Blog

  • প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: ২৮ দিনে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

    প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: ২৮ দিনে এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

    চলতি মার্চ মাসে দেশের প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। মাত্র ২৮ দিনে দেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশে কোনো এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক প্রবাসী আয়। এই খবর সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন।

    অতীতে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা এখন পর্যন্ত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এ বছর প্রথম ২৮ দিনে এই অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, রমজান ও ঈদ উৎসবের সময় প্রবাসীদের প্রেরণা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার কারণে অনেক প্রবাসী তাদের সঞ্চিত অর্থ দ্রুত দেশে পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম দিকে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসে পৌঁছেছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৮০ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একেবারেই নতুন এক রেকর্ড।

    তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। সংঘাত যদি দ্রুত শেষ হয়, তবে প্রভাব কম থাকতে পারে। কিন্তু সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয় ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। দেশের জনশক্তি রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজারও এই অঞ্চল। ফলে, এই অঞ্চলে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা সংকট দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও কর্মসংস্থানের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

  • দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধি পেলো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধি পেলো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩৪ হাজার ৫৭ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজ এই তথ্য জানান। ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নির্ধারিত রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোটিস অনুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ হিসাব করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে। এই নিট রিজার্ভ দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা ও প্রাথমিক দারুণ আমদানি ও ঋণ পরিশোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  • রাজস্ব দুর্বলতা বড় বাধা বাজেট বাস্তবায়নে, সিপিডির মতামত

    রাজস্ব দুর্বলতা বড় বাধা বাজেট বাস্তবায়নে, সিপিডির মতামত

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, দেশের দীর্ঘদিনের রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা বাজেটের সফল বাস্তবায়নে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। যদি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় নিশ্চিত না করা যায়, তবে এটি উন্নয়ন খরচ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় এই বিষয়টি আলোচিত হয়। আলোচনায় প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি চলমান হিসাবের ঘাটতি বাড়াতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজেট প্রণয়নে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের রাজস্ব দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের জন্য বড় অসুবিধা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে গেলে উন্নয়ন কাজ ও অর্থনীতির সুস্থতা ঝুঁকিতে পড়ে। পূর্বের ঋণের বোঝা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে নতুন করে ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, যার ফলে অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কাও রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবসম্মত, প্রয়োজনীয় সংস্কারভিত্তিক ও সম্ভাব্য বিষয়গুলো সমাধানে মনোযোগী হতে হবে। কর ব্যবস্থার প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যারা এখনও করের আওতায় আসেনি, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, করের আওতা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের উপর করের চাপ কমানোর পরিকল্পনাও জরুরি। সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজস্ব আয় বাড়াতে না পারে, তবে ভর্তুকি দিয়ে চলমানের নীতির যৌক্তিকতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। এই সব কিছু বিবেচনায়, বাজেটের সফলতাকে আরও বেশি বাস্তবায়নযোগ্য, স্বচ্ছ এবং সংস্কারমূলক করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আন্তরিক ক্ষমা চাওয়া: কেউ কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আন্তরিক ক্ষমা চাওয়া: কেউ কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত

    ঢাকা-৮ নির্বাচনী আসনে অংশগ্রহণের পর থেকে নানা আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে বেশ আলোচনা সৃষ্টি করে। আজ বুধবার সকালে এক পোস্টে তিনি জানান, যদি কেউ তাঁর কথা বা কার্যক্রমের ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই পোস্টে বলেছেন, “গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সাথে বেশ কিছু আন্তরিক আলোচনা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে আমি সুন্দর দিকনির্দেশনা পেয়েছি— যেমন ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়ানো, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া।”

    তিনি আরও বলেছেন, “আমি সেই পরামর্শগুলো বিনয়ের সাথে গ্রহণ করছি এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করব। সমাজের উন্নয়নের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাব।”

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যোগ করেছেন, “যদি আমি কোনও কথায় বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কারো কষ্টের কারণ হই, আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ আমার পথচলার শক্তি।”

    এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, “গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে আমি এই আত্মিক যাত্রার এক শান্তিপূর্ণ সূচনা করেছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।”

  • শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জামায়াতের আমিরের নৈতিক দায়িত্বের কথা

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জামায়াতের আমিরের নৈতিক দায়িত্বের কথা

    মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আন্তরিকভাবে অনুভব করি যে আমাদের একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এটি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় আচার, যেখানে সবারই উচিত সম্মানের সাথে অংশগ্রহণ করা। তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে, সততা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্য আজ এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিতে উপস্থিত হয়েছি।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা এবং সাংবাদিকদের সাথে আলাপে এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি যাতে আমাদের বীর শহীদদের আত্মার শান্তি যেখানে—সেখানে পৌঁছায়। দেশকে সার্বভৌম, স্বাধীন ও উন্নতভাবে উন্নীত করতে আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষণের জন্য দোয়া করেছি।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমাদের সকলের একক লক্ষ্য হওয়া উচিত অহিংস এবং দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি সবাইকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং সার্বজনীন স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি।

