Blog

  • ১৪ দিনে ছয়বার বেড়েছে স্বর্ণমূল্য, রেকর্ড উচ্চতায় দাম

    ১৪ দিনে ছয়বার বেড়েছে স্বর্ণমূল্য, রেকর্ড উচ্চতায় দাম

    দেশে চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই ছয়বার স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে, যা নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম এখন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। পাশাপাশি, একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ স্বর্ণ ও জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ (১৪ অক্টোবর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ২ হাজার ৬১৩ টাকা বাড়ানোর মাধ্যমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের স্বর্ণ। বুধবার (১৫ অক্টোবর) থেকে এই নতুন দামের স্বর্ণ বিক্রি শুরু হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল্য বৃদ্ধির কারণে এখন থেকে স্বর্ণের প্রতিটি বিক্রেতাকে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে স্বর্ণের ডিজাইন ও মানের ভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।

    নতুন দামের তালিকায় দেখা গেছে, প্রতিভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য এখন ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৭ হাজার ১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৫১ টাকা।

    এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর বাজুস আরও মূল্য সমন্বয় করে ভরিতে ৪ হাজার ৬১৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ মূল্য। সে সময় অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামের তালিকা ছিল ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫২০ টাকা। এই দামগুলো কার্যকর হয়েছিল ১৪ অক্টোবর থেকে।

  • ভারত থেকে ঢুকছে জাল টাকা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

    ভারত থেকে ঢুকছে জাল টাকা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

    বেশ কিছু দিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে এমন খবর প্রকাশিত হচ্ছে যে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এই খবরের প্রভাব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্কতা জারি করেছে। বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই ধরনের খবর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং অপ্রয়োজনে মানুষকে উদ্বিগ্ন করার কারণ হতে পারে। তারা আরও উল্লেখ করে, জাল টাকা তৈরি, বহন এবং লেনদেন দেশের আইনে গুরুতর অপরাধ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জাল নোটের প্রচলন রোধে নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জাল নোটের উৎস, প্রেরণ ও ব্যবহারের উপর কঠোর নজরদারি রেখেছে। জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে: প্রথমত, নোট গ্রহণের সময় এর নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যেমন জলছাপ, অসমতল ছাপা, নিরাপত্তা সূতা, রঙ পরিবর্তনশীল কালি ও ক্ষুদ্র লেখা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বড় অঙ্কের লেনদেন অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলে সম্পন্ন করতে হবে। তৃতীয়ত, নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার চালু রাখতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। Lastly, সন্দেহজনক কোনো নোট পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এই আহ্বান দেয়, ‘আসল নোট চিনুন, নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করুন’। যাতে করে সবাই আসল নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন, তার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.bb.org.bd দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি ব্যাংক শাখায় আসল নোট শনাক্তকরণে এক্স-ব্যানার ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। সম্প্রতি এক কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একটি পোস্ট ফেসবুকের মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তারা এই অপতৎপরতা রোধে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

  • আইনি ভিত্তি না থাকলে জুলাই সনদের স্বাক্ষর কেবল লোক দেখানো: নাহিদ ইসলাম

    আইনি ভিত্তি না থাকলে জুলাই সনদের স্বাক্ষর কেবল লোক দেখানো: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি কোনও চুক্তি বা সনদ আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে তার স্বাক্ষর কেবল লোক দেখানো এবং প্রতারণামূলক। তিনি শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলামোটরে নিজ দলের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম জানান, ‘জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করেও এনসিপি রাজনৈতিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। ‘গতকালকের অনুষ্ঠানে যারা অংশ নিয়েছে, তারা হুকুমের অধীন বা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাইরে গেছে।’

    গত শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন কমিশনের সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশগ্রহণ করে স্বাক্ষর করেন।

    আলোচিত এই সনদ চুক্তিও বলা হলেও, এই অনুষ্ঠানে আধুনিক ও বামপন্থি দলগুলোর মধ্যে কেবল চারটি দল — কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদসহ — অংশ নেয়নি। তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ২৫টি দল এই স্বাক্ষরে অংশ নেয়।

    এনসিপির সই না করার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানানো হয়েছে যে, গত কয়েকদিন ধরে সরকারের পক্ষ থেকে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নানা আলোচনা এবং চাপ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সনদের স্বাক্ষরের শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদের স্বাক্ষর কেবল আনুষ্ঠানিকতা। জনগণের প্রত্যাশা বা চাওয়ার কোনও প্রতিফলন তার মধ্যে দেখা যায়নি। এ ছাড়া, যদি কোনও আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হতে পারে।’

