Blog

  • শেষযাত্রা আজ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় নেবেন আশা ভোসলে

    শেষযাত্রা আজ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় নেবেন আশা ভোসলে

    ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে একজন অমর নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলের মৃত্যুতে সংগীত জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে সারা ভারতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    গতকাল রোববার স্বাস্থ্যজটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সংক্রমণ এবং বয়সজনিত নানা জটিলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি; তবে শেষমেশ একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার বিকেল ৪টায় তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে, যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য শেষ শ্রদ্ধার আয়োজন রাখা হবে। এই শিবাজি পার্কেই শেষকৃত্য হয়েছিল তাঁর বড় বোন লতা মঙ্গেশকেরও। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিস এমন এক মহৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন।

    গতকাল সন্ধ্যায় মরদেহ নিয়োজিত করা হয় তাঁর লোয়ার পারেলস্থ বাসভবনে। আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভক্তরা সেখানে এসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পেয়েছেন। গায়িকার ছেলে আনন্দ ভোসলে বলেছেন, ‘যাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চান, তারা বেলা ১১টা থেকে তাঁর বাসভবনে উপস্থিত হতে পারেন।’ পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ‘শেষদর্শন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত চলবে। এরপর বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে অনুষ্ঠিত হবে তাঁর শেষকৃত্য।’

    আশা ভোসলের ক্যারিয়ারে সাত দশকের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। তিনি এক হাজারের বেশি গান গেয়েছেন। হিন্দি ছাড়াও তিনি ২০টির বেশি ভাষায় গান করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। গজল, শাস্ত্রীয় ও আধুনিক সব ধরনের ঘরানায় তিনি সমান দখল ছিলেন।

    ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ এবং বহু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তার ঝুলিতে রয়েছে। তাঁর কণ্ঠে আজও বাজে অসংখ্য কালজয়ী গান, যা বলিউডের ঐতিহ্যে অমর হয়ে থাকবে।

    আশার প্রয়াণে বলিউড ও দক্ষিণ ভারতের শিল্পীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। জনপ্রিয় তারকারা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকসন্তপ্ত বাণী জানিয়েছেন—যেমন শাহরুখ খান, কাজল, শ্রেয়া ঘোষাল, কারিনা কাপুর খান, ভিকি কৌশল, রাম গোপাল ভার্মা, আনু মালিক, কমল হাসান, জুনিয়র এনটিআর ও আরও অনেকে।

    অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী বলেছিলেন, ‘আমি অনেকের মতোই আশাজির গানে বড় হয়েছি। তাঁর কণ্ঠ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং মুগ্ধ করেছে। তাঁর গান চিরকাল আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’ দক্ষিণের তারকা রামচরণ বলেছেন, ‘ভারতীয় সংগীতের জন্য এটি অপুরণীয় ক্ষতি। তাঁর কণ্ঠ ছিল একেবারে খাঁটি জাদুর মতো।’

    অন্যদিকে, মিলিন্দ সোমান বললেন, ‘তিনি একজন কিংবদন্তি।’ বেশ কয়েকজন তারকা শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন।

    গতকাল রাত থেকেই ভক্ত ও শিল্পীসমাজের ব্যক্তিরা আশা ভোসলের বাসভবনে এসে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাভেদ আখতার, শাবানা আজমি, এ আর রাহমান, বিদ্যা বালন ও আরও অনেকে। এটি দেশের সংগীতপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল শোকের মুহূর্ত।

  • প্রয়াত আশা ভোসলে: প্রবাদপ্রতিম সংগীতশিল্পীর বিদায়

    প্রয়াত আশা ভোসলে: প্রবাদপ্রতিম সংগীতশিল্পীর বিদায়

    ভারতীয় সংগীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোসলের পঞ্চভূতে বিলীন হলো। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার পরিবার, বন্ধু ও অনুরাগীরা, যেখানে তার ছেলে আনন্দ ভোসলে মুখাগ্নি করেন। এর মাধ্যমে বাংলা সংগীতের এই মহান শিল্পীর বিদায় জানান হলো। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

    গতকাল সকালে মুম্বাইয়ের লোয়ার পারলে তার বাসভবন চাঁদের হাটের চারপাশে ভক্ত ও-প্রশংসকদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে মেজাজ ছিল শোকাবহ, প্রিয় শিল্পীর জন্য গভীর শ্রদ্ধা উজাড় করার জন্য। তার বোনের শেষ বিদায়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন প্রবীণা গায়িকা মীনা খাড়িকর, মঞ্চের অন্যান্য কিংবদন্তি যেমন- আমির খান, শচীন টেন্ডুলকার, এ আর রহমান, জাভেদ আলী, টাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন, মুকেশ ও জ্যাকি শ্রাফের মতো তারকারা। এছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও বহু নেতা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন।