  • প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি কার্যালয়ে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

    প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি কার্যালয়ে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় তিনি যখন কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন, তখন নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন এবং স্লোগানে তার শুভেচ্ছা জানান। এর আগে, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটের দিকে তার গাড়িবহর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়, যেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ আগে, সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং রাত সাতটার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং এরপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ওই সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং দলের কাজে সক্রিয় থাকার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থাকা ও მათের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, তাই সচেতন থাকতে হবে যেন কোনওভাবেই সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে না পড়েন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে সকল কিছু সাধারণ রূপে চালিয়ে যেতে। আমি অফিসে আরো আসব, তবে রাস্তায় কোনো অবরোধ চলবে না। মানুষের চলাচলে বাধা দেয়ার চিন্তা নেই। দ্রুত রাস্তা ফাঁকা করে দিতে হবে।’ তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এও বলেন যে, দলীয় কার্যালয়ে এসে তারা সংগঠনের কাজে অংশ নিতে পারবেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবেন।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য্য ধরে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। দেশের সমস্যা সমাধানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। জনগণের প্রত্যাশা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ, তাই প্রতিটি কাজের সময় যেন মানুষের কষ্ট বা অসুবিধা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে।’

    তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে রাস্তাঘাট স্বাভাবিক রাখতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমি এখানে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।’

    বিকেলে, নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সকাল থেকে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেলের দিকেও সড়কগুলো জুড়ে ছিল নেতাকর্মীদের ঢল এবং নানা ধরনের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

    প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির খবর পেয়ে দুপুরে আড়াইটা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সবত্র জড়ো হতে থাকেন। সন্ধ্যার দিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পুরো এলাকায় “তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগত” স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

    প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, রাত সাতটার দিকে যখন তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান, তখন দলের বিভিন্ন নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকেন। সেখানে বৈঠক ও আলোচনা শেষে তিনি দলের নেতাদের নিয়ে কক্ষে বসেন, যেখানে নানা সাংগঠনিক বিষয় ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রথম দিকে মিছিল ও স্লোগানে মুখর ছিল পুরানা পল্টন ও নয়াপল্টনের চারপাশ। নেতাকর্মীরা হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে, বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। বেশিরভাগ নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সংগঠনের, যেমন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী, বসে থাকেন ও স্লোগান দেন।

    নয়াপল্টনের সড়কে যানজট তীব্র হওয়ায় খুব ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করছে। নিরাপত্তার জন্য কাকরাইল, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোডসহ আশপাশের এলাকা কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে একটি নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা এখানে আসতে পারতাম না, পুলিশে তাক করে দিত। কিন্তু আজ, আল্লাহর পথে সব সম্ভব।’

  • ৫টি সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ৫টি সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ঢাকার পাশাপাশি দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই ঘোষণা আরও শক্তিশালী করেছে দলের ধারাবাহিক উদ্যোগের পরিণতিকে, যা চলমান নির্বাচনী গড়জোড়ায় নতুন উপস্থিতি যোগ করল।

    রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনে দলের প্রার্থী মনোনীত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং উত্তরে দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মেয়র পদে লড়বেন।

    এছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশনে এনসিপির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহীতে দলের রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    এনসিপি আরও জানায়, আগামী এপ্রিলের মধ্যেই বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। দলটি বলছে, শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে, যদিও বিএনপি সরকার ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বর্তমানে বিএনপি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোযোগ না দিয়ে বাস করছেন, কারণ দলটির কিছু নেতাকে প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনসিপি তাদের প্রার্থীদের নামের ঘোষণা দিয়ে ঠাণ্ডা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে গেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সিটিতে প্রশাসক পর্যায় বসিয়ে দলীয়করণ শুরু করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচনে প্রশাসকদের কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না, এবং কোনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন মঞ্জুর হবে না। তিনি আরও বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মনোনীত ৫ মেয়র প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্য নেতারা। এই ঘোষণা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন করে উৎসাহ যোগাচ্ছে এবং স্থানীয় নির্বাচনে দলের উপস্থিতি দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে যদি সরকার এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, গণরায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শাহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু শক্তিশালী সরকার এসেছে, যাদের ক্ষমতা মহাপরাক্রমশালী ছিল, কিন্তু তারা কখনই গণরায়ের বিরোধিতা করেনি। যারা গণরায়কে উপেক্ষা করে নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে গণরায়ের মাধ্যমে জনগণ ভোট দিয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল। তা থেকেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষপট তৈরি হয়। একইভাবে, ১৯৯০ সালে স্বৈৰাচার বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দমন-পীড়নের পরও গণরায়ের বিপক্ষে শাসন কায়েমের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং জনগণের আন্দোলনের মুখে পড়ে।

    সরকারের এই উপদেষ্টা আরও বলেন, যদি এখনো গণরায় বা গণভোটের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করে সরকার এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, গণভোটে বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল; সেই ভোটাধিকার বাস্তবায়নে সরকারকে দায়িত্বশীল হতে হবে। শুরু থেকেই শহীদ পরিবার, বাবা-মা ও আহত মুক্তিযোদ্ধারা স্বপ্ন দেখেছেন একটি নতুন দেশের, ভবিষ্যত গড়ার। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন না হলে, ৭০ শতাংশ মানুষ যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন, তারা রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।

    আসিফ মাহমুদ শেষ করে বলেন, সবাই একত্রিত হয়ে সুন্দর এক বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসা জরুরি। যদি কেউ জনগণের বিপক্ষে যায়, তাহলে আবারো জাতীয় স্বাধিকার রক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হবে।

  • শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর জন্য অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর জন্য অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

    জ্বালানি সংকট, ট্রাফিক জট এবং অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় চালুর জন্য সরকারের মধ্যে একটি নতুন পরিকল্পনা উঠছে। এর অংশ হিসেবে অনলাইন ও অফলাইনে সমন্বিত (ব্লেন্ডেড) পদ্ধতিতে শিক্ষাদান চালুর চিন্তা করা হচ্ছে, যা নীতিনির্ধারকদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। শিগগিরই এই পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ের রোজার ছুটি, বিভিন্ন আন্দোলন এবং অন্যান্য কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালুর কথা ভাবা হচ্ছে, যেখানে এখনকার মতো শনিবার ও রবিবার দিনটি বন্ধ থাকবে না। পাশাপাশি, অনলাইন শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে কিছু ক্লাস ভার্চুয়ালি নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আংশিক অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তবে পুরোপুরি অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু সামাজিক সমস্যা দেখা দিতে পারে—এ বিষয়টিও সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

    প্রাথমিকভাবে স্কুল পর্যায়েই এই পদ্ধতি চালুর দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তবে কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও এর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

    তদ্ব্যতীত, মহানগরীগুলোর ট্রাফিক, জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা রয়েছে। এর মধ্যে বাস সার্ভিস চালু, বৈদ্যুতিক বাস, মেট্রো ও সৌরশক্তিচালিত পরিবহনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে শিক্ষা কার্যক্রমে যোগ দিতে পারেন। এই ধরনের আধুনিক ও বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার পরিকল্পনা এখন আলোচনায় রয়েছে।

  • ফিলিং স্টেশনগুলিতে নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহের ৮ দফা দাবি জোরদার

    ফিলিং স্টেশনগুলিতে নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহের ৮ দফা দাবি জোরদার

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ও বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ তেল সরবরাহের দাবি জানানো হয়েছে। এই দাবিগুলো তুলে ধরার জন্য সংগঠনের নেতারা মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। সেখানে তারা বলেন, দেশের প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণের জন্য অস্বস্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হামলার ঘটনাও ঘটছে। সংগঠনের নেতারা উল্লেখ করেন, সরকার নির্ধারিত রেশনিং ব্যবস্থা চালু থাকলে পরিস্থিতি শান্ত হতে পারে। যদি প্রত্যেকজন সাধারণ চালক তাদের নির্ধারিত দুই লিটার তেল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন, তবে অন্যরা তেলের প্রয়োজনীয়তা পাবে। তবে সবাই যদি ট্যাংক ভর্তি করার প্রতিযোগিতায় নামে, তখন সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তারা জানিয়ে দেন, বর্তমানে দেশে যত তেলের মজুত আছে, তা দিয়ে এ সংকট অতিক্রম সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা স্বল্প সময়ের জন্য, তাই বিভ্রান্তিকর খবরে কান না দিয়ে মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আক্রমণ ও প্রাণহানির শঙ্কার বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, অনেক স্থানে অন্যায়ভাবে পেট্রোলপাম্পের ওপর হামলা হচ্ছে, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, তারা সরকারের শত্রু নন, বরং সব সময় দেশের জন্য পাশে থাকেন। উল্লেখ্য, পাম্পের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি জরুরি দুর্ঘটনা সৃষ্টি করতে পারে ও জীবন বিপন্ন হতে পারে। এজন্য পেট্রোল পাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত, অপ্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তিনি অফার করেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ, যেমন: ১. প্রতিটি পেট্রোলপাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। ২. বাস্তবতার নিরিখে তেল সরবরাহে সমন্বয় আনা। ৩. সাধারণ মানুষকে সচেতন ও ধৈর্য্য ধারণের অনুরোধ। ৪. শূন্য ট্যাংক নিয়ে ব্যাপক ভিড় এড়ানো। ৫. বিক্রয় সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ। ৬. উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা বৃদ্ধি। ৭. প্রয়োজন অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সরবরাহ ও পরিবহন খরচের চিন্তা। ৮. সরকারি নজরদারিকে আরও জোরদার করার আহ্বান। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত সঠিক ও সময়োপযোগী। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রিফাইনারি ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এই সিদ্ধান্ত সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ, সদস্যরা সাজ্জাদুর রহমান ইমন, মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মিজান প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন আহমেদ, আবু হিরন ও মাসুদ পারভেজ।