Blog

  • ঝিনাইদহে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

    ঝিনাইদহে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

    ঝিনাইদহের সদর ও শৈলকুপায় বজ্রপাতে দুটি দুর্ঘটনায় দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে আজ রোববার (৫ অক্টোবর)। ঘটনাগুলো ঘটেছে সকালে, সদর উপজেলার আড়মুখি গ্রামে এবং শৈলকুপা উপজেলার শেখরা গ্রামে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে আড়মুখি গ্রামের কৃষক শিমুল বিশ্বাস নিজ Lose জমিতে কাজ করছিলেন। তখন হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হন এবং অন্যান্য কৃষকদের সাথে তারা দ্রুত মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এই সময় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে, যেখানে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শিমুল বিশ্বাসের।

    অন্যদিকে, শৈলকুপা উপজেলার শেখরা গ্রামে কৃষক হুরমত শেখও বাড়ির পাশের মাঠে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে তিনি দ্রুত ফেরার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই গুরুতর আহত হন তিনি, পরিবারের লোকজনের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত বাড়িতে নেয়ার পর মৃত্যু হয়।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া মৃত্যুর এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় কেউ যেন খোলা আকাশের নিচে না থাকেন। সেনা নিরাপত্তাই জীবন রক্ষার অন্যতম উপায়।

  • নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র, ধর্মের অপব্যবহার ও দেশের অস্থিতিশীলতা চায় ষড়যন্ত্রকারীরা

    নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র, ধর্মের অপব্যবহার ও দেশের অস্থিতিশীলতা চায় ষড়যন্ত্রকারীরা

    বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের পথ বন্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নানা কূটকৌশল অবলম্বন করে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে এবং সঙ্ঘাতমূলক পারস্পরিক দাঙ্গা সৃষ্টি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। তিনি আরও বলেন, ওলামা সমাজকে এখনই সজাগ হতে হবে যাতে কেউ ধর্মের অপব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা না করে। ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করে যারা দেশের শত্রু তারাই। শনিবার বিকেলে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের অডিটোরিয়ামে মহানগর ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    রকিবুল ইসলাম বকুল আরও বলেন, জামায়াত-শিবির শক্তি নতুন করে মানুষকে প্রতারণার জন্য ধর্মের নামে জাল কৌশল নিচ্ছে। তারা মানুষের কাছ থেকে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ধর্মের আদর্শকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার এই অপচেষ্টা বাংলার ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ কোনও পথ নয়; কারণ সমাজে ধর্মান্ধতা নয়, ধর্মপ্রাণতা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি এবং চব্বিশের চক্র এক হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। বিএনপি দেশের সাধারণ মানুষের দল; এখানে প্রতারণার কোনও স্থান নেই। জনগণের ভোটের মাধ্যমে দেশকে আবার গণতন্ত্রের পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনব।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা কাজী আবু নাঈম। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। উপস্থিত ছিলেন জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা ফারুক হোসেন, সদস্য সচিব মাওলানা আবু মুসা, মহানগর সদস্য সচিব হাফেজ মোহাম্মদ আল আমিন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

  • সোনার দাম পুনরায় রেকর্ড ছাড়িয়েছে, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    সোনার দাম পুনরায় রেকর্ড ছাড়িয়েছে, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। এই অবস্থা দেশের জুয়ার বাজারে অর্থনীতি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার কারণে আজকের দিন পর্যন্ত এই মূল্যবৃদ্ধি এলো। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। ফলে এখন এই মানের সোনার ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। নতুন দামটি মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

    গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর বৈঠকে এই দাম বৃদ্ধি অনুমোদিত হয়। চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এর তথ্য জানানো হয়। এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম কিছুটা বেশি ছিল, যেখানে স্বর্ণের এক ভরি (২২ ক্যারেট) ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। তবে তার পরদিন অনেকটাই কমে গিয়েছিল, ফলে সেই রেকর্ড দাম কার্যকর ছিল। কিন্তু আবারও মূল্যক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে নতুন ডিম্যান্ড সৃষ্টি হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা, যা পূর্বের চেয়ে ২ হাজার ৪১৬ টাকা বেশি। অন্য ক্যাটাগরিতে, ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি now ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, যেখানে দাম বেড়েছে ২ হাজার ২৯৮ টাকা; ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা, একমাত্রা ১ হাজার ৯৭১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, সনাতন পদ্ধতির (হারামণ) সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা।

    প্রথমে, ২৮ সেপ্টেম্বর, দেশের বাজারে সোনার দাম আবার কমে গিয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের ভরি ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৯ টাকা, যা প্রায় ১ হাজার ৮৯০ টাকা কমানো হয়েছিল। অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও দাম কমানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে, আবার দাম বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    অপর দিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের জন্য প্রাক্কলিত ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা। অন্য ক্যারেটের রুপার দাম যথাক্রমে, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৯৬৩ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ২২৮ টাকা। এই দামগুলো চলমান থাকায়, বাজারে গ্রাহকদের জন্য মূল্যস্থিরতা নিশ্চিত হচ্ছে।

  • ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ, ২০২৬ সালে পৌঁছাবে ৫ শতাংশ

    ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ, ২০২৬ সালে পৌঁছাবে ৫ শতাংশ

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনীতি লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। এরপর, ২০২৬ সালে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে বাড়ি ৫ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনও কিছু ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

    সংস্থাটি জানায়, চরম রাজনৈতিক পরিবর্তন, বন্যা, শ্রমিক বিরোধ এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতির গতি ধীরগতির মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে আসছে। এটি উল্লেখযোগ্য হিসেবে উঠে আসে এডিবির এইসিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদনে, যা মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হয়।

    এডিবি বলেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং নিশ্চিত জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। ব্যাংকিং খাতে কিছু দুর্বলতা থাকলেও, মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, আগামী দিনগুলোতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে মূল জন্য। বিশেষ করে, বাণিজ্য অনির্ণয়, ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা, ও নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অন্যদিকে, এডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাজারে প্রতিযোগিতা কম হওয়া, বাজার তথ্যের অভাব, সরবরাহ শৃঙ্খলার সমস্যা এবং মুদ্রার দুর্বলতা কারণে মুদ্রাস্ফীতি ২০২৪ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ১০ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে, ২০২৫ সালে সাময়িকভাবে জিডিপি ছোট এক ঊর্ধ্বমুখী উদ্বৃত্তের দিকে থাকবে, যার হার ০ দশমিক ۰৩ শতাংশ। এটি ২০২৪ সালে জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশের ঘাটতি থেকে বেশি। এর পেছনে রয়েছে ভালো রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং শক্তিশালী বাণিজ্য ঘাটতি সংকুচিত হওয়া।

  • পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফিরে আসার সম্ভাবনা

    পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফিরে আসার সম্ভাবনা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে কত পরিমাণ অর্থ ফিরে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট বলে কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, যারা এই অর্থ পাচার করে থাকেন, তারা এ বিষয়ে খুবই সচেতন এবং কৌশল অবলম্বন করে থাকেন। অর্থ ফেরত আনার জন্য কিছুসময় প্রয়োজন, তবে ইতিমধ্যে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে, আশা করা যায় ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই কিছু টাকা ফিরে আসতে পারে, আর বাকির জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

    সালেহউদ্দিন জানান, এই কৌশল বা প্রক্রিয়া কোনো সরকার এড়াতে পারবে না। তিনি বললেন, যদি আপনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে দাও সেন্ট্রাল ব্যাংকে বা সুইস ব্যাংকে,’ তাহলে অবশ্যই দেবে না। এজন্য রাষ্ট্রের আইনগত প্রক্রিয়াগুলোর মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি বছরে ১১-১২টির মতো অর্থাভার গোপনে রাখা হয়েছে এবং এর মধ্যে বেশিরভাগ জাগায় বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব অ্যাকাউন্টে ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ রয়েছে, সেগুলোর ওপর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

    নতুন সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন বলেন, সরকারের জন্য এই প্রসেসগুলো চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। যদি এগুলো অব্যাহত থাকে, তবে অর্থ ফেরত আসবে। অন্যথায়, এটা সম্ভব নয়। অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে তিনি জানাতে চাননি এবং বলেন, এ বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেই প্রশ্ন করতে হবে।

