Blog

  • শুটিং শেষে সালমান খান বদলে গেলেন, চেহারায় দেখা গেল বড় পরিবর্তন

    শুটিং শেষে সালমান খান বদলে গেলেন, চেহারায় দেখা গেল বড় পরিবর্তন

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান নিজেকে সবসময়ই নিজস্ব স্টাইল ও লুকের জন্য আলাদা করে থাকেন। সম্প্রতি তিনি মুম্বাই বিমানবন্দরে দেখা গেলে তা দেখে তার ভক্তরা অভ্যুত্থিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে গোঁফযুক্ত লুক রাখতে থাকা এই তারকা এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে নজরে এলেন, যার কারণে সবাই বেশ হতবম্ব।

    জানা গেছে, সালমান খান তার আসন্ন ছবি ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’-এর শুটিং শেষ করে দেশে ফিরেছেন। এই ছবির জন্য তাকে দীর্ঘদিন গোঁফ ও নির্দিষ্ট একটি লুক ধরে রাখতে হয়েছিল। তবে, লাদাখের কঠিন পরিস্থির শুটিং শেষ করে তিনি এখন একটি নতুন, পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন শেভড চেহারায় ফিরে এসেছেন। বিমানবন্দরে তাকে কালো টি-শার্ট, ডেনিম জিনস আর জ্যাকেট পরে দেখা গেছে, তবে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তার মোছা ও ঝরঝরে চেহারা, যা তার ভক্তদের চমকে দিয়েছে।

    ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’ সিনেমার শুটিং হয়েছে লাদাখের কঠিন পরিবেশে, যেখানে তীব্র ঠান্ডা এবং কম অক্সিজেনের কারণে শুটিং অনেক কষ্টকর ছিল। এই কঠিন শিডিউলের শেষে সালমানের এই নতুন লুকের প্রকাশ তার স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেক ভক্ত। সাধারণত ‘দাবাং’ সিনেমার চুলবুল পান্ডের মতো গোঁফের লুকের জন্য পরিচিত এই অভিনেতাকে এই পরিবর্তন বেশ আনন্দের মত দেখাচ্ছেন অনুরাগীরা।

    অভিনেতার ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের খবর, দীর্ঘশুটিংয়ের পর তাকে কিছুটা বিরতিতে থাকতে হবে। এরপর তিনি দ্রুত মুম্বাইয়ে ফিরে আসবেন এবং নতুন পরিকল্পনায় কাজ শুরু করবেন। বিশাল এই তারকার বয়স ৬০ এর কাছাকাছি হলেও তার এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, সালমানের গ্ল্যামার অমলিন। সামাজিক মাধ্যমে তার এই নতুন লুকের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তরা তার প্রতি প্রশংসায় ভরিয়ে তুলছেন। ভবিষ্যতের নতুন প্রজেক্টের জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

  • অভিনব পোশাকে বিস্ময় জাগালেন জয়া আহসান

    অভিনব পোশাকে বিস্ময় জাগালেন জয়া আহসান

    অভিনেত্রী জয়া আহসান নতুন এক ধরনের পোশাক ও স্টাইলে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ডোন্ট বি অ্যান অ্যাপল’ লেখায় ছয়টি নতুন ছবি শেয়ার করেন। ছবিগুলিতে দেখা যায়, জয়ার চোখে সানগ্লাস, ঠোঁটে বাঁকা হাসি—একটু ইঙ্গিতময় চোখের গল্প। এ ছাড়া, তিনি সঙ্গে যুক্ত করেছেন নার্গিসের জনপ্রিয় গান ‘পিরিতের পেট্রোল ঢাইলে আগুন জ্বালাইসে গায় / সোনা বন্ধু কুনজাগায়…’, যা আরও বরং এইবারের বার্তাটির গভীরতা বোঝাতে সাহায্য করছে। এটি বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ১৪ মিনিটে পোস্ট করা হয়, এবং দ্রুতই ছবি গুলোর প্রশংসা ও আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। ছবিগুলোতে জয়াকে দেখা যাচ্ছে একটি লাল ব্লাউজ ও ডেনিম পরিহিত অবস্থায়, কপালে লাল টিপ ও খোপায় লাল-সাদা ফুলের সাজে। এই পোশাকের মাধ্যমে মনে হচ্ছে, হয়তো নতুন কোনো খবরের সূচনা হচ্ছে, যা শুরু হচ্ছে এমন রোমান্টিক এক ছবির মাধ্যমে। ছবিগুলোর কমেন্টে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, সঙ্গে দেখা যাচ্ছে উৎসাহ, কৌতূহল এবং আগ্রহের নানা ধাপ। এই পোস্টটি ব্যক্তি ও ভক্তদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে, একে অন্যের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে নানা প্রতিক্রিয়া।

  • সাকিব বললেন, আমি সব বল আমার দেশের জন্য খেলব

    সাকিব বললেন, আমি সব বল আমার দেশের জন্য খেলব

    সম্প্রতি দেশের বাইরে একটি পডকাস্টে লম্বা সময় ধরে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের শীর্ষ তারকা সাকিব আল হাসান। সেখানে তিনি তার ক্যারিয়ারের নানা দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের কথা ওঠে। তখন উপস্থাপক জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপের আগেই কি তিনি টের পেয়েছিলেন যে এই বিশ্বকাপ তারই জন্য আসছে।

    সাকিব উত্তর দেন, ‘কিছুটা ধারণা ছিল। আইপিএলের আগের মৌসুমে আমি সব ম্যাচ খেলেছি (সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে). ফাইনালও খেলেছিলাম, কিন্তু জিততে পারেনি team. ওয়ার্নার তখন অধিনায়ক ছিলেন, তবে তিনি মৌসুমের মাঝপথে খেলতে পারেননি। পরের মৌসুমে তিনি ফিরে আসেন। কেইন উইলিয়ামসন দারুণ ফর্মে ছিলেন। জনি বেয়ারস্টো ও রশিদ খানও দলে ছিলেন। আমি মনে করি, তাদের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল।

    সাকিব আরও বলেন, ‘আমি দেখছিলাম, যদি কেউ ইনজুরিতে না পড়ে তাহলে আমার এই বছর দলে থাকার সম্ভাবনা কম। তখন আমি ভাবলাম, কেন নিজেকে প্রস্তুত করছি না আমার সামর্থ্য অনুযায়ী? কারণ দুই মাস পরই বিশ্বকাপ। আমি হোটেল রুমে বসে নিজেকে অনুপ্রাণিত করছি, ভাবছিলাম, আমি যা চাই সেটি অর্জন করতে আমি বর্তমানে যথেষ্ট পরিশ্রম করছি না। তাই আমি নিজের সব কিছু উজাড় করে দিয়ে ট্রেনিং শুরু করি। এক মাসের ট্রেনিং শেষে আমার ওজন কমে যায় কেউ কেউ দেখেছেন। মূল কোচ টম মুডি জিজ্ঞেস করেন, কী হয়েছ, আমি বলি, দেখবেন বিশ্বকাপে। আমি সবাইকে দেখিয়ে দেব, আমি কী বলতে পারি। আমি ভেতর থেকে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি। দুই মাসের ট্রেনিং শেষে আমি আয়ারল্যান্ডে গেলে তিনটি ফিফটি করি। তবে ফাইনালের আগে ইনজুরির কারণে ফাইনাল খেলতে পারিনি, আমি কোনো সুযোগ হাতছাড়া করিনি।

    সাকিব আরও বলেন, ‘২০১৯ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে আমি ৭৫ রান করেছিলাম। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে মনে হয় ৬০ রান ছিল। আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবার জোফরা আর্চারের মুখোমুখি হয়েছি। সে ১৫০ কিমি/ঘণ্টা+ গতিতে বল করত। কার্ডিফে আমরা খেলছিলাম। সৌম্য সরকার তখন আউট হয়ে গিয়েছিল, বল স্টাম্পে হিট করে বাউন্ডারিতে চলে যায়। আমি পরের ব্যাটার। তাকে মোকাবেলা করে একটি ছয় মারি। কারণ সে শরীর তাক করে বল করছিল, আমি হুক পুল করে বলছিলাম। এরপর আমি ভাবলাম, হ্যাঁ, আমি পারব। এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন বোলারকে আমি মোকাবেলা করেছি, ফলত বাকিরা একদম সহজ।

    সেঞ্চুরি করার পর যেনো খুব বেশি উদযাপন না করাটা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘এর কারণ ছিল এই বিশ্বকাপে আমি একটি লেখা লিখে রেখেছিলাম, যাতে বলা হয়েছে আমি প্রতিটি বল আমার দেশের জন্য খেলব—নিজের জন্য নয়। এটি সম্পূর্ণ দলের জন্য।’

  • সাকিবের মন্তব্য: রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখনও শেষ হয়নি

    সাকিবের মন্তব্য: রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখনও শেষ হয়নি

    ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষের আগে থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তিনি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে থাকেন, আর ফিরতে পারেননি। এর ফলে তিনি নিজেকে আরও অধিক জনপ্রিয় এবং দৃঢ়ভাবে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে তিনি এসব কথা প্রকাশ করেছেন। একাধিক মামলার আসামি হিসেবে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন তিনি — এর মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। তবে, তিনি এখনো ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী এবং আরও অনেকদিন রাজনীতি চালিয়ে যেতে চান। সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয়, ক্রিকেট ক্যারিয়ার প্রায় শেষ করে ফেলেছি আমি। তবে রাজনীতির অংশ এখনও বাকি আছে। এটা আমি বাংলার মানুষের ও মাগুরার মানুষের জন্য করতে চাই। এটাই আমার ইচ্ছা, এবং এখনও আমার আশা আছে। দেখা যাক, আল্লাহ কি করে আমাকে পরিচালনা করেন।’ তিনি জানিয়েছেন, গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পূর্ব থেকেই তিনি দেশের বাইরে ছিলেন, আর সেই সময় থেকে আর দেশের ফিরে আসেননি। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সক্রিয়তা অব্যাহত ছিল। তিনি স্বৈরাচারী নেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন, যা কিছুটা জনরোষের সৃষ্টি করেছিল। তবে, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চান এবং সেই রাজনীতি এখনো আওয়ামী লীগের নিয়মরীতেই করবেন।

  • ভারতের কারণে আইসিসির ৭৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

    ভারতের কারণে আইসিসির ৭৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই গুরুত্বপূর্ণ আসরকে ঘিরে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এরই মধ্যে টনক নড়ে আইসিসির দাঁতে, কারণ ভারতের বাজারে সম্প্রচার স্বত্ত্বের জন্য তারা বড় ধরনের ঝটকা খেয়ে গেছে।

    আইসিসির সঙ্গে রিলায়ান্সের মালিকানাধীন জিওস্টারের চুক্তি ছিল ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চার বছরের জন্য। এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর আইসিসি পেত ৩০০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৬,৬৮৮ কোটি টাকা। কিন্তু হঠাৎই সম্প্রচার জায়ান্ট জিওস্টার এক চিঠিতে জানিয়ে দেয়, খুব দ্রুতই তারা এই চুক্তি বাতিল করছে, যেখানে মাত্র দুই বছরই বাকি। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসির জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা লেগেছে। এই খবর দ্য ইকোনমিক টাইমসের व्यापक প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।

    এখন আইসিসিকে নতুন ধারক খুঁজতে হচ্ছে, তবে বড় অঙ্কের এই অর্থাৎ ৩০০ কোটি ডলার বছরে দেওয়ার মত কেউ এগোচ্ছে না। নতুন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর আইসিসি পাবেই মাত্র ২৪০ কোটি ডলার, যা আগের চুক্তির তুলনায় ৬০ কোটি ডলার কম, অর্থাৎ বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ৭,৩৩৮ কোটি টাকার ক্ষতি।