    শ্রদ্ধা শেষে, আশা ভোসলের মরদেহ শিবাজি পার্কের শ্মশানে নেওয়া হয়। তার প্রিয় সাদা-হলুদ ফুলে সৌন্দর্য্য বাড়ানো শবযাত্রায় ছিল অগণিত ভক্তের সমাগম, যারা চোখের জল ঝরিয়ে চিরবিদায় জানাচ্ছিলেন। শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন তার বিভিন্ন খ্যাতিমান শিল্পী, রাজনীতিবিদ ও ক্রীড়ানেতারা।

    আশা ভোসলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ১১ এপ্রিল ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। রবিবার, ১২ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    ১৯৪৩ সালে সংগীতজীবন শুরু করেন আশা ভোসলে। তার কর্মজীবন দীর্ঘ ৮ দশকের বেশি। তিনি শুধু হিন্দি সিনেমায় নয়, আরও ২০টি ভারতীয় ভাষায় গান রেকর্ড করেছেন। বিদেশি ভাষাতেও তিনি ব্যাপক গীতিনির্মাণ করেছেন। তার সিনেমায় গানের সংখ্যা ৯২৫টির বেশি হলেও, আশেপাশে বলাই হয়, তিনি জনপ্রতি ১২ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন। ভারত সরকার তাকে ২০০৮ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করে। ২০১১ সালে গিনেস বুক তাকে সর্বাধিক গান রেকর্ডকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    আশা ভোসলের বড় বোন লক্ষ্মী মঙ্গেশকর তাঁর সহকারী গণপতরাও ভোসলে-কে প্রথম বিয়ে করেন। তখন তার বয়স ছিল ১৬, আর গণপতরাওয়ের বয়স ছিল ৩১। তবে ১৯৬০ সালে তারা আলাদা হন। এরপর, ১৯৮০ সালে সংস্কৃতি জগতে জনপ্রিয় সঙ্গীতজ্ঞ আরডি বর্মনের সঙ্গে বিবাহ হয় তাঁর। ১৯৯৪ সালে তার স্বামী আরডি বর্মন মৃত্যুবরণ করেন।

  • “এমন শিল্পী আর জন্মাবে না”—রুনা লায়লার আশা ভোঁসলে চলে যাওয়ার শোক

    “এমন শিল্পী আর জন্মাবে না”—রুনা লায়লার আশা ভোঁসলে চলে যাওয়ার শোক

    ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকে চলে গেলেন। তাঁর মৃত্যুতে সংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপমহাদেশের শিল্পীর পক্ষে শোকার্ত রুনা লায়লা ব্যক্ত করেছেন গভীর অনুভূতি। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘পৃথিবীর দুই পরম কিংবদন্তি শিল্পী একের পর এক চলে যাচ্ছে—লতা মুঙ্গেশকর ২০২২ সালে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন, আর এখন আশা ভোঁসলে আমাদের ছেড়ে গেছেন। এই ধরনের শিল্পী যেন আর কখনো জন্ম নেনে। আমার একটিই মনে হচ্ছে, পৃথিবী এখন পুরোপুরি শূন্য।’ নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির কথাতেও প্রকাশ করেছেন তাঁর বুকের গভীর দুঃখ, ‘তারা দুজনেই আমাকে মা’র মতো করে ভালোবাসতেন। এই সম্পর্কের কথা বলার মতো শব্দ আমার কাছে নেই। শেষবার আমার দেখা হয়েছিল যখন আমার লেখা গানের রেকর্ডিং চলছিল—‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসবে না’—তার সময়। এরপর বহুবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু এতদিন এর পরে আবার কথা বলার সুযোগ হয়নি। শেষ সময়টিতে কথাও বলতে পারেননি।’ রুনা লায়লা বলেন, ‘যখন মনে হয়েছিল দিদিকে ফোন করি, যদি তখনই করতাম, তাহলে হয়তো আজ এই আফসোসের মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতাম না। এই আক্ষেপটা লুকাতে পারছি না।’ রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় বুকের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন দীর্ঘ দিন। শেষমেশ, টানা সাত দশকের বেশি সময় সংগীতাঙ্গনে রাজত্ব করে গিয়েছেন আশা ভোঁসলে। তাঁর গাওয়া হাজারো গান আর অনবদ্য সুরের মাধ্যমে তিনি হয়েছেন এক প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস। তাঁর এ অকাল প্রস্থানে এক গভীর অধ্যায়ের অবসান ঘটল শান্তিকে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের আয়োজনে রোববার অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬। বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত এ সুন্দর অনুষ্ঠানে মোট ২০টি ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তাঁর ভাষণে তিনি বলেন, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি উজ্জীবনী ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। পাশাপাশি তিনি তুলে ধরেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ তাদের নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় আরও বেশি অংশগ্রহণের প্রেরণা জোগাতে হবে। শেষে তিনি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও আয়োজক শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ।

    অতিসম্প্রতি, এবারের প্রতিযোগিতায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পুরুষ ও নারী দলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইভেন্টে উভয় পক্ষের বিজয়ীদের মধ্যে গৌরবের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রীদের দলগত ইভেন্টে স্থাপত্য ডিসিপ্লিন 챔পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ছাত্রদের মধ্যে ব্যক্তিগত ইভেন্টে রসায়ন ডিসিপ্লিনের অনিক গোলদার ও ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের সম্রাট যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হন। অন্যদিকে, ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হন শিক্ষা ডিসিপ্লিনের সাজিয়া মাহিন মিথী।

    উল্লেখ্য, এর আগে সকাল ১০টায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোঃ আশরাফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

    অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে সঞ্চালনাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শুভদীপ গোলদার ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের অনিন্দিতা বিশ্বাস। সবাই মিলেই এক সুন্দর এবং স্মরণীয় ক্রীড়া উৎসবের সাক্ষী থাকলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

  • সিলেট টাইটান্সের বিবৃতি: নাসুমের বকেয়া পারিশ্রমিকের সত্যতা

    সিলেট টাইটান্সের বিবৃতি: নাসুমের বকেয়া পারিশ্রমিকের সত্যতা

    বিপিএলের সাম্প্রতিক আসরে সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলা ক্রিকেটার নাসুম আহমেদ সম্পূর্ণ মৌসুমে অংশ নিলেও তার পারিশ্রমিকের বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নাসুম দাবি করেছেন যে তিনি এখনও ৩৫ লাখ টাকা পাননি, যা নিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন সিলেট টাইটান্সের কর্তৃপক্ষ। আপনারা যেন বিভ্রান্ত না হন, তাই তারা এই বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেছে।

    সিলেট টাইটান্সের এই গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সব ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য তারা নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করছে:

    ১. চুক্তিতে যেসব টাকা নির্ধারিত হয়েছিল, সেগুলো সম্পন্ন পরিশোধ করা হয়েছে। বিপিএলের ২০২৫-২০২৬ মৌসুমের খেলার পারিশ্রমিকের বিষয়ে বোর্ডের সাথে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে, যেখানে নাসুমের মোট পাওনা ছিল ৩৫ লক্ষ টাকা (বি ক্যাটাগরি), যা দল ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ, এখন তার পক্ষ থেকে আর কোনো বকেয়া নেই।

    ২. মৌখিক আলোচনায় বলা হয়েছিল, যদি দল চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে অতিরিক্ত বোনাস দেওয়া হবে। যেহেতু দল সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, তাই বোনাসের এই অঙ্গীকার আর থাকেনি। সব অর্থনৈতিক লেনদেন চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়েছে।

    ৩. নাসুমের অনুরোধে তার অর্থ সরাসরি নগদে পরিশোধ করা হয়। তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছেন না বলে জানান। টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিরাপত্তার কারণে অগ্রিম চেক দেওয়া হয়েছিল, যা অন্যান্য খেলোয়াড়রা ফেরত দিলেও, নাসুম এখনো সেই চেক ফেরত দেননি। তার উপস্থিতির অভাবে বা অন্য কোনো কারণে এই চেক ফেরত না দেওয়ার ঘটনাটি অনভিপ্রেত।

    সিলেট টাইটান্স তার খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব ও সম্মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, সব চুক্তি অনুযায়ী নাসুমের সব পারিশ্রমিক ইতিমধ্যে পরিশোধ হয়েছে, এখন তার কোনও আর অর্থের চাহিদা নেই। আমরা আশা করি এই স্পষ্টতাই সকল বিভ্রান্তি দূর করবে এবং বিষয়টি সমাধান হবে।

  • নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ঘুড়ি উৎসব ও নববর্ষের উদযাপন

    নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ঘুড়ি উৎসব ও নববর্ষের উদযাপন

    নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি সম্প্রতি বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে একটি রঙিন ও আনন্দময় ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে। সোমবার বিকালে সোনাডাঙ্গা বাইপাস রোডস্থ ময়ূরী আবাসিক পার্ক প্রাঙ্গণে এই উৎসবের শুভ সূচনা করেন ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর কানাই লাল সরকার। এ সময় তিনি অতিথিসহ অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ঘুড়ি উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন ড. মোঃ ইমজামাম-উল-হোসেন, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও পহেলা বৈশাখ-১৪৩৩ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. মোঃ রউফ বিশ্বাস, সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সদস্য সচিব মোঃ আসাদুজ্জামান, রেজিস্ট্রার ড. শেখ শফিকুর রহমান, প্রক্টর শকীল আহমদসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষাকর্মীরা।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ঘুড়ি উৎসবের প্রাণময় আয়োজন

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ঘুড়ি উৎসবের প্রাণময় আয়োজন

    বাংলা বর্ষের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে রঙিন ও বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব। সোমবার বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এই উৎসবের সূচনা করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, চৈত্র সংক্রান্তির এই ঘুড়ি উৎসব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের উৎসব কেবল বিনোদনের জন্য নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই উৎসবের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়, যা শিক্ষাদান ও গবেষণার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন কমিটির সভাপতি এবং ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. রুমানা হক, কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালকবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। ঘুড়ি উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ছিলো বেশ উল্লসিত। আকাশ জুড়ে রঙিন আর বিভিন্ন রূপের ঘুড়ি উড়তে দেখা গেছে, যার মধ্যে প্রজাপতি, শাপ, চিল, ঈগল ও মাছের আকৃতি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মিলিত অংশগ্রহণে এই উৎসব চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহ্যকে ধারণ করেছে এবং পাশাপাশি নতুন বাংলা বছরকে স্বাগত জানিয়ে রঙিন উৎসবের মাধ্যমে আবহাওয়া ভরে উঠেছে।

  • নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড পরিমাণ পৃষ্ঠপোষকতা ঘোষণা

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড পরিমাণ পৃষ্ঠপোষকতা ঘোষণা

    নারী ক্রিকেটের দ্রুত অগ্রগতি এবং জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। এর জ্বলজ্বলে উদাহরণ হল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবার আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটে বিনিয়োগ ও ধর্মীয় আকর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ, যা খেলার এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

    আগামি বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞের জন্য মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ১০৮ কোটি। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি, যেখানে প্রাইজমানি ছিল প্রায় ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ডলার। এই পরিবর্তন নারীদের ক্রিকেটে বিনিয়োগের মহত্ত্ব এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাবকে নির্দেশ করে, যেখানে নারী ক্রিকেট এখন শুধু খেলাধুলা নয়, বড় পরিসরে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রতিযোগিতার ব্যাপ্তির ব্যাপারেও এসেছে নতুন সংযোজন। এবার মোট ১২টি দল অংশ নেবে, যা এর আগের চেয়েও বেশি এবং প্রতিযোগিতা আরও জমজমাট ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে। এর ফলে অনেক নতুন দেশের নারী ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন।

    আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা বলেন, “নারী ক্রিকেটের বিকাশ এখন দ্রুত। দলসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিশাল অঙ্কের প্রাইজমানি আমাদের বৈশ্বিক ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করবে। বিনিয়োগের এই অগ্রগতি নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে আরও উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের প্রভাব বিস্তৃত করবে।” তিনি আশা করেন, এই বিশ্বকাপ দর্শকদের সংখ্যা ও সম্প্রচারের দিক থেকেও নতুন রেকর্ড গড়বে।

    বিশ্বকাপের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আইসিসি লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রফি ট্যুর শুরু করেছে। এই ট্রফি নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে প্রদর্শিত হওয়ার পর মে মাসজুড়ে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, সাউথ্যাম্পটন ও লন্ডনে ভক্তদের জন্য দেখার সুযোগ থাকবে। এর ফলে টুর্নামেন্টের উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে।

    ২০২৬ সালের ১২ জুন থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হবে। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক England শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে। মোট ৩৩টি ম্যাচ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ফাইনালটি হবে বিশেষ গুরুত্বসহকারে। এই মহাযজ্ঞের মাধ্যমে নারী ক্রিকেট নতুন উচ্চতায় উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় সব বন্দর অবরুদ্ধের ঘোষণা

    যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় সব বন্দর অবরুদ্ধের ঘোষণা

    যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর অবরুদ্ধ করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিক এই অবরোধের ঘোষণা দেয়। এই সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে জানানো হয়, যেকোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজের সঙ্গেও এই অবরোধ কার্যকর হবে। অর্থাৎ, ইরানের বন্দরের দিকে যেসব জাহাজ যাচ্ছে বা আসছে, তাদের সবাইকে আটকানো হবে।

    তবে আশ্চর্যজনকভাবে, শুধুমাত্র উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের বন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই অবরোধের প্রভাব পড়বে না। সেন্ট্রাল কমান্ড এক্সে (মাইক্রো ব্লগিং সাইট) এক পোস্টে জানিয়েছে, “ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আড়াই আরব সাগরে অবস্থানরত সব দেশের পতাকাবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে এ নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানিয়েছেন, “অ_permissions ছাড়া অবরোধ এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে বা সেখানে থেকে বের হলে তা আটক করা, পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা বা জব্দ করা সম্ভব। তবে এই অবরোধ শুধু ইরানের বন্দরের জন্য নয়, অন্যান্য বন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।”

    এদিকে, এই মার্কিন একতরফা অবরোধের জবাবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। তার এক মুখপাত্র বলেছেন, “পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, কোনও বন্দরই নিশ্চিন্ত থাকবে না।”

    তিনি আরও বলেন, “মার্কিন সরকারের এই কার্যক্রম অযৌক্তিক এবং সামুদ্রিক দস্যুতা হিসেবে গণ্য হবে।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ইরান হরমুজের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটির দাবি, তাদের শত্রুরা এই রুট দিয়ে আর চলাচল করতে পারবে না।

    বিশ্বের মোট ২০ শতাংশ জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে সরবরাহ হয়। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের তেল ও গ্যাসের আউটপুট হরমুজের মাধ্যমে রপ্তানি করে থাকে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্লেষকরা।

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানের পুরো প্রচেষ্টা অব্যাহত: শেহবাজ শরীফ

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানের পুরো প্রচেষ্টা অব্যাহত: শেহবাজ শরীফ

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে তারা সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সোমবার ফেডারেল মন্ত্রিসভার সদস্যদের সামনে এক আবেগপূর্ণ ভাষণে এই কথা বলেন। মূলত, গত শনিবার ইসলামাবাদে উভয় দেশের আলোচনায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি, তবে এই আলোচনাকে তিনি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। শেহবাজ শরীফ বলেন, ‘আজও যুদ্ধবিরতি চলছে। আমি যখন এই ভাষণ দিচ্ছি, তখনও অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য আমাদের পুরো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’  তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামাবাদ আলোচনায় পাকিস্তানের উদ্যোগে এই আলোচনা সম্ভব হয়েছে এবং এটি দেশের জন্য শান্তির পথে বড় এক দীর্ঘমেয়াদী সুযোগ। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস দেখলে বোঝা যায় যে অসলো চুক্তি, জেনেভা চুক্তি ও গুড ফ্রাইডে চুক্তির মতো মহলেও অনেক মাস বা বছর লেগেছে বিষয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায়।’  শেহবাজ শরীফ আশ্বাস দেন, এই আলোচনা দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি বসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফসল। তিনি বলেন, ‘দুই দিনের আলোচনা চলাকালে ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদল ২১ ঘণ্টা একসাথে আলোচনা করেন, যা প্রথমবারের মতো এমন দৃশ্য দেখা গেল। আমি এর নেপথ্য সাক্ষী।’  প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের নেতৃত্ব প্রাত্যহিক কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, যার ফলশ্রুতিতে এখনো যুদ্ধবিরতিটি টিকে আছে। এ জন্য আমি মনে করি, এই শান্তির উদ্যোগ ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা।’  তিনি যোগ করেন, সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফোন করে পাকিস্তানের প্রশংসা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের ভূমিকা স্বাগত জানিয়েছেন। ইউরোপীয় নেতাদের কাছ থেকেও শুভেচ্ছা ও প্রশংসা লাভের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার ও প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অবদানকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন, যারা পাকিস্তানের দৃঢ় নেতৃত্বে দুই পক্ষের মধ্যকার এই যুদ্ধবিরতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, ‘ফিল্ড মার্শাল এবং তার দলের বিনিদ্র প্রয়াসের কারণেই এই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব হলো।’  একই সঙ্গে তিনি গোপনীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকছেন বলেও জানান, তবে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের আড়ম্বরপূর্ণ বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, তারা শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে প্রশংসা করেছে। শেহবাজ শরীফ বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের এত বড় সুযোগ দিয়েছেন, যেখানে ৪৭ বছর ধরে একে অপরের সঙ্গে দ্বিধায় থাকা দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করা সম্ভব হলো। এটি ২৪ কোটি পাকিস্তানের জন্য গর্বের মুহূর্ত।’ এই ধরনের পরিস্থিতি ও পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে তিনি এক আবেগপূর্ণ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সূত্র: ডন