জেল দেখার কৌতূহলে ছুরিকাঘাত: ফতুল্লায় ১১ বছরের হোসাইনকে হত্যা, ৬ কিশোর গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জেল খাটতে কেমন লাগে—এমন কৌতূহলে ছুরিকাঘাত করে ১১ বছর বয়সী একটি শিশুকে হত্যা করার ঘটনায় ছয় কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ভাসমান ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন (১১) গত ১৮ এপ্রিল সকালে নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর ২৩ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লা রোডের ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ময়লার স্তূপ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা করা হয় এবং মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ইয়াসিনকে গ্রেফতার করা হয়।

ইয়াসিনেরে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বরিশাল জেলাসহ অন্য স্থান থেকে আরও পাঁচ কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যা কাজে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে ঘটনার দিন সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ‘কাকে হত্যা করলে জেলে যেতে হয়’—এমন কৌতূহল পূরণের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করেছিল। পরে পথ চলাকালীন হোসাইনকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বাকি তিন বন্ধু—রাহাত, (আরও একজন নামও হোসাইন) ও ওমর—আসছিল। সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এবং মরদেহ পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে পালিয়ে যায়।

পুলিশি পর্যায়ে গ্রেফতার হওয়া ছয় কিশোরই ১৮ বছরের নিচে এবং প্রত্যেকে মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেছে।

জেলা পুলিশ সুপার আরও জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও একজন কিশোর এখনও পলাতক রয়েছেন; তাকে গ্রেফতারে তল্লাশি অভিযান চলছে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানানো হয়েছে।