Blog

  • ডব্লিউটিসিতে বাড়ছে দল, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুক্ত হতে পারে এক-ম্যাচ টেস্ট

    ডব্লিউটিসিতে বাড়ছে দল, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুক্ত হতে পারে এক-ম্যাচ টেস্ট

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) প্রসার ও কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপুর্ণ প্রস্তাব বিবেচনা করছে। আলোচনা চলছে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১২ করা এবং এক-ম্যাচের টেস্ট (ওয়ান-অফ টেস্ট)কে ডব্লিউটিসির পয়েন্ট কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে।

    এই অগ্রগতি নিয়ে কাজ করছে আইসিসির একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টউস। গ্রুপের সুপারিশগুলো চলতি মাসের শেষে বা মে মাসের শুরুতে বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।

    আইসিসি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সূচি জটিলতা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রভাব সামলাতে কৌশল খুঁজছে। পূর্বে দুই স্তরের (টু-ডিভিশন) মডেল প্রস্তাব করা হলেও কিছু পূর্ণ সদস্য দেশের আপত্তিতে তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি। বর্তমান প্রস্তাব মূলত ওই সুচি এবং প্রতিযোগিতার ভারসাম্য পুনর্বিবেচনার অংশ।

    নতুন পরিকল্পনায় ডব্লিউটিসিতে যোগের সম্ভাব্য দলের তালিকায় রয়েছে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। ডব্লিউটিসি ২০১৯ সালে চালু হওয়ার সময় এই তিন দলকে প্রথম দলে রাখা হয়নি, ফলে তারা নিয়মিত টেস্ট খেললেও বড় দলের বিপক্ষে সুযোগ সীমিত ছিল।

    এখনকার নিয়ম অনুযায়ী কোনো সিরিজে অন্তত দুইটি টেস্ট থাকা বাধ্যতামূলক, কিন্তু অনেক বড় বোর্ডের কাছে ছোট দলের সঙ্গে দুই ম্যাচের সিরিজ দেওয়া আর্থিকভাবে অল্প লাভজনক হতে পারে। তাই দীর্ঘ সফর ও সূচি জটিলতা কমাতে এক-ম্যাচের টেস্টের ধারণা উঠে এসেছে—যাকে পয়েন্ট দেওয়ার যোগ্য করা হলে ছোট দলগুলোর সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন সহজ হবে।

    এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে, উদাহরণস্বরূপ, কোনো দল যদি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায় তবে সফরে যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটি ওয়ান-অফ টেস্ট খেলা যেতে পারে। আবার ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন সূচির মধ্যে ইংল্যান্ডের মতো দেশও এমন একটি একক টেস্ট সামঞ্জস্য করতে পারবে। এর ফলে ছোট দেশগুলোও বড় দলের বিপক্ষে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাবে।

    তবে বাস্তবায়নের আগে দুটো বড় বিষয় যাচাই করতে হবে—ওয়ান-অফ টেস্টকে ডব্লিউটিসির অংশ হিসেবে স্বীকৃত করা উচিত কি না এবং নতুন তিন দলের জন্য পরবর্তী দুই বছরে অতিরিক্ত টেস্ট খেলা আর্থিকভাবে টেকসই হবে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

    অন্য দিকে, আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় আছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে পূর্ববর্তী বৈঠক স্থগিত হয়েছিল; এবার সরাসরি বৈঠক করার পরিকল্পনা থাকলেও তার সময় ও স্থল এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে গ্রুপের সুপারিশ বোর্ডের অনুমোদন পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

    সংক্ষেপে, ডব্লিউটিসিতে দল বাড়ানো ও ওয়ান-অফ টেস্ট অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব ক্রিকেটের সূচি ও প্রতিযোগিতাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্য রাখে—তবে তা কবে ও কীভাবে বাস্তব হবে তা এখনই নিশ্চিত নয়।

  • ডিপিএল শুরু হতে পারে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে

    ডিপিএল শুরু হতে পারে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে

    ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) শুরু নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আপাতত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে টুর্নামেন্ট মাঠে আনার পরিকল্পনা করছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি ক্লাব সংগঠকদের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে সম্মতি পেয়েছেন। বিসিবি চান আগামী ২২-২৫ এপ্রিলের মধ্যে লিগ শুরু করতে; কিন্তু ক্লাবগুলো নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষ হওয়ার পরে, অর্থাৎ ৫ মে থেকে শুরু করতে অনুরোধ করেছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে ১৩ এপ্রিল (সোমবার)।

