Blog

  • পয়লা বৈশাখে শুরু ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ — কে পাবেন, কী সুবিধা?

    পয়লা বৈশাখে শুরু ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ — কে পাবেন, কী সুবিধা?

    বৃহস্পতিবার পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ল্যাপটপের সুইচ চাপ দিয়ে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে ডিজিটাল পোর্টালে যুক্ত হন এবং একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সে দেশের আটটি বিভাগ ও দশটি উপজেলার ১১টি ব্লকে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়। উদ্বোধনী অংশে জানিয়ানো হয়, প্রাথমিকভাবে ২০ হাজারেরও বেশি কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করে এই বহুমুখী কার্ড বিতরণ শুরু করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই ডিজিটাল কার্ড কেবল পরিচয় নয়; এটি কৃষকের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক। সরকারের লক্ষ্য—কৃষির অবদানের স্বীকৃতি ও কৃষকদের জন্য স্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।’

    কাজটি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে বলে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ও অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান। প্রথম ধাপ হচ্ছে আজ থেকে শুরু হওয়া প্রাক-পাইলটিং, যার জন্য প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আগস্ট পর্যন্ত দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চালানো হবে। তৃতীয় ধাপে পাইলট অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আগামী চার বছরের মধ্যে সারাদেশে তথ্যভাণ্ডার তৈরি ও কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    প্রাক-পাইলটিংয়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষক, মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং উপকূলীয় লবণচাষীসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সোনালী ব্যাংকের শাখায় সংশ্লিষ্টদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং কার্ডটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৬৫ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ভূমিহীন ২,২৪৬, প্রান্তিক ৯,৪৫৮, ক্ষুদ্র ৮,৯৬৭, মাঝারি ১,৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন। এর মধ্যে ২০,৬৭১ জন কৃষক বছরে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা নগদ বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন।

    কৃষক কার্ডে পাওয়া সুবিধা (সংক্ষেপে):

    – ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ

    – সেচে সাশ্রয়ী সুবিধা

    – সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও অগ্রাধিকারভিত্তিক ঋণসুবিধা

    – সুলভ মূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি

    – সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কার্ডে প্রদান

    – মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়া ও বাজার তথ্য

    – কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ

    – পেস্ট ও রোগবালাই দমন সংক্রান্ত পরামর্শ

    – কৃষি বিমা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির সময়ে আর্থিক সহায়তা

    – ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ

    প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে মূলভাবে সরকারিভাবে ভর্তুকি সরাসরি কৃষকের ব্যাংক/কার্ডে পাঠানো, শপিং পয়েন্টে POS মেশিন দিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে সার-বীজ কেনা, অগ্রাধিকারভিত্তিক কৃষি ঋণ ও দুর্গতিতে কৃষি বিমা রয়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং বাজার দর জানার সুবিধাও থাকবে, যা উৎপাদন ও বিক্রয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

    কীভাবে নিবন্ধন করবেন

    সরকারি নির্দেশনায় স্মার্ট কৃষক কার্ড পেতে কৃষকদের নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে:

    – জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কপি

    – পাসপোর্ট সাইজের ছবি

    – রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নম্বর

    – জমির দলিল বা বর্গা/ভাগে চাষিদের জন্য প্রমাণপত্র

    – ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর

    নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্তভাবে: স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO) প্রথমিক তালিকা তৈরি করবেন। এরপর উপজেলা কৃষি অফিস মাঠ পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করে ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করবে এবং যাচাই শেষে কার্ড বিতরণ করা হবে। অনেক ক্ষেত্রে তালিকা পূরণ অনলাইনেও সম্ভব হবে এবং কর্মকর্তারা কৃষকদের পরিচালনায় সহযোগিতা করবেন।

    সতর্কবার্তা

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’ সরকার এমনকি জোর দেন যে কার্ডটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কৃষকদের অনুরোধ করা হয়েছে—কার্ড পাওয়ার জন্য কোনো আর্থিক লেনদেনে জড়াবেন না এবং প্রতারণার শিকার হবেন না।

    সংক্ষেপে, সরকারের লক্ষ্য এই ‘কৃষক কার্ড’ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত পটভূমি দেওয়া, যাতে সুবিধা সঠিকভাবে ও সরাসরি কৃষকের ঘরে পৌঁছায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে।

  • শিগগিরই মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    শিগগিরই মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব সর্বোচ্চভাবে পালন করবে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে যাতে বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করা যায়।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ, এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, মাদকসহ সমাজকে ধ্বংসকারী বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে কড়া উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুয়ার এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তারকে একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই সমস্যা সমাধানে সরকার গবেষণা করছে এবং প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মানবপাচার বিষয়ে তিনি জানান, দেশের কিছু এলাকায়—বিশেষত টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজারে—এ সমস্যা প্রকট রূপ নিয়েছে। মানবপাচার রোধে ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পয়েন্টে কঠোর নজরদারি ও সুসংগঠিত অভিযান চালিয়ে অপরাধ দমন করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাইকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং বলেন, জনগণের সচেতনতা ও সঠিক তথ্য প্রদান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কার্যকর অনুষঙ্গ। কোথায় কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে সে সম্পর্কে তথ্য পেলে দ্রুত ও কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে দুপুরে ১৬৯৮ জন কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কাজল, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ক্ষমতার স্বাদে জনগণকে ভুলে ফেলেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদে জনগণকে ভুলে ফেলেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই আক্ষেপ জানিয়েছিলেন আজ শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ ইসলাম শ্রমজীবী মানুষের ত্যাগ-তীতিক্ষার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘‘এই দেশের জাতীয় ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি—শ্রমিকেরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং নানা গণ-অভ্যুত্থানে প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন প্রকৃত শ্রমজীবী মানুষ।’’

    তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নাহিদ বক্তব্যে বলেন, ‘‘নতুন সরকার শ্রমিকদের রক্তের ওপর অধিষ্ঠিত হয়েছে; কিন্তু মাত্র এক মাসের মাথায় তারা নতুন বাংলাদেশের আদর্শ ও গণরায়ের প্রতি বেইমানি করছে। তারা গণবিরোধী হওয়ায় সাধারণ মানুষের আশা ধ্বংস হচ্ছে।’’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া अध्यादेशগুলোকে আইন করাসহ ঘোষিত সংস্কার কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভঙ্গ করেছে—এ অভিযোগও তুলে ধরে নাহিদ বলেন, ‘‘এই রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের ফল ভয়াবহ হবে। আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ আরও বলেন, ‘‘আমরা এক নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে অঙ্গীকার ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ সবক্ষেত্রে ন্যায়বিচার স্থাপন, নতুন বিন্যাসে শ্রমিকদের অংশদারিত্ব নিশ্চিত করা—সেই লড়াইতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে রয়েছে।

    নিজের বক্তৃতায় নাহিদ শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান—বৈচিত্র্য পেরিয়ে একজোট হয়ে নেতাদের দায়িত্বজিজ্ঞাসা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সকল শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আপনাদের ঐক্যের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে হবে এবং জুলাইয়ের আন্দোলনের লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’’

    এছাড়া রাজপথে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার জরুরি সতর্কতা দেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘এবার শুধু সংসদের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না; রাজপথ ও গণ-আন্দোলনের প্রস্তুতির মধ্যদিয়ে আমরা বর্তমান সরকারকে জুলাই সনদ, গণভোট ও শ্রমিকদের প্রত্যেক দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

  • সংস্কার পরিষদ না হলে বিএনপি সরকার সংকটে পড়বে: নাহিদ ইসলাম

    সংস্কার পরিষদ না হলে বিএনপি সরকার সংকটে পড়বে: নাহিদ ইসলাম

    সংস্কার পরিষদ গঠিত না হলে সৃষ্ট সংকটের ফল বাংলাদেশে বিএনপি সরকারই ভোগ করবে—এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার আয়োজন করে।

    সেমিনারে বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে দেশকে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ছাত্র আন্দোলন যখন ফ্যাসিবাদ উৎখাতের দাবি জানিয়েছিল, বিএনপি তখন নির্বাচনপ্রক্রিয়ার দাবি তুলেছিল, আর তাদের পক্ষ থেকে আমরা গণপরিষদের মাধ্যমে সংস্কারের আহ্বান জানাই। পরে বিএনপি সংস্কারের আলোচনা অংশ নিলে আমরা গণপরিষদের পরিবর্তে সংস্কার পরিষদের ধারণাটি মেনে নিই।

    নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি এখন কৃত্রিম বিরোধ সৃষ্টি করছে। তারা ‘জুলাই সনদ’ এবং ‘জুলাই আদেশ’ আলাদা করার চেষ্টা করছে এবং জেলায় ‘জুলাই সনদ’কে তাদের দলীয় ইশতেহার হিসেবে গ্রহণ করেছে। এর ফলে গণভোটের প্রশ্ন উঠে এসেছে, কারণ সংবিধানের ভিতভাগত কাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়—এজন্য গাঠনিক ক্ষমতার সংস্কারের কথা উঠেছে। তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মানยেছিল, কিন্তু পরে কথার প্রতি অবিশ্বাস দেখিয়ে গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।

    গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে—এমন সতর্কতা দিয়ে নাহিদ বলেন, বর্তমানে যেন যুদ্ধসদৃশ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে; আমাদের বিচার-বিবেচনা করে জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে রক্ষা করা যায় এবং দেশের সামনে থাকা জ্বালানি সংকট ও অন্যান্য দুর্যোগ কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা করা জরুরি। তিনি বললেন, গত ১৬ বছরে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের প্রস্তাব করেছে—এসব আলোচনার প্রয়োজনীয়তা এখনও থেমে নেই, কিন্তু এখন জাতিকে এই দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি, তার দায়ভার ও পরিণতি বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে এবং সেটি সহজ হবে না।

    এনসিপি আহ্বায়ক দ্রুত সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার দ্রুত সংবিধানভিত্তিক সংস্কার পরিষদ গঠন করে এই সংকটের সমাধান করবে এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখবে—নাহলে পরিণতি তাদেরই বহন করতে হবে।

    সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথিরূপে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

  • দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে: ৩৪.৬৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ল

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে: ৩৪.৬৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ল

    দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৩৪ হাজার ৬৬০ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে। মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৬৬০ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্দেশিত বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৯৭৭ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

    তুলনায় বলা যায়, এর আগের রেকর্ডে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৬৪৫ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৯৫২ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গ্রস রিজার্ভে এ সময় একযোগে প্রায় ১৫.৯৫ মিলিয়ন ডলারের বৃদ্ধি হয়েছে এবং বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ২৫.২৩ মিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, নিট রিজার্ভ হিসাব করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুযায়ী। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদী দায় (short-term liabilities) বাদ দিলে যে পরিমাণ থাকে, সেটা নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ বলে মনে করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিবরণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের সাময়িক উন্নতি নির্দেশ করে, যা বাণিজ্য ও ঋণ পরিশোধে কিছুটা রক্ষাকারী ভাঁজার ভিত্তি তৈরি করে।

  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার ঘোষণা করেছে যে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ ও বিনিময় করা বাধ্যতামূলক। নির্দেশনা মানা না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর সকল শাখায় নিয়ম অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করতে হবে এবং তা বিনিময়ে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য (রিসার্কুলেবল) নোট সরবরাহ করতে হবে। এই নির্দেশনা আগেই থাকলেও বাজারে এসব নোটের আধিক্য এখনো রয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে সমস্যা তৈরি করছে। তাই ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ধারিত কাউন্টার বা শাখা এলাকাগুলোতে তা বিনিময় করতে হবে। গ্রাহক যে নোটগুলো দিতে চান সেগুলো উপযোগী না হলে ব্যাংককে অবশ্যই ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে বলেছে যে কোনও শাখা যদি এই সেবা দিতে অনীহা দেখায় বা গাফিলতি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্দেশনাটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা প্রয়োগ করে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম থেকেই জনগণের নগদ লেনদেনকে ঝামেলামুক্ত রাখতে এই নির্দেশনা বলবৎ রাখতে চায় এবং ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে তা लागू করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ১০ দফা প্রস্তাব সামনে; দ্বিতীয় দফা ইরান-আলোচনার ভিত্তি দাবি

    যুক্তরাষ্ট্রের ১০ দফা প্রস্তাব সামনে; দ্বিতীয় দফা ইরান-আলোচনার ভিত্তি দাবি

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা নতুন মোড় নিয়ে এসেছে — ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে ওয়াশিংটনের একটি ‘১০ দফা’ প্রস্তাব তাদের কাছে পৌঁছেছে, যা কুয়েতের আল-জারিদা সংবাদমাধ্যমে দ্বিতীয় দফার আলোচনার ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

    সূত্রটি বলছে, ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনায় ব্যবস্থা না পাওয়ার পর দুই পক্ষ দ্বিতীয় দফা বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এর চাপে নতুন প্রস্তাবটি ওঠে এসেছে। মার্কিন কিছু গণমাধ্যমেও সম্ভাব্য প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    ইরানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে প্রথম দফায় অংশ নেওয়া একজন মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে তেহরানে নতুন খসড়া পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল; ওই প্রস্তাবকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। এই দাবি এখনও ওয়াশিংটন বা তেহরানের رسمی কোনো প্রতিক্রিয়ায় নিশ্চিত হয়নি।

    প্রস্তাবের খসড়ায় বলা হচ্ছে—ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় তেহরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৈরী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার শর্ত রাখা। এছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচি ১০ বছরের জন্য সীমিত করা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক পারমাণবিক কনসোর্টিয়াম গঠন করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

    খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা অথবা আন্তর্জাতিক নজরদারির অধীনে রাখা হবে; হরমুজ প্রণালী নৌচলাচল পুরোপুরি খোলা থাকবে এবং নির্দিষ্ট مدت পর্যন্ত যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার উন্নয়ন স্থগিত রাখা, বিদেশে জব্দ ইরানি সম্পদ নির্দিষ্ট শর্তে ফিরিয়ে দেওয়া এবং চূড়ান্ত চুক্তির পর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিও ইঙ্গিত রয়েছে।

    তবে, এখনও এটি কেবল সূত্র ও রেডিও-নিউইজ স্তরের রিপোর্ট; প্রস্তাবের চূড়ান্ত রূপ কী হবে এবং দুই দেশের কূটনীতিকরা এর ওপর কতটা সমঝোতায় পৌঁছতে পারবে, তা সময়ের কথাই। পারমাণবিক তৎপরতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও তেল নৌপরিভ্রমণ—এসব আশঙ্কা ও স্বার্থের সমন্বয় ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা করা সহজ হবে না বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • কানাডার নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম

    কানাডার নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম

    কানাডার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় লিপিবদ্ধ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা ডলি বেগম। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি একপ্রকার বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন, যা দেশটির বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ওই উপনির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ডলি বেগম প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই ফলাফল লিবারেল পার্টির পার্লামেন্টে আসন সংখ্যা বাড়াতে এবং দলকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সহায়ক বলে বলা হচ্ছে।

    ডলি বেগম ফেডারেল পার্লামেন্টে নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। এর আগে তিনি অন্টারিও প্রদেশীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের এমপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামাজিক ন্যায়বিচার, অভিবাসী অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বারবার সরব কণ্ঠ হয়ে তিনি পরিচিত।

    বিজয় ভাষণে ডলি বেগম বলেন, ‘‘এই জয় শুধু আমার নয়—এটি বহুসাংস্কৃতিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কানাডার মূল্যবোধের জয়।’’ তিনি আরও যোগ করেন যে, পার্লামেন্টে তিনি স্থানীয় মানুষের জীবনমান, অবকাঠামো উন্নয়ন, কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা ও সমঅধিকারের জন্য তীব্রভাবে কাজ করবেন।

    বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজ এবং স্থানীয় কমিউনিটিগুলো তাঁর এই ফলাফলকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে গ্রহণ করেছে। অনেকে বলছেন, ডলি বেগমের সফলতা নতুন প্রজন্মকে রাজনীতি ও নেতৃত্বে আগানোর জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, উপনির্বাচনে এমন প্রভাবশালী জয় লিবারেলদের জন্য মানসিক ও সাংগঠনিক উভয় দিক থেকেই ইতিবাচক বার্তা বহন করে। ডলি বেগমের নেতৃত্বে আগামিকালে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কোন ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সেটাই এখন নজর কাড়ছে।

  • একুশে টেলিভিশন ২৭ বছরে পদার্পণ: খুলনায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

    একুশে টেলিভিশন ২৭ বছরে পদার্পণ: খুলনায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

    জনপ্রিয় বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) ‘‘পরিবর্তনে অঙ্গিকারবদ্ধ’’ স্লোগানকে সামনে রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সৃজনশীল অনুষ্ঠান প্রচারের মধ্য দিয়ে ২৭ বছরে পদার্পণ করেছে। চ্যানেলটির জন্মদিনটি পহেলা বৈশাখে খুলনায় বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হয়।

    পহেলা বৈশাখের সকালে আট ঘণ্টার পরিবর্তে সকাল ৯টায় খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে আলোচনা সভা, কেক কাটা, র‌্যালি এবং বৈশাখী আপ্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল।

    একুশে টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালামের পক্ষ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা খুলনা প্রতিনিধিসহ আশরাফুল ইসলাম নূর পাঠ করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান এবং খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস.এম. মনিরুল হাসান বাপ্পী।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন ও যুগ্ম মহাসচিব হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. তরিকুল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাব সদস্য-সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল এবং প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্যরা। মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা ও কোষাধ্যক্ষসহ খুলনা টিভি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রকিবুল ইসলাম মতি ও অন্যান্যেরাও বিচার্য উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জন্মভূমি’র যুগ্ম-সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ্জামান, খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ, খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, সিপিবি নেতা কমরেড মিজানুর রহমান বাবু, জনতা ব্যাংক অফিসার এসোসিয়েশনের মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া খুলনা মহানগর ও বিভিন্ন থানা বিএনপির পদাধিকারিরা—যেমন শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, কেএম হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, মো. নাসির উদ্দিন, জাকির ইকবাল বাপ্পি প্রমুখ—ও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতা জাফরী নেওয়াজ চন্দন, ইকরামুল কবীর মিল্টন, জিএম হারুন অর রশীদ, মো. আমিন আহমেদ, মেশকাত আলী, নারীনেত্রী হোসনেয়ারা চাঁদনী ও সুজানা জলি, উন্নয়ন কর্মী মো. আব্দুল হালিমসহ অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানটি ছিল কেবল জন্মদিন উদযাপনই নয়—বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সৃজনশীলতা নিয়ে একুশে টিভির গতানুগতিক অবস্থান ও ভবিষ্যত অঙ্গীকারকে সামনে এনে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে খোলামেলা আলোচনা ও ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী আমেজের মিলন ঘটল।

  • চিতলমারীতে উৎসবমুখরভাবে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

    চিতলমারীতে উৎসবমুখরভাবে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বর্ষবরণের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা শেষ হয়েছে। সকাল ৯টায় বকুলতলা থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার ও সরকারি মহিলা কলেজ রোড অতিক্রম করে পুনরায় বকুলতলায় এসে সমাপ্তি ঘটে। রঙিন সাজ, দলবাঁধা পদযাত্রা এবং উৎসবমুখর ওয়াসুদার মধ্যে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড় ও উচ্ছ্বাস।

    র‍্যালী শেষে অফিসার্স ক্লাবের সামনে দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়। সকাল ১০টায় বকুলতলায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে লোকজ সাংস্কৃতিক কণ্ঠ ও নাচ-গান পরিবেশনার মাধ্যমে গ্রামের ঐতিহ্য আর বাংলার সরেজমিনের রূপ ফুটে উঠেছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান।

    অনুষ্ঠানটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সিফাত আল মারুফ, চিকিৎসক এম আর ফরাজী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুল অদুদ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য রুনা গাজী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ঠান্ডু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. ফজলুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ আসাদুজ্জামান আসাদ এবং উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

    বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজন করা অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্থানীয় হাসপাতাল ও এতিমখানায় ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন এবং গ্রাম বাংলার লাঠি খেলার প্রদর্শনী। এসব আয়োজনে লোকজনের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বড় করে তুলেছে অনুষ্ঠানের উৎসবমুখর পরিবেশ।