Blog

  • বৃষ্টির পর হরমুজে মাটি হয়ে গেছে রক্তের মতো লাল

    বৃষ্টির পর হরমুজে মাটি হয়ে গেছে রক্তের মতো লাল

    ইরানের হরমুজ দ্বীপে বৃষ্টির পর এক অসাধারণ ও আকর্ষণীয় দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে পাহাড় থেকে ঝরানো воды যখন সমুদ্রে প্রবাহিত হচ্ছে, তখন দেখা যাচ্ছে মাটির রঙ রক্তের মতো লাল হয়ে গেছে। এই দৃশ্যটি যেন একটি চিত্রকলা বা প্রাকৃতিক ছবি, যা মনকে মুগ্ধ করে দেয়।

    এই লাল রঙের জন্য মূল কারণ হলো স্থানটির বিশেষ ভূতত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য। হরমুজ দ্বীপটি আইরন অক্সাইড বা লোহা অক্সাইডে সমৃদ্ধ। এই খনিজটি মূলত হেমাটাইট নামে পরিচিত, যা সেখানে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। জলবৃষ্টির ফলে যখন বৃষ্টির পানি আইরন সমৃদ্ধ মৃত্তিকা ভিজিয়ে তোলে, তখন এই আইরন অক্সাইডগুলো ভাঙতে শুরু করে এবং এগুলো পানি ও মাটির সাথে মিশে যায়। ফলে, জল ও মাটি লাল শোভিত হয়ে ওঠে।

    ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপানির সময় এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ফলে বৃষ্টির পানিও লালচে হয়ে যায়, যা এক অসাধারণ চিত্রের সৃষ্টি করে। এডিসিপি এবং রংধনু নামে পরিচিত হরমুজ দ্বীপটি তার এই অনন্য খনিজ গঠনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। উল্লেখ্য, মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠতলে প্রচুর পরিমাণে হেমাটাইট পাওয়া যায়, যা এই গ্রহকেও লাল রঙের করে তোলে।

    বৃষ্টির পানিতে জলরঙের এই পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। পরিবেশবিদরা নিশ্চিত করেছেন, এটি পরিবেশ দূষণের ফল নয়, কেবলমাত্র দ্বীপের প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থের কারণেই এই এক বিশেষ রঙের দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    হরমুজ দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যাও বেশ বেশি। পর্যটকেরা এই অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে সেখানে যান এবং এই রঙিন দৃশ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। এটি অবশ্যই একটি বিস্ময়কর প্রাকৃতিক ঘটনা যা আগ্রহীদের জন্য এক দারুণ দর্শন।

  • খুলনা-২ আসনে আমানুল্লাহ ও খুলনা-৩ আসনে আউয়ালের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    খুলনা-২ আসনে আমানুল্লাহ ও খুলনা-৩ আসনে আউয়ালের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থী মুফতী আমানুল্লাহ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এ স ম জামসেদ খোন্দকারের কাছে নিজ মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি ও খুলনা-২ আসনের প্রার্থী মুফতী আমানুল্লাহ নিজে, পাশাপাশি নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মুফতী ইমরান হোসাইন, আবু তাহের, মাওঃ দ্বীন ইসলাম, মোঃ সাইফুল ইসলাম, ফেরদৌস গাজী সুমন, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, আবুল কাশেম, মোঃ নুরুজ্জামান বাবুল, আব্দুল মান্নান সরদার, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের নগর সভাপতি গাজী আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পলাশ শিকদার, ইসলামী যুব আন্দোলনের নগর সভাপতি আব্দুর রশিদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি ফরহাদ মোল্লা ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    অপরদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল-এর মনোনয়নপত্র সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১২টায় খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদেরের কাছ থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তার পক্ষে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন ইসলামী আন্দোলন খুলনা-৩ আসন নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শেখ হাসান ওবায়দুল করীম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা – শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, হাফেজ আব্দুল লতিফ, মোঃ সরোয়ার হোসেন, আমজাদ হোসেন বন্দ, মুহাম্মাদ শাহরিয়ার তাজ, আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • খুলনায় নগর আ’লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার

    খুলনায় নগর আ’লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার

    খুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চলমান বিশেষ অভিযান ‘ডেভিল হান্ট’ এর দ্বিতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বিল্লাল হোসেন বালাম (৪৮), যিনি মহানগর আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ড (দৌলতপুর) শাখার ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, এবং মোঃ জাকির খান, মহানগর ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। একাধিক অভিযানের মাধ্যমে তাদের পৃথকভাবে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, এই অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জোরদার অভিযান চালানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘিœত করা, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগসহ আরো বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে যাচাই-বাছাই চলছে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সূত্রের খবর, এই অভিযানের অংশ হিসাবে আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তম রোকনুজ্জামান বলেন, “নগরীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ‘ডেভিল হান্ট’র দ্বিতীয় ফেজ চলমান। কোনো সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন।

  • কুয়েট ও তাইওয়ানের এনসিকেইউ’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    কুয়েট ও তাইওয়ানের এনসিকেইউ’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে বিশেষ করে থেরাপিউটিক ফুটওয়্যার, ফুট অর্থোটিক্স, হিউম্যান মুভমেন্ট বায়োমেকানিক্স এবং স্মার্ট ওয়্যারেবল সিস্টেমের ক্ষেত্রগুলোতে। এর মাধ্যমে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন, এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নেওয়া হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, কুয়েটের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দক্ষতা এবং এনসিকেইউর বায়োমেকানিক্স ও মেডিকেল ডিভাইস উন্নয়নের সমন্বয় বাংলাদেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ভাবনে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উন্নত ফুটওয়্যার এবং কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোঃ গোলাম কাদের ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকগণ। এই চুক্তি বাংলাদেশের চিকিৎসা প্রযুক্তি ও গবেষণায় এক নতুন উচ্চতা অর্জনের আশা জাগিয়েছে।

  • গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া দেশ সংকটমুক্ত হবে না

    গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া দেশ সংকটমুক্ত হবে না

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের মুক্তি ও স্বাধিকারপ্রিয় মানুষ, স্বাধীনতাকামি জনগণ ও গণতন্ত্রপ্রেমীরা তাদের সব ধরনের ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দেশের স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অতীতে যত স্বৈরশাসন এসেছে, প্রতিবারই দেশের মানুষ বাকস্বাধীনতা হারিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন সম্ভব, আর সচেতন ভোটের মাধ্যমেও গুণগত ও জনবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়। তাই একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন ছাড়া দেশ এখনকার সংকট থেকে মুক্তি পাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন। তিনি বাদ মাগরিব ২৭নম্বর ওয়ার্ডে জামেয়াহ্মিল্লিয়া আরাবিয়া খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দোয়া ও আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আজমল হোসেন। এছাড়াও, আহণ্যদিনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ। বক্তাগণ দেশ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে অবশ্যই সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। সব সময় ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় থাকায় জনগণ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পাশে থাকবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

  • মোংলা সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য ৯টি ‘মেঘা’ প্রকল্প অনুমোদন

    মোংলা সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য ৯টি ‘মেঘা’ প্রকল্প অনুমোদন

    বর্তমান সরকার মোংলা সমুদ্র বন্দরের দ্রুত উন্নয়ন, আধুনিকতা and সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করছে। এই লক্ষ্যে ৯টি বড় মেঘা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এই বন্দরকে বিশ্বের মানের নৌযোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে, নতুন করে আরও দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং আরও তিনটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর শুধু স্থানীয় অর্থনীতিই নয়, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উঠবে। ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন, কারণ ব্যবসা সহজ হবে এবং রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। ফলে মোংলা সমুদ্র বন্দর হবে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক, আধুনিক ও টেকসই সার্ভিস ভিত্তিক কেন্দ্র।

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও নভেম্বরে আবার বৃদ্ধি পেয়ে এই হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগে অক্টোবর মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, এবং গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় যা অনেক বেশি—১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার (৭ নভেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করে।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নভেম্বর মাসে খাদ্যসামগ্রীর মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। অর্থাৎ, গত দু`মাস ধরে খাদ্যপণ্যগুলোর দাম বাড়বেই।

    উল্লেখ্য, গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চমূল্যস্ফীতির সাথে লড়াই চালিয়ে আসছে সরকার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.০৩ শতাংশ।

    বিবিএস আরও জানিয়েছে, গত নভেম্বর মাসে গড়ে জাতীয় মজুরি ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ বৃদ্ধি, যা বাসত্মবিক মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। এর অর্থ হলো, মজুরি বেড়ালেও সেটি মূল্যস্ফীতির হারকে ছাড়িয়ে যায়নি।

    মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে এই নয় যে বাজারের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে, বরং গত মাসের তুলনায় কিছু কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমে যেতে পারে। তবে সার্বিক দৃষ্টিতে এর মানে হলো মূল্যস্ফীতি এখনও প্রযুক্ত হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।

    অর্থনীতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেমন সুদের হার বাড়ানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর কমানো ইত্যাদি, যাতে বাজারে সঠিক পরিমাণে আমদানি করতে সুবিধা হয় এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এই সব চেষ্টা এখনও চলমান রয়েছে, কারণ মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে এখনো পুরোপুরি লাভ হয়নি।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকদের সংখ্যায় ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের তুলনায় জুনে এই সংখ্যা বেড়েছিল ৫,৭৯৪টি। এরপর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই তিন মাসে আরও ৭৩৪টি কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকে অর্থের মোট পরিমাণ কিছুটা কমলেও কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ, তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্ট যোগ হয়েছে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। একই সময়ে ব্যাংকে মোট আমানতও সামান্য বেড়েছে; জুনের শেষের দিকে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা হয়েছে। এর ফলে, তিন মাসে মোট আমানত বেড়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।

    কোটিপতি হিসাবের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে জানিয়ে, ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশের কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা অ্যাকাউন্ট ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। এরপর সেপ্টেম্বরের শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টিতে। অর্থাৎ, তিন মাসে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি। এর আগের মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।

    উল্লেখ্য, এই কোটিপতি অ্যাকাউন্টে জমা মোট অর্থের পরিমাণ ছিল জুনে ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। 그러나 সেপ্টেম্বরের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়, অর্থাৎ, তিন মাসে মোট ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা কমেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, কোটিপতি হিসাব বলতে বোঝানো হয় ব্যক্তিগত হিসাব নয়, বরং বিভিন্ন বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও এই ক্যাটাগরিতে পড়ে। আরও বলা হয়, এক ধরণের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারেন এবং কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই অন্তর্ভুক্ত হয়।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচজন। এরপর ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বেড়ে ১৯৭৫ সালে ৪৭, ১৯৮০ সালে ৯৮, ১৯৯০ সালে ৯৪৩, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ এবং ২০০৮ সালে এটি দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬৩টি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২০ সালে ছিল ৯৩,৮৯০ জন, ২০২১ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮ এবং ২০২৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ জন।

  • সোনার দাম ভরিতে বাড়লো ৩,৪৫৩ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে বাড়লো ৩,৪৫৩ টাকা

    বাংলাদেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি পেলো সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা। এর আগে এই দামের নির্ধারণ ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা। এই পরিবর্তন আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

    বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ার কারণে এ নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অতিরিক্ত আগে, ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির দামে এক ভরি সোনার বিক্রয় মূল্য ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যোগ করতে হবে সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬%, তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরির হার কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

    এছাড়া, সোনার দাম সম্প্রসারিত হয়েছে রুপার দামেও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা।

    অতিরিক্ত আগে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ছিল ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ছিল ৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে এই মূল্য ছিল ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • দেশের এবং বিদেশের মোট ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    দেশের এবং বিদেশের মোট ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধার ও প্রভাবিত সম্পদগুলোর বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশের মধ্যে ও বিদেশে মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে পাচার করা অর্থের মাত্র ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার এবং সংযুক্ত করা হয়, যেখানে আরও ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার সম্পদ। এই তথ্য সোমবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। মূল লক্ষ্য হলো মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকরিতাকে আরও শক্তিশালী করা, এবং এ জন্য বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা ও নীতি প্রণয়ন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এসময় বক্তারা নির্ধারিত আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর কিছু ধারা যুগোপযোগী করে সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেন, যাতে কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া, বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে অগ্রাধিকারভিত্তিক ১১টি কেসের ওপর নজরদারি ও তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। ইতিমধ্যে, এই কেসগুলোতে ১০৪টি মামলা দায়ের, ১৪টিতে চার্জশিট দাখিল এবং ৪টি মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে। সরকার আরও বলেছে, দেশে এবং বিদেশে সংযুক্ত সম্পদগুলো গণনা করে দেখানো হয়েছে, যেখানে দেশে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার সম্পত্তি এবং বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। সর্বমোট এই দুটি ক্ষেত্রের সম্পদই ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার। এছাড়া অতি দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কর্মাকর্তা ও দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে, বাংলাদেশ এখন ভবিষ্যতে মানিলন্ডারিং ও অর্থপাচারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ, যার মূল্যায়ন করছে এশিয়া প্যাসিফিক গ্র“প অন মানিলন্ডারিং (এপিজি)। আগামী ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে এপিজি পরিচালিত মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন হবে, যা বাংলাদেশের উন্নত মানদণ্ডে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, ন্যাশনাল ট্যাক্স বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অন্যান্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে, এই সভার লক্ষ্য হলো অর্থপাচার ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করে তোলা।