Author: bangladiganta

  • রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির নামে মানুষের ঈমান নিয়ে খেলা হচ্ছে: বকুল

    রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির নামে মানুষের ঈমান নিয়ে খেলা হচ্ছে: বকুল

    নির্বাচনের আগে কিছু বিশেষ দল ভোটারদের কাছে নানা অসম্ভব এবং অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের পূর্বে এমনসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যা মানুষের ক্ষমতার বাইরে, এবং যার মালিকানা একমাত্র মহান আল্লাহর। তিনি এই বিষয়গুলোকে কেবল রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন না, বরং এটি একটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বড় ধরনের ভ্রান্তি ও অবজ্ঞা।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর নতুন রাস্তা মোড় থেকে খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার বিএনপি’র আয়োজনে খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ ও নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    রকিবুল ইসলাম বকুল আরও বলেন, প্রকৃত সম্পদ বা ক্ষমতার মালিক মানুষ না। কিন্তু যারা এই সম্পদ বা ক্ষমতার মালিক হওয়ার কথা বলে, তারা নিজেদের প্রতারক ও মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত। এটি মুসলমানদের জন্য শিরকের শামিল, কেননা তারা ভোটের আগেই মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে জনগণকে ধোঁকা দেয়। নির্বাচিত হওয়ার পর এই দলগুলো চরম জুলুম ও প্রতারণার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

    বক্তব্যে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে এভাবে বিভ্রান্ত করা কেবল রাজনৈতিক অপকৌশল নয়, এটি বড় ধরনের ধর্মীয় অবমাননা। আসন্ন নির্বাচনে এই প্রতারক দলের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে, নিজের ঈমান ও অধিকার রক্ষা করতে মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    নির্বাচনী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিটি নগরীর নতুন রাস্তা মোড় থেকে শুরু হয়ে দৌলতপুর মোড় প্রদক্ষিণ করে খানজাহান আলী থানার সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিশাল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের ঐক্য জরুরি

    দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের ঐক্য জরুরি

    প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, দেশের সফলতা এবং উন্নতির জন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আস্থা খুবই জরুরি। তিনি আরও বলেন, দেশের সাংবিধানিক সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় গণভোটে হ্যাঁ বলে মতামত দেওয়াই একমাত্র পথ। শনিবার দুপুরে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে গণভোটে প্রচার ও ভোটার উত্সাহ বৃদ্ধির লক্ষ্য্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাইয়ে ঘোষিত জাতীয় সনদ ২০২৫ দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। যদিও এ সনদটি কালো কালি দিয়ে লেখা হলেও এর মূল মানে হলো, আমাদের রক্ত দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূল্য। যুবকদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীকারের স্বীকৃতি পেয়েছি। তাই এ গণভোটটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তারা উঁচু স্তরে থাকাকালীনও গণভোটে হ্যাঁ বলা কোন বাধা থেকে মুক্ত।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার সহকারী মনির হায়দার বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মূল লক্ষ্য ছিলো ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। এই গণভোট নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য জনমতের অনুমোদনের একটি মাধ্যম। যদি জুড়িয়ে জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পক্ষে রায় আসে, তবে দেশের সংবিধানে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসন রোখা সম্ভব হবে।

    খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মাকসুদ হেলালী, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জাহিদুল হাসান। এই মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, বাণিজ্য Chamber-এর সদস্য, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • সোনার দাম আবার রেকর্ডের নতুন শিখরে, ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা

    সোনার দাম আবার রেকর্ডের নতুন শিখরে, ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা

    বাংলাদেশের بازارেও সোনার দামে ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে। আবারও নতুন রেকর্ড গড়ল এই মূল্যবান ধাতুটি, যা দেশের অর্থনীতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গেছে। সম্প্রতি, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। এই গতিকে ধরে, এক ভরি ২২ ক্যারেটের শোনা সোনার মূল্য এখন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। এ ঘোষণা সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, এবং এই দাম আগামী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুস জানিয়েছে, দেশে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের মূল্য আবারও বেড়েছে, যার কারণে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ১১.৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। পাশাপাশি, অন্যান্য ক্যারেটের জন্য দাম নির্ধারণ করা হয়েছে— ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির (পুরাতন ডিজাইন ও মান ভেদে) প্রতি ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, সোনার বিক্রয় মূল্যতে সরাসরি সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানের পার্থক্য অনুযায়ী মজুরির হারেও ভিন্নতা থাকতে পারে।

    অন্যদিকে, এর আগে ১৪ জানুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম ছিল সর্বোচ্চ ও একেবারে নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি। তখন ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায়। এর আগে সেটি দেশের সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছেছিল। সেই সময় অন্যান্য ক্যারেটের জন্য মূল্য ছিল ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।

