।

    ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজুসের এই নতুন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার, কারণ দাম কার্যকর হওয়ার পর বাজারে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হতে পারে।

  • সোনার ভরি দাম ছুঁল রেকর্ড — ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা

    সোনার ভরি দাম ছুঁল রেকর্ড — ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা

    একদিনের ব্যবধানে ফের দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়ে রেকর্ড গড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বুধবার (২১ জানুয়ারি) জানায়, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩৪০ টাকা বাড়ানোর ফলে ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা ছাড়িয়েছে — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই দাম আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সমিতি বলেছে বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ড (তেজাবি সোনা) দামের ওঠানামার প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্যদাতা গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪,৮০০ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে, যেটিও স্থানীয় দর বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

    নতুন প্রতি ভরি দর অনুযায়ী দামগুলো হলো:

    – ২২ ক্যারেট: ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২,৪০,৯৭৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ২,০৬,৫৬৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ১,৬৯,৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়েছে। প্রতি ভরির রুপার মূল্য ধার্য করা হয়েছে:

    – ২২ ক্যারেট: ৬,৮৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ৬,৫৩২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ৫,৫৯৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ৪,২০০ টাকা

    বিশ্ববাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে দাম আবার পরিবর্তিত হতে পারে, বলে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

  • কাশ্মীরে ২০০ ফুট খাদে সাঁজোয়া যান পড়ে, ১০ ভারতীয় সেনা নিহত

    কাশ্মীরে ২০০ ফুট খাদে সাঁজোয়া যান পড়ে, ১০ ভারতীয় সেনা নিহত

    জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ভাদেরওয়াহ-চাম্বা আন্তরাজ্য সড়কের খানি টপ নামে ৯ হাজার ফুট উচ্চতার এলাকায় ঘটে।

    সেনাবাহিনীর বরাত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ থেকে ২১ জন জওয়ানকে বহনকারী একটি বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া যান খানি টপ থেকে সামান্য নিচের দিকে চলছিল। তখনই চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও পিচ্ছিল পাহাড়ি রাস্তা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয়বাসী দ্রুত উদ্ধার-কর্মসূচি শুরু করলে ঘটনাস্থলেই চারজন জওয়ানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়, বলে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন।

    বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত ১০ জন জওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হোয়াইট নাইট কোরের নির্দেশনায় আহতদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে উধমপুর কমান্ড হাসপাতালে এয়ারলিফট করা হয়েছে। ডোডার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার সুমিত কুমার ভূটিয়াল জানিয়েছেন, আহতদের জীবন রক্ষার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এখনও উদ্ধার ও তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতেARN তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। এক বার্তায় তিনি নিহত জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবারসমূহের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও নিহত জওয়ানদের পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহত জওয়ানদের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সহানুভূতি জানাচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

  • গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শেষে আট দেশের ওপর শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প

    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শেষে আট দেশের ওপর শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প

    দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তি খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতে তিনি আট ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

    ট্রাম্প তাঁর নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মটিতে বলেন, দাভোসে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে ‘ভাল ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠক থেকে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

    প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি ওই সমাধান চূড়ান্ত হয় তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর জন্যই ভালো হবে। সেই ভিত্তিতেই ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা তিনি স্থগিত রাখছেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ নামের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হচ্ছে এবং অগ্রগতির তথ্য পরে জানানো হবে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা — প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ দূত এবং অন্যান্য সদস্যরা — ওই আলোচনায় যুক্ত থাকবেন এবং তারা সরাসরি তাকে জানাবেন।

    এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের কাছ থেকে আমদানি হওয়া ‘কোনোও সব ধরনের’ পণ্যের ওপর তিনি ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন; পরে সেই হার ১ জুন থেকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি হুমকি দিচ্ছিলেন। এই আট দেশের মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক — সবাইই ন্যাটোর সদস্য দেশ।

    ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ‘তাৎক্ষণিক আলোচনা’ চান, তবে জোরপূর্বক কোনো ভূখণ্ড দখলের ইচ্ছা নেই। তিনি আর্কটিক অঞ্চলের গলমান বরফ এবং সেখানে বর্ধিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তুলে ধরে জানিয়েছেন, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    দেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন; পিটুফিক ঘাঁটিতে বর্তমানে শতাধিক মার্কিন সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে অবস্থান করে। রাশিয়া ও চীনের সক্রিয় উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষাপটে পুরো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের গুরুত্ব বাড়ছে, এবং সেই প্রেক্ষিতে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বও বেড়েছে—তিনি এ কথাও বলেন।

    ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার বা বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প শুল্ক আরোপের হুমকি তুলে রাখার কথা বলেছিলেন, কিন্তু দাভোসে আলোচনার পর তিনি ওই হুমকি প্রত্যাহার করে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুল্ক আরোপ না করার ঘোষণা দিয়েছেন।

  • নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনা-২ আসনের ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু powied বলেছেন, দেশের বর্তমান জনপ্রিয় নেতা আজ সিলেট থেকে নিজ প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে ধানের শীষের নতুন একটি আন্দোলন ও যাত্রা শুরু হচ্ছে এবং খুলনা মহানগর বিএনপি সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। মঞ্জু বলেন, ‘‘১৬ বছরের দুরশাসনমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের আন্দোলন এবং জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন প্রতিশ্রুতির যাত্রা শুরু হয়েছে, সেই যাত্রাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারপারসন তারেক রহমান।’’

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় খুলনা মহানগর বিএনপির আয়োজনে খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মঞ্জু।

    তিনি আরও বলেন, পূর্বের স্বৈরাচারী শাসনামলে ভোটাররা যথাযথভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবারের আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে শহীদসহযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ শোধ করা অত্যাবশ্যক। আমাদের সহযোদ্ধারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।’’

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, পরিচালনা করেন মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। অনুষ্ঠানে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, সৈয়দা নার্গিস আলী, খান রবিউল ইসলাম রবি, কাজী মো. রাশেদ, রেহানা ঈসা, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, কেএম হুমায়ুন কবীর, আসাদুজ্জামান আসাদসহ মহানগর, থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে শুরু করে পিকচার প্যালেস মোড় অতিক্রম করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সমাপ্ত হয়।

  • তাদের প্রটোকল বিএনপির চেয়ে তিনগুণ বাড়ান: তারেক রহমান

    তাদের প্রটোকল বিএনপির চেয়ে তিনগুণ বাড়ান: তারেক রহমান

    বিএনপির নাম না করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূস ও সরকারের উপদেষ্টাদের প্রতি বিএনপির অনুরোধ—একটি নির্দিষ্ট দলের প্রটোকল বিএনপির প্রটোকলের তিনগুণ করে দেওয়া। তিনি মোলভীবাজারের আইনপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় এই কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, “আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে বিনীত অনুরোধ করবো, বিএনপির পক্ষ থেকে এবং লাখো জনগণের পক্ষ থেকে—আপনারা তাদের প্রটোকল যদি দরকার মনে করেন, তিনগুণ করে দিন। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং মানুষ এটা বুঝে ফেলেছে। মানুষ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে; আমরা চাই না কেউ ক্ষিপ্ত হয়ে বেআইনি কিছু করে বসুক। এজন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে।”

    দেশকে বাঁচাতে আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে হবে—বলেই ভোটের আবেদন করেন তিনি। ‘ধানের শীষ’ চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক বলেন, “আগামী মাসের ১২ তারিখে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের জয় নিশ্চিত করতে হবে। বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য নিজের তাজা রক্ত দিয়েছে; অনেকেই গুম ও খুনের মতো সংঘাতের শিকার হয়েছে। সেই বলিদানের মর্যাদা রক্ষায় এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে সিল দিতে হবে।”

    দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে হবে, মানুষের কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ধানের শীষই একমাত্র দল যে এই নিশ্চয়তা দিতে পারে। যখন আমরা ক্ষমতায় ছিলাম, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ সব নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। মানুষ তখন নির্বিঘ্নে সরকারের সমালোচনা করতে পেত এবং গুম-হত্যার ঘটনা ছিল না।”

    তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো হচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, “গত ১৫-১৬ বছরে জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে; এখন একটি দল আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে যে তারা ব্যালট পেপার গায়েব করছে এবং ভোটচুরি শুরু করেছে। তাই আমি আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করব—সকলকে অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।”

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু দল দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং তাদের ভূমিকার কারণে বহু মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন। জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না; তখনকার ঘটনাগুলো আজও জনমানসে রয়ে গেছে।

    সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বার্তা দেন—সচেতন থাকুন, প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করুন এবং আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।

  • বুলবুল: আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে নয়

    বুলবুল: আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে নয়

    নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সময়টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের মাটিতে নামতে ইচ্ছুক নয় — এমন অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসির সাম্প্রতিক বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও তারা তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

    বুলবুল বৃহস্পতিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রীড়া উপদেষ্টা ও खिलाड़ियों সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের জানান, ‘‘আমরা আবারও আইসিসির কাছে সমস্ত সম্ভাব্য বিকল্প উপস্থাপন করব। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমাদের গর্ব আছে, কিন্তু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সন্দিহীন নই।’’

    আলোচনার পর বোর্ড সভাপতি আরও বলেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন যাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বকাপে নামে। ‘‘আইসিসি যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের বিকল্প বিবেচনা করে, আমরা সেটিই চাই। আমরা হাল ছাড়ছি না — বিভিন্ন দিক থেকে যোগাযোগ করে যাচ্ছি যেন আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে,’’ তিনি যোগ করেন।

    বুলবুল আরও বলেন, ‘‘ক্রিকেটপ্রিয় দেশের প্রতিনিধিত্ব যদি কোনো কারণে World Cup-এ না করতে পারে, সেটা আইসিসির ব্যাপক ব্যর্থতা হবে। যেখানে আয়োজকরা কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় ইভেন্টের চেষ্টা করছে, সেখানে জনবহুল ক্রিকেটপ্রিয় দেশগুলোকে নিরাপদ বিকল্প না দিলে তা বিবেচনার দাবি রাখে।’’

    শেষ পর্যন্ত, বুলবুল নিশ্চিত করেন যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে চায় — কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত নয়; শ্রীলঙ্কায় খেলাই তাদের অনুকূল বিকল্প। তিনি জানান, দল প্রস্তুত আছে এবং বোর্ডও আইসিসির সঙ্গে বিকল্প পথ অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।

  • ভারতে খেলা নিয়ে স্থির সিদ্ধান্ত: বিশ্বকাপে না যাওয়ার পক্ষে অনড় বাংলাদেশ

    ভারতে খেলা নিয়ে স্থির সিদ্ধান্ত: বিশ্বকাপে না যাওয়ার পক্ষে অনড় বাংলাদেশ

    ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিসিবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট — বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গেলে ভারতের মাটিতে যেতে রাজি নয়। আজ (২২ জানুয়ারি) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই।’

    সেই সঙ্গে তিনি আইসিসিকে ন্যায়বিচার করেনি বলে অভিযোগ করেছেন। শেষ কয়েক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো—বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনা—এমন একটি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি করেছে, যার ভিত্তিতে সরকার ও বিসিবি ভারতের মাটিতে খেলায় রাজি হতে পারে না বলে উপদেষ্টা জানান। তাঁর বক্তব্য, এক মাসে নিরাপত্তার পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং আইসিসির মৌলিক আশ্বাসগুলো সরকারকে কনভিন্স করতে পারেনি।

