Blog

  • দিল্লিতে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া শুরু করল বাংলাদেশ

    দিল্লিতে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া শুরু করল বাংলাদেশ

    প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবার চালু হয়েছে বাংলাদেশি ভিসা কার্যক্রম। বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ, শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি, দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশি ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি ছিল দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সূচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন দিনের মধ্যে ঘটে। এটি সম্ভব হয়েছে যখন বাংলাদেশি সরকার দ্রুতই সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়। এ পরিস্থিতিতে, গত ডিসেম্বর মাসে কিছু অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছিল, যেমন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসের ঘোষণা অনুযায়ী, সাময়িকভাবে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখা হয়। এর পেছনে মূল কারণ ছিল, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনা এবং তার পরের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। ডিসেম্বরের শেষ দিকে, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ঢাকায় বিভিন্ন পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা হয়। পাশাপাশি, চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে গত ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামে ভারতে যাওয়ার ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) কার্যক্রম স্থগিত করা হয়, যদিও ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ভিসার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় না। অল্পপরে, ভারতের দিল্লি ও আগরতলার মিশনগুলো থেকে বাংলাদেশে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে, ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর, দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অনেকটাই উন্নতি ঘটে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের আগে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। নির্বাচনের পর, মোদী তার সাথে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলে সমর্থন ও শুভকামনা প্রকাশ করেন। এরপর, ঢাকা ও দিল্লির শপথ অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার জন্য মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, কিন্তু ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে তিনি আসতে পারেননি। পরিবর্তে, অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন দিশায় এগোতে শুরু করেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ছে

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ছে

    বিশ্ববাজারে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দামে আবারও বড় পতনের আভাস দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি), ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৭১.৯৯ ডলাররে পৌঁছিয়েছে, যেখানে আগের দিনের তুলনায় ৩৩ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬৭.০৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় ৬২ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেশি।

    বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো, কূটনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে, কারণ এই অঞ্চল থেকে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। ব্যাঘাত ঘটলে বিশ্বের তেল সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং এর ফলে দাম আরও চড়া হতে পারে।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি তারা পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দ্রুত কোনো সমঝোতা না করে, তাহলে আনুমানিক খারাপ ফলাফল হবে। তিনি ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার পরিকল্পনা করেছে। এর আগেও সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি, অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার কারণেও দাম বাড়ছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ তেলের মজুত ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। এই সময় শোধনাগারের ব্যবহার ও রফতানি বেড়ে গেছে, যা জ্বালানি দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

    অতএব, এই পরিস্থিতি বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। উত্তেজনা কমে না গেলে আরও বড় দামের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে।

  • পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান tonight, কাল দোয়া ও মানবন্ধন

    পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান tonight, কাল দোয়া ও মানবন্ধন

    মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল শোক দিবস নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন। ভাষা আন্দোলনের শহীদরা তাদের জীবন দিয়ে আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। এই ভাষা আন্দোলনের চেতনাই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে কেন্দ্রীয় করে তোলে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভায় বক্তৃতা করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একুশ আমাদের জাতীয় চেতনার ভিত্তি। এই আত্মা ধারণ করে বিএনপি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। তিনি নেতাকর্মীদের সফলতার জন্য সকলের সহযোগিতা ওসহযোগিতার আহ্বান জানান। মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। একুশের অনুষ্ঠান শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে, ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে, এই চেতনাকে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানশেষে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে আজ ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০:৩০ এর মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি, রাত ১২:০১ মিনিটে শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সূর্য ওঠার সাথে সাথে মহানগরীর সকল দলীয় কার্যালয়ে পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন। একই দিন বাদ এশা দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন হবে। এছাড়াও, ১৫ রমজান এর মধ্যে মহানগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, বদরুল আনাম খান, শেখ সাদী, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, থানা সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, এড. শেখ মোহাম্মদ আলী, থানা সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, শেখ ইমাম হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবু সাঈদ শেখ, ওলামা দলের আহ্বায়ক মৌলানা মোঃ আবু নাঈম কাজী, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. মজিবর রহমান, মহিলা দলের যুগ্ম-আহবায়ক এড. হালিমা আক্তার খানম, জাসাসের সদস্য সচিব কে এম এ জলিল, কৃষক দলের সদস্য সচিব শেখ আবদুলনাহার, শ্রমিক দলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম শফি, আঞ্চলিক শ্রমিক দলের সদস্য সচিব আলমগীর তালুকদার, থানার সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পী, মো. নাসির উদ্দিন, মতলেবুর রহমান মিতুল, নুরুল হুদা পলাশ ও সৈয়দ তানভীর আহমেদ প্রমুখ।

