Blog

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের স্বর্ণযুগের পরিচিত নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে সংগ্রামের পর ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস—পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে তিনি ইলিয়াস জাভেদ নামে পরিচিত হন। পরিবারসহ প্রথম পাঞ্জাবে বসবাস করলেও পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন।

    জানা গেছে, দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। পাশাপাশি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছরের এপ্রিল মাসে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছিলেন; চিকিৎসক ও দুই নার্স বাড়িতে এসে নিয়মিত তত্ত্বাবধানে ছিলেন। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমाध্যকে বলেছেন, “আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থা হঠাৎ করেই খারাপ হয়। দুই নার্স এসে জানিয়েছিলেন তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। পরে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

    অভিনয় জীবনের শুরুটা তিনি করেন নৃত্য পরিচালনা থেকে। নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে ১৯৬৪ সালের উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে। তবে প্রকৃত সাফল্য আসে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে, যেখানে তিনি কিংবদন্তি নায়িকা শাবানার বিপরীতে ছিলেন। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন।

    এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি দিয়ে দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন—বিশেষ করে তাঁর ঝাঁঝালো নাচ ও একগুচ্ছ অ্যাকশন দৃশ্যে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। ব্যক্তিজীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিখ্যাত নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জীবনে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    সত্তুর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ মানে পর্দা কাঁপানো নাচ আর তীব্র এক অ্যাকশনের মিলিত ছাপ। তার প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।

    জাভেদ অভিনীত নজরকাড়া কিছু চলচ্চিত্র: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী, আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গন শোকাহত; পরিবার, পরিজন ও ভক্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা।

  • ওশিওয়ারায় গুলিবর্ষণের অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলিবর্ষণের অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান (পরিচিতি: কেআরকে)কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের দিকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতেই মুম্বাই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহজনকতার কারণে কেআরকে-কে বিরতিহীনভাবে জিজ্ঞাসাবাদে নেয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেছেন যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সকৃত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তিনি পুলিশের কাছে বলেছিলেন, কাউকে আঘাত করার অভিপ্রায় তার ছিল না। নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করতে তিনি বাড়ির সামনে থাকা ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের দিকে পরীক্ষা হিসেবে গুলি ছোড়েন। বাতাসের গতি ও লক্ষ্যভ্রষ্টতার কারণে গুলিগুলো পাশের আবাসিক ভবনে গিয়ে লাগে।

    পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর আহত বা বড় ধরণের ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; তবে নির্বিচার গুলিবর্ষণকে সিরিয়াস অপরাধ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরও তদন্ত চালানো হবে এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে গঠনমূলক প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।

    কামাল আর খান বলিউডে এক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে তাকে একটি যৌন হেনস্তার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং সামাজিক মাধ্যমে তার কটাক্ষাত্মক, উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে চলতি ঘটনার অনুসন্ধান ও আদালতের কার্যক্রম নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড়, বাংলাদেশের পুনঃপ্রবেশের সম্ভাবনা

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড়, বাংলাদেশের পুনঃপ্রবেশের সম্ভাবনা

    আইসিসি এবং এশিয়া কাপ নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা সবসময়ই চলে আসছে। তবে বর্তমানে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যে নাটক চলছে, তা সত্যিই চমকপ্রদ। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পরে এবার আইসিসি আবার তাদের ফিরে আনার কথা ভাবছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে তার পরিবর্তে বাংলাদেশকে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। আইসিসির এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান না খেললে বাংলাদেশকে ‘এ’ গ্রুপে রাখা হতে পারে এবং সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে আয়োজনের ঝামেলা কম হবে, যা বিসিবি মূলত চাচ্ছে। এর আগে, ২৪ জানুয়ারি আইসিসি বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডের নাম দিয়ে নতুন সূচি প্রকাশ করে। একই দিনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসি অন্যায় করেছে। বাংলাদেশ তা চেয়েছিল যে, তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ দিতে, কিন্তু আইসিসি সেটিতে রাজি হয়নি। এই সিদ্ধান্তের কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যায়। বাংলাদেশ বাদ যাওয়ার দিনই মহসিন নাকভি মন্তব্য করেন, যদি পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে তারা হয়তো শুধুমাত্র ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করতে পারে। এরপর গতকাল তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের ছবি পোস্ট করে বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে শুক্রবার বা সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আশা রয়েছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের কাছাকাছি থাকা দলকে সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান আছে ৭ নম্বরে এবং বাংলাদেশ ৯ নম্বরে, ফলে পাকিস্তান সরে গেলে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা তৈরি হয়। এর আগে, বাংলাদেশ নাম প্রত্যাহার করায় ১৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ড সুযোগ পেয়েছিল। সব মিলিয়ে, শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে যায়, তাহলে বাংলাদেশের প্রবেশের সম্ভাবনা আবার জেগে উঠবে। সম্ভাব্য ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের কথা বলছে, তবে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

  • আইসিসি থেকে সুখবর পেলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা

    আইসিসি থেকে সুখবর পেলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল চারটি ম্যাচ খেলেছে, এবং প্রতিটিতেই তারা জিতেছে। এই ধারাবাহিক সফলতা দলটির পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা র‍্যাংকিংয়ে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। বেশ কিছু বাংলাদেশি ক্রিকেটার তাদের র‍্যাংকিং উন্নতি করেছেন।

    সর্বশেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করে ফিফটি করে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন শারমিন আক্তার। তার এই চমৎকার ইনিংসের ফলে তিনি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ এগিয়ে ৩৫তম স্থানে পৌঁছেছেন, যা তার ক্যারিয়ারে সেরা অবস্থান।

    একই সঙ্গে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন ডানহাতি এই ওপেনার দিলারা আক্তার। নামিবিয়ার বিপক্ষে ২৫ রান করে তিনি দারুণ এক অগ্রগতি করেছেন। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি ৩৫ রান করার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সেরা শতাকের ভিতরে অবস্থান করছেন, যেখানে ৩৩ ধাপ এগিয়ে তিনি এখন যৌথভাবে ৭০তম স্থানে আছেন।

    অন্যদিকে, সবশেষ দুই ম্যাচে যথাক্রমে ২৭ ও ৩০ রান করে সোবহানা মোস্তারি ১১ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫২তম স্থানে অবস্থান করছেন। স্বর্ণা আক্তারও দুর্দান্ত উত্তরণে ১৭ ধাপ এগিয়ে বর্তমানে ৮৩ নম্বরে অবস্থান করছেন।

    বোলারদের মধ্যে উন্নতি হচ্ছে ফাহিমা খাতুনের। নামিবিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেট নেওয়ার ফলে তিনি ৬ ধাপ এগিয়ে ৩০তম স্থানে পৌঁছেছেন। একই ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া সানজিদা আক্তার মেঘলা ৬ ধাপ এগিয়ে ৫৪তম স্থানে আছেন। রাবেয়া খান, যিনি নামোমিবিয়া ম্যাচে ৩ উইকেট ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ১ উইকেট অর্জন করেছেন, তিনি এক ধাপ এগিয়ে ১৪তম স্থানে অবস্থান করছেন।

  • ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে নিপাহ ভাইরাস, বিশ্বকাপের আশঙ্কা বাড়ছে

    ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে নিপাহ ভাইরাস, বিশ্বকাপের আশঙ্কা বাড়ছে

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আসন্ন আয়োজনের মাঝে ভারতে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মূল অয়োজক ভারত ও সহ-অয়োজক শ্রীলঙ্কায় অনির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতে থাকবেন আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাই—পাঁচটি ভেন্যুতে এবং শ্রীলঙ্কায় কলম্বো ও ক্যান্ডিতে মোট ৫৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট কেন্দ্রের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা সৃষ্টি করেছে। এই ভাইরাসের প্রভাব মেটাতে হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ট্রাভেল ও ট্রেনিং নিয়ম কঠোর হতে পারে, এমনকি পুরো টুর্নামেন্টটাই হয়তো স্থানান্তর বা স্থগিতের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ভারতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে হাই এলার্ট জারি করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যেমন জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার ও খাইবার নিউজ এই পরিস্থিতির গুরুত্ব গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করছে, অনেকেই টুর্নামেন্টের শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর বা বন্ধের পরামর্শ দিচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংক্রমণ খুবই ছোট আকারের। তবে আইসিসি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    শুধু কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যার মধ্যে সেমিফাইনালও রয়েছে। যদি সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের জন্য ট্রাভেল ও সিকিউরিটির নিয়ম কঠোর হতে পারে। এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং বাড়ানো হয়েছে, কিছু দেশ ইতিমধ্যে কোয়োরেন্টিন ও ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন আরোপ করেছে। এতে উদ্ভিন্ন হতে পারে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও দর্শকদের অভিজ্ঞতা।

    জানুয়ারি ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণপুরের কাছে বারাসাত এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের ক্লাস্টার দেখা গেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে এখনও মৃত্যুর খবর আসেনি। সংক্রমণের মূল উৎস হলো হাসপাতাল পর্যায়ে ফলের বাদুড় থেকে ছড়িয়ে পড়া। কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ১০০-২০০ জন ব্যক্তিকে কোয়ারান্টিনে রেখেছে ও বেশিরভাগের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।

    প্রারম্ভিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেরালায় চারটি নিপাহ কেসের ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে दोজনের মৃত্যুও হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এটি ২০০৭ সালের পর প্রথম বড় আউটব্রেক।

    নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা ফলের বাদুড় বা ফ্রুট ব্যাট থেকে ছড়ায়। সংক্রমণের প্রধান উপায় হলো কাঁচা খেজুরের রস, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ বা মানুষের মধ্যে সবাই রুটিন ক্লোজ কন্টাক্ট। লক্ষণগুলো হলো জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)। মৃত্যুর হার খুবই উচ্চ, ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন নেই, তবে কিছু ওষুধ যেমন রেমডেসিভির ব্যবহার হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

  • বাংলাদেশের মেয়েদের সুপার সিক্সের যাত্রা থাইল্যান্ডকে হারিয়ে শুরু

    বাংলাদেশের মেয়েদের সুপার সিক্সের যাত্রা থাইল্যান্ডকে হারিয়ে শুরু

    বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল সফলভাবে সুপার সিক্সে প্রবেশ করেছে, প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া মোটিভেশনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সংযোজন করেছে। ম্যাচের শুরুতে থাইল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত উইকেট হারানো শুরু করে, যা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে দেয়। প্রথম বলে উইকেট হারানো থাইল্যান্ডের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, যখন মারুফা ফেরদৌসের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুয়ানান খিয়াতা লেগ বিফোর হয়ে যান। দ্বিতীয় উইকেটে চানথাম ও নান্নাপাটের জুটি ৬৭ রান যোগ করে শান্তি ফেরান, তবে ফাহিমা খাতুনের বুদ্ধিমত্তামূলক বলের ক্যাচে চানথাম ফিরে যান। নান্নাপাটকে স্বর্ণা আক্তার আউট করেন ২৯ রানে ব্যাট করতে থাকা এই ব্যাটসম্যান। স্বর্ণার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন নান্নাপাট, এরপর চাইওয়াইয়ের ৩০ রানও স্বর্ণার ঝুলিতে যায়। এই পর্যন্ত থাইল্যান্ডের ইনিংস ছিল ১২৬ রানে, যা বাংলাদেশ নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ৩৯ রানে কম। বাংলাদেশের জন্য সেরা পারফরম্যান্স ছিল মারুফার, যিনি ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন, এছাড়া রিতু ও স্বর্ণা দুজনই দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। বাংলাদেশি বোলাররা প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও দ্রুত ফিরে আসেন দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে। শারমিন আক্তার সুপ্তা শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে ইনিংসের প্রথম বলেই ক্যাচ আউট হন, কিন্তু পরে জুয়াইরিয়া ও সোবহানা নেতৃত্ব দেন দলের ব্যাটিংয়ে। জুয়াইরিয়া ৫৬ রানে ৪৫ বলে চার ছক্কা ও তিন চারে অপরাজেয় থাকেন, वहीं সোবহানা ৫৯ রান করে আপন ক্যারিয়ারে প্রথম পঞ্চাশ স্পর্শ করেন। তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রানে, যা শেষ পর্যন্ত দলের জন্য জয় নিশ্চিত করে। থাইল্যান্ডের পুথাওয়াং তিনটি এবং অন্নিচা দুটিই উইকেট সংগ্রহ করেন। এই জয়ে বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দলের শক্তি ও সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে, এবং তারা সুপার সিক্সে আরও ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করছে।

  • পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শেষ তথ্য ও পরিস্থিতি

    পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শেষ তথ্য ও পরিস্থিতি

    পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখনও নিশ্চিত নয় তারা 2026 সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এর চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী শুক্রবার (30 জানুয়ারি) বা সোমবার (2 ফেব্রুয়ারি)।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। পাকিস্তান এটিকে অন্যায় ও দ্বিচারিতার নীতি বলে মনে করে এবং এর প্রতিবাদে পাকিস্তান খানিকটা সমর্থন দিয়েছে।

    এদিকে, ‘টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান এখন ‘অপেক্ষার খেলা’ খেলছে। তারা চাইছে, প্রথম দুটো ম্যাচে (৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ও ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে) জিতে সুপার সেইক্স নিশ্চিত করবে। এরপর তারা ভারতের ম্যাচটি (১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বো) বয়কট করার পরিকল্পনা করছে।

