Blog

  • খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসন থেকে খালেদা জিয়া এবং বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে তারেক রহমানের জন্য মনোনয়নপত্র নেওয়া হয়।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে শহরের গোহাইল রোডে অবস্থিত জেলা নির্বাচন অফিস থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তার নির্বাচনি সমন্বয়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মী।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এই আসন থেকে তিনবারের সংসদ সদস্য। এবার তার জন্য বরাবরের মতোই ব্যাপক ভোটের প্রত্যাশা করছেন সবাই। সাধারণ মানুষও তাকে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

    অন্যদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।

    এসময় সাবেক জেলা বিএনপি সভাপতি একেএম মাহবুবুর রহমান, সাবেক আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, ভিপি সাইফুল ইসলাম, শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফতুন আহম্মেদ খান রুবেল ও দলের অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    মনোনয়নপত্র নেওয়ার পর রেজাউল করিম বাদশা বলেন, তারেক রহমান বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আজ মনোনয়নপত্র উত্তোলনের মধ্য দিয়ে তাঁর নির্বাচনী আস্রয়ের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও জানান, বগুড়াবাসী ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

  • নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নিযুক্ত হলেন নাহিদ, হাসনাত, সারজিস ও অন্যান্য

    নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নিযুক্ত হলেন নাহিদ, হাসনাত, সারজিস ও অন্যান্য

    সরকার দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং Juli আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে, Juli আন্দোলনে সম্মুখসারির কয়েকজন ব্যক্তিকে গার্ড ও গানম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও উত্তরের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। পাশাপাশি, আরও কিছু রাজনীতিক ও সংসদপ্রার্থী অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যানের দাবি করেছেন। জামায়াতের এরির ডা. শফিকুর রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রধান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়েছেন।

    আবেদনকারীদের প্রেক্ষিতে, বেশ কিছু পরিবারের সদস্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিরাপত্তা দিতে প্রদত্ত গার্ড ও অস্ত্রের লাইসেন্স শিগগিরই প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই। এর মধ্যে অন্যতম হলেন- গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভির আহমেদ রবিন, জাফির তুহিন, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

    অপরদিকে, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকেও বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে। হাদির এক বোন লাইসেন্স ও গার্ড পাচ্ছেন, এছাড়া অন্য সদস্যদের জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়। ভবিষ্যত সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে আসন্ন ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানানো হয়েছে।

    বর্তমানে, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী ও বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে সরকার। শেখ হাসিনার দখলে থাকা ক্ষমতা থেকে নড়ে দাঁড়ানোর প্রতিবাদে দেশে পশ্চিমবঙ্গ-সহ নানা হুমকি প্রদানের খবরও এসেছে। গত বছর ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দোসররা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে চলেছে। বিদেশে পলাতক নেতাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের অন্যদের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে, বিদেশ থেকে ক্ষতিকর হুমকিগুলি অব্যাহত থাকায় সন্দেহ হচ্ছে যে, সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।

    সম্প্রতি, বিদেশি নম্বর থেকে ওসমান হাদিকে হত্যার হুমকি ও গুলি করার ঘটনার পুরোপুরি তদন্ত চলছে, যেখানে তাকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে হত্যা করে চিকিৎসাব্যবস্থা দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সরকার বুঝতে পেরেছে, যতটা সম্ভব তালিকা করে তাদের জীবন রক্ষায় আন্তরিক উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের আরও অনেকে জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, যেমন এ বি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ, অন্য রাজনীতিক ও আন্দোলনকারীরা। অধিকাংশ হুমকি ও জঙ্গি হুমকির সঙ্গে এই বাস্তবতাও রয়েছে।

    অতএব, দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আন্দোলনকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য গার্ড ও অস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন বাড়ছে। তবে, পরিস্থিতি বিবেচনায়, সব আবেদনকে সমানভাবে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়, কারণ অনেক আবেদনের সঙ্গে যোগ্যতা ও পরিবেশগত সমস্যা জড়িত। বেশিরভাগ আবেদনকারী শিক্ষার্থী ও ছোট ব্যবসায়ী, যাদের নিজস্ব যানবাহন বা গার্ড নেই, তারা নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। সরকারও এসব বিষয় বিবেচনা করে অত্যন্ত সহনশীলতার সঙ্গে তাদের দাবি বিবেচনা করছে।

    প্রসঙ্গত, ভবিষ্যত নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে, কিছু প্রার্থী লিখিতভাবে নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এই প্রক্রিয়ায়, সাময়িকভাবে অনেক আবেদনের উপর ভিত্তি করে অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। তবে সব আবেদনকে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না কারণ পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সীমিত সংখ্যক গার্ড ও অস্ত্র সরবরাহ সম্ভব।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্র বলছে, অনেকে নিরাপত্তা চেয়ে মৌখিক আবেদন করেছেন, যাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কিছু গার্ড ও অস্ত্রপ্রাপ্তি হয়েছে, তবে সব সদস্যের জন্য নয়। আগামী দিনগুলোতে, মূলত বিচার বিশ্লেষণ ও যাচাই করে, প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করবে।

  • আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন

    আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা-১০ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নাগরিক নেতা এবং সমাজকর্মী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ধানমন্ডি থানা নির্বাচন কর্মকর্তা অফিস থেকে এই ফরম গ্রহণ করেন। ঢাকা-১০ আসনটি ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ অঞ্চল নিয়ে গঠিত, যেখানে এই অঞ্চলের ভোটাররা স্থানীয় উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন।

    মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দেড় বছর কাজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মুখ খুলেছেন। পাশাপাশি তিনি জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেন।

    আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, যার কারণে অন্যান্য প্রার্থীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি জানান, নিয়মিত গোয়েন্দা সংস্থা থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা পাওয়া যাচ্ছে, যা তার নির্বাচনি প্রচারণায় বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

    তিনি একথাও উল্লেখ করেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের দায়িত্ব হলো প্রতিটি প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন ঝামেলা করতে চাইছে।

    উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার সহকর্মী মাহফুজ আলম পদত্যাগ করেন।

    অপরদিকে, এই আসনে বিএনপি থেকে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম মনোনীত হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজ্ঞ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসীম উদ্দিন সরকার। এখন পর্যন্ত দেশের অন্যান্য প্রার্থী হিসেবে এই আসনে কোনও ঘোষণা দেয়নি ұлттық নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

  • পুলিশ রিপোর্ট আসার ৯০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে: আইন উপদেষ্টা

    পুলিশ রিপোর্ট আসার ৯০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে: আইন উপদেষ্টা

    পুলিশের রিপোর্ট পাওয়ার পরে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। আজ (সোমবার, ২২ ডিসেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি এ কথা জানান।

    তার পোস্টে তিনি লিখেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। দ্রুত বিচার আইন, ২০০২ এর ১০ ধারা অনুসারে, পুলিশ রিপোর্ট পাওয়ার একটুনে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে।’

    অন্যদিকে, শহীদ হাদির বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার শাহবাগের ‘শহীদ হাদি চত্বরে’ এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

    সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, এই ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা নির্বাচনের আগে হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান এবং বলেন, বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং প্রয়োজনে এফবিআইর সহায্য নিতে হবে।

    তাদের মতে, গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা হয়। এর এক দিন পর, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড়ে দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অগ্রগণ্য চিকিৎসা জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    অবস্থা গুরুতর হওয়ায়, ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার, তিনি মারা যান। তার মরদেহ গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হয়। এরপর মরদেহটি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রাখা হয়, এবং পরদিন শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ আবারো হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে আনা হয়।

    অবশেষে, দুপুরে জানাজার পূর্বে মরদেহটি জাতীয় সংসদ ভবনের এলাকায় নেওয়া হয়। হাদির মৃতদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের শোক প্রকাশ করা হয়।

  • ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য

    ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা বলেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন। আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে রাশিয়ান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,আমরা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে চাই না। তবে পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ, এটি শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি একটি ভূরাজনৈতিক ব্যাপার, যার নেতিবাচক প্রভাব এলে ফলপ্রসূ সমাধান না হলে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমাতে হবে। এটা জোর দিয়ে তিনি বলেন, এটাই এখন অত্যন্ত জরুরি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে খোজিন বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের বড় অবদান ছিল এবং তখন রাশিয়াও সমর্থন দিয়েছিল। সেই সময় আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি, বিশেষ করে মাইন পরিষ্কারের ক্ষেত্রে। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমি মনে করি যত দ্রুত সম্ভব উত্তেজনা কমানো উচিত।

    আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ বেছে নিতে পারি না। ইউক্রেনের সাথে আমাদের অভিজ্ঞতা আমাদের উদ্বিগ্ন করে—আবার এখানকার পরিস্থিতি নিয়েও আমরা গভীর উদ্বেগে রয়েছি।

    এ সময় তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের এই অবস্থান লক্ষ্য করেছি যেখানে তিনি সব পক্ষের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে উত্তেজনা কমানো যায়।

    নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজির কথা তুলে ধরে খোজিন বলেন, আমরা একটি ইতিবাচক, বন্ধুত্বপূর্ণ, অহিংস এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে আগ্রহী। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বলেন, বিভিন্ন অস্থিরতা ও সহিংসতার ঘটনাগুলি দেখা যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশে উত্তেজনা কমাতে আমরা আগ্রহী, যা নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য।

    আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে তিনি জানান, আমরা স্বাগত জানাই— তবে এর জন্য নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসা জরুরি। নির্বাচন কমিশনই এই বিষয়ে দায়িত্বশীল। তৎপরতার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।

    পূর্বের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে খোজিন বলেন, রাশিয়া যখন অন্য দেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে, তখন আমাদের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি, সামাজিক সংস্থার সদস্যরা বা কখনো উচ্চ মাধ্যমিক দপ্তরের প্রতিনিধিরাও থাকেন। অতএব, নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না এলে আমরা অপেক্ষা করব।

  • আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে যে কোনো মূল্যে

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে যে কোনো মূল্যে

    দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে। বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল অনুষ্ঠিত হয় এবং আজ (সোমবার) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ বিষয়টি জানিয়েছে।

    এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের আগামীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব—বিশেষ করে বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে সাজানো হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখতে সকল বাধা-অবাধা উপায় অবলম্বন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী জানানো হয়, সম্প্রতি দুদুটি জাতীয় দৈনিক এবং দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. কাশেম ফারুকি, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম। এদের ছাড়াও আরও সন্দেহভাজনদের খুঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টাকারীদের মধ্যেও তিনজনকে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রত গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এই নির্দেশনা দেওয়া হয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো অস্থিতিশীলতা এড়াতে।

    সংক্ষেপে, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল, যেকোনো পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য শক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

  • হলিউড নির্মাতা রব রেইনার ও স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    হলিউড নির্মাতা রব রেইনার ও স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    হলিউডের স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা রব রেইনার (৭৮) এবং তার স্ত্রী মিশেল সিঙ্গার রেইনারের (৬৮) মরদেহ নিশ্চিতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি বাড়িতে তাদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা এনবিসি নিউজের তথ্যানুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাদের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একজন ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, রব রেইনার ও তার স্ত্রীর দেহে মারাত্মক ছুরিকাঘাতের ক্ষত দেখা গেছে।

    লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশের ডিপার্টমেন্ট এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। পুলিশ ক্যাপ্টেন মাইক ব্ল্যান্ড বলেন, এই ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রেইনারের বাড়িতে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস রব রেইনারের মৃত্যুসংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ড শহরের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। রব রেইনার হলিউডের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটেল’, ‘দ্য উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিট’ সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি, তাঁর পরিচালনায় বেশ কিছু কালজয়ী সিনেমা—‘দিস ইজ স্পাইনাল ট্যাপ’, ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’, ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’ ও ‘এ ফিউ গুড মেন’—ও দর্শকের মনে স্থায়ী ধারণা সৃষ্টি করেছে।

    রব রেইনার ১৯৮৯ সালে মিশেল সিঙ্গার রেইনারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় তাদের পরিচয় হয়। এই দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে।

  • মেসির সঙ্গে ছবি নিয়ে কটূক্তি, শুভশ্রীর জন্য থানায় রাজের অভিযোগ

    মেসির সঙ্গে ছবি নিয়ে কটূক্তি, শুভশ্রীর জন্য থানায় রাজের অভিযোগ

    কলকাতায় লিওনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা ধরনের কটূক্তি ও কুরুচিকর মন্তব্য। এ পরিস্থিতিতে অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী সামাজিক মাধ্যমে তার পোস্টের মাধ্যমে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তার এই ছবিটি পোস্ট করার পর থেকেই তাকে লক্ষ্য করে বিদ্রুপ ও রুচিহীন মন্তব্যের ঝড় শুরু হয়।

