Blog

  • আদালতে অঝোরে কাঁদলেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম

    আদালতে অঝোরে কাঁদলেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রীয় গুলশান থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে সোমবার (৩০ মার্চ) আদালতে তোলা হলে তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে। পুলিশ তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করলে হাজতখানায় রাখা হয়।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ নথি বলার বদলে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে শুনানির জন্য বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তাকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে তোলা হয়। কড়াকড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তাকে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলে তিনি কাঁদতে থাকেন; তাঁর আইনজীবীরা তাকে শান্ত থাকতে বলতেন এবং সান্ত্বনা দিতেন।

    এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী ফাহিমকে আটক করে এবং পরে শাহ আলী থানার পুলিশকে সোপর্দ করেন। পুলিশ তাঁকে মেজর পরবর্তীভাবে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে।

    মামলায় বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুর সুবাস্তু মার্কেটের সামনে হাজারো ছাত্র-জনতা মিছিল করছিল। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী তৎকালীন সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলির অভিযোগ আছে।

    অভিযোগে বলা হয়, ওই ঘটনায় মো. ইমরান (৩০) কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আন্দোলনকারীদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে স্লোগান দেন এবং অজ্ঞাত আসামিদের গুলিতে গুরুতরভাবে আহত হন। পরে তাঁকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

    এই ঘটনায় তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের এপ্রিলে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা ও গ্রেপ্তারের পরের কার্যক্রম আদালতে চলছে এবং সংশ্লিষ্টরা মামলার পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো

    রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় — তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

    সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। ওই দিন শওকত মাহমুদ আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোরশেদ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

    পুলিশি আবেদন ও মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। একই বছরের ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) অডিটরিয়ামে ওই সংগঠনের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনায় পুলিশ দেখেছে যে, সেখানে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তি দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিল ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এ ঘটনায় এজাহারে ১৬ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৭০–৮০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ আছে। গোয়েন্দা ধাঁচার রমনা বিভাগের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ‘মঞ্চ ৭১’ ব্যানারের আড়ালে কিছু লোক রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

    প্রাথমিক তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যে शওকত মাহমুদ ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তার নির্দেশে তার দলের লোকজন একত্র হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক সভা চালিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচারের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

    মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে যে, ‘মঞ্চ ৭১’ আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষার ভাস্কর্যে আত্মপ্রকাশ করলেও তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু অংশগ্রহণকারী কার্যতায় স্বাধীনতায় সঙ্ঘাত ও বিবৃতি দিয়ে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অস্ত্র জোরে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছিল।

    আকস্মিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম বেতারের মাধ্যমে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাওয়ার নির্দেশ পান। ঘটনাস্থলে পৌছার পনেরো মিনিট পরে তিনি দেখতে পান অনুষ্ঠানস্থলে কিছু লোক একটি ব্যক্তিকে ঘিরে ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং একজন বক্তা মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন। বাদী ওই বক্তাকে চিনতে পেরে জানান, তিনি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিতরা জানায়, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’ ব্যানারকে পুঁজি করে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের উসকানি দিচ্ছিলেন। পুলিশ অভিযোগে উল্লেখ করেছে যে তিনি এবং অন্য অজ্ঞাতনামা সমর্থকরা পরস্পর সহায়তায় দেশের অস্থিতিশীলতা ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অপরাধ করেছেন।

    গত বছরের ২৮ আগস্ট ডিআরইউতে মঞ্চ ৭১-এর গোলটেবিল অনুষ্ঠান থেকে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে翌দিন ২৯ আগস্ট শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

    মামলার নামজাদা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খান, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।

    পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, মামলার সব দিক খতিয়ে দেখে ন্যায়সঙ্গত তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।

  • এনসিপি ঘোষণা করল পাঁচ সিটির মেয়র প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করল পাঁচ সিটির মেয়র প্রার্থী

    চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজধানীর দুইটি ঢাকাসহ মোট পাঁচটি সিটি করপোরেশনের জন্য দলীয় মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে বাংলামোটরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    এনসিপি যে পাঁচ জনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে, তারা হচ্ছেন: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব; কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম; সিলেট সিটি করপোরেশনে সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল; এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনে রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী।