    পটভূমি জানতে গেলে বলা চলে, বিসিবির পুরনো পরিচালনা পরিষদ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অধীনে ঢাকার ক্লাব সংগঠকরা নির্বাচনের সময় থেকে বিসিবির সব কর্মসূচি বয়কট করেছিলেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) অভিযোগ ওঠার পর বুলবুলের বোর্ড ভেঙে দেয় এবং তাত্ক্ষণিকভাবে তিন মাসের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন তামিমের এডহক কমিটিকে। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ডিপিএল নিয়ে ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি প্রধান।

    বৈঠকে ঢাকার ১০ ক্লাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন; তবে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের কেউ ছিলেন না। উপস্থিত ক্লাবগুলো মূলত লিগ শুরুর সময় নিয়ে দুই ধারণার মধ্যে বিভক্ত ছিলেন—বিসিবির প্রস্তাবিত ২২-২৫ এপ্রিল বনাম ক্লাবদের চান্স ৫ মে। ক্লাবদের যুক্তি, নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালীন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা লিগে পারবেন না, তাই সিরিজ শেষ হওয়ার পরই টুর্নামেন্ট শুরু হলে সেরা প্লেয়াররা পাওয়া সহজ হবে। নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের পরিকল্পনায় রয়েছে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি, যা শেষ হবে ২ মে।

    সময় সংকট বিবেচনায় এবারের ডিপিএল দুই লেগের পরিবর্তে সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সুপার লিগ আলাদা রাখার সময় নেই বলে প্রতিটি ক্লাব গ্রুপ পর্বে একে অপরের বিরুদ্ধে একবার করে খেলবে। মোট ১১ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে। বিসিবির বিপর্যয়ের সুবাদে মরসুমের অনেক সময় নষ্ট হওয়ায় এমন পরিবর্তনকে ক্লাবগুলো ইতিবাচক হিসাবে দেখছে।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া হান্নান সরকার বলেন, বড় একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে; আমরা ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সাধারণত ডিপিএলে সুপার লিগের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন ঠিক করা হয়—এবার সেটি থাকছে না। ১১টি লিগ ম্যাচের মাধ্যমে এবারের শিরোপা নির্ধারণ হবে এবং এই সিদ্ধান্তে বেশিরভাগ ক্লাব একমত হয়েছে, বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে মৌসুম অনিশ্চিত থাকায়।

    ভেন্যু সংখ্যাও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ক্লাব সংগঠকরা। কয়েক বছর ধরে মূলত বিকেএসপি ও মিরপুরে ডিপিএল হয়েছে; এবার ছয়টি ভেন্যু রাখা হতে পারে। প্রস্তাবিত ভেন্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে বিকেএসপি, বসুন্ধরা গ্রাউন্ড, ক্রিকেটার্স একাডেমি ও সিলিকন ভ্যালি—তবে চূড়ান্ত তালিকা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ধানমন্ডি ক্লাবের প্রতিনিধি এ আর মল্লিক রনি বলেন, ‘‘আমরা চাই একসাথে ছয়টি মাঠে ম্যাচ হলে সমন্বয় করা সহজ হবে এবং রিজার্ভ-ডে রেখে পরিকল্পনা মেলানো যাবে।’’

    আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এপ্রিল-মে তরো তাপমাত্রা বেশি থাকে, তাই মাঠগুলোর পাশে আইসিইউ সাপোর্টসহ এম্বুলেন্স রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিমের কমিটি। এছাড়া রিজার্ভ-ডে রাখার বিষয়টি বৃষ্টির সম্ভাব্যতায় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

    অবশেষে এবারে ডিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটাররা খেলবেন না—গত কয়েক মৌসুমে ডলার সংকট এবং ক্লাবের অনুরোধের কারণে বিদেশিদের দেয়া হয়নি এবং এবারও সেই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

    সংক্ষেপে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মাঠে ফিরতে যাচ্ছে—শুরু হবে সম্ভবত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বা মে শুরুতে, চূড়ান্ত ঘোষণা ১৩ এপ্রিল দেয়ার সম্ভাবনা রয়েই গেছে। ক্লাব ও বিসিবি দুই পক্ষই এখন দ্রুত সময়সূচি চূড়ান্ত করে দ্রুত টুর্নামেন্ট আয়োজন নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছে।

  • বলিউডের অফার ফিরিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

    বলিউডের অফার ফিরিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী, প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী ও নাট্যকার বিপাশা হায়াত। নব্বইয়ের দশকে তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম চেনা মুখ—মঞ্চ থেকে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে কোটি দর্শককে মুগ্ধ করেছেন।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে এক পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দেন বিপাশা হায়াত। সেই আলোচনায় তিনি পেশাগত স্মৃতি ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নানা কথা শেয়ার করেন।

    সঞ্চালক জানতে চাইলে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সম্পর্কিত প্রস্তাব এবং বলিউড থেকে যে অফার এসেছিল তার কথাও উঠে আসে। বিপাশা জানান, বলিউডের যে প্রস্তাবটি এসেছিল তা এত পুরনো নয় — পরে আসে। তাতে তাকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের অফার দেওয়া হয়েছিল। তিনি ছবির নাম মনে করতে না পারলেও যে ব্যক্তির থেকে ফোন এসেছিল, সেই নম্বরটি এখনও তার ফোনে সেভ আছে এবং তাদের সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    তবে সেই অফার তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।理由 বলেন, তিনি কখনোই নিজের দেশের দর্শককে ছোটবোধ করাতে চাননি। ‘‘দেশের মানুষ যেভাবে ভালোবেসেছে, তাদের সামনে আমি এমন কোনো চরিত্র করে যেতে পারব না যা মনে হবে আমি শুধুই ওখানে যেয়ে কোনো অপ্রাসঙ্গিক চরিত্রে অভিনয় করছি,’’ কথাটিই তার বক্তব্যের সার।

    বিপাশা আরও বলেন, নিজেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে একজন ‘তারকা’ নয় বরং একটি পাবলিক ফিগার হিসেবে দেখেন। পাবলিক ফিগার হওয়ায় দায়িত্ব আসে—প্রতিটি কাজের মধ্য দিয়ে সেই দায়িত্ববোধ বজায় রাখা প্রয়োজন এবং সেটাই তিনি করতে চান। মানুষের ভালোবাসাকে তিনি অত্যন্ত মূল্যবান ও প্রতিরক্ষার যোগ্য মনে করেন; তাই তিনি ভাবেন, বিদেশে গিয়ে হয়তো বাংলাদেশের চেয়ে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়।

    সাক্ষাৎকারজুড়ে বিপাশার কথায় উঠে আসে দেশের মানুষ ও শিল্পীর নৈতিক দায়িত্বের প্রতি তাঁর গাঢ় আনুগত্য—যেটি অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার বিষয়ও হতে পারে।

  • পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সালমান খান পেলেন সাময়িক রেহাই

    পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সালমান খান পেলেন সাময়িক রেহাই

    দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে পানমশলা বিজ্ঞাপনের মামলায় বলিউড অভিনেতা সালমান খান সাময়িকভাবে রেহাই পেয়েছেন। আগের শুনানিতে হাজিরা না দেওয়ার কারণ দেখিয়ে তাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক এক রায়ে এই আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলার উপভোক্তা কমিশন-২-এ হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ ছিল সালমানের। সেই নির্দেশই রাজস্থান হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট তারিখে কমিশনের সামনে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থেকে তিনি সাময়িকভাবে মুক্তি পেয়েছেন।

    এই মামলাটি শুরু করেছিলেন যোগেন্দ্র সিংহ বদিয়াল। বদিয়ালের অভিযোগ, একটি পানমশলার বিজ্ঞাপনে পণ্যগুলোকে ‘জাফরান বা তাবক মিশ্রিত এলাচ’ ও ‘জাফরান মিশ্রিত পানমশলা’ বলা হয়েছে, অথচ বাস্তবে তা নয়। দাবিটি ছিল—এই ধরনের বিবরণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তারা পণ্যটিকে নিরাপদ বা উচ্চমানের অনুমান করতে পারে।

    এই অভিযোগের ভিত্তিতে বছরের শুরুতে উপভোক্তা কমিশন ওই পণ্যের প্রচারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু পরে জয়পুর ও কোটার মতো শহরে বিলবোর্ডসহ বিজ্ঞাপন দেখা যায়, যা কমিশন অনুসারে তাদের আদেশের উলঙ্ঘন বলে বিবেচিত হয়। এসব কারণে সালমানের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই বাড়ে এবং একাধিক শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

    এখন রাজস্থান হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে ওই হাজিরা-নির্দেশ স্থগিত থাকায় তিনি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মামলায় সাময়িক রেহাই পেয়েছেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও শুনানির তারিখ কী হবে, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা নেই।

