একটি ব্যাপক আলোচনা ও সমঝোতার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত হন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে। এই বৈঠকে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংস্হার প্রতিনিধিরা, যারা নিজেদের সম্মুখীন বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতিবন্ধকতা, চাঁদাবাজি, ব্যাংকের উচ্চ সুদ, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি gibi সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরেন।
Month: January 2026
-

তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগ স্বইচ্ছায় হচ্ছে না: গোলাম পরওয়ার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয় সময় কিছু রিটার্নিং অফিসার ব্যক্তিগত ইখতিয়ারে বা নিজস্ব বিবেচনায় তুচ্ছ বিষয় ধরে প্রার্থিতা বাতিল করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীুর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণ ও কাগজপত্র দাখিলের পরও কিছু রিটার্নিং অফিসার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা না করে ভিন্ন মাপকাঠি দিয়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাতিল করছেন। এটি নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক ও উদ্বেগের বিষয়।
গেল রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এ সব কথা জানান। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সারাদেশে ভোটের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার পর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলমান থাকলেও কিছু জেলার রিটার্নিং অফিসাররা ভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বিশেষ করে, ছোটখাটো বিষয় দেখিয়ে বা ব্যক্তিগত ইচ্ছায় অনেক যোগ্য প্রার্থী নিজেদের প্রার্থিতা হারাচ্ছেন। কেউ কেউ এমন ক্ষেত্রেও কঠোরতা দেখাচ্ছেন যেখানে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ছাড় দিতে পারতেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক প্রার্থীর প্রার্থিতা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হচ্ছে বলে তাঁদের ধারণা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় কিছু অঘোষিত বিষয় ধরে বা আইনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক উপেক্ষা করে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা বেড়ে গেছে। এটা দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য হতাশাজনক এবং অস্বস্তিকর। কিছু মহলের ইন্ধনে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে বলে আমাদের মনে হয়। সেই সঙ্গে, যেসকল প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল হচ্ছেন, তাদের প্রার্থিতা অবিলম্বে বৈধ ঘোষণা করা উচিত।’
গোলাম পরওয়ার এও উল্লেখ করেন, যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে কিভাবে হবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, অবাধতা ও নিরপেক্ষতা, তা এক বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রিটার্নিং অফিসারদের উচিত গুরুত্বহীন ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় ধরে প্রার্থীদের বাতিল না করে, সকলের জন্য সমান সুযোগ ও সুবিচার নিশ্চিত করে নির্বাচন সম্পন্ন করতে। পাশাপাশি, নির্বাচনের মাঠটি যেন হয় সমতল, সেটাও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি অপপ্রয়াসে অভিযুক্ত রিটার্নিং অফিসারদের দ্রুত সতর্ক করে দিয়ে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সব প্রার্থী যেন আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে এবং অবাধ, সুসংহত ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
-

খালেদা জিয়ার প্রতি জাতির অকুণ্ঠ সম্মান ও গভীর শ্রদ্ধা
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো। এই সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে এবং বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন স্তরের শুভানুধ্যায়ী, নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়ার বার্তা পেয়েছি, তা আমাদের পরিবারের জন্য গভীর প্রত্যয় ও আর্থিক শক্তির উৎস হয়ে উঠেছে। শনিবার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এসব অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, এই তিন দিনে তিনি মা খালেদা জিয়ার বিভিন্ন দিক ও মূল্যবোধের গভীরতা উপলব্ধি করেছেন। বিভিন্ন মানুষের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক, সাহসের প্রতীক, বিশ্বাসের পক্ষে অটল দাঁড়ানোর প্রেরণা। রাজনৈতিক জীবন ছাড়িয়ে এ প্রেরণা বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং মানুষকে আবেঁকা করেছে নিজস্ব পরিচয়, আদর্শ ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে।
তারেক রহমান আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আন্তঃসরকারি সংস্থা, অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের দ্রুত সমন্বিত ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ফলেই এত দ্রুত এই দেহান্তর ও শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের গণ্ডির বাইরেও দেশের স্বার্থে কাজ করা বিভিন্ন দেশের সরকার, কূটনীতিক, ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, তাদের সমবেদনা ও সংহতির বার্তা আমাদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, মিশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, সমবেদনার চিঠি ও বার্তা—প্রতিটি ঘটনা যেন বাংলাদেশের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা এবং অনুভূতির প্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা অগণ্য। তাঁদের দায়িত্ববোধ ও সম্মানজনক সহযোগিতায় এই মর্যাদাপূর্ণ শেষ বিদায় সম্ভব হয়েছে। বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে, যারা সম্মানসূচক গার্ড অব অনার ও শেষ সালাম দিয়ে মায়ের চিরবিশ্রাম নিশ্চিত করেছেন। তাদের এই আচরণ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহি:প্রকাশ।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অনেক নিঃশব্দ ও নির্মোহ মানুষ এই পুরো প্রক্রিয়ার নীরব সহযোগিতা দিয়েছেন, যারা দায়িত্ব সামলে চলেছেন পিছু ছবি বা জনসম্মুখে না এসে। সেই সকল ব্যক্তির প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। আলহামদুলিল্লাহ, তাদের প্রচেষ্টায় পরিবার ও জাতি মর্যাদার সঙ্গে মায়ের স্মৃতি রক্ষা করতে পেরেছে।
সর্বোপরি, তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ বর্বর ও গভীর শোকের সময়ে আসা অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি ও আনুগত্য আমাদের পরিবারের জন্য অসীম গর্বের বিষয়। এই দৃশ্য মানুষের মানবিক আবেগ ও সহমর্মিতার পরিচয়। বিএনপি ও পরিবারের পক্ষ থেকেও জানাই বিশেষ কৃতজ্ঞতা, যারা এই শোক ও স্মরণ মুহূর্তে পাশে ছিলেন। আপনারা যে ভালোবাসা ও একতা দেখিয়েছেন, তা আমাদের জন্য সম্পদ ও শক্তির উৎস। ইনশাআল্লাহ, এই সকল মূল্যবোধ নিয়ে আমরা আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।
-

রায়েরবাজারে দাফন হওয়া ১১৪ মরদেহের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, পরিবারের কাছে হস্তান্তর
২০২৪ সালে জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করছে পুলিশ। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।
সিআইডির প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলমান গণঅভ্যুত্থানের সময় এই ১১৪ জন মরদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে মরদেহগুলোর শনাক্তকরণ ও প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরের ৭ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে এই মরদেহগুলো উদ্ধার, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই প্রসেসো আন্তর্জাতিক মান ও মিনেসোটা প্রটোকল অনুসারে পরিচালিত হয়, যেখানে মান্যতা পেয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে।
সিআইডির প্রধান জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় আর খুঁজে পাওয়া গেছে তাদের পরিবারের কাছে। বাকি এক জনের সন্ধানে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এই উদ্যোগ শহীদদের মর্যাদা রক্ষা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যত বিচার তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মো. ছিবগাত উল্লাহ আরো বলেন, “আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এ ধরনের সংবেদনশীল কার্যক্রম পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে নিখোঁজ শহীদদের পরিচয় নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।”
আজ এই পরিচয় শনাক্ত হওয়া আটজন শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মো. সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম মরদেহ বুঝে পাওয়ার পর আবেগে কাঁদলেন, তিনি বলেন, “আমার সন্তান সোহেলকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজেছি। অবশেষে সিআইডি আমার সোহেলকে খুঁজে দিয়েছে, তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।”
অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বুঝে পেয়ে কবরের পদ্ধতি জানিয়ে দেন এবং আবেগঘন মুহূর্তে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠান শেষে এই পরিবারের সদস্যদের কবর বুঝিয়ে দেওয়া হয়, এ সময় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর প্রতীক ফারুক ই আজম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; শিল্প মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।
-

ফারুক ই আজম: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের শনাক্তে অবিরত কাজ চলবে
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের মধ্যে যারা এখনও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তাদের সনাক্তের জন্য আমরা অবিরত কাজ করে যাবো। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুক ই আজম জানান, এরই মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ ফয়সাল সরকার, পারভেজ বেপারী, রফিকুল ইসলাম (৫২), মাহিম, সোহেল রানা, আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)। তবে এখনো অনেকের মরদেহের পরিচয় জানা যায়নি, এবং ভবিষ্যতেও যা সম্ভব, সেই অনুযায়ী তাদের শনাক্তের কাজ চালিয়ে যাবে প্রতিষ্ঠান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান, সিআইডির প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, রবিবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা এখনও চালিয়ে যাবার পরিকল্পনা রয়েছে।
-

শীত regদেশে কাঁপছে, ১৫ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ এবং কনকন ঠাণ্ডা
বাংলাদেশের সারাদেশ আজ শীতের কষ্ট experiencing করছে। দেশের মোট ১৫টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বর্তমানে শীতল শৈত্যপ্রবাহ বইছে, যা চলতে থাকতে পারে আরও দেড় থেকে দুই সপ্তাহ। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে এই শৈত্যপ্রবাহটি এক থেকে দুইবর্ষে তীব্র রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
শীতের এই মহামারীর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোরের সময় কনকনে ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে অনেক দিনমজুর ও নিচুআয়ের মানুষ সকালে কাজে বের হতে পারছেন না। শিশু ও বয়স্করা শীতের তীব্রতা ощত করতে পারছে, সঙ্গে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে থাকাকালীন মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, কুয়াশার কারণে সড়ক এবং নৌপথে যান চলাচল ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, ফলে কর্মজীবী মানুষ ও পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অংশে টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, বগুড়া, বদলগাছি, তাড়াশ, বাঘাবাড়ি, দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুমারখালির ওপর দিয়ে বর্তমানে দ্রুত শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু ও এক থেকে দুটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবাহিত হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদ-নদী অববাহিকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারে, যা দিনের বেলা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশাও পড়তে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, কখনো কখনো কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, ফলে দিনের তাপমাত্রা এবং রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি আরও বৃদ্ধি পায়।
আজ সকাল ৯টার দিকে শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সারাদেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও সাধারণত আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কিছু এলাকায় বেলা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। এই কুয়াশার প্রভাবের কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, যা শীতের সময়কালকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঈশ্বরদীতে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এবং ঢাকায় দাঁড়িয়েছে ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই শীতের শুরু থেকেই তাপমাত্রা নিম্নমুখী থাকায় শীতপ্রেমীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ শীতের এই মৌসুমটি আরও বেশি করে উপভোগ করছেন।
-

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি জোরদার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় দেশের সাম্প্রতিক নানা সমস্যা ছাড়াও নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিশেষ ভাবে আলোচিত হয়। সভার পরে তিনি ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, আইনশৃঙ্খলা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার ও ভোটের দিনগুলোতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিস্থিতি বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, সরকার সময়মত নির্বাচন অনুষ্ঠানে অঙ্গীকারবদ্ধ। যারা নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করবে, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দ্রুত চূড়ান্ত চার্জশিট দেয়ার ব্যাপারে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এ হত্যা কাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে vigilante থাকতে এবং ফ্যাসিস্ট দোসরদের প্রবেশ প্রতিরোধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
-

একইদিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট
একই দিন সরকারী ঘোষণায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্ধারিত তফসিলকে challenged করে একটি আইনগত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই রিটে দাবি করা হয়েছে যে, ১১ ডিসেম্বর একযোগে দুই নির্বাচন পরিচালনার জন্য যেসব বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করা হোক। পাশাপাশি, আইনপ্রণেতারা চেয়েছেন, একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের সময়সূচী ঘোষণা করতে।
সোমবার এই রিটটি দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী, অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উল্লেখ নেই। তাই, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া আইনসঙ্গত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচিত সরকারের অধীনে হতে হবে।
এই রিটের শুনানি চলতি সপ্তাহে হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এরসমক্ষে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যার মাধ্যমে এই বিষয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
-

ফরিদপুরে কনসার্টে বিশৃঙ্খলা, যা বললেন জেমস
ফরিদপুরের জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষ দিনটি আনন্দের বদলে দুঃখের ছায়া নেমে এসেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের খ্যাতিমান গায়ক জেমসের গান শুনতে অনেক প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে এ সময়টিই زيশ্রঙ্খলার শিকার হলো। এই ঘটনার জন্য মূলত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করছেন জেমস।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, নগরবাউলখ্যাত এই শিল্পী ও তার দলের পক্ষে একজন মুখপাত্র রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন বলেন, তারা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফরিদপুরে পৌঁছান। তখনই তারা জানতে পারেন স্থানীয়ভাবে বিশৃঙ্খলার খবর। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে, এক পর্যায়ে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জেমসও কিছুক্ষণ পরে ঢাকায় ফিরে যান।
জেমস নিজেও বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘এটি সম্পূর্ণরূপে আয়োজকদের উদাসীনতা ও ব্যর্থতার ফল।’’
আলিপর্বে একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কড়া মেজাজে তিনি স্থান ত্যাগ করছেন এবং দ্রুত গাড়িতে ওঠে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তার নিরাপত্তার দিকটি যত্ন নিচ্ছেন।
আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানের অনুকূলতা ছিল শুধুমাত্র নিবন্ধিত দর্শকদের জন্য। তবে জেমসের উপস্থিতির খবর শুনে বহু অবৈধ দর্শক ভিড় করে স্কুলে। গেট খুলে তারা প্রবেশের চেষ্টা করে, দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকারও চেষ্টা চলে। ফলস্বরূপ, স্কুল প্রাঙ্গণ ও মঞ্চে ইট-পাটকেল বা ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ শুরু হয়। এই ঘটনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন, তাদের মধ্যে অনেককে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিতে হয়। বিষয়টি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ঘটনার জটিলতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
-

সালমান খানের শুরুর ৬০ বছর পূর্তি
বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা সালমান খান আজ (২৭ ডিসেম্বর) জন্মদিন উদযাপন করেছেন, আর এ উপলক্ষে তিনি পা রাখলেন ৬০ বছর বয়সে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রীতির মতোই তিনি এবারও ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া পরিবেশে নিজের জন্মদিন উদযাপন করছেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব ও চলচ্চিত্রের কিছু নির্বাচিত নির্মাতা। আনন্দের এই মুহূর্ত উপভোগ করতে ফার্মহাউসটি ভরে উঠেছে স্বজন ও কাছের বন্ধুদের সংস্পর্শে।
জাঁকজমকপূর্ণ বড় আয়োজনের পরিবর্তে এবার সালমানের জন্মদিন উদযাপিত হচ্ছে খুবই অল্প জনের উপস্থিতিতে, যা তিনি নিজেই চেয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে থাকছে পরিবার ও দীর্ঘদিনের সহকর্মী-বন্ধুদের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সময় কাটানোর উদ্দেশ্য। জানা গেছে, এই ছোট পরিসরে মূল লক্ষ্য হলো আড্ডা, স্মৃতিচারণা ও আন্তরিক আলাপচারিতা—বড় ধরনের ক্ষণিকের আয়োজন নয়।
একটি বিশেষ ট্রিবিউট ভিডিও এদিনের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। এই ভিডিওতে সালমানের তিন দশকের ক্যারিয়ারে তার সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন পরিচালক ও কলাকুশলী তাদের ব্যক্তিগত বার্তা দিয়েছেন। তারা ভাগ করে নিয়েছেন কাজের অভিজ্ঞতা, স্মরণীয় মুহূর্ত ও তার অভিনয় জীবনের নানা গল্প, যা তুলে ধরেছে সালমানের অভিনয়জীবনের বিকাশ ও ভারতীয় সিনেমায় তার স্থায়ী প্রভাব।
ভক্তরা তার জন্য affectionately তাকে ‘ভাইজান’ বলে ডাকে। এটি শুধুই একটি ডাকনাম নয়, বরং এক ধরনের সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। যেমন বড় ভাই পরিবারকে আগলে রাখে, তেমনি সালমান খানও তার সহশিল্পী, নবীন অভিনেতা ও কর্মীর প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসা দেখান। বহু নতুন অভিনয়শিল্পী তার হাত ধরেই বলিউডে পা রেখেছেন। ‘ভাইজান’ হওয়ার পেছনে রয়েছে কর্তৃত্ব নয়, বরং দায়িত্ববোধ। এই সুন্দর মনোভাবেই বয়স বাড়লেও তিনি কেবল একজন নায়কই remain করেন না, এক প্রজন্মের মতোই হয়ে উঠেছেন একজন অভিভাবকের মতো চরিত্র।
বিশেষ করে এ বছরটি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সালমান খান হলেন বলিউডের ‘খান’ ট্রায়েডির মধ্যে শেষ ব্যক্তি, যিনি ৬০ বছর বয়সে পা রাখলেন। এর আগে চলতি বছরই ৬০ পূর্ণ করেছেন অন্য দুই খান—আমির খান ও শাহরুখ খান। এই চিহ্নটি বলিউডের এক দীর্ঘ ও শক্তিশালী অধ্যায়ের সমাপ্তির সূচক, যেখানে তিনি তিন দশক ধরে ভারতীয় সিনেমার আধিপত্য বজায় রেখেছেন। একইসঙ্গে এটির মাধ্যমে প্রমাণ হয়, বয়স যতই বাড়ুক, সালমানের শিল্পপ্রতিষ্ঠা ও প্রাসঙ্গিকতা অটুট রয়ে গেছে।
