Blog

  • সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার বেড়েছে

    সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ নিশ্চিত করেছে যে, দেশীয় বাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে মাননীয় ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা আগের দিনের মূল্য ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকার চেয়ে বেশি। এই দাম পরিবর্তন আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে যে, তেজাবি বা পিওর গোল্ড ধরনের সোনার দামের বৃদ্ধি শহরগঞ্জে স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকাশিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দরের নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের জন্য যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকার মূল্য ধার্য করা হয়েছে।

    তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার জন্য প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বৈশ্বিক বাজারেও সোনার দাম তুলনামূলকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এই দামের স্তর ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, যেখানে ২৯ জানুয়ারি তা ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    অতিরিক্তভাবে, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, ফলে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস এই বৃদ্ধি ঘোষণা করে, যেখানে ভরিপ্রতি সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে যায়। এর ফলশ্রুতিতে মানসম্পন্ন এক ভরি সোনার দাম পৌঁছে যায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ। এই দাম আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে এবং দেশের বাজারে এমন বৃদ্ধি আগে কখনো দেখা যায়নি।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে। উচ্চ বাজারমূল্য ও উৎপাদন খরচের কারণে অনেক মিল তাদের পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এতে হাজারো শ্রমিকের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে, পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক লোকসান ও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

    দৌলতপুরের দৌলতপুর জুট মিল গত দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রাখে, শ্রমিকরা অকেজো দিন কাটাচ্ছেন। একই পরিস্থিতি অনেক মিলের। কিছু মিল সীমিত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তবে বেশিরভাগই বন্ধ বা স্থবির। শ্রমিকরা আশঙ্কা করছেন, যদি পরিস্থিতি এমনই চলতে থাকলে তারা দীর্ঘমেয়াদে কাজ হারাতে পারেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, আমি গত এক দেড় মাস ধরে মিলের কাজে যোগদান করছি, কিন্তু এখন পুরোপুরি বন্ধ। কাঁচা পাটের অভাবে মালিক মিল চালাতে পারছেন না। যদি এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আমাদের কাজ থেকে ছাটাই হয়তে পারে, আর তা হলে আমরা কীভাবে পরিবার চলে Cheryl? তিনি বললেন, “নতুন কাজের সন্ধানে থাকলেও পরিস্থিতি অনেকটাই অন্যরকম।”

    অন্য একজন শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেন, “আমরা যখন কাজ করি, তখন মালিক ২ টাকা উপার্জন করে, আর আমাদের পাই মাত্র এক টাকা। গত তিন বছর মিলটি ভাল চললেও, এখন দেড় মাস ধরে আমরা অনুপস্থিত। মালিকেরা বলছেন, যদি না কিনতে পারে কাঁচা পাট, তবে মিল চালানো সম্ভব নয়।”

    বিস্তারিত জানা গেছে যে, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল মণপ্রতি প্রায় ৩২০০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৫২০০ টাকায় পৌঁছেছে। দাম দ্বিগুণের মতো বেড়ে গেলেও বাজারে প্রেরিত পণ্যের মূল্য সেই অনুযায়ী বৃদ্ধি পানি। ফলে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলিকে বলেন, “প্রথমে ৩২০০ টাকা দরে পাট কিনে আমাদের প্রতিটি বস্তা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়। শেষ পর্যন্ত ৪০০০ টাকায়ও কিনতে হয়েছে, কিন্তু লাভের অংক খুবই কম। এখন পাটের দাম ৫২০০ টাকা হওয়ার পর, এক বস্তার জন্য খরচ হয় এইচ ১২০ টাকার বেশি, যেখানে বিক্রয়মূল্য কম। ফলে মিল আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।”

    তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিছু সিন্ডিকেটকারী ব্যবসায়ী পাট মজুত করে দাম বাড়াচ্ছে। তিনি বলছেন, “সরকার যদি না দেখবে তাহলে এই খাতের দুর্দশা আরও বাড়বে।”

    বাজারের এই পরিস্থিতির জন্য শ্রমিকদের পাশাপাশি মিল মালিকরাও উদ্বিগ্ন, যারা বলছেন বাজার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি জরুরি। বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন জানান, “অসাধু অবৈধ মজুতদাররা পাটের দাম বাড়ানোর জন্য বাজার অস্থির করে তুলেছে। এ ছাড়াও, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত, যা এই শিল্পের উপর চাপ বৃদ্ধি করছে। সরকারের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”

