Blog

  • ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ক্ষমতার মদদে বিএনপি এখন জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে তারা জনগণের অধিকার ও মুক্তির জন্য লড়াইকারী শ্রমিকদের কথা উপেক্ষা করছে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, এ দেশের ইতিহাস বলছে, শ্রমিকেরা রক্ত দিয়ে দেশের মুক্তি এনেছেন। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি ১৯৭৪ ও ২৪ জানুয়ারির গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের বেশিরভাগই শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমিকদের এই আত্মত্যাগের কারণে আমাদের এই স্বাধীনতা ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই পক্ষই জনগণের রক্তের ওপর ক্ষমতা দখল করেছে। বিশেষ করে বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠিত হলেও তারা শ্রমিকদের রক্তের মূল্য বুঝতে পারেনি, বরং জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে বেইমানি করেছে। গণভোটে ভোটপ্রদানকারীদের প্রত্যাখ্যান করেছে, যা দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই তিনি বলন, এই সরকার গণবিরোধী, এবং বিএনপি ক্ষমতার লোভে জনগণের হূদয় ভুলে গেছে।

    নাহিদ অভিযোগ করেন, অতীতের ধারাবাহিকতা অনুসারে, অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর ও সংস্কার হিসেবে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা তারা ভঙ্গ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংগ্রামী শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায়বিচার বাস্তবায়নে এখনই অবিলম্বে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

    নাহিদ বলেন, আমরা এক নতুন জাতীয় ঐক্যের পথে অগ্রসর হয়েছি, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সে ওয়াদার প্রতিশ্রুতি—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া, সকল স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতকরণ—অগোচরে থাকব না। এই লড়াইয়ে সবাইকে সততার সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের শ্রমিক, কৃষক, সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই আমাদের পরিকল্পনা ও আন্দোলন সফল হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই ঐক্যের পথে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে শ্রমিকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, যেন সবাই একযোগে এগিয়ে আসে। বলন, ‘আপনাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য রাজপথে নামতে হবে। রাজপথের প্রস্তুতি ও গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে হবে যেন জুলাই সনদ, গণভোটের ফল এবং শ্রমিকের অধিকার—সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়।’

  • কিডনি চিকিৎসক ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদাবাজি, প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেফতার ৭

    কিডনি চিকিৎসক ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদাবাজি, প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেফতার ৭

    রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, তবে এর বিস্তারিত কিছু এখনো প্রকাশ হয়নি।

    র‌্যাবের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া থানার পুলিশ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে। এছাড়া অন্য গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. লিটন মিয়া, মো. সুমন, মো. শাওন, স্বপন কাজি, মো. ফালান এবং রুবেল।

    এর আগে, বিভিন্ন সময় হাসপাতালটির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে, যেখানে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে ডা. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে প্রায় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে শ্যামলীর ওই হাসপাতালে প্রবেশ করে। সেখানে যুবদল নেতা বলে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি চাঁদা দাবি এবং হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।

    এখন পর্যন্ত জানা গেছে, শুধু এ দিনই নয়, ৫ আগস্টের পর থেকেই নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে হাসপাতাল থেকে চাঁদা সংগ্রহের মতো অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। অভিযোগ রয়েছে, তারা হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে রোগীর স্বজনদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছিলেন। বিশেষ করে, ডা. কামরুলকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হাসপাতালটির সামনে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করারও অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে হুমকি দেয়। এর জের ধরেই মাঝরাতের দিকে হাতের লোকজন নিয়ে হাসপাতালটি যান কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতারা। অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন নিজেকে শেরেবাংলা নগর থানার যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করলেও নেতারা জানান, তার সঙ্গে যুবদলের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তারা ডা. কামরুলকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    বিশিষ্ট এই চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে দেশের একজন প্রশংসিত ব্যক্তি, যিনি মানবতার কাজের জন্য দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০২২ সালে তিনি স্বাধীনতা পদকও লাভ করেন। হাসপাতালটি প্রায় ২ হাজারের বেশি রোগীকে বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানবসেবায় এক অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

  • আগামী সপ্তাহে ভারত থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা চালু

    আগামী সপ্তাহে ভারত থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা চালু

    দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে ভারতীয় ভিসা অনেকটাই বন্ধ ছিল। তবে ধীরে ধীরে ভারত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে উদ্যোগী হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য নতুন করে মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে ভারত সরকার।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারতের সাথে সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। মনোভাব পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পর্কের ইতিবাচক দিকটি সামনে আনতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আন্তরিকতা দেখানো হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ভারতীয় নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশে থাকা কিছু সন্ত্রাসীর বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তবে সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় সেই বিষয়গুলো সমাধান করবে। শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি ভারতীয় উচুঁ পর্যায়েও আস্থা ও সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির।

    উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বিএনপি দেশের স্বার্থে কাজ করছে এবং জনগণের স্বার্থের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে সরকার। এরই মধ্যে, পাইপলাইনে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়েও ভারতকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

    প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তিনদিনের সফরে দিল্লি যান। এই সফরে তারা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা করেন।

  • টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

    টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

    হাম এবং অন্যান্য রোগের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি আবেদন করা হয়েছে। এ আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ এবং ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুদক চেয়ারম্যানের কাছে এই আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা আছে। দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি রক্ষা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তের আবশ্যকতা রয়েছে। especially in the procurement and distribution of vaccines and syringes, শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনিয়মের কথা তুলে ধরে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বিশেষ করে, সম্প্রতি সারাদেশে হামের বিস্তার এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই আবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জনসাধারণ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমস্যার জন্য মূলত অতীত সরকারের টিকা সংগ্রহের নীতিমালা ও দুর্নীতি দায়ী। হামে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশু মৃত্যুর ঘটনাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অতিরিক্তভাবে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য বিভাগে হামের টিকা এবং সিরিঞ্জের অভাবকে পেছনের সরকারের সমস্যা হিসেবে দেখছে। তবে, অপ্রতুল প্রস্তুতি এবং টিকা ক্রয়ে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে না পারা, দেশের স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট বাজেট থাকা সত্ত্বেও, সঠিকভাবে অর্থের ব্যবহার না হওয়া ও দুর্নীতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্যখাতে টিকা ও সিরিঞ্জের ক্রয়ে সরাসরি অনিয়মের তথ্য বেশ স্পষ্ট।

    অতএব, এ মামলার মাধ্যমে তদন্তে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। এর ফলে দেশের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করে এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় অবদান রাখা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

  • ধর্ম অবমাননাসহ অভিযোগে জামিনে মুক্তি পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার

    ধর্ম অবমাননাসহ অভিযোগে জামিনে মুক্তি পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার

    গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জনপ্রিয় বাউলশিল্পী আবুল সরকার। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে তিনি রিকশায় চড়ে কারাগার থেকে বের হন। এরপর সাদা রঙের একটি গাড়িতে করে মূল ফটক দিয়ে বের হয়ে যান। His পরিবারের সদস্যরা এই সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি।

    গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন নিশ্চিত করেছেন যে, জামিনের কাগজপত্র যখন কারাগারে পৌঁছায়, তখন তা যাচাই-বাছাই শেষে কোনও অন্য মামলা না থাকায় আজ বেলা ১১টায় তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়।

    আবুল সরকারের আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল জানান, গত বছরের ২০ নভেম্বর ধর্ম অবমাননা ও কটুক্তির অভিযোগে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। জামিনের জন্য আবেদন করেন, যা হাই কোর্টের বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৬ মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে গত ৫ এপ্রিল।

    উল্লেখ্য, এর আগে ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় একটি পালাগান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় আবুল সরকার ধর্ম অবমাননা ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনাপ্রবাহের ফলে তিনি বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

  • সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

    সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

    রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইন্দিরা রোড খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের প্রথম জানাজার নামাজ। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই জানজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন।

    অপরদিকে, দুপুর দেড়টায় সুপ্রিম কোর্টে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর, বিকাল ৫টায় আজিমপুর কবরস্থানে তার জীবনৰ সঙ্গী মাহফুজা খানমের পাশে দাফন সম্পন্ন হবে।

    শফিক আহমেদ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

  • পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: হরমুজ প্রণালিতে কোনও বাংলাদেশি জাহাজ আটকে থাকবে না

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: হরমুজ প্রণালিতে কোনও বাংলাদেশি জাহাজ আটকে থাকবে না

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ নিশ্চিত করেছেন যে হরমুজ প্রণালিতে কোনও বাংলাদেশি জাহাজ আটকে রাখা হবে না। তিনি রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ইরান আশ্বস্ত করেছে যদি কোনো বাংলাদেশি জাহাজ আটকে পড়ে তাহলে তা দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের আয়োজন করায় পাকিস্তানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। শামা ওবায়েদ সতর্ক করে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনায় ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় তবে তার নেতিবাচক প্রভাব পরে সব দেশকেই মুখোমুখি হতে হবে।

    সরকার যুদ্ধাবস্থায় জ্বালানি সংকট এড়াতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটের মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরামর্শ ও পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে দেশ ন্যূনতম ঝুঁকিতে থাকে।

    একই সময় তিনি জানান, যেসব বাংলাদেশি নাগরিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরে আসতে চান, তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি হামলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননে বাংলাদেশের মিশনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামে একটি বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ওই জাহাজটি ইরানি কর্তৃপক্ষ আটক করার অভিযোগ ওঠে, যা নতুন করে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে উদ্বেগ উত্থাপন করেছিল।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন এবং প্রণালিতে প্রবেশ বা বাহিরের চেষ্টা করা যে কোনো জাহাজকে আটকে রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। ফলে ইরান যদি বাধা না দেয় তবুও বর্তমানে হরমুজে বাংলাদেশের জাহাজগুলো নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।

  • প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান হবে: কৃষিমন্ত্রী

    প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান হবে: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলা ও ১১টি উপজেলায় মোট ২২,০৬৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেয়া হবে। তিনি জানান, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

    রোববার সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

    মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। লক্ষ হলো আধুনিক, জলবায়ু-সহনশীল ও প্রযুক্তিভিত্তিক একটি কৃষি ব্যবস্থার দিকে যাওয়া যেখানে উৎপাদন ও বিপণন তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হবে। কৃষককে ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা বানিয়ে কৃষিকাজকে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    কৃষক কার্ড প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য—কৃষকদের মর্যাদা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত কার্যপ্রণালী গঠন করা। কার্ডধারীরা সরাসরি সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও বিভিন্ন সেবা পেতে পারবে।

    কার্ড বিতরণে কৃষককে জমির মালিকানার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে: ভূমিহীন কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র কৃষক, মাঝারি কৃষক ও বড় কৃষক। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচিটি ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হবে—প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং ও শেষ পর্যায়ে দেশব্যাপী কার্যক্রম।

    পাইলট পর্যায়ে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলায় ১১টি উপজেলা ও ১১টি ব্লকের ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ছাড়াও মৎস্যচাষী, মৎস্য আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণীর কৃষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

    প্রাক-পাইলট পর্যায়ের জন্য বাছাইকৃত জেলা ও ব্লকগুলোর নাম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন—পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর নেসারাবাদ উপজেলায় রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ী গোয়ালনন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভীবাজার জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় গোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক এবং জামালপুর ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক। এই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষীদের কাছে কার্ড বিতরণ করা হবে।

    কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড হল একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখাগুলোতে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করা হবে। ১১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২,০৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯,৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮৯৬ জন, মাঝারি কৃষক ১,৩০৩ জন ও বড় কৃষক ৫১ জন।

    মন্ত্রী আরও জানান, বাছাইকৃত কৃষকদের শ্রেণিভিত্তিক ধরন অনুযায়ী—ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ২,১৪১ জন, মৎস্যজীবী ৬৬ জন, প্রাণিসম্পদ খামারি ৮৫ জন এবং লবণচাষী ৩ জন। মোট বাছাইকৃত ২২,০৬৫ জনের মধ্যে প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০,৬৩১ জন, যা মোট কৃষকের ৯৩.৭ শতাংশের সমান।

    পাইলট পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বার্ষিক সরাসরি নগদ প্রণোদনা হিসাবে প্রতিজনকে ২,৫০০ টাকা প্রদান করা হবে। কার্ডধারীরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে পিওএস বা মুদ্রণযোগ্য সেল মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের খাদ্যসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন।

    প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রি-পাইলট সফল হলে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে এবং পাইলট অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী চার বছরে সারাদেশে কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেস তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

    মন্ত্রী জানান, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদপুর মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাক-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করা হবে। কুমিল্লা জেলার অরণ্যপুর ব্লক ব্যতিরেকে বাকি ৯টি ব্লকে একই দিনে কার্ড বিতরণ করা হবে; কুমিল্লার অরণ্যপুর ব্লকে কার্ড বিতরণ করা হবে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে।

    উপসংহারে মন্ত্রী বলেন, কৃষি একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা এবং এই কৃষক কার্ড কৃষকের মর্যাদাকে আরো উজ্জ্বল করবে। কার্ডের মাধ্যমে সময়োপযোগী নানা সেবা যুক্ত হবে এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি স্মার্ট ডাটাবেসের আওতায় এসে সার ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে, চাহিদা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন নিশ্চিত হবে এবং কৃষকের ক্ষতিপূরণ দ্রুতভাবে সরকারের নজরে আসবে।

