Blog

  • আসামে জুবিন হত্যা নিয়ে উত্তাল, কারা ফটকে আগুন

    আসামে জুবিন হত্যা নিয়ে উত্তাল, কারা ফটকে আগুন

    আসামের পপ শিল্পকর্তা ও গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনা এখনও রহস্যাবৃত। ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করার সময় তার মৃত্যু হয়। ভক্তরা দাবি করছেন যে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আসাম পুলিশ ইতোমধ্যে তার ব্যান্ডের দুই সদস্য, দেহরক্ষী, সিঙ্গাপুরের এক ফেস্টিভেল আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একজন এবং এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করে।

    গতকাল বুধবার গ্রেফতারকৃতদের বকসা জেলা কারাগারে নেওয়া হয়। কারাগারে নেওয়ার খবর পেয়ে গায়কের অনুরাগীরা কারা ফটকের সামনে জড়ো হয়ে ওঠে। সেখানে পুলিশ ভ্যান আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং গ্রেফতারকৃতদের বিচার চায়।

    তবে এই আন্দোলনের উত্তেজনা ক্রমশ বেড়ে গেলে কিছু বিক্ষোভকারীর ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তারা ইটপাথর ছুড়তে শুরু করে, যার ফলে পুলিশ ভ্যানের ক্ষতি হয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, ফাঁকা গুলি চালায় এবং টিয়ার গ্যাস ছোড়ে।

    প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারাগারের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। এছাড়াও, কারাগার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।

    বকসা জেলা কারাগারে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। নতুন করে কোনও অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    জুবিনের মৃত্যুর পর সিঙ্গাপুরের পুলিশ জানায় তার মৃত্যু স্বাভাবিক। তবে তার স্ত্রী গরিমা ও অনুরাগীরা এই মৃত্যুর পেছনে ষড়যন্ত্রের সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপরই আসামে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয় ব্যাপক তদন্তের জন্য।

    এদিকে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার বকসার ঘটনাকে খুবই দুঃখজনক বলেন। তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল জুবিনের মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। যা বাংলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

  • আপনি এত টাকা দিয়ে কী করবেন? শাহরুখ খানকে ধ্রুব রাঠীর প্রশ্ন

    আপনি এত টাকা দিয়ে কী করবেন? শাহরুখ খানকে ধ্রুব রাঠীর প্রশ্ন

    বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন বলিউডের কিং খান শাহরুখ খান। তবে সম্প্রতি এই বিপুল সম্পদ ও পানমশলার বিজ্ঞাপন নিয়ে গভীরকে প্রশ্ন তুলেছেন জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। তাঁর এক ভিডিওতে তিনি শাহরুখের অসংখ্য কোটি টাকার সম্পদ এবং কেন তিনি ক্ষতিকর পানমশলার বিজ্ঞাপন করেন, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    ধ্রুব রাঠী সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শাহরুখ বর্তমানে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার মালিক। এত বিশাল পরিমান অর্থের কল্পনা করাও কঠিন, সেটাই তিনি উপস্থাপন করেন।

    ভিডিওত তিনি জানান, এই পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে রাখলে বছরে কেমন সুদ পেতেন এবং এর সাথে তার মোট খরচ কত হতে পারে, তার তুলনামূলক হিসাবও দেন। এরপরই মূল প্রশ্নটি তুলে ধরেন—তাহলে কি একদমই এত অর্থের প্রয়োজন ছিল শাহরুখের? তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘ আপনি কি নিজের মনের ভিতরে প্রশ্ন করেন, এত টাকা দিয়ে আপনি আসলেই কী করবেন?’

    ধ্রুব রাঠী বলেন, ‘শাহরুখ খানের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন–– এই পরিমাণ অর্থ কি অপ্রয়োজনীয় নয়? যদি এই বিপুল অর্থই যথেষ্ট হয়, তাহলে পানমশলার মতো ক্ষতিকর একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন করার জন্য এর প্রয়োজন কী?’ এই প্রশ্নটি মনে দাগ কাটে অনেকেরই।

  • এইচএসসিতে ফেল করলেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটার মারুফা

    এইচএসসিতে ফেল করলেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটার মারুফা

    ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড একযোগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে এই ফল ঘোষণা করে। এই বছরের গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ১৮.৯৫ শতাংশ কম। এবারকার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদও, যার মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের পেসার মারুফা আক্তার। বর্তমানে তিনি ভারতের মাটিতে চলমান নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলছেন। সেখানে পৌঁছেছে তাঁর জন্য একটি দুঃসংবাদ—এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি একটি বিষয়ের পরীক্ষায় ফেল করেছেন। বিশ্বখ্যাত বিকেএসপি স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল শামীম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, মারুফা ভুগেৌ বিষয়ে অনুতীর্ণ হিসেবে ফল দেখাচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, স্কুলের পক্ষ থেকে বোর্ডে মারুফার জন্য পুনঃবিশ্লেষণের আবেদন জানানো হবে। তবে বিকেএসপি থেকে এই বছর ছয়জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করেছেন। তার মধ্যে বাস্কেটবল বিভাগের শাহরিয়ার সম্পূর্ণ বিষয়ের জিপিএ ৫ পেয়েছেন, অন্যরা হলেন টেবিল টেনিসের হয় ইসলাম, ক্রিকেটার নাভিদ, মেহরাব ও জান্নাতুল ফেরদৌস এবং অ্যাথলেটিকসের মাসুম মোস্তফা। শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল বোর্ডের ওয়েবসাইট, পরীক্ষাকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবং এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারছে।

  • নাঈম-নাহিদ বাদ, প্রথমবার ডাক পেলেন অঙ্কন

    নাঈম-নাহিদ বাদ, প্রথমবার ডাক পেলেন অঙ্কন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে। কিছু দিন আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত শেষ সিরিজ থেকে দুইজন খেলোয়াড় পরিবর্তিত হন। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ এবং পেসার নাহিদ রানা এই সিরিজের জন্য দল থেকে বাদ গেছেন।

    অপরদিকে, অভিজ্ঞ ব্যাটার সৌম্য সরকার আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন। তিনি শেষবার খেলেছিলেন এই বছর ফেব্রুয়ারিতে। সেই সাথে, ডানহাতি মিডল-অর্ডার ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে তিনি টেস্ট ডেবিউ করেছেন, তাই এবার ফুল ফর্মে ক্রিকেটের ভক্তরা তাকে লাল সবুজ জার্সি পরানোর ঢক্কা দেখার অপেক্ষায়।

    বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স মোটেই ভালো নয়। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয় তারা ৩-০ ব্যবধানে। আগামী ১৮, ২১ এবং ২৩ অক্টোবর মিরপুর শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে এই তিনটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।

    সবগুলো ম্যাচই অনির্বাচিত হবে মিরপুরে। এরপর বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ হওয়ার কথা, যা হবে ২৭, ২৯ ও ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

    বাংলাদেশের স্কোয়াডে থাকছেন: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভির ইসলাম, তাসکিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব ও হাসান মাহমুদ।

  • অস্ট্রেলিয়াকে ১০ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়াকে ১০ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে শুরুতে জয় দিয়ে পথ শুরু করলেও এরপর টানা তিন ম্যাচ হেরে স্বাগতিকরা বেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। সেমিফাইনালে পৌঁছানোর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জেতা, কারণ এই ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের জন্য। দুর্ভাগ্যবশত, অস্ট্রেলিয়াকে বড় ব্যবধানে ১০ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশকে বিদায় করতে সক্ষম হয়েছে শিষ্যরা। এই জয়ে, অস্ট্রেলিয়া প্রথম দল হিসেবে চলমান নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছানোর গুরুদায়িত্ব পালন করেছে। এখন পর্যন্ত তারা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত রেকর্ড ধরে রেখেছে, যা তাদের অপ্রতিরোধ্য শক্তির জানান দেয়।

    বৃহস্পতিবার বিশাখাপত্নমে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশের পক্ষে সাবেহানা মোস্তারির অর্ধশতকের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তোলে।

    বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হয় শক্তির সঙ্গে। উদ্বোধনী জুটি রুবাইয়া ঝিলিক ও ফারজানা হক ৩২ রান যোগ করেন। তবে, ফারজানা মাত্র ৮ রান করে আউট হন। এরপর ঝিলিকের সঙ্গে জোড়া লাগিয়ে রানের চাকা সচল রাখতে থাকেন শারমিন। ঝিলিক ৭২ রান করেন, আর ৫৯ বলের ভিতরে ৪৪ রান করে ফিরে যান। এরপর থেকে বাংলাদেশের উইকেট নিয়মিত হারাতে শুরু করে, কিন্তু সোবহানা মোস্তারির ব্যাটে লেগে থাকে দলের হাল। তিনি অপরাজিত থাকেন ৮০ বলে ৬৬ রান করে। অজিদের পক্ষে অ্যাশলে গার্ডনার, অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ও জর্জিয়া ওয়্যারহাম ২টি করে উইকেট নেন।

    জয়োটের জন্য ১৯৯ রানের টার্গেট সেট হয়। বাংলাদেশি বোলারদের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার অ্যালিসা হিলি ও ফোবি লিচফিল্ড শুরু থেকেই আক্রমণ চালান। দুই অজি ওপেনার টি-টোয়েন্টির মতো মারমুখি ব্যাটিং করেন, যার ফলে বাংলাদেশের বোলাররা কোনও সুযোগ পায়নি। হিলি ৭৭ বলে ১১৩ রান এবং লিচফিল্ড ৭২ বলের অনেক বেশি সময় নিয়ে ৮৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই অসম্ভব সহজে, এক উইকেট না হারিয়ে, ১৫১ বল হাতে রেখে অস্ট্রেলিয়া জয় পান। এই হার বাংলাদেশের সেমিফাইনালে আশা শেষ করে দেয়। বাংলাদেশের খেলা এখানেই শেষ, আর অস্ট্রেলিয়া চলমান টুর্নামেন্টের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যায়।

  • পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিন আফগান ক্রিকেটার নিহত

    পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিন আফগান ক্রিকেটার নিহত

    পাকিস্তানের আত্মঘাতী বিমান হামলায় আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে অন্তত তিনজন আফগান ক্রিকেটার নিহত হয়েছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি), যদিও এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যম রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা আটজন বলা হয়েছিল। পরে এসিবি সত্যতা নিশ্চিত করে যে, এই হামলায় তিনজন ক্রিকেটার শহীদ হয়েছেন।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উরগুন জেলার এক বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে অবস্থানরত ওই ক্রিকেটাররা ফিরছিলেন নিজের এলাকায় যখন বিমান হামলার শিকার হন। নিহতদের পরিচয় এখন এসিবি নিশ্চিত করেছে। তাদের নাম হলো কবির, সিবঘাতুল্লাহ ও হারুন।

    এসিবির আরও তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন, যার সংখ্যা পাঁচজন।

    এক বিবৃতিতে আফগান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, উরগুন জেলার সাহসী ক্রিকেটারদের শহীদ হওয়ার ঘটনায় তারা ব্যথিত। বোর্ড উল্লেখ করেছে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর এই কাপুরুষোচিত হামলা ন্যায্য নয় এবং এর নিন্দা জানায়।

    এই ভয়াবহ ঘটনার পর, আফগানিস্তান আগামী মাসে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এসিবি জানিয়েছে, নিহত ক্রিকেটারদের স্মরণে ও সম্মান জানিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    ক্রিকেটারদের শোক ও প্রতিক্রিয়া:
    আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক রশিদ খান বলেন, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অসংখ্য সাধারণ মানুষ, নারী, শিশু ও তরুণ ক্রিকেটার নিহত হয়েছেন, যা আমি গভীরভাবে ব্যথিত। তিনি আরও বলেন, এই বর্বরতার প্রতি আমরা গভীর অনুতপ্ত ও উদ্বিগ্ন। রশিদ খান উল্লেখ করেন, আমাদের জাতীয় মর্যাদা সবকিছুর উপরে। নিরপরাধ প্রাণহানির প্রেক্ষিতে এই সিরিজ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার এটাই আমাদের শাস্তি ও প্রতিবাদ।

    অন্য একজন ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু পাকিস্তান নয়, পুরো আফগান ক্রিকেট পরিবারকেও গভীর ট্র্যাজেডির মুখে ফেলেছে।

    ফাস্ট বোলার ফজলহক ফারুকি বলেন, নিরপরাধ মানুষ ও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের হত্যাযজ্ঞ—a ভয়ংকর অপরাধ, যা কখনো ক্ষমা করার যোগ্য নয়।

    আফগান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, শুক্রবার পাকিস্তান সমর্থিত সেনারা আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় উরগুন ও বারমাল জেলার আবাসিক এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বহু বেসামরিক প্রাণহানি ঘটে।

    এই হামলা এমন সময় ঘটে যখন দুই দেশের মধ্যে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি চলমান ছিল। কাবুলের দিক থেকে জানানো হয়, পাকিস্তান এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

    বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মনিটরএক্স জানায়, হামলার পরে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তান সীমান্তে আফগান তালেবান সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে। সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে, জেনেশোনে যুদ্ধের সাজে সজ্জিত তালেবান যোদ্ধাদের বাসে যাত্রার দৃশ্য।

  • নতুন শুরুয়াতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, অঙ্কনের অভিষেক

    নতুন শুরুয়াতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, অঙ্কনের অভিষেক

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশড হওয়ার ধকল কাটিয়ে উঠার খুব বেশি সময় কাটেনি বাংলাদেশের। সর্বশেষ পরাজয়ের পর নতুন আশায় বুক বেঁধে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হচ্ছে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দল। এই ম্যাচটি মিরপুর শের-ই-বাংলায় অনুষ্ঠিত হবে দুপুর দেড়টায়।

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধারাবাহিক পরাজয়ের পর দলে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, যাকে ক্যাপ দেওয়া হয়েছে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে। এছাড়া দীর্ঘদিন পর একাদশে ফিরে এসেছেন তারকা ব্যাটার সৌম্য সরকার। দলের মধ্যে কিছু পুরোনো মুখের পরিবর্তে নতুন তরুণ নেতৃত্ব ও তরুণ খেলোয়াড়রা জায়গা পেয়েছেন। শামীম হোসেন পাটোয়ারী একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন, পাশাপাশি মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও নাহিদ রানা দলের বাইরে থাকছেন। অন্যদিকে, দুই অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ একাদশে ফিরে এসেছেন।

    ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ কিছুটা আত্মবিশ্বাসী থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই ফরম্যাটে তারা বেশ কঠিন সময় পার করছে। শেষ ১২ ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই হেরেছে লাল-সবুজের দল। তাই আজকের ম্যাচটি তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    বাংলাদেশ একাদশের মধ্যে আছেন: সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ এবং মুস্তাফিজুর রহমান।

    অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল গঠনে রয়েছে: শাই হোপ (অধিনায়ক), অলিক আথানেজ, কেসি কার্টি, রোস্টন চেইস, জাস্টিন গ্রেভস, ব্র্যান্ডন কিং, গুডাকেশ মোতি, খ্যারি পিয়ের, শেরফান রাদারফোর্ড, জেইডেন সিলস এবং রোমারিও শেফার্ড।

  • ইসরায়েলের নিপীড়নEvidence: দগ্ধ, বাঁধা ও ক্ষতচিহ্নযুক্ত ফিলিস্তিনি মরদেহ ফেরত

    ইসরায়েলের নিপীড়নEvidence: দগ্ধ, বাঁধা ও ক্ষতচিহ্নযুক্ত ফিলিস্তিনি মরদেহ ফেরত

    যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল থেকে ফেরত আসা ফিলিস্তিনি ব্যক্তির দেহে স্পষ্টভাবে চোখে পড়ার মতো নৃশংসতার চিহ্ন রয়েছে। ফুটানোর মতো দগ্ধ, হাতে-পায়ে বাঁধা and নির্যাতনের দাগ সহ মরদেহগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এই বর্বরতার প্রমাণ বহন করে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. মুনির আল-বুরশ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ফিরে আসা মরদেহগুলো পশুর মতো বাঁধা অবস্থায় ছিল, চোখের বাঁধন পরানো ছিল এবং দগ্ধ ও নির্যাতনের দাগ ছিল, যা গোপন বর্বরতার গভীরতা প্রকাশ করছে।” তিনি আরও বলেন, “এই দেহগুলোর ক্ষতচিহ্নগুলো অস্বীকার করা অসম্ভব, এবং অনেকের মধ্যে সরাসরি হত্যা ও হত্যার পর পশুপাখির মতো বাঁধার দাগ দেখা গেছে।”

    ডাক্তার ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কিছু মরদেহে অঙ্গচুরির চিহ্নও রয়েছে। অর্থাৎ, কিছু পরিবার তাদের প্রিয়জনের দেহে অঙ্গের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। এটি দখলদার বাহিনীর পরিকল্পিত অপরাধের ধারাবাহিক, যেখানে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়।”

    সংস্থাটি আরও জানায়, “এতগুলো নিঃসঙ্গ ও নিরীহ ফিলিস্তিনি ব্যক্তির মৃতদেহ দেখিয়েছে যে, তাদের হত্যা ছিল নির্মম ও পরিকল্পিত। আহতদের বোঝাতে, শরীরে দগ্ধ ও ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে এবং কিছু দেহে দেখা যাচ্ছে সাঁজোয়া যান দিয়ে পিষে ফেলার মতো চিহ্ন।”

    বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রমাণগুলো স্পষ্ট করে যে, অনেককে গ্রেফতারের পরে নির্বিচারে, ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন।” তারা জানায়, “প্রাথমিকভাবে আমরা দাবি করছি, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত জরুরি, যাতে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে পারা যায়।”

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে ইসরায়েল থেকে ৩০ জনের মরদেহ গ্রহণ করেছে, যাদের শরীরে ‘নির্যাতন ও পোড়ার’ চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর আগে যুদ্ধ শেষে, গাজার মেডিকেল সূত্র নিশ্চিত করে যে, ইসরায়েল মোট ১২০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে।

    এভাবেই চলমান এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে, মানবতা ও মানবাধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর নজরদারির প্রয়োজন বাড়ছে।

  • পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর অভিযানে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিহত ৪০

    পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর অভিযানে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিহত ৪০

    অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারো সংঘর্ষ শুরু হয়েছে আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনী স্পিন বোলদাক শহরে ভয়ঙ্কর এ হামলা চালিয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৪০ জন নিহত এবং আরও অন্তত ১৭৯ জন আহত হয়েছেন। স্পিন বোলদাক আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকা, যেখানে এ হামলায় নারী ও শিশু সহ বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করিমুল্লাহ জুবাইর আগা জানিয়েছেন, নিহত ও আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশুসহ সাধারণ নাগরিক।

    গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তে চলা সংঘাতে দু’দেশের সেনাবাহিনী একে অপরের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরপর ১৫ অক্টোবর তারা ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতিতে বসে, যা গতকাল ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টার সময় শেষ হয়। বিরতি শেষ হতেই পাকিস্তানি সেনারা স্পিন বোলদাক শহরে অবস্থান নেয় ও ভয়ঙ্কর আক্রমণ চালায়। হামলায় অনেক বাড়িঘর, দোকানপাঠ ধ্বংসের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যারা বেঁচে রয়েছেন, তারা এ হামনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

    নিহতদের বেশিরভাগই বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। হাজি বাহরাম নামের এক ব্যক্তি তোলো নিউজকে বলেছেন, “আমি কখনও এত অবিচার দেখেছি না। এক দেশ, যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে, তারা এখানে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপরে হামলা চালিয়েছে। এটা বড়ই উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক।”

    পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি স্পিন বোলদাক শহরের বিভিন্ন স্থান—নোকলি, হাজি হাসান কেলাই, ওয়ার্দাক, কুচিয়ান, শহীদ ও শোরবাকে বিভিন্ন সময় পাকিস্তানি স্থলবাহিনী আর্টিলারি গোলা নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় অনেক বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের চলমান সংঘাতের মূল কারণ হল পাকিস্তানের তালেবানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান (টিটিপি)। কয়েক বছর ধরেই এ গোষ্ঠী পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ থাকলেও, তারা আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

    খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মূল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টিটিপি, যেখানে তালেবান সরকার ২০২১ সালে আফগানিস্তানে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গোষ্ঠীর সশস্ত্র কার্যক্রম আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান তাদের মদত ও আশ্রয় দেয়, তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    গত ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামলা চালিয়ে শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ নিহত করেন পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এর দু’দিন পর ১১ অক্টোবর আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান ও আফগান সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। চার দিন দীর্ঘ সংঘাতের পরে ১৫ অক্টোবর আবারো ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। আজ দুপুর ১টার সময় সেই বিরতি শেষ হয়, আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনারা। এ ঘটনায় বহু পরিবার আবারও ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাহত হয়েছে।

  • শেখ হাসিনা এবার মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি: দ্য টেলিগ্রাফ

    শেখ হাসিনা এবার মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি: দ্য টেলিগ্রাফ

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ডের দোনর Facing হতে পারেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ শুক্রবার (১৭ অক্টোবরে) এই খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউलিপ সিদ্দিকের খালা হিসেবে উল্লেখ করে, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে “প্রাণঘাতী অস্ত্র” ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে প্রায় ১,৪০০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।প্রসিকিউশনের মতে, এই নির্দেশে দমন অভিযানে নিহতদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং আহতদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তবে শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সময়ে এ ধরনের গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, যেখানে আনুমানিক ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে—মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও প্রেরণাদায়ক ভাষণে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বন্ধের জন্য ভিন্নভিন্ন দল ও সংগঠনের বিক্ষোভের মাধ্যমে। অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশব্যাপী শেখ হাসিনার পদত্যাগের জন্য আন্দোলনে রূপ নেয়।

    ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে দেশের বাইরে চলে যান। ঠিক তখনই ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে বিক্ষোভকারীরা। একইদিন ঢাকার এক ব্যস্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৫২ জন নিহত হন—এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    তার শাসনামলে নানা অভিযোগ উঠেছিল যেমন সঙ্গে ব্যাপক ভোট কারচুপি, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার, নির্যাতন ও গুমের ঘটনাও প্রচুর ছিল। বিশেষ করে শিশু গুমের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।প্রসিকিউটর ময়নুল করিম জানান, তাদের সংরক্ষিত ফোন রেকর্ড, অডিও-ভিডিও প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, শেখ হাসিনা সরাসরি এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলছেন, “আমরা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারব যে, তিনি মৃত্যুদণ্ডের জন্য বিচারযোগ্য। তারই নির্দেশে এইসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে”।

    আদালত ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে জুলাইয়ে গ্রেফতার করা হয় ও তিনি দোষ স্বীকার করেছেন। মামুন স্বীকার করেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর হেলিকপ্টার ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিলেন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন।

    প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে বলেন, “শেখ হাসিনা ১,৪০০ বার মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য”। তবে মানবিক কারণে, কমপক্ষে একটিই মৃত্যুদণ্ডের তরপে দাবি জানান। তার উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি বলেন, “তিনি ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন, নিজের ও পরিবারের স্বার্থে। তাকে এখন এক কঠোর অপরাধীতে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তার বর্বরতা প্রকাশ পেয়েছে এবং তিনি কোনো অনুশোচনা দেখাচ্ছেন না”।

    আগামী রোববার (১৯ অক্টোবর) থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবেন, যা আশা করা যাচ্ছে, পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। নভেম্বরের মধ্যভাগে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

    অভিযোগ প্রমাণিত হলে শেখ হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির জন্য নিলাম অনুষ্ঠিত হতে পারে, যার ফলে অর্থের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

    তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, যখন বিক্ষোভকারীরা সহিংসতা চালিয়েছিলেন, তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। পাশাপাশি, শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আদালত অবমাননায় ছয় মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলমান।

    অন্যদিকে, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক—যে এই বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন—তিনি এখনো বাংলাদেশে অনুপস্থিতই রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার খালার প্রভাবের অধীনে রেখে নিজের পরিবারের জন্য জমির প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটিয়েছেন। তিনি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে বিএনপিকে। তবে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বা নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।