    আসিফ নজরুল বলেন, মোস্তাফিজুর ঘটনাটি কোনো বাতাসে ভাসমান ধারণা নয়; এটি বাস্তব ও সংবেদনশীল ঘটনা। ‘যেখানে আমাদের একজন সেরা খেলোয়াড়ই উগ্রপ্রবণ জবরদস্তির কারণে নিরাপত্তা পায়নি, সেই দেশে আমরা কীভাবে শত শত খেলোয়াড়, সংবাদকর্মী ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিতবে—এটা আমরা কী থেকে বিশ্বাস করবো?’—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    তবে বিসিবি ও সরকারের উদ্যোগ হিসেবে বিকল্প ভেন্যু পেলেই বিশ্বকাপে খেলতে ইচ্ছুক থাকবে বাংলাদেশ। ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তারা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন এবং শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সুযোগের আশায় রয়েছেন। ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্বকাপ ভেন্যু বদলানোর বহু নজির আছে’—বলেছেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেছেন আইসিসি বিষয়টিকে সুবিবেচনা করবে।

    বৈঠকের পর গণমাধ্যমে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। তিনি বলেন, এখনও শ্রীলঙ্কা-ভেন্যুতে খেলাই তাদের বদল না করা রীতি এবং এ লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন। বুলবুল আইসিসির সমালোচনায় বলেন, মুস্তাফিজুর ঘটনা শুধুমাত্র ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখালে তা বাস্তব পরিস্থিতি বোঝায় না; নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, নিজে সরে যায়নি বা ইনজুরির কারণে নয়—এমনকি বিসিবির এনওসি বাতিলও করা হয়নি।

    অপরদিকে আইসিসি বলেছে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বাইরে খেললে বাংলাদেশকে বদলে অন্য দলকে বিশ্বকাপে নেওয়া হবে এবং তারা জানিয়েছেন, ভারতে খেললে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই—এই অবস্থান বিসিবি ও সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশ ইস্যুতে মাত্র একটি ভোট পায়; বাকি সদস্য দেশগুলোর সমর্থন না থাকায় সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত ছিল।

    আজকের বৈঠকে বিসিবি ও সরকারের আমন্ত্রণে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের বেশকিছু ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন; তাদের মধ্যে লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তের মতো কয়েকজনের নাম অনুপস্থিত ছিল না। ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি সভাপতি উভয়েই খেলোয়াড়দের বক্তব্য প্রকাশ করতে চাননি—তিনি বলেন এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

    বিশেষ করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বিসিবি আগে থেকেই আইসিসিকে বলেছিল ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সুসংহতভাবে আয়োজন করা হলে ভালো হবে; কিন্তু আইসিসি ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই ম্য়াচ খেলতে হবে।

    সংক্ষেপে, বর্তমান সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত: সরকার ও বিসিবি জানাচ্ছে—ভারতে না গিয়ে বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ। তবুও তারা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাবে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের আশা ছাড়েনি।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের স্বীকৃত অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। সনির ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্ম গ্রহণ করেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস, যাকে পরবর্তীতে চলচ্চিত্রজগৎকে পরিচিত করেন ইলিয়াস জাভেদ নামে। শৈশবে তার পরিবার পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তী সময়ে অভিনয় জীবনের কারণে তিনি ঢাকায় স্থায়ী হন।

    জানানো হয়, ক্যান্সারের পাশাপাশি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে-বাসার মিশ্র চিকিৎসাসেবা চলছিল। স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে; দুজন নার্স এসে জানান, শরীর ঠান্ডা থাকায় দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদের চলচ্চিত্র জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় ছিল। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়কের ভূমিকায় রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে। তবে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন; এই কাজেই শাবানার সঙ্গে জুটিবন্ধনে দর্শক হৃদয়ে বিশেষ স্থান করেন। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে চলচ্চিত্রে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    প্রাথমিকভাবে নৃত্যপরিচালনার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা জাভেদ পরে নায়কের ভূমিকায় উঠে এসে শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকের দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন নৃত্য ও অ্যাকশনের মিশেলে এক মার্কসধর্মী পারফর্মার — তাই তাঁকে ‘ড্যান্সিং হিরো’ বলা হতো।

    ব্যক্তিগত জীবনেও ইলিয়াস জাভেদ একজন পরিচিত নাম; ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    ইলিয়াস জাভেদের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায় বন্ধ হলো; দীর্ঘদিন গোপনে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছিলেন এই গুণী শিল্পী। চলচ্চিত্রভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।