Blog

  • আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ল

    আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ল

    অলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় এক মাসের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন করদাতারা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, যা আগে ছিল ৩০ নভেম্বর। এই পরিবর্তন ব্যবসায়ী ও করদাতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

    একজন এনবিআর কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ২০২৩ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য কোম্পানি ছাড়া সব করদাতা কেন না, সব ধরনের করদাতা রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। পেশাগত কারণে কিছু করদাতা সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন, এ কারণে সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, এই বছর ১০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে অর্থাৎ ই-রিটার্নের মাধ্যমে তাদের রিটার্ন দাখিল করেছেন। ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এনবিআর এর ওয়েবসাইট www.etaxnbr.gov.bd এর মাধ্যমে ই-রিটার্ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

    এনবিআর আরও জানায়, বিশেষ আদেশের আওতায় ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা, শারীরিক অসুস্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃতের আইনগত প্রতিনিধি এবং বিদেশি নাগরিকরা এই পুরো বছর অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে প্রয়োজন হলে অন্য করদাতারাও ইচ্ছা করলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।

    বিদেশে থাকা বাংলাদেশি করদাতাদের জন্য পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তাদের জন্য OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিংক ই-মেইলে পাঠানো হবে, যাতে তারা সহজে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে সক্ষম হন। উল্লেখ্য, এই সিস্টেমে কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না। শুধু আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিলেই তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তি ও আয়কর সনদ ডাউনলোড সম্ভব।

    এসব সুবিধার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে থাকা করদাতাদের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিলের প্রসার বেড়ে গেছে। কোনো সমস্যা হলে করদাতারা কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) এ যোগাযোগ করে দ্রুত সহায়তা নিতে পারেন।

    এছাড়া, www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের e-Tax Service অপশন এবং দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলস্থ ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থেকেও সরাসরি সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।

  • আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেন চালু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেন চালু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে ব্যাংক, এমএফএস, বীমা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সঙ্গে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বয়ংক্রিয়, ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে নগদ লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে এবং অর্থের সহজে, স্বচ্ছভাবে প্রবাহিত হবে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, যিনি সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রকাশ করেন।

    গভর্নর বলেন, ‘লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং জটিলতা কমানোর জন্য ডিজিটালাইজেশন অপরিহার্য। এ জন্য অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি মানসম্মত ই-লেনদেন প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এটিই হবে মূল মাধ্যম, এর বিকল্প নেই। এতে লেনদেনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি কমবে এবং রাজস্ব আয়ে সুফল আসবে।’

    অনুষ্ঠানে গেটস ফাউন্ডেশনের মোজোলুপের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। নিরাপত্তা বিবেচনায় এই চুক্তিটির ভার্চুয়ালি আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। গভর্নর জানান, এই চুক্তির আওতায় মোজোলুপের তৈরি প্ল্যাটফর্মের নাম হলো ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইএসপি)। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক ক্লিয়ারেন্স, লেনদেন ও অর্থপ্রদানের প্রসেস আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অঙ্গীকার।

  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাত্রার ঝুঁকি উল্লেখ

    বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাত্রার ঝুঁকি উল্লেখ

    বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ, অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কিছুআপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের মুখে পড়লে আবারও দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫’ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে দারিদ্র্য কমিয়েছে। এর ফলে দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে बाहर এসেছে এবং এর মধ্যে ৯০ লাখ মানুষ অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নত হয়েছে, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, পানির সুষ্ঠু সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা সহজে পেতে শুরু করেছে। তবে ২০১৬ সাল থেকে দারিদ্র্য কমার গতি ধীর হয়ে গেছে, আর অর্থনৈতিক উন্নতির সুফল দেশের সব অংশে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য হার ১২.২ শতাংশ থেকে কমে ৫.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং মাঝারি দারিদ্র্য ৩৭.১ শতাংশ থেকে ১৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে, ২০১৬ সাল থেকে দারিদ্র্য কমার গতির ধীরগতির জন্য মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রভাব কম হলেও, এই সময় বৈষম্যও বেড়েছে। ধনী ও গরিবের মধ্যে আয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি ভিত্তিক গ্রামীণ এলাকাগুলো দারিদ্র্য হ্রাসে নেতৃত্ব দিয়ে থাকলেও শহরাঞ্চলে এই হ্রাসের হার কমে গেছে। ২০২২ সালের মধ্যে শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে, যেখানে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন শহরে বাস করেন। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগের পরিচালক জাঁ পেম বলেন, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে দারিদ্র্য হ্রাসে সফল হলেও, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জলবায়ু ঝুঁকি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধীর গতি এই অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি تاکید করেন, দারিদ্র্য কমানোর সবচাইতে কার্যকর উপায় হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে যুবক, নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য। এজন্য দরিদ্র বন্ধুত্বপূর্ণ, জলবায়ু সহিষ্ণু এবং কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ জরুরি। প্রতিবেদনে প্রকাশ, উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান কমছে, ফলে নারী ও তরুণেরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতি পাঁচ নারীকে মধ্যে একজন বেকার, আর শিক্ষিত নারীদের মধ্যে এক চতুর্থাংশের নেই চাকরি। শহরেও বিশেষ করে ঢাকার বাইরে চাকরি সৃষ্টি খুবই বেশি স্থবির। শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কমে গেছে এবং ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণরা কম মজুরি করে কাজে লাগানো হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন হলো লাখ লাখ বাংলাদেশির জন্য দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার এক অন্যতম পথ। প্রবাসী আয় দারিদ্র্য কমাতে সাহায্য করেছে, তবে দেশের ভিতরে ও বিদেশে কর্মরত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নত নয়। অনেক প্রবাসী পরিবার শহরের ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে বাস করে যেখানে জীবনযাত্রার মান নিচের দিকে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারিত হলেও ব্যবস্থাপনা অদক্ষতা ও লক্ষ্যমাত্রার অভাব দেখা যায়। ২০২২ সালে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পেলেন ৩৫% ধনী পরিবার, অর্ধেকের বেশি দরিদ্র পরিবার এই সুবিধা পায়নি। ভর্তুকি বা সরকারি সহায়তা অনেক সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং দরিদ্রের বদলে বেশি ভাগ সুবিধা পায় ধনী পরিবার। প্রতিবেদনে চারটি মূল নীতিমালা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়ন দেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে—উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বেশি কাজের ব্যবস্থা করা, আধুনিক শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসায় সহায়ক নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর social safety net তৈরির মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা। জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও লেখক সার্জিও অলিভিয়েরি বলছেন, বাংলাদেশ পূর্ব-পশ্চিমের আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়েছে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এবং শহর ও গ্রামীণ বৈষম্য বাড়ছে। তিনি বলেন, উদ্ভাবনী নীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, শহরে গুণগত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিতে মূল্য-শৃঙ্খলা ধরে রাখা, এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত দারিদ্র্য হ্রাসের পথ পুনরুদ্ধার ও ত্বরান্বিত করতে পারে এবং সব শ্রেণির মানুষের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পারে।

  • ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন বিদেশ ভ্রমণ নির্দেশনা জারি

    ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন বিদেশ ভ্রমণ নির্দেশনা জারি

    বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে বিদেশে ভ্রমণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের শুধুমাত্র অতি জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই বিদেশে যাওয়া অনুমোদিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) এই নির্দেশনা প্রকাশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়কালে ব্যাংকিং সেক্টরে কোনো শূন্যতা বা প্রশাসনিক বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন মূলক সময়ে ব্যাংকিং কার্যক্রমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ভারসাম্যপূর্ণ ভ্রমণ নীতি কার্যকর করা হয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশের বাইরে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার জন্য সাফ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার অধীন গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি ঐক্ষেত্রে অবিলম্বে কার্যকর হবে। মূল লক্ষ্য হলো, নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যাংকিং খাতে কোনো অস্থিরতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যাঘাত না ঘটে, যাতে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

  • বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে

    বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে, সামগ্রিক ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। 이는 মোট উসুলযোগ্য ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশের সমান, যা ছিল গত বছর ডিসেম্বরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ডিসেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ফলে গত নয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকার বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বুধবার (২৬ নভেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারী আমলে ব্যাংক থেকে নানা নামে-বেনামে অর্থ উত্তোলনের ঘটনায় এখন খেলাপি ঋণের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণের নবায়ন নিয়মের পরিবর্তনের কারণে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। অনেক ঋণই অবৈধভাবে নবায়ন না হওয়ায় এবং নানা ধরনের অনিয়মের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই ঋণ আদায় করতে পারছে না।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে দেশের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায়, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা, যা অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

  • নির্বাচিত সরকার ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই: তারেক রহমান

    নির্বাচিত সরকার ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার বন্দর বা এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে দেশ নির্বাচিত সরকার না থাকলে, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। তারেক রহমান এ মন্তব্য করেন, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ফেসবুকে প্রকাশিত এক পোস্টে, যেখানে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ঢাকার পানাগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানিকে নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করেন।

    নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি বললেন, “একটি ছোট গার্মেন্টস মালিকের গল্প দিয়ে শুরু করি। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তার ব্যবসা চালাচ্ছেন, তার শ্রমিকরা কয়েকশো। সীমিত আয়ে কাজ চালাতে হয় তাদের, আর তীব্র বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। একসময় যেসব শুল্ক সুবিধা পেতেন, সেগুলোর অবসান ঘটে নিঃশব্দে, যার ফলে তার ক্রয়াদেশ কমে যায়, আর অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে।”

    তিনি আরও বলেন, “একইভাবে, নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ স্নাতক দেখছি—তার পরিবারে যেমন অনিশ্চয়তা, তেমনি তার বাবা একটি কারখানায় কাজ করেন। রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে ওভারটাইম বন্ধ হয়, তারপর শিফট কাটা হয়, শেষমেশ চাকরি হারানো হয়—এসব গল্প সংবাদ শিরোনামে আসে না, অথচ এটাই দেশের ঘরের অভ্যন্তরের বাস্তব সংকট।”

    তারেক রহমান আরও বলেন, “এই পরিস্থিতির জন্যরা যে সিদ্ধান্ত নেয়, তার জন্য তারা ভোট দেননি আর কখনোও তাদের কোন জিজ্ঞাসা করা হয়নি। এলডিসি থেকে উত্তরণের সিদ্ধান্ত বা চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে একই চিত্র দেখা যায় — সব কৌশলগত বিকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, জনগণের সমালোচনা উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং অতি দ্রুততার অজুহাতে যুক্তিগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।”

    সরকারি বিবৃতির উপর বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো আসলে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি আগেও বলেছে, সময় নেওয়ার বিকল্পের দিকে না গিয়ে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যাকে নিয়ে কোনো ভোট বা গণতান্ত্রিক মতামত নেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কোনো নির্বাচনমূলক ম্যান্ডেটও নেই, তবুও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে যা দেশের অর্থনীতিকে বহু বছর প্রভাবিত করবে।

    তিনি আরও বললেন, “আমাদের বলা হয়েছে দেরি করা অসম্ভব এবং অস্বীকারও অপমানজনক। জাতিসংঘও পর্যাপ্ত বিবেচনা করবে না। তবে ইতিহাস দেখায়, পরিস্থিতি আরও জটিল।”

    তিনি উল্লেখ করেন, অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে সময়সীমা পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করা যায়। এর মানে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। কেন আমরা সেটির পরিবর্তে বিকল্প না থাকার ভান করছি? কেন নিজেদের ভবিষ্যৎ সংকুচিত করছি?

    তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিকল্প প্রকাশ্যে বাতিল করে আমরা নিজেদের আলোচনা শক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছি। আন্তর্জাতিক দর-কষাকষির সময় আমাদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।”{newline}

    তিনি বলেন, “সরকারি নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, ঋণের ঝুঁকি ও রপ্তানি শ্লথ হয়ে আসার চাপ মোকাবিলা করছে। এগুলো উত্তরণের পক্ষে নয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা রেখেছে, কিন্তু ‘যোগ্য’ হওয়া আর ‘প্রস্তুত’ হওয়া আলাদা বিষয়। সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রকৃত শক্তি হলো, গভীর প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার শৃঙ্খলা রক্ষা।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড ও চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের পরিস্থিতি লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সেখানে যা ঘটে, তা নিয়মিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে নয়; বরং দেশের সম্পদ ও ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এইসব সিদ্ধান্ত কোনো গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট ছাড়া নেওয়া হয়েছে।”{newline}

    তিনি আরও বলেন, “এলডিসি থেকে উত্তরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো যেমনই হোক, একই রকম চিত্র চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষেত্রেও দেখা যায়—সব কৌশলগত বিকল্প বন্ধ, জনগণের সমালোচনা উপেক্ষা, অতি দ্রুততার অজুহাতে সত্যিকার উদ্বেগগুলো দমন।”

    আলোচনার একান্ত প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিষয়ে অপমান নয়। মূল বিষয় হলো, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও নীতির পালন। এসব সিদ্ধান্ত অবশ্যই সেই সরকারের নেওয়া উচিত, যাদের কাছে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে তিনি বার্তা দেন, “বাংলাদেশের কেউ বলে না যে এলডিসি থেকে উত্তরণ অসম্ভব, বা বন্দর সংস্কার ঠিক নয়। মূল বক্তব্য হলো, যে সরকার নির্বাচন দিয়ে আসেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। কৌশলগত ধৈর্য কোনো দুর্বলতা নয়, জনগণের মতামত অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিলম্ব নয়, বরং দেশের সত্য ও স্বার্থের জন্য অপরিহার্য।”

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ কখনো তাদের ভবিষ্যৎ বিষয়ে নীরব থাকেনি; তারা সবসময় মর্যাদা রক্ষা, মতপ্রকাশ এবং চাহিদা জানানোর জন্য ত্যাগ স্বীকার করে এসেছে। দেশের মানুষের চাওয়া সাধারণ—তাদের কথা শোনা হোক, অংশ নিতে সুযোগ দেওয়া হোক এবং সম্মানিত করা হোক। এই কারণেই ভবিষ্যতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নিবার্চনে তাকানো হয়েছে। এটি একটি সুযোগ, যেখানে দেশের মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করতে, গ্রহণক্ষমতা দেখাতে ও নতুন সত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন। কারণ, এ দেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই গড়ে উঠবে, যারা এখানে বসবাস করে এবং বিশ্বাস করে—সবার আগে বাংলাদেশ।”

  • সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি, ঝামেলা ছাড়াই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

    সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি, ঝামেলা ছাড়াই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এখন তা যথেষ্ট স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে চলমান। তিনি আরও বলছেন, সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো হয়েছে, ফলে ২৬ নভেম্বরের নির্বাচন তাৎক্ষণিকভাবে সুসংগঠিত ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

    মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্তরের বেশ কয়েকজন পরিচিত আইনজীবী, যারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-আদালতের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষা করার জন্য আইনজীবীরা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও শক্তিশালী নদীর মতো বহমান। এর পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সন্তোষজনক এবং নির্বাচন বন্ধুসুলভ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে, কোনো অশান্তি বা বিঘ্ন ঘটবে না।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মো. মকদুম সাব্বির মৃদুলসহ প্রখ্যাত সিনিয়র আইনজীবীরা। তারা সবাই তাদের মতামত ও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচনের পরিবেশ যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

  • দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত: তারেক রহমান

    দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করলে নতুনভাবে স্বাধীনতা প্রদানের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। তবে, এর পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এখনো দেশি-বিদেশি চক্রান্ত থেমে নেই, যা আমাদের দেশমাতৃকে অস্থিতিশীল করে তোলার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে এক শোকবার্তায় এ সব কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, ‘পতিত আওয়ামী সরকারের ১৬ বছরব্যাপী শাসনামলে মানুষ তার সব অধিকার হারিয়ে ফেলেছিল। গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে তাদেরকে দমন-পীড়ন করা হয়েছিল, দেশের মালিকানা থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়। এই শাসনামলে দেশের সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।’

    তিনি দৃঢ়ভাবে মন্তব্য করেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, ষড়যন্ত্রকারীরা সফলতা পাবে না। শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ আমাদের সবসময় প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।’

    বলেন, ‘শহীদ ডা. মিলনের স্মৃতি আমাদের অটুট সাহস ও উৎসাহের উৎস। তার আত্মদানের মধ্য দিয়ে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল হয়, যা দেশের মানুষকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে অনুপ্রাণিত করে। এই আত্মদানই স্বৈরাচার এরশাদের পতন ও গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন সম্ভব করে।’

    তারেক রহমান আরো উল্লেখ করেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্রের নতুন অগ্রযাত্রা শুরু করেছি। তার দৃঢ় পরিশ্রম ও দূরদর্শিতায় দেশের মানুষ আবার মুক্ত মনে জীবনযাপন করছে।’

    বুধবার দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বাণী মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।

    অপরদিকে, শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও গভীর শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণা প্রকাশ করেছেন। তার বাণীতে তিনি বলেন, ‘৮০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন একজন অমর নাম, যার সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ‘১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন তিনি। তার জন্য শোকপ্রকাশ ও রুহের মাগফিরাত কামনাই আমাদের দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর আত্মদান আমাদের আন্দোলন সংগ্রামে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, বিশেষ করে স্বৈরাচার বিরোধী স্বাধীকার প্রতিষ্ঠার জন্য। দেশব্যাপী বিভিন্ন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ডা. মিলন সকলের জন্যই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।’

    এছাড়াও, মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতীয় ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের নির্লজ্জ দমন-পীড়নের কারণে মানুষ ভোটাধিকারসহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার অস্বীকৃত হয়। মানুষের জীবন, জীবনযাত্রা ও বাকস্বাধীনতা প্রহার করা হয়।’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই দেশের স্বৈরাচার পতন হয়েছে, তবে এখনো ষড়যন্ত্রকারীরা লুকিয়ে আছে। তাদের অপচেষ্টা দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়। তবে, দেশবাসী এখন একযোগে এগিয়ে আসায় তারা কখনো সফল হবে না।’

    অবশেষে, তিনি বলেন, ‘শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দৃঢ় করতে পারলে, তাঁর আত্মদান সার্থক হবে।’

  • নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্তে জাতিকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে

    নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্তে জাতিকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের মানুষের ভবিষ্যত এবং গণতান্ত্রিক ইতিহাসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই নির্বাচনে আমরা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেই, তাহলে ফলে আমাদের জাতিকে অনেক মূল্য দিতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশিরা ভুল করবেন না। বুধবার ঠাকুরগাঁও শহরের ইএসডিওর কার্যালয়ে এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল জানান, বাংলাদেশের ইতিহাস হলো অভ্যুত্থানের ইতিহাস, প্রতিরোধের ইতিহাস এবং অন্যায়কে না মানার ইতিহাস। ১৯৭১ সালে আমরা যে লড়াই ও যুদ্ধ করেছিলাম, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়া। তিনি জানান, তিনি এখনও সেই পথেই আছেন এবং বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষও একই পথ অনুসরণ করছে।

    তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সত্যের জয় হবে, যার প্রমাণ হলো ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন। এরপর তিনি দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধন করেন এবং আলোকসজ্জায় অংশ নেন। সেই সময় তিনি সরকারকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সাহায্য ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনাগুলোর মূল্যায়ন করা উচিত এবং যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদের আইনের আওতায় আনা আবশ্যক।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কিছু মানুষ গাফিলতির কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তিনি মনে করেন, যদি সঠিকভাবে আইনের প্রয়োগ হয় এবং যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকে, তাহলে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব।

    অতীতের বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বাউলরা মাঠে-ঘাটে গান করেন, তাদের ওপর হামলা উগ্র ধর্মান্ধদের দ্বারা সংঘটিত হয় বলে মনে করে তিনি। এই ধরনের হিংসা ও প্রতিহিংসা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

  • এনসিপির নতুন শাপলা কলি প্রতীকের ছবি প্রকাশ ও ওয়েবসাইটে সংযুক্ত

    এনসিপির নতুন শাপলা কলি প্রতীকের ছবি প্রকাশ ও ওয়েবসাইটে সংযুক্ত

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’র অফিসিয়াল ছবি প্রকাশ করেছে। তবে এটি শুধু গণমাধ্যমে নয়, এখন থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এনসিপির পক্ষ থেকে এই প্রতীকের নতুন ছবি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ছবি বুঝতে গেলে দেখা যায়, একটি অঙ্কুরিত শাপলা ফুলের কলি সরাসরি গোলাকার শাপলা পাতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দলের মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন জানান, এখন থেকে গণমাধ্যমে এই ছবি বা প্রতীকের অন্যান্য ফুটেজ ব্যবহার করতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসির কাছ থেকে এই প্রতীকের চূড়ান্ত ছবি পাওয়ার নিশ্চয়তা অর্জন করেছেন। এরপরই এই ছবি ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, গত ৯ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন এনসিপিকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক বরাদ্দ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই নতুন ছবি ও সংযুক্তি প্রমাণ করে, এনসিপির নির্বাচনী প্রচার ও পরিচিতিতে এবার একটু পরিবর্তন আসছে।