Blog

  • রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে: গভর্নর

    রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে: গভর্নর

    দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল। এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এবং অর্থনীতি আরও উন্নত করতে রাজনীতির শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলে ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্টের হল রুমে আয়োজিত এমএফআই-ব্যাংক লিংকেজ সংক্রান্ত আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    অর্থাৎ, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু থাকলে ও রাজনৈতিক অস্থিরता 없 থাকলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া, গভর্নর উল্লেখ করেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার নিয়ে ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইংল্যান্ডে আইনজীবী পাঠানো হয়েছে যাতে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে। তিনি জানান, বিভিন্ন গ্রুপ ও কোম্পানির ক্লেমের বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। সফলতা থাকলে, খুব শিগগিরই ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাবে।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমআরএ’র নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এছাড়া, বক্তব্য দেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান, ব্রাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এনজিওর চেয়ারম্যানরাও অংশগ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দেশের অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ কত গুরুত্বপূর্ণ।

  • আসন্ন সরকারের জন্য পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে: অর্থ উপদেষ্টা

    আসন্ন সরকারের জন্য পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদদীন আহমেদ জানিয়েছেন যে, নতুন পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার। তিনি আজ রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত দুটি উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইএমএফের সাথে চূড়ান্ত আলোচনা ১৫ তারিখে হবে। এর আগে ওরা আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ সন্তোষজনক মনে করেছে। তারা আমাদের কিছু সুপারিশ দিয়েছে, যেমন রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়া, কারণ ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও কম। এ বিষয়ে আমরা সচেতন ও সচেষ্ট হচ্ছি। এছাড়াও, আইএমএফের আরেকটি রিকমেন্ডেশন হলো সামাজিক সুরক্ষার জন্য বাজেট কমানোর পরিবর্তে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করা, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং খাদ্য পরিস্থিতির উন্নতিতে। নির্বাচনের তিন মাস আগে আমরা বর্তমান কাজগুলো সম্পন্ন করে পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে চাই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশ চলমান রয়েছে ও পরবর্তী সরকারকে আমরা একটি শক্ত ভিত্তি দিয়ে যাবো। সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, কারণ এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা এখনো বিভিন্ন সংস্কারমূলক প্যাকেজ তৈরি করছি যা পরবর্তী সরকারকে দেওয়া হবে। এছাড়া, তিনি জানিয়েছেন, ট্যাক্সের বিষয়ের জন্য বিশেষ একটি কমিটি আছে, যারা স্বাধীনভাবে সুপারিশ করবে। অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পে-কমিশনের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা এখন বলা সম্ভব নয়; এটি মূলত পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত। ব্যাংক সেক্টরের জন্যও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নত হবে। আইএমএফের ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদদীন আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে কোনও জরুরি প্রয়োজন নেই। ওরা আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে এবং ফেব্রুয়ারি মাসে কিসের উপর সিদ্ধান্ত নেবে, তা পরে জানানো হবে।

  • দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ল

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ল

    বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ (১১ নভেম্বর) মঙ্গলবার, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য বৃদ্ধি গত ১০ নভেম্বর রাতে ঘোষণা করা হয়েছে, যার কার্যকর হবে আজ থেকেই।

    নতুন এই দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ সংগ্রহের চাহিদা কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

    অতীতের মূল্য বলে, ১ নভেম্বর এক ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ টাকা। অর্থাৎ, এক মাসের মধ্যে মূল্য বাড়ে প্রায় ৮ হাজার ৫০৭ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও উঠScholar/ভরমানে রেকর্ড করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪২ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এটি স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্য সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। বাজারে মূল্যবৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করলেও, এটি স্বর্ণশিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • একই দিনেই স্বর্ণের দাম হঠাৎ করে বলি ৪ হাজার টাকা বেড়ে গেল

    একই দিনেই স্বর্ণের দাম হঠাৎ করে বলি ৪ হাজার টাকা বেড়ে গেল

    একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও লাফিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সর্বোচ্চ মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে এক লাফে ৪ হাজার ১৮৮ টাকা যোগ হয়েছে। এর ফলে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৭১ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার একটি সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দাম ঘোষণা করেছে। সংস্থাটির স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি ও দেশের বাজারে অস্থিরতা বিবেচনায়, আগামী বুধবার (১২ নভেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

    বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির ফলস্বরূপ, সব ক্যারেটের স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন দাম প্রতি ভরি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৮ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামগুলো হল: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৩৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪১ হাজার ৮৭৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া, বাজুস রুপার দামও সমন্বয় করেছে। ২২ ক্যারেটের হলমার্ক রুপার দাম প্রতি গ্রাম ৪৩৬৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৩৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার জন্য নির্ধারিত দাম ২২৩ টাকা প্রতি গ্রাম।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি দোকানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে, বিক্রয়মূল্যে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। গহনার ডিজাইন, মান এবং অন্যান্য মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।

  • নিলামে বিক্রি হয়নি, সাবেক এমপিদের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি আসছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে

    নিলামে বিক্রি হয়নি, সাবেক এমপিদের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি আসছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে

    বিলুপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি এখন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে হস্তান্তরের প্রবিধান গেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে, যা আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে।

    এনবিআর জানিয়েছে, এই গাড়িগুলোর ক্ষেত্রেও শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে কি না, তা জানতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস অনুরোধ জানিয়েছিল। তাদের জবাবে বলা হয়েছে, গাড়িগুলো খালাসের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা সংবলিত নয় এবং আমদানিকারকদের স্বাভাবিক শুল্ক ও কর পরিশোধের মাধ্যমে এই গাড়িগুলো খালাস করতে হবে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকেই এই আদেশ কার্যকর হয়েছে।

    অতিরিক্ত শুল্ক ও কর পরিশোধের পরও, এসব গাড়ির মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬৯ কোটি ৬১ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ টাকা। উচ্চ মূল্যের এই গাড়িগুলোর একক শুল্কের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩০০ টাকা, আর সর্বনিম্ন ৮ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা।

    সর্বশেষ, শুল্ক ও কর সম্পন্ন না হওয়ায় এবং নিলামের ক্ষেত্রে কোনো বিক্রেতা যৌক্তিক দামে বিড না করায়, এসব গাড়ি নিলামে বিক্রি হয়নি। সেক্ষেত্রে, অর্থনৈতিক ও জনস্বার্থ বিবেচনায় আন্তমন্ত্রণালয় সভাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করে এই স্মার্ট ও মূল্যবান গাড়িগুলো সরকারের অন্য এক দপ্তরে হস্তান্তর করা হবে।

    শুল্ক ও কর ক্ষেত্রে যেকোনো সংশোধনী বা আনুকূল্য পাওয়া গেলে, ভবিষ্যতে গাড়িগুলোর খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। গার্ডগুলোর আমদানিকারক যদি শুল্ক ও কর পরিশোধ করে আইনানুগভাবে গাড়িগুলো খালাসের জন্য আবেদন করেন, তবে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস যথাযথ নীতিমালা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করে তাদের গাড়িগুলো সেই অনুযায়ী ছাড়পত্র দেবে।

    সর্বশেষে, এই গাড়িগুলো সম্পূর্ণ শুল্ক ও কর পরিশোধের মাধ্যমে আমদানিকারকদের কাছে খালাসের পর, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর ওই গাড়িগুলো নিয়ম মেনে ফেরত পাবে।

  • একই দিনে গণভোট ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে: ডা. তাহের

    একই দিনে গণভোট ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে: ডা. তাহের

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাম্প্রতিক বক্তৃতায় দেশজুড়ে যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে আন্দোলনরত আট দলের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে বরং একটি দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সিদ্ধান্তে কাটছাঁট করছে। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে সেই ঘোষণা, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তগুলোতে সাধারণ মানুষ যে প্রত্যাশা করেছিলেন, সেই গুরুত্ব এখন আর থাকছে না বলে মনে করছেন দলের নেতারা। একইসঙ্গে তারা অন্তত তিনজন উপদেষ্টার অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন, যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয়।

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এঁরা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগগুলো ব্যক্ত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোয়াল্লামিনের ন্যায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জনগণ আশা করেছিলেন, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সম্পূর্ণ ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু দেখলাম, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ অনুযায়ী, কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি অংশ বাদ পড়েছে এবং একটি দলের আপত্তি মেনে নিয়ে সরকার বড় ধরনের কম্প্রোমাইজ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, নেপথ্যে সরকার নিরপেক্ষতা থেকে সরে এসে একটি দলের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    সংস্কার প্যাকেজের ভাগাভাগি নিয়ে মতভেদ:
    সংস্কার কমিশন প্রথমে বলেছিল, সকল সংস্কার উপাদান একসঙ্গে গণভোটে যাবে। কিন্তু এবার প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী, এটি চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ডা. তাহেরের মতে, এতে ভোটারদের জন্য বিষয়গুলো বোঝা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। নেতারা মনে করছেন, এই বিভাজন বিএনপি বা অন্য কোনো দলের কৌশল—এটা কমিশনের মূলনীতির বিরুদ্ধ, এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট।

    অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব দিকনির্দেশনাও রয়েছে, যার মধ্যে একটি বলছে, পরবর্তী সরকার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধনী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য থাকবে। যদি তা না হয়, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা গৃহীত বলে গণ্য হবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এই দিকনির্দেশনা ভাষণে উল্লেখ করা হয়নি, যা আবার বিএনপি বা অন্যদের মনে আস্থা কমাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ডা. তাহের শেষমেশ সরকারের এই সদিচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অন্তত সাংবিধানিকভাবে সংবিধানে সংশোধন করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা বহু দিন ধরে আট দল চেয়েছিল।

    গণভোট ও নির্বাচনের একই দিনে হওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনা:
    অত্যন্ত বিপরীত মতামত দিয়ে, ডা. তাহের জানান, দেশের অধিকাংশ মানুষ চাইছিলেন— আগে গনভোট হয় এবং আলাদা দিন নির্ধারিত হয়। কিন্তু সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলো যে, দুই ঘটনা একসাথে হবে— যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। তাঁর মতে, একদিনে ভোটের পরিকল্পনা থাকলে, দলগুলো নিজেদের নির্বাচনী প্রচারে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে, ফলে গণভোটে অংশগ্রহণ কম হতে পারে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, ওই ব্যক্তি বা দলগুলো বলবে— জনগণ আসলে সংস্কার চায় না। এটি একটি কূটপ্রকল্প বা ফাঁদ বলেও তিনি মানছেন।

    তাঁর দাবি,তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আলাদা দিনে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করতে হয়।

    নিরপেক্ষতা প্রশ্নে সংশয় এবং উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি:
    তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এখন আর নিরপেক্ষ নয়, বরং নির্দিষ্ট দলের অনুসারী ব্যক্তিদের প্রশাসনে নিয়োগের মাধ্যমে অবস্থান বদলে চলছে। তিনি বলেন, ‘কমপক্ষে তিনজন উপদেষ্টাকে প্রধান উপদেস্টার ভুল পথে পরিচালিত করছেন, তাদের অপসারণ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

    সংস্কার ও নির্বাচনের একসাথে চলার ব্যাপারে ডা. তাহের সহজভাবে এরূপ তুলনা করেন— যেন আপনি কোনও বই কেনার জন্য দোকানে গিয়ে, দোকানদার পুরো বাজারের তালিকা দেখিয়ে বলছে, “এটা নাও, এটা নাও”। সবাই উপকরণ বা বিষয়ের গুরুত্ব বুঝে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, কিন্তু মূল বিষয়ের গুরুত্ব হারিয়ে গেছে।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করেছেন আখতার হোসেন

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করেছেন আখতার হোসেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় বেশ কয়েকটি বিষয় এখনও পরিষ্কার নয় বলে তিনি মনে করেন। সরকার বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারি করেছে, কিন্তু এই আদেশ পর্যালোচনার সময় তিনি লক্ষ্য করেছেন নানা অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তিকর বিষয়। তিনি জানান, আমাদের প্রত্যাশা ছিল, সরকার এই সনদে তৈরি হওয়া সংকট আর অস্পষ্টতাগুলো সুচারুভাবে সমাধান করবে এবং খুবই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবে কীভাবে এই সনদ বাস্তবায়িত হবে। তবে, আদেশ জারির পরও কিছু জায়গায় স্পষ্টতার অভাব থেকে গেছে, যার কারণে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না যে, এই সনদ সুষ্ঠুভাবে কার্যকরী হবে কিনা।

    শুক্রবার রাতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘গণভোটের প্রসঙ্গসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বেশ বিভক্ত করে দেখানো হয়েছে। কিছু সংস্কারকে কম গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখানো হয়েছে এবং রাজনীতির বিবেচনায় আলাদা করে দেখা হচ্ছে।’

    তিনি আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু, বর্তমান সনদে এর ব্যাপারে পরিষ্কার কিছু উল্লেখ করা হয়নি, যা একটি বড় অস্পষ্টতার সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি উচ্চ স্তরের গঠনও নিয়ে প্রশ্ন আছে। নতুন উচ্চকক্ষের সদস্যদের প্রত্যেকের তালিকা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তের অর্থ সম্ভবত এই যে, পরবর্তীকালে তালিকা প্রকাশ বা নির্বাচনের সময় নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু, এই বিষয়গুলোও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা চাইছিলাম, এই সনদের পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। কিন্তু, যে ভাগে ভাগ করে গুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে কিছু বিষয় আংশিকভাবে কার্যকর হবে এবং কিছু বিষয় রাজনৈতিক দলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই আদেশে কোন সময়সূচি নির্ধারিত নেই, তাই যদি এই সব সংস্কার যথাসময়ে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কী ফলাফল হবে, সেটাও স্পষ্ট নয়। আমাদের দল এ ব্যাপারে আগেও দাবি জানিয়েছে, যেন গণভোটের ফলাফল বাধ্যতামূলক থাকে এবং কেউ সেই ফল থেকে সরে না যায়।’

