Blog

  • সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

    সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

    সৌদি আরবে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। অতি সাম্প্রতিক এই অভিযানে মোট ২২ হাজার ৬১৩ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই খবর প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ, যা রবিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে।

    এর আগে গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে এই প্রবাসীদের গ্রেপ্তার করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলে বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৩ হাজার brib-652 জন ব্যক্তি আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে, ৪ হাজার ৩৯৪ জন সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের জন্য এবং ৪ হাজার ৫৬৭ জন শ্রম আইন মানার বাইরে কাজ করায় গ্রেপ্তার করা হয়। সৌদি আরবের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী এই অভিযান চালিয়েছে।

    বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩১ হাজার ৩৭৪ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৮১৪ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫৬০ জন নারী। গ্রেপ্তার প্রবাসীদের মধ্যে ২৩ হাজার ২১ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে তাদের ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে।

    এছাড়াও, আরও ৩ হাজার ৯৩৯ জনের সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ হাজার ৩৯ জনকে ইতিমধ্যে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

    অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টায় ৩৫ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি, আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনের জন্য ২৩ ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করেছে সৌদি পুলিশ।

    সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে সৌদি আরবে ঢোকার চেষ্টা করায় ১ হাজার ৬৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ইথিয়োপিয়ান ৫৪ শতাংশ, ইয়েমেনি ৪৫ শতাংশ এবং অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন ১ শতাংশ।

    সৌদি আরবের এই ধরনের আইনি ব্যবস্থা কঠোর, যেখানে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা করলেই দণ্ডের ভোগদখল ও জরিমানা করা হয়। এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করে আসছে নাগরিক ও অভিবাসীদের।

    মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বাসস্থানে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক কাজ করছে। নিয়মিতভাবে সৌদি গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেপ্তার খবর।

  • আফগান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পাকিস্তানি পাঁচ সৈন্য ও ২৫ জঙ্গি নিহত

    আফগান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পাকিস্তানি পাঁচ সৈন্য ও ২৫ জঙ্গি নিহত

    তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলমান শান্তি আলোচনা চলাকালে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাকিস্তানের পাঁচ সেনা সদস্য এবং ২৫ জঙ্গি নিহত হন। রোববার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    পশ্চিমা প্রতিবেশী দুই দেশ—পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সংঘর্ষটি নতুন মাত্রায় পৌঁছায়। বিশেষ করে, ইস্তাম্বুলের শান্তি আলোচনার মধ্যে পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে এই সংঘর্ষের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়।

    আইএসপিআরের বিবৃতিতে জানানো হয়, গত শুক্রবার ও শনিবার আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে কিছু জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের কুররাম এবং উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ওইসব অপচেষ্টাকে বাধা দেয় এবং নিরুৎসাহিত করে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই অনুপ্রবেশের চেষ্টার পেছনে আফগানিস্তানের সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। যদিও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই ধরনের মামলার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা রয়টার্সের মতে, তালেবান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের সীমান্তে সামরিক অপারেশনগুলো মূলত আফগান সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

    চলতি মাসের শুরুর দিকে এই দুই দেশের সেনা সংঘর্ষে আরও বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেইসঙ্গে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায়, ইস্তাম্বুলে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২১ সালে তালেবান কাবুল দখলের পর এটাই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত কলহ।

    আফগানিস্তানে অবস্থানরত জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্তের ওপারে হামলার প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান কাবুলের প্রতি আবেদন জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি, জঙ্গি হামলায় ২৩ জনের বেশি সৈন্যের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ঘটনার পর পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও অন্য এক প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। এরপর দুই দেশের সেনারা পাল্টা হামলায় লিপ্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে গত রোববার দোহায় দুই দেশ শান্তির জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

    সোমবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে এবং পাকিস্তান বিশ্বাস করে, আফগানিস্তান আসলে শান্তিপ্রিয়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ইস্তাম্বুলে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা না হয়, তাহলে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে।

    জঙ্গিদের ব্যাপারে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা ‘‘ফিতনা আল খারিজ’’ নামে পরিচিত উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্য, যারা বিভিন্ন সময়ে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের মতে, এই গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমেও সহায়তা পায়।