    যদি পাকিস্তান প্রথম দুটো ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে তারা ভারত ম্যাচ থেকে বিরত থাকতে পারে, যা প্রায় নিশ্চিত প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এক পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে তারা পুরো টুর্নামেন্ট থেকে বাদ না পড়ে কিছু আঞ্চলিক প্রতিবাদ ও সমর্থন চালিয়ে যেতে পারবে।

    এছাড়াও, পিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বিশ্বকাপের চলাকালীন প্রতিবাদের পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারে, যার মধ্যে একটি হল কালো আর্মব্যান্ড পরা বা ভারতের বিরুদ্ধে খেলায় বয়কট। এই প্রতিবাদগুলো বাংলাদেশের সমর্থন জানাতে উৎসর্গ করারও চিন্তা রয়েছে।

    গত সোমবার, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব বিকল্প খোলা রেখেই সমাধান খোঁজা হবে এবং সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে। মহসিন নকভি বলেন, সরকার যা বলবে, সেই অনুযায়ী চলা হবে।

    অন্যদিকে, আইসিসি কঠোর সতর্ক সংকেত দিয়ে বলেছে, পাকিস্তানের যদি বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ বা পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করে, তাহলে তাদের সাসপেনশন, অর্থদণ্ড বা আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। বিশেষ করে, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ অতিরিক্ত ব্রোডকাস্টের মাধ্যমে অর্থনৈতিক লাভের বিষয়, যেখানে ক্ষতিপূরণের দাবি উঠতে পারে।

    আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি ততটা বেশি নয়; তারা বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। তবে, পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে তারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, পাকিস্তানের সরাসরি সম্পর্ক নেই এসব ঘটনার সঙ্গে, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল ও ঝুলে আছে।

    একদিকে, পাকিস্তান যদি শুধুমাত্র ভারত ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে বড় ধরনের শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া ক্রিকেটের জন্য অন্যতম বড় ধাক্কা হবে। এখন সবকিছু সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীদের।

  • ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৬০০০ জন

    ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৬০০০ জন

    ইরানে সরকারের বিরোধী বিক্ষোভ দমনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো অভিযানকে কেন্দ্র করে অন্তত ৬,০০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন একটি মানবাধিকার সংস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক। সোমবার হিউম্যান রাইটস এ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করার বিষয়টি জানিয়েছে। দেশটির অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করে তেহরান আবারো জানিয়েছে, তারা কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণ করবেন না এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। জানুয়ারির ৮ তারিখের পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বিক্ষোভের ব্যাপকতা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির তথ্য বলছে, ইরান সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রেখেছে এবং সরাসরি গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের দমন করছে, যা এখন পর্যন্ত নজিরবিহীন। বর্তমান ইন্টারনেট শাটডাউনের ফলে টানা ১৮ দিন ধরে দেশটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব এখনো এই দমন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধী যারা, তারা পরিবর্তনের জন্য বাইরের হস্তক্ষেপের কথাও ভাবছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে সামরিক হস্তক্ষেপে রাজি না হলেও পরে বলেছেন, এটি এখনো একটি বিকল্প। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তর হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি কোনো আগ্রাসন হয় তবে কড়া প্রত্যাঘাত করা হবে। বলিদানি পন্থায় হতাহতের সংখ্যা জানানো বেসরকারি সংস্থাগুলিও তাদের কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছে, কারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও জানাতে সমস্যা হচ্ছে। এইচআরএএনএ বলছে, তারা নিশ্চিত করেছে, অন্তত ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এখনও তদন্ত চলছে, আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বিক্ষোভের জেরে ইরানে গ্রেফতার করা হয়েছে মোট ৪১,২৮৩ জনকে। প্রথমে সরকারি হিসাব বলেছিল, ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছে, তবে বাস্তবে তাতে অনেক বেশি হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। ইন্টারনেট সেবা স্তব্ধ থাকায়, বাস্তব পরিস্থিতি যতটা জানা যাচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংস্থা। বাইরে অবস্থিত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, জানুয়ারি ৮-৯ এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬,৫০০ জনেরও বেশি আহত বা নিহত হয়েছেন। তাদের সূত্র ও নথি অনুযায়ী এই দাবি উঠলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

  • ভারতে ‘গোমূত্র গবেষক’ পেতে চলেছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার

    ভারতে ‘গোমূত্র গবেষক’ পেতে চলেছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার

    ভারতে ‘গোমূত্র গবেষক’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে এবার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আবারও দেশের নামকরা বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরই নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে ভারতের আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটি নামের এই গবেষকের ওপর। শিক্ষাবিদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদ্মশ্রী দেওয়া হলে অনেকের মধ্যে সন্তুষ্টি হলেও, কেরালা কংগ্রেস সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে চরম বিতর্ক শুরু করে। তারা বলেছে, গোমূত্রের উপকারিতা নিয়ে যার মন্তব্য ছিল, সেটি এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। গত বছর ভি কামাকোটি দাবি করেছিলেন যে, গোমূত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং এটি বিভিন্ন রোগে উপকারী হতে পারে। এই মন্তব্যের জন্য তখন দেশজুড়ে তর্ক-বিতর্কের ঝড় ওঠে। এর জবাবে শ্রীধর ভেম্বু, যিনি আইআইটির একজন প্রখ্যাত গবেষক ও বর্তমানে দি পোচামপল্লী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, বলেন যে এই সম্মান তাঁর যোগ্য। তিনি আরও বলছেন, গোমূত্র ও গোমূত্রের মাইক্রোবায়োম নিয়ে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কেবল ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ থেকে আলাদা। তিনি উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভি কামাকোটি ইতিমধ্যেই মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তবে, কেরালা কংগ্রেস এ ভাবনার বিপরীতভাবে প্রশ্ন তোলে—শুধু গরুর গোবর ও গোমূত্র কেনই বা গবেষণার মূল বিষয়? অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও কি এ ধরনের গবেষণা হয় না? তারা মধ্যপ্রদেশে পরিচালিত একটি সরকারি প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে অর্থের অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগও তোলে। সর্বশেষে, কেরালা কংগ্রেস সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়—যদি গোমূত্রের উপকারিতা সত্যিই এত বিশাল হয়, তবে ভেম্বু নিজে কেন সেই গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? যদি এটি ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের علاج করতে পারে, তবে এটি নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য বড় এক অবদান হবে বলে তারা মত প্রকাশ করে। এই বিতর্ক সাধারণ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও রাজনীতির সীমারেখাকে আবারও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। উপরন্তু সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয় নিয়ে এখন তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

  • ভারতে বিমানের দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীসহ ৪ জন নিহত

    ভারতে বিমানের দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীসহ ৪ জন নিহত

    ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার বারামতী বিমানবন্দরে একটি মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রের বিশিষ্ট প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শরদ পাওয়ারের ভাতিজা।

    উড়োজাহাজটিতে আরও চারজন যাত্রী ছিলেন, וכל কোনটাই নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। সূত্র অনুযায়ী, উড়োজাহাজে মোট ছয় জন ব্যক্তি ছিলেন—বয়স ৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ার, তাঁর পিএসও, একজন সহকারী ও দু’জন ক্রু সদস্য।

    দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত ছড়াতে শুরু করে। উদ্ধারকার্য চালাতে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং আগুন নেভানোর জন্য প্রচেষ্টা চালায়। স্থানীয় পুলিশও দ্রুত উদ্ধারকাজে জড়িত হয়।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মহারাষ্ট্রের ‘জোট’ সরকারের সদস্য অজিত পাওয়ার জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী心理 প্রচারের জন্য মুম্বাই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন। তিনি একটি ব্যক্তিগত লিয়ারজেট-৪৫ বিমানে ছিলেন, যা ভিএসআর ভেঞ্চারস দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।

    অজিত পাওয়ার সকালে ৮টার দিকে মুম্বাই থেকে রওনা হন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বারামতিতে চারটি নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেওয়া। এ দুর্ঘটনার ফলে এখন উদ্ধার অভিযান চলছে, যার মধ্যে আহতদের সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    অজিত পাওয়ার জন্ম ১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার দেওলালি প্রভারায়। তাঁর বাবা অনন্তরাও পাওয়ার মহারাষ্ট্রের মহাখ্যাত রাজকমল স্টুডিওতে কাজ করতেন। বাবার মৃত্যু হলে তাঁর শিক্ষাজীবন বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনি মহারাষ্ট্র রাজ্য বোর্ড থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করেন।

    ১৯৮২ সালে, মাত্র ২৩ বছর বয়সে, তিনি একটি সমবায় চিনি কারখানার বোর্ডে নির্বাচিত হন। তখন তাঁর চাচা শরদ পাওয়ার মহারাষ্ট্রের একজন প্রতিষ্ঠিত কংগ্রেস নেতা হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন।