Blog

  • দেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে: বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা

    দেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে: বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা

    ‘মিলগুলো অনেকদিন ধরে পরিত্যক্ত ছিল। মিলগুলো লিজ দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজন আছে। এতে দেশের টাকা দেশে থাকবে। অনেকে টাকা দেশের বাইরে নিয়ে গেছে। তাতে দেশের উপকার হয়নি। বর্তমানে দেশে দুর্নীতি, ঘুষ নেই। তাতে বিনিয়োগের জন্য অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

    রবিবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২টি টেক্সটাইল মিলের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা বলেন।

    এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বর্তমানে চাহিদার সাথে পাটের দাম বেড়েছে। পাট চাষীরা আগামী সিজনে পাটের দাম আরও পাবেন। পাটকে “গোল্ডেন ফাইবার অফ বাংলাদেশ” নামে জিআই করা হবে।’

    বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ভালিকা উলেন মিলস এবং সিলেটের সিলেট টেক্সটাইল মিলস লি. বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) সাথে যথাক্রমে লয়েল টেক্স লিঃ এবং ফাস্ট আইকন লিমিটেডের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

    প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২টি টেক্সটাইল মিলের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।

    বিনিয়োগের আশাবাদ ব্যক্ত করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুর রউফ বলেন, ‘বর্তমানে পিপিপি এবং লীজের মাধ্যমে পরে থাকা মিলগুলো পূনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। লীজ পদ্ধতি সহজ ও দ্রুত হয়ে থাকে।’

    অনুষ্ঠানে বিটিএমসি’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জিয়াউল হক স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত শিকদার, আরিফুর রহমান খান, যুগ্মসচিব ড. আমিনুল ইসলামসহ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় লয়েল টেক্স লিঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা মো: জমশেদ আলী এবং ফাস্ট আইকন লি. চেয়ারম্যান মো: ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিক্রিয়ায় মিল দুটিতে কর্মসংস্থান তৈরি হবে ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন।

  • ২৮ সাংবাদিকের ব্যাংক লেনদেনের খোঁজ নিচ্ছে বিএফআইইউ

    ২৮ সাংবাদিকের ব্যাংক লেনদেনের খোঁজ নিচ্ছে বিএফআইইউ

    দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ২৮ জন সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) তাদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    বিএফআইইউ ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে যে সব সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে, সেই তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিএফআইইউর কর্মকর্তারা বলছেন, গণমাধ্যমে প্রচারিত ও  প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে অনেকের লেনদেনের খোঁজ নেওয়া হয়। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো তালিকাকেও আমলে নেওয়া হয়।

    তালিকায় থাকা সাংবাদিকেরা হলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ডিবিসি নিউজের হেড অব নিউজ জায়েদুল হাসান পিন্টু, এবিনিউজ২৪ ডটকমের প্রধান সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, এটিএনের জ ই মামুন, বাংলা ইনসাইডারের সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবীর, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিটি এডিটর মির্জা মেহেদী তমাল ও চিফ রিপোর্টার জুলকারনাইন রনো, সমকালের সম্পাদক আলমগীর হোসেন, বাসসের মধুসূদন মণ্ডল, ডিবিসির মাসুদ আইয়ুব কার্জন, আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সাংবাদিক ফরাজী আজমল হোসেন, বৈশাখী টিভির অশোক চৌধুরী ও ইডির এক্সিকিউটিভ এডিটর রাহুল রাহা।

    এ তালিকায় আরও আছেন, ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, নিউজ টোয়েন্টিফোরের ডেপুটি চিফ নিউজ এডিটর আশিকুর রহমান শ্রাবণ, যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি (সাবেক) আবদুল্লাহ আল মামুন, স্বদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রতন, দৈনিক মুখপাত্রের সম্পাদক শেখ জামাল হোসেন, ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি আদিত্য আরাফাত, এটিএন নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি তাওহিদুল ইসলাম সৌরভ, যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি শেখ মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক শ্যামল সরকার, দৈনিক ইত্তেফাকের নগর সম্পাদক আবুল খায়ের এবং দৈনিক কালবেলার সম্পাদক ও প্রকাশক সন্তোষ শর্মা।