  • যশোরে তারাবির নামাজের পর বাড়ি ফেরার পথে গ্রাম্য চিকিৎসককে হত্যা

    যশোরে তারাবির নামাজের পর বাড়ি ফেরার পথে গ্রাম্য চিকিৎসককে হত্যা

    যশোরের শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া এলাকায় এক গ্রাম্য চিকিৎসককে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আল-আমিন বারিপোতা গ্রামের বাসিন্দা ও নাভারণের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হামলা করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং গ্রামের মধ্যে তার একটি চেম্বার ছিল। সাধারণত তিনি প্রতিবছরই তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফিরতেন। אך ওই রাতে গাতিপাড়া হাইস্কুলের সামনে তারের বেড়া নামক স্থানে পৌঁছালে, দুর্বৃত্তরা ওৎ পেতে থাকা অবস্থায় তাকে উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে শার্শা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে যশোরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ-আলম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের ধারণা। অচিরেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কি উদ্দেশ্য রয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুরুতে মনে হচ্ছে এটি পূর্ব বিরোধ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জের হয়ে থাকতে পারে। এখনও ব্যাপারটি তদন্তাধীন।’

  • কালীগঞ্জে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    কালীগঞ্জে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ষষ্ঠ দিনের মতো বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছে তারা। জুলাই ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন বাজারে এ কার্যক্রম সংগঠিত হয়।

    উপজেলা সূত্র জানায়, রমজানের আগে থেকেই যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করে তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি চালানো হচ্ছে। এ সময় বিভিন্ন মুদি ও ফল ব্যবসায়ীদের মানসম্মত ও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    মনিটরিং এর সময় বিভিন্ন অসাধুভাব সফলভাবে শনাক্ত হয়; এর কারণে দুই ফল আমদানিকারককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর অধীনে মোট ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা দলের পাশাপাশি কালীগঞ্জ থানার পুলিশও উপস্থিত ছিলেন, যারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।

    এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজোয়ানা নাহিদ বলেন, রমজানে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে বাজারে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রেখে মনিটরিং অব্যাহত আছে। অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি বা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয় ক্রেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত তদারকি চালু থাকলে রমজান মাসে বাজারের মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং ভোক্তাদের লাভ হবে।

  • বিশেষ শিক্ষকের বাড়িতে দুর্বৃত্তের অগ্নিসংযোগ: গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি

    বিশেষ শিক্ষকের বাড়িতে দুর্বৃত্তের অগ্নিসংযোগ: গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার বসত বাড়িতে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। এই ঘটনায় সম্পূর্ণ বাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে চিংড়াখালী ইউনিয়নের ২৯৬ নম্বর সিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুলিয়া বেগমের বাসভবনে। অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়িতে কেউ ছিল না, কারণ বাড়িটি ছিল তালাবন্ধ। ফলে কেউ হতাহত হয়নি। তবে ঘরের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, কারণ তাদের জমাকৃত সম্পদ ও স্মৃতির ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা পূর্ব শত্রæতা রয়েছে। চিংড়াখালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রুলিয়া বেগম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের ভাড়া বাসায় থাকছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন বা বাড়িতে আসেন। তিনি আরও বলেন, তার উপর স্থানীয় শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে, যারা পরিকল্পিতভাবে রাতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন।

    ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে স্থানীয় পুলিশ ও বিএনপি নেতা সোমনাথ দে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। মো. মাহমুদুর রহমান নামে থানা ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রমজানের প্রথম জুমায় ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লীদের ঢল

    রমজানের প্রথম জুমায় ষাটগম্বুজ মসজিদে মুসল্লীদের ঢল

    বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদে রমজানের প্রথম জুমার নামাজ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লীরা ধীরে ধীরে মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে থাকেন। সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুরে এর পর্যায়ে ব্যাপক সংখ্যক মুসল্লীর সমাগম ঘটে, ফলে পুরো মসজিদটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

