Blog

  • সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের সবাইকে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। তিনি রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষের বাতাবরণ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে কিছু অপশক্তি, যা আমাদের একতা ও সৌহার্দ্যবোধের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। তাই আমাদের উচিত এই ঘৃণা ও বিভাজনের অবসানে কাজ করে সব ধর্মের মানুষকে একসাথে নিয়ে সুন্দর একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি emphasized করে বলেন, ‘আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণার শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য আমাদের পথচলার মূল শক্তি।’

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ যেখানে ভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। এই দেশ ইসলাম, সনাতন ধর্ম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মিলেমিশে চলার উদাহরণ। অতীতকাল থেকেই এই ভূখণ্ডের মানুষ সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার বন্ধন বজায় রেখেছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার অপপ্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা এখন থেকে সবাইকে পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় একটি সমৃদ্ধ ও সুখী সরকার গঠন করতে চান। সামনে আমাদের অনেক কাজ রয়েছে, সে জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

  • সব জেলায় মন্ত্রিপরিষদের জরুরি নির্দেশনা: দোকানপাটের সময় এক ঘণ্টা বৃদ্ধি

    সব জেলায় মন্ত্রিপরিষদের জরুরি নির্দেশনা: দোকানপাটের সময় এক ঘণ্টা বৃদ্ধি

    সরকার ব্যবসায়ীদের অনুরোধে দোকানপাট খোলা রাখার সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়েছে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান খোলা রাখা যাবে। এর আগে রোববার তথ্যটি নিশ্চিত করেছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুসারে, সরকার দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এছাড়া, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এ সময়সীমা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    প্রথমে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্টি হওয়া জ্বালানি সংকটের কারণে গত ২ এপ্রিল রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টার পর শপিং মল ও দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীরা রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্রি চালিয়ে যাওয়ার জন্য আকুতি জানালে সরকার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান। এ পরিস্থিতিতে, ব্যবসায়ীদের সুবিধা বিবেচনা করে সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • ইরানে যুদ্ধের পরও জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, আরও আসবে এই মাসে

    ইরানে যুদ্ধের পরও জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, আরও আসবে এই মাসে

    ইরানে যুদ্ধের কারণে দেশের জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের কোনও সংকট নেই। সম্প্রতি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন, ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিবাদ এবং ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা লক্ষ্য করা গেলেও, এটি মূলত অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

    বুধবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশের জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে এবং চলতি মাসে আরও তেল আমদানি করা হবে। সরকার সব সম্ভাব্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে দেশের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

    মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিকটন ডিজেল মজুত আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ৩০ এপ্রিলের মধ্যে, আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিকটন ডিজেল দেশে আসবে।

    অতিরিক্ত জানানো হয়, অকটেনের মজুত রয়েছে ১০ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন। চলতি মাসের মধ্যে আরও ৭১ হাজার মেট্রিকটন অকটেন সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি, পেট্রোলের মজুত এখন রয়েছে ১৬ হাজার মেট্রিকটন, এবং আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার মেট্রিকটন পেট্রোলও দেশে পৌঁছাবে।

    জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, এখনই দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। তবে আগামী মাসে বিষয়টি আলোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অপরদিকে, অবৈধ মজুৎ ও কালোবাজারি বন্ধ করতে চালানো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত এক মাসে এই ধরনের অভিযানে ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা জামিনে মুক্ত

    জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা জামিনে মুক্ত

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ভোলা পৌরসভার মহিলা জামায়াতের কর্মী বিবি সাওদার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের আদেশ দেন। এরপর তিনি মুক্তি লাভ করেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বোন সাওদা সুমি মুক্ত।’

    গত রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ভোলা পৌরসভার নিজ বাসভবন থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন বিবি সাওদা। পরে দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    ঘটনার পরের দিন সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলা জামায়াতের আমির জাকির হোসাইনের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেক্রেটারি হারুন অর রশিদ।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেখানে মন্তব্য বা পোস্টের জন্য কাউকে গ্রেফতার করা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে দাবি করে তারা। মামলা বা অভিযোগের পেছনে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকার অভিযোগে তাদের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, একজন নারীর রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বিবি সাওদাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আজ জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

  • স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা: এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা: এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী এ কথা মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) সংসদে সরকারি দলের সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর (নওগাঁ-৪) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

    মন্ত্রী আরও জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং নিয়মিত সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারের প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে কর্মী নিয়োগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে তিনি জানালেন, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার ৯৮৪ জন সহকারী সার্জন, ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ৯৮ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস) এবং ২২ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গত বছর ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের আওতায় ১৬২ জন এমবিবিএস ডাক্তার সহকারী সার্জন নিয়োগ করা হয়।

    ফেনী-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য জয়নাল আবদিনের আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ থেকে এখন পর্যন্ত করোনা মহামারির মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, বিশেষ করে ভ্যাকসিনের ক্রয় ও সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাকসিনের জন্য ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, সিরিঞ্জের জন্য ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ পৌঁছে দিতে পরিবহন বরাদ্দ ছিল ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা, এবং সিরিঞ্জের শিপিং চার্জে খরচ হয়েছে ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯৮০ টাকা।

    মন্ত্রী আরো জানান, ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজন হলে এমন কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে যথাযথভাবে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: বাসস।

  • সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

    সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গেছে, সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে তিনি ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনা নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, যিনি বলেন, তাকে বর্তমানে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে, কি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডিবি কিছু জানায়নি। জানা গেছে, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি চলমান। রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিনের মৃত্যুসংক্রান্ত মামলায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় ইতোমধ্যে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনের নাম আসে, যারা এখন কারাগারে রয়েছেন। শিরীন শারমিন রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি সংসদ স্পিকার নির্বাচিত হন, যার পর থেকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং টানা চারবার এই পদে থাকেন। সর্বশেষ তিনি ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এর পর রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন এবং ৮ আগস্ট নতুন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। এরপর, ২ সেপ্টেম্বর তিনি নিজে স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

  • সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ, অব্যাহতি

    সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ, অব্যাহতি

    অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ আবুল হাসানকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) সোমবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তাঁর নিয়োগ বাতিল ও অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে প্রজ্ঞাপনে অব্যাহতির কারণ জানানো হয়নি।

    অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদমাধ্যমকে জানান, আবুল হাসানের বিরুদ্ধে এক বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযোগকারী থেকে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছিল।

    আবুল হাসানকে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, তিনি ২৫ মার্চ দেশটির ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ২৯ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ৩১ মার্চ ওই অভিযোগ তার দৃষ্টিগোচর হয়। অভিযোগটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আইনজীবী আবুল হাসানের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রাপ্ত জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।

    রুহুল কুদ্দুস জানান, অভিযোগটি আগে থেকেই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দাখিল ছিল। বিস্তারিত তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা সম্পর্কে এখনই অফিস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    এর আগে ২ এপ্রিল সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আহমদ মুসান্না চৌধুরী ও মুহাঃ মুজাহিদুল ইসলাম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। তারা-ও ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তাদের পদত্যাগের আগে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা ছিল ২৩৯/২৩০ (প্রকাশিত আলোকপাত অনুযায়ী) এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা ছিল ১০৩।

    ঘোষিত অভিযোগ একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমে নজরে রাখা হবে।

  • জুলাই গণহত্যা মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ তিন দিনের রিমান্ডে

    জুলাই গণহত্যা মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ তিন দিনের রিমান্ডে

    দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলা সম্পর্কিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আবারো তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত দ্রুততরভাবে ও সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য এখনও অভিযুক্তের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

    এর আগে গত ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় এবং ৩১ মার্চ আরও ছয় দিন রিমান্ড বাড়ানো হয়েছিল। দুই দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন পুনরায় চার দিনের রিমান্ড চান। আবেদনে বলা হয়, মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই ও তদন্তের কাজে সহায়ক হবে। সেই কারণে আবারও রিমান্ডের প্রয়োজন থাকায় আবেদন করা হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও জামাল উদ্দিন মারজিন রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামির আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম পাখি রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পুলিশের আবেদন মেনেই তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র ও জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রায় ৫০০-৭০০ আ’লীগ নেতাকর্মী হামলা করে। অভিযোগ স্বরূপ, শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন দেলোয়ার হোসেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সেই মামলার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। আদালতের এই রিমান্ড সিদ্ধান্তের ফলে তদন্ত কর্মকর্তারা সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে পারবেন বলেই জানানো হয়েছে।

  • জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: সংসদ মানুক বা না-মানুক—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব

    জামায়াত আমির শফিকুর রহমান: সংসদ মানুক বা না-মানুক—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব

    জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক বা না-মানুক—গণভোটের রায় আদায় করে বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে। তিনি দাবি করেন, সংসদ নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করা হয়েছে এবং জনগণের রায় ধ্বংস করা হয়েছে।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘৭০ শতাংশ জনগণ হ্যাঁ-র পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা হ্যাঁ-র পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। জনগণের সুপ্রিম উইলকে সম্মান দিয়ে আমরা রায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবো—সংসদ মানুক বা না মানুক, আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’’

    তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, দেশের ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে জাতি গঠন করতে হলে আগে একটি দলের ভেতরেই ন্যায়, ইনসাফ ও গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হবে। ‘‘যারা নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র বলতে জানে না, যারা নিজেদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারে না—সেরাই ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না, জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না।’’

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, ‘‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে এবং চব্বিশে তাদের রায়ও দেয়। আপনাদের রায় থাকলে কেন সরকার গঠন করতে পারলেন না—এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে এবং এর সাক্ষ্য ইতোমধ্যে মিলেছে।’’

    বাংলেশিকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ঘুঘু বারবার এসে ধান খায়, কিন্তু কপাল মন্দ হলে জালে আটকা পড়ে। ঘুঘু, তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছো—এবার তোমার লেজ, পা ও ডানাও অবশ করা হবে।’’

    সংসদ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যখন সংসদে ‘কেয়ারটেকার’ ব্যবস্থা বা অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়, তখন আমরা জনগণের শক্তির ওপর ভর করে দাবি আদায় করেছি। এবারে ও সংসদে ইতিবাচক বিতর্কের সুযোগ থাকলে সমাধান চাইতাম, কিন্তু তা না হওয়ায় জনগণের কাছে ফিরে যাওয়াই একমাত্র পথ বলে আমরা মনে করছি।’’

    জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা ওঠালেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিচালনায় দুর্বলতার কারণে সংকট বাড়ছে, যা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রেও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে যদি শিক্ষাপ্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয় তাহলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হবে—শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা চলবে না।

    ডা. শফিকুর রহমান আশ্বাস দেন, ‘‘সংসদে থাকা আমাদের প্রতিনিধি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং কোনো অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করবেন না।’’

    অনুষ্ঠানে জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান সভাপতিত্ব করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান প্রমুখ।

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় নেমে প্রায় অর্ধে

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় নেমে প্রায় অর্ধে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত সংকটে পড়েছে; বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি এবং যেগুলো মুনাফা করেছে, তাদেরও আয় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। ফলে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে—বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) প্রতিবেদনে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এটি আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা কমে প্রায় ৪২ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। গত এক দশকে সিএসআর খাতে এটাই সর্বনিম্ন ব্যয়—এর আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালের ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার খরচ প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (প্রায় ৩৪.৫৭%) কমেছে।

    ট্রেন্ডটি স্পষ্ট: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে এই ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    খাতসংযুক্তরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিংতে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র বেরিয়ে আসে এবং খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসান সামনে আসে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপে পড়ে; কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব সেখানে স্পষ্ট হয়। এসব দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য — রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় কমানোর বড় কারণ। আগে রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন মহলে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলো আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে খাতে বেশি ব্যয় করত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যাওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো বর্তমানে তুলনামূলকভাবে বিচক্ষণ হয়ে সিএসআর খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়মের কারণে অনেক সময় অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যায়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্থ করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে—এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকী ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা। তবে বাস্তবে নির্দেশনা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬%) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% এবং স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ হলেও প্রকৃত অনুপাতে বিতরণ অসম সমান।

    রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে ওই সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। সেগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও একটি উদ্বেগজনক দিক—২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় ছিল জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। তর্কিতভাবে, এসবের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সংক্ষিপ্তভাবে, ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও স্বচ্ছতার অভাব মিলিয়ে সিএসআর খাতে বরাদ্দ কমে যাচ্ছে এবং বরাদ্দের বাস্তবায়নও কাঙ্ক্ষিত না — যা সমাজে দায়বদ্ধতা বজায় রাখার জন্য উদ্বেগের কারণ। নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং তহবিলের যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে—তবেই এই খাতে দীর্ঘমেয়াদী পুনরুজ্জীবন সম্ভব।