    বিএফআইইউ তালিকা থাকা সাংবাদিকদের নামে কোনও ব্যাংকের লকার, সঞ্চয়পত্র, ক্রেডিট কার্ডসহ অন্যান্য কোনও আর্থিক উপকরণ রয়েছে কি না বা টাকাপয়সার লেনদেন হয়েছে কি না, এসব তথ্য জানতে চেয়েছে।

  • ত্রিদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানি: গ্রাহক পর্যায়ে সুবিধা মিলবে?

    ত্রিদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানি: গ্রাহক পর্যায়ে সুবিধা মিলবে?

    ভারতের পর নেপাল থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে। নেপাল থেকে যে বিদ্যুৎ আনা হচ্ছে তা প্রতি ইউনিটের দাম ৬ দশমিক ৪ সেন্ট, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৭ টাকা। কিন্তু জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি খরচ শূন্য হওয়ায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়ে ৩০ পয়সা থেকে ১ টাকার মধ্যে। কিন্তু সেই বিদ্যুৎই নেপাল থেকে সাড়ে ৭ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ত্রিদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানিতে বুঝে-শুনে এগোনো উচিত।

    নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির প্রতিক্রিয়ায় এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন তারা। তাদের মতে, ত্রিদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের পর নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে সফল হয়েছে বাংলাদেশ। উপমহাদেশে বাংলাদেশই প্রথম কোনও দেশ— যারা একসঙ্গে ভারত এবং নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই নীতি অনুসরণ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরস্পর সহযোগী হলে এই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে রাষ্টগুলোর পরস্পর সহযোগী মনোভাব প্রয়োজন।

    শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিড লাইন দিয়ে বাংলাদেশে ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রবেশ করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে এদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে নেপাল। দেশটি থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি করা হয়েছিল। তবে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি ঘণ্টায় ৩৮ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে এসেছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর বিষয়টি ছিল পরীক্ষামূলক। সব কিছু ঠিক আছে কিনা, যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে সহসাই বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু করবে নেপাল।

    ভারতের সঙ্গে নেপালের গ্রিড লাইন রয়েছে। সেই লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ ভারতে প্রবেশ করছে। সেখান থেকে ভারতীয় গ্রিড লাইন ব্যবহার করে ভেড়ামারা দিয়ে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

    ত্রিদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন— জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘এর আগে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানি আমাদের সঙ্গে একপক্ষীয় চুক্তি করেছে। এই চুক্তিগুলোতে আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎও বাড়তি দামে কেনা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে কমদামে বিদ্যুৎ দেওয়ার যে চিন্তা, তা এই চুক্তির মাধ্যমে সম্ভব হবে না।’

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখি। আমাদের দেশে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে; যেগুলো অলস পড়ে আছে। সেখানে কেন আমাদের অন্য একটি দেশ থেকে এত অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে হবে?’

    তিনি বলেন, ‘সরাসরি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হলে আমাদের জন্য লাভজনক হতো। কিন্তু ভারত হয়ে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসায় সেখানে আমাদের বিরাট অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।’ ফলে বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করছেন তিনি।

    প্রসঙ্গত, নেপাল এবং ভুটানে প্রায় ১ লাখ মেগাওয়াট জলবিদ্যুতের উৎস রয়েছে। এসব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে প্রতিবেশীরা ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু ভারত তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় কোনও দেশকে গ্রিড লাইন নির্মাণ করতে দিতে চায় না। এ বিষয়ে আগে আইন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল দেশটির সরকার। বর্তমানে আইনটি বাতিল করা হলেও তাদের অবস্থান একই রয়েছে। ভারত তাদের দেশের কোনও কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানির কাজ করে দিতে চায়। সরাসরি বিদ্যুৎ আমদানি করলে যে সুবিধা পাওয়া যেতো ভারতীয় কোম্পানির মাধ্যমে আসলে তা পাওয়া সম্ভব না।

