Blog

  • বাংলাদেশে ভরি সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশে ভরি সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে প্রতি ভরি সোনার সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সোনার মান সম্পন্ন ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে গতকাল একই সময়ে এর মূল্য ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম বাড়ানোর তথ্য প্রকাশ করে। নতুন দাম সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়।

    সংগঠনটি নিশ্চিত করেছে যে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারেও সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামের পরিমাণ অনুসারে, সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়াও, অন্যান্য ক্যারেটের দামের মধ্যে রয়েছে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    অতিরিক্ত, সোনার পাশাপাশি রুপার দামো বাড়ানো হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্ব বাজারে সোনার দামও বাড়ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৫ হাজার ১০৬ ডলারে, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।

    এর আগে, ৩০ জানুয়ারি বিশ্বের বাজারে স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি এটি পৌঁছেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে দেশের বাজারেও চরম মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একেবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করলে, এক মানের স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম। একই সময়ে সোনার দাম এতটা বৃদ্ধির নজির আর কখনো দেখায়নি।

  • খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে, এর মূল কারণ হলো কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। বাজারে কাঁচা পাটের মূল্য এত বেশি বাড়ায়, উৎপাদন খরচ অনেকখানি বেড়ে গেছে, যার ফলে বেশ কিছু পাটমিল তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, অধিকাংশ কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক ক্ষতিও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে বন্ধ হওয়ার মুখে ঠেলে দিতে পারে তাদের।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলে প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা কাজে না গিয়ে কেবল সময় কাটাচ্ছেন। দেশের অন্যত্রও অন্তত একটি ডজনের বেশি মিলের বেশির ভাগই এখন কার্যকলাপে স্থবির। কিছু মিল কিছুটা চালু থাকলেও আকারে কম। শ্রমিকদের আশা, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘প্রায় দেড় মাস ধরে মিল বন্ধ, কাজ নেই। কাঁচা পাটের অভাবে মালিক মিল চালাতে পারছেন না। যদি এই অবস্থা থাকে, তবে হয়তো আমাদের কাজ থেকে ছাঁটাই করে দিতে পারেন। তো, আমরা কীভাবে আমাদের পরিবার চালাবো?’’ অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা কাজ করলে মালিক ২ টাকা আয় করেন, আর আমাদের দিতে হন ১ টাকা। শেষ তিন বছরে এই মিল ভালো চলছিল, কিন্তু এখন দেড় মাস ধরে আমরা বসে আছি। মালিক নিজে না বাঁচলে আমাদের বাঁচাবে কী করে?’’ তারা দাবি করেন, এই সংকটের জন্য সরকারই কঠিন পদক্ষেপ নেবেন।

    মিল মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা মণ, এখন তা গিয়ে পৌঁছেছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি বাড়লেও বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়নি সে অনুযায়ী। এর জন্য উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে উদ্যোক্তারা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলি­ক বলছেন, ‘‘বর্ধিত দামে পাট কেনার কারণে এখন উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আগে ৩২০০ টাকা দরে পাট কিনে এক বস্তা কিনলে আমরা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়। তবে সর্বশেষ ৪০০০ টাকা দরেও পাট কিনে মিল চালিয়েছি। শ্রমিকদের জন্য লোকসান সত্ত্বেও মিল চালু রেখেছিলাম। কিন্তু এখন ৫২০০ টাকা দরে পাট কিনছি, আর এক বস্তার খরচ এখন ૧২০ টাকার বেশি, কিন্তু বিক্রির মূল্য তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে না। ফলে দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রেখেছি।’

    তাঁর দাবি, এই বছর কাঁচা পাটের উৎপাদন গত বছরের মতোই হয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম artificially বাড়িয়ে রেখেছেন। সরকার যদি নথিপত্র না দেখে, বাজার তদারকি না করেন, তবে মিল চালানো সম্ভব হবে না।

    কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে কাঁচা পাটের উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৩৯ হাজার ৩৪৪ হেক্টর জবে ৯৪ হাজার ৬৬৬ মে:টন পাট উৎপাদিত হয়, আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮ হাজার ২৬৮ হেক্টরে ৯১ হাজার ১৩৫ মে:টন।

    মিল মালিকদের অভিযোগ, কয়েকটি ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট করে পাট মজুত করে রাখছে, যার ফলে বাজারে দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ জুট মিল এসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলছেন, ‘‘নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও তদারকি জোরদার করা। অপরাধমূলকভাবে কিছু ব্যবসায়ী কাঁচা পাট মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে, যা বা মূলত দাম বাড়ার পিছনে দায়ী।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ব্যাংকের ঋণ সমস্যা ও বাজারে বিভিন্ন সংকটের কারণে এই খাতের সমস্যা জটিল হয়ে পড়ছে। সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।’’

    এদিকে, পাট অধিদফতর নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, ‘‘আড়তদার বা ডিলাররা সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবেন, যা আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করি। বেশি মজুত পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক হতে পারে।’’

    খুলনা অঞ্চলে ইজারা ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে ২০টি পাটকল আছে। এসব মিলের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশই দেশের বাইরে রফতানি করা হয়। তবে যদি এই সংকট চলমান থাকে, তবে উত্পাদন ও রফতানি দুটোই বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা দেন দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ভার্চুয়াল বৈঠকে এটি সম্পন্ন হয়, যেখানে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য নতুন কমিটি গঠন ও শপথ নেওয়া হয়।

    নতুন কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে আবারও দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, যারা দলটির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও, চারজন নায়েবে আমির, সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা ও ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠিত হয়েছে।

    এছাড়া, দলটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংগঠনিক কর্মক্রমকে আরও জোরদার করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের সার্বিক কর্মকাণ্ডের জন্য ঢাকাসহ ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চল ভাগ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক অঞ্চলে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংগঠন আরও সুসংগঠিত হয়ে ওঠে। এই নতুন কমিটির মেয়াদ চলবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

    শুক্রবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে দায়িত্বশীলদের নির্বাচন করেন এবং শপথ গ্রহণ করান। উল্লেখ্য, নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন, অন্যরা ভার্চুয়ালি যোগ দেন।

    গত বছর ২ নভেম্বর ডা. শফিকুর রহমানকে দলটির আমির নির্বাচনের প্রায় তিন মাস পর এই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    নতুন কমিটিতে চার জন নায়েবে আমির আছেন, যাদের মধ্যে আছেন– এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) ও মাওলানা আ. ন. ম শামসুল ইসলাম।

    সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন– মাওলানা এটিএম মাছুম, রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মোহাম্মাদ শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

    কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে মোট ২১ সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন– মিয়া গোলাম পরওয়ার, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা এটিএম মাছুম ও অন্যান্য নারী ও পুরুষ নেতৃবৃন্দ।

    দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সদস্যদের মধ্যে নারীর প্রতিনিধিত্বও উল্লেখযোগ্য, যেখানে ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন এবং ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে ১৭ জন নারী সদস্য রয়েছে। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলের সংগঠনের মধ্যে নারী অংশগ্রহণের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    নির্বাচনী পরিবেশে আরও সুসংহত ও গতিশীল করার জন্য ৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনের প্রধান হলেন মাওলানা এটিএম মাছুম, অন্যান্য কমিশনাররা রয়েছেন অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, আবদুর রব, মোবারক হোসাইন ও মাওলানা আ. ফ. ম. আবদুস সাত্তার।

    সারাদেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রংপুর-দিনাজপুরে মাওলানা আবদুল হালিম, বগুড়ায় এটিএম আজহারুল ইসলাম, রাজশাহীতে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কুষ্টিয়া-যশোরে মোবারক হোসাইন, খুলনায় অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, বরিশালে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ময়মনসিংহে অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, ঢাকা মহানগরীতে মিয়া গোলাম পরওয়ার, উত্তরে সাইফুল আলম খান মিলন, দক্ষিণে আবদুর রবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দায়িত্ব পালন করবেন।

    এভাবে, নতুন কমিটি ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন চালিয়ে জেলার ও দলের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও পরিকল্পিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জামায়াত। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই কাঠামো অনুসারে মাঠ পর্যায়ে সংগঠন, কর্মসূচির সুচারু সমন্বয় ও রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানায়।

  • প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

    প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়া

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হলো। দেশটির বিরোধীদলীয় জোটের এই কর্ণধার ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের অন্যান্য নেতারা শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছে যান জামায়াতের নেতারা। এরপর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ডা. শফিকুর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদে বিরোধীদলের হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত, এটিএম আজহার ও জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা শহীদ বেদিতে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করেন।

    শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যান আজিমপুর কবরস্থানে, যেখানে ভাষা আন্দোলনের শোকার্ত শহীদদের কবর রয়েছে। সেখানে উপস্থিত হন ডা. শফিকুর রহমান ও তার দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা কবরস্থানে পৌঁছে ভাষা শহীদদের জন্য কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন, কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চালিয়ে যান। দোয়া পরিচালনা করেন জামায়াতের আমির নিজেই।

    উল্লেখ্য, এটি প্রথমবারের মতো যে জামায়াতের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে এত বড় আকারে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দেওয়া হলো। এর আগে দেশের কোনও রাজনৈতিক দল এই ধরনের উপস্থিতি দেখায়নি।

    অন্যদিকে, গভীর শ্রদ্ধা জানাতে প্রধানমন্ত্রীও শহীদ মিনারে পৌঁছে ফুল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে পরপর অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী যেমন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ নেতাদের হাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

    একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা টা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়েছে। মাতৃভাষা দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করছে দেশ।

  • দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট শাসনে একুশ ছিল অবরুদ্ধ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট শাসনে একুশ ছিল অবরুদ্ধ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ দিন ধরে একুশের ভাষা আন্দোলন ছিল ফ্যাসিস্ট শাসনের জুলুমের শিকার। এখন সেই কঠিন সময় শেষ হয়েছে, একুশের প্রকৃত অর্থ মুক্তি পেয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে অনুভবের বিষয়।

    শুক্রবার রাতারাতি, একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন শেষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ঘোষণা হয়েছে। এ সরকারের নেতৃত্বে দেশের মানুষের প্রত্যাশাও অপ্রতিরোধ্যভাবে বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন, যেখানে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সবাই সমান অধিকার পাবে।

    তিনি emphasizing করেন, একুশের মূল চেতনা ছিল বাংলার স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক মুক্তির আন্দোলন। সেই চেতনা অনুপ্রেরণা হিসেবে ধরে রেখে, আমরা ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের এই নতুন একুশের প্রেরণাকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাবো। মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করতেই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, পাশাপাশি সংস্কৃতির বহুমুখী বিকাশেও মনোযোগ দেবো।

    তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। এই একুশের অনুভূতি আমাদের নতুন উদ্দীপনা দিচ্ছে দেশের উন্নয়নে অদম্য সমর্থন দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার।

  • নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন

    নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিসে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে পতাকা উত্তোলন

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সুযোগে জামালপুরের বকশিগঞ্জে বগারচর ইউনিয়নে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন এবং ভাষা শহীদদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন সংগঠন নানা ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে, নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও পতাকা উত্তোলন করেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ ও আরও অনেক নেতাকর্মী। তারা পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের জন্য মোনাজাত পরিচালনা করেন।

    উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর নেতাকর্মীরা দ্রুত কার্যালয় থেকে সটকেন, যা স্থানীয়দের মাঝে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়। বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠনের বকশিগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নানা স্লোগান ও পতাকা উত্তোলন করেছেন। এটি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ও গৌরবের বিষয় নয়, বরং অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিগত এক দেড় বছরে এই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা দুর্বলতার পরিচায়ক। চলতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।’

    অন্যদিকে, স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি), বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করা হয়। সেই পোস্টে বলা হয়, সেলিমা রহমানের পরিবার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে দেশের মানুষের কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হচ্ছে। সেলিমা রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবনে নানা সংগ্রাম ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে, বেশ কয়েকবার কারাবরণও করতে হয়েছে। তবে তার অবদানের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছেন।

  • ইমাম হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার ও ওসির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ

    ইমাম হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার ও ওসির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ

    জুলাই মাসে গঠিত গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন তাইমের মৃত্যু ঘটে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা তাইমকে পুলিশ অত্যন্ত কাছ থেকে আবারও গুলি করছে, যা ঘটনাটির জোড়ালো প্রতিবাদ ও মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগের কারণ হয়।

    আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান ও যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ মামলার সূচনা ভাষণ ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে।

    এছাড়া, একই দিনে ট্রাইব্যুনালে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক ও উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেন আহত আন্দোলনের কর্মী ইমরান হোসেন। তিনি তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, নিজের চোখে দেখেছেন কী ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল।

    অপরদিকে, রাজধানীর জাহাজবাড়িতে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ জনকে হত্যার অভিযোগে পলাতক থাকা শেখ হাসিনাসহ ছয় আসামির আত্মসমর্পণের জন্য ট্রাইব্যুনাল-১ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।

    এছাড়া, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার মামলার সুযোগে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন অভিযুক্ত হাসানুল হক ইনুর পক্ষের সাফাই সাক্ষী। এই মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ন্যায়শাস্তি নিশ্চিতের প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্ট আদালত।

  • ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করলেন

    ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করলেন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদ থেকে অবসরে গেছেন। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) তিনি শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার ফিরোজ আহমদ। তিনি জানান, আজ সকালে, পড়ন্ত ঘণ্টায়, উপাচার্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এই ভঙ্গিতে তাঁর পদত্যাগপত্র প্রদান করেছেন।

    উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ বলেন, আজ সকালে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এখনো মন্ত্রণালয় থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর নিয়ম অনুযায়ী নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সূত্রগুলো জানিয়ে, ব্যক্তিগত এবং প্রশাসনিক কারণ উল্লেখ করে ড. নিয়াজ আহমদ খান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিধি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    এর আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কণ্টকাকীর্ণ থেকে গেছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিক উন্নতি লক্ষণীয়ভাবে দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের সময় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    তিনি আরও বলেছিলেন, দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যেন কোনও শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি। সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যদি মনে করে কিছু সময় প্রয়োজন, তিনি তাও স্বাগতম জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য উল্লেখ করেন, সরকার যাতে নিজেদের মতো করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনর্গঠন করতে পারে, সেজন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সঙ্গে, প্রয়োজনে সরকারকে সহায়তার আশ্বাসও দেন ড. নিযাজ আহমদ খান। তিনি দ্রুত ডেপুটেশনের সমাপ্তি চেয়ে নিজ বিভাগে শিক্ষকতা কার্যক্রমে ফিরতে চাইছেন। সরকারের কাছে তিনি অনুরোধ করেন, তাকে শিক্ষকতায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের।

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ও রাজনীতি মুক্তির অঙ্গীকার

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ও রাজনীতি মুক্তির অঙ্গীকার

    শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিশেষভাবে নিশ্চিত করেছেন, তারা দুই মন্ত্রী কখনো দুর্নীতি করবেন না এবং কাউকে দুর্নীতিতে সহায়তা দিতেও দেবেন না। আজ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের একসভায় শিক্ষাকার্যকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এই কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আমরা দুটি মন্ত্রীর দৃষ্টিকোণে দুর্নীতি মুক্ত মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এই মন্ত্রণালয়সহ পুরো শিক্ষা বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত ও রাজনীতিমুক্ত রাখাই আমাদের অঙ্গীকার। আমরা একত্রিতভাবে সিদ্ধান্ত নেব, যাতে কোনভাবেই দুর্নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব এখানে স্থায়ীভাবে প্রবেশ করতে না পারে। এ বিষয়ে আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে।

    এছাড়া, শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্ট বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাজেটের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এখানেও গুরুত্ব ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    শিক্ষামন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগের বিষয়েও আশ্বাস দেন, সেগুলোর পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডির বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন। পাশাপাশি, একাধিক আর্থিক দায়িত্ব একটি ব্যক্তির কাছে না দিয়ে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন।

    এনটিআরসি বা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছ, তার রিভিউ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন কার্যকর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা দুর্নীতি করি না, করব না এবং করতে দেব না।’ শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার এই অঙ্গীকার দৃঢ়ভাবে বজায় রেখে চলেছে।

    অভিযোগ সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর উপর শিগগিরই বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

    অর্জিত পরিস্থিতিতে, বর্তমান সরকারের নীতি নির্ধারণে শিক্ষা খাতের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মত প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা বৈঠকেও এই বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব কোনোভাবেই থাকতে দেওয়া হবে না। তিনি নিজেও এবং শিক্ষামন্ত্রী উভয়ই এই ব্যাপারে কোন ছাড় দেবেন না।

    সবমিলিয়ে, এই সভায় পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিপূর্ণভাবে পরিচালিত করা হবে।