    এমন পরিস্থিতির মধ্যে মূলত একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন শুভশ্রীর স্বামী, নির্মাতা ও রাজনৈতিক নেতা রাজ চক্রবর্তী। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করে বলেছেন, একজন নারীকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের বদলে কিভাবে অপমান করা হচ্ছে, সেটি এভাবে চলতে পারে না। তিনি মনে করেন, এই সব কটূক্তির পেছনে রাজনৈতিক দিক থেকে উসকানি থাকতে পারে, তবে কে এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনই স্পষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপেরই নয়, বরং গত মাসে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক সামাজিক বিতর্কেরই অবশ্যম্ভাবী ফলাফল।

    ১২ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতীস্টেডিয়ামে ফুটবল ইতিহাসে এক বিতর্কের দিন হিসেবে চিহ্নিত হবে। হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী দর্শক দীর্ঘ অপেক্ষার পর, অর্থ খরচ করে টিকিট কেটে এসে, মেসিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি। গ্যালারিতে দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা, আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে দ্রুত মাঠ ছাড়েন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। সেই ঘটনার প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও, এর আক্রোশের কেন্দ্রে পৌঁছে যায় শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম।

    প্রতিবাদে শুভশ্রী জানিয়েছিলেন, তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন, এবং মেসির সঙ্গে ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার পর বাইর থেকে নানা রকম ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও অশালীন মিমের বন্যা বয়ে যায়। তিনি বলেন, যেখানে অনেক দর্শক টাকায় অ্যাক্সেস পেয়েও দর্শকপ্রিয় খেলোয়াড়কে দেখতে পাননি, সেখানে ক্ষোভ স্বাভাবিক— কিন্তু সে ক্ষোভের লক্ষ্য কেন একজন অভিনেত্রী? এই প্রশ্নটি আজও উঠছে।

    সোমবার রাজ চক্রবর্তী একটি দীর্ঘ পোস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি তার লেখায় শুধু শুভশ্রীর পক্ষ থেকে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেও প্রতিবাদ জানান। রাজ লিখেছেন, যুবভারতীর অরাজকতা, অপব্যবহার ও লজ্জাজনক ঘটনা ফুটবলপ্রেমী বাঙালির জন্য ব্যথার। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় আয়োজনের পরিকল্পনায় কেন গাফিলতি রয়ে গেল? দোষীদের শাস্তি দাবি করে বলেছেন, এই ঘটনা বাঙালির আবেগে আঘাত হেনেছে।

    তারপর তিনি শুভশ্রী প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তিনি একজন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এবং সেই উপস্থিতির জন্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন, কি শুধুমাত্র অভিনেত্রী হওয়ার কারণেই কি তাকে ব্যঙ্গের শিকার হতে হয়েছে? রাজ আরো উল্লেখ করেছেন, একজনের পরিচয় শুধু পেশা নয়, তিনি মা, স্ত্রী, বন্ধু, ভক্ত, বা অভিনেত্রী— সবকিছুর ওপরে তিনি একজন মানুষ।

    এছাড়া রাজ গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন যখন মাঠে বহু সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন, তখন কেন শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রীর অভিযোগ বা ট্রোলের বিষয় হয়ে ওঠেন? রাজ মনে করেন, এই ধরনের ট্রোলিং শুধুমাত্র বর্তমানের অপমান নয়, ভবিষ্যতেও বিপজ্জনক বার্তা বহন করে। তিনি শেষত হাতে বলেন, প্রতিবাদ ও অপমানের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।

  • হাদিকে নিয়ে পোস্ট, চমক-মামুনকে হত্যার হুমকি

    হাদিকে নিয়ে পোস্ট, চমক-মামুনকে হত্যার হুমকি

    সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফুল ওসমান বিন হাদি ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিক এই হামলায় গুরুতর আহত হন হাদি, এবং তার সুস্থতা কামনা করে শোবিজ তারকারা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

    এদিকে, হাদিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর চলচ্চিত্র নির্মাতা অনন্য মামুন, নাট্য নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ ও ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকের বিরুদ্ধে হত্যার স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে হুমকিদাতা চমকের ফোন নম্বর ফাঁস করে দিয়েছে এবং বান্নাহর অবস্থান ট্র্যাক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    নির্মাতা মামুন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হুমকির বিষয়ে জানিয়ে বলেছেন, ‘হাদিকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর থেকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা জানে না, হাদি আমার কাছে এক ভালোবাসার নাম। আমি কখনও মৃত্যুভয় পাই না। আমার জীবন আল্লাহতালা রেখেছেন বলে আমি জানি।’

    এই হুমকি দেয়া হচ্ছে ডাল্টন সৌভাতো হীরা নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। এর আগে একই অ্যাকাউন্ট থেকে শরিফুল ওসমান বিন হাদি ও হাদির বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

    অন্যদিকে, অনন্য মামুনের ব্যাপারে লেখা হয়েছে, ‘এ বাটপারটির নাম উল্লেখ করতেও কাল ভুলে গিয়েছিলাম। অনন্য মামুন—দ্য পিম্প। ও যেন সুস্থভাবে থেকে যায়। আর ওর ফিল্ম যেন কেউ প্রডিউস না করে, করলে সেটাই নিজের দায়িত্বে করবে।’

    বান্না ও চমককে কাজের জন্য কেউ যেন ডাকে না, তা জানিয়ে হুমকি দাতা বলেছেন, ‘মাবরুর রশীদ বান্না ও রুকাইয়া জাহান চমক, বঙ্গবন্ধুর ৩২ ভাঙার পর যারা কুৎসিত উল্লাসে মেতেছিলেন—যদি কেউ মিডিয়ায় তাদের কাজে ডাকার চেষ্টা করে, তাহলে সেটি তার নিজের দায়িত্বে নিতে হবে। এসব করে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার দায়িত্ব কেউ নেবে না।’

    চমক ও বান্নাহর অবস্থান ট্র্যাক করার কথাও উল্লেখ করে হুমকিদাতা জানিয়েছেন, ‘এই দুই লালের যাবতীয় অ্যাক্সেস ট্রেস করা হবে। আমাদের আইটি টিমের মাধ্যমে তা আমাদের হাতে আসবে, এবং তাদের জন্য প্রাপ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • অভিনেত্রীর ভিড়ের মধ্যে হেনস্তার ঘটনা, ওড়না ধরে টান

    অভিনেত্রীর ভিড়ের মধ্যে হেনস্তার ঘটনা, ওড়না ধরে টান

    অভিনেত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলতে উৎসুক অনুরাগীরা সাধারণত আনন্দের সঙ্গে ছবি তুলে থাকেন। অনেকসময় তারা প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীকে স্পর্শ করে তাদের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করেন। তবে কিছু ঘটনা উল্টো ধরনের হয় যেখানে সীমা অতিক্রম হয়। সম্প্রতি এমনই এক অপ্রিয় ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণী অভিনেত্রী নিধি আগরওয়ালের সাথে।

    ঘটনাটি ঘটে গতকাল বুধবার রাতের একটি ইভেন্টের শেষে, যখন দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাস এবং নিধির নতুন সিনেমা ‘রাজা সাব’-এর গানের লঞ্চের পর তারা গাড়িতে ফেরার পথে হেনস্তার শিকার হন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভক্তরা তাদের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে নানা রকম আচরণ করছেন। তারা সেলফি তুলতে দৌড়াচ্ছে, পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে, আর কেউ কেউ যানবাহনের মধ্যে নিধির গায়ের ওড়না ধরে টানাটানি করতে চেষ্টা করছে।

    এমন নিয়মবিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে অভিনেত্রীকে গাড়িতে পৌঁছাতে বেশ অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। এই ঘটনা ঘটার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকেই ওই ভিড়ের ভয়ংকর আচরণকে হায়নার দল বলছেন। একজন মন্তব্য করেন, “মানুষের দল সত্যিই হায়নার চেয়েও খারাপ। পুরুষরা কি ভাবে নারীদের এভাবে হয়রানি করে, ভাবতে অবাক লাগে। ঈশ্বর তাদের সবাইকে অন্য কোনো গ্রহে পাঠিয়ে দিন।”

    নিরাপত্তা লঙ্ঘনের এই ঘটনার জন্য বেশ সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকে মনে করছেন, অভিনেত্রীর নিরাপত্তার জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    অভিনেত্রী নিধির ক্যারিয়ার শুরু হয় তেলুগু ছবির মাধ্যমে। তিনি ‘মুন্না মাইকেল’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে প্রবেশ করেন, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন টাইগার শ্রফ। সর্বশেষ তাকে বড় পর্দায় দেখা গেছে সানি দেওলের বিপরীতে ‘জাট’ সিনেমায়।