Blog

  • ৫ বছর ধরে গুম থাকলে ট্রাইব্যুনাল গুম ঘোষণা করতে পারবে

    ৫ বছর ধরে গুম থাকলে ট্রাইব্যুনাল গুম ঘোষণা করতে পারবে

    গুম হওয়া ব্যক্তি যদি অনুক্ষেত ৫ বছর ধরে জীবিত না ফিরে আসে, তবে ট্রাইব্যুনাল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিসাপিয়ার্ড’ বা ‘গুম’ ঘোষণা করতে পারবে। এই সিদ্ধান্তটি বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর খসড়া অনুমোদন পাওয়ার সময় নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জানানো হয় যে, এই সংশোধনীটি নীতিগত এবং চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

    খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’ এর জন্য সাধারণ বিচারকদের নিয়োগের জন্য মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করবে। অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগীরা নিজ উদ্যোগে ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী নিযুক্ত করতে পারবেন। এছাড়াও, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা, পূর্বানুমতি ছাড়া, গুমের প্রভাবিত সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবে।

    বৈঠকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের অনুমোদন। দ্বিতীয়ত, গুমেরোধে আইনগত ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করতে এই আইন বলবৎ করা। তৃতীয়ত, সরকার ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। বাংলাদেশে হাওর অঞ্চলের বিরল এবং অনন্য ইকোসিস্টেম ধ্বংসের দিকে রয়েছে, যার কারণ গঠনমূলক বাঁধ নির্মাণ, বিষ ও কীটনাশক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ না থাকা, পর্যটনের নেতিবাচক প্রভাব ইত্যাদি।

    অধিকারে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি রক্ষায় দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হবে। এরই অংশ হিসেবে, হাওর ও জলাভূমি এলাকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে নানা আইন ও বিধি প্রণয়নের অনুমোদন দেওয়া হবে। এর আওতায়, এই অঞ্চলের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের তালিকা, অপরাধ হিসেবে গণ্যকরণ ও দণ্ডের বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত নিয়মাবলি পালন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।

    এছাড়াও, উপদেষ্টা পরিষদ সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। বর্তমানে জেনেভাতে বাংলাদেশের পার্মানেন্ট মিশন থাকলেও বার্নে বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকায় দেশটির অফিসিয়াল কাজ এ পর্যন্ত জেনেভা থেকে পরিচালিত হত। সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী এবং কৌশলগত অংশীদার। এই ধারনা থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের বার্নে একটি দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একে একে একজন রাষ্ট্রদূত, ফার্স্ট সেক্রেটারি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮২টি মিশন অফিস রয়েছে।

    বৈঠকে আরও জানানো হয়, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী মান্য ব্যক্তিত্ব শরিফ ওসমান হাদি গুরুতর অসুস্থ, তার চিকিৎসা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তার অবস্থা সম্বন্ধে ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তার সুস্থতার খোঁজখবর নিচ্ছেন।

    শেষে, উপদেষ্টা পরিষদ বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসের উদযাপনটি সুন্দর এবং আগামীকালিন পরিকল্পনা অনুযায়ী পালন করার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে।

  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলছে, বাতাসে বিষ, প্রতি বছর এক লাখ প্রাণ হারাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলছে, বাতাসে বিষ, প্রতি বছর এক লাখ প্রাণ হারাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়

