Blog

  • উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতাদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজের আইপিএল খেলার অনিশ্চয়তা

    উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতাদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজের আইপিএল খেলার অনিশ্চয়তা

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রে। আসন্ন ২০২৬ আইপিএল আসরের শুরু এখনও তিন মাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও, ইতিমধ্যেই оның খেলার বিষয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। নভেম্বরের শেষ দিকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) দলে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতীয় মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর কিছু ধর্মীয় নেতা এর বিরোধিতা শুরু করেন। তারা মোস্তাফিজকে মাঠে নামানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং হুমকি দেন।

    প্রেক্ষাপটে রয়েছে বাংলাদেশে কয়েক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা। ১৮ ডিসেম্বরে ময়মনসিংহে দীপ চন্দ্র দাস নামে একজন হিন্দু শ্রমিকের নিহতের ঘটনায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ উঠলেও সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। এরপর ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ী জেলায় অমৃত মন্ডল নামে আরেকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর মৃত্যুর খবর আসে। এই ঘটনাগুলিকে উল্লেখ করে ভারতীয় সংস্থা আইএএনএস জানিয়েছে, উজ্জয়িনীর কয়েকজন ধর্মীয় নেতা মোস্তাফিজের কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলার বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলি ভারতের বড় ধর্মীয় সংগঠনগুলোর নীরবতাকে জোরদার করছে।

    মহাবীর নাথ প্রকাশ্যে বলেছেন, তারা এই বিষয়ে বিসিসিআই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অবহেলা ও নীরবতাকে তাদের জন্য অপেশাদারী বলে মনে করেন। তিনি আরও বলেন, যে সব ধর্মীয় সংগঠন এই বিরোধিতা বাড়াতে সক্রিয় হতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেকেআরকে বয়কটের ডাকও দেওয়া হয়েছে।

    বিষয়টি এখন ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলতে যাওয়া ও না যাওয়া বিষয়টি ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ দেখবে। তারা আইপিএলের সূচি ও দেশের বর্তমান ব্যস্ততা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

    উল্লেখ্য, আইপিএল চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক সিরিজও চলমান রয়েছে। আগামী এপ্রিল, মে মাসে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবো। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের মতে, মোস্তাফিজকে আট দিন জন্য দেশে ফিরতে হবে তার পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য। সম্প্রতি মোস্তাফিজ দুবাইয়ে আইএলটি-টোয়েন্টি খেলে দেশে ফিরেছেন, এবং রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএল ম্যাচ খেলার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলা কতদিন নিশ্চিত, তা এখন এখনো অনিশ্চিত।

  • ভারতে অসহিষ্ণুতার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে মুফতি পরিবারের উদ্বেগ

    ভারতে অসহিষ্ণুতার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে মুফতি পরিবারের উদ্বেগ

    জম্মু কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি শুক্রবার প্রকাশ করেন, ভারত এখন যেন “লিঞ্চিস্তান” এ পরিণত হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের অসহিষ্ণুতা দিন দিন বাড়ছে এবং বাংলাদেশে লিঞ্চিং নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করছেন, তারা ভারতের ঘটনাগুলির বিষয়ে নীরব থাকছেন। অনলাইন টেলিগ্রাফ এ খবর প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, ‘লিঞ্চিং’ শব্দের অর্থ হচ্ছে জনসমক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা। ইলতিজা ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মন্তব্য করেন, “না ইন্ডিয়া, না ভারত, না হিন্দুস্তান—তোমার নাম লিঞ্চিস্তান।” এই পোস্টে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের ওড়িশায় ১৯ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি মুসলিম শ্রমিক জুয়েল শেখের লিঞ্চিং সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও শেয়ার করেন, যেখানে বলা হয় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত করা হয়।

    এছাড়াও, তার মা এবং পিডিপির প্রধান, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি দেশের বিচারব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভারতের বিচার ব্যবস্থা গভীরভাবে রাজনীতিকরণ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

    মেহবুবা মন্তব্য করেন, দেশের অসহিষ্ণুতা এখন ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে, লিঞ্চিং ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যা ঘটছে তা আমাদের জন্য দুঃখের। তবে যারা এ বিষয়ে সমালোচনা করছেন, নিজেদের সামনেই যদি ঘটনাগুলি ঘটত, তবুও তারা মুখ খোলতেন না।

    তিনি জানিয়ে থাকেন, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড ও হরিয়ানায় কাশ্মিরি শাল ব্যবসায়ীদের ওপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণপন্থি কিছু দল তাদের জোরপূর্বক নির্দিষ্ট স্লোগান দিতে বাধ্য করছে এবং অস্বীকার করলে মারধর করছে।

    হাইকোর্টে তার দাখিল করা জনস্বার্থ মামলা (PIL) খারিজ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক কাশ্মিরি হাজতিদের জম্মু-কাশ্মীরে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি যে আবেদন জানিয়েছিলেন, তাকে আদালত নাকচ করে দিয়ে বলে, এটি নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    মেহবুবা বলেন, আমার চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করা আদালতের কাজ নয়। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এই অধিকার আমার রয়েছে।

    প্রধান বিচারপতি অরুণ পালি ও বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়ালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায় দেন যে, তার আবেদন অপ্রমাণিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রায়ে বলা হয়, মেহবুবা মুফতি এই মামলা দায়ের করেছেন ‘রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং একটি নির্দিষ্ট সমাজের পক্ষে ন্যায়যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে’।

    রায়ের পর হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যখন পিআইএল করতে পারে, তখন একজন রাজনীতিবিদ কেন পারবেন না? তিনি আরও বললেন, রাজনীতিবিদরা তাদের দলের কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তিনি যোগ করেছেন, গরিব পরিবারের সদস্যরা কত কষ্টে থাকেন, তাদের নিজস্ব আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা তো দূরের কথা, বাইরে গুলি জেলে বন্দি থাকাকালীন নিজেদের মামলার কি অবস্থা!

  • ভারতীয়দের বহিষ্কারে সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র!

    ভারতীয়দের বহিষ্কারে সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র!

    গত পাঁচ বছর ধরে সৌদি আরব বিদেশি কর্মীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয়কে দেশের বাইরে পাঠিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    রোববার, ২৮ ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থা সত্ত্বেও, সৌদি আরব গত পাঁচ বছর ধরেই আমেরিকার চেয়ে বেশি ভারতীয়কে বহিষ্কার করেছে। এই বহিষ্কারের পেছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান করা (ভিসা ওভারস্টে), শ্রম আইন লঙ্ঘন, ওয়ার্ক পারমিট না থাকা বা কাজের নিয়ম ভঙ্গ, নিয়োগকর্তাকে এড়িয়ে পালানো এবং বিভিন্ন দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় জড়ানো।

    ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং স্থানীয় সংসদে এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই গণবহিষ্কারের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভিসা বা রেসিডেন্সি কার্ডের মেয়াদ শেষে অবস্থান করা, অনুমতিহীন কাজ, শ্রম আইন ভঙ্গ, নিয়োগদাতাদের দেখানো না থাকায় পালানো এবং বিচারের মোকাবিলা।

    রিয়াদে অবস্থিত ভারতের মিশনের তথ্যমতে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে রেকর্ড সংখ্যক ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে, ২০২১ সালে ৮,৮৮৭ জন, ২০২২ সালে ১০,২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১,৪৮৬ জন, ২০২৪ সালে ৯,২০৬ জন এবং ২০২৫ সালের এখন পর্যন্ত ৭,০১৯ জন ভারতীয়কে ফেরত আনা হয়েছে।

    অপর দিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর থাকলেও, সৌদি আরবের তুলনায় সেখানে ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর হার অনেক কম।

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ভারতীয় মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেখানে মোট ৩,১৪১৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, তবে এ সংখ্যা সৌদি আরবের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। অন্যান্য মার্কিন শহর যেমন হিউস্টন (২৩৪ জন), সান ফ্রান্সিসকো, নিউইয়র্ক ও শিকাগোতে এই সংখ্যাগুলো দুই বা তিন অঙ্কের ঘরে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

  • ভারতে বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে মুসলিম তরুণদের উপর হামলা

    ভারতে বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে মুসলিম তরুণদের উপর হামলা

    উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে এক ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা ঘটেছে যেখানে একটি ক্যাফেতে বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে দুই মুসলিম তরুণের অপরাধে একদল উগ্রপন্থী ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য তাদের উপর হামলা চালিয়েছেন। এই ঘটনার মূল অভিযোগ ছিল ‘লাভ জিহাদ’। রবিবার ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার সময় নার্সিং পেশার এক ছাত্রীর জন্মদিনের পার্টি চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন তিনি এবং তার মোট নয়জন বন্ধু, এর মধ্যে দুজন মুসলিম। আকস্মিকভাবে বজরং দলে জড়ানো কিছু সদস্য স্লোঙ্গ দিয়ে ক্যাফেতে প্রবেশ করে এবং ‘লাভ জিহাদ’ এর অভিযোগ তুলে দুই মুসলিম শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে মারধর শুরু করে। এই সময় জন্মদিনের উদ্যোক্তা তরুণী বারবার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, তাদের বলে দেন যে সবাই একই স্কুলের সহপাঠী। কিন্তু উগ্রপন্থীরা কোনও কথা শুনতে চাননি এবং হামলা চালাতে থাকেন। পরিস্থিতি আরও তীব্র হলে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ কর্মকর্তা আশুতোষ শিবম জানিয়েছেন, পরে হামলাকারীদের বাসা থেকে দুই মুসলিম তরুণ ও ক্যাফের দুই কর্মচারীকেও আটক করা হয়। এছাড়াও, নারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়। বরিলির এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সম্প্রতি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে নিশ্চিত করেছে। পুলিশ বলছে, পার্টির সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মোট দশজন, যার মধ্যে ছয়জন নারী ও চারজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজন ছিল মুসলিম। এই ঘটনায় হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের কিছু সদস্য এই দুজনের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ এর অভিযোগ তোলে এবং এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।

  • বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার ঘটনায় হুমায়ুনের ছেলে আটক, পুলিশকে মারধরের অভিযোগ

    বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার ঘটনায় হুমায়ুনের ছেলে আটক, পুলিশকে মারধরের অভিযোগ

    পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ছেলে গুলাম নবী আজাদকে পুলিশ আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হুমায়ুনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও গালিগালাজ করেছেন। ঘটনাটি রোববার বিকেলে ঘটে, যখন পুলিশ সকালে ঘটনার শুনানি শেষে তাকে আটক করে। পরে তাকে শক্তিপুর থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সময় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির নিজ বাড়িতে ছিলেন না। সম্প্রতি, মুর্শিদাবাদে নতুন বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এই বিষয়টি তার বিরুদ্ধে বিতর্ক রাস্তা তৈরি করে, ফলে তৃণমূল তাকে সাসপেন্ড করে দেয়। তারপর, তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেন। এরপর ছেলের আটক হওয়ার পর হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, ওই পুলিশ কনস্টেবল তাকে আক্রমণের চেষ্টা করছিল, কিন্তু তার ছেলে তাকে রক্ষা করেছে। তার কাছে সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি এও জানান, তিনি পুলিশ সুপারের দপ্তর ঘেরাও করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই ব্যক্তি আমার বাড়িতে ঢুকে মারধরের চেষ্টা করে। আমার ছেলে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি, আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আমরা এসপি অফিসে ঘেরাও করব। কেন তারা নাটকীয়ভাবে আমার বাড়িতে এসেছিল, তা আমরা জানাতে চাই। এর আগেও আমি এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। এবার সে আমার ওপর আক্রমণের চেষ্টা করল। আমার ছেলে তাকে রক্ষা করেছে। প্রয়োজনে আমি সিসিটিভি ফুটেজ দেখাব।’ সূত্র জানায়, এই ঘটনা হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতিতেই ঘটে। জানা গেছে, সকালে তিনি নিজের বিধায়ক কার্যালয়ে ছেলে ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। সেই সময় ওই কনস্টেবল তার কাছে এসে ছুটির আবেদন জানায়। কবির সেই আবেদন নাকচ করলে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তারপর, অভিযোগ, তার ছেলে ওই কনস্টেবলকে চড় মারেন। পুলিশ এতে উদ্বিগ্ন হয়ে শক্তিপুরে কবিরের বাড়িতে চলে আসে এবং তার ছেলেকে আটক করে। ঘটনাটা জানার পর দ্রুত হুমায়ুন কবির নিজেও থানায় হাজির হন।

  • মেক্সিকোতে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ১৩

    মেক্সিকোতে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ১৩

    মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য ওয়াক্সাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং আরও ৯৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাজ্যের নিজান্দা শহরের কাছে ঘটে।

    মেক্সিকো নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রেনে মোট ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে ৯ জন ক্রু সদস্য। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয়েছেন ৯৮ জন, এবং আহতদের মধ্যে ৩৬ জন হাসপাতাল ভর্তি। বাকিরা সবাই নিরাপদে আছেন। খবর রয়টার্সের।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক এক্স পোস্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৬ জনের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।

