Blog

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

    হত্যাচেষ্টা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপতার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। আজ সোমবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত মোহাম্মদপুর থানার এক হত্যা-চেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখান।

    অদালতে আসামি ফাহিমকে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে বদলী করা প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমনও গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন এবং পুলিশ তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যায়।

    প্রসঙ্গত, রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আরএস ফাহিমকে আটক করে। এরপর তাঁকে শাহ আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে তারা। পরে ফাহিমকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। ৩০ মার্চ গুলশান থানা তাকে মো. ইমরান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় র‌্যাব কোয়ার্টার সংলগ্ন স্থানে মিছিল করা অবস্থায় বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিছিলে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মাসুদ হোসাইন নামে এক ব্যক্তি আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ে, পরে তাকে অপারেশনও করা হয়।

    এর আগেও গত বছরের ২৪ আগস্ট আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও বেসরকারি টেলিভিশনের মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় তরুণ স্টান্ট রাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমও আলোচনায় আসেন। গত বছরের জুলাইয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণের বিপরীত অবস্থান নিয়েও তখন থেকেই তাঁর নাম বিভিন্নবার উঠে এসেছে।

  • ধারাছোঁয়ার বাইরে ‘ধুরন্ধর ২’: ১৭ দিনে আয় প্রায় ৯৬৩.৪৭ কোটি

    ধারাছোঁয়ার বাইরে ‘ধুরন্ধর ২’: ১৭ দিনে আয় প্রায় ৯৬৩.৪৭ কোটি

    বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিংয়ের হিট স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর ২’ মুক্তির ১৭ দিনেও বক্স অফিসে রওয়ানা ধরে রেখেছে। স্যাকনিল্কের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ছবিটি তৃতীয় শনিবারে একলক প্রায় ২৫.৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে এবং সামগ্রিক কাহিনীতে ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছে।

    বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রথম সপ্তাহে ছবিটি সংগ্রহ করেছিল প্রায় ৬৭৪.১৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সপ্তাহে তা আরও যোগ করে ২৬৩.৬৫ কোটি। এই দুই সপ্তাহের আয়ের সঙ্গে তৃতীয় শনিবারের সংগ্রহ মিলিয়ে ১৭ দিনে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬৩.৪৭ কোটি টাকা।

    চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, চলতি গতিই বজায় থাকলে ‘ধুরন্ধর ২’ খুব শিগগিরই ১,০০০ কোটি টাকার ক্লাবে প্রবেশ করবে। ইতোমধ্যেই ছবিটি ‘আরআরআর’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’, ‘জওয়ান’, ‘পাঠান’, ‘স্ত্রী ২’ ও ‘অ্যানিমেল’-এর মতো বিগ ব্লকবাস্টারগুলোর লাইফটাইম কালেকশন ছাড়িয়ে গেছে। তবে তালিকার শীর্ষস্থান দখল করতে হলে ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ ও ‘পুষ্পা ২: দ্য রাইজ’–এর রেকর্ড ভাঙতে হবে।

    ফ্র্যাঞ্চাইজির তথ্য বলছে, ‘ধুরন্ধর’ সিরিজের প্রথম কিস্তি বিশ্বজুড়ে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা আয় করেছিল। দ্বিতীয় কিস্তিতে দর্শক আগ্রহ ও ইতিবাচক ওয়র্ড-অফ-মাউথ ছবিকে বড় পরিসরে টেনে এনেছে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    প্লটের দিক থেকে প্রথম কিস্তিতে রণবীরকে লক্ষ করা গিয়েছিল একজন ভারতীয় গুপ্তচর হামজা হিসেবে। এবারের কিস্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে দেখা যাচ্ছে জাসকিরাত সিং রাঙ্গির উত্থান—কীভাবে ও কী পরিস্থিতিতে সে ধীরে ধীরে বদলে একজন দুর্ধর্ষ গুপ্তচর হামজা আলি মাজারিতে পরিণত হয়।

    আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন থ্রিলারে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল, আর. মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী এবং সারা অর্জুন। এছাড়া দানিশ পান্ডো, উদয়বীর সান্ধু প্রমুখ শিল্পীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন। একটি বিশেষ চমক হিসেবে দেখা গেছে পরিচালক আদিত্য ধর্মার স্ত্রী অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের ক্যামিওয়াল উপস্থিতি।

    সিনেপ্রেমী ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পরের কয়েক দিনে টিকিট বিক্রির ধারা বজায় থাকে এবং কোন বড় নির্মাণকারী রিলিজ না আসে, তাহলে ‘ধুরন্ধর ২’ শিগগিরই ১,০০০ কোটি পার করে মহাসফল ছবির তালিকায় নিজ অবস্থান নিশ্চিত করবে।

  • তনু হত্যা মামলায় পিবিআই পরিদর্শক তরিকুলকে কুমিল্লা আদালতে তলব

    তনু হত্যা মামলায় পিবিআই পরিদর্শক তরিকুলকে কুমিল্লা আদালতে তলব

    বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় তদন্তের অগ্রগতি জানতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে কুমিল্লার আদালতে তলব করা হয়েছে। কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১ নম্বর আমলি) আদালতের বিচারক মো. মুমিনের নির্দেশনায় তাকে সোমবার (৬ এপ্রিল) হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    শুনানিতে আদালত মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট গ্রহণের অনুমতি দেয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই রিপোর্ট তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করে দ্রুত অগ্রগতি আনার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

    মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেন দীর্ঘ সময় ধরে ন্যায়বিচারের আশায় ঘুরলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রায় দশ বছর পার হলেও মেয়ের হত্যার বিচারে কোনো অগ্রগতি দেখেননি এবং একাধিক দফতরে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকারের সময়ে এই মামলার ন্যায্য বিচার সম্পন্ন হবে এবং দোষীরা অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনে শীর্ষ নেতাদের, প্রয়োজন মনে করলে প্রধানমন্ত্রীসহ, সাক্ষাৎ করে মেয়ের হত্যার বিচারের দাবি জানাবেন।

    ঘটনার পটভূমি স্মরণ করলে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে কালেরভাটের পশ্চিম পাশে জঙ্গলের মধ্যে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।翌 দিন ২১ মার্চ বিকেলে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী হিসেবে থাকা অবস্থায় কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বদল ঘটেছে কয়েকবার। প্রথমবার ২০১৬ সালের ২১ মার্চ কোটওয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলামকে তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছিল। এরপর ২৫ মার্চ কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মনজুর আলম দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সিআইডির কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম দায়িত্বে থাকা দুই। ২৪ আগস্ট ২০১৬ থেকে সিআইডির নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের তখনকার সহকারী পুলিশ সুপার (বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) জালাল উদ্দিন আহম্মাদকে তদন্তভার দেয়া হয়।

    মামলাটি ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর সিআইডি থেকে পিবিআইয়ের ঢাকার সদর দফতরে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, পিবিআই ২০২০ সালের নভেম্বরের পর তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্তকারীর দায়িত্ব আবারও বদল করে পিবিআই ঢাকার আরেক পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

    আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশনা ও ডিএনএ প্রতিবেদন গ্রহণ মামলার তদন্তে নতুন বিন্দু যোগ করতে পারে—এই আশায় রয়েছে তদন্তকারী সংস্থা ও পরিবার। আগামী দিনগুলোতে তদন্ত কর্মকর্তার দেয়া লিখিত ব্যাখ্যা ও ডিএনএ প্রতিবেদন আইনগতভাবে কী কার্যকর প্রভাব ফেলে, সেটাই দিয়ে মামলার পরবর্তী চিত্র নির্ধারিত হবে।

  • ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ

    ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যকে নিয়ে তদন্ত এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি করে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম।

    নোটিশটি সোমবার (৬ এপ্রিল) ক্যাবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। নোটিশে নোটিস গ্রহণের পাঁচ দিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দেশ মেনে না চললে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, দেশে আকস্মিকভাবে বিলুপ্তপ্রায় রোগ ‘হাম’–এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে; ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অনেক শিশু ও সাধারণ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া টিকাদান কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জড়িত হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

    নোটিশে আরো বলা হয়েছে, তদন্ত কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূর জাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীসহ সব উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সাবেক ব্যক্তিগত সহকর্মীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম নোটিশ পাঠানোর প্রসঙ্গে বলেছেন, আইনশাসন, গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই তিনি এ নোটিশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, উপযুক্ত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়া হলে আইনি পথে এগোনো হবে।

  • সংসদ মানুক না মানুক—গণভোটের রায় আদায় করেই ছাড়ব: জামায়াত আমির

    সংসদ মানুক না মানুক—গণভোটের রায় আদায় করেই ছাড়ব: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক না মানুক—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই তারা শেষ করবেন। তিনি বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে সংসদ নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করা হয়েছে। তার কথায়, ‘‘৭০ ভাগ জনগণ হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা হ্যাঁ’র পক্ষে ছিলাম এবং আছিও। জনগণের সুপ্রিম উইলকে আমরা সম্মান দেখিয়েছি, দেখিয়ে যাব। সংসদ যদি মানুক বা না মানুক—গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব, আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’’

    বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি জাতি ও দেশের মধ্যে ন্যায়, ইনসাফ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সেই মূল্যবোধ প্রথমে দলের ভেতর থেকে শুরু করতে হবে। তিনি আহতদের হাতে নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র চর্চা করতে পারে না, তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে এবং জাতির কাছে ন্যায়-ইনসাফ উপহার দিতে পারবে না।

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, ‘‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে। ২৪-এ জনগণ রায় দিয়েছে। হয়তো কেউ প্রশ্ন করতে পারেন—আপনারা রায় পেয়ে থাকলে কেন সরকার গঠন পারেননি। আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে। এবং তার রাজসাক্ষীও মিলেছে।’’

    তিনি এক ক্ষেপ্তূপকতা তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘‘হ্যাঁ, ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যায়। কিন্তু কপাল খারাপ হলে জালে বেঁধে যায়। ঘুঘু তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছো—এবার তোমার লেজ, পা, ডানা ঠিকই অবশ করে দেওয়া হবে।’’

    সংসদ যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করে রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে—এমনbrite সিদ্ধান্ত পুনরায় জোর দিয়ে বলেন জামায়াত আমির। তিনি স্মরণ করান, ‘কেয়ারটেকার’ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সংসদে উদ্যোগ না হওয়ায় জনগণের শক্তি ভর করে দাবি আদায় করা হয়েছিল; এবারও একই পথে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি থাকবে।

    জ্বালানি সংকটের মোকাবেলায় সংসদে আলোচ্যতা থাকলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে জ্বালানি সংকট বাড়ছে, যা কৃষি উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ফলস্বরূপ খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়বে।

    শিক্ষা খাতে জ্বালানি সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটকে অজুহাত করে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হবে। শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, আগে নয়।

    ডা. শফিকুর বলেছেন, সংসদে থাকা জামায়াতের প্রতিনিধি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং অন্যায়ের সামনে নতি স্বীকার করবে না।

    সভায় জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান প্রমুখ।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সামাজিক ঐক্য বজায় রেখে ভ্রাতৃত্ব ও প্রেমের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ‘ইস্টার সানডে’ অনুষ্ঠানে তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং সেটি রুখে দিতে হবে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটি চিরতরে নির্মূল করা উচিত। বিভাজন নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের চলার পথের মূল শক্তি। তিনি সবাইকে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক অনন্য দেশ। এখানে ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও সমানভাবে ভোগোচিত অংশ। এ ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে, এবং সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী একটি সময় ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টার কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের সবাইকে সেই বিভাজনের চক্রান্ত থেকে বেরিয়ে এসে একসাথে এগোতে হবে।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি এবং বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ আছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে সবাইকে নিয়ে এগোতে হবে।’’

    অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল সকল ধর্মাবলম্বীর প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং বলেছিলেন, সামাজিক সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধই হবে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার মূল ভিত্তি।

  • চার দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দাম কমল, ২২ ক্যারেটে ভরিতে ২,১৫৮ টাকা নামল

    চার দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দাম কমল, ২২ ক্যারেটে ভরিতে ২,১৫৮ টাকা নামল

    টানা চার দফা বাড়ানোর পর শেষমেষ কমেছে দেশের স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (৬ এপ্রিল) ঘোষণা করেছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের দাম কমায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন রেট অনুযায়ী প্রতি ভরিতে ২১ ক্যারেটের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    এর আগের সমন্বয় ছিল ১ এপ্রিল, যখন বাজুস ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তখন ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৫২ বার সমন্বয় করা হয়েছে; যার মধ্যে ৩০ বার দাম বাড়ানো এবং ২২ বার দাম কমানো হয়েছে। গত বছর (২০২৫) মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; সেদিকরে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরিতে ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছে; নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে এসেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে এসেছে