    পাট অধিদফতর জানিয়েছে, তারা বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, “আমরা নিয়মিত তদারকি করছি, একজন আড়তদার বা ডিলার এক মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মণ পাট মজুত রাখতে পারবেন। অতিরিক্ত মজুত ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূল লক্ষ্য, বাজারে পণ্য সরবরাহ ও দামের রক্ষণাবেক্ষণ।”

    খুলনা অঞ্চলে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাট ও পণ্য উৎপাদিত হয়, যা বেশিরভাগই বিদেশে রফতানি হয়। তবে বর্তমানে চলমান সংকট দীর্ঘমেয়াদি হলে, উৎপাদন ও রফতানি দুটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে যাবেন জামায়াত আমির

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে যাবেন জামায়াত আমির

    আগামীকাল শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সকাল ১২টা ১ মিনিটে দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে তিনি শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই সময় তিনি তার সঙ্গে দেশের ১১ দলের ঐক্য জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়েও উপস্থিত থাকবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ডা. শফিকুর রহমান আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের সমাধিতে যাবেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাতের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করবেন। এই সব কার্যক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত করে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

    প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় জোট পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তারা ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় প্রার্থনা করেন। এই দোয়ার মধ্য দিয়ে তারা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্বীকৃতি এবং গুরুত্ব আবারও প্রমাণ করলেন।

    রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোট। এরপর কিছুক্ষণ পর, ১২টা ১০ মিনিটের দিকে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এই সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদে বিরোধীদলের হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত, এটিএম আজহা সহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা শহীদ বেদিতে কিছুক্ষণ নীরব অবস্থায় দাঁড়িয়ে দোয়া করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে কোরআন তেলাওয়াত এবং দোয়া পরিচালনা করেন জামায়াতের আমির নিজেই।

    অতীতে এমন মর্যাদাপূর্ণ শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনা ঘটেনি, এটি প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।

    এছাড়া, পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি জামায়াত নেতারা আজিমপুর কবরস্থানে যান ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করতে। সেখানে তারা শহীদদের রূহের জন্য দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।

    উল্লেখ্য, এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধানরা যথাক্রমে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। একুশের প্রথম প্রহরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভাষা শহীদদের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আজকের এই দিনে।

  • অবরুদ্ধ একুশ থেকে মুক্তি পেল বাংলা ভাষা ও সুবিধাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন

    অবরুদ্ধ একুশ থেকে মুক্তি পেল বাংলা ভাষা ও সুবিধাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে একুশের ভাষা শহীদ দিবসটি ছিল একপ্রকার অবরুদ্ধ। এবার সেই রুদ্ধদ্বার পর্দা সরিয়ে বাংলার মহান ভাষা ও স্বাধীনতার স্বপ্ন মুক্তির মুখ দেখলেও। এই পরিবর্তন আমাদের জন্য এক নতুন অনুভূতির সৃষ্টি করেছে।

    শুক্রবার রাতে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে তিনি এই কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এই নতুন সরকার গঠিত হয়েছে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে, এবং আমাদের আশার আকাশ এখন অনেক ঊর্ধ্বে। আমাদের প্রত্যাশা, দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ন্যায্যতা, স্বাধীনতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, একুশের মূল চেতনা ছিল বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এই চেতনা আমাদের সামনে আলোকদীপের মতো উজ্জ্বল। ভবিষ্যতে আমরা এই মূল মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবো। নতুন একুশের অনুপ্রেরণায় আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবো, মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করব। পাশাপাশি, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবো।”}

  • নিষিদ্ধ আ.লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন

    নিষিদ্ধ আ.লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জের বগারচর ইউনিয়নে একটি অসাধারণ ও বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ একটি দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই অনুষ্ঠানে তারা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়েছিলেন, যা অনেকের কাছে উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এই কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, তাঁতী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্ৰলীগের নেতাসহ বেশ কয়েকজন। পতাকা উত্তোলনের পর তারা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগাফেরাত কামনায় মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনার ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বকশিগঞ্জের গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছেন, তিনি লিখেছেন, ‘নিষিদ্ধ দলে পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান দেওয়ার জন্য দায়ী নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে, নাহলে ছাত্রজনতা নিজে উপযুক্ত জবাব দেবে।’ তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশও আশ্বাস দিয়েছে। বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন বলেছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও বিতর্কের ঝড় বইছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের মতামত প্রকাশিত হচ্ছে।

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা: পুনর্বিন্যাস ও সাংগঠনিক গতি বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা: পুনর্বিন্যাস ও সাংগঠনিক গতি বৃদ্ধি

    আগামী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল বৈঠকে নেওয়া হয়, যেখানে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য নতুন নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

    নতুন কমিটিতে আবারও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে চারজন নায়েবে আমির, সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে।

    এছাড়াও, দলটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে দেশের ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে প্রত্যেক অঞ্চলের জন্য পর্যাপ্ত অঞ্চল পরিচালক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রমের গতি আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কমিটির মেয়াদ চলবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

    শুক্রবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্যদের সাথে পরামর্শে দায়িত্বশীলদের নির্বাচন ও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন। সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীগণ সশরীরে অংশগ্রহণ করেন।

    ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ডা. শফিকুর রহমানকে দলের আমির নির্বাচিত করার প্রায় তিন মাস পরে এই পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    নতুন কমিটিতে চার জন নায়েবে আমির হচ্ছেন— এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) এবং মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম।

    সাত জন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের মধ্যে রয়েছেন— মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

    কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নেতাদের সমন্বয়ে ২১ জন সদস্য রয়েছেন, যারা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। নারী সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে— কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী রয়েছে, এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা বিভাগে ১৭ জন নারী সদস্য থাকবেন, যা সংগঠনে নারীর অংশগ্রহণের উন্নতি নির্দেশ করে।

    ডিপ্লোম্যাটিক কার্যক্রম ও নির্বাচন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান হচ্ছেন মাওলানা এটিএম মাছুম।

    সারাদেশের সাংগঠনিক কার্যক্রমের আরও গতিশীলতা আনার জন্য বিভাগীয় স্তরে ১৪টি অঞ্চল নির্ধারণ করে প্রত্যেকের জন্য পরিচালক নিয়োগ করা হয়েছে। তারা রংপুর-দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়া-যশোর, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঢাকা মহানগর, ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা-নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বে থাকবেন।

    সংগঠনের এই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে সংগঠনটি তার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করে আগামী নির্বাচনী আন্দোলন ও কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই কাঠামো বজায় রেখে মাঠ পর্যায়ের পুনর্গঠন, কর্মসূচি সমন্বয় ও রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

  • শপথের প্রয়োজন নেই, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    শপথের প্রয়োজন নেই, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    পানি সম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয় হ্যাঁ-না ভোট, যেখানে দায়িত্বশীল সাধারণ ভোটাররা হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। ফলে গণভোটে হ্যাঁ জয়লাভ করেছে। এই প্রক্রিয়ায়, পার্লামেন্টে বিল আনার জন্য কোনও আলাদা শপথের প্রয়োজন হয় না। হ্যাঁ ভোটের ফলাফল অটোমেটিকভাবে কার্যকরী হবে – এটাই এখন নিয়ম ও প্রক্রিয়া বললেন তিনি।

    শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, যেখানে না ভোট দেওয়া হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট বিল বা সিদ্ধান্তের উপর আলোচনা চলবে। এ ক্ষেত্রে, কোন সিদ্ধান্ত কিভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ধারিত হবে আইন অনুযায়ী। যেখানে এমন কিছু নোট অব ডিসেন্ট জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিষয়েও যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। এ সব কিছু জানতে, বুঝতে এবং স্বচ্ছভাবে বিষয়গুলো প্রকাশ করতে প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন এ্যানি।

    অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, যারা বিভিন্ন অসংগঠিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন, সেসব থেকে সরে আসা উচিত। বিশৃঙ্খলা ও মব কালচার বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রার জন্য বড় সর্তকতা। সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে সরকারের সহযোগিতা করতে হবে। কেউ যদি এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তার দায়দায়িত্ব তারই।

    তিনি বলেন, সরকারের এগিয়ে নেওয়া পরিকল্পনা ও উন্নয়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। মতপার্থক্য থাকলেও, সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে একসঙ্গে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। সব ধরনের বিরোধিতা ও বিভাজন এড়িয়ে, দেশের স্বার্থে সবাই একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. এমরান, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীরা।

  • তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ঘোষণা করলেন, আগামী মাস থেকে শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ঘোষণা করলেন, আগামী মাস থেকে শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন অনুযায়ী দেশের গরীব ও অন্নপূর্ণ পরিবারের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতের মাস থেকে শুরু হবে। প্রথম ধাপে এই কার্ডের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে দেশের ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের নারী সদস্যরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

    শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভা, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলার মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কখনোই আপোস করেনি। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ২৪’এর গণঅভ্যুত্থান এই সংগ্রামেরই প্রমাণ। ভাষা দিবসের মূল চেতনা ছিল ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। এখন সময় হয়েছে, দেশে আর কোনো অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা দখল সম্ভব নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসাই হলো শান্তিপূর্ণ ও বৈধ পথ।

    গণমাধ্যমের বিষয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে কাজ করতে দিতে হবে এবং তাদের স্বাধীনতা অবারিত রাখতে হবে। কোনো গোষ্ঠী যেন গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ না করে, সেটা নিশ্চিত করতে আমি দায়িত্ব নেওয়া। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় চাপ বা হস্তক্ষেপ চলবে না।

    মন্ত্রী আরও বলেন, দেশটিতে কিছু মহল মব কিডন্যাপ ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেসবের সঙ্গে যোগ দিয়ে থাকেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যেন আর কোনভাবে সমর্থন না দেয়া হয়, সে বিষয়ে কঠোর মনোভাব নেওয়া হয়েছে। সবাই মিলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে, এবং যারা স্বার্থান্ধ হয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন, তারা সতর্ক থাকবেন।

    রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আন্দোলন ধরনের পেশা নয়। আমাদের অনেকের ওপর চাপ ছিল, আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন আমাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোন আন্দোলন সৃষ্টি না হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন। এ ছাড়াও বক্তব্য দেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলী, জেলাপ্রশাসক ফারজানা ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আবদুল হান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবায়দুল হক চাঁন এবং কাজী গোলাম মাহবুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম।

  • প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুরনো কর্মচারীদের ডেকে আলোচনা করেন তারেক রহমান

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুরনো কর্মচারীদের ডেকে আলোচনা করেন তারেক রহমান

    শনিবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী তার তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছে পুরনো কর্মচারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, লীগে ১৯ বছর আগে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে মোটামুটিভাবে কিছু কর্মচারী এখনও কার্যালয়ে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বয়স হয়েও তাদের নাম ধরে ডেকে তাদের সঙ্গে আন্তরিকতা ও স্নেহের সঙ্গে কথা বলেন। এই মুহূর্তটি ছিলো খুবই স্মরণীয় ও আবেগাপ্লুত করার মতো।

    প্রথমে তিনি অফিসের বাগানের বৃক্ষের রোপণ করেন। এরপর তিনি কার্যালয়ে প্রবেশের সময় লক্ষ্য করেন যে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একসঙ্গে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানাচ্ছেন। সেই সময় একজন কর্মচারী তাকে দেখামাত্রই নাম ধরে ডেকে বলেন, তারপর তিনি দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান, তাঁর সঙ্গে হাত মেলান এবং পরিবারের খবর নেন। স্থানীয় কিছু কর্মচারীকে ও এই দিনটাই তাদের জন্য বিশেষ মনে হয়।

    ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সরকার গঠনের পর সেবাকালীন এই কার্যালয়েই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছিলেন খালেদা জিয়া।

    অতিরিক্ত প্রেস সচিব বললেন, যারা খালেদা জিয়ার সময় কাজ করেছেন, তারা ১৯ বছর ধরে এই কার্যালয়ে আছেন। এখন তারা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, তবে প্রধানমন্ত্রী তাদের চিনতে ভুল করেননি। তিনি নাম ধরে ডাকেন এবং তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। এই কারণে তারা আবেগপ্রবণ, আবার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিস্মিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মানবিক মনোভাব দেখে।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী রেড ব্লকে প্রবেশ করেন, যেখানে তাঁর চেম্বার বা কক্ষ অবস্থিত। তিনি সেখানে নিজের চেয়ারে বসে দেশের মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেন।

    পরে তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন বলে জানানো হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এসে পৌঁছানোর পর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাঁকে স্বাগত জানান।

    অতীতে, ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর থেকে এই প্রথম তিনি সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে অফিস করছেন। এই দিনই তিনি প্রথম অফিস করেছেন।