ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা নতুন মোড় নিয়ে এসেছে — ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে ওয়াশিংটনের একটি ‘১০ দফা’ প্রস্তাব তাদের কাছে পৌঁছেছে, যা কুয়েতের আল-জারিদা সংবাদমাধ্যমে দ্বিতীয় দফার আলোচনার ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
সূত্রটি বলছে, ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনায় ব্যবস্থা না পাওয়ার পর দুই পক্ষ দ্বিতীয় দফা বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এর চাপে নতুন প্রস্তাবটি ওঠে এসেছে। মার্কিন কিছু গণমাধ্যমেও সম্ভাব্য প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে প্রথম দফায় অংশ নেওয়া একজন মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে তেহরানে নতুন খসড়া পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল; ওই প্রস্তাবকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। এই দাবি এখনও ওয়াশিংটন বা তেহরানের رسمی কোনো প্রতিক্রিয়ায় নিশ্চিত হয়নি।
প্রস্তাবের খসড়ায় বলা হচ্ছে—ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় তেহরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৈরী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার শর্ত রাখা। এছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচি ১০ বছরের জন্য সীমিত করা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক পারমাণবিক কনসোর্টিয়াম গঠন করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা অথবা আন্তর্জাতিক নজরদারির অধীনে রাখা হবে; হরমুজ প্রণালী নৌচলাচল পুরোপুরি খোলা থাকবে এবং নির্দিষ্ট مدت পর্যন্ত যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার উন্নয়ন স্থগিত রাখা, বিদেশে জব্দ ইরানি সম্পদ নির্দিষ্ট শর্তে ফিরিয়ে দেওয়া এবং চূড়ান্ত চুক্তির পর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিও ইঙ্গিত রয়েছে।
তবে, এখনও এটি কেবল সূত্র ও রেডিও-নিউইজ স্তরের রিপোর্ট; প্রস্তাবের চূড়ান্ত রূপ কী হবে এবং দুই দেশের কূটনীতিকরা এর ওপর কতটা সমঝোতায় পৌঁছতে পারবে, তা সময়ের কথাই। পারমাণবিক তৎপরতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও তেল নৌপরিভ্রমণ—এসব আশঙ্কা ও স্বার্থের সমন্বয় ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা করা সহজ হবে না বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