    এভাবে, চলতি বছর পঞ্চমবারের মতো দেশের স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম ছয় দফা বাড়ানো ও দু’দফায় কমানো হয়েছে।

    অপর দিকে, রুপার দামের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ভরি প্রতি ২৯১ টাকা বাড়িয়ে নতুন রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যারেটের জন্য, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়।

  • রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি হবে: গভর্নর

    রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি হবে: গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হলো। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগে বাড়তি অগ্রগতি হবে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, চলমান অর্থবছরে দেশের বিদেশি রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    আহসান এইচ মনসুর আরও জানান, দেশের তারল্য সংকট ধীরে ধীরে কমে আসছে। যেখানে আগে রিজার্ভের অভাবে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হত, এখন সেই চাপ কিছুটা কমে গেছে। একসময় ব্যাংকগুলো ঝুঁকি বিনা মুনাফায় বেশি ঋণ দিতো, যা এখন পরিবর্তিত হয়েছে। এখন ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং সঠিক ঋণগ্রহীতাকে চিহ্নিত করতে হবে।

    গভর্নর বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অগ্রগতি খুবই প্রগতি মূলক। মনে করি, চলতি অর্থবছরে দেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বের বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম কমার ফলে আমদানির চাপ কমেছে।

    সুদের হার নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এটি এখন দেশের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। তবে এখনকার বিনিময় হার স্থিতিশীল। টাকা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, যার ফলে মানুষ ডলার বিক্রি করে টাকা নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ডলার কিনেছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তার চেয়েও বেশি। পাশাপাশি বাজারে ৪৫ বিলিয়ন টাকা ছাড় করা হয়েছে, যা তারল্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে।

    আহসান এইচ মনসুর উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক ঝটিকা ব্যবসায় মূলে প্রভাব ফেলেছে, তবে যারা টিকে থাকতে সক্ষম তাদের জন্য সহায়তা পাওয়া গেছে। কোনো গোষ্ঠী বা দল ভিত্তিক বৈষম্য হয়নি।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত দ্রুত সুদের হার কমানো ঠিক হবে না। এতে বিনিময় হার ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের উপরে রয়েছে, এর পতন লক্ষ্যে নিয়ে আরো সময় লাগবে। মূল্যস্ফীতি ১ শতাংশ কমলে নীতিগত সুদের হারও কমানো হবে। ইতিমধ্যে বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ কমানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ডেটা বিশ্লেষণ করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিময় হার, সুদের হার, রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও আমদানি-রপ্তানির তথ্য। প্রতিদিনই রেমিট্যান্সের প্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই মাসে রেমিট্যান্স আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখন পর্যন্ত ১৭০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সাপ্তাহিক ও মাসিক ডেটার পাশাপাশি বর্তমানে ত্রৈমাসিক জিডিপির তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে, যা অর্থনীতির বিশ্লেষণ আরও সহজ করে তুলেছে।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান। এছাড়া আরো বক্তব্য দেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।

  • নিপ্পন পেইন্টকে অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্টকে অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    ব্র্যাক ব্যাংক নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশকে আধুনিক ও উন্নত ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা সরবরাহের জন্য একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নিপ্পন পেইন্টের ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য টাকা সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করে তোলা। এই সিস্টেমের মাধ্যমে তারা তাদের ভিসা ও পেমেন্ট সম্পর্কিত সব কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।

    চুক্তির অধীনে, নিপ্পন পেইন্ট ব্র্যাক ব্যাংকের ডিফল্ট API ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ব্যাংকের ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন প্ল্যাটফর্ম ‘কর্পনেট’-এর সাথে যুক্ত হবে। এই সংযোগের ফলে, প্রায় ২০০ জন ডিস্ট্রিবিউটর তাদের সংগ্রহকৃত অর্থের তথ্য অবিলম্বে নিপ্পন পেইন্টের ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) সিস্টেমে দেখতে পারবেন। এতে করে তারা তাদের আর্থিক হিসাব-নিরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবেন এবং একটুর জন্যও তথ্যের অস্বচ্ছতা থাকবেন না।

    এই সহযোগিতার ফলস্বরূপ নিপ্পন পেইন্টের নগদ প্রবাহের দৃশ্যমানতা আরও বাড়বে, রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের ফিন্যান্সিয়াল কন্ট্রোল আরও শক্তিশালী হবে। ব্র্যাক ব্যাংক এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ট্রানজ্যাকশন সেবা চালু করে কর্পোরেট গ্রাহকদের ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব কর্পোরেট, কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং আসিফ বিন ইদ্রিস, হেড অব ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং এ. কে. এম. ফয়সাল হালিম এবং এরিয়া হেড অব রিলেশনশিপ ইউনিট এস এম মুসা।

    নিপ্পন পেইন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার রাজেশ সিরকার, সিনিয়র ম্যানেজার সালাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    এই নতুন ট্রানজ্যাকশন সেবা ব্র্যাক ব্যাংকের ক্রেতা ও ব্যবসায়ী সমপ্রদায়ের জন্য আরও সুবিধাজনক এবং আধুনিকভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা তাদের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। ব্র্যাক ব্যাংক ভবিষ্যতেও প্রযুক্তির মাধ্যমে পেশাদারী সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে, যাতে করে তারা তাদের গ্রাহকদের জন্য আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও আস্থাপূর্ণ ব্যাংকিং পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

  • সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে

    সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে

    বাংলাদেশে সোনার বাজারে নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছানো এই দামটি এখন থেকে কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি বুধবার। গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, প্রতি ভরি মানের সোনার দাম এতো দিন থেকে এতো দিন পর্যন্ত বেড়ে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি মূলত বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির ফলাফল।

    বিশ্বের স্বর্ণমূল্য থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৭৪৫ ডলার প্রতি আউন্সের বেশি। এর ফলে দেশের বাজারে সোনার দামের এই উত্থান ঘটেছে।

    নতুন দামে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি এখন ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা, আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭৪৬ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    এছাড়া, দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামেরও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকায়, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ৪ হাজার ৮০২ টাকা। এই দামে এখন বিক্রি হচ্ছে দেশের গহনা বাজারের প্রয়োজনীয় ধাতু।

  • সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়াল

    সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়াল

    এক দিনে আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছে, যা নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের উচ্চ মানের সোনার দাম দুই লাখ ৫২ হাজার টাকারও বেশি হয়েছে, যা দেশের সর্বোচ্চ সোনার দাম হিসেবেই রেকর্ড করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বাজুসের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে, এবং নতুন মূল্য আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য হু হু করে বাড়ছে।

    বিশ্বে স্বর্ণ ও রুপার দামের বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা গেছে, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম অতিক্রম করেছে ৪ হাজার ৮০০ ডলার প্রতি আউন্সের মতো কঠিন স্তর।

    নতুন দামে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা, যেখানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২০৬,৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এখন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।

    এছাড়াও, সোনার দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে রুপার দামেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ৪ হাজার ২০০ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মনে নানা প্রশ্ন বরং উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

  • তারেক রহমানের ঘোষণা: বাংলাদেশ সবার আগে, নয় দিল্লি বা পিন্ডি

    তারেক রহমানের ঘোষণা: বাংলাদেশ সবার আগে, নয় দিল্লি বা পিন্ডি

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রতি তার unwavering অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি বা অন্য কোনো দেশের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশকে প্রথমে রাখবো আমাদের অগ্রাধিকার।’ এই অভিমত তিনি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের পুণ্যভূমিতে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে ব্যক্ত করেন।

    বিশ্লেষণে, তিনি বলেন, দেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি হলো দেশের প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ। ভোটের জন্য আবেদন করে তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন। এই নির্বাচনে বিএনপি যদি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়, তবে দেশের গণতন্ত্রের নতুন যে যুগ শুরু হবে, সেটি স্বৈরাচার মুক্ত ও মানুষের অধিকারের প্রতিশ্রুতি প্রদান করবে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ধানের শীষের বিজয় সাধন খুবই জরুরি।

    ব্যাপক জনসমাগমে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তারা কি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে পারবেন? উত্তরে সমর্থকেরা হাত তোলেন unanimously, এবং তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘ইনশাআল্লাহ’।

    তিনি আবারও স্পষ্ট করে দেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ সময় বিএনপি’র পুরনো স্লোগান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ এর ব্যাখ্যাও দেন।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকারে গেলে মা-বোনদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সিলেটের বহু মানুষ বিদেশে যায়, তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে সচেষ্ট থাকবেন।

    এ সময় তিনি বলেন, যারা পালিয়ে যায়, তারা ভোট ও মুক্তিসহ স্বাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়; তারাই ইলিয়াস আলী, দিনার ও শতাধিক মানুষের হত্যাকারী, গুম-খুনের মামলায় জর্জরিত করে। গত ১৬ বছরে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার, উন্নয়নের নামে অর্থ লুটের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই অবস্থা পরিবর্তন করে দেশের উন্নয়ন চান।