    অর্থ উপদেষ্টার ভাষ্য, কিছু অর্থ এখনও পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, কিছুদিন পর বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবে। বর্তমানে যেসব দেশের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ থাকতে পারে, তার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্পষ্ট করেছেন, এই বিষয়গুলো নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

    অর্থ দপ্তরে বরাদ্দের ব্যাপারে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সত্য নয়, কারণ প্রকল্পগুলো আগেই শুরু হয়েছে। আবার, দেশের অসংখ্য পরিবারের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং পুষ্টিহীনতার বিষয়েও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমাদের খাদ্যতালিকায় এখনো বেশ কিছু ঘাটতি আছে, বিশেষ করে শিশু ও মা-জনিত পুষ্টির সমস্যায়। আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে, ভিজিএফ ও স্পেশাল ট্র্যাকের মাধ্যমে ক্ষুধার্ত মানুষকে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য। জেলেদের জন্য মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও তারা ২০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা সাধারণত চালের ওপর বেশি নির্ভরশীল, অন্য বিষয়গুলো প্রয়োজন হলেও আমাদের ক্রয়ক্ষমতা কম; তাই আমিষের দরকার, প্রধানত ডিমের মতো জিনিসের। অনেক মানুষ এখনো এসব ক্রয় করতে পারছেন না।

  • ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল

    ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। চাকরিবিধি লঙ্ঘন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একসঙ্গে আরও ২০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। এই দ্বিতীয় দফার ছাঁটাই কার্যক্রমের ফলে চলতি সপ্তাহে মোট ৪০০ কর্মীর চাকরি চলে গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার মতে, এই জাতীয় ছাঁটাই ঘটনার ঘটনা নজিরবিহীন। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ উদ্যোগ সম্পন্ন হয়েছে দক্ষতা যাচাই এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে। সম্প্রতি ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যান্ডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) পরিচালিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই পরীক্ষায় অংশ নেয়ো ৪১৪ জন কর্মী, যাদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অবশিষ্ট ৫০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে আপাতত ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত) করে রাখা হয়েছে।

    ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, চাকরি হারানো কর্মীরা শুধুমাত্র অযোগ্যতার কারণে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সহকর্মীদের বাধা দেওয়া ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়াসহ অন্যান্য তারিখকাজে জড়িত ছিলেন।

    ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন থেকেই অনেকে সরাসরি সিভি জমা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন, যেখানে বেশিরভাগ নিয়োগ ছিল চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে। এর ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মীই ওই অঞ্চল থেকে।

    ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম গণমাধ্যমে বলেন, আমাদের লক্ষ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং দক্ষতা যাচাই এবং প্রমাণিত করা।

  • সোনার ভরি দুই লাখের কাছাকাছি, সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায়

    সোনার ভরি দুই লাখের কাছাকাছি, সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায়

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন সব রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের প্রিমিয়াম মানের ২২ ক্যারেট গোল্ড প্রতি ভরি এখন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ২১৯২ টাকা বেশি। এই দামের পরিবর্তন সংক্ষিপ্তসারে দেশের স্বর্ণ বাজারে সবচেয়ে বেশি মূল্য এটি। এর আগে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায় বিক্রি হত এই মূল্যবোধ।

    শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এমন ঘোষণা দেন, যা রবিবার থেকে কার্যকর হবে। এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম বাড়ার প্রভাব রয়েছে বলে জানান।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯১০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১৬১ হাজার ৬৫১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিষয়টি আগের দামের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আগে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরি ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা।

    অপরদিকে, রুপার দাম কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ২২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • রিজভীর অভিযোগ: নতুন ইস্যু সৃষ্টি করে জনগণের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা

    রিজভীর অভিযোগ: নতুন ইস্যু সৃষ্টি করে জনগণের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নতুন ইস্যু তৈরি করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-অ্যাবের নতুন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যান। এ সময় তিনি বলেন, মিথ্যা পরিসংখ্যান ও ভ্রান্ত কথার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে কিছু ষড়যন্ত্রকারী। তিনি সতর্ক করেন, যারা অহংকার করে মিথ্যাচার করে তারা মানুষ চিনতে পারা উচিত। রিজভী আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে একটি ধর্ম ভিত্তিক দলের অনুগত ব্যক্তিরা বসানো হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষ এখনই প্রস্তুত, তারা আর ডামি নির্বাচন বা কারচুপির পক্ষে নয়। এদিকে, ভারতের পূজামণ্ডপে ডক্টর ইউনূসের ব্যঙ্গচিত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কার্যক্রমটির দেশটির নিম্নমানের অবস্থা প্রতিফলিত বলে মন্তব্য করেন।

  • ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, একসঙ্গে থাকতে চায় জামায়াতে ইসলামী

    ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, একসঙ্গে থাকতে চায় জামায়াতে ইসলামী

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে ৯০.৮ শতাংশ মানুষ মুসলমান। অন্যরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করার পক্ষে কেউ নয়। তিনি সম্মেলনে বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন।

    আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় উলামা কমিটির উদ্যোগে দেশি-বিদেশি উলামা ও দাঈদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডা. শফিকুর রহমান এই মন্তব্য করেন।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমান হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে বাস করছি। বিশ্বে কয়েকটি দেশ রয়েছে যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বেশ উল্লেখযোগ্য, তার মধ্যে বাংলাদেশ বিশেষ স্থান অধিকার করে। তিনি যোগ করেন, আমরা সবাই আল্লাহর ইচ্ছায় এই দেশে জন্ম নিয়েছি। ধর্মের ভিত্তিতে আমাদের বিভাজন হয় না; বরং আল্লাহ মানুষকে বিচার-বিবেক দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেক মানুষ ভাবনায় ও বিবেকের দিক থেকে ধর্ম গ্রহণ করে।

    তিনি আরও বলেন, দাঈদের দায়িত্ব হলো আল্লাহর শাশ্বত বিধান ও নবী মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনদর্শন অনুসরণ করে সমাজে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণমুখী পরিবর্তনের জন্য কাজ করা। মানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে ইসলাম থেকে পাওয়া সত্যিকারের মূল্যবোধের বিকশিত করতে হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, আল্লাহ তায়ালার দেওয়া নির্দেশনা ও নবী মুহাম্মদ (সা.) এর দাওয়াতই মূলত মুসলমানের দায়িত্ব। সকল মুসলমান ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে অবশ্যই এই দিশা অনুসরণের অনুরোধ জানান, যেন আমরা সবাই একটি সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও সহিষ্ণু সমাজ গড়ে তুলতে পারি।

  • জামায়াতের অংশগ্রহণে আন্দোলন ও ২০২৪ সালের নির্বাচন: সত্যতা ও ভূমিকা

    জামায়াতের অংশগ্রহণে আন্দোলন ও ২০২৪ সালের নির্বাচন: সত্যতা ও ভূমিকা

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা জামায়াতের সাথে যুক্ত হয়ে এখন আন্দোলন করছে, তাদের ২০২৪ সালের নির্বাচনে কী ভূমিকা ছিল, তা জাতি স্পষ্টভাবে জানতে চায়। সোমবার (০৪ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্ন্স ইনস্টিটিউটে এনডিপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, যারা হীন রাজনীতি করতে চায়, তাদের দেশবাসীর স্বার্থে সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। তার মতে, রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পিআর ভিত্তিক আন্দোলন চালাচ্ছে কিছু চিহ্নিত দল, যারা এর মাধ্যমে নির্বাচন বিলম্ব করতে বা পুরো প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তিনি warning দিয়ে উল্লেখ করেন, যদি নির্বাচন ধাক্কা খায় বা বিলম্ব হয়, তাহলে দেশের ভিতরে অন্ধকার অন্ধকার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কার ইশতেহার গ্রহণ করবে বা কোন পথে যাবে।

    এছাড়াও, সালাহউদ্দিন আহমদ গাজা উপক্রমণি নৌবহরে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানান এবং এ ব্যাপারে কঠোর প্রতিবাদ জানান। তিনি জাতিসংঘের ওপর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্যও আহ্বান জানান। পাশাপাশি, তিনি বলেন, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দাবির পেছনে গণতান্ত্রিক চর্চা রয়েছে, তবে প্রকৃত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে। তিনি আরো বলেন, দেশের শান্তি এবং স্থিতির জন্য সকল পক্ষের দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।