বিএনপি সিলেবাসে উল্লেখিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু উন্নয়নই সম্ভব নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন প্রকৃত অর্থে এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় খুলনার খালিশপুরের ১২নং ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও রুহের মাগফিরাত কামনায়। তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে বিএনপির কর্মসূচি ও কাজের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে ভোটাররা বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চোখ খোলার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি একথাও উল্লেখ করেন যে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নানা মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে যেমন— নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যায়— যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইসলাম ধর্মে এমন কিছু বলতে নেই, এমন অপপ্রচার ও ভ্রান্ত ধারণার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। এফকোলে তিনি বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখন থেকেই নারী উন্নয়ন ও সামাজিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু খাদ্য উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেননি, পাশাপাশি দেশের খাদ্য রপ্তানি সক্ষমতাও বাড়িয়ে তুলেছিলেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে বিএনপি প্রথমে দেশে নকলমুক্ত পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিশুদের জন্য ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ মত প্রকল্প শুরু করেন। এছাড়া, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন, ইসলাম প্রচার-প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা ও আলেম সমাজের সম্মান রক্ষায় বিএনপি সবসময় সক্রিয় রয়েছে। দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী এবং সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল হোসেন। খালিশপুর থানার বিএনপি’র সভাপতি এড. মোহাম্মদ আলী বাবু, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুসসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে, বিএনপি ও দেশের উন্নয়ন কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয় যাতে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের জন্যও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
Blog
-

টানা আট দফা বৃদ্ধির পরে সোনার দাম কমলো
দেশের বাজারে দীর্ঘ আট দফা মূল্যবৃদ্ধির পর বাংলাদেশ সরকার সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এখন থেকে ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার জন্য ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন এই দাম কার্যকর হবে আগামী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমেছে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দামে দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম নিচের মতো নির্ধারিত হয়েছে: ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ উন্নান ১৯৫৬ ৫৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।
অতিরিক্তভাবে, বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারি ধার্য ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২৮ ডিসেম্বর বাজুস সোনার দাম আবারো সমন্বয় করেছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। সেই সময়ে অন্যান্য ক্যারেটের দাম ছিল: ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা।
এ বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়িয়েছে ৬৪ বার, কমিয়েছে ২৮ বার। চলতি বছর ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় করা হয়, যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে ও ২৭ বার কমেছে।
বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, দাম কমেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। অন্যান্য ক্যারেটের দাম: ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।
এ বছর এখন পর্যন্ত ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ১০ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ৩ বার দাম কমানো। গত বছর শুধুমাত্র ৩ বার রুপার দাম সমন্বয় হয়।
-

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমল
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় পরিকল্পনার মুনাফার হার আবারও কমিয়ে আনছে সরকার। নতুন এই হার অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০.৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার হবে ৮.৭৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেও মুনাফার হার হ্রাসের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার পরিবর্তিত হচ্ছে। বিনিয়োগের পরিমাণ যত কম, ততই বেশি মুনাফার হার পাবেন বিনিয়োগকারীরা; আর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার কিছুটা কমে যাবে। বিনিয়োগের সীমা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই সীমার নিচে বা সমান পরিমাণ বিনিয়োগে মুনাফার হার বেশি হবে, আর এর বেশি হলে কমে যাবে।
নতুন মুনাফার হার অনুযায়ী, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে চলতি নিয়মে ৫ বছরের মেয়াদ শেষে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ; এখন তা কমিয়ে ১০.৫৪ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১.৮০ শতাংশ, সেটাও কমে ১০.৪১ শতাংশ হয়েছে।
পেনশনধারী ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, ৫ বছর পর বিনিয়োগের মুনাফা ছিল ১১.৯৮ শতাংশ; এখন তা ১০.৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে, যাদের ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, তাদের জন্য মুনাফার হার এখন ১০.৪১ শতাংশ।
বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ৫ বছরের মেয়াদের জন্যও মুনাফার হার কমানো হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে এই হার ছিল ১১.৮৩ শতাংশ, এখন তা ১০.৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পাশাপাশি, এই বিনিয়োগের জন্য আগের হার ছিল ১১.৮০ শতাংশ, এখন তা ১০.৪১ শতাংশে উন্নীত।
তথাপि, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে আগের তুলনায় মুনাফার হার কমে গেছে। ওই সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের জন্য মুনাফার হার আগে ১১.৮২ শতাংশ ছিল, এখন তা ১০.৪৮ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, আগে হার ছিল ১১.৭৭ শতাংশ, এখন কমে ১০.৪৩ শতাংশ হয়েছে।
এছাড়াও, ১ জুলাই ২০২৫ এর আগে ইস্যু করা সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের জন্য, ইস্যুকালীন মেয়াদে তখনকার মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, নতুন হার ওই তারিখের হারই কার্যকর থাকবে। তবে, ছয় মাস পর পর মুনাফার হার পুনর্নির্ধারিত হবে।
-

ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা
বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে দেশের বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। দেশের হিসেবে এর পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকার হিসাব অনুযায়ী)। এই হিসেবে এটি নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্যসমৃদ্ধ হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তুলনায় দেখতে গেলে, আগের অর্থবছরের একই সময়ের মধ্যে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ বেড়েছে ৬৯ কোটি ডলার, যা প্রায় ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২২০ কোটি ডলার, যা এই সময়ের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৮ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল এভাবে: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর থেকে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, এবং নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল নতুন রেকর্ড—এটি মোট ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। সেই অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।
-

বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমেছে ১৪৫৮ টাকা
নতুন বছরের শুরুর দিন দেশের বাজারে আবারো সোনার দাম কমেছে। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা, যার ফলে নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এই দাম পরিবর্তনটি দেশের জুয়েলার্স ও স্বর্ণবাজারে নতুন মূল্য হিসেবে কার্যকর হবে আজ থেকেই।
অতীতে, ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠকে সোনার বর্তমান দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ওই কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়।
নতুন নির্ধারিত দামে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের ভরির দাম হবে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই দামেব সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে এই মজুরির পার্থক্য থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর, দেশের স্বর্ণ বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা মূল্য হ্রাস করে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারিত হয় ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। অন্য শাখায়, ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা ও সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।
বর্তমানে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪ বার মূল্য বাড়ানো হয়েছে, আবার ২৯ বার কমানো হয়েছে।
এছাড়াও, এই প্রথমবারের মতো দেশের বাজারে রুপার দামও কমানো হলো। ধοι ভরিতে ৫২৫ টাকা মূল্য হ্রাস করে ভরির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্য ক্যাটাগরিতে, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
এটি দেশের বাজারে প্রথম রুপা দামের সমন্বয়। গত বছর, দেশের স্বর্ণ বাজারে ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছিল ১০ বার এবং কমানো হয়েছিল ৩ বার।
-

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পরিবর্তন বাতিল, আগের হারই বহাল থাকবে
সরকার সম্প্রতি সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আগের হারগুলোকে পুনরুদ্ধার করেছে। এতে রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এর মাধ্যমে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে হারে মুনাফা দেওয়া হচ্ছিল, আগামী ছয় মাসও সেই একই হার বজায় থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার প্রথমে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, কিন্তু সমালোচনার দীর্ঘ সুরে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তারা আগের হারগুলোকে কার্যকর রাখে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যারা মূলত সঞ্চয়পত্রের উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই হার গুরুত্বপূর্ণ।
জানা যায়, রোববার অফিস খুলার পর উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং নতুন করে আগের হারগুলোকে কার্যকর করতে অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলস্বরূপ, বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট স্কীমে পুরোনো হারগুলি বহাল রাখা হয়েছে। এসব স্কীমে নির্ধারিত সর্বোচ্চ বিনিয়োগ amount হলো ৫০ লাখ টাকা। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা কম মুনাফা দেওয়া হয়, তবে মূলত সবকিছুরই হার আগের মতোই থাকবে।
বিশেষ করে পরিবার সঞ্চয়পত্রে, যেখানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচবছর মেয়াদ পূর্ণ হলে Mুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ, এবার সেটি পুনরায় ১০.৪৪ শতাংশে নামায়। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১.৮০ শতাংশ থেকে ১০.৪১ শতাংশে ফিরে এসেছে। এর ফলে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগের মতোই স্থায়ী থাকবে।
এছাড়াও, গত বছরের জানুয়ারির পর থেকে সঞ্চয়পত্রের হার ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুযায়ী নির্ধারিত হচ্ছে। ৫ বছর ও ২ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সর্বশেষ নিলামের ভিত্তিতে গড়ে উঠা সুদ হার এই হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও সম্প্রতি হ্রাস পায়। প্রাথমিকভাবে এই হার পরিবর্তনের ঘোষণা ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের জন্য বলেছিল সরকার।
প্রধানভাবে, দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সঞ্চয়পত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। তারা বিপদের সময় এই সঞ্চয় ভাঙেন, আবার নিজেদের মাসিক খরচ মেটানোর জন্য এই থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি বাহ্যত ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকায়, এসব বিনিয়োগের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকরা, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষজনের জন্য এই হারের অবনমন উপকারী নয় বলে মতামত রয়েছে।
-