    দক্ষিণ এশিয়ার হিমালয় পর্বত থেকে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল জনবসতি অঞ্চলে এখন এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। এক সময়ের উর্বর ও শান্তিপূর্ণ এই অঞ্চলটি বর্তমানে অতি দূষিত বায়ুচ্ছবিতে ভরা, যা স্বাস্থ্য জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের এই অঞ্চলের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ দিন দিন অস্বাস্থ্যকর বাতাসে নিশ্বাস নিচ্ছেন। বায়ু দূষণ এখন আর শুধু পরিবেশের জন্য নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দ্বিগুণ হুমকিতে ফেলেছে। প্রতিবেদন বলছে, প্রতিবারের মতোই এই দূষণের জন্য প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন, আরও অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে এই দূষণ আঞ্চলিক জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভৌगোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এই দূষণের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতে হলে দ্রুত সব দেশ মিলেই একটি সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নয়তো জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘পরিবর্তনের নিশ্বাস: ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি এবং হিমালয়ের পাদদেশে (আইজিপি-এইচএফ) পরিষ্কার বাতাসের সমাধান’ শীর্ষক বইয়ে এই সমস্যার গভীরতা তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে – বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ – বায়ু দূষণের মূল উৎস মূলত: রান্না ও গরমের জন্য ব্যবহৃত কঠিন জ্বালানি পোড়ানো, নির্মাণ ও শিল্পকারখানায় উপযুক্ত ফিল্টার প্রযুক্তির অভাব, জীবাশ্ম জ্বালানি ও জৈববস্তু পোড়ানো, অদক্ষ যানবাহন চালনা, কৃষকরা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো, সার ব্যবস্থাপনা ও বাড়ি-বসতিতে বর্জ্য পোড়ানোর প্রবণতা। এই সব কারণে অঞ্চলটিতে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে।

    বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, পরিষ্কার বায়ুর জন্য সমাধানগুলোকে তিনটি মূল ক্ষেত্র ভাগ করা হয়েছে: প্রথমত, দূষণ উৎস কমানোর জন্য রান্না, শিল্প, পরিবহন, কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা; দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম চালানো যাতে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও সম্প্রদায়গুলি রক্ষা পায়; এবং তৃতীয়ত, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বাজারভিত্তিক প্রস্তাবনা ও আঞ্চলিক সমন্বয়। এসবের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাধানগুলো নাগালের মধ্যে রয়েছে, তবে এর জন্য দরকার নীতিনির্ধারণকারী ও কার্যক্রমকারীদের সমন্বিত উপায়ে কাজ করার। দক্ষিণ এশিয়ার উদ্যোগ, পরিবার ও কৃষকদের জন্য পরিষ্কার প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে হবে। সরকারগুলোকেও নিজেদের অঙ্গীকার ও প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে।

    বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশনীতিবিদ মার্টিন হেগার বলেন, ‘পরিষ্কার বায়ু অর্জনের জন্য স্থানীয়, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অব্যাহত সহযোগিতা, টেকসই অর্থায়ন এবং দক্ষ বাস্তবায়ন জরুরি। কাজ করলে লাখ লাখ জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।’ এছাড়াও, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পনা, তথ্যপ্রবাহ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দূষণ কমাতে পারলে, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব হবে এবং সবাই নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারবে।

  • খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন, চিকিৎসকদের আশাবাদ

    খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন, চিকিৎসকদের আশাবাদ

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এ কথা জানান তাঁর চিকিৎসকরা, যারা ভবিষ্যৎেও তার দ্রুত সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দেন।

    ব্রিফিংয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকদের সঙ্গে বাংলাদেশের মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। এই বোর্ড প্রতিদিন সকালে তার শারীরিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করছে। এছাড়া, সময়ের পার্থক্যজনিত কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল টিম পুনরায় বৈঠক করে চিকিৎসার অগ্রগতি মূল্যায়ন করছে।

    তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, খালেদা জিয়া নিয়মিত ঔষধ গ্রহণ করছেন। গত কিছু দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকছে, এবং এ পরিস্থিতি ধরে রাখতে চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা মনে করেন, ধীরে ধীরে তিনি আরও সুস্থ হয়ে উঠবেন।

    ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বয়সজনিত সমস্যা, দীর্ঘদিনের জটিল অসুস্থতা এবং অতীতের চিকিৎসার অভাবের কারণে তাঁর শারীরিক জটিলতা বেড়েছে। এ কারণেই বর্তমানে তাঁকে বেশি সময় সিসিইউতে থাকতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থায় উন্নতির কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

    তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিকভাবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজ রাখছেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিশেষ করে বড় বোন ও কাছের স্বজনরা নিয়মিতভাবে চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করছেন। যদিও সিসিইউতে থাকায় তারা সরাসরি পাশে থাকতে পারছেন না, তবে হাসপাতালের ভেতর থেকে বা বাইর থেকেও সবসময় যোগাযোগে রয়েছেন।

    ডা. জাহিদ আরও বলেন, বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মী, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও আন্তঃকের সরকারের উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। তিনি সরকারের সহযোগিতায় বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ, ও চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের পেশাদার সেবা প্রশংসা করেন।

    অতিরিক্ত, তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখানকার অন্যান্য রোগীদের জন্য যেন চিকিৎসা কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য সবাই সংযম এবং সহযোগিতা করেন।

    বক্তব্যের শেষে ডা. জাহিদ বলেন, দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া চেয়েছেন। মানুষের ভালোবাসা, দোয়া এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশের রাজনীতি ও জাতির কল্যাণে আবারও ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

  • কুমিল্লায় থানায় নারীর আত্মহত্যা

    কুমিল্লায় থানায় নারীর আত্মহত্যা

    কুমিল্লার হোমনা থানায় আটক এক নারী আসামি নিজের জীবনের ইচ্ছায় আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনা বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটে। হোমনা থানার নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্কের একটি কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি নিজেকে হত্যা করেন। ওসি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আটক ওই নারীর নাম হামিদা ওরফে ববিতা, তিনি হোমনা উপজেলার ঘনিয়ারচর গ্রামের খলিল মিয়ার স্ত্রী। পুলিশ জানায়, গত বুধবার সকালে ববিতা তার স্বামীর ১১ বছর বয়সী ছেলেকে ছুরিকাঘাতে আঘাত করেন। শিশুটির পেট কাটা হয়ে ছিল। প্রথমে তাকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পরিবার, পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন।

    ঘটনার পর স্থানীয় মানুষ তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আহত শিশুটির চাচা স্বপন মিয়া সেই ঘটনায় থানায় মামলা করেন।

    পুলিশের ভাষ্য, ওই নারীসহ তার সঙ্গে চার বছরের একটি শিশু ছিল। তাকে নিরাপত্তার জন্য নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্কে রাখা হয়েছিল। সেখানে থাকা অন্য এক নারী আসামি ও গ্রাম পুলিশও ছিলেন। ভোরে তারা বাথরুমে গেলে, ববিতা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

    থানা হেফাজতে মৃত্যুর এই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মরদেহের সুরতহাল করা হবে এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের মনোভাব ও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

  • শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

    শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গুম-নির্যাতনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১’র চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলামMortuzza M. Majumdar এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মুহাম্মদ হক এনাম চৌধুরী। উল্লেখ্য, এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং অন্যান্য প্রসিকিউটররা।

    আজকের সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই মামলার তিনজন গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন: ডিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

    অপরদিকে, পলাতক ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনের আগে বিভিন্ন সময়ে ডিএফআই’র মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে রয়েছেন—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাইফুল আবেদিন, মো. সাইফুল আলম, আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং হামিদুল হক। এছাড়াও, অপর পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন—এসবই শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক ডিজিএফআই’র পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, কবীর আহাম্মদ ও মখছুরুল হক।

    এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর এ মামলার অভিযোগ গঠন করার দিন ধার্য ছিল। তবে কোনও আদেশ না দিয়ে ট্রাইব্যুনাল তখন দিন ঠিক করে। সেদিনও পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে।

    উল্লেখ্য, গত ৯ নভেম্বর আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু উল্লেখিত চারটি কারণ দেখিয়ে তিন আসামির অব্যাহতির আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল এই শুনানিতে বেআইনি আটক, অপহরণ ও নির্যাতনের বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর, ৭ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠনের জন্য শুনানি হয় এবং সেখানে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের মানবতাবিরোধী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়।

    অভিযোগ গঠনের এই প্রক্রিয়ায়, নভেম্বরের শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যোনাল। শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে শুরুতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না নিয়োগ হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়, এবং তার পরিবর্তে মো. আমির হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরের শুরুতে সেনা হেফাজতে থাকা তিন সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং তারা কারাগারে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়। এ Mattersির অভিযোগ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

  • নভেম্বর মাসে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৩ জন

    নভেম্বর মাসে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৩ জন

    গত নভেম্বরে দেশের সড়ক ও নৌপথে মোট ৫৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে ৪৮৩ জন মানুষ প্রাণ হারান এবং ১৩১৭ জন আহত হন। আহত ও নিহতের মধ্যে নারী, শিশু এবং পথচারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ৬৪ জন নারী ও ৭১ জন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার বেশির ভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, যেখানে ২২৭টি ঘটনায় ১৯৪ জন নিহত হন। পাশাপাশি, পথচারীরাও দুর্ঘটনায় বেশ বিপদের মধ্যে পড়েছেন। এই মাসে ১০৬ জন পথচারী মারা যান। অন্যান্য দুর্ঘটনা হিসেবে আওয়ামী নৌ-দুর্ঘটনা দেখা গেছে ৬টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া, ৪৭টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৯ জন আহত হন।

    অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১৩.২২ শতাংশ, যেখানে প্রতি দিন গড়ে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৪.২২ জন। নভেম্বর মাসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.১ জন। এসব তথ্য রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের প্রেরিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়, যা৯টি প্রধান দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার প্রকারভেদে জনবল ও যানবাহনের বিবরণ বেশ বিস্তৃত। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৪ জন, বাসের যাত্রী ২৪ জন, ট্রাক ও অন্যান্য ভারি যানবাহনের লোকজন ২২ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের যাত্রীরা ১৪ জন, তিন হোইলারে ৮৩ জন, স্থানীয় যানবিশিষ্ট ৩১ জন এবং রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী ৯ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে ঘটেছে। সাধারণত মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারানো, পথচারী চাপা দেওয়া বা যানবাহনের পেছনে আঘাতের ঘটনা বেশি। দেশের বিভাগ-wise হিসেবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও হতাহত ঘটেছে, যেখানে ১৪১টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন প্রাণ হারান। প্রান্তিক অঞ্চলে কেবল শেরপুর ও পঞ্চগড় জেলায় কম সংখ্যক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি দেখেছি।

    বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক অসুস্থতা, অব্যবস্থাপনা, যানবাহনের ধীরগতি, তরুণ চালকের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, আন্দোলনমূলক আচরণ এবং ট্রাফিক আইনের অনুপযুক্ততা। পাশাপাশি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং চাঁদাবাজিও বড় সমস্যা।

    সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির জন্য সুপারিশে থাকছে, দক্ষ চালক তৈরি ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়া, চালকদের বেতন ও কাজের সময় নির্ধারিত করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, মহাসড়কে আলাদা পার্শ্ব রাস্তা ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ ও ট্রাফিক প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানো। আরো বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনের চাঁদাবাজি রোধ, রেল ও নৌপথ সংস্কার করে সড়ক চাপ কমানো এবং টেকসই পরিবহন কৌশল গ্রহণ ও প্রয়োগ করতে। এক সাথে সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হয়।

  • মির্জা ফখরুলের ভাষায়: স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো মাথাচাড়া দিতে চায়

    মির্জা ফখরুলের ভাষায়: স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো মাথাচাড়া দিতে চায়

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার শত্রুরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। তিনি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যারা একাত্তরে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা আজ আবার তাদের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যেতে চাইছে। দেশের মুক্তিকামী, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ সব বাধা অতিক্রম করে তাদের স্বপ্ন পূরণ করবে এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা অটুট রাখবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া শহীদ প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে শুরু হওয়া যুদ্ধের বিজয় আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবান্বিত। এই দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাই, মর্যাদা দিই, এবং শপথ নেই যে, আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে—গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, মহান বিজয় দিবসের এই দিনে তিনি দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কঠিন অসুস্থ থাকলেও, আমরা অন্তরের গভীর থেকে প্রার্থনা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। এছাড়াও তিনি জানিয়ে দেন, তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসিত থাকলেও, তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। এ জন্য দলের নেতাকর্মীরা সকালের আনুষ্ঠানিকতার সময় উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তারা দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিভিন্ন সংগঠন এবং দলীয় অঙ্গসংগঠন থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিজয় দিবসের এই সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আয়োজনের অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা নানা স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান—‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও সালাম লও সালাম’, ‘স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখব’ ইত্যাদি। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের সম্মানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • আ.লীগ বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছিল ১৯৯৬ সালে: জামায়াতের আমিরের বিস্তৃত মন্তব্য

    আ.লীগ বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছিল ১৯৯৬ সালে: জামায়াতের আমিরের বিস্তৃত মন্তব্য

    আওয়ামী লীগ তিন দফায় ক্ষমতা গ্রহণের সময় একাধিকবার জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আগে তারা হাতজোড় করে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল এবং বলেছিল, ‘অতীতে আমাদের দল বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যে অন্যায় ও জুলুম করেছে, আমরা বিনা শর্তে তার জন্য ক্ষমা চাই। একটি মাত্র সময়ের জন্য যদি ক্ষমতায় যান, আমরা পরিবর্তিত হয়েছি এবং এখন দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই।’ এর সাথে ছিল তসবিহ এবং মাথায় ঘোমটার অস্তিত্ব। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যুব ম্যারাথন সম্পাদনের সময় তিনি এসব কথা বলেছেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ সহজ সরল মনে ধারণ করে ছিল যে, আওয়ামী লীগ মানসিকতা পরিবর্তন করেছে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছে, নিজেদের রূপ প্রকাশ করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে গিয়ে বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামের নেতাদের তিরস্কার করে, একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কেন্দ্র করে—তোমরা কি হাতে চুরি পরে বসে আছো?’ এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আর যদি আমার দলের একজনকে হত্যা করা হয়, তাহলে তার বদলে দশজনের লাশ ফেলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন হুঙ্কার ও হুমকি দেশের সবখানে স্তব্ধতা সৃষ্টি করেছিল, যেখানে খালে, বিলে, নদীতে, জঙ্গলে, হাটে-যোগের মাঠে আঞ্চলিকভাবে লাশের স্তূপ দেখা যেত।

    তিনি আরও জানান, ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ওপর একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার দর্শন এবং পরিণতি মানব সভ্যতা দেখে। তিনি বলেন, দেশবাসী এই সময় থেকে শিক্ষা নেবে ভেবেছিল, কিন্তু সত্যি দাঁড়ায় যে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার বিভিন্ন স্বপ্ন ধূলিসাৎ করেছে।

    আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের সময়গুলো তুলে ধরে তাঁর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় ছিল, তারপর ১৯৯৬ সালে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে। এরপর ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই তিন দফায় বাংলাদেশের জনপদে একবারও শান্তি আসেনি, মানুষের প্রাণ ঝরেছে, মা-বোনের ইज्जত লুণ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালীতে এক মা-কে আওয়ামী লীগ বিবস্ত্র করে নৃশংসভাবে নির্যাতন করেছিল, সেটি এই দলের চরম দৃষ্টান্ত।

    একাত্তরের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই সময় ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, স্বপ্ন দেখেছিল প্রিয় মাতৃভূমি সব বৈষম্য থেকে মুক্ত হবে, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মর্যাদার আসনে বসবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর শাসকগোষ্ঠী এই প্রত্যাশার বারোটা বেজে দেয়।

    তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পরেও সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ থাকা সত্ত্বেও রক্ষীবাহিনী গঠন হয়েছিল যারা মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করত। জলাদিপ্ত সময়ে মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন, ব্যাংক ডাকাতি ও দুর্নীতির মতো অগণিত প্রকার অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। তারা ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে দেশটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

    শফিকুর রহমান তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতের অপসংস্কৃতি ও রাজনীতি থেকে নতুন উদ্দীপনায় এগিয়ে যেতে হবে। আজকের রাজনীতি হবে প্রিয় মাতৃভূমির স্বার্থে, সার্বভৌমত্বের পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও মামলাবাজের হাত থেকে মুক্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের দলের বিজয় চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এই জন্য যারা বাধা দিতে চায়, যুব সমাজ তাদের লাঠি ভরে সরিয়ে দেবে।’

    নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য তিনি ভোটের নিরপেক্ষতা জোরালো করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর আমরা কোনো ভ্রান্ত ধারণা নেই। তবে যদি তারা কারো প্রতি যেনো কোনো অপ্রত্যাশিত মনোভাব দেখায়, আমরা তা বরদাস্ত করব না। বিইশ্বেপূর্নতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য আমরা আপনাদের শপথে থাকতে আহ্বান জানাই।’

  • নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে 우리는 একাত্ম

    নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে 우리는 একাত্ম

    নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করলেও দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দেখতে পেয়েছি বাংলাদেশের মানুষ নানা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একাত্তরের দালালদের সাথে সাথে চব্বিশের দালালদেরও আমরা কাউন্টার করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ, সাধারণ মানুষ ও জনগণ একযোগে এই দালালদের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, সামনের দিনগুলোতে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।

    আজ (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। এ উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ অনেকে।

    নাহিদ ইসলাম ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করে দেশের মুক্তি আনলেও, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ সময় লড়াই করেছে স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। সেই সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু দীর্ঘ সময়ের পরও মূল লক্ষ্য পূরণ হয় নি বলে তিনি মনে করেন। দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা আজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বরং দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লড়াই ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।

    বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কিছু অসাধু শক্তি, ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা নির্বাচনকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, জনগণ চায় শান্তি, আইন- শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক। এইজন্য সরকারের কাছে তারা দাবি করেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দমনক্ষমতা নিশ্চিত করতে।

    নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরে নিজের নিরাপত্তা নিজেদেরেই রাখতে হয়েছিল। বর্তমানেও সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।

    আসন্ন নির্বাচনকে তিনি গণভোট হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন একটি গণভোট, যেখানে সংস্কারের পক্ষে সবাই গর্জে উঠবে। তার আশা, এর মাধ্যমে একটি নতুন সুরে সারা দেশে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে।

    বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা কখনোই পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাব না। তিনি বলেন, আবারো বলছি, ’৭১-এর দালালদের বিরুদ্ধে, ২০২৪ সালের দালালদের বিরুদ্ধেও আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। এই বিজয় আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তা নিশ্চিত। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে এক স্বাভাবিক, শক্তিশালী ও মুক্তিযুদ্ধের ideals-অনুপ্রাণিত দেশের উদাহরণ। আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে, এবং আমাদের সামনের দিনগুলো হবে বিজয়ের দিন।

  • তারেক রহমান বললেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ

    তারেক রহমান বললেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার নিজেও তার দেশের ফেরার তারিখ স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি জানান, ‘ইনশাআল্লাহ, আমি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যাবো। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে কাজ করছি।’ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় দুটি। প্রথমত, আজ ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবের দিন। দ্বিতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছর দেশ থেকে দূরে থাকতে হলে এখন তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। এই সভায় তিনি দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিকল্প ষড়যন্ত্রকারীরা, ১৯৭৫ সালের ১৭ নভেম্বরের পরাজিতরা, ৮১ ও ৯৬ সালের ষড়যন্ত্রকারী পুঁজির রাজনৈতিক কূটকৌশলকারীরা এখনও থেমে থাকেনি। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো সক্রিয় রয়েছে, সুতরাং সববাসীর সতর্ক থাকার গুরুত্ব উল্লেখ করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, স্বপ্ন দেখানো কি সরকারের কাজ? নয়, বিএনপি বিশ্বাস করে স্বপ্ন দেখানোর পাশাপাশি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের। তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন দেখানো কাজ নয়, কাজ হলো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা।’ বক্তৃতায় তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বিভিন্ন সময় দেশের আয়ের বিশাল অংশ পাচার করেছে। বিএনপি বিশ্বাস করে, তারা একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের সামনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুমাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন, যেখানে দেশের জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা পেলে তারা একটি কার্যকারী সরকার গঠন করতে পারবে। তিনি বলেন, আমি কোনো স্বপ্নের মধ্যে আছি না, আমি পরিকল্পনার মধ্যে থাকি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দেশকে উদ্ধার করেছেন। বিএনপি বিশ্বাস করে, ভবিষ্যতের নির্বাচনে তারা দেশকে নতুনভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।

    ২০০৭ সালের এক-এগারো’র রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০০৮ সালে তিনি কারামুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাজ্যে যান, যেখানে এখনো থাকছেন।