Blog

  • সংবর্ধনা ও পুরস্কারের জোয়ারে ভাসছে সাফজয়ী নারী দল

    সংবর্ধনা ও পুরস্কারের জোয়ারে ভাসছে সাফজয়ী নারী দল

    টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে দেশকে আনন্দে ভাসানো নারী ফুটবল ভাসছে পুরস্কারের জোয়ারে। বিভিন্ন জায়গা থেকে পাচ্ছে সংবর্ধনা। দেশে ফিরে ছাদখোলা বাসে বাফুফে ভবনে নেওয়া হয় ফুটবলারদের। সেখানে দলকে স্বাগত জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দলকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেন এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    সেদিনই নারী দলকে ২০ লাখ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একদিন পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাফজয়ী দলটিকে সংবর্ধনা দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যৌথ উদ্যোগে শনিবার সাবিনা-কৃষ্ণাদের এক কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।

    এর বাইরেও বিভিন্ন তরফ থেকে আর্থিক পুরস্কার নিশ্চিত হয়েছে নারী ফুটবলারদের। আবার কর্পোরেট হাউজ থেকেও তারা পাচ্ছেন সংবর্ধনা ও উপহার। আজও সংবর্ধনা পেয়েছেন তহুরা-মনিকারা। বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নারী ফুটবল দলের প্রত্যেক সদস্যকে একটি করে ফ্রিজ উপহার দিয়েছে ইলেকট্রনিক সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন।

    সংবর্ধনা ও উপহার পেয়ে সভাবতই উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ওয়ালটনকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবর্ধনা পেতে সবারই ভালো লাগে, আমাদের সবারই ভালো লাগছে। তবে পৃষ্ঠপোষকরা যদি নারী দলের ফুটবলারদের ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমরা উপকৃত হই, দেশের ফুটবলও উপকৃত হয়।’

    এই অনুষ্ঠান থেকে মন ভালো হওয়ার মতো আরও বড় খবর শুনেছেন নারী ফুটবলাররা। মেয়েদের ফুটবল লিগ ও আগেই দিয়ে রাখা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করার কথা জানিয়েছেন বাফুফের নারী ফুটবল উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর যেন মেয়েদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজিত হতে পারে, আমরা সেটা নিয়ে ভাবছি। মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগ যেন আরও জমজমাট হতে পারে, আশা করব সে জন্য দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলো এবার এগিয়ে আসবে।’

    সংবর্ধনা ও পুরস্কারের জোয়ারে ভাসছে মেয়েরা, তবে এ সময়ে তাদেরকে মাটিতে পা রাখতে বলছেন কোচ পিটার বাটলার। তিনি বলেন, ‘ফর্ম অস্থায়ী, মান স্থায়ী; মেয়েদের কথাটা মনে রাখতে হবে। তাদের এ সাফল্যে অনেকেরই অবদান আছে। সাফ জিতে আসার পর আমাদের অনেকেই উপহার দিচ্ছেন, অভিনন্দিত করছেন। এটা খুব ভালো, এতে মেয়েরা অনুপ্রাণিত হবে। তবে ওদের মাটিতে পা রাখতে হবে।’

    জীবনবোধের শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে ইংলিশ এই কোচ আরও বলেন, ‘আরও একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে, একটি ফ্রিজ বা অন্য উপহার বাজারে গিয়ে আপনি কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনি বাজার থেকে এক বাক্স সততা কিংবা নম্রতা বা শ্রদ্ধা কিনতে পারবেন না। এ ব্যাপারগুলো সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। সবাইকে মাটিতে পা রাখতে হবে।’

    সাফ চলাকালীন ফুটবলারদের সঙ্গে বাটলারের দূরত্ব তৈরি হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। সিনিয়র ফুটবলারদের তিনি পছন্দ করেন না বা তাদের খেলাতে চান না, এমন অভিযোগ করেছিলেন দলের কেউ কেউ। যদিও এসব অন্তর্কলহ পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেনি, বাটলারের কোচিংয়েই শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।

    সাফল্য কুড়ালেও প্রধান কোচের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বাফুফে। নারী ফুটবল উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার বলেছেন, ‘বাটলারের সঙ্গে বাফুফের চুক্তি আছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখনও কিছু সময় বাকি, আমরা বিষয়টি নিয়ে পরে ভাববো।’

