Blog

  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে লাখো মানুষের সমাগম

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে লাখো মানুষের সমাগম

    খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপচে পড়া মানুষের ঢল দেখা গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন, যা সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদ আয়োজিত, আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে ৯টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়ে এটি দুপুর পর্যন্ত চলবে। মহাসম্মেলনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানটি এক হয়ে গেছে হাজারো আলেম, ওলামা, শিক্ষার্থী, ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে। সবার অংশগ্রহণে উদ্যানে এক অসাধারণ জনসভা সৃষ্টি হয়েছে।

    সম্মেলনের মূল উদ্যোক্তা ও দায়িত্বশীল মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী জানান, এই মহাসম্মেলন মূলত কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও খতমে নবুওয়তের পবিত্র আকিদা রক্ষা করার জন্য আয়োজিত। এতে দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকেও শীর্ষ আলেমরা অংশগ্রহণ করছেন। তিনি আরও জানান, বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন— জমিয়তে উলামা এ ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মুফতি ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের (ভারত) সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মুভমেন্টের ওয়ার্ল্ড নায়েবে আমির শায়খ আব্দুর রউফ মক্কি, পাকিস্তানের ইউসুফ বিন্নুরী টাউন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরী, ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী, এবং মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম।

    বাংলাদেশ থেকেও উপস্থিত রয়েছেন বিশিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, যেমন— হেফাজত ইসলামের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, দরুল উলুম হাটহাজারীর মুহতামিম মাওলানা খলিল আহমাদ কুরাইশী, আল হাইয়্যাতুল উলিয়া চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল মালেক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করীম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ আরো অর্ধশতাধিক বিশিষ্ট আলেম।

    আয়োজক সংস্থা জানিয়েছেন, খতমে নবুওয়তের সত্য আকিদা রক্ষায় এই মহাসম্মেলন বৈশ্বিক আলেম সমাজের ঐক্যের প্রতীক। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এটি এক ঐতিহাসিক দৃশ্য রচনা করবে। সভার সভাপতিত্ব করছেন, সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও সংরক্ষণ কমিটির বাংলাদেশের আমির, মাওলানা আবদুল হামিদ (পীর সাহেব, মধুপুর)।

  • প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের জন্য হত্যা: র‌্যাবের প্রকাশ

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের জন্য হত্যা: র‌্যাবের প্রকাশ

    রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য পরিকল্পনা করে হত্যাকারীরা। এ হামলার মূল আসামি হলো বন্ধু জরেজুল ইসলাম এবং তার প্রেমিকা শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুর (৩৩)। এক মাস আগে শামীমা আশরাফুলের সাথে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যাতে তার বিশ্বাস অর্জন করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরে সেই সুযোগে তাকে হত্যা করে লাশ ২৬ টুকরো করে ফেলে রাখা হয়। আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) র‌্যাবের কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এসব তথ্য প্রকাশ করেন। র‌্যাবের অনুসন্ধানে জানা যায়, ১১ নভেম্বর আশরাফুল তাঁর ব্যবসার পাওনা আদায়ের জন্য বন্ধু জরেজুলের সাথে রংপুর থেকে ঢাকায় রওনা দেন। অদ্যাবধি আশরাফুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর ১৩ নভেম্বর আশরাফুলের মরদেহ পানির পাম্প সংলগ্ন দুটি নীল রঙের ড্রামে পাওয়া যায়, যেখানে অজ্ঞাত পরিচয় একজনের ২৬ খণ্ডের দেহ ছিল। সিআইডি তার অঙ্গুলির ছাপ বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয় লাশটি আশরাফুলের। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়, যেখানে জরেজুল ইসলামকে আসামি করা হয়। তদন্তে উঠে আসে যে, জরেজুলের প্রেমিকা শামীমা তাকে বলেছিল, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করতে। শামীমা উদ্যোগ নেয়, আশরাফুলের সাথে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীর একাউন্টে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হবে। আহত অবস্থায় আশরাফুলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ওই ভিডিও সুযোগে জরেজ অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন। তারপর ১২ নভেম্বর আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন থাকাবস্থায় জরেজ তার হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে, মুখ স্কচটেপ দিয়ে বন্ধ করে দেয়, এবং অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের উত্তেজনায় তার উপর আঘাত করে চলে গেলে। হত্যার পরে লাশ গোপন করার জন্য জরেজ ১৩ নভেম্বর চাপাতি ও ড্রাম কিনে ২৬ টুকরা করে লাশগুলো দুই ড্রামে ভরে রাখে। ঘটনাস্থল থেকে ড্রামগুলো গাড়িতে তুলে হাইকোর্টের পাশে ফেলে দিয়ে দ্রুত সড়ক পরিবর্তন করে অন্য পথে চলে যান তারা। এই পুরো চক্রের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী এবং আসামী এখন গ্রেপ্তার। এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং মূল আসামি জরেজুল ইসলামকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • হেফাজতে থাকা আসামির মিডিয়ায় বক্তব্য, রাজশাহীর পুলিশ কমিশননারের তলব

    হেফাজতে থাকা আসামির মিডিয়ায় বক্তব্য, রাজশাহীর পুলিশ কমিশননারের তলব

    রাজশাহীর বিচারকের ছেলে হত্যা ও স্ত্রীর শরীরে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় আটক আসামির স্বজনের বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশের কারণে আদালত রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনারকে তলব করেছে। আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালেই মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মামুনুর রশীদ এই নির্দেশ দেন। আদালত আগামী ১৯ নভেম্বর রাজশাহী পুলিশ কমিশননারকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

    আদালত সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের আদালতের দেয়া নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত লিমন মিয়া কৌশলে নগরীর রাজপাড়া থানার ডাবতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে তার নাবালক পুত্র তাওসিফ রহমানকে ধারালো ছুরি দিয়ে বিভিন্ন দফা আঘাত করে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে রাখে এবং উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    তবে, পুলিশ হেফাজত থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত লিমন মিয়ার ভাষণে দেখা যায়, তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দোষারোপ করে মিডিয়ায় বক্তব্য প্রদান করেন। এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশের ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অমান্য ও আইন লঙ্ঘনের শামিল।

    এমতাবস্থায়, পুলিশ হেফাজত থাকা অবস্থায় এ ধরনের বক্তব্য দিতে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে আগামী ১৯ নভেম্বর রাজশাহীর আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, আরেক মামলায় একই দিন (১৪ নভেম্বর) রাজপাড়া থানায় নিহত তাওসিফের বাবা আব্দুর রহমান অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, লিমন মিয়া ওই ঘটনার প্রধান আসামি, যার সাথে পুলিশের আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল।

    প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় তাওসিফ হত্যার ঘটনা ঘটে। এই সময় অভিযুক্ত লিমন মিয়া ও তার স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি আহত হন। দুইজনকে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল (১৪ নভেম্বর) সকালে নিহত তাওসিফের মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয় এবং মৃত্যু হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে।

  • মুসলমানদের মৌলিক দাবি না মানলে সংবিধানও মানবোনা: আব্বাসী

    মুসলমানদের মৌলিক দাবি না মানলে সংবিধানও মানবোনা: আব্বাসী

    তাহরীক খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুফতি ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেছেন, মুসলমানদের মূল দাবি যদি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তাহলে তারা সেই সংবিধান ও স্বীকৃতি মানবেন না। এই কথা তিনি বলেছেন শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে।

    আব্বাসী বক্তব্যে বলেন, আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেড় হাজার বছর আগে নবুওয়ত ও রিসালাতের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছেন। তার পরে আর কোনো নবী বা রাসূল আসবেন না, নাযিল করবেন না এবং কেয়ামত পর্যন্ত এই বিশ্বাস অটুট থাকবে। এই খতমে নবুয়তের বিশ্বাস ছাড়া কেউ মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি পায় না।

    তিনি আরও বলেন, যারা প্রচলিত রাজনীতি করে, তারা সেক্যুলার দোহাই দিয়ে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে চায়, এটা ভুল। সেক্যুলার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাজ মূলত দেশের অমুসলিমদের স্বার্থ রক্ষা করা, মুসলিমের মূল দাবি এবং ধর্মের ভিত্তিতে তাদের আদর্শ ও বিশ্বাস রক্ষা নয়।

    আব্বাসী বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক হলো সত্যিকারের মুসলমান। তাদের কর ও ভ্যাটের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির পেট্রোল চলে। যদি এই মুসলমানদের মূল দাবি এবং সংবিধানে শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে আমরা ওই সংবিধান ও চুক্তিপত্র মানিনা। এই দাবি হলো খতমে নবুওয়তের সংঘর্ষ আরেকটি বৃহত্তর আন্দোলন। তিনি এই আন্দোলনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী বলে অভিহিত করেন।

  • রাজধানীতে কলেজ শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

    রাজধানীতে কলেজ শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

    রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ঝিলপাড় এলাকার নিজ বাসায় মো. সিফাত আহমেদ (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে ১৪৬০/এ বাসার ৮ম তলার এক কক্ষে। পরে অচেতন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সিফাত খিলগাঁওয়ের ঝিলপাড় এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি খিলগাঁও মডেল কলেজের কমার্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

    মৃতের চাচাতো ভাই মো. ওসমান জানান, সিফাত পরিবারের তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মোবাইলে অনলাইনে অংক শিখছিল তার ছোট বোন ওয়াফা। তখন সিফাত জেদ ধরে মোবাইলটি ব্যবহার করতে চেয়েছিল, যা নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে তাদের মা এসে বলেন, ‘তোর বোন এখন অনলাইনে অংক শিখছে, তুই পরে মোবাইল নাবি।’ এই কথার প্রেক্ষিতে সিফাত নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ঝুলে পড়ে। পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমাদের জানায়। দ্রুত আমরা বাসার দরজা ভেঙে সিফাতের অচেতন দেহ উদ্ধার করি এবং প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলছি, সিফাতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি খিলগাঁও থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

  • প্রখ্যাত নির্মাতা লি তামাহোরি আর নেই

    প্রখ্যাত নির্মাতা লি তামাহোরি আর নেই

    নিউজিল্যান্ডের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও জেমস বন্ড সিরিজের মর্যাদাপূর্ণ সিনেমা ‘ডাই অ্যানাদার ডে’ এর পরিচালক লি তামাহোরি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দ্য গার্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শুক্রবার (৭ নভেম্বর) তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তার পরিবারের পক্ষ থেকে রেডিও নিউজিল্যান্ড নিশ্চিত করেছে যে, দীর্ঘদিন পারকিনসনের রোগে ভুগে তিনি বাড়িতেই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার রেখে যাওয়া কীর্তি ও দ্যুতি তার সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিদের মধ্যে জীবিত থাকবে। তিনি যে নির্মাতাদের অনুপ্রেরণা ছিলেন, যারা সাহসিকতা ও মনোযোগ দিয়ে গল্প বলতেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। লি তামাহোরি ছিলেন দৃঢ়চেতা এক নেতা ও অসাধারণ সৃজনশীল একজন। তিনি পর্দার সামনে ও পেছনে মাওরি প্রতিভাদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

    লি তামাহোরি ১৯৫০ সালে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণ করেন। তার মাওরি ও ব্রিটিশ সূত্রে পুষ্ট। সত্তর ও আশির দশকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ শুরু করেন। তিনি জিওফ মারফির জনপ্রিয় সিনেমা ‘গুডবাই পার্ক প্লেস’ ও ‘দ্য কোয়াটার আর্থ’ এর ক্রু হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এছাড়াও, নাগিসা ওশিমার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সিনেমা ‘মেরি ক্রিসমাস’ ও ‘মিস্টার লরেন্স’-এ তিনি প্রথম সহকারী নির্মাতা হিসেবে কাজ করেছেন।

    তাঁর পরিচালনায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওয়ান্স ওয়ার রয়্যার্স’ ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়, যা সেই বছর নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সফল সিনেমা হয়ে ওঠে। এর পর থেকে তিনি ‘মুলহল্যান্ড ফলস’, ‘দ্য এজ’, ‘অ্যালং কীম আ স্পাইডার’ সহ আরও বেশকিছু হলিউড সিনেমা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি অর্জন করেন।

    ২০০২ সালে পিয়ার্স ব্রসনানের সাথে তিনি জেমস বন্ড সিরিজের ‘ডাই অ্যানাদার ডে’ সিনেমা পরিচালনা করেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সাফল্যের শিখরে পৌঁছে। হলিউডি অভিষানের পরে তিনি আবার নিউজিল্যান্ডে ফিরে যান এবং ‘মাহানা’ ও সাম্প্রতিক সিনেমা ‘দ্য কনভার্ট’ পরিচালনা করেন, যেখানে গাই পিয়ার্স ব্রিটিশ মিশনারির চরিত্রে অভিনয় করেন।