    অন্যদিকে, সালমান বর্তমানে তার নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে ব্যস্ত। ছবিটির শুটিং ইতোমধ্যেই শেষ করেছে তিনি। শুরুতে এই ছবিটির শিরোনাম ছিল ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’।

  • ফুয়েল পাস অ্যাপ: রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার—ধাপে ধাপে নির্দেশনা

    ফুয়েল পাস অ্যাপ: রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার—ধাপে ধাপে নির্দেশনা

    জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন ও ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলা আনতে দেশে চালু করা হয়েছে ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা। এ জন্য সরকার একটি ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর সোনার বাংলা (আসাদ গেট) ও ট্রাস্ট (তেজগাঁও) ফিলিং স্টেশনে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

    কেন এ ব্যবস্থা? জনসাধারণকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি অনলাইনে বরাদ্দ করে দিলে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও অপচয় কমে, জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়ে—এটাই সরকারের লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেইন চৌধুরী জানান, অনেকেই ইতোমধ্যে নিবন্ধিত হলেও এখনও অনেকে পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না। তাই নিচে রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাপ ব্যবহারের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো।

    ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন (fuelpass.gov.bd):

    1. ওয়েবসাইটে ঢুকে চার ধাপে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রথম ধাপে গাড়ির নিবন্ধন সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে—এটি বিআরটিএর ডেটাবেইসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

    2. তথ্য 제출ের পর আপনার মোবাইল নম্বরেই একটি ওটিপি (OTP) যাবে। ওই কোড যাচাই করে বাকি অ্যাকাউন্ট তথ্য পূরণ করলে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।

    3. রেজিস্ট্রেশনের সময় যে কাগজপত্রগুলো লাগবে: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বই (ব্লু বুক), ড্রাইভিং লাইসেন্স, সচল মোবাইল নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

    অ্যাপ থেকে রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার:

    1. গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ডাউনলোড করে ওয়েবসাইটের মতোই অ্যাপে নিবন্ধন করা যাবে।

    2. অ্যাপ খুললে দুটি অপশন থাকবে—সাধারণ ব্যবহারকারী এবং ফিলিং স্টেশন অপারেটর। ব্যবহারকারী হিসেবে লগইন করলে আপনার গাড়ির তথ্য ও বরাদ্দকৃত জ্বালানির পরিমাণ দেখা যাবে।

    3. অ্যাপে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বরাদ্দ কত—সবই স্পষ্টভাবে দেখানো থাকবে। ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় অ্যাপের কিউআর কোড স্ক্যান করে লেনদেন সংরক্ষণ করা হবে। আপনার পূর্ববর্তী লেনদেনগুলো ‘হিস্ট্রি’ অংশে দেখা যাবে।

    কিছু টিপস ও সতর্কতা:

    – রেজিস্ট্রেশনের সময় নিশ্চিত করুন আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বর সচল আছে এবং বিআরটিএতে গাড়ির তথ্য সঠিকভাবে আছে।

    – ওটিপি না এলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা নম্বর সঠিক আছে কি না যাচাই করুন, প্রয়োজনে পুনরায় চেষ্টা করুন।

    – ব্যক্তিগত তথ্য সাবধানে আপলোড করুন এবং ছবি/ডকুমেন্ট স্পষ্ট রাখুন যাতে যাচাইয়ে সমস্যা না হয়।

    সরকার আশা করছে, ফুয়েল পাস সিস্টেম চালু হলে জ্বালানি বিতরণ আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ফিলিং স্টেশনে অযথা ভিড় ও অপচয় কমবে। পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি স্টেশনে সেবা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে; প্রয়োজনে সরকারি অনলাইনে দেওয়া নির্দেশনা কিংবা আপডেট দেখাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হবে।

  • বিএনপি সরকার দেশে ‘নতুন ফ্যাসিবাদ’ গড়ে তুলছে: জামায়াত আমির

    বিএনপি সরকার দেশে ‘নতুন ফ্যাসিবাদ’ গড়ে তুলছে: জামায়াত আমির

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কী এবং-কি ভাবে দলীয় করে উপঢৌকন দিচ্ছে, যা বাস্তবে নতুন ফ্যাসিবাদ ও নীরব বাকশাল গঠনের প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, পুরনো স্বৈরাচারী শাসনের নিদর্শন আজও জীবন্ত আছে এবং এই নতুন রূপের শাসন প্রবলভাবে রুখে দেওয়া হবে।

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতের জাতীয় সংসদ অধিবেশনের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। এর আগে বিরোধী দল গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত বিলের বিরুদ্ধে সংসদ থেকে সাময়িক ওয়াকআউট করে।

    তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘আজকের অধিবেশনে এমন কিছু বিল উত্থাপন করা হয়েছে যা সরাসরি জনগণের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করতে চাইলে সংসদে আমাদের বক্তব্য জানার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। বিরোধী সদস্যদের জন্য মাত্র দুই থেকে ছয় মিনিট সময় বরাদ্দ থাকে, অথচ মন্ত্রীরা সময়সীমা ছাড়াই ঘণ্টা-ঘণ্টা বক্তব্য দেন। স্পিকারের এই ভারসাম্যহীন আচরণ সংসদীয় রীতির পরিপন্থী ও বিরোধী কণ্ঠরোধের প্রমাণ।’’

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নষ্ট করার বাহ্যিক চেষ্টা হিসেবে তিনি অভিযোগ তুলেন যে সরকার এমন আইন পাস করছে যার ফলে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যত নির্বাহী শাখার নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে নিরপেক্ষ নীতিমালা ছিল, সেটি বাতিল করে তারা পুরনো দলীয় নিয়োগবিধিতে ফিরে গেছে। এর ফলেই অতীতে যেভাবে দলীয় বিচারপতি উঠে এসেছে, ভবিষ্যতেও একই অনুশীলনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।’’

    স্থানীয় সরকারের বিল নিয়ে তিনি বিশেষ সতর্কতাও জাহির করেন। জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে—এভাবে স্থানীয় স্তরগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের কথাও তুলে তিনি বলেন, আইনগত বা বিশেষ কারণে ছাড়া প্রশাসক সুইচ করা যাবে না; তবু সরকারি যুক্তি ছাড়া বিভিন্ন স্তরে প্রশাসক বসিয়ে স্থানীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।

    দেশে চলমান কয়েকটি উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘১৯৯৪ সালের মাগুরার কলঙ্কিত নির্বাচনের স্টাইল আজ বগুড়া ও শেরপুরে পুনরায় দেখা গেছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়—এটি আবারও প্রমাণিত হলো। শেরপুর-৩ আসনে আমাদের কর্মী হত্যা হয়েছে, আরেকজনকে হত্যা করা হয়েছে—এই খুনিদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি আমরা করছি।’’

    তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানান, তারা সংসদ বর্জন করেনি; তারা সংসদে থাকবেন এবং জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলবেন। কিন্তু যদি জনস্বার্থবিরোধী আইন পাস করা হয়, তখন বিরোধী কণ্ঠ আবারো জোরালোভাবে উঠবে। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘জনগণ পূর্বেও ফ্যাসিবাদ রুখে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও কেউ যদি নতুন করে ফ্যাসিবাদ বা বাকশাল কায়েম করতে চায়, আমরা—ইনশাআল্লাহ—জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেটাও রুখে দেব।’’

    সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী জোটের শীর্ষস্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ৮ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণ: দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে

    ৮ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণ: দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে বাংলাদেশে পণ্যের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১,৩৭১ কোটি ডলার। এসব তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদন।

    প্রধান কারণগুলোতে রয়েছে আমদানি বৃদ্ধি ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশের আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪,৬১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে একই সময়ে আমদানি ছিল প্রায় ৪৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

    অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় মোটামুটি স্থিতিশীল—আনুমানিক ২.৬ শতাংশ অনুকূল পরিবর্তন। অর্থাৎ রপ্তানির প্রবৃদ্ধি আমদানির বৃদ্ধিকে ধরতে পারেনি; ফলে পণ্যের বাজারে এই স্বল্পতার কারণে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বাড়ায় সার্বিক আমদানিই বেড়ে যায়। একই সময়ে রপ্তানি আয় ততোটা দ্রুত বাড়েনি—এই ছেদই বাণিজ্য ঘাটতির প্রধান কারণ বলে তারা মনে করছেন। তাদের পরামর্শ, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বুস্ট করার ওপর জোর দিতে হবে।

    চলতি হিসাব-অবস্থা (কারেন্ট একাউন্ট) বর্তমানে সামান্য ঋণাত্মক; ফেব্রুয়ারি শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতির পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১০০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১৪৭ মিলিয়ন ডলার। তবে সমগ্র আর্থিক বিনিময়ের ওপর নেগেটিভ প্রভাব পড়লেও ওভারঅল ব্যালান্স উন্নত অবস্থায় আছে—আলোচিত সময়ের সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ছিল ৩৪৩ মিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি -১১৫ মিলিয়ন ডলার (ঋণাত্মক) ছিল।

    রেমিট্যান্সও বৃদ্ধি পেয়েছে: অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২,২৪৫ কোটি ডলার (প্রায় ২২.৪৫ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের ১,৮৮৭ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বাড়তি।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ঘাটতি বা উত্থান-পতন দেখিয়েছে—গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এফডিআই ছিল ১০৬ কোটি ডলার, কিন্তু চলতি সময়ে তা নামিয়ে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নিট হিসেবে নেতিবাচক অবস্থায় আছে; চলতি অর্থবছরে শেয়ারবাজারে বাইরের বিনিয়োগে নেট আউটফ্লো প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা আগের বছরের সমপরিমাণ নেতিবাচকের কাছাকাছি অবস্থানই নির্দেশ করে।

    সংক্ষেপে বলা যায়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ আমদানির তীব্রতার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। নীতিনির্ধারকরা আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বাড়ানো ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার পরামর্শ দিচ্ছেন, অন্যথায় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে।

  • ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআরে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআরে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এক কঠিন বছর পার করল—বহু ব্যাংক আর্থিক চাপের মুখে পড়ে এবং সিএসআর খাতে ব্যয়ও নাটকীয়ভাবে কমেছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিপোর্ট করা ওই সময়ে ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। আগের বছরের তুলনায় এটি প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    অর্থাৎ বিগত এক দশকে সিএসআর খাতে এটিই সর্বনিম্ন ব্যয়। পূর্বে ২০১৫ সালে খাতে সবচেয়ে কম ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা—তার তুলনায় এ বার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কম ব্যয় হওয়া খাতটিতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধারাবাহিকভাবে সিএসআর ব্যয় কমছে: রিপোর্টে ২০২২ সালে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং পরবর্তী বছরে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় নামে আসে—দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

    ব্যাংক খাতের সূত্রগুলোর মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা—বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের প্রভাব এবং কিছু ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ—ব্যাংকিং খাতে বড় আঘাত করেছিল। কাগজে-কলমে প্রদর্শিত মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সামনে আসতে থাকে, খেলাপি ঋণের কারণে প্রকৃত লোকসান প্রকাশ পায় এবং কিছু শরীয়াভিত্তিক ব্যাংক বিশেষভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের দাবি, রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমানোর একটি বড় কারণ। পূর্বের রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ থাকাতো; ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয় প্রকৃত সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতার বাইরেও চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি ও পরবর্তী গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের পরে সেই ধরনের চাপ অনেকটাই কমে গেছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি, কারণ রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে খরচ হতে পারে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর হিসেবে ব্যয় করার কথা বলা আছে—যার মধ্যে প্রস্তাবিত অনুপাত: ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য ক্ষেত্রে। তবে প্রতিবেদনের অনুযায়ী, বাস্তবে নির্দেশনার সঙ্গে পুরোপুরি মানা হচ্ছে না: ওই রিপোর্টকালে ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় ছিল ২৮.৫৩ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য অংশ আছে।

    প্রতিবেদন অনুসারে রিপোর্টকালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো তৎপরতা দেখায়নি। সেগুলো হলো—জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালে মোট ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। লোকসানবহুল ব্যাঙ্কগুলোর তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি লোকসানকারী ব্যাংক সত্ত্বেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে—এবং সেগুলো হলো এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, ব্যাংকিং খাতে সংকটের ছায়া ও রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তার প্রভাবেই সিএসআর ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমেছে; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গ্রাফ বদলানো গেলে সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—তাই স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি মেনে চলা ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

  • রিপোর্টে: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৫২ কর্মকর্তার মৃত্যু দাবী

    রিপোর্টে: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের ৫২ কর্মকর্তার মৃত্যু দাবী

    কয়েকটি মিডিয়া ও অনলাইন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ৫২ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—ইরানের সামরিক কمان্ড, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে গভীর ভাঙন তৈরি করবে। তবে উল্লেখ্য, এই দাবিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে যাচাই যোগ্যতা পাননি এবং সরকারিভি বা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে সম্মিলিতভাবে স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

