ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের ওপর যদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অচল’ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে আরব উপসাগরে মোতায়েন সব মার্কিন জাহাজকে ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন আইআরজিসির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী এক্সপেডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য মহসেন রেজায়ি। তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করার শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে; তাদের উদ্ধারে বেশি সময় বাকি নেই।’’ তবে কীভাবে এবং কবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জানাননি রেজায়ি।
ঘটনাক্রমে, কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা চালানো হবে না। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ইরান দাবি করে যে ইসফাহান প্রদেশের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ও গ্যাস উৎপাদনসংস্থায় হামলা হয়েছে। ইরানের আধাসরকারি ফার্স নিউজ এসব হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহানের একটি গ্যাস সংশ্লেষণ প্ল্যান্টে আঘাত লага এবং সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আশপাশের আবাসিক এলাকাও প্রভাবিত হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী গ্যাস পাইপলাইনের ক্ষতির কারণে খোরমশহরের বিদ্যুৎকেন্দ্রেও সরাসরি প্রভাব পড়েছে। ফার্স নিউজ আরও বলেছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ওই হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেনি এবং উভয় পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য মেলেনি।
পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, এর আগের সপ্তাহে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি জানানো হয়েছিল এবং ৪৮ ঘণ্টার একটি সময়সীমা ধরা হয়েছিল। পরে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সম্পর্কিত আলোচনায় ফলপ্রসূ অগ্রগতি হয়েছে এবং তাই পাঁচ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিত রাখা হবে। বর্তমান তথ্য ও দাবিগুলো আল জাজিরা এবং ফার্স নিউজ থেকে নেওয়া হয়েছে।