    এনসিপি জানায়, বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনের প্রার্থী এপ্রিলের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে। партийটির দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে করা হবে বলে সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে; প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সরকার এ মুহূর্তে নিষ্ক্রিয় বলে দলটি মন্তব্য করেছে। দলটি আরও বলেছে যে বেশ কিছু সিটি করপোরেশনে সরকার প্রশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনকে পার্টি আঙ্গিকে নিয়ে যাচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রশাসকরা প্রয়োজনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অংশ নেওয়া উচিত নয় এবং নির্বাচন কোনো দলীয় প্রতীকে হওয়া উচিত নয়; পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে সমস্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মনোনীত ওই পাঁচ মেয়রপ্রার্থীর সঙ্গে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে ইতিহাস জনগণকেই প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে ইতিহাস জনগণকেই প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, সরকার যদি গণরায়কে উপেক্ষা করে এগোতে চায় তবে জনগণ তা মেনে নেবে না এবং ইতিহাসের ধারায় তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করার পরে এসব কথা বলেন।

    সংক্ষিপ্তভাবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে বাংলাদেশের ইতিহাসে শক্তিশালী বলে গণ্য বিভিন্ন শাসনকেও যদি জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গেলে শেষমেষ ইতিহাস থেকে মুছে যায়। ‘‘আপনারা দেখেছেন—অনেকে ছিল মহাপরাক্রমশালী, অনেক শক্তিশালী, তবু যখনই তারা গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তারা ইতিহাসের পাতায় আর নেই,’’ তিনি বলেন।

    আসিফ মাহমুদ ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হওয়া এবং ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের উদাহরণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের দমনপীড়নের পরও যখন জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন গড়ার চেষ্টা করা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত তা চলেনি—জনগণের আন্দোলন সেটাই প্রতিহত করেছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘এখনও যদি গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং তা উপেক্ষা করে সরকার এগোতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’’ তিনি গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া উল্লেখ করে জানান, সেই ভোটের অর্থ ও জনমতকে সন্মান করতে হবে।

    ‘‘অতীতের রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার ও যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদদের পরিবার, বাবা-মা এবং আহত সহযোদ্ধারা দেখেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি জনরায় বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে যে ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জানিয়েছে—তারা রাস্তায় নামার বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভাববে না,’’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন।

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ মাহমুদ সর্বস্তরের নেতাদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনারা জনগণের পক্ষে আসুন—তাই হলে আমরা সবাই একসঙ্গে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। যদি জনগণের বিপক্ষে যান, তাহলে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবার মাঠে নামতেই হতে পারে।’’

  • প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: মার্চের ২৮ দিনে দেশে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

    প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: মার্চের ২৮ দিনে দেশে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

    চলতি মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ে নতুন উচ্চতা ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ (প্রায় ৩.৩৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান।

    এর আগের একক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল একইভাবে মার্চে—৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। কিন্তু চলতি বছরের মার্চের প্রথম ২৮ দিনেই তা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    ব্যালেন্স শীট বিশ্লেষক ও ব্যাংকারদের মতে, রমজান ও ঈদ-উৎসবকে সামনে রেখে প্রতি বছরই এই সময়ে প্রবাসী আয় বাড়ে। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরায়েল–ইরান উত্তেজনার কারণে অনেক প্রবাসী নিরাপত্তাহীনতা বা অনিশ্চয়তার মধ্যেই সঞ্চিত অর্থ দেশ পাঠাতে থাকতে পারেন, যা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট রেমিট্যান্স হয়েছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার—এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮.৮০ শতাংশ বেশি। পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে ধরা পড়েছে।

    তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে যে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এটি প্রবাসী আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সংঘাত দ্রুত সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পতন ঘটতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যকে চাপ দিতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান দেখা গেছে—দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে; মধ্যপ্রাচ্যই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। সুতরাং ওই অঞ্চলের কোনো সংকট সরাসরি কর্মসংস্থান আর রেমিট্যান্স প্রবাহে 큰 প্রভাব ফেলতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থনীতিবিদরা বর্তমান প্রবণতা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নজরদারি করেই প্রয়োজনীয় নীতি-পরামর্শ এবং তদারকি অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

  • আলফালাহ ব্যাংক ব্যাংক এশিয়াকে বাংলাদেশি কার্যক্রম বিক্রি করছে — ৫৮০ কোটি টাকায় (প্রায় ৪৭.৫ মিলিয়ন ডলার)

    আলফালাহ ব্যাংক ব্যাংক এশিয়াকে বাংলাদেশি কার্যক্রম বিক্রি করছে — ৫৮০ কোটি টাকায় (প্রায় ৪৭.৫ মিলিয়ন ডলার)

    পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আলফালাহ লিমিটেড তাদের বাংলাদেশে থাকা ব্যবসা ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডকে বিক্রির প্রস্তাব শেয়ারধারীদের অনুমোদন পেয়েছে। ব্যাংকটির ৭৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই সিদ্ধান্ত জানানো হয় এবং সভার কার্যবিবরণী পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া হয়েছে।

    শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে আলফালাহ তাদের বাংলাদেশি কার্যক্রম ব্যাংক এশিয়ার কাছে হস্তান্তর করবে। লেনদেনের ভিত্তি মূল্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮০ কোটি টাকা, যা প্রায় ৪৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

    বিক্রয় মূল্য চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও নিয়ম অনুযায়ী একীভূতকরণের সময় কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) করা হতে পারে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটি স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং উভয় দেশের অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

    ব্যাংক এশিয়ার পরিচয় ও প্রসঙ্গ: ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক পরবর্তী সময়ে দেশীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যাংক অব নোভা স্কটিয়া এবং মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (এমসিবি)–এর বাংলাদেশ শাখা ক্রয়ে এগিয়ে এসেছে। ২০০১ সালে ব্যাংকটি স্থানীয়ভাবে স্কটিয়া ব্যাংকের কার্যক্রমও অধিগ্রহণ করেছিল।

    আলফালাহ ব্যাংক সম্পর্কে: পাকিস্তানের একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে আলফালাহ দেশের ২০০-এরও বেশি শহরে ১,০২৪টির বেশি শাখা পরিচালনা করে। এর আন্তর্জাতিক উপস্থিতি রয়েছে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

    চলতি বছরের শুরুতে আলফালাহ আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের (ডাইভেস্টমেন্ট) পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গজনফর ব্যাংককে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই (ডিউ ডিলিজেন্স) শুরু করার অনুমতি দিয়েছিলেন।

    এখনকার সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশি শাখাগুলো ব্যাংক এশিয়ার পরিচালনায় যাবে এবং লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সব নিয়মকানুন ও অনুমোদন পূরণ করতে হবে।

    সূত্র: আজকের পত্রিকা

  • ইরাকে সমর্থনের জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানালেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

    ইরাকে সমর্থনের জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানালেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

    লিখিত এক বার্তায় ইরাকের জনগণকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমর্থন জানানোর জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

    ইরানি সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যম রোববার (২৯ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে; এ প্রতিবেদনে ব্যবহার করা সূত্র হিসেবে এএফপিকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি কেও দেখানো হয়েছে।

    খামেনির প্রকাশ্যে না থাকার কারণে তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে তীব্র জল্পনা গেল সপ্তাহ থেকে বজায় আছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও কয়েকজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি বিমান হামলায় আহত হয়েছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এ খবর পুরোপুরি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি।

    ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, খামেনি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মোকাবিলায় স্পষ্ট অবস্থান নেয়া এবং তেহরানের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সংবাদটিতে বিশেষভাবে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইএসএনএ বলেছে, এই বার্তাটি প্রকাশের আগে বাগদাদের সাম্প্রতিক একটি বৈঠকে শিয়া দল ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাক এবং ইরানের বাগদাদে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের মধ্যে আলোচনাও হয়েছিল। তবে বার্তাটি কীভাবে পাঠানো হয় বা বিতর্কিত অনুপস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য শেয়ার করা হয়নি।

  • কুয়েতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানিশোধনাগারে হামলার অভিযোগ, এক ভারতীয় নিহত

    কুয়েতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানিশোধনাগারে হামলার অভিযোগ, এক ভারতীয় নিহত

    কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও তৎসংশ্লিষ্ট পানিশোধনাগারে হামলার দায় কেড়ে নিয়েছে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ — তাদের বরাতেই জানানো হয়েছে যে হারানো প্রাণের মধ্যে একজন ভারতীয় কর্মী রয়েছেন এবং স্থাপনার একটি ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি ইরানি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার সঙ্গে সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক টেকনিক্যাল ও জরুরি সাড়া দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই টিমগুলো কেন্দ্রের কার্যক্রম পুনরায় সচল রাখতে এবং অতিরিক্ত ক্ষতি রোধে কাজ করছে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনো ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত কিছু গণমাধ্যম কুয়েতি মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পানিশোধনাগারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে — এইসব তথ্য উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

    কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও সূত্র অনুযায়ী জানিয়েছে, রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তাদের আকাশে ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছিল; এসবের কিছু একটি সামরিক শিবিরে আঘাত করায় ১০ জন সেনা আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নির্দিষ্টভাবে কে দায়ী, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না — কুয়েতি কর্তৃপক্ষের দাবি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টগুলো অনুসারে ঘটনার তদন্ত ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে কুয়েতেও সামরিক ও অবকাঠামোগত হামলার ঘটনা ঘনীভূত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী একাডেমিক ও প্রশাসনিক মতবিনিময়

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী একাডেমিক ও প্রশাসনিক মতবিনিময়

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় ও পারোয়াজিত বিষয়ে আলোচনা করতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সভাটি সোমবার, ৩০ মার্চ বেলা ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, একাডেমিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজনীয় তাগিদ দেওয়া হয়।

    সভায় বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল-আওয়ালকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি সংক্রান্ত মুখ্য সমন্বয়ক পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য গান্ধর্ব অভিনন্দন জানানো হয়। এছাড়া প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রমে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলে।

    উপাচার্য সভায় জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধানে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বর্তমানে সবুজ পাতায় যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে আবাসন ব্যবস্থা নাটকীয়ভাবে উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।

    উপাচার্য সরকারের নির্দেশনার আলোকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস সময় মেনে চলা ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বানও জানান। তিনি কর্মানুষ্ঠান ও শৃঙ্খলা জোরদারের মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রমের মান ও গতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    সভায় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট, ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক এবং বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত থেকে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

    সভা শেষে উপস্থিতরা মিলিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য সমন্বয় ও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার সীমা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেন।

  • খুলনাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহরে পরিণত করতে হবে: কেসিসি প্রশাসক

    খুলনাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহরে পরিণত করতে হবে: কেসিসি প্রশাসক

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, খুলনা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশে পরিণত করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা না হলে মশা ও মশাবাহিত রোগের সমস্যা বাড়বে—এই চিন্তা থেকেই তারা কাজ শুরু করেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতার পথে বাধা সৃষ্টি করছে এমন বিষয়গুলো সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব বাধা দূর করা ছাড়া জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান অসম্ভব হবে।

    কেসিসি প্রশাসক রোববার বিকেলে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে ‘‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবিতা’’ শীর্ষক সভায় এসব কথা বলেন। খুলনা পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ধারণাপত্রটি তৈরি করেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মোঃ ওয়াসিউল ইসলাম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ওই ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।

    সভায় বলা হয় পানি, বাতাস, শব্দ ও পলিথিন দূষণসহ পরিবেশগত দূষণের সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরাসরি জড়িত। বিশেষ করে পলিথিন ড্রেন ও নালায় আটকে গেলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মহানগরীর সংলগ্ন ২২টি খাল থাকলেও দখলবিড়ম্বনা ও নানা কারণে নিষ্কাশন কার্যক্রম সম্পূর্ণ কার্যকর হচ্ছে না।

    স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি উল্লেখ করে সভায় প্রস্তাব করা হয়—কালচারাল প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিবেশগত সচেতনতা তৈরী, শিক্ষক ও ইমামদের সাহায্যে সামাজিক ও পরিবেশগত শিক্ষা দেওয়া এবং ব্যাপকভাবে ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা। নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনেও দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। ধারণাপত্রটি বাস্তবায়নের জন্য ২৭নং ওয়ার্ডকে পাইলট ওয়ার্ড হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

    কেসিসি প্রশাসক আরও জানান, চলতি বছরে সারাদেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; খুলনাকেও সবুজায়নে গুরুত্বক দিয়ে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে। শিগগিরই ‘কেমন খুলনা চাই’ বিষয়ক কর্মশালা/আলোচনা আয়োজন করে নাগরিক প্রতিনিধি, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের মতামত গ্রহণ করে বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। খুলনা পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের যে কোনো উদ্যোগে কেসিসি সহযোগিতা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সভায় খুলনা পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি এডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, ট্রেজারার অজান্তা দাস, সদস্য এস কে এম তাছাদুজ্জামান, এডভোকেট জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী, খলিলুর রহমান সুমন, নাগরিক নেতা শাহিন জামান পন, উন্নয়ন কর্মী এম নাজমুল আজম ডেভিড, পরিবেশ কর্মী শরিফুল ইসলাম সেলিম, পরিবর্তন-খুলনার সমন্বয়কারী শাহালা হাবিবি সহ কেসিসি’র কনজারভেন্সি অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন।