বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি তাদের দলীয় লোগো পুনঃনির্মাণের উদ্যোগের দিকে এগিয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে কিছু নতুন নকশার লোগো তৈরি হয়েছে, এবং শীঘ্রই এই নকশাগুলোর মধ্যে থেকে চূড়ান্ত ডিজাইন নির্বাচন করা হবে। মূলত রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা কার্যালয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে নতুন লোগো দেখা যায়। সেখানে দেখা যায়, সবুজ পতাকার কেন্দ্রে বই এবং উদীয়মান সূর্য; তার ওপরে কলমের ছবি। এই কলমটি দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র দণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এটি মূলত একটি প্রস্তাবিত লোগো, যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিগগিরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এর আগে ২০১৬ সালে জামায়াত তাদের লোগো পরিবর্তন করেছিল। তখনকার নতুন লোগোতে ছিল একটি গম্বুজের কাঠামো, যার ভিতরে ছিল ‘আল্লাহ’ লেখা। গম্বুজের মাঝখানে ছিল দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’, আর নিচে লেখা ছিল ‘আকিমুদ দ্বীন’ (দ্বীন কায়েম কর)।
Blog
-

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের পরামর্শ
সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য পুলিশের তরফ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আর্চওয়ে গেটের স্থাপন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থা করতে এবং ব্যাগ বা থলেহরি প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পূজা চলাকালে যাতে কেউ আতশবাজি বা পটকা ফোটাতে না পারে, সেজন্য সতর্ক করা হয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
চুরি, অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, র্যাব ও অন্যান্য সংস্থার কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগ নম্বরগুলো ব্যাপকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি), ঢাকেশ্বরী মন্দিরের, র্যাবের এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলো নাগরিকরা সংগ্রহ করতে পারেন।
আরো জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োগ করা হবে, যারা আলাদা পোশাক ও পরিচয়পত্র থেকে ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্মব্যান্ড পরে দায়িত্ব পালন করবেন। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর বা লাইটের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
সবশেষে, দুঘর্টনা এড়ানোর জন্য পুলিশ মান্য করে চলতে উৎসাহিত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সব ধরনের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টা কল করে নিন দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য উল্লেখযোগ্য জরুরি নম্বরগুলো থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
-

ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৪ অক্টোবর
আগামী ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে গঠিত মামলার অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই মামলায় অভিযোগ দাখিলের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ও শুনানি হওয়ার মত দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার, ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্যান্য সদস্যরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের শুনানির পর আদালত অভিযোগ গঠনের জন্য এক সপ্তাহের সময় চান। ইনুর পক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহার আরও দুদিন সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে আদালত ১৪ অক্টোবরের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে, ২৫ সেপ্টেম্বর ইনুকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই দিন, প্রসিকিউশন জুলাই-আগস্টে జరిగిన আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনের মৃত্যু ও অন্য ব্যক্তিদের আহতের ঘটনায় সহযোগিতাসহ আটটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগ শুনানির পর আদালত তা গ্রহণ করে এবং ইনুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করে।
গত বছরের ২৬ আগস্ট উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই नेता দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও কুষ্টিয়ার নিজ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত ও অনেকে আহত হন। এ ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হয়। তদন্তের পর প্রসিকিউশন অভিযোগ দাখিল করেন।
-

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন: ভারতের প্রভাব ও ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্রে পাহাড়ে অপরাধ রোধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি
খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারত ও প্ররটিতন্ত্রের ইন্ধনে পাহাড়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না। এজন্য তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রমনা গণপূর্ত ভবনে ডিএমপি’র পাঁচটি থানার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ সব কথা বলেন। নির্দিষ্ট করে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কিছু মহল পার্বত্য এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। খাগড়াছড়ি ও আশপাশের অঞ্চলে এখনও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। এই সময়ে দেশে মহান ধর্মীয় উৎসব চলছে, যা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হচ্ছে। তবে কিছু তথাকথিত চক্রান্তকারী মহল এই উৎসবের বিষয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এর সাথে আরও জানা যায় যে, পার্বত্য অঞ্চলে অস্ত্র ও অর্থের যোগান অন্য দেশের কাছ থেকে পৌঁছানো হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত ও কথিত ফ্যাসিস্ট শক্তির ষড়যন্ত্রের কারণে পাহাড়ে অঘটন এড়ানোর জন্য তারা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু সন্ত্রাসী পাহাড়ের ওপরে গুলি চালাচ্ছে এবং এই অস্ত্রগুলো বাইরে থেকে আসছে। তিনি দেশের নাম প্রকাশ করতে চাননি, তবে জানান, সেই দেশের নাম সাংবাদিকরা বলেছেন। এ সমস্ত অপপ্রচণ্ড প্রতিহত করতে সরকারের সবাইকে সহযোগিতা দরকার। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, দুর্গাপূজার সময় কেউ যেন কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বা রাস্তাবন্ধ করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, تا সবাই শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উপভোগ করতে পারেন। এই জন্য সরকারি এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা।
-

যুক্তরাজ্যের চাওয়া বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন
ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেছেন, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ হবে। আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের Brady জানাতে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকের সময়ে যখন অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, হাইকমিশনার সরাসরি বললেন, ‘আমি আর কোনো কথা বলবো না। যেমনটা আমি আগেও বলেছি, যুক্তরাজ্য আগামী বছর বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায়।’ জরুরি না হলে তিনি জানালেন না যেন অতিরিক্ত কিছু বলেন।
আগে গত ১০ মার্চও সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে সারাহ কুক জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হতে চায় যুক্তরাজ্য। সেই সময় বলেছিলেন, গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনও যেন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হয়।
বৈঠক শেষে সারাহ কুক বলেন, ‘সিইসির সঙ্গে খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমি নিয়ে আসা আপডেট অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের সমর্থন আবারো ব্যক্ত করেছে।’
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন এবং অস্থায়ী সরকারকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাজ্য প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে দেশের দুর্বল গোষ্ঠীগুলোর জন্য শিক্ষামূলক প্রকল্প ও পোলিং কর্মীদের প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
সারাহ কুক বলেন, ‘আজকের আলোচনায় আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’
-

জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি মহাসচিব গ্রেফতার
ঢাকায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে হোটেল ওয়েস্টিনের সামনে থেকে জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি শাখার মহাসচিব কাজী মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের একটি মামলা রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারের পতন ঘটানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত আছেন। বিশেষ করে জানা গেছে, তিনি ষড়যন্ত্রকারী এনায়েত করিম চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
গত বছর ৪ নভেম্বর কাজী মামুনুর রশিদকে একটি ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিলো। পরে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। এছাড়া, জুলাইয়ে আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার জন্য আরও একাধিক মামলা চলছে।
বর্তমানে, জাতীয় পার্টি তিনটি শাখায় বিভক্ত। এর মধ্যে একটি শাখার চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। অন্য শাখার নেতৃত্বে আছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। আর তৃতীয় শাখার চেয়ারম্যান হচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ও মহাসচিব কাজী মামুনুর রশিদ।
এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও চাপ, যার প্রভাব পড়ছে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। এরই মধ্যে দলটির পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। তিন শাখায় বিভক্ত থাকার কারণে নির্বাচনী প্রতীক লাঙল নিয়েও বিভিন্ন ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
-

ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ালেন ভারতের অভিনেতা প্রকাশ রাজ
ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ ফিলিস্তিনে চলমান নৃশংসতার প্রতিরোধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি এই বর্বরতার জন্য ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সমালোচনার মুখে ফেলেছেন।
তথ্যসূত্র মতে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের ওই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকরা অংশ নেন।
অভিনেতা প্রকাশ রাজের পাশাপাশি এই আন্দোলনে যোগ দেন তাঁর সহঅভিনেতা সত্যরাজ এবং বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ভেত্রিমারনসহ আরও কয়েকজন নেতা ও সমাজেরজন।
প্রতিবাদে বক্তারা বলেন, যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা কারো কাছে রাজনীতি হয়, তাহলে আমি স্বীকার করব, হ্যাঁ, এটি সত্যিই রাজনীতি। যুদ্ধের শেষে নেতারা হাত মেলাবেন, কটাক্ষবিহীন শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে এর মাঝেই একজন মা তার ছেলের জন্য, স্ত্রী তার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করবেন, আর শিশুরা তাদের বাবার ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করবে। এটাই প্রকৃত সত্য।
প্রকাশ রাজ ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, ফিলিস্তিনে যে অবিচার ও হত্যাকাণ্ড চলছে, তার জন্য শুধু ইসরায়েলই নয়, বরং আমেরিকা ও ভারতের নীরবতাও অত্যন্ত দায়ী। তিনি এটাই স্পষ্ট করে বলেন যে, মোদির নীরবতা এই অন্যায়ের জন্য সমানভাবে দায়ী।
অভিনেতা সত্যরাজ গাজায় চলমান হত্যাকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও অমানবিক বলে নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘কীভাবে গাজায় এত বড় বোমা হামলা চালানো হয়? মানবতার জন্য এতো বড় ধাক্কা? এই ধরনের নৃশংসতা দেখে কি করে কেউ শান্তিতে শুলো?’
অন্যদিকে, চলচ্চিত্র নির্মাতা ভেত্রিমারন এই ফিলিস্তিনের আগ্রাসনকে পরিকল্পিত গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বললেন, ‘গাজায় শুধু প্রতিবেশী এলাকা নয়, স্কুল ও হাসপাতালও মারাত্মকভাবে লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। জলাপাই গাছ এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য সম্পদ ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। এটি শুধু একটি সংঘর্ষ নয়, সম্পূর্ণ মানবতা বিরোধী অপরাধ।’
-

সালমানকে ‘নোংরা বাবার নোংরা ছেলে’ বলে তোপ পরিচালকের
বলিউডের megastar সালমান খানকে কেন্দ্র করে আবারও মুখ খুললেন জনপ্রিয় পরিচালক অভিনেতাব কাশ্যপ। কিছু দিন আগে তিনি তার বিস্ফোরক মন্তব্যে সালমান ও তাঁর পরিবারের ব্যাপারে কথা বলেছিলেন, এবারও একই ধরনের সমালোচনা করেছেন।
অভিনব কাশ্যপের তোলা অভিযোগ, সালমানের বাবা সেলিম খানকে বলিউডের শীর্ষ চিত্রনাট্যকার বলা যায় না। তার মতে, সেলিম খান নিজের প্রভাব খাটিয়ে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। এই মন্তব্যের পর তিনি কড়া ভাষায় সালমানকেও সমালোচনা করেন। তার কথায়, ‘সালমানও বাবার মতো প্রভাব খাটিয়ে টিকে আছেন, তবে তাকে সুপারস্টার বলা বিভ্রাট। সে হচ্ছে নোংরা বাবার নোংরা ছেলে, ফুটপাতে বড় হওয়া। এই রুচির কারণেই তাঁর এই আচার-আচরণ।’
অভিনব আরও জানান, সাইয়ারা সিনেমায় নবাগত অভিনেতা আহান পাণ্ডের পারফরম্যান্স দেখে সালমান ক্ষুব্ধ হয়েছেন, হিংসা করেছেন।
এই ক্ষোভের পেছনে তার ব্যক্তিগত কিছু কারণও রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘দাবাং’ ছবির সিক্যুয়েল নির্মাণের সময় তার অনুমতি নেওয়া হয়নি। আরও বলেন, সম্প্রতি তার প্রথম সারির একটি চ্যানেলের সিরিজ পরিচালনার দায়িত্ব থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা তিনি মনে করেন সালমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হয়েছে। এই সব কিছু মিলিয়ে অভিনব কাশ্যপের মনোভাব স্পষ্ট, তিনি এখনো বলিউডের বেশ কিছু কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট ও বিতর্কে আছেন।
-

