Blog

  • ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনা: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনা: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির ফলে ভালো মানের সোনার দামের হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে—এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায়।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন এই দর কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে। বাজুস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে মূল্য বাড়ছে। বিশ্বস্ত সূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ে এবং প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৭৪৫ ডলারের ওপরে গেছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী ভরের দামের তালিকা হলো:

    – ২২ ক্যারেট: ২,৪৪,১২৮ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২,৩২,৯৮৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ১,৯৯,৭৪৬ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির: ১,৬৩,৮২১ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রূপার নতুন মূল্য হলো:

    – ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি: ৬,৫৯০ টাকা

    – ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি: ৫,২৯৯ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি: ৫,৪২৪ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি: ৪,০৮২ টাকা

    বাজারে এই পরিবর্তন ক্রেতা ও স্বর্ণবিক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যারা বিনিয়োগ বা গহনা কেনাবেচা করছেন, তাদের কাছে নতুন এই দর বিবেচনায় রাখা জরুরি।

  • ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে’

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে’

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন — যদি তারা তার বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র চালায় বা তাকে হত্যার হুমকি অব্যাহত রাখে, তবে ‘‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা’’ হবে বলে সতর্ক করেছেন। খবরটি প্রথমে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য হিল।

    ট্রাম্প মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউজ নেশনের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কেটি প্যাভলিচের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘তারা যদি আমার বিরুদ্ধে এমন কিছু করে, তাহলে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে—আমি এ ব্যাপারে আগে থেকেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি।’’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যার হুমকি সম্পর্কে ব্রিফ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সরাসরি মুখ খুলে কথা বলা উচিত ছিল এবং প্রয়োজনে সাবেক ও বর্তমান নেতাদের একে অপরকে রক্ষা করা উচিত।

    তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডের কাছ থেকে উদ্ধৃত এক তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ইরানি কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার নেপথ্যে থাকতে পারে এমন ষড়যন্ত্র। সোলাইমানিকে ২০২০ সালে ট্রাম্প সরকারের সময়ই একটি মার্কিন বিমান অভিযানেই নিহত করা হয়।

    ট্রাম্প বলেন, তিনি আগেও প্রশাসনিক পর্যায়ে এধরনের কঠোর অবস্থান নিয়েছেন—এমনকি এক সময়ে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছেন যদি তারা তাকে হত্যার চেষ্টা করে। তবে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তারা এমন কোনও কাজ করেনি; করলে ‘‘এটি তাদের জন্য ভয়াবহ ফল বয়ে আনত।’’

    সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করেছেন ট্রাম্প। এসব ঘটনার মধ্যেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আরোপ করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে—যদিও তাকে জানানো হয়েছে যে সাম্প্রতিক সময়ে এসব হত্যার ঘটনা আপাতত বন্ধ রয়েছে।

    অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটিকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে খামেনি দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘গ্রাস’ করতে চায় এবং বাইরের শক্তির পরিকল্পনা দেশকে দুর্বল করার উদ্দেশ্য বহন করে। তিনি সেপ্টেম্বর করে বলেছেন, দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে তারা আগ্রহী নয়; কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কারওও ছাড় দেওয়া হবে না।

    এই তপ্ত বিবাদে প্রতিপক্ষ দু’পক্ষের বক্তব্যই ঘটনাস্থল ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ট্রাম্পের একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি ও ইরানের নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে সংকট কেমন ভাবে বেড়ে উঠে তা নিঃসন্দেহে নজরকাড়া বিষয় হয়ে পড়েছে।

  • ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত শান্তি পরিষদ ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরা।

    ট্রাম্প নিজেকে বোর্ডের আজীবন—or অনির্দিষ্টকালীন—চেয়ারম্যান রাখা করেছেন এবং তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতাদের এতে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যারা বোর্ডে আজীবন সদস্য হতে চান, তাদের প্রতি দেশ ১ বিলিয়ন ডলার করে দেবে এমন শর্ত রয়েছে।

    এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, বেলারুস, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভিয়েতনাম এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে; সর্বশেষ তালিকায় ইসরায়েলও যুক্ত হলো। কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, ট্রাম্পের এই প্রতিষ্ঠান যদি শক্তি বা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তবে তা হয়তো জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে—এমন সম্ভাবনাকেও ট্রাম্প নিজে উস্কে দিয়েছেন।

    তবে নেতানিয়াহুর যোগদানকে নিয়ে বিতর্ক তীব্র। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং কিছু দেশ তাকে গাজার ঘটনায় দায়ী করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে—যার ফলে অনেকের কাছে তাকে ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে নেওয়া সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্ক গত বছরের নভেম্বরে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে নেতানিয়াহু ও তার সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

    এই পটভূমিতে নেতানিয়াহুর মতো বিতর্কিত নেতাকে বোর্ড অব পিসে তুলে নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন না করে সমালোচনা করায় অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সমালোচকরা বলছেন, এমন অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক ন্যায় ও মানবाधিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত এই মঞ্চ বিশ্ব কূটনীতি ও শান্তির প্রচেষ্টাকে ধাঁধাঁতে ফেলতে পারে।

  • সাতক্ষীরার চার আসনে ২০ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ

    সাতক্ষীরার চার আসনে ২০ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ

    সাতক্ষীরায় চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ জন প্রার্থীকে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার তার সম্মেলন কক্ষে সকল দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীকের বরাদ্দ দেন।

    বরাদ্দকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা উপস্থিত সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন এবং আইনশৃঙ্খলায় কোনো হয়রানি বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়াভাবে হস্তক্ষেপ করবে বলে সতর্ক করেন। এসময় পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, জেলার বিজিবি প্রধান ও আনসার কমান্ডান্টসহ অন্যরা নির্বাচন-সংক্রান্ত সামগ্রিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বক্তব্য রাখেন।

    এবার সাতক্ষীরার চারটি আসনে মোট আট ধরনের প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বরাদ্দকৃত প্রতীকগুলো হলো: বিএনপির ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব, বাংলাদেশ জাসদের মটরগাড়ি, একটি স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফুটবল ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির রকেট প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।

    আসনভিত্তিক প্রার্থীদের তালিকা বেশি পরিষ্কারভাবে এভাবে জানা যায়:

    – সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): বিএনপি থেকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ), জামায়াত থেকে মো. ইজ্জত উল্লাহ (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. রেজাউল করিম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইয়ারুল ইসলাম (ডাব)।

    – সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): বিএনপির আব্দুর রউফ (ধানের শীষ), জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাসদের ইদ্রিস আলী (মটরগাড়ি) ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম (হাতপাখা)।

    – সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল), বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন (ধানের শীষ), জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আলিপ হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির রুবেল হোসেন (রকেট)।

    – সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (ধানের শীষ), জামায়াতের জিএম নজরুল ইসলাম (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের এইচ এম মিজানুর রহমান (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ (লাঙ্গল)।

    প্রসঙ্গত, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করেন। প্রথম দফায় ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় যাচাই-বাছাই করা হয়; রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে ১৯ জনকে বৈধ ও ১০ জনকে বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচনী আপিলে চারজন বৈধ ঘোষিত হওয়ায় মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩। পরে ২০ জানুয়ারি তিনজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় চূড়ান্তভাবে ২০ জন প্রার্থী প্রতীকে ছেদে লড়বেন বলে বিবেচিত হন। বুধবার দুপুর থেকে এসব চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বিতরণ করা হয়েছিল।

  • যশোরে ছয় আসনে ৩৫ প্রার্থীকে অনুষ্ঠিতভাবে প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচন প্রচার শুরু

    যশোরে ছয় আসনে ৩৫ প্রার্থীকে অনুষ্ঠিতভাবে প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচন প্রচার শুরু

    যশোরে ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রার্থীদের হাতে তাদের প্রতীক তুলে দেন।

    যশোর-১ (শার্শা): এখানে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজিজুর রহমান পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল লাঙ্গল, বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন ধানের শীষ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বকতিয়ার রহমান হাতপাখা প্রতীক পেয়েছেন।

    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা): এ আসনে মোট ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বী। বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ধানের শীষ, জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন ফরিদ দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী হাতপাখা, বাসদের ইমরান খান মই, বিএনএফের শামসুল হক টেলিভিশন এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদ ঈগল প্রতীক পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম ঘোড়া ও মেহেদী হাসান ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন। যদিও জহুরুল ইসলাম এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা বলেন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কথায় তিনি প্রত্যাহারের কাগজপত্র জমা দেননি।

    যশোর-৩ (সদর): এখানে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ধানের শীষ নিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন হাতপাখা, জামায়াতের আব্দুল কাদের দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির খবির গাজী লাঙ্গল, জাগপার নিজামুদ্দিন অমিত চশমা এবং সিপিবি’র রাশেদ খান কাস্তে প্রতীক পেয়েছেন।

    যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): এ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন। স্বতন্ত্র এম. নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ মোটরসাইকেল, ইসলামী আন্দোলনের বায়েজীদ হোসাইন হাতপাখা, বিএনপির মতিয়র রহমান ফারাজি ধানের শীষ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী দেওয়াল ঘড়ি, জামায়াতের গোলাম রসুল দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক লাঙ্গল এবং বিএমজেপির সুকৃতি কুমার মণ্ডল রকেট প্রতীক নিয়েছেন।

    যশোর-৫ (মণিরামপুর): এখানে পাঁচজন প্রার্থী লড়ছেন। জাতীয় পার্টির এম এ হালিম লাঙ্গল, জামায়াতের গাজী এনামুল হক দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন হাতপাখা, বিএনপির রশীদ আহমদ ধানের শীষ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন কলস প্রতীক পেয়েছেন।

    যশোর-৬ (কেশবপুর): এই আসনেও পাঁচজন প্রার্থী প্রতীক নিয়েছেন। জাতীয় পার্টির জিএম হাসান লাঙ্গল, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান ঈগল, জামায়াতের মোক্তার আলী দাঁড়িপাল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীক রাখছেন।

    প্রতীক বরাদ্দের পর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুক হক সাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্ষার পর বাংলাদেশে ভোট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী হবে।

    অন্যদিকে বিভিন্ন প্রার্থীর অভিযোগও উঠেছে। সিপিবি প্রার্থী রাশেদ খান জানান, নির্দিষ্ট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় নিষেধ থাকা সত্ত্বেও এখনও কিছু দলের পোস্টার-ফেস্টুন যানবাহনে দেখা যাচ্ছে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বড় ব্যানার আছে; তিনি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণের আর্জি করেন। যশোর-২-এর বাসদের প্রার্থী ইমরান খান বলেন, রাতের ভোট, ডামি ভোট ও ভোট কেড়ে নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার জন্য প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন; বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র ও টাকার উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, যশোরের ছয় আসনে চূড়ান্তভাবে ৩৫ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে যশোরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিবও উপস্থিত ছিলেন।

  • ভারতে না গেলে বিকল্প ভেন্যু দেবে আইসিসি, বিসিবিকে এক দিনের সময়

    ভারতে না গেলে বিকল্প ভেন্যু দেবে আইসিসি, বিসিবিকে এক দিনের সময়

    সিকিউরিটি উদ্বেগের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যেতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ; বিকল্প ভেন্যু দেয়ার অনুরোধ এসেছে আইসিসির কাছে। দফায় দফায় বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করেও সমস্যার ন্যায্য সমাধান না হওয়ায় আইসিসি আজ (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এক দিনের সময় সীমা দিয়েছে।

    আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালভাবে অনুষ্ঠিত আইসিসির বিশেষ সভায় পূর্ণ সদস্য সব দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন এবং আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসতে ক্রিকইনফোসহ কিছু সংবাদমাধ্যমও খবর প্রকাশ করেছে।

    ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সভায় অংশ নেওয়া বেশিরভাগ সদস্যই বাংলাদেশকে ভারতে গিয়ে খেলতে উৎসাহিত করেন। তবে যদি বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে না যায়, তাহলে ওই আসনে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিসিবি সিদ্ধান্ত নিতে আরেকটি দিন পাচ্ছে।

    সভায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। সভায় অংশ নেয় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসীন নাকভি, বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সহ অন্যান্য পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা। আইসিসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী, ইভেন্ট বিভাগের প্রধান ও লিগ্যাল অফিসার।

    আইসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিষয়টি দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন যাতে টুর্নামেন্টের সূচি এবং প্রস্তুতি কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা না ঘটে। বর্তমানে বিসিবির পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় পুরো বিষয়টি; তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইসিসিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • থাইলে শ্রীলঙ্কাকে ৬–৩ হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বাংলাদেশ

    থাইলে শ্রীলঙ্কাকে ৬–৩ হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বাংলাদেশ

    থাইল্যান্ডে চলমান সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কাকে ৬–৩ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছে বাংলাদেশ। দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও কৃষ্ণা রানী সরকার খেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন—প্রতিটি দুইটি করে গোল করেছেন তারা।

    চারের ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ এখন ১০ পয়েন্ট; এক পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এই জয়ে টাইবে আরও আত্মবিশ্বাস যোগ পেয়েছে বাংলাদেশ দল।

    স্কোরলাইন বড় হলেও ম্যাচের শুরুতে রক্ষা পাচ্ছিল না ব্যবধান। খেলায় মাত্র প্রথম ১৫ মিনিটেই বাংলাদেশ ০–২ পিছিয়ে পড়ে। গোলরক্ষায় শপনা আক্তার জিলির কিছু অনভ্যস্ত মুহূর্ত দলের ওপর চাপ তৈরি করেছিল, যদিও বল দখলে বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে ছিল।

    চাপে থাকা মুহূর্তেই দলের ভরসা ছিলেন সাবিনা ও কৃষ্ণা। বিরতির আগ পর্যন্ত কৃষ্ণা দুইটি অ্যাসিস্ট করলে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে সাবিনা দুটি গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন।

    দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ। কৃষ্ণা রানী সরকার যোগ করেন আরও দুটি গোল; এ ছাড়া মাতসুশিমা সুমাইয়া এবং মাসুরা পারভীন একটি করে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।

    শ্রীলঙ্কার হয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে শানু পাস্কারানের একটি গোল ছিল, আর তাদের দ্বিতীয় গোল করেছিলেন ইমেশা কানকানামলাগে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইমেশাও একটি সান্ত্বনার লক্ষ্য করেন; তবুও সেটি শূন্যে রাখা যায়নি।

    এই জয়ে বাংলাদেশ সার্কুলারে ফিরে এসেছে; পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও একইভাবে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শীর্ষস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করবে দল।

  • চিরবিদায়: দুই বাংলার প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিরবিদায়: দুই বাংলার প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি; বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। মৃত্যুর সঠিক কারণ পরিবারের তরফে জানানো হয়নি।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর খবর প্রথম জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি সেখানে জানান, ‘‘আমার মামি জয়শ্রী কবির, এককালের বিখ্যাত নায়িকা ও ১৯৬৮ সালের ‘মিস ক্যালকাটা’, লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।’’ জাভেদ আরও বলেন, তিনি বহু দিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন।

    চলচ্চিত্রে জয়শ্রী কবিরের ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্র থেকে। এরপর তিনি বাংলা সিনেমায় দৃশ্যমান উপস্থিতি তৈরি করেন। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে প্রশংসা পান। পরে বাংলাদেশি পরিচালক আলমগীর কবিরের Several ছবিতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে দুই বাংলায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন; তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’।

    জয়শ্রী ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায় এবং পড়াশোনা করেছেন সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জেতার পর চলচ্চিত্রে আসেন। ব্যক্তিজীবনে ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও দাম্পত্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি; প্রায় তিন বছরের মাথায় তারা বিবাহবিচ্ছেদ করেন। তাদের সংসথিত একমাত্র পুত্র সন্তানের নাম লেনিন সৌরভ কবির।

    বিবাহবিচ্ছেদের পর প্রথমে কলকাতা ফিরে যান জয়শ্রী; পরে চলে আসেন লন্ডনে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং ছেলে লেনিনকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি একবার ঢাকায় এসেছিলেন, এরপর থেকে বাংলাদেশে আর দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু বাংলা সিনেমাসাহিত্যের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে ধরা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা শেষকৃত্যের বিবরণ এখনও सार्वजनिक করা হয়নি।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের বর্ষীয়ান নায়ক ও কৃতী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘ দিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস জাভেদ নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন; গতবারের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল; হাসপাতালে করে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ডলি বলেন, কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিচ্ছিলেন। আজ সকালে নার্সরা এসে জানালে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে, এরপর অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস—পরিচিত নাম ইলিয়াস জাভেদ। প্রথমদিকে পরিবার পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসে অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে স্থান করে নেন। নৃত্য পরিচালনা করেই ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে নায়কের ভূমিকায় বহুল জনপ্রিয়তা পান।

    তার চলচ্চিত্র জীবনের সূচনা হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ী জিন্দেগি’ থেকে। ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ ছবিতে কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে তিনি বড় পর্দায় নিজের আসন পাকাপোক্ত করেন; পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবির মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে অটল জায়গা করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনেও ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। সত্তুর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে তার পরিচয় ছিল ঝরঝরে নাচ ও অ্যাকশনের ৰোমাঞ্চকর মিশ্রণ হিসেবে। চলচ্চিত্র জীবন ও নৃত্যশৈলীর জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

    তার উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলাসিনোর একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি—বিশেষত সত্তুর-আশির দশকের ভক্তদের কাছে—এমনকি নৃত্য ও বিনোদনশিল্পের এক যুগপতিক স্মৃতি।

  • মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরেছেন আবিদুর রহিম

    মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরেছেন আবিদুর রহিম

    রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির leerling আবিদুর রহিম (১২)। তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিলিজ পেয়েছেন, খবরটি নিশ্চিত করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে।

    অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, রহিম গত বছরের ২১ জুলাই থেকে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মোট ছয় মাস—প্রায় ১৮০ দিন—চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। রহিমের শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়ে ছিল; এ ছাড়াও তিনি ইনহেলেশান বার্নে ভুগেছেন এবং মুখ ও দুই হাতে দাগ ও পোড়া ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসরুমের সামনের দিকে বসেছিল।

    রফিক জানান, তার অবস্থাও ছিল ক্রিটিক্যাল—শুষ্কভাবে বলতে গেলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল পাঁচ দিন, এরপর হাই-ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ছয় দিন এবং কেবিনে প্রায় ১৭২ দিন চালিয়ে চিকিৎসা ক্ষমতা বজায় রাখা হয়েছে। দুই হাতের তত্পরতার কারণে তাকে ফ্যাসেকটমি করা হয়—অর্থাৎ নষ্ট হওয়া চামড়া অপসারণ করে হাত রক্ষা করার প্রয়াস নেয়া হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে তিনি ৩৫টি অস্ত্রোপচারের মধ্যে পড়েছেন; এর মধ্যে ২৩টি ছোট ধরনের অপারেশন এবং চামড়া প্রতিস্থাপন বা গ্রাফটিং করা হয়েছে ১০ বার। মুখ ও হাতের ফ্ল্যাক কভারেজের কাজও করা হয়েছে।

    পরিচালক বলেন, এতদিন হাসপাতালের বেডে থাকার ফলে সূর্যালোক পায়নি এবং শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা এসেছে; তাই বহুমুখী থেরাপি ও নিয়মিত ফলো-আপ প্রয়োজন হবে। তিনি জানান, ইনস্টিটিউটে মোট ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং রহিম তাদের মধ্যে সর্বশেষ রিলিজ পাওয়া রোগী। তিনি চিকিৎসা দলের, নার্সদের ও অন্যান্য কর্মীদের আত্মনিয়োগী ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান—অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এই চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করেছে, ফলে হাসপাতাল বাইরে থেকে সরাসরি আর্থিক অনুদান নেয়া হয়নি।

    অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ড্রেসিং মٹریয়াল ব্যবহার করতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ঘটনার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য উন্নত মানের উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা মন্ত্রণালয়ের কাছে বলা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদেরও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশ্বাস দেন যে চিকিৎসা সেবা না থেমে প্রয়োজনীয় সমস্ত থেরাপি ও সাপোর্ট দেওয়া হবে।

    আবিদের বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছেলেকে ছয় মাস চিকিৎসার পর বাড়ি পাচ্ছি—এ কথাটি ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল। ছেলে বলেছে, ‘আজকে আমার ঈদের মতো লাগছে।’ তিনি হাসপাতাল স্টাফদের সহনশীলতা ও যত্নের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সরকারের কাছে তিনি আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে বলেন, ঘোষিত ক্ষতিপূরণ এখনও পুরোপুরি পাওয়া যায়নি এবং ভবিষ্যতে প্রচুর চিকিৎসা ব্যয় ভুগতে হতে পারে, যার দায়িত্ব তারা একা বহন করতে পারবেন না।

    সংবাদ সম্মেলনে আবিদ আবদারভাবে বলেন, ‘আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি’—এই কথাই বলে তিনি কেঁদে ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর পড়ে বিধ্বস্ত হলে জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জন মারা যান এবং অসংখ্য আহতের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন চিকিৎসা নেন। ইনস্টিটিউট বলেছে, যারা ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়েছেন তাদেরও অন্তত দুই বছর নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলো-আপ প্রয়োজন হবে।