  • জোড়াতালি দিয়ে চলছে বিসিবিঃ ক্রীড়া উপদেষ্টা

    জোড়াতালি দিয়ে চলছে বিসিবিঃ ক্রীড়া উপদেষ্টা

    রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) কয়েকটি বড় বদল এসেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচিত করা হয় নতুন সভাপতি, পরিবর্তন আসে দুটি পরিচালক পদে। কয়েকজন সরে দাঁড়ানোর পর আত্মগোপনে থাকা বেশ কয়েকজন হারান পরিচালক পদ। ২৫টির মধ্যে ১৫টি পরিচালকের পদ শূন্য হওয়ায় ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিসিবিতে বর্তমানে সর্বসাকূলে ১০ জন পরিচালক আছেন। একেকজনকে সামলাতে হচ্ছে কয়েকটি করে বিভাগ। সংস্কারের সঙ্গে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে বর্তমান বোর্ড। অবস্থা বিবেচনায় এটাকে ‘জোড়াতালি’ বলা হচ্ছে, যা মেনে নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও। বিসিবি জোড়াতালি দিয়ে চলছে; কদিন আগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্রীড়া উপদেষ্টা এ বিষয়ে কথা বলেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে রোববার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। বুলবুলের মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যখন দায়িত্ব নিই, তখন বিসিবির লোকজনকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। নতুন পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে স্থবিরতা কাটানোর চেষ্টা চলছে।’

    ‘এ ছাড়া প্রতিটি ফেডারেশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রতি বছর কার্যক্রমের রিপোর্ট ও অডিট রিপোর্ট দেওয়া হবে। কেউ যদি দুর্নীতি করে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। তবে ফুটবলসহ বেশ কিছু ফেডারেশন স্বায়ত্তশাসিত। তাই সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এটা বাস্তব যে বিসিবি জোড়াতালি দিয়ে চলছে। বিসিবিতে নতুন পরিচালক নিতে হবে।’ যোগ করেন তিনি।

    গত ৩০ অক্টোবর বিসিবির বোর্ড সভায় সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, তানভীর আহমেদ টিটো, শেখ সোহেল, আ জ ম নাছিরসহ ১১ জন পরিচালকের পদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকায় পদ হারান  তারা। বিসিবি গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই তাদের অপসারণ করা হয়। বিসিবিতে শূন্য হওয়া ১৫টি পরিচালক পদের মধ্যে ১১ জন পদ হারিয়েছেন, তিনজন পদত্যাগ করেছেন এবং একজন মারা গেছেন।

    গত সেপ্টেম্বরে এক সঙ্গে ৪২টি ফেডারেশনের সভাপতিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফেডারেশনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘বিভিন্ন কমিটি নিয়ে যে অভিযোগ আছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেখানে স্থবিরতা আছে, সেখানে নতুন কমিটি করে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা ফেডারেশনগুলোকে প্রতি বছরের হিসাব দিতে বলেছি। আপনারা (সাংবাদিকরা) ফেডারেশনগুলোকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন।’

    তিন টেস্ট ভেন্যু মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের সংস্কার ও উন্নয়নের ব্যাপারে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্টেডিয়ামগুলো সরকারের অধীনে। তাই এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দেনাপাওনার বিষয় থাকলে সেটি আমরা আলাদাভাবে দেখব।’

  • নিশ্চয়তা দিচ্ছি আপনাদের একটা মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাব: প্রধান উপদেষ্টা

    নিশ্চয়তা দিচ্ছি আপনাদের একটা মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাব: প্রধান উপদেষ্টা

    সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি সকল প্রকার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা আপনাদের একটা মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাব; এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একইসাথে ভবিষ্যতে চলার পথকে সহজগম্য করা ও নাগরিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

    অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ (রোববার) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

    ড. ইউনূস বলেন, “পতিত সরকার আমাদের জন্য যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রেখে গিয়েছে তাতে রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। এর মধ্যেও জুলাইয়ের নেতিবাচক অবস্থা থেকে অক্টোবর নাগাদ রাজস্ব আদায়ে পৌনে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি ছিল। যে কারণে এবার শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে স্বৈরাচার পতনের পরবর্তী তিন মাসে পৌনে ৯ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির পরও লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৩ শতাংশের বেশি ঘাটতি থেকে যায়। রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে আমি এখন অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করছি।”

    “আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ইউএনডিপি ইত্যাদির প্রধানদের সঙ্গেও আমার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। তারাও বাংলাদেশকে নতুনভাবে এবং সর্বাত্মকভাবে সাহায্যের জন্য তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন”, যোগ করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “১০০ দিন আগে আর্থিক দিক থেকে আমরা যে লন্ডভন্ড অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম- সেটা এখন অতীত ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ১০০ দিনে অর্থনীতি সবল অবস্থানে চলে এসেছে। এটা সম্পূর্ণ নিজস্ব নীতিমালা দিয়ে হয়েছে। বলা বাহুল্য এখনো আমাদের বন্ধুদের কাছ থেকে যে সাহায্যের আয়োজন হয়েছে তা আসা শুরু করেনি। বন্ধু রাষ্ট্রগুলো শুধু যে আমাদের বড় বড় অঙ্কের সাহায্য নিয়ে আসছে তাই নয়, তারা এই সাহায্য দ্রুততম সময়ে আসা শুরু করবে এই প্রতিশ্রুতিও আমাকে দিয়েছে। এই সাহায্য আসা শুরু করলে আমাদের অর্থনীতি অত্যন্ত মজবুত এবং আকর্ষণীয় অর্থনীতিতে পরিণত হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নানা রকম বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসবে।”

    ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা জেনেছেন, পতিত সরকার ও তার দোসররা প্রতিবছর দেশ থেকে ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ সম্প্রতি এই তথ্য দিয়েছে। পাচার হয়ে যাওয়া এই অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভব সকল ধরনের উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এ কাজে সফল হতে পারলে আমাদের অর্থনীতি আরও গতি পাবে। এ কাজে আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সাহায্য নিচ্ছি।”

  • আগামী বছর ব্যাংক বন্ধ থাকবে ২৭ দিন

    আগামী বছর ব্যাংক বন্ধ থাকবে ২৭ দিন

    ২০২৫ সালে বিভিন্ন সরকারি ছুটি উপলক্ষে দেশের ব্যাংকগুলো মোট ২৭ দিন বন্ধ থাকবে। তবে এই ২৭ দিনের মধ্যে আট দিন শুক্র ও শনিবার।

    সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর জন্য আগামী বছরের ছুটির এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ (রোববার) এ ছুটির তালিকা সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছর ব্যাংকে ছুটি ছিল মোট ২৪ দিন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর প্রথম সরকারি ছুটির দিনটি হবে শবে বরাতে। এ উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার এক দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ওই মাসে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এরপর স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ বুধবার, জুমাতুল বিদা ও শবে কদর উপলক্ষে ২৮ মার্চ শুক্রবার ছুটি থাকবে।

    আগামী বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে এক দিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে। ঈদুল ফিতরের আগের দুই দিন, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দুই দিন ব্যাংক বন্ধ রাখা হবে। এরপর নববর্ষ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল সোমবার, মে দিবস উপলক্ষে ১ মে বৃহস্পতিবার ও বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে ১১ মে রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    বছরের ৫ থেকে ১০ জুন এ ছয় দিন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে।

    এ ছাড়া ১ জুলাই মঙ্গলবার ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে এক দিন, আশুরা উপলক্ষে ৬ জুলাই রোববার, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ১৬ আগস্ট শনিবার, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১ ও ২ অক্টোবর (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দুই দিন, বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার, বড়দিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ও ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    গত বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস উপলক্ষে ১৭ মার্চ ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্ট ছুটি ছিল। এসব ছুটি সরকারের নির্বাহী আদেশে সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শবে বরাত, শবে কদর, ঈদুল ফিতর, বুদ্ধপূর্ণিমা, ঈদুল আজহা, আশুরা ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর ছুটি নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর।

  • পাকিস্তানে কী রপ্তানি করে বাংলাদেশ, হঠাৎ বাণিজ্য আলোচনায় কেন

    পাকিস্তানে কী রপ্তানি করে বাংলাদেশ, হঠাৎ বাণিজ্য আলোচনায় কেন

    সম্প্রতি পাকিস্তানের করাচি থেকে কন্টেইনার বহনকারী একটি জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর ঘটনা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এমন সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হলো, যা বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

    এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে, যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।  দূরত্বের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে, যদি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    গবেষক ও আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, সরাসরি জাহাজ ও বিমান চলাচল চালুর পাশাপাশি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সার্টিফিকেট গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং পারস্পারিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। তারা বিশ্বাস করেন, এর ফলে উভয় দেশই সমানভাবে লাভবান হতে পারে।

    অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছেন।  তিনি জানান, বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য একটি যৌথ কারিগরি দল গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে বিনিয়োগভিত্তিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে।

    বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত পাকিস্তান সফরের ঘোষণা দিয়েছে, যা বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। তার মতে, এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ এনে দিয়েছে।

    কী ধরনের পণ্যের বাণিজ্য হচ্ছে

    করাচি থেকে বাংলাদেশে সরাসরি আসা যে জাহাজ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেই জাহাজে বাংলাদেশে এসেছে ‘ফেব্রিকস, চুনাপাথর, সোডা অ্যাশ, পেঁয়াজ, ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেট ও ডলোমাইট’, যার বেশিরভাগই টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামাল।

    পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সুতা-কাপড় ও প্রস্তুত চামড়া ছিল প্রায় ৭৯ শতাংশ।

    বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে, তার মূল্য ছিল ৬ কোটি ডলারের সামান্য বেশি। মূলত কাঁচা পাট, ওষুধ, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, চা ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিলো বাংলাদেশ।

    এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশ ৭৪ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করলেও পাকিস্তান থেকে আমদানি করেছে ৮৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য পাকিস্তানের রপ্তানি হয়, তার দশগুণ বেশি পাকিস্তান বাংলাদেশে রপ্তানি করে।

    পাকিস্তান থেকে গত বছর সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে তুলা। এছাড়া আরও যেসব পণ্য আসে বাংলাদেশে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আসে সিমেন্টের কাঁচামাল।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে রপ্তানি হয় এমন যেসব পণ্যের নাম দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে আছে-পাট ও অন্য টেক্সটাইল ফেব্রিকস, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, পেপার ও পেপারবোর্ড লেবেল, ছেলেদের শার্ট, মেডিকেল সার্জিক্যাল ও ডেন্টাল ইকুইপমেন্টসহ আরও কয়েকটি পণ্য।

    ড. আইনুল ইসলাম বলছেন, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, গার্মেন্ট, মেডিসিন, লেদার – এসব ক্ষেত্রে পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে পাকিস্তানের সিলিং ফ্যান, ফ্রুটস, জুস, মেয়েদের ড্রেস বাংলাদেশে জনপ্রিয়।

    ‘কস্ট বেনিফিট পর্যালোচনা করে আমদানি-রপ্তানির পণ্য ঠিক হলে উভয় দেশই তাতে লাভবান হবে,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

    খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, উভয় দেশের মধ্যে কোন ধরনের পণ্যের কেমন চাহিদা, সেগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে।

    ‘পাকিস্তান থেকে কটন বা টেক্সটাইল কাঁচামাল সম্ভাব্য পণ্য হতে পারে যা মূলত ভারত ও চীন থেকেই বেশি আসে। আবার পাকিস্তানের লাইট ইনজিনিয়ারিং পণ্যের ভালো সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশে।’

    তার মতে বিনিয়োগকারীরা উভয় দেশে চাহিদার ভিত্তিতে যৌথ বিনিয়োগ করতে পারে। ‘বাংলাদেশে ওষুধ ও গার্মেন্টস কারখানা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অঞ্চলে করতে পারে। এর ফলে পাকিস্তান ছাড়াও ইরানসহ মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর বাজারে প্রবেশ সহজ হতে পারে,’ বলছিলেন তিনি।

    শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ আরিফ আহমেদ বলছেন, এক সময় বাংলাদেশি পাট ও পাটজাত দ্রব্যের প্রচুর চাহিদা ছিল পাকিস্তানে।

    ‘সেটি এখন তেমন না থাকলেও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আসছে। আমাদেরও গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন পণ্য অল্প হলেও যাচ্ছে,’ বলছিলেন তিনি।

    হঠাৎ বাণিজ্য আলোচনায় কেন

    বাংলাদেশে গত পাঁচই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর থেকেই ঢাকায় পাকিস্তানি হাইকমিশনার আহমদ মারুফ নতুন সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা, এফবিসিসিআই এর প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সাক্ষাত করে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

    এসব সাক্ষাতে তিনি পারস্পারিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সাথে সাক্ষাতে তিনি গত পনের বছরে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কে যে শুষ্কতা এসেছে তা দূর করতে পারস্পারিক সম্পর্ক জোরদারের আহবান জানান।

    এর মধ্যে এফবিসিসিআই এর প্রশাসক হাফিজুর রহমানের সাথেও বৈঠক করেন তিনি।

    যেখানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, যৌথ বিজনেস কাউন্সিল, উভয় দেশের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সার্টিফিকেট গ্রহণ, হালাল খাদ্য আমদানি-রপ্তানি, এসএমই, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছিলো।

    তবে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যের বিষয়টি বড় ধরনের আলোচনায় আসে করাচি থেকে সরাসরি বাংলাদেশে জাহাজ আসার খবর।

    পাকিস্তান হাইকমিশন গত ১৩ নভেম্বর তাদের ভেরিফায়েড এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে এটিকে ‘দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ’ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে।

    ওই টুইটে তারা বলেছে, এই ‘নতুন রুট সরবরাহ ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মাঝে আনবে, ট্রানজিট সময় কমিয়ে দেবে এবং উভয় দেশের জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ খুলে দিবে’।

    গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, ভৌগলিক দূরত্ব ও সরাসরি জাহাজ চলাচল না থাকায় দুই দেশের বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি হয়নি।

    ‘এখন বাংলাদেশের পণ্য পাকিস্তানে যেতে হলে দুবাই বা শ্রীলংকা হয়ে করাচি যায়। আবার কখনো করাচি থেকে দুবাই কলম্বো হয়ে বাংলাদেশে আসতে পারে। এর ফলে বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধি পায় ও সময় বেশি লাগে। স্বাভাবিক বাণিজ্য এতে বাধাগ্রস্ত হয়।’

    এর মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলে পাকিস্তান থেকে আসা পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর শতভাগ কায়িক পরীক্ষা শেষে অনুমোদন পেলেই কেবল ছাড় দেওয়া হতো। বাংলাদেশের রাজস্ব বোর্ড গত ২৯ সেপ্টেম্বর সেই বিধান তুলে নিয়েছে।

    এতে পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি দ্রুত হবে এবং জটিলতাও কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলছেন, ব্যবসায়ীদের দাবি হলো সরাসরি জাহাজ চলাচল এবং এটি হলে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও অনেক বাড়বে।

    ‘তখন বাংলাদেশও তার পণ্য রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারবে,’ বলছিলেন তিনি।

  • স্থবির ১৩৫২ উন্নয়ন প্রকল্প

    স্থবির ১৩৫২ উন্নয়ন প্রকল্প

    চলমান ১৩৫২ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিরাজ করছে এক রকম স্থবিরতা। আর্থিক সংকট, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতিসহ নানা কারণে সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সার্বিকভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে। ফলে কর্মসংস্থান, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, অর্থপ্রবাহের স্বাভাবিক গতি এবং প্রকল্পগুলো থেকে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি প্রকল্পগুলোতে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বলতে গেলে এডিপিভুক্ত সব প্রকল্পেই স্থবিরতা আছে। এর মূল কারণ হলো-চাহিদামতো অর্থছাড় না হওয়া। এখন কোন প্রকল্প প্রয়োজনীয় বা কোন প্রকল্প রাজনৈতিকভাবে নেওয়া হয়েছিল সেগুলোর যাচাই-বাছাই না করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। সরকার এখন সার্বিক অর্থনীতির দিকটি নিয়ে ভাবছে। কেননা ব্যাংক খাতসহ অতীতে অর্থনীতির অনেক খাতই ফাঁকা হয়ে গেছে। সেসব ঠিক করাটাও জরুরি। পাশাপাশি উন্নয়ন বাজেটে যে বিশাল বরাদ্দ দেওয়া আছে সেদিকেও নজর দিতে হবে। আমি এ বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলব। এরপরই আপনাদের বিস্তারিত বলতে পারব।

    সূত্র জানায়, সর্বশেষ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর স্থবির অবস্থা নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় এ নিয়ে কিছু আলোচনাও হয়। বলা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেবে দেখছে। দ্রুত একটা সমাধান আসবে। কিন্তু এরই মধ্যে প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ফলে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজই এগোচ্ছে না। এছাড়া চলতি অর্থবছরে অনুমোদন পাওয়া নতুন প্রকল্পগুলোতেও বরাদ্দ মিলছে না। পাশাপাশি চলমান অন্যান্য প্রকল্পেও আছে ধীরগতি। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপিতে খাতভিত্তিক দেখা যায়, সাধারণ সরকারি সেবা খাতে মোট ৩৫টি প্রকল্পটি রয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষায় ১২টি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষায় ২৭টি, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবায় ৬৮টি, কৃষিতে ১৩৫টি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৯৪, পরিবহণ ও যোগাযোগে ২২৮টি এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১০২টি প্রকল্প রয়েছে। আরও আছে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ খাতে ১৩৯টি, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলিতে ২৬৬, স্বাস্থ্যে ৬৩, ধর্ম-সংস্কৃতি ও বিনোদনে ৫৭, শিক্ষায় ১১৯, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৫৪টি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৫৫টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি সমীক্ষা, কারিগরি সহায়তা এবং স্ব-অর্থায়নের প্রকল্পও রয়েছে। এডিপিতে এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া আছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা।

    আইএমইডি সূত্র জানায়, এডিপিতে এই বিশাল অঙ্কের বিপরীতে খরচের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ১৩ হাজার ২১৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। কিন্তু গত অর্থবছরের একই সময়ে খরচ ছিল ২০ হাজার ৬১০ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের তিন মাসে খরচ হয়েছিল ২১ হাজার ৮৯৬ কোটি বা ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে খরচ হয় ১৯ হাজার ৫৫৯ কোটি বা ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। এমনকি করোনা মহামারির সময় ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে খরচ হয়েছিল ১৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা, যা যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। আইএমইডির অগ্রগতি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ১ শতাংশের নিচে খরচ হয়েছে ২০০টি প্রকল্পের বরাদ্দ। এছাড়া ১-এর ওপরে কিন্তু ৩ শতাংশের মধ্যে খরচ হয়েছে ২১৯টি প্রকল্পের বরাদ্দ এবং ৩-এর ওপরে ৫ শতাংশের মধ্যে খরচ হয়েছে ২৪৩টি প্রকল্পের বরাদ্দ।

    সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশিদ যুগান্তরকে বলেন, প্রথম তিন মাসে যে অবস্থা বিরাজ করছে এর প্রভাব আগামীতে আরও অবস্থা খারাপ হবে। কেননা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে গিয়ে বেশ ঝামেলার সৃষ্টি হবে। শেষ পর্যন্ত মেয়াদ ও সঙ্গত কারণেই ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি হবে। এছাড়া উন্নয়ন সহযোগীরা অনেকেই নীতিগতভাবে অর্থছাড় করছে না। তারা পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের অনুকূল পরিবেশ না পেলে এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। ফলে এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় ডলারের জোগানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমি যেটুকু জানি সড়কের অনেক প্রকল্পে আগে টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু পরে সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে এখন রিটেন্ডার করতে হচ্ছে। এতেও বেশ সময় চলে যাচ্ছে। তবে একটি প্রকল্পের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকে। কর্মসংস্থান, বিভিন্ন ম্যাটেরিয়ালস ইত্যাদি। সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন এই সরকারের উচিত দ্রুত প্রকল্পগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করে দেওয়া। এতে নেতিবাচক পরিস্থিতির কিছুটা অবসান ঘটবে।

    এদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বলছে, প্রকল্পের বাস্তবায়ন কম হওয়ায় চলতি অর্থবছরের অর্থছাড়ে করুণ চিত্র বিরাজ করছে। গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উন্নয়ন সহযোগীরা ছাড় করেছে ৮৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। এর মথ্যে ঋণ থেকে ৬৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং অনুদান থেকে ছাড় করেছে ১৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার। কিন্তু গত অর্থবছরের তিন মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা ছাড় করেছিল ১২৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ ১২৩ কোটি ১২ লাখ এবং অনুদান থেকে ছাড় করে ৫ কোটি ৫ লাখ ডলার। সেই সঙ্গে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিতেও বিরাজ করছে দুরবস্থা। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নতুন ঋণ অনুদানের প্রতিশ্রুতি এসেছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। কিন্তু গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রতিশ্রুতি ছিল ২৮৮ কোটি ৫ লাখ ডলার। প্রতিশ্রুতির অর্থ হলো যখন কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হয় তখনই সেটি প্রতিশ্রুতি হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।

  • রাজনৈতিক সমঝোতা চায় বৃটেন

    রাজনৈতিক সমঝোতা চায় বৃটেন

    বাংলাদেশের ‘ভঙ্গুর রাজনৈতিক ব্যবস্থা’র সংস্কারে সহায়তার হাত প্রসারিত করতে চায় বৃটেন। সেই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক সমঝোতা দেখতে চায়। এ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকা সফর করেন ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট। সফর বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েক মাসের অশান্ত অবস্থার পর বাংলাদেশের জনগণের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ ও জবাবদিহির জন্য একটি পথ পাওয়া প্রয়োজন। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাজে বৃটেন কীভাবে সর্বোত্তম সহায়তা করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করতে আমি এখানে এসেছি। কূটনৈতিক সূত্র  বলছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সফরের অংশ হিসেবে ক্যাথরিন এই প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন। দু’দিনের সফরের সমাপনী দিনে রোববার তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই দিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়। তাছাড়া সফরকালে সরকারের বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় করেন। সর্বত্রই তিনি ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’র বার্তা স্পষ্ট করেছেন। বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় পূর্ণ সহায়তা দেবে বৃটেন: এদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় তার সরকার ঢাকাকে পূর্ণ সহায়তা দেবে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা’য় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। 
    ড. ইউনূস তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, অলিগার্ক ও আমলাদের পাচার করা অর্থ ফেরত আনা অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সামপ্রতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। বৈঠকে অধ্যাপক ড. ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে তার সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলে চর্চা করা ব্যাপক ভোট কারচুপি থেকে বিরত থাকা এই সংস্কারের লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলো সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে উল্লেখ করে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, বৃটেন নির্বাচনী, বিচার বিভাগীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোতে প্রাণবন্ত বিতর্ক দেখতে চায়। বৃটিশ মন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা প্রদানের জন্য আরও ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদানের ঘোষণা দেন। ড. ইউনূস মিয়ানমারের সহিংসতা-জর্জরিত রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি ‘জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠায় তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন যাতে তাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে না হয় এবং দাতব্য সংস্থা এবং সাহায্য গোষ্ঠীগুলো নির্বিঘ্নে বাস্তুচ্যুত মানুষের দোরগোড়ায় খাদ্য ও সহায়তা দিতে পারে। বৈঠকে তারা ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা, সংখ্যালঘুদের অধিকার, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সামপ্রতিক ৪০ মেগাওয়াট জ্বালানি চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। ড. ইউনূস বলেন, তার সরকার জলবিদ্যুৎ সমৃদ্ধ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরিকে পুরোপুরি সমর্থন করেছে। তিনি বলেন, হিমালয়ের পাদদেশের দুই দেশ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমদানি করতে পারলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। বৈঠকে ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ছাত্র ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি মেডিকেল টিম চলতি মাসে দেশে এসেছে। তিনি বলেন, ‘তারা দিনে তিনটি অস্ত্রোপচার করছেন।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা 
    ওদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্টের সঙ্গে বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, তারা আমাদের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তারা জানতে চেয়েছেন যে কীভাবে আমাদের সহায়তা করতে পারেন। আমিও তাদের খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, আমাদের এখানে কারও কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। আমরা আসলেও একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করে দিয়ে সরে যেতে চাই। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের আগ্রহ আছে বলেও জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে মন্ত্রণালয়। এখন সেখানে যাওয়াটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ছাড়া, যুক্তরাজ্যে পাচার করা অর্থ ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। রোহিঙ্গাদের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন। বলেন, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের মধ্যেই এই সংকটের একমাত্র সমাধান রয়েছে।

    পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনাসহ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা করবে বৃটেন: নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আবারো পূর্ণ সহায়তার কথা জানিয়েছে বৃটেন। দেশটির ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট জানিয়েছেন, তার সরকার কয়েক বিলিয়ন ডলার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাসহ অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহায়তা দেবে। বৈঠকে প্রফেসর ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন ঠিক করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলের ব্যাপক ভোট কারচুপির যে চর্চা সেটি দূর করাই এই সংস্কারের লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলো এসব সংস্কারকে সমর্থন করে জানিয়ে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগ এবং সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোর ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা দেখতে চায় বৃটেন।

  • নরওয়ের জেলেদের জালে আটকা পড়লো মার্কিন সাবমেরিন

    নরওয়ের জেলেদের জালে আটকা পড়লো মার্কিন সাবমেরিন

    চলতি সপ্তাহে নরওয়ের জেলেদের একটি দল মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে এসেছিল। তখন ৭ হাজার ৮০০ টন মার্কিন নৌবাহিনীর পারমাণবিক চালিত একটি সাবমেরিন তাদের জালে জড়িয়ে পড়ে এবং কোস্টগার্ডের কাছে অ্যালার্ম কল পৌঁছে যায়। জেলেরা প্রথমে এটিকে বড় কোনও মাছ ভাবলেও সেটি যে সাবমেরিন হতে পারে তা কল্পনাতীত ছিল। এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার এই খবর জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রমসো উপকূলে মাছ ধরার সময় জেলেরা ভেবেছিল, তাদের জালে হালিবুট নামের এক ধরণের বড় সামুদ্রিক মাছ আটকা পড়েছে। তবে তাদের জালে ধরা পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭৭ ফুট দীর্ঘ ও ৭ হাজার ৮০০ টন পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ইউএসএস ভার্জিনিয়া। একটি নরওয়েজিয়ান কোস্ট গার্ড জাহাজের সঙ্গে বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এটি। প্রায় দুই নটিক্যাল মাইল দূরত্ব পর্যন্ত সাবমেরিনটি তাদের জাল টেনে নিয়ে যায়।

    সম্প্রচারকারী এনআরকে নিউজ জানিয়েছে, হ্যারাল্ড এনগেন নরওয়ের পশ্চিম উপকূলের একটি গ্রামে হালিবুট সরবরাহ করছিলেন। তখন তিনি একটি বার্তা পান, যেটিতে বলা হয়, একটি মার্কিন সাবমেরিন ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি যাত্রা করার সময় নৌকার জালে আটকে পড়েছে এবং সেটি নৌকাটিকে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

    এনগেন বলেছিলেন, ‘আমি মাছ ধরার জালের ওপর দিয়ে যাত্রা করা অন্যান্য জাহাজের কথা শুনেছি। তবে এই অঞ্চলে কেউ কখনও সাবমেরিনের কথা শুনেনি।’

    মার্কিন ৬ষ্ঠ নৌবহরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট পিয়ারসন হকিন্স ইনসাইডারকে বলেন, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং ঠিক কী ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছে নৌবাহিনী।

    জেলেদের ধ্বংস হওয়া জালের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে নরওয়ের কোস্ট গার্ড ও মার্কিন নৌবাহিনী উভয়ই।

    ১৯৯৯ সালে একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেটি বেশ দুঃখজনক হয়ে ওঠে। একটি ব্রিটিশ মাছ ধরার নৌকার জালে রয়্যাল নেভি আটকে পড়ে এবং নৌকাটি ডুবে যায়। এতে চার ক্রু’র মৃত্যু হয়।

  • ১৫ বছরের সব অপকর্মের বিচার করব, ভারত থেকে হাসিনাকে ফেরত চাইব: ড. ইউনূস

    ১৫ বছরের সব অপকর্মের বিচার করব, ভারত থেকে হাসিনাকে ফেরত চাইব: ড. ইউনূস

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শুধু জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডই নয়, গত ১৫ বছরের সব অপকর্মের বিচার করব। শেখ হাসিনাকে আমরা ভারত থেকে ফেরত চাইব।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

    গুম ও গণহত্যায় জড়িতদের আন্তর্জাতিক আদালতে হবে

    ড. ইউনূস বলেন, কেবল দেশে নয়, গুম, খুন ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সাথে জড়িতদের আমরা আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের প্রধান কৌঁসুলী করিম খানের সঙ্গে আমার এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে।