    ২০২৪ সাল ব্যাংক খাতের জন্য কঠিনভাবে স্মরণীয় রেকর্ড হলো—বছর জুড়ে আর্থিক চাপে পড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। ওই বছরের ক্ষতচিত্রের ধাক্কা পরের বছরই সিএসআর খাতে স্পষ্টভাবে পড়ে: ২০২৫ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে—শতকরে প্রায় অর্ধেক কম।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনায় দিকগুলো দেখলে পরিষ্কার হয়, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; ২০২৩ সালে তা ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২4 ও ২০২5 ধারায় ধারাবাহিকভাবে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে—দুই বছরের ব্যবধানে খাতে ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে খাতটিতে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের তুলনায় এবারের খরচ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে জুন—জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরে সরকারের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। একই সময়ে কিছু ব্যাংকের অনিয়ম, লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো আর্থিক চিত্রের বদলে প্রকৃত ক্ষতচিত্র সামনে আসে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানের পরিমান বেড়ে যায়; বিশেষত শরীয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় চাপের মুখে পড়ে। এসব কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের উদ্যোগে কিছু ব্যাংক একীভূত করাও শুরু হয়।

    ব্যাংকারদের ভাষ্যে, রাজনৈতিক প্রভাবও সিএসআর খরচ কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময় নানা পর্যায় থেকে চাপ বসে অনুদান বা সহায়তা দেয়ার জন্য; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অনুষ্ঠানিক অনুরোধে অনেক সময় ব্যয়গুলো প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরেও খরচ করা হতো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও পরবর্তী সরকার বদলের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সর্তকভাবে সিএসআর বাজেট নির্ধারণ করছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি—রাজনৈতিক বা বাহ্যিক প্রভাবের কারণে অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ বরাদ্দ হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকৃত লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে: শিক্ষায় ৩০%, স্বাস্থ্যেই ৩০%, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০% এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে নিয়মগুলো অনুশীলনে মানা হচ্ছে না—২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ (৩৬%) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০%।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ১১টি ব্যাংক একটিও টাকা সিএসআর হিসাবে ব্যয় করেনি। ওই ব্যাঙ্কগুলোর তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর একটি পাঁচফোঁট তালিকায়—এগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআরে অর্থ ব্যয় করেছে।

    ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সিএসআর কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে খাতের দক্ষ পুনর্গঠনের ওপর এবং সিএসআর-এ জবাবদিহিতা ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যয়ের বিধান কতোটা কার্যকর করা যায় তার ওপর। নীতিনির্ধারকরা বলবেন—সামাজিক দায়বদ্ধতা শুধু সংখ্যা নয়; তা বাস্তবে সমাজ ও পরিবেশকে টেকসইভাবে টিকিয়ে রাখতে হবে।

  • মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত

    মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জনসংযোগ বিভাগ সোমবার (৬ এপ্রিল) জানিয়েছে যে আইআরজিসি’র গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ভোরে নিহত হয়েছেন। বিবৃতিতে তাকে শহীদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    আইআরজিসি বলেছে, মজিদ খাদেমি প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিপ্লব, দেশ ও ইসলামী মাতৃভূমির নিরাপত্তা রক্ষায় নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। বিবৃতিতে তার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী, গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষণীয় অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে খাদেমির কৃতিত্ব দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে বহু বছর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে, বিশেষ করে কৌশলগত স্তরে বিদেশি প্রতিপক্ষদের মোকাবিলা এবং তাদের অনুপ্রবেশ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ‘অশুভ ও কুটিল’ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে। আইআরজিসি তার ঘোষণায় হামলাকারীদের ‘মার্কিন-জায়নিস্ট শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে — শনাক্ত করা ঘটনাসমূহের পর — যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎপরিসরের হামলা শুরু করে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। এই হামলায় দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা নিশানা হয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, এমনটাই বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

    যার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অধিকৃত ভূখণ্ড ও আঞ্চলিক ঘাঁটিতে মার্কিন ও ইসরাইলি অবস্থানগুলোর দিকে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে, জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এই প্রতিবেদনটিকে উৎস হিসেবে তাসনিম নিউজ এজেন্সির বিবৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।

  • হাইফার আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ২ নিহত, ১১ আহত

    হাইফার আবাসিক ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ২ নিহত, ১১ আহত

    ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হাইফার (উত্তর ইসরায়েল) শহরের একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। রোববার বিকেলে ঘটনার ফলে কমপক্ষে ২ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন, আর ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন আরও কয়েকজন।

    প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাইফার একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে হাইফা ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস আগুন নেভানো এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধারকর্মীরা আহতদের স্থানীয় মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) হেলথ সেন্টারে পাঠিয়েছেন।

    আরোয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর উদ্ধারকাজ চলাকালে ধ্বংসস্তূপের ভেতর চারজনকে চাপা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোববার রাতভর চালানো অভিযান শেষে তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে; বাকি দুইজনকে এখনও খুঁজছে উদ্ধারকর্মীরা, তাই নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেডের ওজন আনুমানিক ৪৫০ কেজি ছিল। এ সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা।