Blog

  • আশুলিয়ার ৬ লাশ পোড়ানোর মামলা: সাইফুলসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড — পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

    আশুলিয়ার ৬ লাশ পোড়ানোর মামলা: সাইফুলসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড — পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার ও তাদের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় রবিবার (১৫ মার্চ) প্রকাশ করা হয়েছে। তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২-এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ঐ রায়ে স্বাক্ষর করা হয়েছে; রায়টি ৫৯১ পৃষ্ঠার বিস্তারিত সিদ্ধান্ত।

    আদালত বিবৃতিতে অপরাধের ভয়াবহতা ও প্রত্যেক অভিযুক্তের সংযুক্তি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। রায়ে বলা হয়েছে, কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর হলেও প্রোসিকিউশন তাদের সরাসরি লাশ পোড়ানোর ঘটনায় অংশগ্রহণ প্রমাণে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি; ফলে কিছু আসামির সাজা কমানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে যে অনেকের দায় মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে অপারেশন পরিচালনায় সহায়তা করার কারণে এসেছে।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির মধ্যে রয়েছেন — সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া।

    যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন সাতজন — ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস ও ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি উত্তর) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

    আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। আর রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক উপপরিদর্শক শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়েছে।

    এই মামলার সংক্ষিপ্ত রায় আগে ৫ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছিলেন। মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল; এর মধ্যে আটজন গ্রেফতার ও কারাগারে রয়েছেন এবং আটজন পলাতক। গ্রেফতার থাকা আটজনের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন — আবদুল্লাহিল কাফী (যাবজ্জীবন), শহিদুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আরাফাত হোসেন (যাবজ্জীবন), আবদুল মালেক (মৃত্যুদণ্ড), আরাফাত উদ্দীন (সাত বছরের কারাদণ্ড), কামরুল হাসান (সাত বছরের কারাদণ্ড), শেখ আবজালুল হক (ক্ষমা) ও মুকুল চোকদার (মৃত্যুদণ্ড)।

    পলাতক আট আসামির মধ্যে রয়েছেন — সাইফুল ইসলাম (মৃত্যুদণ্ড), সৈয়দ নুরুল ইসলাম (যাবজ্জীবন, পলাতক হিসেবে নামভুক্ত), আসাদুজ্জামান রিপন (যাবজ্জীবন), এ এফ এম সায়েদ (মৃত্যুদণ্ড), মাসুদুর রহমান (যাবজ্জীবন), নির্মল কুমার দাস (যাবজ্জীবন), বিশ্বজিৎ সাহা (মৃত্যুদণ্ড) ও রনি ভূঁইয়া (মৃত্যুদণ্ড)।

    ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট — নির্বাচিত দিনটি হিসেবে উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছে, আশুলিয়া থানার বিভিন্ন স্থানে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করে তাদের দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল; একজন গুরুতর আহত ছিলেন এবং তাঁকেও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে সুবিধাভোগী তালিকায় নাম রয়েছে সাজ্জাদ হোসেন, আস–সাবুর, তানজিল মাহমুদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল হোসেন প্রমুখ।

    এ মামলার রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে আসা প্রথম পূর্ণাঙ্গ রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে একই ঘটনার দুই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ পৃথক রায় প্রকাশ করেছে।

    ট্রাইব্যুনালের এই পূর্ণাঙ্গ রায় সম্পর্কে অভিযুক্তদের আইনগত প্রতিক্রিয়া ও আপিল সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী ধাপ হবে।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন

    পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নিজে।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকের পরে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত ডাকা না হলে রাজপথে আন্দোলন শুরু করবে জামায়াত ও ১১ দলের জোট। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক ড. হামিদুর রহমান আজাদ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান। সভায় এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামি পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত নানা দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরকার ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলে আখ্যায়িত করলেও বাস্তবে জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। এছাড়া জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সেই সংক্রান্ত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    তবে সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি, যা জোটের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানাবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি।’

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, সরকার দ্রুত এই অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নিলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। এই প্রেক্ষিতে শীঘ্রই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আগামী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব ২৮ মার্চ তারিখে করেছে তারা; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।

    এইসাথে তিনি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতাকে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন। এসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

    সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করা হবে; তবে প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ—উভয় এলাকায় বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালনে শক্ত অবস্থান নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’

  • হানজালার বিতর্কিত বক্তব্য: ‘আমি খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    হানজালার বিতর্কিত বক্তব্য: ‘আমি খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে নানান প্রতিক্রিয়া ডেকে এনেছে। তিনি বুধবার (বক্তৃতার দিন) উপজেলা বিএনপির উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দেন—যা পরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিওর মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    বক্তৃতার একাংশে হানজালা বলেন, ‘তিনি (বিএনপি প্রার্থী) আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যান্ডিডেট ছিলেন। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি কইরেন না। আরে আমি হানজালা—বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না।’ এই উক্তি থেকেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

    হানজালা ওই বক্তব্য গত শুক্রবার বাহাদুরপুর মাঠে কুয়েত রিলিফ সোসাইটির তত্ত¡াবধানে ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় দেন। ভিডিওতে তিনি প্রবাসী ভাইদের আস্থা, লোকজনের দেওয়া বিজয় এবং রাজনীতিকে শুধু ব্যয়ভিত্তিক না করলে ভালো হবে—এমন প্রাসঙ্গিক সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, কিছু লোক বিশেষ করে শিবচরের বিএনপি’র কর্মীরা অনেক লিখছেন এবং কথা বলছেন, কিন্তু তিনি শান্তি চান এবং শিবচরের প্রতিটি মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চান।

    ভিডিওতে হানজালা আরও বলেন, অন্য কেউ হলে হয়তো এলাকায় কাউকে থাকতে দিত না, কিন্তু তিনি শিবচরের মানুষকে বাকস্বর স্বাধীনতা দিয়েছেন; তাই অনলাইনেও মানুষ লেখালেখি চালাতে পারবেন। তিনি উপস্থিতদের শান্তি, নতুনত্বের রাজনীতি ও প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত থাকার আহ্বান জানান।

    ঘটনার পর হানজালা দাবি করেন, তাঁর নির্দেশনা বিশেষত শিবচর উপজেলার বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমার বক্তব্য কাটাছেঁড়া করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’ উদ্ধৃত মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি’র এক নেতা—নাদিরা আক্তার—এক অনুষ্ঠানে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে তিনি বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি করেন; সেই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেছেন। হানজালা অস্বীকার করেন যে তিনি সার্বিকভাবে দেশকে উদ্দেশ্য করে ‘এ দেশে বিএনপি থাকবে না’ এমন মানে কিছু বলেননি।

    শিবচর উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ সোহেল রানা বলেন, বর্তমান এমপি এবং তার পরিবার ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী শক্তিদের সঙ্গে ছিল; তাদের উদ্দেশ্য শিবচরে উগ্রবাদী রাজনীতি ও উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি হানজালাকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান ও জানান, শিবচর উপজেলা বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করবে।

    উল্লেখ্য, গত নির্বাচনেই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বিএনপি প্রার্থী নাদিরা চৌধুরীকে মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হন—যা দেশে নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটের ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। হানজালা হাজী শরীয়ত উল্লাহ (রঃ)-এর সপ্তম পুরুষ।

    বক্তব্য প্রতিবাদের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে তর্ক-আলোচনা চলছে, এবং বিষয়টি এখনও প্রকাশ্যভাবে সমাধান বা ব্যাখ্যার অপেক্ষায় আছে।

  • টানা তিনদিন সোনার দাম কমে ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা

    টানা তিনদিন সোনার দাম কমে ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা

    দেশীয় বাজারে টানা তৃতীয় দিনও কমল সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেট (ভরি/১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৬৮৫ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম শনিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমার প্রেক্ষিতে স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিশদে, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৬৮৫ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের একটি ভরির দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দামও ২ হাজার ১৫৭ টাকা কমে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা করা হয়েছে।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবারও বাজুস সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা ও রুপার দাম ভরিতে ৩৯২ টাকা কমিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা এবং রুপার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ছিল ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৭ বার কমানো হয়েছে।

  • খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করার লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মেডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বলেছে, আদালতে মামলা করার আগে ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিকে উৎসাহিত করতে হবে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিকল্প বিরোধাবিধি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করতে হবে। ব্যাংক খাতে তারল্য ও আর্থিক স্থিতি রক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অনাদেয় ঋণের পরিমাণকে ঘিরে সমস্যা থাকায় সার্কুলারটি জাতীয় পর্যায়ে ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    নতুন নীতিমালা ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে, তবে এবারে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন করতে হবে আইন অনুযায়ী গঠিত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যানেল থেকে।

    প্যানেলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা থাকবেন। সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের জন্য ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সংক্রান্ত জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনগত রেকর্ড, আর্থিক সততা, খেলাপি না থাকা ও পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা।

    মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের এডিআর সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করতে ও মোবাইলে, শাখাভিত্তিক বিজ্ঞপ্তি ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য দিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আদালতের বাইরের দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এতে না sólo মামলার জট কমবে, বরং ব্যাংকের ликুইডিটি ও সমগ্র আর্থিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ইরানের বিপ্লবী গার্ড নেতানিয়াহুকে খুঁজে পেলে হত্যা করার অঙ্গীকার

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড নেতানিয়াহুকে খুঁজে পেলে হত্যা করার অঙ্গীকার

    ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যা করার অঙ্গীকার করেছে। রোববার আইআরজিসির এক বিবৃতিতে তাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

    ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির উদ্ধৃতিতে আইআরজিসির নির্দেশিত সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজে বলা হয়েছে, ‘‘যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকেন, আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাড়া করে তাকে হত্যা করব।’’ বিবৃতিটি তার চলমান যুদ্ধবিধির প্রেক্ষাপটে আসে, যেখানে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা তীব্রভাবে বজায় আছে।

    নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি অনিশ্চয়তা ছড়িয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে তিনি জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চ তার অফিস থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও নিয়ে ভারি জল্পনা তৈরি হয়—ভিডিওতে তাঁর এক হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।

    কিছুতে ইঙ্গিত করা হয়েছে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তবাকা বা ঘেঁসানো হতে পারে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যাখ্যায় বলা হয় ভিডিওতে আসলে পাঁচটি আঙুলই ছিল; ক্যামেরার কোণ, আলো ও ফোকাসের কারণে ভ্রম দেখা দেওয়ায় ছয়টি আঙুল মনে হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে বিমান হামলার পর ওই বয়সে (৭৬) নেতানিয়াহুর প্রথম প্রেসকনফারেন্সের ভিডিওটিই ছিল সেই সময়কার প্রধান বার্তা। সেই ভাষণে তিনি ইরানের নতুন নেতৃত্ব মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে কড়া ভাষা ব্যবহার করেছিলেন এবং ইরানি শাসনবিরোধী তৎপরতার বিষয়েও মন্তব্য করেছিলেন।

    আইআরজিসির হুঁশিয়ারি ও নেতানিয়াহুর দুর্লভ জনসমক্ষে উপস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া তোলার পাশাপাশি কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন—প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান কি নাকি গোপন রাখা হচ্ছে? ক্যান্ডেস ওয়েন্সের মতো কিছু মার্কিন রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বও এই ধরনের সন্দেহ উত্থাপন করেছেন।

    অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দপ্তর তার মৃত্যুর যে কোনও গুঞ্জন অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ আছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দপ্তর জানিয়েছে, ‘‘এসব ভুয়া খবর। প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন।’’ তবে দপ্তর বা নেতার সহকারীরা ব্যাপক বিবৃতি প্রদান করেননি। কিছু ব্যবহারকারী বলেছেন, নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুর সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি ধরে দেখা যাচ্ছে যে তিনি ৯ মার্চের পর থেকে পোস্ট করেননি।

    এই প্রতিবেদনটির তথ্যসূত্র: এএফপি।

  • ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: হোয়াইট হাউস প্যানেলের একমাত্র মুসলিম নারী সামিরা মুনশি পদত্যাগ

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: হোয়াইট হাউস প্যানেলের একমাত্র মুসলিম নারী সামিরা মুনশি পদত্যাগ

    হোয়াইট হাউসের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের একমাত্র মুসলিম নারী সদস্য সামিরা মুনশি কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি সরাসরি ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন এবং পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি প্রশাসনের ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে যুদ্ধ ঘোষণা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অন্যায় ও নৃশংসতা’কে আখ্যায়িত করেছেন।

    মুনশি তার বক্তব্যে বলেন, মার্কিন সংবিধান ও কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়ে শুরু করা এই ‘অবৈধ যুদ্ধ’ এবং বেসামরিক মানুষের মৃত্যু তিনি আর মেনে নিতে পারবেন না। তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমান প্রশাসন মূলত ইসরাইলকে সামর্থান দিতে এই ধ্বংসাত্মক পথে এগোচ্ছে এবং ইসরাইলকে একটি ‘গণহত্যাকারী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    পদত্যাগের সিদ্ধান্তে আরও একটি কারণে তিনি কমিশনের অন্য সদস্য ক্যারি প্রিজিয়ান বোলারকে অন্যায়ভাবে অপসারণকে উল্লেখ করেছেন। মুনশি বলেন, তিনি সাধারণ আমেরিকানদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু কাজ করার সময় বুঝেছেন কমিশনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার রক্ষার বদলে গোপন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত।

    নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মুনশি বলেন, ‘‘আমি আমেরিকাকে ইসরাইলের চেয়ে বেশি ভালোবাসি, আর সেই কারণেই ট্রাম্প বা বর্তমান প্রশাসনের রক্তক্ষয়ী নীতিকে সমর্থন করা আমার পক্ষে অসম্ভব।’’

    সামিরা মুনশির পদত্যাগ হোয়াইট হাউসের ওই কমিশনের স্বার্থ সাম্যতা ও রাজনৈতিক স্বাধিনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে এবং কমিশনের কার্যক্রম কতটা নিরপেক্ষ তা নিয়ে আলোচনা তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • খুলনায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির বৈঠক: রমজানে সাশ্রয়, পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্যসুরক্ষা জোরদার করার আহ্বান

    খুলনায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির বৈঠক: রমজানে সাশ্রয়, পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্যসুরক্ষা জোরদার করার আহ্বান

    খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মার্চ মাসের সভা রবিবার (১৫ মার্চ) জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রমজানে節শৃঙ্খলা ও বর্তমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয় করার প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানদের গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

    জেলা প্রশাসক উপস্থিত সকলকে অনুরোধ করেন মাহে রমজানে節সংযম বজায় রেখে সরকারি জড়বহুলতা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং জ্বালানি বিপর্যয় এড়াতে প্রতিটি দপ্তর তাদের কার্যক্রমে কৃচ্ছ্রতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, সংকট মোকাবেলায় সম্মিলিত কার্যক্রম প্রয়োজন।

    ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমান সভায় বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও মশা নির্মূল করতে জেলার সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। তিনি সাধারণ মানুষকেও গৃহস্থালী পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পানির জমা রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, খুলনা জেলায় বোরো ফলনে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৯.৬৬ শতাংশ আবাদ সম্পন্ন হয়েছে এবং সবজি চাষে আবাদ শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যক্রম চলছে। তিনি কৃষকদের প্রণোদনা ও প্রযুক্তি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

    জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, পবিত্র রমজান শুরু থেকে সস্তায় ডিম, দুধ ও মাংস বিক্রির উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। জেলার ১০টি স্থানে এরই মধ্যে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৩ পিস ডিম, ৫ হাজার ৮১৬ লিটার দুধ, ৪ হাজার ৪১৯ কেজি ড্রেসড ব্রয়লার মাংস, ২ হাজার ৭০৭ কেজি ড্রেসড সোনালি মুরগির মাংস, ৬ হাজার ৫৪৫ কেজি গরুর মাংস এবং ৫০১ কেজি খাশির মাংস বিক্রি করা হয়েছে। এসব সামগ্রীর মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় ৮০ লাখ ৯৪ হাজার ১৬৮ টাকা বলে তিনি জানান।

    জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: বদরুজ্জামান সভায় জানানো হয়, রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি সংরক্ষণে অনিয়ম রোধে অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি অভিযান এবং তিনটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪০৮ কেজি চিংড়ি বিনষ্ট করা হয়েছে এবং ৬৫,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক সভায় জানান, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মীর সম্মানি প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আসন্ন রমজানে যাকাতের একটি অংশ ফাউন্ডেশনের যাকাত বোর্ডে দানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ওই দান আয়করমুক্ত হবে এবং তা ত্রাণ ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে।

    সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে উল্লেখিত সঞ্চালনা ও তদারকির মাধ্যমে রমজানকালে জনগণের কল্যাণ ও নিরাপদ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে মুজারাবানি; পিসিবি আইনি ব্যবস্থা ভাবছে

    পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে মুজারাবানি; পিসিবি আইনি ব্যবস্থা ভাবছে

    পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ছেড়ে ভারতের আইপিএল যাওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। জিও সুপারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তি ভেঙে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ নেওয়ায় মুজারাবানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি পিসিবি ভাবছে।

    পিএসএলের ১১তম আসরের জন্য ইসলামাবাদ ইউনাইটেড মুজারাবানিকে ১ কোটি ১০ লাখ পাকিস্তানি রূপিতে দলে নিয়েছিল। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা ২৬ মার্চ; ঠিক দু’সপ্তাহের মাথায় কলকাতার প্রস্তাবে ইসলামাবাদের চুক্তি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এই জিম্বাবুয়ে পেসার।

    কলকাতার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁকে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বদলি হিসেবে দলে নেয়া হয়েছে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাঁহাতি পেসারকে বাদ দেয়ার পর বিকল্প হিসেবে মুজারাবানির সঙ্গে চুক্তি করেছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। কলকাতা নিজেদের চুক্তির বিষয়টি গতকাল এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে।

    জিও সুপারের তথ্য অনুযায়ী, পিসিবি এই শেষ মুহূর্তের প্রত্যাহারের ঘটনা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করছে। পিসিবি কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে—তানার্ভায়-বিদ্ধ বা আর্থিক শাস্তি—সেটা এখনই স্পষ্ট নয়।

    পিএসএলে শেষ মুহূর্তে চুক্তি বাতিলের ঘটনা নতুন নয়। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার করবিন বশ পেশোয়ার জালমির হয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর আইপিএলের দলে যোগ দেওয়ায় এক বছরের জন্য পিএসএল থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপট এখন অনেকের মনে ফেরে।

    মিউজারাবানি সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৩ উইকেট নিয়ে তিনি যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ছিলেন এবং জিম্বাবুয়েকে সুপার ইটসে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা পালন করেন। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফাস্ট বোলারের উঁচু বাউন্স ও সংকটসাময়িক উইকেট নেওয়ার দক্ষতা কিপটে স্ট্রাইক পেসার হিসেবে তাঁকে উল্লেখযোগ্য করেছে।

    ক্যারিয়ারিসংখ্যায় মুজারাবানি জিম্বাবুয়ের জার্সিতে ৮৯টি টি-টোয়েন্টি খেলে ৮৬টি ইনিংসে ১০৬ উইকেট নিয়েছেন, এবং ওভারপ্রতি গড় খরচ ৭.২৪ রান। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা ও গতিবেগ কলকাতার পেস আক্রমণ আরও শক্তিশালী করবে।

    এদিকে পিসিবির সিদ্ধান্ত ও মুজারাবানির ভবিষ্যত পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াজগত ও আইনি পর্যায়ে কেমন ফলাফল দাঁড়ায়—সেটা এখনই নজরকাড়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।