Blog

  • রোনান সুলিভানের জোড়া গোলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ

    রোনান সুলিভানের জোড়া গোলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ

    সুনিশ্চিত জয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালেতে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে বড় ধাক্কা দিয়েছে মার্ক কক্সের শিষ্যরা।

    জয়ের নায়ক ছিলেন অভিষিক্ত ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। ৫৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে তুলেন তিনি, এরপর ৬৭তম মিনিটে হেড করে জোড়া গোল Completing করে ম্যাচটি ঠিক করে দেন রোনান। অভিষেকেই জোড়া গোল করে দলের জন্য দারুণ এক জয় তুলে দিলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

    ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণে এগিয়ে ছিল। পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল করতে পারেনি লাল-সবুজরা। বিরতির পরই দৃশ্যপট বদলায় এবং খেলার গতি বাড়ে।

    রোনানের প্রথম গোল স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকদের উল্লাস ছড়িয়ে দেয় এবং দলের মনোবল উজ্জীবিত করে। বয়সভিত্তিক লিগে খেলা এই ফরোয়ার্ড মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ক্ষেত্রে পরিচিত মুখ।

    দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণ অব্যাহত ছিল। ইব্রাহিম নেওয়াজ, মোরশেদ আলী ও শেখ সংগ্রামের কল্যাণে পুরো মাঠেই চাপ সৃষ্টি করে বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়। ৫৬ মিনিটে এক অন-অন-ওয়ান অবস্থান থেকে মুরশেদ আলী একটি সুযোগ নষ্ট করলেও দলীয় চাপ অব্যাহত ছিল।

    ৬১ মিনিটে পাকিস্তান ডি-বক্স থেকে বল পোস্টে জড়িয়েছিল, কিন্তু গোলের আগে গোলরক্ষককে ফাউল করা হওয়ায় রেফারি সেই গোল বাতিল করেন। ৬৫ মিনিটে মোরশেদ আলীর নিচু শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া লাগলেও দুই মিনিট পরেই (৬৭তম) রোনান সতীর্থ শেখ সংগ্রামের লম্বা পাস থেকে দুর্দান্ত হেড করে জয়সূচক দ্বিতীয় গোল করে দলকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেন।

    রোনানের জোড়া গোলে পরিণত হয় পাকিস্তানের বিপর্যয়, বাকি সময়ে বাংলাদেশ বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষকে তাদের অর্ধে ঢুকতে দেনি। নিয়মিত ৯০ মিনিটের শেষে যে ৭ মিনিট অতিরিক্ত সময় ছিল তাতেও পাকিস্তানের কোনো ফেরার সুযোগ তৈরি হয়নি।

    ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন সুলিভান ব্রাদার্স; দলীয় স্কোয়াডে থাকা ডেক্লান সুলিভান এই ম্যাচে অভিষেক পায়নি। এই জয়ে বাংলাদেশ পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ প্রায় নিশ্চিত করেছে।

    ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অপর প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিশালী ভারত। পরের গ্রুপ ম্যাচ আগামী ২৮ মার্চ ভারতের বিরুদ্ধে। টুর্নামেন্ট ফাইনাল নির্ধারিত ৩ এপ্রিল।

    টুর্নামেন্টের অন্যান্য তথ্যসূত্র অনুযায়ী অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মোট সাতবার অংশগ্রহণ করেছে; ২০২৪ সালে একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। টুর্নামেন্টে গ্রুপের শীর্ষ দুই করে মোট চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক মালদ্বীপের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা রয়েছে, ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান।

  • ধুরন্ধর টু: চার দিনে আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    ধুরন্ধর টু: চার দিনে আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    দীর্ঘ আড়াই বছর পর রণবীর সিং প্রবেশ করলেন বড় পর্দায় আবারও—এবার ‘ধুরন্ধর টু’-র মাধ্যমে। আদিত্য ধর পরিচালিত প্রথম অংশ মুক্তির পর থেকেই সিক্যুয়েলের প্রত্যাশা তুঙ্গে ছিল; ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েই দর্শক ও বিচারে আবারও শিরোপা কুড়িয়েছে সিনেমাটি।

    বক্স অফিস কীর্তি

    মুক্তি ও দেখার সংখ্যায় ‘ধুরন্ধর টু’ দ্রুত সাফল্য ঘরে তুলেছে। স্যাকনিল্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার দিনে ভারতীয় বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছে ৫৪১.৯৭ কোটি রুপি (গ্রস)। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী চার দিনের মোট আয় এসেছে ৬৯১.৩২ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৯০৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার কাছাকাছি। অন্য দিকে বলি মুভি রিভিউ রিপোর্টে বিশ্বব্যাপী চার দিনের আয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৬৯৫ কোটি রুপি—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকার সমান। এই ভিন্ন ভিন্ন গণনার মধ্যেও ছবিটির ব্যবসা অসামান্য বলা চলে।

    রেকর্ড ও তালিকায় অবস্থান

    প্রথম দিন (পেইড প্রিভিউসহ) ‘ধুরন্ধর টু’ শুরুর দিনেই বড় রেকর্ড গড়েছে। একদিনের আয়ে এটি ভারতীয় সিনেমার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় তালিকায় উঠে এসেছে—বিশেষত হিন্দি ভার্সনে একদিনে বেশি আয়কারী সিনেমার তালিকায় ছবিটি শীর্ষে উঠে গেছে, শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’ এবং আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’-র মতো বড় সিনেমাকে পিছনে ফেলেছে। একই সঙ্গে প্রথম দিনের আয় অনুযায়ী এটি ভারতীয় ছবির একাধিক শীর্ষস্থানীয় তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে।

    সমালোচকরা কী বলছেন

    সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। দ্য টেলিগ্রাফের একজন সমালোচক বলেছেন, ছবিতে রক্তবৃষ্টি ও সহিংসতার অনেক অংশ থাকলেও সেই গল্পের সূক্ষ্মতা বা মিশ্রতা পর্যাপ্তভাবে কাজ করেনি। হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি ছবিটিকে ৫-এ ৪ নম্বর দিয়েছেন এবং বলেছেন, “এটি একটি রোলার-কোস্টার থ্রিলার; প্রথম অংশের পুরো নির্ভুলতা দ্বিতীয় অংশে মেলেনি, তবু রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় ও দ্বিতীয়ার্ধের উত্তেজনা সিনেমাটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।”

    এনডিটিভির রাধিকা শর্মা ৫-এ ৩ নম্বর দিয়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন, “ধুরন্ধর টু সম্পূর্ণভাবে রণবীর সিংয়ের শো—কিছু দৃশ্য পাকিস্তানের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অংশে তীব্রতা বাড়ায় এবং ছবিটি আক্ষরিক অর্থে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।” নিউজ১৮-এর চিরাগ সেহগাল ৩.৫ নম্বর দিয়ে বলছেন, “গল্প বলার ধরন শক্তিশালী, প্লটে একের পর এক টুইস্ট আছে যা দর্শককে আকর্ষণীয় রাখে।”

    বক্তব্য ও ভবিষ্যদ্বাণী

    বক্স অফিস বিশ্লেষকরা মুক্তির আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—ভারতে ছবিটি ১ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত আয় করতে পারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩২১ কোটি টাকার বেশি)। বিশ্লেষক তরণ আদর্শ বলেছেন, এই ধরনের ছবি যদি দর্শকদের চাহিদা মেটায়, ব্যবসায় সীমা কেবল আকাশই হতে পারে—এমনই ধারনা রয়েছে অনেক বিশ্লেষকের।

    প্রযোজক-পরিচালক ও স্বপ্ন

    বিহারের পূর্ণিয়ার রূপবাণী সিনেমা প্রযোজক বিশেক চৌহান স্পষ্টভাবে বলেছেন, “’ধুরন্ধর টু’ যদি ১ হাজার কোটি রুপি না পারে, আমি সন্তুষ্ট হব না।” প্রযোজক অতুল মোহনও মনে করেন এটি সম্পূর্ণ সম্ভব—কারণ পূর্বের উদাহরণ হিসেবে ‘পুষ্পা টু’ নিজের পূর্বসূরীর আয়কে ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তেমনি ‘বাহুবলি টু’ তার পূর্বসূরীকে ছাড়িয়েছিল। প্রথম দিনের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বিশ্লেষকদের আশাকে আরও জোরদার করেছে।

    অভিনয় ও বাজেট

    প্রথম পার্টে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে বড় পর্দায় ছিলেন সারা অর্জুন—যা সারা-র বড় পর্দার অভিষেক হিসেবে নজর কেড়েছিল। দ্বিতীয় পর্বেও সারা রণবীরের সঙ্গে ফিরে এসেছেন। এছাড়া ছবিতে দেখা গেছে অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, আর. মাধবনসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট অভিনয়শিল্পীকে। মোট বাজেট ছিল প্রায় ২৮০ কোটি রুপি। প্রযোজনা করেছেন আদিত্য ধর, লোকেশ ধর ও জ্যোতি দেশপান্ডে।

    শেষ কথা

    মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং তীব্র বক্স অফিস আয়ের মধ্যে ‘ধুরন্ধর টু’ এখন বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স মিলিয়ে এটি বলিউডের চলতি বছরের অন্যতম বড় ঘটনাই বলা যায়—আগামি দিনগুলোই নির্ধারণ করবে, ছবিটি দীর্ঘমেয়াদে কেমন ছাপ রেখে যাবে।

  • মনিকা কবিরের বিয়ে: বর—বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান

    মনিকা কবিরের বিয়ে: বর—বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান

    রাশিয়ান বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার মনিকা কবির সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে রবিবার (২২ মার্চ) এই খবর নিশ্চিত করেন। ভিডিওতে নবদম্পতি আনন্দিত ও খুনসুটিতে মেতে ওঠা দৃশ্য দেখা যায়।

    মনিকা ক্যাপশনে লিখেছেন, “আমরা বিয়ে করেছি। বর—বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান। ঘরোয়া পরিবেশে মালা বদলের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।” তাঁর কথায় বোঝা যায়, অনুষ্ঠানটি সাধারণ ও অন্তরঙ্গ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    গত আগস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনিকা জানিয়েছিলেন যে তিনি পাঞ্জাবিওয়াল ছেলেদের পছন্দ করেন এবং বাংলাদেশি ছেলেকেই বিয়ে করতে চান। সেই ইচ্ছাকে এবার বাস্তবে পূরণ করলেন তিনি।

    একই সময়ে জানা গেছে, মনিকা সম্প্রতি ঢাকার রাস্তায় এক পথচারীকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় সামাজিক সমালোচনার মুখে পড়েন এবং ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা মামলা পরিচালনার পরবর্তী ঘটনা এখনও অপ্রকাশিত।

  • রমজানের ছুটি শেষে পরবর্তী ১০টি শনিবার খুলবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

    রমজানের ছুটি শেষে পরবর্তী ১০টি শনিবার খুলবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারিভাবে জানিয়েছে, পবিত্র রমজান মাসের ছুটি শেষ হওয়ার পর শ্রেণিকক্ষে ফিরেই পরবর্তী ১০টি শনিবার বিদ্যালয় খুলে পাঠদান চালাতে হবে। এই নির্দেশনা জানিয়েছে অধিদপ্তর একটি অফিস আদেশে।

    অফিস আদেশটি মঙ্গলবার প্রাক-প্রাথমিক ও একীভূত শিক্ষাবিভাগের উপপরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন স্বাক্ষর করেছেন। আদেশে বলা হয়েছে, রমজানে ঘোষিত ছুটির ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত শিখন ঘাটতি তৈরি হওয়ায় তা পূরণ করতে এবং নির্ধারিত পাঠপরিকল্পনা সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অফিস আদেশে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উল্লেখ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে যে, ছুটি শেষে শ্রেণিকক্ষে ফেরার পর পরবর্তী ১০টি শনিবার নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, পাঠপরিকল্পনা পূরণ ও লার্নিং লস কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালকদের সমন্বয়ে এই অতিরিক্ত শ্রেণি কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করতে হবে।

    জানানো হয়েছে, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ মার্চ থেকে ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হয়েছিল। ছুটির পর শ্রেণি কার্যক্রম ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শুরু করার কথা রয়েছে। অতএব ওই তারিখের পর শুরু হওয়া শ্রেণিক্রমের সঙ্গে মিলিয়ে পরবর্তী ১০টি শনিবারে অতিরিক্ত ক্লাস পরিচালনা করবে বিদ্যালয়গুলো।

    অফিস আদেশটি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও চলতি পাঠক্রম যাতে সম্প্রসারিতভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় তদারকি ও সহায়তা প্রদানের জন্য বলা হয়েছে।

  • ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লি নিয়ে গেল এনআইএ

    ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লি নিয়ে গেল এনআইএ

    বহুল আলোচিত ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার রাতেই দিল্লিতে নিয়ে গেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা—জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। কলকাতা থেকে বিমানে করে তাদের দিল্লি নেওয়া হয়েছে এবং আজ মঙ্গলবার সম্ভাব্যভাবে এনআইএ-র বিশেষ আদালতে উপস্থিত করা হতে পারে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এনআইএ গত ২২ মার্চ কলকাতার বিধাননগর আদালতে দুই অভিযুক্তকে জেরা করার আবেদন করে। আদলত প্রথমে সেই আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু ২৩ মার্চ সকালে এনআইএ নতুন একটি পিটিশন জমা দিয়ে জানায়, দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে এবং সেখানেই অভিযুক্তদের জেরা করাতে তারা অনিচ্ছুক।

    এই নিরাপত্তা মাথায় রেখে আদালত অভিযুক্তদের দিল্লিতে নেওয়ার অনুমতি দেন। সেই সিদ্ধান্তের পর সোমবার রাস্তায় নয়—রাতেই ফয়সাল ও আলমগীরকে কলকাতার拘 থেকে বিমানে তুলে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার বিচারক নিশান মজুমদার তাদের ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    আদালত থেকে বেরোনার সময় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নন এবং রাজনৈতিকভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন যে, সিসিটিভি ফুটেজে গুলি চালানোর কোনো দৃশ্য নেই এবং ঘটনাকালে তিনি বাংলাদেশে ছিলেন—তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সিসিটিভিতে তাকে দেখা গেছে; কেন তিনি ভারতে এসেছিলেন সেই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

    অন্যদিকে, একই মামলায় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকেও আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাকে আগামী ৩ এপ্রিল পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে।

    ঘটনার তদন্ত এখন এনআইএ-এর তত্ত্বাবধানে এবং দিল্লিতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের কথা অনুযায়ী, তদন্তকারীরা নিরাপত্তা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

  • জামায়াত-এনসিপি প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন বিএনপি সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি পার্টি এবং দেশীয় রাজনীতির নানা দিক তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    মনিরुल হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর এক সময় একটি মেধাবী শ্রেণি গড়ে উঠেছিল, তারা জাসদ গঠন করেছিল। কিন্তু বাড়াবাড়ি করার ফলেই দেশের ক্ষতি হয়েছে, জাতির ক্ষতি হয়েছে—তারাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ও সহনশীলতা দেখানোর প্রার্থনা করেন।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিরোধী রাজনৈতিক ভূমিকা ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যৌথভাবে কাজ করা হয়েছিল। অনেকেই তখন জামায়াতের সঙ্গে কাজ করার বিরোধিতা করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে রাজনীতিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাই আজ যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের অনুরোধ, দেশের রাজনীতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানটুকু স্মরণ করাটাও জরুরি।

    সংসদীয় রাজনীতির পরিবর্তন নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এই সংসদে দাঁড়িয়ে আমি ভয় পাই—আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম। আজকের বিরোধী দলকে আমি এখনও চিনতে পারি না।’’ তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির এক নেতার, তারেক রহমানের, কথা ছিল—নির্বাচন কঠিন হবে। তখন অনেকে সেটা বুঝতে পারেননি; পরে বাস্তবে নির্বাচনে গিয়ে তিনি কষ্টটা উপলব্ধি করেছেন।

    মনিরুল আরও বলেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর যাদের কৃতিত্বের কথা বলা উচিত ছিল, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নামও ছিল। কিন্তু আজ আমাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে—কেন কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ করা হচ্ছে; মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের ত্যাগকে একই কাতারে বিবেচনা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, যদি ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় বিচারের নামে অন্যায় হয়েছে, সেটাও আলাদা ভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।

    শেষে তিনি জামায়াতসহ অন্যান্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘মহান সংসদে এই প্রশ্ন রেখে আমি শুধু একটা জিনিস বলব—স্বাধীনতার পরে যারা বয়সে młত কম, যেমন এনসিপির নেতা-রা, তাদেরও আমি শ্রদ্ধা করি। কারণ তারা সাহসী, এবং এ যুগের দাবি অনুযায়ী নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’’

    সংসদীয় আলোচনায় মনিরুল হকের এসব মন্তব্য রাজনৈতিক প্রবাহ ও অতীত সম্পর্ক নিয়ে তর্ক-বিতর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।

  • কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা ও নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে নানা বিতর্ক ও আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়েছে এবং লোকমুখে স্থান পেয়েছে।

    বুধবার সকালে প্রকাশিত এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী–এমপি এবং ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আন্তরিক কথোপকথনের সুযোগ পেয়েছেন। সেখান থেকে তিনি কিছু মূল্যবান পরামর্শও পেয়েছেন।

    তিনি জানান, সবাই মিলেই বলতে বলেছেন—ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, আবশ্যকতাহীন উক্তি থেকে বিরত থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় বেশি মনোযোগ দেওয়া। এসব দিকনির্দেশনা তিনি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন এবং নীরবতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামনে এগোবার প্রতিজ্ঞা করেছেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই। যারা আমার কোনো কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আপনারা দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ দিয়ে আমাকে শক্তি দিন।’’

    তিনি আরও জানিয়েছেন, গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে একটি আত্মিক যাত্রার নীরব সূচনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর কাছে সবাইকে ক্ষমা ও সঠিক পথের দিক-নির্দেশনা কামনা করেছেন।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে দুদকের অনুসন্ধান

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে দুদকের অনুসন্ধান

    দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই লক্ষ্যে উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে মোট চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথিপত্র তলব করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করছেন।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের মধ্যে লক্ষ্যণীয় একটি হলো—তিনি শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে থাকাকালীন সময়ে ২,৪৮৬ কোটি টাকার ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেবল চারটি জাহাজই কেনা হয়। এর ফলে ওই প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম বা অসঙ্গতির সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

    এছাড়া দুদক জানায়, মোংলা বন্দরের পশু চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১,৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে নথিপত্র দাবী করেছেন এবং প্রয়োজনে আইনমত ব্যবস্থা নেবেন।

    দুদক বলছে, তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

  • ক্রেডিট কার্ডে নতুন গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ডে নতুন গাইডলাইন: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তি পর্যায়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বাড়ায় খাতে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে কার্ড সেবার পরিধি বাড়ার অংশ হিসেবে জটিলতা কমানো ও নতুন নিরাপত্তা ও সেবাগত বৈশিষ্ট্য যুক্ত করাই এই গাইডলাইনের মূল উদ্দেশ্য।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, দায়িত্বশীল ঋণপ্রদান উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত নির্দেশনা সংযোজিত হয়েছে।

    নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে — আগের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, সেটি এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ লাখ টাকায়। একই সঙ্গে অনিরাপদ (কোল্যাটারালবিহীন) ঋণের উচ্চসীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ড দিয়ে হওয়া লেনদেনের পরিশোধে উদ্ভূত জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে সেখানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। ব্যাংক বলছে, নতুন গাইডলাইন কার্যকর হলে গ্রাহক সুরক্ষা বাড়বে, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ শক্ত হবে এবং আর্থিক লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।

  • ইরানের হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অচল’ করা হবে

    ইরানের হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অচল’ করা হবে

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের ওপর যদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অচল’ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে আরব উপসাগরে মোতায়েন সব মার্কিন জাহাজকে ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন আইআরজিসির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী এক্সপেডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য মহসেন রেজায়ি। তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করার শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে; তাদের উদ্ধারে বেশি সময় বাকি নেই।’’ তবে কীভাবে এবং কবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জানাননি রেজায়ি।

    ঘটনাক্রমে, কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা চালানো হবে না। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ইরান দাবি করে যে ইসফাহান প্রদেশের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ও গ্যাস উৎপাদনসংস্থায় হামলা হয়েছে। ইরানের আধাসরকারি ফার্স নিউজ এসব হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহানের একটি গ্যাস সংশ্লেষণ প্ল্যান্টে আঘাত লага এবং সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আশপাশের আবাসিক এলাকাও প্রভাবিত হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী গ্যাস পাইপলাইনের ক্ষতির কারণে খোরমশহরের বিদ্যুৎকেন্দ্রেও সরাসরি প্রভাব পড়েছে। ফার্স নিউজ আরও বলেছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

    এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ওই হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেনি এবং উভয় পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য মেলেনি।

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, এর আগের সপ্তাহে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি জানানো হয়েছিল এবং ৪৮ ঘণ্টার একটি সময়সীমা ধরা হয়েছিল। পরে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সম্পর্কিত আলোচনায় ফলপ্রসূ অগ্রগতি হয়েছে এবং তাই পাঁচ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিত রাখা হবে। বর্তমান তথ্য ও দাবিগুলো আল জাজিরা এবং ফার্স নিউজ থেকে নেওয়া হয়েছে।