    প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ঘটনাস্থলে রেল ও রেলওয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা পৌঁছেছেন এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    মেক্সিকো দুটি মহাসাগরের তীরবর্তী দেশ, যেখানে প্রশান্ত এবং আটলান্টিক মহাসাগরের অববাহিকায় অবস্থিত বিভিন্ন শহর ও বন্দর সংযোগের জন্য ১৯৯৯ সালে চালু হয় বিশেষ রেল পরিষেবা ‘আন্তঃমহাসাগরীয় রেল’। এই রেল পরিষেবার দেখাশোনা করে মেক্সিকোর নৌবাহিনী।

    যে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটি এই ‘আন্তঃমহাসাগরীয় রেল’-এর এক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। এই দুর্ঘটনা দেশের অন্যতম বড় রেল দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলমান।

  • তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে

    জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, গত দেড় দশকে সারাদেশের মতো খুলনার মানুষও ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে এবার দেশবাসী সেই অধিকার ফিরে পেয়েছেন। তিনি বলেন, সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্নিপরীক্ষা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিএনপি সম্পূর্ণ দৃঢ়। তাই দেশবাসীর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বাইরে বিএনপি’র কোনো প্রার্থী নেই; ব্যক্তি চেয়ে দল বড়, আর দল থেকে বড় কিছুই নেই; সর্বোপরি, আগে বাংলাদেশ।

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল রোববার বিকেলে খুলনা-১ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা শীর্ষক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি। মনিরুজ্জামান মন্টু আরও বলেন, খুলনার প্রত্যেক সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী করতে দলের সকল নেতাকর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তারা জানেন- এবারের নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন হবে। ইতিমধ্যে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হয়েছে। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করতে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান, সব স্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করবেন।

    এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক শেখ মোঃ তৈয়েবুর রহমান। জেলা বিএনপি’র সদস্য সুলতান মাহমুদের সভাপতিত্বে ও মোঃ এজাজুর রহমান শামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা মোঃ ফারুক হোসেন খন্দকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান জিকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম, সাইফুর রহমান, আশিকুজ্জামান আশিক, ওয়াহেদুজ্জামান, কারিমুল ইসলাম, শেখ মোঃ মাসুদুজ্জামান, আবু বকর সিদ্দিক নিরু, ব্রজেন ঢালী, বাহাদুর মুন্সী, আবুল হোসেন তালুকদার, রেহেনা আফরোজ সুইটি, কনিজ ফাতেমা, বাপ্পী খান, রুহুল মোমেন লিটন, রাশেদ কামাল, জসিম উদ্দিন, ওলিয়ার রহমান, মোল্লা ইমরান আহম্মেদ, আসাফুর রহমান, হাফিজুর রহমান, মোঃ আরাফাত হোসেন, কামাল মহলদার, জাহাঙ্গীর হাওরাদার ও মোল্লা আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

  • তারেক রহমান দেশে ফেরার পর নির্বাচন আর থাকছে অনিশ্চিত নয়

    তারেক রহমান দেশে ফেরার পর নির্বাচন আর থাকছে অনিশ্চিত নয়

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ফেরার পর দেশের নির্বাচনের আর কোন অজুহাত বা সংশয় রইলো না বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ২৫ ডিসেম্বরের পরে আর কোনো পরিস্থিতি নিবৃত্ত করে নির্বাচন ঠেকানোর সুযোগ থাকবে না। যারা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষা করতে চান, তাদের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর বিকল্প কোনোভাবেই নেই।
    শনিবার বিকেলে শৈলকুপা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে ঝিনাইদহ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
    আসাদুজ্জামান বলেন, যদি তিনি নির্বাচিত হন, তাহলে তার প্রথম অঙ্গীকার হবে বাংলাদেশের শাসন কাঠামোকে সুদৃঢ় করা। এর পাশাপাশি শিক্ষা, নারীর অধিকার, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে তার মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের মানুষ যেন তার পছন্দমতো ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা তাঁর অন্যতম অঙ্গীকার।
    সাবেক এই কূটনীতিবিদ আরও বলেন, “আপনাদের জানা আছে যে, আমি সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনের রায় রিভিউ করে বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতের জন্য সংগ্রাম করেছি, এবং এই সংগ্রামে আমি জয়ী হয়েছি। এখন থেকে প্রতি পাঁচ বছর পরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, যা আমরা আইনসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করেছি।”
    তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিএনপি’র পক্ষ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় তারা অবিরত সংগ্রাম করবে।
    এর আগে, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন মো. আসাদুজ্জামান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, ঝিনাইদহ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী জেলা সভাপতি এম.এ. মজিদ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা আব্দুল বারী মোল্লা, পৌর বিএনপি’র সভাপতি আবু তালেব মিয়া প্রমুখ।

  • তীব্র শীতে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন বিপর্যস্ত

    তীব্র শীতে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন বিপর্যস্ত

    চুয়াডাঙ্গায় এখন তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে হিমশীতল বাতাস, কুয়াশা এবং মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে। সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে জনজীবনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা। অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের তীব্রতা মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। সোমবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাস এবং ঘন কুয়াশা সকাল থেকে দিন পর্যন্ত শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীত আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। বাতাসের তীব্রতা এবং প্রবল ঠাণ্ডার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ক্ষুধার্ত ও ছিন্নমূল পরিবারগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে শীতের কারণে তাদের কষ্ট আরও বাড়ছে। এর পাশাপাশি, সড়কে মানুষের উপস্থিতি কমে আসায় জীবনধারা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষজন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তীব্র শীতের ফলশ্রুতিতে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ধান চাষে প্রভাব ফেলতে পারে। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুরা ও বৃদ্ধরা, যেখানে চিকিৎসা সেবা প্রদানে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। রোগীর চাপ এত বেশি যে, শয্যার অভাব এবং চিকিৎসাকক্ষে বরান্দা ও মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাতিকাটা গ্রামের ইজিবাইক চালক নুর ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছি, কিন্তু ভাড়া পাচ্ছি না। সড়কে উপস্থিতি কম থাকায় আয় কমে গেছে। শীত আর পেটের তাগিদে কষ্টে আছি।” অন্য এক পথচারী আব্দুল হালিম জানান, “শীত এতই তীব্র যে, শরীরে ছয়টি পোশাক পরেও ঠাণ্ডা কমছে না। শরীরের বিভিন্ন অংশ জমে যাচ্ছে আর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।” বৃদ্ধ ভ্যানচালক হাসমত আলি বলেন, “গরম চায়ের সঙ্গে শীতের রাত কাটাতে হচ্ছে। গরীবের জন্য পর্যাপ্ত গরম কাপড় থাকছে না, তাই এখনো পর্যন্ত কোন কম্বল পাইনি।” চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আলতাফ হোসেন জানান, আকাশ মেঘলা, কুয়াশাচ্ছন্ন ও উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা আরও কিছুদিন থাকতে পারে। তিনি জানান, শীতের মাত্রা আরও কমতে পারে, তাই সূর্যের দেখা মিলাও একদম কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলেও শীতের দাপট কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

  • খুবির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    খুবির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা সরাসরি http://apply.ku.ac.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তাদের নিজস্ব প্রোফাইলে লগইন করে ফলাফল দেখতে পারবেন।

    মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীরা আগামী ০১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে ০৩ জানুয়ারি (শনিবার) পর্যন্ত অনলাইনে তাদের ডিসিপ্লিন পছন্দের ক্রম নির্ধারণ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিসিপ্লিন পছন্দ তালিকা পূরণ না করলে তাদের ভর্তির সম্মতি গৃহীত হবে না। চূড়ান্ত ফাইনাল ফলাফল প্রকাশ করা হবে আগামী ০৮ জানুয়ারি। এরপর ১২ থেকে ১৩ জানুয়ারি সকাল ৯:৩০ থেকে বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত মেধা তালিকা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম চলবে।

    ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য আজ ২৯ ডিসেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম এর নেতৃত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় চারটি ইউনিটের ইউনিট প্রধানগণ ফলাফল উপস্থাপন করেন। চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ও অনুমোদনের পর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, সকল স্কুলের ডিনগণ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এবং ভর্তি কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

    অতীতে, গত ১৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ‘সি’ ইউনিট (কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, শিক্ষা এবং চারুকলা স্কুল) ও ‘ডি’ ইউনিট (ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুল) এবং ১৯ ডিসেম্বর (শুক্রবার) ‘এ’ ইউনিট (বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল) ও ‘বি’ ইউনিট (জীববিজ্ঞান স্কুল) এর ভর্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।