Blog

  • বিকল্প কর্মসংস্থান না হলে শ্রমিকদের ইজিবাইক চালানো বন্ধ থাকবেই: বকুল

    বিকল্প কর্মসংস্থান না হলে শ্রমিকদের ইজিবাইক চালানো বন্ধ থাকবেই: বকুল

    বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, দেশের তরুণ সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে হলে প্রথমত একটি সুস্থ ও পরিবেশবান্ধব প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজন খেলাধুলার প্রসার। তিনি গতকাল বুধবার খানজাহান আলী থানাধীন সোনালী জুট মিলস ও কেডিএ এলাকাবাসীর সাথে এক সভায় এসব কথা বলেন।

    বকুল আরও বলেন, আমি হতবাক হই যখন দেখতে পাই স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের মাঠ বন্ধ করে দেয়। খেলাধুলার মাঠ বন্ধ থাকলে আমাদের সন্তানরা কীভাবে সুস্থভাবে বড় হবে? খেলাধুলার অভাব থাকলে তরুণদের মাদকের দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই তিনি স্কুল প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতি দ্রুত মাঠ খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি নিজেও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। খেলাধুলার প্রসার না থাকলে সুস্থ প্রজন্ম গড়া সম্ভব নয়।

    অতীতের দাবি অনুযায়ী, বকুল তিনটি ব্যাচের ফুটবল জার্সি বিতরণের ঘোষণা দেন এবং বলেন, আগে পড়াশোনা, তারপর খেলাধুলা — এই দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই দুটোই তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখে।

    বিএনপি নেতা আরও উল্লেখ করেন, খুলনার শিল্পাঞ্চল পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু কলকারখানা বন্ধ করেনি, বরং যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে দরজা-জানলা সব কিছু বিক্রি করে দিয়েছে। এর ফলে হাজারো শ্রমিক আজ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকে ইজিবাইক বা রিকশা চালিয়ে জীবন চালিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু তাদের জন্য কোনও কর্মসংস্থান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকদের ইজিবাইক বা রিকশা চালানো বন্ধ করতে দেওয়া হবে না। তা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। করোনা মহামারিকালে বিএনপি যে ভূমিকা রেখেছে, তা স্মরণ করে বকুল বলেন, ভয়াবহ সেই সময়েও বিএনপি শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার, খাদ্য ও ওষুধ বিতরণ করেছে। তখন কেউ ভোট চাইতে আসেনি; আজও আমি ভোটপ্রার্থনা করছি না, আমার লক্ষ্য শুধুই জনগণের পাশে থাকা।

    তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন ফেব্রুয়ারি মাসে হবে বলে ধারণা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার। যারা ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয় না, তাদের জবাবদিহির প্রশ্ন উঠে না। এছাড়া, তিনি অভিযোগ করেন, একটি ষড়যন্ত্র চক্র নির্বাচন বন্ধ করতে চাইছে এবং জনগণের সরকারের প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    বকুল ঘোষণা করেন, ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সামিল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ সরবরাহ, যা দেখিয়ে কম দামে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন এবং হাসপাতালে বিনা টিকিটে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, यदि আল্লাহ চান এবং বিএনপিকে দায়িত্ব দেন, তাহলে খুলনা-৩ আসনে প্রথম কাজ হবে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা। পাশাপাশি একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে যেখানে শ্রমিকরা সহজে এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    সভা শেষে বকুল বলেন, “আমরা আরও ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি, অনেক রক্তে আমাদের লালিত সংগঠন। শেখ হাসিনা যেমন পালিয়ে গিয়েছে, আমরাও রাজপথে নামতে প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে তিনি তাদের অনুরোধ করলে, তারেক রহমানের ডাক অনুযায়ী রাজপথে গর্জে উঠতে আমরা প্রস্তুত।”

    সভায় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, খানজাহান আলী থানা বিএনপি সভাপতি কাজি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা সোহাগ, ইকবাল হোসেন মিজান, ইঞ্জিনিয়ার নুর ইসলাম বাচ্চু, কাজী জলিল, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক এবং ডা. রইস উদ্দিন প্রমুখ।

    সভার সভাপতিত্ব করেন, ২নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ও সোনালী জুট মিলস কারখানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল লতিফ সরদার, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন রাসেল মাহমুদ। এর আগে বিকেল ৩টায় রকিবুল ইসলাম বকুল খুলনা মহানগর ওলামা দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোঃ আবু নাইম, হাফেজ মোঃ আল আমিন, মোঃ মানজারুল ইসলাম ও কাজী মোঃ সোলায়মান।

  • সোনা-রুপার দর রেকর্ড গড়ে একদিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি

    সোনা-রুপার দর রেকর্ড গড়ে একদিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি

    স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পাকা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আবারও জোড়ালোভাবে বেড়েছে। এর ফলে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দামের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হবে বলেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

    বাজারে স্বর্ণের দামে এই ব্যাপক বৃদ্ধি তত্ত্বাবধানের জন্য বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং একটি বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরসংবলিত বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানো হয়। তখন সর্বোচ্চ মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২ হাজার ১৯৫ টাকা। সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে আজ নতুন দাম ঘোষণা করা হলো।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ৬,৯০৫ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ৯ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৫,৮৯০ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৪ টাকা, আর ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৫,৬৫৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এক লাখ ৭১ হাজার ৮৭ টাকা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দরও ৪,৮২৮ টাকার বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    গত মঙ্গলবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২ হাজার ১৯৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক লাখ ৬৫ হাজার ৪৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১৩৭ হাজার ৪৭২ টাকা। বর্তমান দর বাড়ানোর ফলে সেই দামগুলো আগের রেকর্ড টপকে গেছে।

    এটি ছাড়াও Rমূল্যবৃদ্ধির জন্য এবং স্বর্ণের বিভিন্ন মানের মতো ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেটের দামের সঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা এখন ৪ হাজার ৯৮০ টাকা, যা আগে ছিল ৪ হাজার ৬৫৪ টাকা। অন্য মানের রুপার দামও যথাক্রমে বেড়েছে।

    অতীতে, ৮ অক্টোবর, ২২ ক্যারেটের রুপার দাম এক হাজার ২৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৬৫৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৯৯১ টাকা বাড়ে, ৪ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৮৩৯ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৮০২ টাকা হয়। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধির কারণে বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম ব্যাপক রূপে পরিবর্তিত হয়েছে।

  • সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নেই যে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়

    সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নেই যে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়

    পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে, এই ধরনের সরকারি কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সোমবার (১৩ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে যে, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। সরকার এই সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও নিশ্চিতকরণে তৎপর রয়েছে। সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন এ ধরনের বিভ্রান্তিকর গুজবে বিভ্রান্ত না হন এবং যথাযথ তথ্যের উৎস থেকে নিশ্চিত হন।

  • স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড, ভরি দুই লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা

    স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড, ভরি দুই লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম চার হাজার ৬১৮ টাকা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা। এই দাম বৃদ্ধি দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর।

    মূলত, স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা স্বর্ণের দামে ইতিমধ্যে বৃদ্ধি ছিল, এর প্রভাব এখন নতুন দাম নির্ধারণে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার থেকে এই নতুন দামের কার্যকারিতা শুরু করবে।

    বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজকের নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ৪ হাজার ৬১৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, রুপার দামে পিছিয়ে নেই, যেখানে এক ভরি রুপার দাম এখন প্রায় ছয় হাজার ২০৫ টাকারও বেশি, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

    অন্য ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামও বেড়েছে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম এখন ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকায় উঠে এসেছে, যা আগের ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৪ টাকায় ছিল। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮৫ টাকা, যেখানে আগের দাম ছিল ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৮৮ টাকা। এই দাম বৃদ্ধি স্বর্ণ বাজারের আপডেটের সঙ্গে ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুখবর।

  • শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য বিক্রি রোধে সেনা জরুরি অভিযান

    শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য বিক্রি রোধে সেনা জরুরি অভিযান

    দেশের বাজারে চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে ছয়বারের বেশি দামে বেড়েছে স্বর্ণের মূল্য, যা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আরেক দফা দাম বৃদ্ধি ঘটেছে একদিনের ব্যবধানে, দেশের স্বর্ণ বাজারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে এক গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৬১৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা, যা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    নতুন এই দাম বুধবার (১৫ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হবে। বাজুসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামও সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দামে, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৫৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতিভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৭৭ হাজার ১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫১ টাকা।

    এছাড়া, বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি স্বর্ণের মূল্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যদিও গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরি তারতম্য হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ১৩ অক্টোবর দেশের স্বর্ণের দাম নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছিল। সেই দিন ভরি দামে ৪ হাজার ৬১৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা, যা এ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ। চরিত্রে প্রতিটি ক্যাটাগরির দাম ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণেও এই দামে সংশোধনী আনা হয়েছিল। সবশেষে, এই নতুন দাম ১৪ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়।

  • ভারত থেকে ঢুকছে জাল টাকা: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

    ভারত থেকে ঢুকছে জাল টাকা: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

    সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে প্রচারিত খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ভারতের মাধ্যমে প্রবেশ করছে বলে প্রকাশ পেয়েছ। এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা জনগণকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানাচ্ছে। বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ ধরনের খবর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং অপ্রয়োজনে মানুষের মনোযোগ বিভ্রাট করতে পারে। সুতরাং, জনগণকে শঙ্কায় না পড়ে সতর্ক ও সচেতন থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, জাল টাকা তৈরি, বহন বা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তা দেশের আইনানুযায়ী গুরুতর অপরাধ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিতভাবে এই ধরনের জাল টাকা রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে। তারা জাল নোটের উৎস, এর প্রবাহ ও ব্যবহার বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    জনগণকে আরো সচেতন হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, নোট গ্রহণের সময় এর নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যেমন জলছাপ, অসমতল ছাপা, নিরাপত্তা সূতা, রঙ পরিবর্তনশীল কালি ও ক্ষুদ্র লেখা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বড় অঙ্কের লেনদেনগুলো ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। তৃতীয়ত, নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। চতুর্থত, সন্দেহজনক নোট দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    নোটের সত্যতা যাচাই ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট www.bb.org.bd এ বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি, প্রতিটি ব্যাংক শাখায় আসল নোট শনাক্তকরণে সহায়তার জন্য এক্স-ব্যানার ও পোস্টার পর্যবেক্ষণ করা যায়।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাতারভিত্তিক একটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর এটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর করে তোলে। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করছে: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যত দ্রুত নির্বাচন হবে, দেশের সংকট তত দ্রুত কাটবে। তিনি মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ একান্তভাবে নির্ভর করে আগামী নির্বাচনের উপর। সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালিত হলে সেখান থেকে দেশের উন্নয়নের নতুন পথে হেঁটে আসা সম্ভব।

    মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ের শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে সদর উপজেলা এবং রুহিয়া থানার বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের বিকল্প কিছুই নেই। দেশের উন্নয়ন, সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ও শান্তিপূর্ণ সমাজের জন্য গণতন্ত্রই একমাত্র রাস্তা। তিনি সতর্কতার সাথে উল্লেখ করেন, আমাদের যদি কোন ভুল পদক্ষেপ নিয়ে থাকি বা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা আনি, তাহলে ফ্যাসিস্ট শক্তির কবলনে পড়ার ভয় বাড়বে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমি আর যেনো কোনও ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রত্যাশা করি না।

    বিএনপি নেতা আরও বলেন, একসময় দানবীয় শাসনের পর জনগণের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আবার গণতন্ত্র ফিরেছে। আজকের পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ অত্যাচার-অবিচার, মামলা কিংবা পুলিশের হাতে জুলুমের শিকার হয়ে কারাগারে ছিল, কিন্তু এখন তাদের অনেকেরই মুক্তির স্বস্তি রয়েছে।

