বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফ একটি উষ্ণ ও আন্তরিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি খালেদা জিয়ার অপ্রত্যাশিত অসুস্থতার কথা জানতে পেরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের এই রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ, সরকার এবং ব্যক্তিগতভাবে তার পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য আন্তরিক প্রার্থনা ও শুভকামনা পাঠাচ্ছেন।
Blog
-

হাসপাতালে ভিড় না করে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়ার আহবান বিএনপি’র
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে অন্যান্য রোগীদের এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। রিজভী বলেন, অনেকের মধ্যে আবেগে বিভোর হয়ে দ্রুত দেখতে স্বেচ্ছায় এই ভিড় করছে, যা অন্য রোগীদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন, যেন তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং হাসপাতালের আশপাশে ভিড় কমিয়ে দেন। শনিবার এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী এই আহবান জানান। এ ছাড়াও জানান, খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপি’র পক্ষ থেকেও এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে বেশি ভিড় না হয় আর চিকিৎসা কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে চলতে পারে।
-

দেশে ফিরতে তারেক রহমানের বাধা কোথায়?
দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরবেন বলে অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তারেক রহমানের। গত বছর ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই এই খবর প্রবলভাবে শোনা যাচ্ছিল। বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা একাধিকবার বলছেন, তিনি শিগগিরই দেশের মাটিতে ফিরে আসবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে।
তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খুব কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত খবর পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, তার মায়ের অবস্থা খুবই সংকটজনক—বেগম খালেদা জিয়া পঞ্চম দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এর মাঝেও তারেক রহমান ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়,’ যা বেশ আলোচনার ঝড় তুলেছে। কেন তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না এবং এই সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) দিনভর রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার মধ্যে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসেই সব ব্যাখ্যা রয়েছে। এ বিষয়ে আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।’ পাশাপাশি, তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসের কয়েক ঘণ্টা পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে জানিয়ে দেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কোনো বাধা বা আপত্তি নেই।’
অতীতে, অক্টোবরের প্রথমদিকে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘দ্রুতই দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেবেন’। তবে, নভেম্বরের শেষের খুব কাছাকাছি আসার আগে তিনি নিজেই জানান, এই সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে নয়।
বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘দলের অনেক বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়ে তার দেশে ফেরার বিলম্ব হচ্ছে।’ তবে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তিনি অবশ্যই দেশে ফিরবেন এমন আভাসও রয়েছে নেতাদের বক্তব্যে।
প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে তিনি জেল খেটেছিলেন। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে চলে যান। বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা বলেছেন, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে নানা ধরনের রাজনৈতিক এবং আইনি বাধা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকটাই influence করে থাকতে পারে কিছু প্রভাবশালী দেশের আপত্তি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, তারেক রহমানের এই ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে বোঝা যায়, মূলত দেশের পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির বিষয়টি তার দেশে ফেরার পথে বড় বাধা। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বড়ই নির্ভর করছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ওপর।’
অন্যদিকে, বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশে বড় দুটি দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য একটি অগণতান্ত্রিক চক্রান্ত চলমান।’ এই মন্তব্যের পাশাপাশি তারেক রহমানের দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ সম্পর্কিত আলোচনা আবারও জোরদার হয়েছে।
বিরোধী দুই পরিবারের শাসনের উদ্দেশ্যে, অনেকের কাছে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ পরিচিত, যেখানে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে, মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এই অঙ্গীকার বা পরিকল্পনা এখনো শেষ হয়নি, আর তারেক রহমানের দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা কি ‘মাইনাস ফোর’ তে গড়াবে, সেটাই এখন সময়ই বলবে।
অন্যদিকে, কিছু নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল কার্যকর হলে কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন এবং দলের নেতৃত্ব হবেন। বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকলে, বিএনপি নির্বাচনে জিতলে, তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন—এ ধারণাও দুর্বারভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
-

ক্ষমতায় গেলে আন্দোলন প্রয়োজন হবে না: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যদি ক্ষমতায় আসা সম্ভব হয়, তাহলে আর আন্দোলনের প্রয়োজন পড়বে না। বরং, সরকার সরাসরি নাগরিকদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেবে। এই মন্তব্য তিনি রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে করেন, যেখানে ‘প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা হয়।
জামায়াতের আমির বলেন, অতীতের সরকারগুলো শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করেছ না। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা এক ভাষায় কথা বলি, এক জাতির অংশ; আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি দেশের মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, খারাপ রাজনীতিবিদদের কারণে অনেক সময় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তবে, তিনি আশ্বাস দেন, আমরা মূল ধারণা ধরে দেশের উন্নয়নে টেকসই উদ্যোগ নেবো।
শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাব রয়েছে। তিনি জানান, সন্তানের পড়াশোনার বিষয়টি মা-বাবাদের নয়, বরং শিক্ষকদের কাছে যাওয়া উচিত। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিটি শিশুকে সম্পদে রূপান্তর করা।
বিচারব্যবস্থার উপর মত প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ন্যায়বিচার পেতে অনেক সময় টাকা দিতে হয়, যা বদলে যেতে হবে।
আমির আরও বলেন, ‘সরকারে গেলে, কোনো নাগরিককেই তার দাবির জন্য দফতর দফতরে ঘুরতে হবে না। আন্দোলন ছাড়াই সরকার সরাসরি সেবা দিতে সক্ষম হবে।’ এছাড়াও, তিনি জানান, জামায়াতের উদ্যোগে বর্তমানে ১০০টি ক্লিনিকে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হচ্ছে, যা দেশের অগ্রগামী উদ্যোগের একটি।
-

বিএনপি বিজয় মশাল রোড শো ও মহাসমাবেশের ঘোষণা
দেশব্যাপী সাড়ম্বরে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে তারা ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় একটি বিশাল মহাসমাবেশের পরিকল্পনা করেছে। শনিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ ও জনগণের জন্য বিজয় অর্জনের এই অনন্দময় দিবসটিকে আরও রঙিন ও অর্থবহ করে তোলার জন্য বিএনপি এবারও সারাদেশে নানা ধরনের কার্যক্রম চালাবে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, বিজয় মশাল রোড শো এবং মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে, ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’ আয়োজন করা হবে৷
তিনি আরো বলেন, ২০২৫ সালের মহান বিজয় দিবসের আগত এই মুহূর্তে আমি সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এই দিবস আমাদের জন্য গৌরবের মুহূর্ত, যা আমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির স্বপ্নের বাস্তবায়ন। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকলেও, স্বাধীনতার জন্য শহীদদের আত্মত্যাগের ফলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের স্বক্ষমতা ও ইতিহাসকে স্মরণ করে নতুন আরেকটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।
বিজয় দিবসের শুরু থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক স্থানকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবারের বিজয় মাসের কর্মসূচি শুরু করবে। ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের কালুর ঘাট থেকে বিজয় মশাল যাত্রা শুরু হবে, যা চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে সমাপ্ত হবে। ঐতিহাসিক এই মশাল বহন করবেন এক মুক্তিযোদ্ধা, যার মধ্যে একজন ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যজন ২০১৪ সালে যোদ্ধা। এই মশাল র্যালির মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার পাশাপাশি বর্তমান পাকিস্তানবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে এই বিজয় মশাল রোড শো কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি অঞ্চলে একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাই যোদ্ধা এই মশাল বহন করবেন। এছাড়া, রোড শো চলাকালে ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, জাতীয় সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধের গান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হবে। নেতাদের বক্তব্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি তাদের ৩১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরবে, যার মূলテーマ হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
সর্বশেষ, এই বিজয় মশাল রোড শো ঢাকায় এসে শেষ হবে ১৬ ডিসেম্বর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিশাল মহাসমাবেশের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি বিজয় মাস জুড়ে আরও নানা কর্মসূচি পালন হবে।
-

কুড়িগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিহত ৩
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নে জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে জেলার নাগেশ্বরী পৌর এলাকার হাইলাটারী গ্রামে এই মারামারি সংঘটিত হয়।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের একজনের নাম আলতাফ এবং অপরজনের নাম মানিক। তবে নারীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেছে এবং অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তাধীন এবং স্থানীয় প্রশাসন পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
-

তিন দিন পর খালেদা জিয়া কথা বললেন, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত তিন দিন ধরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তার শারীরিক সক্ষমতা বিদেশ সফর করার মতো নয়।
গত বুধবার থেকে খালেদা জিয়া খুব বেশি সাড়া না দিলেও, শনিবার তিনি অল্প কিছু কথা বলেছেন। ওই দিন সকাল দিকে তিনি সিসিইউর শয্যার পাশে থাকা তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের সঙ্গে সামান্য কথাবার্তা বলেন।
চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাঁর কিডনির নিয়মিত ডায়ালাইসিস চালু রয়েছে। শনিবার রাতেও একটি ডায়ালাইসিস সম্পন্ন হয়, যার ফলে তার অবস্থায় কিছুটা স্থিতিশীলতা আসে।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জানায়, আগামী কয়েক দিনের জন্য তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কিডনির কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা না আসে, তবে সার্বিক উন্নতি কঠিন হবে।
২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বোর্ডের এক সদস্য জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তিনি হাত-পা নাড়াতে পারছেন এবং শনিবার তিনি অল্প কিছু কথা বলেছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতির জন্য ভিসা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, তিনি עדיין ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় আছেন।
একটি সূত্র জানায়, সম্ভবত সোমবার চীনের একটি চিকিৎসক দল ঢাকায় আসতে পারেন। তারা খালেদা জিয়ার অবস্থা পর্যালোচনা করবেন।
মেডিকেল বোর্ডের আরও এক চিকিৎসক জানান, তার হৃদযন্ত্রে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং অগ্ন্যাশয়ের তীব্র প্রদাহ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, তিনি এখন স্থিতিশীল থাকলেও সব ধরনের শঙ্কা দূর করা যায়নি।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, গত তিন দিন ধরে তার অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। তাকে সিসিইউতেই রাখা হয়েছে।
খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাকে ন্যূনতম নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। তার পুরোনো কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের জটিলতাগুলোর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা আমেরিকার জনস হপকিনস হাসপাতালের চিকিৎসক, লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ সৌদি আরব ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পরিবার তার লন্ডন বা সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। চীনা চিকিৎসকদেরও প্রস্তাব এসেছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে কুয়েত ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার শারীরিক অবস্থা এবং মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হবে।
-

৮ ডিসেম্বর ফজলুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে আদালত অবমাননার অভিযোগে তলব করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৮ ডিসেম্বর বিশিষ্ট এই নেতা নিজে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তার মন্তব্যের প্রতি জবাবদিহি করবেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) এই সিদ্ধান্ত দেন।
আজকের শুনানির সময়, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য মানা যায় না,’ যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, ফজলুর রহমান কি তার দাবি উপস্থাপন করার জন্য ট্রাইব্যুনালে ওকালতির লাইসেন্স ধারণ করেন কি না।
এ সময়ের আগের দিন, ২৬ নভেম্বর, আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোNaoয়ার হুসাইন তামীম। তারা বলেন, একটি টেলিভিশন টক শোতে ফজলুর রহমান বলেছেন, তিনি এই ট্রাইব্যুনালকে মানেন না। তার যুক্তি, এই ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য। তিনি বলেন, এই ট্রাইব্যোনালে অন্য কোনও বিচার হওয়া উচিত নয়।
প্রসিকিউটর আরও জানিয়েছেন, টক শোতে ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘এই কোর্টের গঠনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আমি জানি, এই কোর্টে বিচার হবার কোনো সুযোগ নেই। আমি সন্দেহ করি, এই বিচারকার্য পরিচালনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য এই কোর্টকে ব্যবহার করছেন।’ এই বক্তব্যগুলো আদালতের নজরে আসার পর, আদালত ফজলুর রহমানকে তলব করে আগামী ৮ ডিসেম্বর হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
-

পোস্টাল ভোটে প্রবাসী নিবন্ধন ছাড়াল ৯৩ হাজার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা মোট ৯৩,৩৪১ হাজারের বেশি ভোটার অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।
-

শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে গণধোলাই, আটক দুই সহযোগী
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ বুনিয়া সোহেলকে ক্যাম্পের সকল বাসিন্দা গণধোলাই দিয়েছে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। এই সময় আরও দুইজনকে, তাদের নাম নয়ন (৩০) এবং রাব্বি (২৮), আটক করা হয়। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র বিগ্রেডের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সেনাসূত্রে জানানো হয়, শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শের-ই-বাংলা আর্মি ক্যাম্পের কাছ থেকে খবর আসে যে, জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে চরম গণপিটুনি দেওয়া হচ্ছে। এই খবর পেয়ে তিনটি সেনা টহল দল ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই হাসপাতাল ও আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখা যায় সোহেলের দুই সহযোগী নয়ন ও রাব্বি। সেনারা তাদের শনাক্ত করে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১টার দিকে ছয়টি সেনা টহল দল মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তারা দুটি মার্কিন তৈরি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন কর্মকর্তা জানান, বুনিয়া সোহেলের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় প্রায় ৩৮ থেকে ৪০টি মামলা রয়েছে। গত এক বছরে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় তার গ্যাং দ্বারা ৭ থেকে ৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হওয়ার পর তার গ্যাং তার দমন-পীড়নের প্রতিশোধ নিতে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিযোগ ওঠে, বুনিয়া সোহেলকে আহত করার ঘটনায় তার দুই সহযোগী অস্ত্রশস্ত্র জোগাড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে সেনাদের তৎপরতায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের শেষে, হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় থাকা অবস্থায় বুনিয়া সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এছাড়া আটক দুই সহযোগী ও উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে—আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য।