    তিনি সরকারি প্রতিনিধিদের ত্বরিফে জানান, অবিলম্বে এই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাখ্যা ও অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করে করতে হবে। সরকার যেন দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং এই সংকট নিরসনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডাঃ তাসনিম জারা, যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।

  • মির্জা ফখরুলের দাবি: ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করতে হবে

    মির্জা ফখরুলের দাবি: ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করতে হবে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য ফারাক্কা, তিস্তা এবং অন্যান্য পানিবণ্টন ইস্যুতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের দাদাগিরি না চলায়, সেটি বন্ধ করতে হবে।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘পদ্মা বাঁচাও গণসমাবেশ’-এর আগে মহানন্দা রাবার ড্যাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের দেশের স্বার্থ আমাদেরই দেখতে হবে। যদি বিএনপি জনগণের ভোটে দায়িত্বে আসে, তখন তারা ফারাক্কা, তিস্তা ইস্যুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিবে।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশটি ইচ্ছে করলে আমাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের সময় তারা আমাদের সহযোগিতা করেছে, তাই এখন আরও বেশি সহযোগিতা দরকার।

    আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে पिछले সরকারের সময় ভারত আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে তারা আমাদের অনেক কিছু নিয়ে গেছে, বিনিময়ে কিছু দেয়নি। এটা বিএনপি বা হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের স্বার্থ আমাদেরই দেখতে হবে। পানির হিস্যা, সীমান্তে হত্যা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের জোর দিতেই হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। তবে ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করাও আমাদের আবশ্যক।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, কিছু দল বিএনপিকে বিভ্রান্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এরা রাজনীতিতে ফায়দা নিতে চায় এবং নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে দেশের বা দলের উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে; কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলে এই ক্ষমতা পরিবর্তন বা দেশের সার্বভৌম শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

  • আল্লাহ রসুলের মানতে না পারা মুসলিম হতে দেয় না: সালাহউদ্দিন আহমদ

    আল্লাহ রসুলের মানতে না পারা মুসলিম হতে দেয় না: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ясনিয়েছেন, যারা আল্লাহর রাসূলকে মানে না, তারা কখনো মুসলিম হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি এই বিষয়ে একমত। যদি রাজনীতি বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসেন, তাহলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও খতমে নবুয়ত সংক্রান্ত দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, আল্লাহ এক এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী। মুসলিম জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি ও দুর্বলতার কারণেই বর্তমানে ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারে মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যদি দেশবাসী এবং সবাই এগিয়ে আসেন, তবে বিএনপি আইনিভাবে খতমে নবুওয়ত সংশ্লিষ্ট দাবির বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ নবী হিসেবে মানে না, তাদের জন্য বিএনপি মুসলিম মনে করে না।

    সম্মেলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী জানান, এই মহাসম্মেলনটি আয়োজন করা হয়েছে, যাতে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি এবং খতমে নবুওয়ত রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সম্মানিত আলেমগণ অংশ নেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মুফতি ফজলুর রহমান, ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি এবং মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম।

    এই মহাসম্মেলনটি আয়োজিত হয়েছে, এর তত্ত্বাবধান করে খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিকভাবে সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটির বাংলাদেশী আমির মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ।

  • জামায়াতের শর্ত: ক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা হবে

    জামায়াতের শর্ত: ক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা হবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে দেশের মুসলমান এবং মুসলিম বিশ্বে কেউ দ্বিমত পোষণ করছেন না। শনিবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    রফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই সমাবেশে সার্বজনীনভাবে বাংলাদেশের মুসলমানরাই নয়, বরং গোটা মুসলিম পৃথিবীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছেন। উচ্চারিত হয়েছে একটাই বক্তব্য— কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার ব্যাপারে সবাই একমত।

    তিনি আরও যোগ করেন, রাসুলুল্লাহ সা. বহু হাদিসে বলেছেন— তিনিই শেষ নবী, এরপর আর কোনো নবী আসবেন না। এই বিশ্বাসই ইসলামি উম্মাহের ঐক্যবদ্ধ মূল ভিত্তি। যদি বাংলাদেশর জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে।

    এ দাবিতে অনুষ্ঠিত এই মহাসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের আলেমরা। এটাই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।

    মঞ্চে ছিলেন জাতীয় নেতারা ও শীর্ষ আলেমরা, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক প্রমুখ।

    অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন— জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মুভমেন্টের ওয়ার্ল্ড নায়েবে আমির শায়খ আব্দুর রউফ মক্কি, পাকিস্তানের ইউসুফ বিন্নুরী টাউন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরী, পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াছ গুম্মান ও মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম সহ আরও অনেক আলেম ও বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন।

    মহাসম্মেলনের সভাপতিত্বে ছিলেন সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটির বাংলাদেশের আমির, পীর মো: আবদুল হামিদ।