    অন্যশ্রেণীর ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি সতর্কতা জ্ঞাপন করে বললেন, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তিনি বেশ সুসম্পন্ন থাকবেন। তিনি জনতাকে জানান, আগামীতেও তারা ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।

    জনসভায় উপস্থিত কিছুকজনকে মনে করিয়ে দিতে তিনি একজনকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে বলেন, ‘আপনার নাম কি?’ উত্তরে তিনি ‘এটিএম হেলাল, সুনামগঞ্জ’ বলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি কাবা শরীফের মালিক?” উত্তরে হেলাল বলেন, “আল্লাহ।” তারেক রহমান বুঝিয়ে বলেন, “অর্থাৎ পৃথিবীর মালিকও আল্লাহ। তাহলে অন্য কেউ বেহেশত বা দোযখের মালিক কি হতে পারে?” — এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তরে জনতার উত্তর দেন, “আল্লাহ।” তখন তিনি মনে করিয়ে দেন, “আল্লাহর মালিকানা ছাড়া অন্য কেউ কিছু দিতে পারে না। সেহেতু, যারা বেহেশত বা স্বর্গের কথা বলে, তারা শিরক করছে। কারণ, তাদের মালিক একমাত্র আল্লাহ।”

    বক্তা ব্যক্তি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমাদের মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতা মহান ব্যক্তিদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সাহসিকতায় সম্ভব হয়েছে, আর সেই মানুষদের দ্বারা এই দেশ পরিচালিত হয়েছে। তাই আমাদের একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, মিথ্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এসো, ফিরে যাওয়াকে টেক ব্যাক বাংলাদেশে রূপান্তর করি।’

    তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এখনই খাটা প্রয়োজন, কেবল ভোটের অধিকার দিয়ে নয়, প্রত্যেকের সক্ষমতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যবস্থা করতেই হবে। মানুষের জীবন মান উন্নত করতে, নিরাপদে চলাচলের সুবিধা প্রদান করতে হবে, এই মূল লক্ষ্যই হলো—‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।

    তিনি মনে করেন, গত ১৫ বছরে দেশের উন্নয়নের নামে অন্যায়ভাবে সম্পদ লুটপাট হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি বা অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা নয়, আমাদের স্বার্থে সবসময় প্রথমে বাংলাদেশ।’

    তারেক রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, দেশের সব মানুষ আমাদের সত্যিকারের শক্তি। তাই, দেশের উন্নয়নের জন্য তারা সবাইকেই পাশে পেতে চাই। শুধুমাত্র ভোটের অধিকার নয়, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার জন্যও কাজ করা হবে। তার ভাষায়, ‘শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশের উন্নয়নকাজ চলেছিল, কলকারখানা গড়ে উঠেছিল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল। এই কারণেই আবার বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে চাই।’

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী ১২ তারিখের ভোটে জয় লাভ করে দেশ পরিচালনা করবেন, যেন ন্যায়ের পথে দেশ চালানো যায়। তিনি সবশেষে বলেন, ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’

    বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবর্ধনা ও কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বক্তৃতা করেন বিএনপির অন্যান্য প্রার্থী-নেতারা, যারা দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:২৫ মিনিটে জনসভার মঞ্চে ওঠেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে। সকলে তাকে হাত তুলে স্বাগত জানান, সমর্থকদের উল্লাসে মঞ্চ প্রকম্পিত হয়। এর আগে সূর্যোদয় থেকে শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে পুরো আয়োজন।

  • মানুষ ফ্যামিলি কার্ড ও ফ্ল্যাট চায় না, নিরাপদ জীবন চায়: নাহিদ ইসলাম

    মানুষ ফ্যামিলি কার্ড ও ফ্ল্যাট চায় না, নিরাপদ জীবন চায়: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বাংলার সাধারণ মানুষের pipর্ণতাকে তুলে ধরে বলেছেন, মানুষ এখন কার্ড বা ফ্ল্যাট চায় না, তারা চাই আরও বেশি নিরাপদ জীবন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি যে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছে, সেটি কাদের জন্য? যারা সত্যিই দরিদ্র বা সুবিধাবঞ্চিত, তারা কি এই কার্ডের সুবিধা পাবেন? নাকি এই কার্ড পেতে হবে ঘুষ দিয়ে? বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, একদিকে তারা কার্ড দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিচ্ছেন। যারা ক্ষমতায় গেলেই জনগণের টাকাকে লুট করবে এবং বরখাস্ত হবে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জনতার অর্থ লুটপাটের জন্য এজেন্ডা সাজানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    বিশেষ করে এতদিন যারা বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বস্তিবাসীরা এখন আর ফ্ল্যাট চায় না। তারা চায় একটি নিরাপদ জীবন, যা বস্তিতে থেকেও সম্ভব। অতীতে যারা বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচনের পরে তারা উচ্ছেদ করতে নেমেছেন। বস্তিবাসীরা এখন এসব মিথ্যা আশ্বাস বুঝতে পারছেন। তারা দেশের স্বার্থে, ন্যায়ের পক্ষে ভোট দেবে, ফ্ল্যাটের জন্য নয়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরি। তিনি আশ্বস্ত করেন, নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি সচেতন ও উদ্বুদ্ধ। কোনো দলের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া চলবে না। তিনি বলেন, আমরা মাঠে আছি, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