    তিনি আরও জানান, ‘অন্য রাজনৈতিক দলগুলো যদি সনদে স্বাক্ষর করে থাকে, আমাদের কোনও আপত্তি নেই; তারা সেটা আনুষ্ঠানিকতার জন্য করে। তবে এখন আমরা দাবি করছি, এটিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হোক।’

    নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, পুরোনো ফ্যাসিস্ট পদ্ধতির সুবিধাভোগীরা আগের কাঠামো ধরে রাখতে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। কিছু রাজনৈতিক দল এই চুক্তিতে সমঝোতা করলেও, এনসিপি তা করেনি। তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা এই সনদে স্বাক্ষর না করে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। যারা গতকালের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে, তারা গণঅভ্যুত্থান বা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘সনদটি আইনি দিক থেকে অপ্রতুল হওয়ার কারণে এবং সেটির বাস্তবায়নের ধারণা অস্পষ্ট থাকায় এনসিপি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি।’

  • বিএনপি নেতার সঙ্গে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সমর্থন: তারেক রহমান

    বিএনপি নেতার সঙ্গে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সমর্থন: তারেক রহমান

    তারেক রহমান বলেন, ‘সম্মানিত শিক্ষকদের সমাবেশে বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যে তাদের চাকরি সংক্রান্ত দাবি ওঠে, যেখানে অনেকেই আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার কথাও বলেছেন। ডাকসুর ফলাফলের মতোই হবে জাতীয় নির্বাচন—এটি একটি সতর্ক সংকেত। এছাড়াও, বেসরকারি শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি রয়েছে, যা দেশের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি নীতিগতভাবে সমর্থন করে।’

    তিনি আরও বলেছেন, ‘বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখন অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই আমরা এসব দাবি সম্পর্কে সচেতন। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, শিক্ষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না করলে আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী অগ্রগতির সুফল পাবো না।’

    তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ‘জনগণের ভোটে যদি বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসে, তবে শিক্ষা খাতে আর্থিক নিরাপত্তা ও চাকরি স্থায়ীকরণে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উদ্যোগ সাহসিকতার সঙ্গে গ্রহণ করা হবে, যেন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরও উন্নত হয় ও শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

  • নীতিগতভাবে শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে একমত বিএনপি: মির্জা ফখরুল

    নীতিগতভাবে শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে একমত বিএনপি: মির্জা ফখরুল

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন ও তাদের দাবির পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিতে তারা এই দাবিগুলোর সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। তবে, কেউ যদি এই আন্দোলনকে ভিন্ন উদ্দেশ্য করে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাহলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) এক গণমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই হুঁশিয়ারি দেন।

    বিনীতভাবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাতে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। তারা অঙ্গিকার করে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভিত্তি করে শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য যত উদ্যোগই নেওয়া হয় না কেন, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং শিক্ষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা না বাড়ানো পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জন কঠিন।

    অতএব, দেশ যদি আবার ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণ এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করে বিএনপি।

    একই সাথে, নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, যদি শিক্ষকদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আন্দোলনের নামে স্বৈরাচারী ও অপ্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে কোনো দুষ্টচক্র বা সুবিধাবাদী দল গঠন ও শক্তিশালী করার অপচেষ্টা চালানো হয়, তাহলে বিএনপি কোনোভাবেই সে ধরনের কর্মকাণ্ডের কাছে নতি স্বীকার করবে না। এই ধরনের অপচেষ্টা অবিলম্বে প্রতিহত করতে দলটি দৃঢ় সংকল্প বেধেছে।

  • আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনী দ্বারা সংসদ এলাকায় বিশৃঙ্খলা: বিএনপির মন্তব্য

    আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনী দ্বারা সংসদ এলাকায় বিশৃঙ্খলা: বিএনপির মন্তব্য

    জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিন দেশীয় রাজনীতির উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দিন সংসদ ভবন এলাকায় ‘জুলাইযোদ্ধা’ নামে একটি সংগঠনের নামে purportedly থাকা আনসার-আলাম ও অন্যান্য উশৃঙ্খল কিছুকিছু ব্যক্তি ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এই অশান্তির পেছনে আঙুল রয়েছে একদম ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনী’র দিকে, যারা এখনও বিভিন্ন ফাঁকফোকরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় কোনো ‘জুলাইযোদ্ধা’ বা তাঁদের সংগঠনের সঙ্গে কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন না।

    শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মরণে ফুল দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান দলের নেতাকর্মীরা, যেখানে সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই সনদে এনসিপিসহ বিভিন্ন বাম সংগঠনের স্বাক্ষর না থাকায় আগামী প্রভাব পড়বে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ভবিষ্যতে তারা এই সনদে স্বাক্ষর করবেন, ফলে নির্বাচনে কোনও অসুবিধা হবে না। তিনি বলেন, “সবার মধ্যে সহনশীলতা বাড়ানো জরুরি। ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে সরকার ও আর্মি উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকবে।”

    তিনি আরও বলেন, ‘জেলা ও দেশের সার্বভৌমত্ব সুসংহত করতে বিএনপি রাজনীতির সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চায়। জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকে দেশের স্বাধিকার ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিমূল হিসেবে মানে তারা। তিনি বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা চালিয়ে যাবো, যা ফেব্রুয়ারিতে মূলত ৭টি দাবি এবং জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এর বাস্তবায়নে বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো আরো শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক হবে।”

  • নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদের আইনগত নিশ্চয়তা না থাকলে অংশগ্রহণ করব না

    নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদের আইনগত নিশ্চয়তা না থাকলে অংশগ্রহণ করব না

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি জুলাই সনদের জন্য নির্ধারিত আইনগত ভিত্তি ও নিশ্চয়তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তিনি তা জন্য অংশ নেবেন না। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা যদি আইন ও অর্ডারবিহীনভাবে সাবর্ণ করি, তাহলে সেই সনদ অখণ্ড ও মূল্যহীন হয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে যদি এর জন্য প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা এ পর্যায়ে অংশগ্রহণ করব না। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ অবশ্যই স্বাক্ষরের পূর্বে প্রকাশ করা উচিত। এই আদেশটি জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায় অনুসারে প্রধান উপদেষ্টা জারি করবেন। সেই সঙ্গে সনদ স্বাক্ষরের আগের খসড়া আদেশের ওপর আমাদের একমত হতে হবে।

    নাহিদ বলেন, এই আদেশের টেক্সটের খসড়া আমরা আগে দেখব। ড. ইউনূস, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছেন, তিনি এই আদেশ জারির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তবে সেটি প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে গভর্নমেন্টের পক্ষ থেকেও হতে পারে।

    এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাব থাকবে, যা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে। তবে এই ভোটে নোট অব ডিসেন্ট কোনও ভিন্ন ফলাফল দেখাবে না। ভোটের প্রশ্নাবলি আগেই চূড়ান্ত করতে হবে, যেন রাজনৈতিক দলগুলো তা দেখে নিতে পারে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি জনগণ এই ভোতে সনদকে অনুমোদন করে, তাহলে পরবর্তী সংসদ কংস্টিটিউশন সংশোধনী প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষমতা পেয় যাবে। সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনী বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কিছু জানানো সম্ভব হয়নি। সবাই এখন একমত হলেও, এই দাবির ব্যাপারে এখনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

  • মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা

    মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা

    জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জুলাই যোদ্ধারা। এই সংঘর্ষে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং ব্যাপক ধ resemblance ে সম্মুখীন হয়। হতাহতের মধ্যে অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, এবং আন্দোলনকারীরা রোড ব্লকার হিসেবে ব্যবহৃত ব্যারিকেডগুলো একত্রিত করে তা জ্বালিয়ে দেন। অন্যদিকে এমপি হোস্টেলের সামনে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তারা। শুক্রবার দুপুর ১:২৫ মিনিটে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং ১:৪৫ মিনিটের দিকে তারা টায়ার ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এই ঘটনায় মানিক মিয়া এভিনিউয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যা সাধারণ মানুষকেও হাঁটাচলা করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়।’

    অপরদিকে, ‘জুলাই জাতীয় স্বীকৃতি’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা চলছে সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশে। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আহত বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবিতে তারা সকাল থেকেই অবস্থান নেন। এই পরিস্থিতিতে সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের সামনে ব্যাপক সংর্ঘষ সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গেট বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলনকারীদের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা ঠেকায়, তবে আন্দোলনকারীরা বারবার গেট খুলে দেওয়ার আবেদন জানান।

    সংসদ ভবন এলাকা ও কাছাকাছি বিভিন্ন বাহিনী—পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত থাকেন এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন। আন্দোলনরত জুলাই যোদ্ধাদের একদল আড়ংয়ের দিকে, অন্য দল খামার বাড়ির দিকে অবস্থান নেয় এবং পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে থাকেন।

    আদিবাসী এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা সকাল থেকেই এক নয়, বহু দফায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তারা জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের স্বীকৃতি ও সম্মান জানানোর জন্য এই আন্দোলনে অব্যাহত থাকেন। তবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

    আহত ২০ জন জুলাই যোদ্ধাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আতিকুল গাজী জানান, ‘আমরা নিজের দাবি এবং স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করেছিলাম। সরকার আমাদের দাবি উপেক্ষা করে কেবল স্বীকৃতি অনুষ্ঠান করেছে। এই অপরাধের প্রতিবাদে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে আমরা আহত হই।’

    প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে, যার ফলে আশেপাশের দোকানপত্র বন্ধ হয়ে যায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশি এই হামলার ফলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সাময়িকভাবে ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

  • ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশির হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

    ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশির হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

    ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে তিন বাংলাদেশিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এর আগে, গত বুধবার ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশিকে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি পিটিয়ে হত্যা করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত তিনজনের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পণ্ডিত মিয়া (৪০), সজল মিয়া (২৫) এবং জুয়েল মিয়া (৩৫). তাঁরা সবাই পেশায় দিনমজুর।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ত্রিপুরায় একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা এই নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী। বাংলাদেশ সরকার এই জঘন্য ঘটনার ব্যাপারে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে এবং ভারতের কাছে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড পুনরায় না ঘটানোর জন্য ভারতকে আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনারও আহ্বান রয়েছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে বলতে চায় যে, জাতি নির্বিশেষে যে কোনও ব্যক্তি অসাবধানবশত সীমান্তের কোনও পাশে যেতে পারে; কিন্তু তখনও তার মানবাধিকার সম্পূর্ণভাবে রক্ষা পায়।

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, গত বুধবার ত্রিপুরার কারেঙ্গিছড়া এলাকায় গরুচোর সন্দেহে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে বিজিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানতে পারে, নিহত ব্যক্তিরা হবিগঞ্জের বাসিন্দা। এই তিনজনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

    বুধবার বিকেলে তাদের মরদেহ ত্রিপুরা রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে এনে চুনারুঘাটের বালার স্থলবন্দরে রাখা হয়। এই ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ক্ষুব্ধ এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

  • চলতি মাসে টানা चार দিনের ছুটির সম্ভাবনা

    চলতি মাসে টানা चार দিনের ছুটির সম্ভাবনা

    চলতি মাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা আসতে পারে, যেখানে তারা টানা চার দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। সোমবার (২০ অক্টোবর) সালের শ্রীশ্রী শ্যামা পূজা উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকছে। সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের পাশাপাশি এই ঐচ্ছিক ছুটির সুবিধাও রয়েছে, যা নির্দিষ্ট নিয়ম ও অনুমোদনের মাধ্যমে নেওয়া যায়। এই ঐচ্ছিক ছুটি মূলত ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য হয়, যেখানে সরকারি কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন এই সুবিধা পেতে পারেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নিজের ধর্ম অনুযায়ী ছুটির দিনগুলো বার্ষিক ছুটির পঞ্জিতে নির্ধারিত থাকে। এই ছুটি গ্রহণের জন্য বছরের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া আবশ্যক। সাধারণ ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি এই ঐচ্ছিক ছুটিও নেওয়া সম্ভব। এই বলে, ২০ অক্টোবরের আগে রোববার (১৯ অক্টোবর) কর্মদিবস রয়েছে এবং তার আগে শুক্রবার ও শনিবার (১৮ অক্টোবর) দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি পালন হয়েছে। এজন্য যারা ২০ অক্টোবর ঐচ্ছিক ছুটি নেবেন এবং ১৯ অক্টোবর আরেকটি ছুটি যোগ করবেন, তারা চার দিন ধরে টানা ছুটির সুবিধা পাবেন, অর্থাৎ ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ অক্টোবর। এভাবেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীরা এই মাসে একসাথে চার দিনের ছুটি উপভোগের সুযোগ পেতে পারেন।