    তিনি বলেন, গুম কমিশনের সদস্যদের কাছে ভুক্তভোগীদের যে বিবরণ আমরা পেয়েছি, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর ছাত্র-ছাত্রীরা শহর বন্দরের দেয়ালে-দেয়ালে তাদের মনের কথা লিখেছে। তাদেরও আগে যারা গুমের শিকার হয়েছে, প্রতিটি গোপন আস্তানার দেয়ালে-দেয়ালে তারা লিখে রেখেছেন তাদের কষ্টের মর্মস্পর্শী বিবরণ। তাদের এসব কষ্টের কথা শুনে আমাদের হৃদয় কেঁপে উঠেছে। এসবের সঙ্গে জড়িতদের আমরা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবোই। অভিযুক্ত যতই শক্তিশালী হোক, যে বাহিনীরই হোক, তাকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

    ড. ইউনূস বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কোনো সদস্য কিংবা অন্য কেউ যাতে হত্যা, গুমসহ এ ধরনের কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে, এজন্য আমরা গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে সাক্ষর করেছি। আপনারা দেখেছেন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। জাতিসংঘ জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তারা আমাদের তাদের রিপোর্ট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অতীতের গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত কাজেও আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। মানবাধিকার রক্ষায় সহযোগিতা করতে ঢাকায় তারা তাদের জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছি।

    নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্তের পর নির্বাচনের রোডম্যাপও ঘোষণা হবে

    ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচন আয়োজনে যে সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালায় রাজনৈতিক দলসমূহ ও দেশের মানুষের মতামত অপরিহার্য, সে কমিশন হলো সংবিধান সংস্কার কমিশন। এই সুপারিশমালার কোন অংশ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, তার ভিত্তিতে নির্বাচনী আইন সংশোধন করতে হবে। সমান্তরালভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।

    তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত নই সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ আমরা কতটুকু পাবো। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনারা সুযোগ দিলে প্রয়োজনীয় কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কার কাজ শেষ করেই আমরা আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আয়োজন করবো। ততদিন পর্যন্ত আমি আপনাদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করব। আমরা চাইব যেন এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারি যা যুগযুগ ধরে অনুসরণ করা হবে। এর ফলে সাংবাৎসরিক রাজনৈতিক সংকট থেকে আমাদের দেশ রক্ষা পাবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সময়টুকু আমি আপনাদের কাছে চেয়ে নিচ্ছি। নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে খুব দ্রুত আপনারা নির্বাচনের রোডম্যাপও পেয়ে যাবেন।

    তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সৃষ্টি হয়েছে রাজনীতিকে নীতির কাঠামোয় আনার জন্য, এবং রাজনীতির জন্য নতুন পরিবেশ সৃষ্টির নিবিড় আকাঙ্ক্ষা থেকে। নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এটা আর থামবে না। কিন্তু যেতে যেতে আমাদের অনেকগুলো কাজ সেরে ফেলতে হবে। এই ট্রেন শেষ স্টেশনে কখন পৌঁছাবে, সেটা নির্ভর করবে কত তাড়াতাড়ি আমরা তার জন্য রেললাইনগুলো বসিয়ে দিতে পারি। আর তা হবে রাজনৈতিক দলসমূহের ঐক্যমত্যের মাধ্যমে।

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান। ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। গত ১৫ নভেম্বর এই সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে।

  • রাশিয়ার অভ্যন্তরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে হামলার অনুমতি দিলেন বাইডেন

    রাশিয়ার অভ্যন্তরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে হামলার অনুমতি দিলেন বাইডেন

    ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েক মাস ধরে এটিএসিএমএস নামক এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন, যাতে কিয়েভ তার নিজ সীমান্তের বাইরে হামলা করতে পারে।

    রোববার এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় ঘোষণা দিয়ে হয় না। ক্ষেপণাস্ত্র নিজেরাই নিজেদের উপস্থিতি জানান দেবে।’

    এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে এ ধরনের পদক্ষেপের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এটি ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক জোট ন্যাটোর ‘সরাসরি অংশগ্রহণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

    তবে রোববার পর্যন্ত পুতিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। যদিও ক্রেমলিনের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা একে গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধি বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। আগস্টে কিয়েভ ওই অঞ্চলে ঝটিকা আক্রমণ করে।

    বাইডেন প্রশাসন কার্যত ইউক্রেনকে জানিয়ে দিল যে, তারা বর্তমানে রাশিয়ার যে ছোট অংশ দখল করে রেখেছে, তা ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে সহায়তা দেবে। দখলকৃত এ অঞ্চল ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

    কিয়েভভিত্তিক ইউক্রেনীয় সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন সেন্টারের চেয়ারম্যান সের্হি কুজান বিবিসিকে বলেন, বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত দেশটির জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

    ‘যুদ্ধের গতিপথ বদলাবে না, তবে এ সিদ্ধান্ত আমাদের বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে,’ বলেন তিনি।

    এটিএসিএমএস মিসাইল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব পারি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের ইউক্রেনে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাইডেন এটিএসিএমএস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।