    সংবাদসূত্র: এএফপি, রয়টার্স।

  • দক্ষিণ চীন সাগরে হঠাৎ মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

    দক্ষিণ চীন সাগরে হঠাৎ মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

    দক্ষিণ চীন সাগরে আধাঘণ্টার ব্যবধানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি এয়ারক্রাফট—একটি যুদ্ধবিমান এবং একটি হেলিকপ্টার—অপ্রত্যাশিতভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনাগুলোর ঘটনা ঘটে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস নিমিৎজের কাছাকাছি অঞ্চলে, যেখানে দুটি যন্ত্রাংশ এসময় এয়ারক্রাফটগুলো উড্ডয়ন করছিল।

    বিশেষ করে সৌভাগ্যক্রমে এই দুর্ঘটনায় রোমান্সের পাঁচ ক্রু সদস্যই জীবিত ও নিরাপদে আছেন। তবে এই ঘটনাগুলো আবারও মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ও পরিচালনার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    সোমবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে ইউএসএস নিমিৎজ থেকে উড্ডয়ন করা এই দুটি এয়ারক্রাফট—এমএইচ-৬০আর সি হক হেলিকপ্টার এবং এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান—আধঘণ্টার ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়।

    ফ্লিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পর তিনজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। হেলিকপ্টারটি ছিল এমএইচ-৬০আর সি, যার তিনজন ক্রু উদ্ধার করা হয়েছে। আর যুদ্ধবিমানটি ছিল এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট, যার দুই পাইলটও নিরাপদে ইজেক্ট করে বের হতে পেরেছেন। এভাবে মোট পাঁচজনই এখন “সুরক্ষিত এবং স্থিতিশীল” অবস্থায় আছেন।

    বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অন্বেষণে তদন্ত চলছে।

    এপি বলছে, অবসর নেওয়ার আগে এই ইউএসএস নিমিৎজ তার শেষ মিশনে অংশ নিচ্ছিল। পুরো গ্রীষ্ম জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করে এরপর এটি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নেভাল বেস কিটস্যাপেতে ফিরে আসছিল।

    অপরদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী সেই অঞ্চলে উপস্থিতি জোরদার করতে এই রণতরী পাঠানো হয়েছিল।

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানবাহী রণতরীতে দুর্ঘটনা প্রথম একবার নয়। এর আগে ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যানের বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে আছে – চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রুম্যানের হ্যাঙ্গার থেকে একটি এফ/এ-১৮ জেট সাগরে পড়ে যায়, যা ভুলবশত ট্রুম্যানের মাধ্যমে উৎক্ষেপিত হয়েছিল। এর আগে ডিসেম্বর ২০২২ সালে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ক্রুজার ইউএসএস গেটিসবার্গ ভুলক্রমে ট্রুম্যানের ক্যারিয়ারের এফ/এ-১৮ জেটটিকে ভূপাতিত করে।

    আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে—মে মাসে ট্রুম্যানের অবতরণের সময় একটি এফ/এ সিরিজের যুদ্ধবিমান সাগরে পড়ে যায় এবং পাইলটরা বাধ্য হয়ে ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়।

    অথচ, এই সব দুর্ঘটনায় কেউ নিহত বা গুরুতর আহত হননি। তখন থেকেই এই দুর্ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে, তবে আর কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রকাশ এখনো হয়নি।

  • হাতকড়া ও বেড়ি পরিয়ে ভারতে ফিরিয়ে আনা হলো ৫০ তরুণকে

    হাতকড়া ও বেড়ি পরিয়ে ভারতে ফিরিয়ে আনা হলো ৫০ তরুণকে

    উন্নত জীবনের আশায় ভারতের তরুণেরা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। অনেকের জন্য এটি ছিল স্বপ্নের মতো এক অভিযাত্রা, যার জন্য তারা জমি বিক্রি, ঘর বন্ধক রেখেছিলেন এবং এজেন্টদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তবে সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অবৈধভাবে বসবাসের দায়ে মার্কিন প্রশাসন তাদের হাতকড়া ও পায়ে বেড়ি পরিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।

    রোববার (২৬ অক্টোবর) ভোরে হরিয়ানার ৫০ জন তরুণ দেশে ফিরেছেন। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই তরুণদের মধ্যে ১৬ জন কারনাল, ১৪ জন কাইথাল, ৫ জন কুরুক্ষেত্র ও ১ জন পানিপথ জেলার বাসিন্দা। তারা সবাই ‘ডানকি রুট’ ব্যবহার করে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলো পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। কেউ কেউ সেখানে কয়েক বছর বসবাস করেছেন, আবার কেউ মাত্র কিছু মাস। কেউ আবার ফেরত পাঠানোর আগে কারাভোগও করেছেন।

    কারনালের ২৬ বছর বয়সী অঙ্কুর সিং জানিয়ে বলেন, ২০২২ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তার খরচ হয় প্রায় ২৯ লাখ রুপি। চার মাসের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ পেরিয়ে গিয়েছিলেন। অঙ্কুর বলেন, “সব কিছু ভালোই চলছিল, কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জর্জিয়ায় একটি মদের দোকানে কাজ করার সময় ধরা পড়ি।”

    তারপর তাকে আটক করে রাখা হয় এবং ২৪ অক্টোবর ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। এই ফ্লাইটে হরিয়ানা ছাড়াও পাঞ্জাব, হায়দরাবাদ, গুজরাট এবং গোয়া থেকেও কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দুইহাজার পাঁচশ’ ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আটটি সামরিক, চার্টার্ড ও বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরত আনা হয়েছে। অধিকাংশই পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও গুজরাটের বাসিন্দা।

    ফেরত আসাদের মধ্যে ছিলেন হরিয়ানার ঘোরাউন্দা ব্লকের হুসন (২১)। তার তিন বোনের একমাত্র ভাই হুসন, তার জন্য পরিবারকে ৪৫ লাখ রুপি এজেন্টদের দিতে হয়েছিল। তার কাকা সুরেন্দর সিং বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরই হুসন ধরা পড়ে। পরিবার জমি বিক্রি করেছিল, কিন্তু সব অকর্মণ্য হয়ে গেল।”

    একইভাবে কারনালের কালসী গ্রামের শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান হরিশ এসসি, ২০২৩ সালে কর্মী ভিসায় কানাডা যান। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং দোকানে কাজ করার সময় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আটক হন।

    কাইথাল জেলার তারাগড়ের নরেশ কুমার এক বছর বেশি সময় জেলে ছিলেন। তিনি বলেন, “ফ্লাইটে ওঠানোর সময় আমাদের হাতকড়া পরানো হয়, তবে কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার হয়নি। আমি সেখানে ১৪ মাস জেলে ছিলাম।”

    নরেশ আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তাকে ৫৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি দিতে হয়েছিল এজেন্টদের, যারা কম খরচের প্রলোভন দিয়েছিলেন। এই টাকা জোগাতে তার পরিবার জমি বিক্রি ও ধার করেছে।

    কাইথাল জেলার পুলিশ সুপার উপাসনা জানান, রোববার বিকেলে ১৪ জন তরুণকে দিল্লি থেকে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন আবগারি মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। জিন্দ জেলায় এসপি কুলদীপ সিং বলেন, তার জেলার তিনজন তরুণও ফেরত এসেছে এবং তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • গাজায় মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে লুকানো হাজার হাজার টন অবিস্ফোরিত বোমা

    গাজায় মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে লুকানো হাজার হাজার টন অবিস্ফোরিত বোমা

    ইসরায়েলি অবরোধের ফলে ফিলিস্তিনের গাজা পুনর্গঠনের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে বহু মানুষ, এবং চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে বিস্ফোরিত না হওয়া বিপুল পরিমাণ বোমা। এই অবিস্ফোরিত বোমাগুলোর পরিমাণ এখন হাজার হাজার টন ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জীবনের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা ও ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের সুযোগ খুবই সংকটের মধ্যে রয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি অবরোধের কারণে জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও শ্রমিকরা গাজায় যেতে পারছেন না। শহরটির মেয়র ইয়াহিয়া আল-সররাজ বলেন, গাজার ধ্বংসস্তূপ সরানো ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি এখন খুবই কম প্রবেশ করতে পারছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, আসলে হাজার হাজার টন অবিস্ফোরিত ইসরায়েলি বোমা ইতোমধ্যেই শহরবাসীর জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

    রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আল-সররাজ জানান, পানি সরবরাহ ও নতুন করে কূপ খননের জন্য কমপক্ষে ২৫০টি ভারী যন্ত্রপাতি ও এক হাজার টন সিমেন্টের দ্রুত প্রয়োজন রয়েছে। তবে, আল জাজিরার গাজার রিপোর্টার হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন, এত বড় চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি ট্রাক সীমান্ত পেরিয়ে গাজায় প্রবেশ করতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, এখনও প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তবে, বর্তমানে ব্যবহৃত নতুন যন্ত্রপাতিগুলো মূলত ইসরায়েলি বন্দিদের মরদেহ উদ্ধারে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনিরা অপছন্দ করেন।

    খুদারি বলছেন, ফিলিস্তিনিরা জানেন, যতক্ষণ না সব ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়, ততক্ষণ যুদ্ধবিরতি বা কোনো অগ্রগতি হবে না। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাফাহ শহরে এক ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ উদ্ধার অভিযানে হামাসের কাসাম ব্রিগেডকে সহায়তার জন্য রেড ক্রসের গাড়ি পৌঁছেছে।

    অন্যদিকে, রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে জানান, গাজায় কোনও স্বতন্ত্র বিদেশি বাহিনী কাজ করতে পারবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র ইসরায়েলের। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করছি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কোনও ভূমিকা থাকছে না। গাজায় কোন বাহিনী গ্রহণযোগ্য, তা আমাদেরই নির্ধারণ করতে হবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রও স্বীকৃতি দিয়েছে।

    পাশাপাশি, গাজার পুনর্গঠনে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বিস্ফোরিত না হওয়া বোমা। ব্রিটিশ-বিত্তক সংস্থা হালো ট্রাস্টের মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের পরিচালক নিকোলাস টরবেট জানান, গাজার প্রায় প্রতিটি অংশে বোমা পড়েছে। তিনি বলেন, অনেক গোলাবারুদ রয়েছে যা আঘাতের পরই বিস্ফোরিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। এসব বোমা অপসারণে সময় লাগছে এবং এই কারণে পুনর্গঠন কার্যক্রম ব্যাপক বিলম্বিত হচ্ছে।

    তিনি পরামর্শ দেন, নিরাপদে বোমা অপসারণের জন্য ছোট পরিমাণ বিস্ফোরক ব্যবহার করে বোমাগুলোর নিঃশন বা উড়িয়ে দেওয়ার কাজ করা উচিত। এ জন্য খুব জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না; ছোট যান বা হাতে বহন করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার সম্ভব।

    ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ইসরায়েল গাজায় অন্তত ২ লাখ টন বোমা ফেলেছে, যার মধ্যে এখনও প্রায় ৭০ হাজার টন বিস্ফোরিত হয়ে যায়নি। এই বিপুল পরিমাণ বোমার কারণে গাজা নগরীর নানা অংশ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে রয়েছে।

  • গল্লামারী মোহাম্মদ নগর মোড়ে ডাস্টবিন সরানোর উদ্যোগে চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষণা

    গল্লামারী মোহাম্মদ নগর মোড়ে ডাস্টবিন সরানোর উদ্যোগে চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষণা

    গল্লামারী মোহাম্মদ নগর মোড়ে অবস্থিত ময়লার ডাস্টবিনের অব্যবস্থা এবং এর কারণে সৃষ্টি হওয়া সমস্যাগুলোর সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নয়তো কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে এর পরিবর্তনের জন্য হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে গল্লামারী মোহাম্মদ নগর মোড়ে ব্যাপক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যা বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর উদ্যোগে সংগঠিত। এই মানববন্ধনের মূল বিষয় ছিল ডাস্টবিন অপসারণের পাশাপাশি পুরো কেসিসি’র অন্তর্গত সমস্ত সড়কের পাশে থাকা আবর্জনা অপসারণ এবং রাতের বেলা সড়ক পরিবহন সচল করার দাবি।

    সংগঠনের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মোঃ জামাল মোড়লের পরিচালনায় এ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মোড়ে থাকা ময়লার ডাস্টবিনের জন্য সড়কটি অনেকটা চিকন হয়ে গেছে। পাশাপাশি গল্লামারী ব্রিজের কাজ শুরু না হওয়া ও সড়কের জ্যামের কারণে সাধারণ মানুষ বড় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ডাস্টবিন থেকে পঁচা দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় স্বস্তি নেই।

    বক্তারা আরো বলেন, পরবর্তীতে সমস্যা সমাধানে যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচি উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অতিরিক্ত বক্তারা অ্যাকাউন্টে দৃষ্টি দিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, নেতা ও সমাজসেবকদের সমর্থন চেয়েছেন। এ সময় বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা শামিল হন এবং পরিবেশের সুস্থতার জন্য একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • দলের দুর্দিনে যারা সঙ্গে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা জরুরি : লবি

    দলের দুর্দিনে যারা সঙ্গে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা জরুরি : লবি

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ের লক্ষে খুলনা-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগর লবি ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছে। রোববার সকালে উপজেলা শহিদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী আসগর লবি, তিনি বক্তব্যে বলেন, ডুমুরিয়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি। আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করতে হলে দলের মধ্যে কোনও বিভাজন বা লবিং চলার সুযোগ নেই। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাই এককাট্টা হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্দিনে যেসব নেতাকর্মী আন্দোলন সংগ্রামে ঝুঁকি নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। সভায় জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী এড. তছলিমা খাতুন ছন্দা, সাধারণ সম্পাদক সেতারা বেগম, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শেখ সরোয়ার হোসেন, সহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা-sদর دار আলেক মোল্লা, আব্দুল মালেক, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, শেখ হাফিজুর রহমান, গাজী আব্দুল হালিম, প্রভাষক মঞ্জুর রশিদ, হেমায়েত রশিদ খান সহ অনেক নেতাকর্মী। এই কার্যক্রম দলের অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সব নাগরিকের সম্মানজনক ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের উদ্যোগ

    সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সব নাগরিকের সম্মানজনক ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের উদ্যোগ

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন জনমিতির লভ্যাংশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে ২০৩৩ সালে দেশের বয়সের কারণে নির্ভরশীল জনসংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি গড় আয়ুও বৃদ্ধি পাবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সম্মানজনক ও নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে সরকার এবার চালু করছে সব নাগরিকের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম। সোমবার সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এই নতুন পেনশন মেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. শেখ আব্দুর রশীদ আরও বলেন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যার সংখ্যা ১৪৩টি। এর মধ্যে কিছু কর্মসূচির ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, তথাপি উপকারভোগীদের জন্য অর্থ এখনও অপ্রতুল। এই সমস্ত কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে সরকারের ব্যয় উপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষকরা খুবই নিম্নমানের পেনশন পান, যেখানে বেসরকারি চাকুরিজীবীরা চাকরি হারানোর ভয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি, সরকারি চাকুরিজীবীদের মধ্যে মাত্র ১৪ লাখ পেনশনের আওতায় আছেন। ফলে অনেক জনগোষ্ঠী এখনও পেনশন সুবিধার বাইরে থাকেন। এই নতুন স্কিম তাদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ, যার যথাযথ সদব্যবহার উচিত।

    তিনি উল্লেখ করেন, পেনশন ব্যবস্থার উন্নতি এখনও অনেক দেরিতে এসেছে, তবে এই উদ্যোগে বেশ কিছু উৎসাহব্যঞ্জক সুবিধা রয়েছে। গ্রাহকরা自己的 পেনশন তহবিল থেকে লোন নিতে পারবেন, কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা জমা দিলে পেনশনের সুবিধা পাবেন। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই কর্মসূচিকে দেখা হচ্ছে না, কারণ সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিততা দেবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ফাহিমুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব থেকে মানুষের প্রতি এই সর্বজনীন পেনশনের উদ্যোগ কার্যকর করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ফিরোজ শাহের সভাপতিত্বে সংগঠিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মোঃ মহিউদ্দীন খান ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য মোঃ গোলাম মোস্তফা, খুলনার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। স্বাগত বক্তব্যে ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হুসাইন শওকত।

    অনুষ্ঠানের পূর্বে, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা খুলনা আঞ্চলিক লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। বিভিন্ন পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। দিনব্যাপী এই মেলায় সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ৫০টি স্টলে সর্বজনীন পেনশন সম্পর্কিত সেবা প্রদান করা হয়।

    অন্যদিকে, পরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলনকক্ষে এই পেনশন স্কিমের বিষয়ে এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ সেখানে বক্তব্য দিয়ে বলেন, একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো সব নাগরিকের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন খুবই কস্টের, তবে এই স্কিমের আওতায় আসলে তারা সম্মানের জীবন পাবে। এই উদ্যোগ তাদের ভবিষ্যৎ উন্নত ও নিরাপদ রাখবে। এক সঙ্গে উপস্থিত বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

  • বিনামূল্যে সার ও শীতকালিন সবজি বীজ পেলেন ৫৩০ কৃষক

    বিনামূল্যে সার ও শীতকালিন সবজি বীজ পেলেন ৫৩০ কৃষক

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে ৫৩০ জন প্রান্তিক ও ছোট কৃষককে বিনামূল্যে রাসায়নিক সার ও শীতকালীন বিভিন্ন সবজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এ সুবিধা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং এসব উপকরণ বিতরণ করেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি পুনর্বাসন কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোঃ সিফাত-আল-মারুফ বলেন, চলতি অর্থ বছরে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ শীত মৌসুমে মোট ৫৩০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে রাসায়নিক সার ও শীতকালীন সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২০০ জনকে জনপ্রতি ৫০০ গ্রাম করে শীতকালীন শাকসবজি বীজ, ৫০ জন পেয়েছেন ২০০ গ্রাম লাউ বীজ, ১০০ জনকে ৪০ গ্রাম বেগুনের বীজ, ১০০ জনকে ৬০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ার বীজ, ৮০ জনের জন্য ৪০ গ্রাম শসার বীজ এবং ৩৩০ জন কৃষক পেয়েছেন সাত কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার।

    বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আহমেদ ইকবাল, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রুম্মান হোসাইন, আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ ফয়সাল ও জনি সরকার সহ অন্যরা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবারের চাহিদা পূরণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে।

  • বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম কাজ হবে এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম কাজ হবে এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি

    বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা চাই একটি ভোটাধিকার বলিষ্ঠ, জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন হোক, যারা জনগণের পাশে থাকবেন এবং তাদের স্বচ্ছভাবেই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। ভোটের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবেন, তারা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে—অন্যথায় সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্যের প্রায় কোনই গভীরতা থাকবে না। বিএনপি একাট্টা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়, যেখানে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে। তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কারো শিশুটি দারিদ্র্যতার কারণে স্কুল থেকে ছিটকে যাবে না। গতকাল রোববার বিকেলে নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে “ঈমান ও আকিদা রক্ষায় করণীয়” শীর্ষক নারী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বকুল বলেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া চালু করেছিলেন ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচি, যা আবার শুরু হবে। তিনি বলেন, শিক্ষা সমাজের সকলের অধিকার, কেবল অভিজাত বা ধনী শ্রেণির জন্য নয়। বিএনপি’র ৩১ দফা কর্মসূচি হচ্ছে আগামী দিনের বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির প্রেরণা। এই কর্মসূচিগুলো শেখ হাসিনার পতনের পর তৈরি হয়নি—এগুলি দুই বছর আগে বিএনপির প্রধান নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। যারা এখন সংস্কারের কথা বলে, তাদের বেশিরভাগই এই কর্মসূচিগুলোর ধার ধারেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম কাজ হবে এক কোটি তরুণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। খুলনা অঞ্চলের বন্ধ মিল ও কলকারখানা পুনরায় চালু করে শিল্পচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা হবে। এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে বকুল বলেন, এই অঞ্চলে প্রায় দশ লাখ মানুষ বসবাস করে, কিন্তু আজ পর্যন্ত আধুনিক কোনো জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ হয়নি। জনগণের ভোটে যদি আমরা দায়িত্ব পাই, তাহলে খুলনা অঞ্চলে একটি আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করব। মাদকের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা প্রতিটি পরিবারকে গ্রাস করছে। প্রশাসন যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও মাদক নিয়ন্ত্রণে সফলতা আসেনি। তাই জনগণকে একত্র হয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হবে। সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে খুলনা শহরে কারো পক্ষে টিক্তে পারা সম্ভব নয়। নারীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তুলুন। শিক্ষিত, নৈতিক এবং সচেতন নারীরাই সমাজ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক রেহেনা ঈসা ও চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, মহানগর মহিলা দলের আহবায়ক সৈয়দা নার্গীস আলী, সদস্য সচিব এড. হালিমা খানম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের আহবায়ক রুনা বেগম।