  • ভ্যাট রিটার্নের সময় বাড়লো ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    ভ্যাট রিটার্নের সময় বাড়লো ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ই-ভ্যাট সিস্টেমে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে তাদের ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গতকাল রোববার রাতে, এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মোঃ বদরুজ্জামান মুন্সীর স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে। সাধারণত প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হয়, কিন্তু ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান সময়মতো দাখিল করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে, পবিত্র শবে বরাত ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে দীর্ঘ সময় সরকারি ছুটি থাকায় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ই-ভ্যাট চালান সিস্টেমে ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় জনস্বার্থে এই সময়সীমা বাড়ানো হলো। এনবিআর সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন না জমা দিলে আইনানুযায়ী জানানো হয়েছে, বিলম্বের জন্য জরিমানা ও আর্থিক শাস্তি আরোপ করা হবে। তাই, সার্ভার জটিলতার কারণে করদাতাদের যেন কোনও অযথা জরিমানা না পড়তে হয়, সেই জন্যই এই সময় বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান数 প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার, তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই রিটার্ন দিচ্ছে না।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী জানান, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী জানান, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতা ভিত্তিক অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অর্থনীতিতে সত্যিই গণতন্ত্র আসা জরুরি। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।

    আমীর খসরু জানান, আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তাই সবচেয়ে আগে আমাদের লক্ষ্য হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার কিভাবে সম্ভব, সেটা নির্ধারণ করা। তিনি আরও বলেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এসব উপাদান না থাকলে আমাদের বড় কোনও পরিকল্পনাই কাঙ্ক্ষিত ফল দান করবে না।

    নতুন অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সব মানুষের জন্য সমান সুযোগের সৃষ্টি করতে হবে। দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, এবং তার ফলাফল যেন প্রত্যেকের কাছে পৌঁছায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

    তিনি দ্রুত এগুলোর জন্য সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানোর দিকে নজর দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছেন। বর্তমান বাংলাদেশে সরকারি নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি থাকায় অর্থনীতির উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, অর্থনীতি উন্নয়নে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে, বা বলতে পারেন, ডিরেগুলেটেড করতে হবে। একে তিনি ‘অবাধ ও মুক্ত’ করতে চান।

    অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ঘোষণা দিয়ে আমীর খান বলেন, লিবারালাইজেশন বা মুক্ত করণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। লক্ষ্য হলো এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণ করে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা প্রত্যেকের দিগন্তে পৌঁছে। অর্থমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এই পরিবর্তনগুলো অর্থনীতির ভাগ্য উন্নত করবে এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।

    উল্লেখ্য, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সাংসদ। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি আরও জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডিফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এবং ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অফিস শুরু করে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এই এফোর্ট চালিয়ে যেতে চায় এবং এ লক্ষ্যে যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। তিনি ব্যবসায়ী সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবির কথাও উল্লেখ করেন এবং জানান, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অবশ্য, প্রথম সপ্তাহেই এই বিষয়টি নিয়ে নোটিশ পাঠানোর বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে তারা।

    রপ্তানি কার্যক্রমের সাম্প্রতিক দুর্বলতার বিষয়ে আলোচনায়, তিনি জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনো এক seuls পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন নতুন পণ্য যোগ করতে হবে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে চান, তাদের যথাযথ সহায়তা দেয়ার জন্য সরকারের লক্ষ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্যের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের জন্য এটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, দেশের মার্জিন অব এরো খুবই কম, ভুলের সুযোগ খুবই সংক্ষিপ্ত। ফলে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধীর গতি দেখতে পাওয়া এই অর্থনীতিকে দ্রুত উদ্ধার করতে সরকার শক্তি দিয়ে কাজ শুরু করেছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজানের সময় ও পরের দিনগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যথাযথ মজুদ রয়েছে, পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পণ্য রয়েছে। তাই বাজারে আতঙ্কের কিছু নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    রমজানের মধ্যে কিছু পণ্যের দামের সাময়িক বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নে, তিনি জানান এটি মূলত এককালীন চাহিদার বৃদ্ধির ফল। মানুষ মাসজুড়ে একসঙ্গে বড় পরিমাণে বাজার করায় হঠাৎ দাম বেড়ে যায়, তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী নয়।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে, তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মাঝে বিনিয়োগ আসে না; বিনিয়োগের জন্য একটানা স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার। দেশে বড় জনগোষ্ঠী শ্রমশক্তিতে ভরপুর, প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তবে, গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগ ক্ষীণ হওয়ায় অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় বিপদ দেখা দিতে পারে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে রমজান শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন তিনি। বলেন, এই রমজান যেন সফলভাবে কর্মায়ন হয়—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার বিষয়। তিনি আরও বলেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, নানা দেশের স্বার্থ জড়িত বিষয়; তাই দেশের স্বার্থে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সবাইকে সহযোগিতা কামনা করেন এবং ভুল হলে মনে করিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান, একসঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশ আরও উন্নতি করবে।