প্রতারণার অভিযোগে এনসিপি থেকে বিদায় নিলেন নীলিমা দোলা
জুলাই মাসে বিপ্লবী তরুণদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বর্তমানে পদত্যাগের স্থৈর্যশীল ঢেউয়ে ভরপুর। এই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, নীলিমা দোলা। তিনি বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ তুলে দলের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে তারপ আপত্তি প্রকাশ করে দল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
-

দু-এক দিনের মধ্যে তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন: মির্জা ফখরুল
দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার সন্ধ্যায় সিলেটে হযরত শাহজালাল রাহমতুল্লাহ আলাইহির মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকlerle কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল জানান, ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর তারেক রহমানকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে দলের চেয়ারপারসনের পদে বসানোর প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সিলেট থেকে প্রচার অভিযান শুরু করবে বিএনপি। এই নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ দিন ধরে মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিএনপির প্রধান লক্ষ্য, সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও তাঁর অবদান স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি সম্মানের সঙ্গে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটি বাস্তবায়নে দেশে নতুন ভিত্তি গড়ে উঠবে এ প্রত্যাশা রাখি।
অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানান, বর্তমান সুযোগগুলো কাজে লাগাতে এবং শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও কার্যকরি গণতান্ত্রিক সংসদ গঠনে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে। গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয় না, এটি প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘ সাধনা ও সংগ্রাম দরকার।
এছাড়াও, ভূপৃষ্ঠে একজন শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের সিলেট সফরকালে ব্যক্তিগতভাবে তিনি রোববার হযরত শাহজালাল ও শাহপরান রাহমতুল্লাহ আলাইহিমার মাজার জিয়ারত করেন।
-

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতি
একটি ব্যাপক আলোচনা ও সমঝোতার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত হন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে। এই বৈঠকে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংস্হার প্রতিনিধিরা, যারা নিজেদের সম্মুখীন বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতিবন্ধকতা, চাঁদাবাজি, ব্যাংকের উচ্চ সুদ, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি gibi সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরেন।
-

তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগ স্বইচ্ছায় হচ্ছে না: গোলাম পরওয়ার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয় সময় কিছু রিটার্নিং অফিসার ব্যক্তিগত ইখতিয়ারে বা নিজস্ব বিবেচনায় তুচ্ছ বিষয় ধরে প্রার্থিতা বাতিল করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীুর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণ ও কাগজপত্র দাখিলের পরও কিছু রিটার্নিং অফিসার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা না করে ভিন্ন মাপকাঠি দিয়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাতিল করছেন। এটি নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক ও উদ্বেগের বিষয়।
গেল রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এ সব কথা জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সারাদেশে ভোটের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার পর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলমান থাকলেও কিছু জেলার রিটার্নিং অফিসাররা ভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বিশেষ করে, ছোটখাটো বিষয় দেখিয়ে বা ব্যক্তিগত ইচ্ছায় অনেক যোগ্য প্রার্থী নিজেদের প্রার্থিতা হারাচ্ছেন। কেউ কেউ এমন ক্ষেত্রেও কঠোরতা দেখাচ্ছেন যেখানে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ছাড় দিতে পারতেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক প্রার্থীর প্রার্থিতা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হচ্ছে বলে তাঁদের ধারণা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় কিছু অঘোষিত বিষয় ধরে বা আইনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক উপেক্ষা করে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা বেড়ে গেছে। এটা দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য হতাশাজনক এবং অস্বস্তিকর। কিছু মহলের ইন্ধনে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে বলে আমাদের মনে হয়। সেই সঙ্গে, যেসকল প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল হচ্ছেন, তাদের প্রার্থিতা অবিলম্বে বৈধ ঘোষণা করা উচিত।’
গোলাম পরওয়ার এও উল্লেখ করেন, যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে কিভাবে হবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, অবাধতা ও নিরপেক্ষতা, তা এক বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রিটার্নিং অফিসারদের উচিত গুরুত্বহীন ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় ধরে প্রার্থীদের বাতিল না করে, সকলের জন্য সমান সুযোগ ও সুবিচার নিশ্চিত করে নির্বাচন সম্পন্ন করতে। পাশাপাশি, নির্বাচনের মাঠটি যেন হয় সমতল, সেটাও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি অপপ্রয়াসে অভিযুক্ত রিটার্নিং অফিসারদের দ্রুত সতর্ক করে দিয়ে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সব প্রার্থী যেন আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে এবং অবাধ, সুসংহত ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