    মির্জা ফখরুল জানান, প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি নেতাকর্মী হত্যা করা হয়েছে, আবার তিন এমপি সহ প্রায় ১৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছে। এরপরও বর্তমানে নেতাকর্মীরা কমপক্ষে রাতে স্বস্তিতে ঘুমাতে পারছেন। তিনি বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক নেতাকর্মীর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কারাগারে থাকাকালীন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন এবং তাদের জন্য আইনজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • শিগগিরই প্রকাশ হবে BNP প্রার্থীদের নামের তালিকা, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    শিগগিরই প্রকাশ হবে BNP প্রার্থীদের নামের তালিকা, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    সংসদ নির্বাচনের সময় نزدیک আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির অন্দরো আরেকটি উত্তপ্ত বিষয় হয়ে উঠেছে প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া। আগামি নির্বাচনে কে চলমান আসনে প্রতিনিধিত্ব করবেন, সেই প্রশ্ন এখন আওয়ামী লীগ নয়, বরং বিএনপির দিকেই বেশি মনোযোগ কেন্দ্রিত। কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে প্রার্থীদের তালিকা, যেখানে তাদের জনপ্রিয়তা, যোগ্যতা, পরিশ্রম এবং এলাকার রূপান্তর ভবিষ্যত প্রমাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বলাবাহুল্য, সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য প্রচার ও প্রচারণা চালানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে যেন সবার আগে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়া যায়।

    রাজনৈতিক মহলের ধারণা অনুসারে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তার জন্য বিএনপি ইতিমধ্যে প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া জোরালো করে তুলেছে। জয়যুক্ত হওয়ার জন্য সবাই চেষ্টা করছে নিজ নিজ প্রচেষ্টাকে শাণিত করার। বিভিন্ন দলের আগাম ঘোষণা বা আগ্রহের ভিত্তিতে প্রাথীদের চষে বেড়ানোসহ নির্বাচনী সমীক্ষাও চলছে। এই পরিস্থিতিতে, বিএনপি তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে শিগগিরই প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রমতে, ভরসা করে থাকা একজন নির্ভরযোগ্য নেতা বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে তিনি নিজে এই তালিকা পুরোপুরি যাচাই করবেন এবং তারপর চূড়ান্ত করে দলের শীর্ষ নেতা ও শরিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    অধিকাংশ নেতা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রার্থী বাছাইয়ে সৎ, যোগ্য এবং কার্যকর নেতাদের ওপর জোর দেওয়া হবে। এলাকায় ‘ক্লিন ইমেজ’, জনপ্রিয়তা, ত্যাগমূলক অঙ্গীকার, সংগঠনের অবদান এবং দলীয় কোন্দল থেকে মুক্ত হওয়ার যোগ্যতা—এই পাঁচটি মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে প্রার্থী নির্বাচন হবে। এ ছাড়া, স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন সংগঠনে সক্রিয় থাকা এবং মানসিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হবে।

    নেতাদের মধ্যে একাধিক জরিপ ও মতামত নেওয়া হয়েছে, যার ফলাফলের ভিত্তিতেই তালিকা তৈরি হচ্ছে। প্রার্থী হিসেবে যারা যোগ্যতা সম্পন্ন, তৃণমূলের ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য, ও দলীয় মূল্যবোধের প্রতি আন্তরিক, তাদেরকেই নির্বাচিত করা হবে। দলের অভ্যন্তরীণ অন্দরো আলোচনা অনুযায়ী, সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের জন্য প্রথমে অনানুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রচার প্রচরণা চালাতে পারেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে, পার্লামেন্টারি বোর্ডের মাধ্যমে চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে।

    শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং তালিকা পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আছে। দেশের পরিস্থিতি, বৃহৎ রাজনৈতিক চাহিদা ও জোটগঠনের বিষয়ে সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। দলটির তরুণ ও প্রবীণ উভয় প্রজন্মের মধ্যে সমন্বয় করে মনোনয়ন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতেও শক্তিশালী মনোনীত প্রার্থী হয়।

    অবশ্য, দলের ভেতরে এবং বাইরে কিছু নজরদারি ও সুরক্ষার জন্য প্রত্যাশিত তালিকা প্রকাশের সময়ই কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলীয় নেতৃত্ব এ ব্যাপারে সব দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করেছেন, আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলীয় নেতা কিংবা আঞ্চলিক প্রভাবের উপর ভিত্তি করে নয়, বরং তৃণমূলের জনপ্রিয়তা, যোগ্যতা ও দলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

  • দলটাকে রক্ষা করুন, বিভাজন সৃষ্টি করবেন না: মির্জা ফখরুল

    দলটাকে রক্ষা করুন, বিভাজন সৃষ্টি করবেন না: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পিআর বিষয়ে আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। দেশের স্বার্থে সবাই একত্রে থাকতে হবে, বিভাজন সৃষ্টি করা উচিত নয়। নির্বাচন কেবল গণভোট ও পিআর পদ্ধতিতে হতে পারে, এ অনুযায়ী দাবি ও মিছিলের মাধ্যমে কিছু মহল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।

    আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পিআর নিয়ে বিতর্ক পার্লামেন্টে আলোচনা হওয়া উচিত। যেখানে দলগুলো একমত হবে, সেখানে জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে, আর বাকিদের জন্য গণভোটের ব্যবস্থা থাকবে।’

    অতীতে দ্রুত নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা হিংসার রাজনীতি চাই না, হিন্দু-মুসলিম বিভেদ চাই না। সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই। আমি যা ভোট দেব, তা আমি দেব, যেখানে ইচ্ছে সেই প্রার্থীকে ভোট দেব।

    বিভাজন আমাদের উচিত নয়। জনগণ যাকে ভোট দেবে, তিনি নির্বাচিত হবেন। বিভক্তি করে দেশের ক্ষতি করবেন না। আমরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে সবাই সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের মধ্যে থাকবে। ভুলে যাবেন না, আমাদের প্রতীক ধানের শীষ।

    সরকার পরিচালনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা সরকারে ছিলাম, কিভাবে দেশ চালাতে হয় তা জানি। বিএনপি নির্বাচিত হলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য বেশি নজর দেওয়া হবে।’

    সভায় বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • সালাহউদ্দিন: জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে, ভিন্নমতও থাকছে

    সালাহউদ্দিন: জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে, ভিন্নমতও থাকছে

    বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার সাথে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা সবাই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করব। তবে সব বিষয়ে ভিন্নমত বা আপত্তি থাকলেও সেগুলোর নোট অব ডিসেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে। এই নোট অপশনটি থাকছে কারণ আমরা ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য কমিশনে আলোচনা করেছি।

    সালাহউদ্দিন জানান, দেশের সামগ্রিক সংস্কার চায়, আমরাও চাই। ক্ষমতায় আসা অন্য দল কিংবা মেজরিটি দলই এই সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে, ১৭ অক্টোবর বোর্ডের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর কার্যক্রম, তার আগে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন বিষয়ে আশ্বস্ত হতে চেয়েছিলেন। তিনি সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন যাতে এটিকে একটা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে সংরক্ষণ ও স্বাক্ষর করা হয়।

    তিনি আরও বললেন, আমরা সবাই এ বিষয়ে একমত হয়েছি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা কম হয়েছে, কিছু বক্তব্যে অংশ নেয়নি সবাই। আমি আমার বক্তব্যে উল্লেখ করেছি যে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে আগাম নির্বাচন পরিচালনার উদ্দেশ্যেই এই সব কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছে। জুলাই সনদ চূড়ান্ত করতে হবে, অন্য সব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হবে বছর প্রথমার্ধে নির্বাচন সম্পন্ন করা—যা হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মতো এক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এই জন্যই আমরা জুলাই সনদ প্রণয়ন করছি, যার সাথে নির্বাচন অনুষ্ঠান নির্ধারিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    সালাহউদ্দিন বলেন, দেশের অন্য যেকোনো সংস্কারই জনগণের পক্ষে। তারা গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সরাসরি সংসদে দেওয়ার ম্যান্ডেট দেবে। যাতে এই সংস্কারগুলো জনগণের রায়ের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি জানিয়েছেন, মূল উদ্দেশ্যই ছিল রাজনৈতিক দলগুলো একমত হওয়া বিষয়ে consensus তৈরি, যেখানে ভিন্নমতগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

    প্রস্তাবিত এই সনদে থাকছে নোট অব ডিসেন্ট, যেখানে ভিন্নমত থাকলে সেটি উল্লেখ করা হবে। একবার যদি এই সনদ স্বাক্ষরিত হয়, তবে গণভোটে প্রশ্ন থাকবে, ‘এই সনদ কি জনগণের পক্ষে থাকছে কি না’। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ভোটে ফলাফল খুব বেশি হবে না, কারণ সমগ্র জাতি সংস্কারসম্মত। এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংসদকে সেই স্বায়ত্তশাসন ও কর্তৃত্ব দেবে, যা দেশের ভবিষ্যত পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।