    সম্প্রতি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে দক্ষিণ এশিয়াতে একটি কমন গ্রিডলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

  • জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩৭ সাংবাদিকের সদস্যপদ স্থগিত

    জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩৭ সাংবাদিকের সদস্যপদ স্থগিত

    জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যায় উসকানি দেওয়া এবং পতিত সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার দায়ে ৩৭ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

    সোমবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ বিষয়টি জানানো হয়। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সদস্যপদ স্থগিত হওয়াদের মধ্যে আছেন— নূরুল আমিন প্রভাষ, জায়েদুল আহসান পিন্টু, মোজাম্মেল বাবু, আশীষ সৈকত, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সোহেল হায়দার চৌধুরী, ফারজানা রূপা, অশোক চৌধুরী, আজমল হক হেলাল, আবুল খায়ের, মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, প্রণব সাহা, নঈম নিজাম, খায়রুল আলম, আবেদ খান, সুভাষ চন্দ বাদল, জহিরুল ইসলাম মামুন (জ.ই মামুন), জাফর ওয়াজেদ, সাইফুল ইসলাম কল্লোল, পাভেল রহমান, আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, শাবান মাহমুদ, মুহম্মদ শফিকুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, শ্যামল সরকার, অজয় দাশগুপ্ত, আলমগীর হোসেন, রমাপ্রসাদ সরকার বাবু, সঞ্জয় সাহা পিয়াল, ফারাজী আজমল হোসেন, আনিসুর রহমান, এনামুল হক চৌধুরী, নাঈমুল ইসলাম খান, মো. আশরাফ আলী, মোল্লা জালাল, ইখতিয়ার উদ্দিন এবং আবু জাফর সূর্য।

  • ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনে রাজনৈতিক পরিচয় না দেখার সুপারিশ থাকবে’

    ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনে রাজনৈতিক পরিচয় না দেখার সুপারিশ থাকবে’

    পুলিশ ভেরিফিকেশনে রাজনৈতিক পরিচয় না দেখার সুপারিশ করবে পুলিশ সংস্কার কমিশন। সোমবার (১৮ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক শেষে সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, গত অক্টোবর মাসের ৬ তারিখ থেকে কাজ শুরু করেছি। আমরা মোটামুটি কাজের মাঝামাঝি পর্যায়ে চলে এসেছি। প্রাথমিকভাবে আলোচনা করে একটা খসড়া তৈরি করেছি। কী ধরনের বিষয়গুলো আমাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যাবে— এর মধ্যে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এর মধ্যে স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য কিছু বিষয় আছে। কিছু বিষয় দীর্ঘ সময় লাগবে। কিছু ক্ষেত্রে অর্থের বিষয়টি জড়িত আছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সরকারের আইন ও বিধিবিধান পাল্টাতে হবে। সেগুলো আমরা সুপারিশ করছি।

    কমিশন প্রধান বলেন, একটি বিষয়ে সবাই প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছেন যে বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য সবারই পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে হয়। এই ভেরিফিকেশনের যে পদ্ধতি এটা ১৯২৮ সালের। দীর্ঘদিন ধরে এটা চলে আসছে। যে কারণে অনেক চাকরিপ্রার্থী বাদ পড়ে যায়। আরেকটি বিষয় ছিল চাকরিপ্রার্থীর আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কেউ রাজনীতি করে কিনা। রাষ্ট্রবিরোধী কেউ আছে কিনা। এটা ব্রিটিশরা করেছিল। বিগত বছরগুলোতে বিশেষ করে সম্প্রতি এমন অভিযোগ এসেছে, রাজনৈতিক কারণে এবং আত্মীয়-স্বজন রাজনীতি করেন, সরকারি দল করেন না। এমনকি খালা, খালু, ফুফা সরকারি দলের বিপরীতে রাজনীতি করেন। এমন অনেকের ক্ষেত্রেই এসব যুক্তি দেখিয়ে তাদের চাকরি দেওয়া হয়নি। পুলিশ সংস্কার কমিশন এসব বিষয় বাদ দিতে চায়। আরেকটা নিয়ম আছে, স্থায়ী ঠিকানায় আমার নামে সম্পত্তি আছে কিনা। এটাও নাকি চাকরির ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হতো। আমরা এটাও চাই না। আমরা বলেছি, প্রথম ডকুমেন্ট হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র। সরকার এটা আইনের মাধ্যমেই একজন নাগরিককে দিয়েছে। এটার ভিত্তিতেই ঠিক করতে হবে।