    ক্ষমতার কেন্দ্রকে আঘাত—দাবি ও অনিশ্চয়তা

    কিছু রিপোর্টে তালিকার শীর্ষেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যত্র বলা হয় শীর্ষ পর্যায়ের আরও একাধিক রাজনীতিবিদ ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন—যেমন আলী লারিজানি, আলী শামখানি ইত্যাদি। তবে এসব সংবাদের সত্যতা নিয়ে নানামুখী দাবি-প্রতিমত চলছে এবং স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ ধরনের রিপোর্টে সরাসরি কৃতকার্য বলে ঘোষণা না করে ‘দাবি করা হয়েছে’ বা ‘সূত্র বলছে’ বলে উপস্থাপন করা জরুরি।

    সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক ক্ষতি—প্রতিবাদের প্রভাব

    রিপোর্টগুলোর ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, গঠনতান্ত্রিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে একের পর এক শীর্ষ ব্যক্তি হত্যা হওয়ায় সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে вакুম তৈরি হয়েছে। যেমন চিফ অব স্টাফ, উচ্চ র‌্যাঙ্কিং কমান্ডার এবং অপারেশন প্রধানদের দাবিকৃত হত্যাকাণ্ড ইরানের সামরিক সমন্বয়কে দুর্বল করেছে—যদি এই দাবিগুলো সত্যি হয়। ধারাবাহিক নেতৃত্বক্ষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও оператив নির্দেশনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত করে, ফলে সামরিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরক্ষা ঝুঁকিতে পড়ে।

    আইআরজিসি এবং আঞ্চলিক শক্তি

    রিপোর্টে বলা হয়েছে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস)-এর উচ্চপদস্থ কমান্ডার ও তিনটি প্রধান শাখা—স্থল, নৌ ও মহাকাশ—লক্ষ্যবিহিতভাবে আঘাত পেয়েছে। মহাকাশ বাহিনী বা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রোগ্রামের প্রধানদের ওপর হামলা হলে এসব কর্মসূচি কার্যকারিতাহীন হয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। নৌ বাহিনীর শীর্ষ সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হলে পারস্য উপসাগরে ইরানের উপস্থিতি ও অপারেশনাল ক্ষমতা সীমিত হবে, যা আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    গোয়েন্দা কাঠামোতে টেকনিক্যাল আঘাত

    রিপোর্ট অনুযায়ী ইরানের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় বা আইআরজিসি-র গোয়েন্দা শাখার একাধিক নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাদের হত্যার দাবি উঠেছে। এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ নির্দেশ করে যে হামলাকারীরা গভীর গোয়েন্দা-infiltration ও সুনির্দিষ্ট আক্রমণের মাধ্যমে উচ্চস্তরের বৈঠক পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহে সক্ষম হয়েছে—যা দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে। আবারও বলছি, এসব দাবির স্বাধীন যাচাই বহুলাংশে অনুপস্থিত।

    পারমাণবিক কর্মসূচি ও কুদস ফোর্সে প্রভাব

    কয়েকটি আলাদা ও পুরনো ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করে রিপোর্টগুলো বলছে, পারমাণবিক গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের ওপরও লক্ষ্যবস্তু অবস্থান করছিল—যেমন মোহসেন ফাখরিজাদেহর হত্যাকাণ্ড (যা কয়েক বছর আগে ঘটেছিল)। কুদস ফোর্সের উচ্চপদস্থদের হত্যার ফলে ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক—সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে—ও দুর্বল হয়েছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কাসেম সোলাইমানির ২০২০ সালের হত্যাকাণ্ডই ছিল এ ধরনের নেটওয়ার্কে বড় আঘাতের একটি পূর্বসূরী।

    অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব

    রিপোর্টে বলা হয়েছে বাসিজ বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপরও আঘাত হয়েছে, যা ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে তুলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদিভাবে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক অপারেশন দুর্বল নেতৃত্ব, ভীতি এবং অভ্যন্তরীণ অবিশ্বাস বাড়াতে পারে—যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    কৌশলগত মূল্যায়ন

    এই আক্রমণ/নির্ধারণগুলো যদি যাচাইযোগ্য হয়, তাহলে কয়েকটি জিনিস স্পষ্ট হবে: একটি, হামলাগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও তথ্যনির্ভর ছিল; দুই, শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক ক্ষতি সামরিক ও গোয়েন্দা সমন্বয়কে দুর্বল করেছে; তিন, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, এসব দাবি যাচাই না হলে পরিস্থিতি সম্পর্কে কেবল অনুমানেই সীমাবদ্ধ থাকা ছাড়া উপায় নেই।

