Blog

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালী দিনের খ্যাতিমান নায়ক ও উজ্জ্বল নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলেও নির্মাণশিল্পের আকর্ষণে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনেই স্থায়ী হন।

    জানি গেছে, দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকা এই শিল্পী আরও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সংবাদমাধ্যমকে জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। দীর্ঘ দিনের চিকিৎসাসেবা মূলত বাসাতেই চলছিল; হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও নার্সরা বাড়িতে এসে দেখাশোনা করতেন। আজ সকালে দুই নার্স এসে জানান, তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জ্যেষ্ঠ এই অভিনেতার সিনেমাজীবন শুরু হয় নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে; পরে নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালের উর্দু চিত্রনাট্য ‘নয়ী জিন্দেগি’তে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিষেক হলেও ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার বিপরীতে শাবানার সঙ্গে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    তার পর থেকেই একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে স্থায়ী স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম ছিলেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ ছিল পর্দার প্রাণবন্ত নাচ আর তীক্ষ্ণ অ্যাকশনের এক অনন্য মিশ্রণ। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। দীর্ঘদিন নীরবে চিকিৎসা নিয়ে থাকা এই গুণী শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধানাজ্ঞা ও সমবেদনা।

  • ফ্ল্যাটের পাশাপাশি নগদও: ওসমান হাদির পরিবার পাচ্ছে মোট ২ কোটি টাকা

    ফ্ল্যাটের পাশাপাশি নগদও: ওসমান হাদির পরিবার পাচ্ছে মোট ২ কোটি টাকা

    সরকার শহীদ শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে জীবিকা ও বাসস্থানের সহায়তার জন্য মোট দুই কোটি টাকা দেবে। এর মধ্যে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য আলাদাভাবে নগদ এক কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার নয়—বৈঠকে—আজ (বুধবার) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জীবনযাপনের খরচ হিসেবে আলাদাভাবে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। ফলত পরিবারের মোট সহায়তা দুই কোটি টাকা হবে।

    ফ্ল্যাটটি ঢাকার লালমাটিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত ‘দোয়েল টাওয়ার’ সম্মিলিত আবাসিক ভবনে ১ হাজার ২১৫ বর্গফুটের একটি ইউনিট। এ ফ্ল্যাট কেনার জন্য অনুদান অনুমোদনের নথিপত্র অর্থ বিভাগের তরফ থেকে গতকাল মঙ্গলবার অনুমোদন করা হয়। সূত্র জানান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ অনুদানের জন্য আবেদন করা হয়েছিল এবং অর্থ বিভাগ স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয় নিশ্চিত করার শর্তে আবেদন মঞ্জুর করেছে।

    পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী ঘটনার প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। গণপ্রতিরোধ চিত্রে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরপরই ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে অস্ত্রোপচার করা হয়; পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানকার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে নয়টায় তিনি মারা যান।

    ওসমান হাদির হত্যার মূল অভিযুক্ত ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম বর্তমানে ভারতে পালিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছিলেন যে রাষ্ট্র তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব নেবে এবং ঘটনার পরে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।

    এদিকে ওই পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি খবর—শহীদ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদি ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ উচ্চকমিশনের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে করা হয়।

  • মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল আবিদুর রহিম

    মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল আবিদুর রহিম

    রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ক্ষতিগ্রস্ত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবিদুর রহিম (১২) শেষ পর্যন্ত ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

    প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনার দিন ২১ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত আবিদ এখানে চিকিৎসাধীন ছিল—মোট ছয় মাস বা প্রায় ১৮০ দিন। ওই সময়ে তাদের ইনস্টিটিউটে মোট ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আবিদ ছিল তাদের মধ্যে সর্বশেষ রোগী। তার দেহের প্রায় ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আঘাতের সঙ্গে ইনহেলেশন বার্ন, মুখ পুড়ে যাওয়া এবং দুই হাত জঘন্যভাবে পোড়ার মতো জটিলতা ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসরুমের সামনের সারির পাশে ছিল।