    লি তামাহোরির মৃত্যু দেশের সিনেমা জগতের জন্য অপূরণীয় এক ক্ষতি, তার অসাধারণ সৃজনশীলতা ও আইকনিক নির্মাণ কীর্তিও চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

  • ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুঞ্জনে স্ত্রীর কড়া উত্তর: যা ঘটছে তা ক্ষমার অযোগ্য

    ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুঞ্জনে স্ত্রীর কড়া উত্তর: যা ঘটছে তা ক্ষমার অযোগ্য

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রবীণ এই তারকা বর্তমানে ভেন্টিলেশনে থাকলেও হাঁটু-পা শক্ত হয়ে যাওয়া ও তার অসুস্থতার গুজব ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে, যা নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। হঠাৎ এই ভুয়া খবরের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্রর পরিবারের সদস্যরা।

    অবশেষে তার স্ত্রী হেমা মালিনী এবং মেয়ে এষা দেওল এ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই খবর সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন এবং অপ্রাংক্তেয়। তারা বলেন, এটি সত্যিই ক্ষমার অযোগ্য একটি ঘটনা। তার স্ত্রী কড়া ভাষায় উল্লেখ করেন, তাদের একার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গুজব ছড়ানো খুবই অনুচিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।

    একই সঙ্গে, ধর্মেন্দ্রর কন্যা এষা দেওল তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানান, তার বাবার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এ আশ্বাস দিয়ে তিনি সকলকে অবগত করেন যে, তারা যেন তাদের পরিবারের গোপনীয়তা বজায় রাখেন। এষা আরো বলেন, ‘ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। আমার বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো, তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের পরিবারের গোপনীয়তা সম্মান করুন এবং ভুল বুঝবেন না।’

    হেমা মালিনী আরও কঠোর ভাষায় বলেন, ‘এ ধরনের গুজব ক্ষমার অযোগ্য। কীভাবে মানুষ সত্য না জেনে এই ধরনের মিথ্যা খবর ছড়ায়, আমি বুঝতে পারছি না। এটি একটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অসম্মানজনক পদক্ষেপ। সবাই আসুন, আমাদের পারিবারিক গোপনীয়তা রাখতে সহায়তা করি।’

    পরিবার প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে যে, বলিউডের ‘হি-ম্যান’ হিসেবে পরিচিত ধর্মেন্দ্র বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং চিকিৎসকর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাড়া পাচ্ছেন। তারা সকলের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করেছেন যেন ভুয়া খবর থেকে সাবধানে থাকেন এবং পরিবারিক গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখান। সবার জন্য তাঁদের বার্তা, ‘আমরা আপনার সমর্থন, ভালোবাসা ও শুভকামনা কামনা করি। আপনারা দোয়া করবেন, তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ স্বস্থ্য হন।’

  • ৩,৮০০ শিশুর হৃদয় সার্জারির খরচ বহন করে গিনেস বুকে পলক মুচ্ছলের নাম

    ৩,৮০০ শিশুর হৃদয় সার্জারির খরচ বহন করে গিনেস বুকে পলক মুচ্ছলের নাম

    কণ্ঠশিল্পীদের গিনেস বুকের ইতিহাস নতুন কিছু নয়। তবে এবার এই কৃতিত্ব আলাদা, কারণ বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা পলক মুচ্ছল এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তার মানবতা ও সমাজসেবামূলক কাজের জন্য। তিনি ৩,৮০০ দুঃস্থ শিশুর হার্ট সার্জারির খরচ নিজেই বহন করে তাদের জীবন রক্ষার মাধ্যমে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি লিমকা বুক অফ রেকর্ডস-এও স্থান করে নিয়েছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছোট থেকেই নিজেকে মানবসেবায় উৎসর্গed করে চলেছেন পলক। তার নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘পলক পলাশ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন’ ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে খুব সহজভাবে এই উদ্যোগটি শুরু হলেও, নিজের শ্রম ও উৎসাহের মাধ্যমে এখন এটি তার জীবনসংলগ্ন মিশনে রূপ নিয়েছে। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি এতগুলো শিশুর হৃদয় সম্পর্কিত জটিল রোগের চিকিৎসা সম্পন্ন করেছেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গিনেসের খেতাব এনে দিয়েছে।