    সফর রাজ হোসেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া তো কেউ চাকরি পাওয়ার কথাও নয়। ১৮ বছর পর জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার কথা। এটা দেওয়ার সময়েই সবকিছু তদন্ত করার কথা। অনেকে বলেন, অনেক চাকরি আছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেন তদন্ত করতে হবে। কোনও চাকরিকেই গুরুত্বপূর্ণ নয় এটা বলা যাবে না। সব চাকরিই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন ভুয়া লোক নাম-ঠিকানা পাল্টিয়ে যদি চাকরিতে ঢুকে, পরবর্তীকালে যদি দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত হয়ে যায়, সব বিষয় নিয়েই আমরা আলোচনা করেছি। মানুষের হয়রানি যাতে কমে। ভেরিফিকেশন হবে, সবই হবে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়গুলোর বিষয় বাদ দেওয়া হবে।

    পুলিশ আইনের বিষয়ে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় পুলিশ কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে। আরেকটা বিষয় হলো যে আইনে পুলিশ রিমান্ডে নেয়। এ দুটো বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিতে পারে না। এটার মালিক আইন মন্ত্রণালয়। এসব নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলাও আছে। এসব আইন ব্যবহারে সরকারের অনেক পরামর্শ মেনে চলতে হবে বলে উচ্চ আদালত থেকে বলা হয়েছে। পরে আবার সরকার অ্যাপিলেট ডিভিশনে যায়। এটা পুলিশ রেগুলেশনে ঢোকানোর পরামর্শ থাকবে আমাদের। পুলিশ গ্রেফতার করবে, ঠিক আছে। কিন্তু কিছু নিয়ম কানুন মানতে হবে। হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী করতে হবে। কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে হলে তার স্বজনদের জানাতে হবে। যেমন- আন্দোলনের সময় ছয় জন শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ডিবিতে রাখা হয়েছিল। কাউকে কিছু জানানো হয়নি। রিমান্ডে নির্যাতনের তো কোনও নিয়মই নাই। আইনেই নাই।

  • শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে এক মাসে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ

    শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে এক মাসে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ

    বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ সকালে, ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন এবং ১৩ আসামিকে আদালতে হাজির করার পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত এক মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সোমবার আওয়ামী লীগের ১৩ নেতাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি জানতেই তাদের আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। সেখানেই আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত এক মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে।

    সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আজ (১৮ নভেম্বর) আদালতে নেওয়া হয়। ছবি: রাজীব ধর

    বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ সকালে, ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন এবং ১৩ আসামিকে আদালতে হাজির করার পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনিকে আজ (১৮ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেনেওয়া হয়। ছবি: রাজিব ধর

    ১৩ আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা ড. সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক বস্ত্রমন্ত্রী ড. এবং পাট গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে আজ (১৮ নভেম্বর) আদালতে নেওয়া হয়। ছবি: রাজীব ধর

    ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সকাল ১০টার দিকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যান্য মামলায় আসামিরা এখন কারাগারে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে আজ (১৮ নভেম্বর) আদালতে নেওয়া হয়। ছবি: রাজীব ধর

    সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক আরেকটি মামলায় পুলিশ রিমান্ডে থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।

    এই প্রথম ৪৬ আসামির মধ্যে কাউকে ট্রাইব্যুনালে আনা হলো। একসঙ্গে এত “ভিআইপি আসামি”র উপস্থিতির কারণে আজ সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    র‌্যাব ও পুলিশসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

    সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আজ (১৮ নভেম্বর) আদালতে নেওয়া হয়। ছবি: রাজীব ধর

    এর আগে, ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগ সংক্রান্ত পৃথক দুটি মামলায় ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

  • সিলেটে সাংবাদিক তুরাব হত্যা: পুলিশ কনস্টেবল ৫ দিনের রিমান্ডে

    সিলেটে সাংবাদিক তুরাব হত্যা: পুলিশ কনস্টেবল ৫ দিনের রিমান্ডে

    সিলেটে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যামামলায় এক পুলিশ কনস্টেবলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    তার নাম উজ্জ্বল সিনহা। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত ছিলেন।

    আজ সোমবার দুপুরে সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল মোমেন তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে গতকাল রোববার (১৭ নভেম্বর) রাতে ঢাকা থেকে উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ মামলায় আসামিদের মধ্যে তিনিই প্রথম গ্রেপ্তার হলেন।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক মোহাম্মদ মোরসালিন বলেন, উজ্জল সিনহাকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই সিলেট নগরের বন্দরবাজারে গুলিতে আহত হন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। ওইদিনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তুরাব দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ও স্থানীয় একটি দৈনিকের নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    এ ঘটনায় ১৯ আগস্ট সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন নিহতের ভাই আবুল হোসেন মোহাম্মদ আজরফ।

  • বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিষ্ঠান, স্থাপনাগুলোর নামকরণ শহীদদের নামে করা হবে: তারেক রহমান

    আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতা ও দুস্থদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আবারো ক্ষমতায় এলে– শহীদদের নামে বিভিন্ন এলাকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নামকরণ করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হবে। যারা শহীদ হয়েছেন, যারা স্বৈরাচারদের বিদায় করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন– এরকম প্রতিটি মানুষের নামে বিভিন্ন এলাকায় রাষ্ট্রের যে প্রতিষ্ঠান, স্থাপনাগুলো তৈরি হবে, এই মানুষগুলো যাতে হারিয়ে না যায় – তাই এই শহীদদের নামে নামকরণ করার প্রস্তাব করা হবে।’

    আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতা ও দুস্থদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেছেন, “আমরা সকলে যদি সকলের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি— তাহলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজ নাহলে কাল, কাল না হলে পরশু –- আমরা যেরকম একটি বাংলাদেশ নিজেদের মনে কল্পনা করি, সেরকম স্বপ্নের একটা বাংলাদেশের সূচনা দেখতে সক্ষম হব।”

    আন্দোলন বাদেও সামাজিকভাবে বহু মানুষ আছেন — যাদের বিভিন্নভাবে জন্মগত কারণেই হোক বা অসুখেই হোক পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে। তাঁদের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যদি পরিবারের কোন মানুষ পঙ্গু হয়ে থাকে, সে ব্যক্তি পরিবারের কাছে একটি বোঝার মতো হয়ে থাকে। সেই পরিবারের কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। জনগণের সমর্থনে বিএনপি ইনশাআল্লাহ আগামীতে সরকার গঠনে সক্ষম হলে– সরকারের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে আমাদের একটা উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য থাকবে। সমগ্র বাংলাদেশে, সে যে পরিবারের সদস্য হোক, স্বচ্ছল বা অস্বচ্ছ্ল হোক, আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করব– যেসকল পরিবারে এরকম সদস্য আছে, তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। যাতে করে সে পঙ্গু মানুষগুলো নিজেরা যতটুকু সম্ভব স্বাবলম্বী হতে পারে।

    নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল মানুষকে আমি বলতে চাই, কারো মাধ্যমে যাবার দরকার নাই; আপনি নিজে যদি মনে করেন, আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী একজন হোক, দুইজন হোক, পাঁচজনকে হোক — আপনি কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারবেন – সে মানুষটাকে চলাফেরায় হোক বা অন্যভাবে হোক স্বাবলম্বী করে দেয়ার, দয়া করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন। কোন সংগঠনের সাথে জড়িত হবার দরকার নেই। আপনি নিজ উদ্যোগে, নিজ অবস্থান থেকেও করতে পারেন। আমরা সকলে যদি সকলের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি তাহলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আজ নাহলে কাল, কাল নাহলে পরশু আমরা যেরকম একটি বাংলাদেশ নিজেদের মনে কল্পনা করি— সেরকম একটা বাংলাদেশের সূচনা দেখতে সক্ষম হব।

    তারেক রহমান বলেন, এই মুহুর্তে দেশ যে স্বৈরাচারমুক্ত বা এটি অর্জন করার জন্য সমগ্র বাংলাদেশে দলমত নির্বিশেষে অনেক মানুষ, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কর্মী অনেক ক্ষেত্রে অরাজনৈতিক কর্মী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সকল মানুষকে কতটুকু সাহায্য করা সম্ভব ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি না। আমরা হয়তো কেউই জানি না। কিন্তু যে মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন- যারা শহীদ হয়েছেন তারা তো চলেই গেছেন, তাদের পরিবারের মানুষরা রয়ে গেছেন; যারা বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন তাদের পাশে কতটুকু দাঁড়াতে পারব— আমি বলতে পারবো না। কিন্তু, আমি মনে করি তারা দেশের জন্য, আমাদের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন; আমাদের দ্বায়িত্ব আমাদের কর্তব্য যতটুকু সম্ভব তাদের পাশে দাঁড়ানো।

    অনুষ্ঠানে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপি পরিবারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রমুখ।

  • রাজনৈতিক ঝুঁকি ও অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের ঋণমান কমাল মুডিস

    রাজনৈতিক ঝুঁকি ও অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের ঋণমান কমাল মুডিস

    বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান আবার কমিয়েছে মুডিস রেটিংস। সরকারের ইস্যুয়ার ও সিনিয়র আনসিকিউরড রেটিংস ‘বি১’ থেকে ‘বি২’–এ নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির পূর্বাভাসে পরিবর্তন এনে ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘ঋণাত্মক’ করেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ঋণমান যাচাইকারী কোম্পানি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে মুডিস।

    সিঙ্গাপুর থেকে আজ সোমবার প্রকাশিত রেটিংস প্রতিবেদনে মুডিস আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদি ইস্যুয়ার রেটিংস ‘নট প্রাইম’ বা শ্রেষ্ঠ গুণসম্পন্ন নয় হিসেবে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    বিশ্বের প্রধান তিনটি ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের একটি মুডিস। গত ৩১ মে প্রতিষ্ঠানটি সর্বশেষবার বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছিল। সেবার তারা ঋণমান এক ধাপ কমিয়ে বিএ৩ থেকে বি১-এ নামায়। এর কারণ হিসেবে মুডিস জানিয়েছিল, বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উঁচু মাত্রার দুর্বলতা ও তারল্যের ঝুঁকি রয়েছে।

    মুডিস জানিয়েছে, তাদের ঋণমানের সিদ্ধান্ত মূলত বাংলাদেশে রাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি ও নিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রতিফলিত করছে। এই বিষয়গুলো এসেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা থেকে, যার ফলে দেশটিতে একটি সরকারের পরিবর্তন ঘটেছে। এসব বিষয় সরকারের নগদ অর্থপ্রবাহের ঝুঁকি, বহিঃস্থ দুর্বলতা ও ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

    চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশকে ঘাটতি পূরণে আরও বেশি স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে বলে মনে করে মুডিস। এ ছাড়া সম্পদের গুণগত মানের ঝুঁকির কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থার পুঁজি ও তারল্যসংক্রান্ত দুর্বলতা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের দায়সংক্রান্ত ঝুঁকিও বেড়েছে।

    মুডিস বলছে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি ও বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা আরও বেশি ঋণ দিলেও বহিঃস্থ দুর্বলতাসংক্রান্ত ঝুঁকি আগের মতই রয়েছে। এর কারণ গত কয়েক বছর ধরেই দেশের রিজার্ভ কমছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক ঝুঁকি বৃদ্ধি, একটি পরিষ্কার পথনির্দশকের অনুপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং জনগোষ্ঠীভিত্তিক উত্তেজনার পুনঃআবির্ভাবের কারণে রাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়েছে।

    অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক করার কারণ হিসেবে মুডিস জানিয়েছে, তাদের প্রত্যাশার চেয়েও এবার কম প্রবৃদ্ধি হবে। ফলে তা দেশটির দুর্বল রাজস্ব পরিস্থিতি ও বহিঃস্থ খাতের চাপ আরও বাড়াতে পারে। এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলার কারণে পণ্য সরবরাহের সমস্যার কারণে। এর ফলে রপ্তানি ও তৈরি পোশাক খাতের সম্ভাবনা মেঘাচ্ছন্ন হয়েছে।

    মুডিস বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিস্তৃত সংস্থার কর্মসূচি পরিচালনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তা বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদি অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরা ও উচ্চ বেকারত্ব কমানোসহ দ্রুত ফলাফল না দিতে পারে, তাহলে সংস্কারের পেছনে যে রাজনৈতিক পুঁজি রয়েছে তা দ্রুতই চলে যেতে পারে।

    মুডিস আরও জানিয়েছে, ঋণমান কমানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় মুদ্রা (এলসি) ও বিদেশি মুদ্রার (এফসি) ঊর্ধ্বসীমা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলসির জন্য ঊর্ধ্বসীমা বিএ২ থেকে বিএ৩ এবং এফসির ঊর্ধ্বসীমা বি১ থেকে বি২–তে নামানো হয়েছে।

    বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বিশ্বের প্রধান তিনটি ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি বা ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন দেখে কোনো দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ তাদের রেটিং প্রতিবেদন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। মুডিসের মতো প্রভাবশালী বাকি দুটো প্রতিষ্ঠান হলো ফিচ রেটিংস এবং এসঅ্যান্ডপি।

    আর্থিক খাতের বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মুডিসের মতো প্রতিষ্ঠান ঋণমান কমালে তা ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ ও বিদেশি ঋণের সুদের হার বাড়তে দিতে পারে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে, কারণ খরচ বেশি হলে বিদেশিরা এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন না। সাধারণত এ ধরনের ঋণমানের প্রভাব বাণিজ্যিক ঋণের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

  • আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা

    রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাখালী এলাকায় আজ সোমবার আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। প্রথম দফায় সড়ক ছাড়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁরা মহাখালীতে কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করেছেন।

    শিক্ষার্থীরা বলছেন, সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে এসে মহাখালী রেলক্রসিং এলাকায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছিলেন। পরে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে আলোচনার জন্য গেলে তাঁরা বিকেল ৪টার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন। এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আলোচনা শেষে সচিবালয়ের সামনে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন। এ খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরা মহাখালীতে সড়ক অবরোধ করেন।

    তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাফায়েত শফিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, সচিবালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে যাওয়া প্রতিনিধিরা। সেখানে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত আসেনি। উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে কী করা হবে, সেটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে। এখন সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেটি বিবৃতি দিয়ে না জানানো পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বিবৃতির দাবিতে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেছেন। একই দাবিতে প্রতিনিধিদলের ১২ সদস্য এখন সচিবালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন।

    বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মেহেদী সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, তিতুমীর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা আবারও সড়কে নেমেছেন, এমন সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

    এর আগে একই দাবিতে আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে দেড় থেকে দুই হাজার শিক্ষার্থী তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি আমতলী মোড় হয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাখালী রেলক্রসিং এলাকায় অবস্থান নেয়। এতে মহাখালী থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকের সড়কে দুই পাশেই সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। বিকেল চারটা পর্যন্ত এ অবরোধ চলে। বিকেল চারটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের দিকে চলে যান। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর শিক্ষার্থীরা আবারও সড়কে নেমে আসেন।