    জিওস্টার কেন এই চুক্তি ভেঙে দিল? এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ভারত সরকার সম্প্রচারকারীর জন্য রিয়েল মানি গেমিং অ্যাপগুলো কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ড্রিম১১, মাইইলেভেন সার্কেলসহ বড় বড় অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জিওস্টারের বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের পরিমাণে ব্যাপক হ্রাস হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৭,০০০ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯,৫০০ কোটি টাকা। এরফলে তাদের খরচ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ, ফলে তারা এত বড় চুক্তি চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছে।

    এখন আইসিসি অন্যান্য বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম যেমন সনি, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইমের সঙ্গে আলোচনা করছে, কিন্তু কেউ এখনও রাজি হয়নি। যদি নতুন ক্রেতা না পাওয়া যায়, তবে আইসিসিকে বাধ্য হয়েই ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই চুক্তি চালিয়ে যেতে হবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নামকরা এই আসর। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ। যদি পাকিস্তান ফাইনালের মুখোমুখি হয়, তাহলে ফাইনাল শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায়, আয়োজন হবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে।

  • ঋতুপর্ণা চাকমা পাচ্ছেন বেগম রোকেয়া পদক

    ঋতুপর্ণা চাকমা পাচ্ছেন বেগম রোকেয়া পদক

    বাংলাদেশে নারী জাগরণের অন্যতম প্রবক্তা বেগম রোকেয়া। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের স্বীকৃতি ও অবদানের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করে থাকে। এবার এই prestigious পদকের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ড. রুভানা রাকিব, শ্রম অধিকার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং ক্রীড়ায় নারী জাগরণের অন্যতম কাণ্ডারি ঋতুপর্ণা চাকমা। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নারী ফুটবলার। তার জোড়া গোলের সুবাদে বাংলাদেশ শক্তিশালী মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া, গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হয়, যেখানে ঋতুপর্ণার অবদান বড়। সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে এখন তিনি ক্রীড়াঙ্গনসহ পুরো দেশের জন্য অনুপ্রেরণার এক আইকনে পরিণত হয়েছেন। ৯ ডিসেম্বর বুধবার বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিন সরকার রোকেয়া পদক প্রদান করে। অতীতে এই দিনে ক্রীড়াবিদদের পুরস্কৃত করা হয়নি, তবে গত বছর কিংবদন্তি দাবাড়ু রাণী হামিদ পুরস্কৃত হন। এবার আবারও ক্রীড়াঙ্গনের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা এই পদক পাচ্ছেন। অনুষ্ঠান শুরু হবে আগামীকাল এক বিশেষ অনুষ্ঠানে, যেখানে এই সুন্দর মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক অভিনন্দনমূলকভাবে অর্জন করেছে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল ২০২৫ সালে। নারী ফুটবলাররা এর আগে একুশে পদক পায়নি, বরং সাবেক খেলোয়াড় ও ধারাভাষ্যকার আব্দুল হামিদ সাংবাদিকতার জন্য এই পুরস্কার লাভ করেন। দলীয়ভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার প্রথমবারের মতো পেল নারী ফুটবল দল, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ইতিহাস রচনা করল।

  • বিশ্বস্ততা দিয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিপিএলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত

    বিশ্বস্ততা দিয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিপিএলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত

    আগামী বিপিএল আসরে অংশগ্রহণ করবে দেশের সব দলের পাকিস্তানি ক্রিকেটরা। শুরুতেই ছিল অনিশ্চয়তা যে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই খেলা জন্য তাদের অনুমতি দেবে কি না। তবে এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, পিসিবি মোট ৯ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে বিপিএলে খেলতে অনুমতি দিয়েছে। এই খবরটি নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি।

    তালিকায় থাকা ক্রিকেটাররা হলেন- মোহাম্মদ নাওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, সাহিবজাদা ফারহান, হুসাইন তালাত, ইহসানউল্লাহ, হায়দার আলি, আবরার আহমেদ, খাজা নাফিস এবং সালমান ইর্শাদ।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানি ব্যাটার উমর আকমলকে এনওসি (নোটিশ জন্য অনাপত্তিপত্র) দেয়া হয়নি। তিনি এর কারণ জানতে পিসিবির কাছ থেকে আবেদন করেছেন। উমর আকমল বলেছেন, ‘আমি জানি না কেন আমার এনওসি অনুমোদন করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের কারণে আমি বেশ কিছু ভালো চুক্তিও হারিয়েছি।’

    বিপিএলের অধিকাংশ দলেরই পাকিস্তানি ক্রিকেটার থাকায় এই অনুমতিকে অনেকেই এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন।

    বিপিএলের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে। এই পর্বে ছয় দিনে মোট ১২টি ম্যাচ হবে, যেখানে মাঝেমধ্যে দুটি করে দিনের বিরতিও থাকবে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে চট্টগ্রামে, ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এরপর ১৫ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরে আসবে বিপিএল। তিন দিন টানা ম্যাচের পর ১৭ জানুয়ারি শেষ হবে গ্রুপ পর্বের খেলা।

  • আল-আকসা চত্বরে ফের উত্তেজনা, দুই দফায় ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ

    আল-আকসা চত্বরে ফের উত্তেজনা, দুই দফায় ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির প্রায় দুই শতাধিক বাসিন্দা কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এই ঘটনায় পরিস্থিতি তীব্র হয়ে উঠে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই ধরনের অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে চলমান ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক মর্যাদার ভাগাভাগি বা ডিভিশনের একটি অংশ, যা আল-আকসার আদর্শিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। খবর এপির—টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

    জেরুজালেম প্রাদেশিক প্রশাসনের বিবৃতি অনুসারে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ও বিকেলে দু’দফায় মোট ১৮২ জন অবৈধ বসতির বাসিন্দা আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে কুব্বাতুস সাখরা এলাকায় তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। একই দিনে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত গেট দিয়ে ৭৭৮ জন বিদেশি পর্যটকও এই ধর্মীয় স্থান দর্শন করেন।

    সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে মাত্র এই মাসে আল-আকসায় প্রবেশ করেছেন প্রায় ৪ হাজার ২৬৬ ইসরায়েলি বসতির মানুষ এবং প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি পর্যটক।

    আল-আকসা মসজিদ বিশ্বের মুসলমানদের কাছে তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে শহরটিকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পদক্ষেপকে বৈধতা দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মরক্কো গেট দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনাগুলো ঘটে আসছে, যা জেরুজালেমের মুসলমানদের জন্য খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। মুসল্লিরা মনে করেন, এই ধরনের অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় আচার-আচরণ শহরটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক অংশ, যা আল-আকসার ধর্মীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে।

    ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আল-আকসার পুরো ১৪৪ দুনুম জমি মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত এবং এর ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। এটি বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যা মক্কা ও মদিনার পরে তৃতীয় পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা এখানে আসেন। মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য এই মসজিদটি একটি প্রতিরোধের প্রতীকও। এখানে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টান দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা রয়েছে, যা তিন ধর্মের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সংযোগে অবস্থিত।

    আল-আকসা শব্দের অর্থ ‘সবচেয়ে দূর’, যা মক্কা থেকে এর অবস্থান নির্দেশ করে। ইসলামী ধর্মশাস্ত্র আল কুরআনে এটি উচ্চ মর্যাদার স্থান হিসেবে উল্লেখিত, যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মিরাজের ঘটনা যুক্ত। এই পবিত্র স্থানটির সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

  • থাই-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষে ৫ লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়েছে

    থাই-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষে ৫ লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়েছে

    থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গেছে। বুধবার উভয় পক্ষই তাদের নাগরিকদের দ্রুত সীমান্ত থেকে আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরসান্ত কংসিরি এক সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, বর্তমানে চার লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, আবার বেশ কিছু স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, মোট ৭০০টিরও বেশি স্কুল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    কম্বোডিয়ার একজন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভারী অস্ত্রের ব্যবহারে দেশটির সীমান্তের কাছ থেকে ওয়ার্ডার থেকে ১২৭ হাজারের বেশি লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে নয়জন কম্বোডিয়ার বেসামরিক নাগরিক আর পাঁচজন একজন থাই সৈন্য। বৃহস্পতিবার দৈনিক নম পেন পোস্ট জানিয়েছে, থাই হামলায় একজন শিশুসহ ৪৬ জন আহত হয়েছে।

    উভয় দেশের সীমান্তের কাছের স্কুলগুলো বন্ধ করা হয়েছে এবং কিছু স্কুলকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত অক্টোবর মাসে কুয়ালালামপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে দুই দেশের শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল, যা সম্প্রতি ভেঙে যায়। দুই পক্ষই একে অপরকে সংঘর্ষের জন্য দায়ী করছে।

    বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘর্ষের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রয়োজনে ফোনে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

  • ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত মন্তব্যে তুমুল বাকযুদ্ধ

    ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত মন্তব্যে তুমুল বাকযুদ্ধ

    লোকসভায় নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন সময়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে কঠোর বাকবৈঠক হয়েছে। রাহুল গান্ধী যখন অভিযোগ করেন যে ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং তার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রেস কনফারেন্সে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, তখন অমিত শাহ এই বিষয়ে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    অমিত শাহ বলেন, বিরোধীরা একদিকে ভোটার তালিকার অনিয়মের অভিযোগ তুলে, অন্যদিকে সেই তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায়ও আপত্তি জানাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিহারের মতো রাজ্য যখন তারা কোনো নির্বাচনে হারে, তখন তারা অভিযোগ তোলে যে ভোটার তালিকায় ত্রুটি ছিল। তবে এই দ্বিচারিতা আর চলবে না বলে তিনি কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন।

    রাহুল গান্ধীর ভোট চুরি বিষয়ে মন্তব্যের জবাবে অমিত শাহ তুঁটি করে বলেন, যাদের পরিবারের প্রজন্মগত ভোট জালিয়াতির ইতিহাস রয়েছে, তারা আজ ভোট চুরির অভিযোগ তুলছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি নেহরু-গান্ধী পরিবারের দিকে ইঙ্গিত করেন।

    অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, কেন নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে থাকাকালীন সময়ে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি শাহকে চ্যালেঞ্জ করেন যেন তিনটি প্রেস কনফারেন্সের মধ্যেই বিবৃতি দিয়ে বিতর্কে অংশ নেন। তিনি বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে সংসদ সদস্য, আমার বক্তব্য আপনি ঠিক করবেন না। ধৈর্য্য ধরে আমি সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেব।

    অমিত শাহ তখন ঐতিহাসিক প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের সময় ২৮ জন প্রাদেশিক কংগ্রেস নেতার ভোট পেয়েছিলেন সরদার প্যাটেল। অন্যদিকে, নেহরু মাত্র দুই ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তবুও নেহরু প্রধানমন্ত্রী হন। এই প্রসঙ্গে বিরোধী শিবির থেকে তীব্র প্রতিবাদ উঠে।

    অমিত শাহ আরও অভিযোগ করেন, রায়বরেলির রাজ্যে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনের বিরোধিতা করে যদি হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আইন পরিবর্তন করেন। পাশাপাশি সিনিয়র আওয়ামীদের উপেক্ষা করে চতুর্থ স্থানের একজন বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সোনিয়া গান্ধী তার নাগরিকত্ব পেওয়ার আগেই ভোট দিয়েছিলেন। এই ধরনের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন, যদিও কংগ্রেস এই সব অভিযোগ নাকচ করে।

    লোকসভা থেকে বেরিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব পুরোপুরি রক্ষণশীল ছিল। তিনি স্পষ্ট করে কোনো বিষয়ে কথা বলেননি— সেটা হল, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা, ইভিএমের স্থাপত্য বা তাঁর প্রদত্ত প্রমাণ।