    অবশেষে তিনি ইনসাফের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন। বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নয়, এটি একটি গণভোটও। সবাইকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, আমরা সবাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব। বৈষম্য, চাঁদাবাজি, অন্যায়, জুলুম ও আধিপত্যবাদকে একিমাত্র পথে পরাজিত করতে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ।

    নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আন্দোলনের শুরুতে যা লক্ষ্য ছিল, তা অনেকটাই অধরাই রয়ে গেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে আমরা এই সংগ্রামে বিজয় অর্জন করব, আর এর মাধ্যমে আমাদের আন্দোলনকে ফলপ্রসূ করে তুলব।

  • নতুন জামাকাপড় পরে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসলে ৫ আগস্টের ফলাফল হবে: জামায়াত আমির

    নতুন জামাকাপড় পরে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসলে ৫ আগস্টের ফলাফল হবে: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামির মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই না বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখা হোক। যদি নতুন জামাকাপড় পড়ে ফ্যাসিবাদ আবারো সার্বিকভাবে ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে ৫ আগস্টের ফলাফল তারই প্রত্যক্ষ বহিঃপ্রকাশ হবে। অতীতের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি যেন আবার ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং এমন কোনও চিহ্ন যেন ফুটে ওঠে না, যা ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান নির্দেশ করে।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর আদর্শ স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

    ডা. শফিকুর রহমান অাত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, এখানের উপস্থিত প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষই প্রথম বা দ্বিতীয়বার ভোটদানে অক্ষম, বহু মানুষ জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেননি। যারা এই ভোটাধিকারের অপব্যবহার করেছে, তাদের নাম ‘ভোট ডাকাত’। আপনাদের কি নতুন করে ভোট ডাকাত দেখার ইচ্ছে আছে? আমরা চাই না আবারো ভোট ডাকাতের দুর্বিপাকের শিকার হতে। এই ৪০ শতাংশ যুবক-যুবতীরাই মূলত আন্দোলনের মূল动力, তাদের নেতৃত্বে দেশ পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তাদের হাত ধরেই আজ আমরা এই সভায় একত্রিত।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, আপনাদের যে দুঃশাসন, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলেছিলেন—যে ন্যায়বিচার এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যতক্ষণ না সেটি বাস্তবায়িত হয়, ততক্ষণ ঘরে ফিরে যাব না।

    তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের দলের গোষ্ঠীচক্রের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলারাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মানুষের হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনা রোখার জন্য কাজ করতে পারবে, তারা আগামী বাংলাদেশের জন্য আদর্শ নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে যারা এসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবেন, তারা যত স্বপ্ন দেখুক না কেন, জনগণ তাদের চক্রান্ত বুঝে ফেলবে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চেয়েছিল, তাদের মূল দোসররা এখন দৃশ্যমান নয়। ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের কাছে বিনীত অনুরোধ, যারা এই ধরনের কষ্ট দিয়েছেন, সেই কষ্ট যেন আর কেউ আর না দেয়।

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও কিছু জায়গায় ফ্যাসিবাদের ছায়া কাজ করছে। যদি এটি বন্ধ না হয়, তাহলে আগামী ১২ তারিখের ভোটে জনগণ দুটি ‘না’ ভোট দেবে, ইনশাআল্লাহ। দেশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনীতির কাঠামো পরিবর্তনের ইচ্ছা স্পষ্ট, তাই তারা আশা করে এই ভোটে তারা ‘হ্যাঁ’ বলবে।

    শফিকুর রহমান একথা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় সমস্ত জনগণ, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ ও নারী সবাই রাস্তায় নেমেছে। নির্বাচনী মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দলগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১০ দল জিতলে তা হবে এক বড় গণআন্দোলনের সূচনা, যা দখলদার, চাঁদাবাজ, ব্যর্থ বা ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ হবে, পাশাপাশি ব্যাংক ডাকাতি ও নারীর মর্যাদায় হাত তোলার বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।