বিতর্কের কারণে মন্দোদরীর চরিত্র থেকে বাদ পুনম
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লির ‘লব কুশ রামলীলা কমিটি’ আজ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী অভিনেত্রী পূনম পাণ্ডেকে রামলীলা অনুষ্ঠানে মন্দোদরীর চরিত্রে অভিনয় থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই বছরের রামলীলা উৎসবে প্রথমের পরিকল্পনা ছিল, জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী পূনমকে রাবণের স্ত্রীর ভূমিকায় নেওয়ার। তবে কিছু গোষ্ঠীর আপত্তির কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘একজন শিল্পীর পরিচয় তার কাজের মধ্যেই। অতীতের কোনও বিষয় দিয়ে কারও বিচার করা উচিত নয়। তবে সমাজের আবেগ ও ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তারা আরও যোগ করেন, ‘প্রতিটি নারীরই সমাজে অবদান রয়েছে। তাকে অপমান করার কোনও স্থান নেই। প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম, পূনম এই চরিত্রটি ভালোভাবে প্রতিফলিত করতে পারবেন। কিন্তু অনেক গোষ্ঠীর উষ্মার প্রতিক্রিয়া দেখে ভাবনা পরিবর্তন করতে হয়েছে।’অভিনেত্রী হিসেবে পূনমকে সম্মান জানিয়ে অন্য কাউকে এই চরিত্রে ভাবা হচ্ছিল। আয়োজকদের বক্তব্য, রামচন্দ্রের কাহিনি ও সবার মধ্যে মৈত্রীর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। তারা কোনও বিতর্ক চাচ্ছেন না। এই ‘লব কুশ রামলীলা’ অনুষ্ঠানটি প্রতি বছর দিল্লিতে ব্যাপক উৎসাহ ও উৎসবের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। ইতিপূর্বে বিভিন্ন অভিনেতা ও অভিনেত্রীর মাধ্যমে নানা চরিত্র উপস্থাপন করেছেন তারা। পূনমকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে দিল্লির বিজেপি দলও সমর্থন দিয়েছে।
-

অভিনয়ের প্রলোভনে গণধর্ষণের অভিযোগ, নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলা
গাজীপুরের শ্রীপুরে অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভিনেত্রী তাছলিমা খাতুন আয়েশার ওপর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নাট্যনির্মাতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ মাসুদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আয়েশা। ঘটনাটি ঘটে শ্রীপুরের একটি রিসোর্টে, যেখানে তাকে অজান্তে নিয়ে গিয়ে নির্মাতা ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে গণধর্ষণ করেন।
আয়েশা জানিয়েছেন, প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে পূবাইলে শুটিং চলাকালে নির্মাতা তিনি তাঁর মোবাইল নম্বর নেন। এরপর থেকে নিয়মিত ফোন করে যোগাযোগ চালিয়ে যান। একদিন শুটিংয়ের নাম করে তাকে গভীর রাতে গাজীপুরের রিসোর্টে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর, মাতলামি ও মাদকের ঘোরে থাকা নির্মাতা মাসুদ এবং তার সহযোগী বাবর তাকে অজান্তে ধর্ষণ করেন। এরপর রিসোর্টের এক অন্য ব্যক্তির সহযোগিতায় তৃতীয়বারের মতো তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। আক্রান্তের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে বাবর তার মোবাইল আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স ফটো ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়।
তাছলিমা জানান, ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৩:৩০টায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে চিকিৎসা নেন এবং এক পর্যায়ে গর্জর অভিযোগ দায়ের করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বললেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে রিসোর্টের ভেতরে প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। যদি প্রমাণ proves হয়, তবে শুধু অভিযুক্তরাই নয়, রিসোর্টের গাফিলতিও খতিয়ে দেখা হবে।’
এদিকে, রিসোর্টের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে প্রতেষ্টিত হলে তারা নিজেদেরকে ‘থার্ড পার্টি’ হিসেবে দাবি করেন। তারা জানান, ‘আমরা শুধু বুকিং দিই; এমন ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।’
অন্যদিকে, অভিযুক্ত নির্মাতা নাসিরউদ্দিন মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