    সূত্র: বাসস

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এসব মন্তব্য করেন।

    নাহিদ বলেন, ‘‘এই দেশের ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি—শ্রমিকেরা রক্ত দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে যে সকল গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, বিশেষ করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।’’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘শ্রমজীবীদের রক্তের ওপর থেকে ক্ষমতায় ওঠা বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন সরকারের আগমন শ্রমিকদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই হয়েছে, কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে। তারা গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করেছে—এই সরকার গণবিরোধী। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।’’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো আইন করা ও সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বিএনপি ভঙ্গ করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‘ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভালো হবে না। আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকদের অধিকারসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য বাধ্য করব।’’

    নাহিদ আরও জানান, ‘‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের প্রত্যেকে ইনসাফ নিশ্চিত করা, নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশভাগ নিশ্চিত করা—সেই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’ তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের বাংলাদেশের দেখা স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে হবে।’’

    শিক্ষিত কর্মসূচি ছাড়াও রাজপথে গিয়ে গণ-আন্দোলন করার প্রস্তুতির তাগিদ দেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদের পথে নয়, রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। রাজপথ ও গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের আইনি অধিকার ও অন্যান্য দাবি নিশ্চিত করা হয়।’’

  • শেষ দিনে বিরোধীদের ওয়াকআউটকে যৌক্তিক মনে করলেন না সালাহউদ্দিন

    শেষ দিনে বিরোধীদের ওয়াকআউটকে যৌক্তিক মনে করলেন না সালাহউদ্দিন

    সামনের দিনে জাতীয় সংসদের শেষ কার্যদিবসে জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দলের (বিএনপি) ওয়াকআউটের কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সালাহউদ্দিন বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ঈদসহ নানা ছুটির কারণে কাজের সময় সীমিত ছিল। বিধি অনুযায়ী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যাদেশ উত্থাপন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় সময়ের চাপ আরও বেড়ে যায়। সেই কারণেই এমন চাপের মধ্যে শুক্রবারও অধিবেশন চালাতে হয়েছে। স্বল্প সময়ে সব প্রস্তুতি শেষ করা সবসময় সহজ নয়; ফলে শেষ মুহূর্তে কিছু অধ্যাদেশ আগে টেবিলে আনা সম্ভব হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল একাধিকবার ওয়াকআউট করেছে, কিন্তু তাদের যে কোনো অভিযোগকে খতিয়ে দেখা গেলে অনেক তথ্য সঠিক নয়। গণমাধ্যমের সামনে তারা বক্তব্যই দিয়েছে, তবু শেষ কার্যদিবসে আনা অধ্যাদেশ নিয়ে তাদের ওয়াকআউটের কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি ছিল না।

    আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সম্মেলনে অধ্যাদেশ ভিত্তিক কার্যধারার পরিমাণগত চিত্রও উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস হয়েছে, ১৩টি সংশোধন করে পাস করা হয়েছে, সাতটি রহিত করা হয়েছে বা হেফাজত সম্পর্কিত বিলের মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছে এবং ১৬টি অধ্যাদেশ শেষ পর্যন্ত উপস্থাপন করা হয়নি। মোট মিলিয়ে ৯১টি বিলের মাধ্যমে ১১০টি আইন প্রণীত হয়েছে।

    আইনমন্ত্রী বলেন, কিছু বিল — যেমন মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত আইন ও সুপ্রিম সচিবালয়–সংক্রান্ত বিল — উত্থাপন করার সময় প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও আরও যাচাই-বাছাই দরকার বলে উঠেছিল। এসব ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন এবং যারা ভিন্ন দাবি করছেন তাদের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য বলেও উল্লেখ করেছেন।

    গুম কমিশন সম্পর্কেও আইনমন্ত্রী সতর্ক করেছেন যে, যদিও আইসিটি আইনে গুমের সংজ্ঞা আছে, গুম কমিশন সম্পর্কিত আইনে সেই সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে আলাদা করে করা হয়নি। ফলে মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে; এজন্য বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

    মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, কমিশনের তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বিধিবদ্ধ করা হয়নি। কমিশন উভয় পক্ষকে ডেকে শুনতে পারবে, জরিমানা, ক্ষতিপূরণ বা আইনগত পদক্ষেপের পরামর্শ দিতে পারবে এবং প্রয়োজনে নিজে বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে; তবে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের বিধান নেই।

    মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে (এক-এগারো সরকারের সময়ে) যে ১২২টি অধ্যাদেশ জারি ছিল, তার মধ্যে ৫৪টি আইন হিসেবে রূপান্তর হয়েছিল। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ১১৭টি অধ্যাদেশ আইন হিসেবে রূপান্তর করেছে।