Blog

  • পেন্টাগনের বিবেচনায়: মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠানো

    পেন্টাগনের বিবেচনায়: মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠানো

    একদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বিরতির জন্য শান্তি আলোচনা করার কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; অন্যদিকে পেন্টাগন যুদ্ধের বিকল্প হিসেবে আরও কড়া সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে।

    প্রতিবেদনে ওই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই বাহিনীতে পদাতিক সৈন্য ও সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কিছু ইউনিট, প্রায় পাঁচ হাজার জনবল এবং প্রায় দুই হাজার প্যারাট্রুপারকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে; এখন তাদের সঙ্গে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    তবে এসব সৈন্য ঠিক কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি; তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    একই সময়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, ইরান সরকারের অনুরোধে তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্তকে ১০ দিন স্থগিত রেখেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত ওই হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তেহরান সেই অনুরোধের কথা অস্বীকার করেছে।

    সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, দুই ধরণের সংকেত একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে—একটি কূটনৈতিক দরজার খোলা ইঙ্গিত, আরেকটি সামরিক সম্ভাবনার প্রস্তুতি। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দ্রুত পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ট্রাম্পের দাবি: ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল

    ট্রাম্পের দাবি: ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের শীর্ষ নেতা করার অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে এক বিস্ময়কর দাবি করেছেন তিনি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। খবর অনুসারে প্রথম তথ্য ইন্ডিয়া টুডি থেকে এসেছে।

    রিপাবলিকান তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ট্রাম্প জানান, তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে ইরানের নেতারা তাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেখতে চায়। ট্রাম্প বলেন, আমি বলেছি না, ধন্যবাদ, আমি এটা চাই না।

    একই সভায় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ বা সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ইরান এতটাই চাপের মধ্যে যে তারা চুক্তি করতে মরিয়া। তিনি বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছি এবং তারা এখন আলোচনা করতে চাইছে, কিন্তু তাদের ভয়ের কারণ তাদের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে যেতে পারে।

    তবে তেহরান এই দাবিগুলো সরাসরি খারিজ করেছে। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, আপনারা কি এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছেন যে নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলেন? আমরা আগেই বলেছি, আমাদের মতো মানুষ আপনার সঙ্গে কোনো চুক্তি করবে না। এখন নয়, ভবিষ্যতে নয়।

    মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানসহ কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানে একটি ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন কমানো এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো শর্ত থাকা বলা হচ্ছে।

    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, তেহরান মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব পাঁচ দফা পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, সংগৃহীত প্রস্তাবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে যুদ্ধে সমাপ্তি ইরানের শর্তে হবে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে দাবিটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তুলে ধরার চেষ্টা চলছে এবং দুই পক্ষের বক্তব্যে তীব্র পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। অনাগত সময়ে কীভাবে কূটনৈতিক আলোচনা এগোবে এবং এলাকার স্থিতিশীলতায় এর প্রভাব কী হবে, তা আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ছে।

  • খুলনায় ছিনতাই চলাকালে এক ছিনতাইকারীর গুলিতে অপর ছিনতাইকারী নিহত

    খুলনায় ছিনতাই চলাকালে এক ছিনতাইকারীর গুলিতে অপর ছিনতাইকারী নিহত

    খুলনায় ছিনতাইয়ের সময় একজন ছিনতাইকারীর গুলিতে অপর এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার স্টিমার ঘাট সংলগ্ন পপুলার জুট মিল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুরের দেয়াড়া এলাকার মোবাইল রিচার্জ ও মুদি ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম (২৮) সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেয়াড়া স্টিমার ঘাটের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তাকে থামিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

    বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলির শব্দ করে। গুলিতে তাদের নিজ দলের এক সদস্য সাগর গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে বাকিরা পালিয়ে যায়।

    স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সাগরকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাগরের বাড়ি দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া এলাকায়।

    আহত ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, গুলিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে এবং আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন আছেন। এখনও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি; পুলিশ ঘটনায় জড়িত আসামিদের ধরতে কাজ করছে।

  • খুলনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত

    খুলনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত

    মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনায় বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শতকরা নম্বর শ্রদ্ধা-ভঙ্গিমায় শহরজুড়ে জাতীয় অনুভূতি ঝুঁকে পড়েন সাধারণ মানুষ부터 প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো পর্যন্ত।

    সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় উৎসবের। এ সময় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। সরকারি, আধাসরকারি, স্বশাসিত ও বেসরকারি ভবনগুলো জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নেয়া হয় এবং শহরের প্রধান সড়ক ও দিগন্তরেখা জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়।

    গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজনেও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপারসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আনসার-ভিডিপি, কেডিএ, নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। একই স্থানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য বাহিনীর কুচকাওয়াজ ও সমবেত মর্যাদাপূর্ণ প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উপস্থিতি ও কুচকাওয়াজকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি, কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    নগর ভবনে কেসিসি আয়োজিত শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

    খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও পিআইডির উদ্যোগে শহিদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জাতির সূর্য সন্তান’ বলে অভিহিত করে তাদের ত্যাগ ও আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করছি, সরকারের দোরগোড়ায় তাদের সবসময় সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

    জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে আয়োজনিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তফায়েল আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহানগর ও জেলা ইউনিটের নেতারা এবং শহিদ সাকিব রায়হানের মাতাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    দিবসটি উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন সিনেমা হল এবং উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র এবং অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হয়। জাতির শান্তি ও অগ্রগতির জন্য মসজিদে, মন্দিরে, গীর্জায় ও অন্যান্য পূজা স্থানে বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

    বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নৌবাহিনীর জাহাজ সাধারণ জনতার দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল ও কাবাডি) অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সকল পার্ক ও বিভাগীয় জাদুঘর শিশুদের জন্য বিনামূল্যে খোলা রাখা হয়।

    প্রতিদিনের মতো খুলনা বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে এবং স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের মাধ্যমে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নানা কর্মসূচি দিয়ে দিবসটি পালনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে দেশের স্বাধীনতার শিক্ষা ও স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত রেখেছে।

  • রাজস্থান বিক্রি থেকে ওয়ার্নের পরিবার পাচ্ছে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা

    রাজস্থান বিক্রি থেকে ওয়ার্নের পরিবার পাচ্ছে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা

    ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রথম মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন রাজস্থান রয়্যালস বিক্রির পর শেন ওয়ার্নের পরিবার পেয়েছে বড় আর্থিক সুবিধা — প্রায় ৪৫০–৪৬০ কোটি টাকা। আইপিএলের প্রথম সিজনে রাজস্থানের অধিনায়ক ও দলের ক্রিকেট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ন তাঁর চুক্তিতে একটি বিশেষ শর্ত রেখেছিলেন: প্রতি মৌসুমে রাজস্থানের হয়ে খেলায় ০.৭৫ শতাংশ মালিকানা পাবেন তিনি। ওয়ার্ন রাজস্থানের হয়ে মোট চারটি মৌসুম খেলায় তাঁর শেয়ার দাঁড়ায় ৩ শতাংশ।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক কনসোর্টিয়ামের কাছে রাজস্থান প্রায় ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ১৫ হাজার ২৯০ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওয়ার্নের ৩ শতাংশ শেয়ারের বর্তমান মূল্য আনুমানিক ৪৫০ থেকে ৪৬০ কোটি টাকার মতো। ওয়ার্নের পরিবার চাইলে এই শেয়ার আইপিএলের চলমান মৌসুম শেষ হওয়ার পরে বিক্রি করে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন, তবে তার আগে ভারতের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা বিসিসিআইয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

    শেন ওয়ার্ন ২০২২ সালের ৪ মার্চ থাইল্যান্ডে হৃদরোগে মারা যান। তাঁর দেশের বাইরে থাকা এই সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ ভাবনায় নেওয়া চুক্তিগুলোই এমন আর্থিক নিরাপত্তার পথ খুলে দিয়েছে — যা মাঠের বাইরে তাঁর দূরদর্শিতারই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে রাজস্থান দলটি তখনকার এমার্জিং মিডিয়া গ্রুপের অধীনে মাত্র ৬৭ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়েছিল; সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন মনোজ বাদালে।

  • পদ্মা বাসডুবিতে নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করেছেন সাকিব ও তামিম

    পদ্মা বাসডুবিতে নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করেছেন সাকিব ও তামিম

    পদ্মা নদীতে ঘটে যাওয়া বাসডুবির ঘটনায় পুরো দেশ শোকাহত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আহাজারি ও মরদেহ উদ্ধারের করুণ দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে—স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন এই দুর্ঘটনার ছবি অনেকের টাইমলাইনেই দেখা যাচ্ছে। শোকের ছায়ায় দেশটির ক্রিকেটাররাও নীরব নন।

    সাখিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, লিটন দাসসহ বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার সামাজিক যোগাযোগমाध্যামে হতাহতদের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তামিম গতকাল নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ফেরি ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটির ডুবে যাওয়ার ছবি পোস্ট করেছেন। ছবির সাথে তিনি লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক মানুষকে দোয়ায় রেখেছি। আল্লাহ তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও আরোগ্য দান করুন।’ পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা শোকাহত ও ২০২৬ সালের ২৫ মার্চকে স্মরণ করব।’

    সাকিব আল হাসিানও ফেসবুকে দুর্ঘটনাটিকে মর্মান্তিক হিসেবে বর্ণনা করে লিখেছেন, ‘গতকালের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীরভাবে আঘাত পেয়েছি। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধার হোক—এই প্রার্থনা রইল। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন।’

    নুরুল হাসান সোহানও রাতে ফেসবুকে শোকপ্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ফেরিঘাটে আজকের মর্মান্তিক ঘটনাটি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই পথ দিয়েই আমি চলাচল করি—আজ হয়ত আমি সেখানে থাকতে পারতাম। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন। যারা স্বজন হারিয়েছেন, আল্লাহ তাদের শোক সহ্য করার শক্তি দিন। আমিন।’

    সংকটের ধারাবাহিকতায় লিটন দাসও সামাজিক মাধ্যমে দেশজুড়ে ঘটে চলা দুর্ঘটনার খবর দেখে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এত মানুষের প্রাণহানি ও কষ্ট সত্যিই হৃদয়বিদারক। তাদের পরিবারের মানুষগুলো কী অসহনীয় যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছে, তা কল্পনাও করা যায় না—সর্বশক্তিমানর কাছে প্রার্থনা করছি।’ অন্যদিকে রুবেল প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কেন এত দুর্ঘটনা আমাদের দেশে? ঈদে কেন শোক আমাদের সাথে মিশে যায়—এটা কি আমাদের ভুল, নাকি নিয়তির পরীক্ষা, নাকি আমাদেরই অসচেতনতা?’

    দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট—কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস গতকাল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পল্টুন ছিঁড়ে নদীতে পড়ে যায়। ফেরিতে ওঠার আগে অনেকে বাস থেকে নেমে পড়ায় পরিবারের সঙ্গে থাকা কিছু মানুষ বেঁচে গেছেন; কেউ কেউ সাঁতরে তীরে উঠেছেন। তবু অনেকেই তাদের মা, বাবা, ভাই বা বোনকে হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অভিযান চলছে—এখন পর্যন্ত ২৩টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে এবং নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার কাজ চলছে।

    দেশজুড়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় রেল ও লঞ্চ দুর্ঘটনা মিলিয়ে ছুটির দিনে প্রত্যাশিত আনন্দ অনেক পরিবারের জন্য শোকেই মেশে গেছে—হতাহতদের স্মরণে মানুষ দোয়া ও সমবেদনা জানাচ্ছে এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ ও তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

  • শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ সিনেমার দৃশ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ছে

    শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ সিনেমার দৃশ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ছে

    প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী জটিলতা কাটার আগেই নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে শাকিব খান অভিনীত আলোচিত সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’-র সঙ্গে। হলগুলোতে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে প্রদর্শনী ব্যাহত হওয়ার পর এবার ছবির বিভিন্ন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    দেশের কয়েকটি হলে সার্ভারের সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়মতো সিনেমা শুরু করা সম্ভব হয়নি। টিকিট কেটে উপস্থিত দর্শকের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়; কোথাও কোথাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    এই অবস্থা কাটার আগেই ফেসবুকসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটির একাধিক ক্লিপ দেখা যাচ্ছে। যে ভিডিওগুলো বেশি ছড়িয়ে পড়ছে তা মূলত প্রেক্ষাগৃহে বসে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ‘হল প্রিন্ট’—এগুলো পাইরেসির সম্ভাবনা অনেক বাড়ায় এবং ছবির আর্থিক ও নানান প্রতিকূল প্রভাব বাড়াতে পারে।

    পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদের সিনেমাটি মুক্তির আগে থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ছিল। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ছবিটি নব্বইয়ের দশকের ঢাকার আলোচিত গ্যাংস্টার কালা জাহাঙ্গীরের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। মেজবাহ উদ্দিন সুমনের গল্প ও চিত্রনাট্যে নির্মিত এই ছবিতে আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং তৎকালীন রাজনীতির জটিল সম্পর্ক উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে শাকিব খান কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

    প্রযোজক শিরিন সুলতানার ব্যানারে নির্মিত এই বড় বাজেটের ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে প্রথমবারের মতো দেখা গেছে তাসনিয়া ফারিণকে। পাশাপাশি জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, ইন্তেখাব দিনার, রাশেদ মামুন অপু ও ড. এজাজ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন।

    এই পরিস্থিতি কবে মিটবে এবং প্রেক্ষাগৃহ প্রদর্শন স্বাভাবিক হবে কি না তা নিয়ে দর্শক ও নির্মাণশিল্পী—উভয়েরই সংশয় আছে। ফলে ছবির স্ক্রিনিং ও কপিরাইট সুরক্ষায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর বিশেষ নজর থাকবে।

  • বিয়ের আট মাসেই স্বামীর প্রথম প্রতারণা ধরা পড়েছিল: মৌসুমী হামিদ

    বিয়ের আট মাসেই স্বামীর প্রথম প্রতারণা ধরা পড়েছিল: মৌসুমী হামিদ

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ তাঁর সংসার ভাঙার খবর নিজেই নিশ্চিত করেছেন। বছর দু’য়েকের পরিচয়ের পর লেখক–নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানা’র সঙ্গে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ে করেছিলেন তিনি। কিন্তু দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

    প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিয়ে মৌন ছিলেন মৌসুমী; পরে পরিস্থিতি সামনে আসে এবং তিনি খুলে বলেন—বিয়ের আট মাস কেটে যাওয়ার পরই স্বামীর প্রথম প্রতারণা তাঁর কাছে ধরা পড়ে। এরপরও কয়েকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটলে তিনি সংসারের স্বার্থে তা উপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনার প্রমাণ হাতে পাওয়ায় আর সহ্য করা সম্ভব হয়নি। তাঁর কথায়, “বিয়ের আট মাসের মাথায় প্রথম প্রতারণা করে। এরপর আরও কয়েকবার প্রতারণা ধরা পড়ে। সংসারের কথা ভেবে আমি ওগুলো এড়িয়ে যাই। কিন্তু এবারের বিষয়টা বেশ সিরিয়াস, প্রমাণসহ ধরা পড়েছে। তাই এবার আর আমার পক্ষে মানা সম্ভব ছিল না। আমার মনে হয়েছে, যথেষ্ট। আর নয়। এর চেয়ে বরং আলাদা থাকাই ভালো।”

    অন্যদিকে নিজে সম্পর্কে ওঠা ভাঙনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রানা। তিনি বলেন, ‘‘মাস চারেক ধরে আমরা আলাদা থাকছি। একসঙ্গে থাকতে পারছি না, তাই আলাদা আছি। আপাতত এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।’’

    দাম্পত্য জীবনে আপাত বনিবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি ও মৌসুমী আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন—এ কথা পরিবারের সদস্যদের কথোপকথনের পর নিশ্চিত হয়। বিবাহের পর থেকে তাদের সম্পর্ক এবং সময় সম্পর্কে বিভিন্ন বিতর্ক ওঠে।

    মৌসুমী তার অভিনয়জীবন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুরু করেন। ছোটপর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ পরিচিতি পান, পাশাপাশি কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজ এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অভিনয় করে সমাদৃত হন।

  • স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর সাড়ে ছয়টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    দুই নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল অর্পণ করেন এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। kurze সময়ে তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন উপস্থাপন করে। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা সকাল ৭টার মধ্যে ঢাকা ফেরার পথে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

    এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

    মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে তিনি জাতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে ২৬ মার্চকে দেশের ইতিহাসে গৌরবময় ও ঐতিহাসিক একটি দিন হিসেবে স্মরণ করেছেন। তিনি দেশবরেণ্য শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা ও বোনদের স্মরণ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসী বাংলাদেশীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না এবং গতকালই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এই কথা বলেন বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসই শিক্ষণীয় উদাহরণ — বহু শক্তিশালী শাসক ও সরকার بوده, কিন্তু যখন তারা জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, জনভবিষ্যৎকে উপেক্ষা করলেই শাসন স্থায়ী থাকে না।

    তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের উদ্ভবের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন এনেছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরেও যদি জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হয়, শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা জনগণের শক্তির সামনে পিছু হটতেই বাধ্য হবে—এমনটাই তাঁর আশা ও সতর্কতা।

    আসিফ আরও বলেন, এখনও যদি গণরায় ও সম্প্রতি নেয়া গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার সামনে এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন এবং সেই ভোটের মানে ও ঐতিহাসিক ত্যাগকে অগ্রাহ্য করা যাবে না।

    তিনি বলেন, ‘‘এতো রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদদের পরিবার, বাবা-মা ও আহত সহযোদ্ধারা দেখেছেন, সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জানিয়েছেন, তারা রাস্তায় নামতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।’’

    শেষে তিনি সকলকে জনগণের পাশে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। যদি জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়, আমাদেরকে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবার মাঠে নামতেই হতে পারে।’’