    পলক বলেন, ‘আমি যখন ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি, তখন থেকেই দুস্থ শিশুদের প্রতি মনের আবেগ দেখিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। ছোটবেলাতেই আমি কার্গিল যুদ্ধে আহত সেনাদের জন্য সংগীতের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিলাম। তখনই আমার মনে হয়েছিল, আমার অন্তরে কিছু করার আগ্রহ জেগেছে। এই মানসিকতা ধরে রেখেই আমি আজকের এই বড় স্বীকৃতি অর্জন করেছি। আমার এই কাজের প্রেরণা হলো সেই সব শিশুর জন্য, যারা চিকিৎসার খরচ বহন করতে অক্ষম।’

  • নিজ বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ, হাসপাতালে ভর্তি

    নিজ বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ, হাসপাতালে ভর্তি

    বলিউডের প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দকে বুধবার ভোরের দিকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আনুমানিকভাবে মাথা ঘুরে যাওয়া এবং অচেতন হয়ে পড়ার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অভিনেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আইন উপদেষ্টা ললিত বিন্দাল। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গোবিন্দ স্থிதিশীল এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

    ললিত জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে থেকে গোবিন্দ কিছুটা দুর্বলতা অনুভব করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে এগারোটা থেকে বারোটা বাজতে না বাজতেই তিনি হঠাৎ দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং অচেতন হয়ে যান। এরপর পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি কিছু ওষুধ গ্রহণ করেন। রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে ওষুধ খেয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

    তবে মধ্যরাতে আবারও তার শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরা শুরু হয়। তখন তিনি ললিতকে ফোন করে অবস্থা জানান। ললিত বলেন, ‘রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আমি তার বাসায় পৌঁছাই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। রাত ১টার দিকে তাকে মুম্বাইয়ের ক্রিটিকেয়ার এশিয়া মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

    প্রথমে তাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে তাকে সাধারণ কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে; তবে তার রেজাল্ট এখনও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকেরা রিপোর্ট পাওয়ার পরে নতুন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানানো হয়েছে। তার সাথে কথা বলেও জানানো হয়েছে, তিনি এখন অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন।

    অবশ্য, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজা বা মেয়ে টিনা কেউই তার সঙ্গে ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা থাকলেও ললিত স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘সুনীতা তখন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, তাই হাসপাতালে আসতে পারেননি। রাতেই তিনি ফিরে এলেন এবং হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন। অন্যদিকে, তাদের মেয়ে টিনা তখন চণ্ডীগড়ে ছিলেন এবং দ্রুত বাইরো পথে ছাড়া ফিরছিলেন, সন্ধ্যার মধ্যে তিনি বাবার পাশে পৌঁছে যাবেন।’

    উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগে অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে দেখতে গিয়েছিলেন গোবিন্দ। সম্প্রতি ধর্মেন্দ্র ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, গোবিন্দের দ্রুত সুস্থতার জন্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্খীরা দোয়া করছেন।

  • হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা Issued

    হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা Issued

    রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় হত্যা চেষ্টা, মারধর এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে সাবেক স্ত্রী রিয়া মনির করা মামলায় আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম ও তার সহযোগী আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান এ আদেশ দেন। মামলার বাদী রিয়া মনির আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, আসামিরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলেন না। এই কারণ দেখিয়ে তাদের জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ বছরের ২৩ জুন দায়ের করা ওই মামলার এজাহার অনুসারে, বিভিন্ন মনোমালিন্য ঘটনায় হিরো আলম তার স্ত্রী রিয়া মনিকে পরিবারের সদস্যদের সামনেই বাসা থেকে বের করে দেন। পরে মীমাংসার জন্য হাতিরঝिल থানার কাছাকাছি একটি বাসায় ডেকে নিলে সেখানে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনসহ আরও কয়েকজনের উপস্থিতিতে আসামিরা রিয়া মনিকে মারধর করেন এবং তার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন। এই ঘটনায় রিয়া মনির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়।