    অধ্যাপক নাসির জানান, আবিদের অবস্থার তীব্রতা দেখে প্রথমে তাকে পাঁচ দিন আইসিইউতে রাখা হয় এবং এরপর ছয় দিন হাইডি-পেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসা চালানো হয়। মোট ১৭২ দিন কেবিনে থাকার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে তিনি ছাড়পত্রের যোগ্য হন। দুই হাতে গুরুতর ক্ষতির কারণে তাকে ফ্যাসেকটমি করা হয়েছিল—চামড়া কেটে বিভিন্ন শল্যচিকিৎসা করে হাত রক্ষা করা হয়। পুরো চিকিৎসার সময় তার শরীরে মোট ৩৫টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে; ছোট ধরনের অপারেশন ছিল ২৩টি এবং চামড়া লাগানো হয়েছে ১০বার। মূলত মুখ ও হাতের ফ্ল্যাপ কাভারেজ করা হয়েছে।

    দীর্ঘ সময় হাসপাতালের শয্যায় থাকার কারণে সূর্যালোক ও বাড়ির পরিবেশ থেকে দূরে থাকায় শরীরে বিভিন্ন গ্রাফিক্যাল ও শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল; সেগুলো কাটাতে এখন নিয়মিত থেরাপি প্রয়োজন। সঠিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি চেষ্টা করছে যেন আত্মীয়-পরিজনদের কাছে ফিরলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও থেরাপি নেওয়া চালিয়ে যেতে পারে।

    পরিচালক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আজ আমাদের আনন্দের দিন—আবিদ আজ বাড়ি যাচ্ছে। এই চিকিৎসায় যারা সহযোগিতা করেছেন—চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারী—তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। অনেক সময় আমাদের ডিউটির সীমা ছিল না, সবাই স্বপ্রণোদিত ভাবে কাজ করেছেন। পরিবারের পক্ষেও অনেক ত্যাগ সহ্য করা হয়েছে; তাদের সহযোগিতাও ছিল অভিনন্দনীয়।” তিনি জানান, সরকার এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করার নির্দেশ থাকার কারণে হাসপাতাল কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান নেয়নি।

    অধ্যাপক নাসির আরও বলেন, মাইলস্টোন ঘটনার মতো বড় বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ড্রেসিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা গেছে। ভবিষ্যতে এমন মানসম্পন্ন চিকিৎসা সরবরাহে প্রস্তুত থাকতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। তিনি জানান, যারা এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন তাদের অন্তত দুই বছরেরও বেশি সময় নিয়মিত ফলো-আপে থাকতে হতে পারে; এজন্য একটি বিশেষ সেলও খোলা হয়েছে যেন চিকিৎসার যেকোনো সমস্যা থাকলে সমাধান দেওয়া যায়।

    আবিদুর রহিমের বাবা আবুল কালাম আজাদ আবেগভরে বলেন, “আমার ছেলে আজ ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছে—এটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, ‘আজ কেমন লাগছে?’ সে বলল, ‘বাবা, আজ আমার ঈদের মত লাগছে।’ চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগিতায় আমি অভিভূত।” তিনি আরও জানান, ছেলেটি কৃতিষ্ঠভাবে বিশেষ এক চিকিৎসককে ‘অদ্ভুত ডাক্তার’ হিসেবে ডাকত—তার নাম ফোনে সেইভাবেই সেভ আছে।

    আবু কালাম সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আহত ও নিহতদের জন্য যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল তা এখনও ঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। ছেলেকে বাড়ি পাঠানোর পরে আরও অনেক চিকিৎসা-বিকল্প অপেক্ষা করছে, যেগুলোর ব্যয় পরিবার বহন করতে পারবে না—সেজন্য তিনি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পুনঃনির্ধারণের আবেদন জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে আবিদ নিজেও কথা বলার চেষ্টা করেন; “আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি” বলে কেঁদে পড়েন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে অনেকে আহত হন—জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৬ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

  • মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    রাজধানীর মিরপুর পীরেরबাগে জামায়াতের নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া হেনস্তা ও হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তিনি বলেন, এখন মানুষ অনেক বেশি সচেতন; মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিনের শেষ হয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি কাউকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে দেখা যায়, সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানান। তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কোনো ব্যক্তি বা কোনো দলের অধিকার নেই বনেদি বা অরাজক মব সৃষ্টি করার। জামায়াত নোংরা মব ও সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানায় এবং এমন ঘটনার স্থায়ী সমাধান চাইছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা চাই এই মব-ঘটনাই এখানেই শেষ হয়ে যাক। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতেই পারে, তবে সেটাকে শান্তিপূর্ণ ও আইনি পথে রাখতে হবে। সবাই জনগণের কাছে যাবে, নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবে এবং দলীয় অঙ্গীকারগুলো সামনে তুলে ধরবে। তারপর জনগণ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে কাদের ওপর আস্থা রাখবে।

    জামায়াত আমির বলেন, তাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট: তারা দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে চায় যেখানে কোনোভাবে ফ্যাসিজম ফিরে আসবে না। ঠিক এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা পরপর দু’টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান ৩শ’ আসনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদেরও সংবর্ধনা জানিয়ে বলেন, জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখুন এবং ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করুন যাতে ভোটাররা নিজের পছন্দমতো প্রতীক চিহ্নিত কাগজে ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে বাক্সে পৌঁছে দিতে পারে।

  • ঢাকা-১৭: তারেক রহমানের পক্ষে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ

    ঢাকা-১৭: তারেক রহমানের পক্ষে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধানের শীষ প্রতীকের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ধানশীষ প্রতীকের সম্পর্কিত চিঠি তারেক রহমানের পক্ষে গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, বিভাগীয় কমিশনার তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন।

    প্রতীক পেয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, বিভাগীয় কমিশনার সব প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে বলেছেন। তিনি আরও বলেন, যুবকদের থেকে শুরু করে সব শ্রেণির ভোটাররা তারেক রহমানকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে।

    এদিন ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জমান ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক পেয়েছেন।

    নির্বাচন কমিশন বুধবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতীকপ্রাপ্ত প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।

    ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এক দিনেই পৃথক ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

  • প্রতি ভরিতে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ: ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    প্রতি ভরিতে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ: ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছে — প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বর্ষায় পৌঁছেছে। ফলস্বরূপ সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দাম বেড়ে গিয়ে এক ভরিতে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায়।

    বাজুস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানিয়েছেন, নতুন দাম ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দর সম্পর্কিত চিকিৎসিত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪৭৪৫ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এইভাবে — ২২ ক্যারেটের একটি ভরির দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    রূপার দামও একই সঙ্গে বেড়েছে। নতুন হিসেবে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বাজার ও গ্রাহকদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে বাজার পূর্ণদৃষ্টি রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

  • কাস্টমস ডিউটি কমল, মোবাইল ফোনের দামও কমার সম্ভাবনা

    কাস্টমস ডিউটি কমল, মোবাইল ফোনের দামও কমার সম্ভাবনা

    গ্রাহক এবং দেশীয় উৎপাদকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় মোবাইল সংযোজনকারীদের জন্য উপকরণ আমদানির শুল্কও ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

    এনবিআর ওই সংশোধনী সম্পর্কিত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জারি করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ জানিয়েছেন।

    এনবিআর জানিয়েছে, মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান শুল্ক ২৫% থেকে ১০% হওয়ায় ওই শুল্কে মোট ৬০ শতাংশ হ্রাস এসেছে। একইভাবে মোবাইল ফোন সংযোজনকারীদের উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ১০% থেকে ৫% হওয়ায় সেখানে প্রযোজ্য শুল্ক ৫০ শতাংশ কমেছে।

    এই শুল্ক হ্রাস বাস্তবায়িত হলে বাজারে প্রভাব পড়ার হিসাব অনুযায়ী, ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যবাহী সম্পূর্ণ আমদানি করা প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫,৫০০ টাকা কমতে পারে। আর ৩০ হাজার টাকার ওপরে দেশের মধ্যে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত কমবে বলে এনবিআর জানিয়েছে।

    সরকার আশা করছে, আমদানি ও সংযোজনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য শুল্ক হ্রাসের ফলে সব ধরণের মোবাইল ফোনে মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহন আরও সহজ হবে। এছাড়া স্থানীয় মোবাইল সংযোজন শিল্পও বিরূপ প্রতিযোগিতা থেকে মুক্ত থাকবে।

    এনবিআর জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও মোবাইল ফোনের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

  • ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু — যে বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে; খবরটি প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরা।

    ট্রাম্প এই বোর্ডের আজীবন বা অনির্দিষ্টকালের চেয়ারম্যান থাকবেন বলে জানা গেছে। তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এই স্থানে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, যেসব দেশ এক বিলিয়ন ডলার করে দেবে তারা বোর্ডের আজীবন সদস্য হয়ে উঠতে পারবে।

    একাধিক কূটনীতিক সতর্ক করেছেন যে ট্রাম্পের এই প্রতিষ্ঠান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে; ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, বোর্ডটি হয়ত ভবিষ্যতে জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করবে। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, বেলারুস, হাঙ্গারি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভিয়েতনাম বোর্ডে যোগ দিয়েছে; সর্বশেষ সদস্য হিসেবে এতে যুক্ত হলো ইসরায়েল।

    এ সময় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যাদের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তারা যদি ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’-এ জায়গা পায়, তাহলে ওই সংস্থার নৈতিকতা ও বিশ্বসাম্য কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় গণহত্যার অভিযোগে কয়েকদিন আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি, গত বছরের নভেম্বরে তুরস্কও গাজায় গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের কয়েকজন শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

    এসব অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ট্রাম্পের বোর্ডে নেতানিয়াহুর অন্তর্ভুক্তি বিতর্ক ও সমালোচনার নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে।

  • ট্রাম্পের ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি

    ট্রাম্পের ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কাবাস দিয়ে বলেছেন, যদি তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত থাকে তবে ওই দেশকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। এই মন্তব্যের বিবরণ প্রথম দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য হিলে।

    ট্রাম্প মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউজ নেশনের ‘কেটি প্যাভলিচ টুনাইট’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কেটি প্যাভলিচের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, “তারা এমন কিছু করার চেষ্টা করলে তাদের উচিত নয়। আমি আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি—আমার সঙ্গে যদি কিছু ঘটে, তাহলে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে।”

    তিনি জানান, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় জো বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যার হুমকি সম্পর্কে ব্রিফ করেছিলেন।

    এর আগে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড জানিয়েছেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্রের পেছনে ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা জড়িত থাকতে পারে। সোলাইমানিকে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে নিহত করা হয়েছিল।

    ট্রাম্প এই বিষয়ে আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা উচিত ছিল এবং প্রয়োজনে সাবেক ও বর্তমান নেতারা একে অপরকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে পারেন। তিনি বারবার বলছেন: “আমার স্পষ্ট নির্দেশনা আছে—যদি কিছু ঘটে, তারা পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে।”

    ট্রাম্প পূর্বেও জানিয়েছিলেন যে, যদি ইরান তার হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ এবং কূটনৈতিক সংযোগ রাখার বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন।

    একই সময় ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন হাজারের বেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়েও ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এধরণের হত্যা বা প্রদর্শনকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে জবাব দিতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে জানানো হয়েছে যে এসব হত্যাকাণ্ড আপাতত বন্ধ রয়েছে।

    অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশটির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘গ্রাস’ করতে চায়।

    খামেনি বলেছেন, তারা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায় না, কিন্তু অভ্যন্তরীণ অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং আন্তর্জাতিকভাবে যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত—তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।

    এইভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চস্বর হুঁশিয়ারি ও পাল্টাপাল্টি অভিযুক্তি চলায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • যশোরে ছয় আসনে প্রতীক বরাদ্দ, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো প্রচারণা

    যশোরে ছয় আসনে প্রতীক বরাদ্দ, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো প্রচারণা

    যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্তভাবে ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রার্থীদের হাতে তাদের প্রতীক তুলে দেন। প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে যশোরে নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু হয়।

    যশোর-১ (শার্শা) আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজিজুর রহমান পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল পেয়েছেন লাঙ্গল, বিএনপি’র নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ধানের শীষ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বকতিয়ার রহমান পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।

    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন ফরিদ পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী পেয়েছেন হাতপাখা, বাসদের ইমরান খান পেয়েছেন মই, বিএনএফের শামসুল হক পেয়েছেন টেলিভিশন এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদ পেয়েছেন ঈগল প্রতীক। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম পেয়েছেন ঘোড়া এবং মেহেদী হাসান পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। যদিও জহুরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান তিনি প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেননি।

    যশোর-৩ (সদর) আসনে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বী। বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন পেয়েছেন হাতপাখা, জামায়াতের আব্দুল কাদের পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির খবির গাজী পেয়েছেন লাঙ্গল, জাগপা’র নিজামুদ্দিন অমিত পেয়েছেন চশমা এবং সিপিবির রাশেদ খান পেয়েছেন কাস্তে প্রতীক।

    যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে সাতজন প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র এম. নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ পেয়েছেন মোটরসাইকেল, ইসলামী আন্দোলনের বায়েজীদ হোসাইন পেয়েছেন হাতপাখা, বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজি পেয়েছেন ধানের শীষ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী দেওয়াল পেয়েছেন ঘড়ি, জামায়াতের গোলাম রসুল পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক পেয়েছেন লাঙ্গল এবং বিএমজেপির সুকৃতি কুমার মণ্ডল পেয়েছেন রকেট প্রতীক।

    যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী—জাতীয় পার্টির এম এ হালিম পেয়েছেন লাঙ্গল, জামায়াতের গাজী এনামুল হক পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন হাতপাখা, বিএনপির রশীদ আহমাদ পেয়েছেন ধানের শীষ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন পেয়েছেন কলস প্রতীক।

    যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন—জাতীয় পার্টির জিএম হাসান লাঙ্গল, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান ঈগল, জামায়াতের মোক্তার আলী দাঁড়িপাল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।

    প্রতীক বরাদ্দ শেষে বক্তব্য رکھنے গিয়ে যশোর জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুক হক সাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছে। গত ১৬ বছরে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংসের শিকার হয়—তবে 이번 নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মতামতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটবে এবং বিএনপি প্রার্থীরা ধানের শীষ নিয়ে সাফল্য অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সংগঠনের বাইরে থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। সিপিবি’র যশোর-৩ (সদর) প্রার্থী রাশেদ খান অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় স্পষ্ট নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার ও বড় ব্যানার এখনো যানবাহনে এবং প্রত্যন্ত এলাকায় দেখা যাচ্ছে; কিছু ক্ষেত্রে সমর্থকরা জুমার নামাজকেও ভোট প্ররোচনায় ব্যবহার করছে—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজর প্রয়োজন। যশোর-২-এর বাসদ প্রার্থী ইমরান খান বলেন, রাতের ভোট, ডামি ভোট ও ভোট কেড়ে নেওয়ার মেলামেশা থেকে বের হতে হলে প্রশাসনকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে; ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পরও অবৈধ অস্ত্র ও অর্থের প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে, তাই সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।

    জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রতিকীপ বরাদ্দকালে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালাতে সকলের প্রতি নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, যশোরের ছয় আসনে মোট ৩৫ জনকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কার্যক্রমে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব উপস্থিত ছিলেন।