    ভবিষ্যৎ चुन challenge

    ইরানের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে—নতুন দক্ষ নেতৃত্ব গঠন, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ-আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার। তাত্ত্বিকভাবে এসব করাই সম্ভব হলে দেশটি ধীরে ধীরে সমন্বয় ও প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারে; কিন্তু ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ থাকলে তা সহজ হবে না।

    নোট: এই প্রতিবেদনে যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মৃত বা আহত বলে দাবি করা হয়েছে, সেগুলো প্রধানত তৃতীয় পক্ষের উৎস ও অনলাইন রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব খবর সরকারি বা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সম্মিলিতভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাস্তবতা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

  • ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজরের নামাজে হাজির হাজারো মুসল্লি

    ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা: ফজরের নামাজে হাজির হাজারো মুসল্লি

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দিয়েছে, যা প্রায় ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নজিরবিহীনভাবে বন্ধ ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো সেখানে ফজরের নামাজ আদায় করেন বেশী করে বলা যায় ৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি। অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা গেছে মসজিদের গেট খুলতেই সিংহভাগ মানুষ অঙ্গিনায় ঢুকছে, দীর্ঘদিন পরে আল-আকসায় ফিরে এসে খুশি ও облегчতাবোধ করছে।

    কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করে, মসজিদ এবং মুসল্লিদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময় আল-আকসা বন্ধ করে ফেলে এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়ও মসজিদ বন্ধ ছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বললেও ফিলিস্তিনিরা এই যুক্তি মানতে অস্বীকার করেছে। একই সময়ে ইসরায়েল অন্যান্য জায়গায় বড় ইহুদি ধর্মীয় সমাবেশকে অনুমতি দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    অনেকে বলছেন, যুদ্ধে উদ্বেগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে—যার মধ্যে আছে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সময়সূচি নির্ধারণ এবং অনুমোদিত কার্যক্রম সীমিত করা।

    পুরনো জেরুজালেমের আল-আকসা দীর্ঘকাল ধরে ‘স্ট্যাটাস কো’ নামে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আওতায় চালিত হয়ে আসে—অর্থাৎ মসজিদে প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকার কথা। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেছেন ইসরায়েল বহু বছর ধরে এই ব্যবস্থাকে লঙ্ঘন করে আসছে, বিশেষ করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের প্রবেশ ও প্রার্থনার অনুমতি দিয়ে ফিলিস্তিনিদের সম্মতি উলঙ্গ করে।

    এই এলাকার ওপর ইসরায়েলের দখল আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে অনৈতিক বা অবৈধ বিবেচিত হয়; অংশবিশেষে বলা হয়—দখলকারী শক্তির ওই ভূখণ্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব নেই এবং সেখানে স্থায়ী পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া যায় না।

    মসজিদ পুনরায় খোলার পরই উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিরা প্রায় প্রতিদিন অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং তাদের সেখানে থাকা সময়ও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ফজরের নামাজের পর মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহু ইসরায়েলি সেখানে ঢোকে; তাদের মধ্যে অনেককে পুলিশি নিরাপত্তায় প্রার্থনা ও নাচ করতে দেখা গেছে।

    যুদ্ধের আগে এই ধরনের ইহুদি অনুপ্রবেশ সাধারণত কর্মদিবসে দুই শিফটে সীমাবদ্ধ ছিল—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১টা ৩০ থেকে ২টা ৩০ পর্যন্ত। এই পদ্ধতি প্রথম চালু হয় ২০০৩ সালে দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদের সময় এবং ২০০৮ সালে এটি আরও কাঠামোবদ্ধ করে নেওয়া হয়; তখন সকালে সীমিতসংখ্যক দলে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার অনুমতি দেওয়া হতো। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সময় ও শিফট দুটোই ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছিল।

    ইরান যুদ্ধের আগে যে নতুন সময়সূচি অনুমোদিত হয়েছিল, তাতে এখন অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬টা ৩০ থেকে ১১টা ৩০ এবং দুপুর ১টা ৩০ থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত—মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টার মতো সময়। জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বাড়াকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং জানিয়েছে, এ ধরনের পরিবর্তন স্ট্যাটাস কোকে দুর্বল করার এবং সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নির্দেশ করে—বিশেষ করে ৪০ দিন পর মসজিদ খোলার এই প্রেক্ষাপটে।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই