Month: January 2026

  • জামায়াতের আমিরের সতর্কবার্তা: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেকানিজম হলে পালাতে হবে বাধ্য হয়ে

    জামায়াতের আমিরের সতর্কবার্তা: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেকানিজম হলে পালাতে হবে বাধ্য হয়ে

    আগামী নির্বাচনে কেউ যদি কোনো ধরনের ‘মেকানিজম’ বা কারসাজি করার চিন্তা করে, তাহলে তারা পালাতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির এক ভাষণে বলেন, নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে কলুষিত করার চিন্তা যারা করবে, তাদের আড়ালে থাকতে হবে না; বরং তাদের জন্য পরিণতি কঠিন হবে এবং তারা পালাতে বাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা ওই পুরনো তিন বা চারটি নির্বাচনের মতো নির্বাচন আর দেখতে চাই না। যে নির্বাচন আসুক না কেন, আসলে তা যেন অন্তর থেকে গ্রহণযোগ্য হয়, এর জন্য সবাই সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, নয়টি বা অন্য কোন ধরনের শুঁড়ি থেকে মুক্ত, এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে প্রতিটি ভোটার স্বাচ্ছন্দ্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে ভোট দিতে পারবে। যদি সেই পরিবেশ তৈরি হয়, তবে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।

    তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতা এই ব্যাপারে কম, যার ফলে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। জামায়াতের আমির বলেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য অবকাঠামো উন্নত করতে হবে, এর মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা উদ্বেগের কারণ বলে মনে করেন তিনি।

    শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এর বাইরে আরও লাখ লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। দুর্নীতি ও চুরি বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতি আবার ঘূroffব বেগে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো উচিত—যদিও এ পরিকল্পনায় সরকারের অঙ্গীকার বা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

    বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের দায়িত্ব রয়েছেন। জনগণ যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় দায়িত্ব এড়ানো হবে না।

    এছাড়াও, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মপ্রয়াস ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক তথ্য উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতা ঘোষণার মূল বার্তা ছিল গণতান্ত্রিক শক্তির। স্বাধীনতার মানসপটে বিকৃতির চেষ্টাকারীদের তিনি কড়া ভাষায় ভাষ্য দিয়ে বলেন, এই ইতিহাস অমোচনীয়, এবং যারা এ জন্য চেষ্টা করেন, তারা জাতির সাথে বিশ্বাসघাতার করছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখতে ও জাতির সম্মান বজায় রাখতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কর্নেল (অব.) মো. জাকারিয়া হোসেন। স্বাগত বক্তব্যে দেন জামায়াতের ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আবদুল বাতেন। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ অন্যরা। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে ছিলেন কয়েক শ’ ব্যক্তির উপস্থি।

  • বিএনপি প্রার্থী আন্দালিভ পার্থের কাছে আসন ছাড়ল বিএনপি

    বিএনপি প্রার্থী আন্দালিভ পার্থের কাছে আসন ছাড়ল বিএনপি

    ভোলা-১ (ভোলা সদর) আসনের জন্য বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। সোমবার বিকেলে তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এই আবেদন জানান, যা গ্রহণ করা হয়। এই আসনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সিদ্ধান্তে প্রার্থী না থাকায় বিএনপি নিজের প্রার্থী যুক্ত করতে চায়নি। বিএনপির সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গোলাম নবীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ আসার পর তিনি তা মেনে নেন। তিনি জানান, আজ বিকেলে তাঁর আইনজীবী আমিরুল ইসলামের মাধ্যমে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শামীম রহমানের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, শেষ সময় ছিল ২০ জানুয়ারি, কিন্তু আজ সোমবার তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এবারের নির্বাচনে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির এই সিদ্ধান্তে ভোলা জেলা ও দলের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দালিভ রহমান পার্থ ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান, বনানী, বারিধারা, ক্যান্টনমেন্ট) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা তাঁকে উৎসাহিত করে বলেছিলেন, তারেক রহমানের আসনেও উন্নয়ন ও নির্বাচনী ক্ষমতা রয়েছে। বিষয়টি বোঝার পর তিনি ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। বিএনপি এই আসনে প্রার্থী না রাখার ঘোষণা দেয়। প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের খবর পেয়ে বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ব্যাপক উৎফুল্ল হয়ে উঠেছেন। তারা নতুন উদ্দীপনায় মাঠে নামার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। ধনিয়া ইউনিয়নের বিজেপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ আলী বললেন, ‘আন্দালিভ পার্থ জোটের প্রার্থী নিশ্চিত হওয়ায় আমরা সংগঠিতভাবে কাজ শুরু করেছি। আমাদের ভোটের ধরণ ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।’ গোলাম নবীর মনোনয়ন প্রত্যাহার হওয়ায় জেলা বিএনপির কার্যালয় বেশ শান্তত্ব দেখা যায়। অপরদিকে, ভোলার নতুনবাজারে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং জোটের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষায় কাজ করছেন। এই পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় রাজনৈতি এজেন্সিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

  • সুজনের দাবি: নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে ১৫টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব

    সুজনের দাবি: নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে ১৫টি রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরিক সমাজ শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের কথা না বলেই بلکہ রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট রূপরেখা দেখানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনের মতে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বিচার, সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে থাকা দরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনটি ১৫টি মূল সংস্কার প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক সংলাপে এসব মত প্রকাশ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

    ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। বরং, গত ১৫ বছরে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভঙ্গুর হয়ে পড়ায় দেশে এক ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঐতিহাসিকভাবে জনগণের প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের মেরামতের পথ সম্প্রসারিত করবে বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে তিনটি মূল উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়— বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ১১টি কমিশন গঠন করা হয়।

    সংগঠনটি জানায়, এই সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি জনতার দীর্ঘদিনের আন্দোলন, আত্মোৎসর্গ ও বঞ্চনার পরিপ্রেক্ষিতে এক সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে, রাজনৈতিক দলগুলোকে ইশতেহারে এই সনদ ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট ও সক্রিয় অঙ্গীকার রাখতে হবে।

    প্রস্তাবিত ১৫ সংস্কার ও প্রতিশ্রুতি তালিকায় প্রথমে এসেছে এই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা উপযুক্ত স্থানে এর সংযুক্তি। পাশাপাশি, এর বৈধতা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও আইনি জটিলতা সৃষ্টি না করতে সরকার ও সংসদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। ড. বদিউল আলম বলেন, অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক দমন–পীড়নের সংস্কৃতি রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মানবাধিকারসম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমের জন্য ইশতেহারে সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে।

    সুজন আরও বলেছে, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শক্তিশালী করতেও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

    সংলাপে আরও বলা হয়, সংবিধান সংস্কারে প্রস্তাবিত জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, নির্বাহী, সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠা ছাড়াও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করা এবং সংসদের কার্যক্রমে কার্যকর নজরদারি হওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।

    নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সুজন স্পষ্ট করে বলেছে, সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা বাড়ানো ও সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, নারী নির্যাতন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নারী নেতৃত্বের প্রসার নিশ্চিত করতে হবে।

    এছাড়া, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বলা হয়, যাতে ক্ষমতা ও আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম জোরদার হয়। নিয়মিত স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন, সংবিধান ও দেশের প্রভাবমুক্ত উন্নয়ন কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হয়।

    স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা, মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা, পরিচ্ছন্ন পানি ও বায়ু সংরক্ষণ, পাশাপাশি জাতির স্বার্থে পররাষ্ট্রনীতির পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লিখিত হয়েছে। বাংলাদেশকেঅন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্বাভাবিক স্বাভাবিক ও স্বতন্ত্র মানসিকতা বজায় রাখতে চায় সুজন।

    ড. বদিউল আলম বলেন, দেশের রাজনীতি যে অবক্ষয়ের শিকার, তা শুধরে না নেওয়া হলে গণতন্ত্র আরও দুর্বল হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হওয়া রাজনীতি বন্ধ করতে না পারলে নির্বাচনী সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলতেই থাকবে।

    তিনি পরবর্তীতে বলেন, জনগণ এখন আর কেবল আশ্বাসে বিশ্বাস করে না, তারা দেখতে চায় কাদের কত দ্রুত ও কত কার্যকরভাবে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। এই ইশতেহারই আসল স্পষ্টতা দেয়—কারা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত।

  • আমদানি শুল্ক হ্রাসে স্মার্টফোনের দাম হলে কাঙ্ক্ষিত ৬০ শতাংশ কমবে

    আমদানি শুল্ক হ্রাসে স্মার্টফোনের দাম হলে কাঙ্ক্ষিত ৬০ শতাংশ কমবে

    দেশের সাধারণ মানুষের কাছে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে এবং ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য করতে সরকারের উদ্যোগ বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার এক বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে যাতে কাগজের নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনার ব্যয় বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হয়। এই ব্যয় কমানোর জন্য ক্যাশলেস লেনদেনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করেছে। এর মাধ্যমে অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে এবং নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া হ্যান্ডসেটের ওপর নজরদারি বাড়বে।

    এসব পদক্ষেপ কার্যকর করার জন্য, সরকার মোবাইল ফোনের দাম আরও নাগালে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোবাইল আমদানিতে শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এর ফলে, পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোনের আমদানির ওপর শুল্কের হার প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে, বাজারে আমদানিকৃত ও দেশীয় নির্মিত মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কতটুকু দাম কমবে?
    এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, এই শুল্ক কমানোর ফলে ক্রেতারা সরাসরি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন। ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের আমদানিকৃত মোবাইলের দাম প্রায় ৫৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে, ও বেশিরভাগ দেশীয় মোবাইলের দাম ১৫۰০ টাকা হ্রাস পাবে।

    দেশীয় মোবাইল কোম্পানির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে তারা অন্য কোনো প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে। এনবিআরের দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মোবাইলের যন্ত্রাংশ বা উপকরণের আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে, স্থানীয় শিল্পের উপকরণ আমদানির ওপর শুল্কের হার প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।

    এনবিআর জানিয়েছে, সরকার মূলত চাইছে স্মার্টফোনের দাম সাধারণ নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার। স্মার্টফোনের দাম কমলে আরো বেশি মানুষ ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে, এই শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে বলে সরকারের আশা প্রকাশ করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন দাম কার্যকর হলে মোবাইল বিক্রি বাড়বে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন গতি আসবে।

  • মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াউ সোয়ে মোকে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে দেখা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তেচ্ছিব্রিজ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের দিকে গুলি চালানোর ঘটনায় শিশু আহত হয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, বিনা উস্কানিতে গুলি চালানো আইনগত দিক থেকেও অগ্রহণযোগ্য, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলি বন্ধে মিয়ানমারকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ এ জন্য মিয়ানমারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে এই ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় এবং বাংলাদেশের জনগণের জীবন ও জীবিকা নিরাপদ থাকে।

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন যে, তার সরকার এই ধরনের ঘটনাগুলি বন্ধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এরপর তিনি আহত শিশুটি ও তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

  • বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যু: সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যু: সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ আহ্বান মির্জা ফখরুলের

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর অমানুষিক নির্যাতনে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য তিনি সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

    মির্জা ফখরুল এক বিবৃতিতে বলেন, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে জীবননগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য অস্ত্র উদ্ধারের নামে ধরে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক অমানুষিক নির্যাতন চালান। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই ধরনের ঘটনায় দেশের জন্য শুভ兆 নয় এবং বিচারবহির্ভূতভাবে একজন নগর নেতা কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা দেশের আইনের প্রতি অবমাননা।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা বিচারবহির্ভূতভাবে সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কোনও অপরাধের জন্য দোষীদের বিচার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা। কিন্তু চুয়াডাঙ্গায় শামসুজ্জামান ডাবলুকে অস্ত্র উদ্ধারের নামে আটক করা ও vervolgens তাকে নির্যাতন করে হত্যা অনভিপ্রেত এবং গ্রহণযোগ্য নয়।

    ফখরুল অনুরোধ করেন, এই লোমহর্ষক কল্পনাতীত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানান।

  • মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নারীসহ ৩ যাত্রী নিহত, যানচলাচল বন্ধ

    মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নারীসহ ৩ যাত্রী নিহত, যানচলাচল বন্ধ

    মাদারীপুরে একটি গুরুতর দুর্ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় এক নারীসহ তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা সাধারণ যান চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি করে।

    ঘটনাটি ঘটে আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ইউনিয়নের এলাকায়। হতাহতদের পরিচয় এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি, তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই বলছেন বেড়ানোর বা কাজে যেতে থাকা শ্রমিক বা সাধারণ মানুষ।

    মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনাটি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটেছে।

    নিহতরা হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খামারবাড়ি এলাকার আব্বাস তালুকদারের স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৩৫), একই এলাকার জাকির তালুকদারের স্ত্রী তাসলিমা (৪৬), এবং ডাসার উপজেলার পান্তাপাড়া এলাকার রুহুল হাওলাদারের ছেলে নয়ন হাওলাদার (২২)। পাশাপাশি, গুরুতর আহত হয়েছেন সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকার বিল্লাল খানের ছেলে রনি খান (৩৩), এবং আহতের আরেকজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কাঁচামরিচ এবং অন্যান্য মালপত্র নিয়ে রাজৈরের টেকেরহাট থেকে বরিশালের দিকে যাচ্ছিল একটি কাভার্ডভ্যান। মাঝপথে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় এসে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই দুই ভ্যানযাত্রী নিহত হন, আহত হন আরও তিনজন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, এলাকাবাসী টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে, যানবাহনগুলো আটকা পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, হাইওয়ে থানা, ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

    প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুর দেড়টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং যানচলাচল পুনরায় শুরু হয়। এই দুর্ঘটনা এখন তদন্তাধীন ও নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য কাজ চলছে।

  • সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বাড়লো, সিদ্ধান্ত বাতিল

    সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বাড়লো, সিদ্ধান্ত বাতিল

    সরকার সম্প্রতি এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর পরিকল্পনা বাতিল করে আগের হারে তা বহাল রেখেছে। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ সম্পর্কিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে জানানো হয় যে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল, আগামী ছয় মাসও সেই হারই বহাল থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার প্রথমে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই সঞ্চয়পত্রের ওপর বেশিভাগ নির্ভরশীল, ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় বলেও মনে করা হয়।

    জানা গেছে, রোববার অফিস খোলার পর উচ্চ পর্যায় থেকে সেই প্রজ্ঞাপন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং মুনাফার হার পূর্বের অবস্থায় রাখতে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বর্তমানে সরকারের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট স্কিম রয়েছে। সেগুলোর সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ — মানে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত — এবং এর বেশি বিনিয়োগের জন্য আলাদা করে মুনাফা দেওয়া হয়। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত মুনাফার হার কিছুটা কমে আসে। একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ রয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি কোনো সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলতে হয়, তাহলে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে মুনাফার হার আরও কমে যায়। যেখানে মুনাফার টাকা পরিশোধ করা হয়, সেখানে মূল টাকার সঙ্গে নির্ধারিত হারে সমন্বয় করা হয়।

    পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা আগে কমিয়ে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ করা হয়েছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই হার আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে আনা হয়েছিল। এসব পরিবর্তনসহ সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগের মতোই থাকবে।

    গত বছর জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ট্রেজারি বোন্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হয়। এ জন্য ৫ এবং ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুসারে তাদের মুনাফা নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমানো হয়। গত বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই নতুন হার ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হবে।

    সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, বেশি করে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল। জরুরি পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র ভেঙে वित्त সংকট মোকাবেলা করেন তারা, আবার প্রতিমাসে ছোটখাটো আয়ের একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় আসে। মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘসময় দেশজুড়ে দরপতন হয়নি; বরং দুই বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি চলমান। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এসলেও তা এখনও ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সরকারের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ হার না কমানোই যথাউচিত।

  • একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দামে বড় আঘাত

    একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দামে বড় আঘাত

    বাংলাদেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাজুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি) সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দামে পুনরায় বড় ধরনের বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৯১৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে মানসম্পন্ন সোনার দাম এখন ছুঁয়েছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকার বেশি।

    এটি কার্যকর হবে আগামী ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার থেকে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইসডটওআরজি সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠেছে ৪৪৪৫ ডলার।

    নতুন দাম অনুযায়ী, বিভিন্ন মানের স্বর্ণের ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, প্যাকেজের পরিমাণ অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রুপার দামের বৃদ্ধিও। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৯২৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।

  • ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন যে, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের কারসাজির মাধ্যমে এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

    উপদেষ্টা বলেন, কিছু ব্যবসায়ী আশা করছিলেন এলপিজির দাম বৃদ্ধি পাবে, এবং তারা আবেগিত হয়ে বিইআরসি দ্বারা নির্ধারিত মূল্য (৫৩ টাকা) ছাড়িয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি আরও জানান, এই অনিয়ম রোধে তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে প্রত্যেক জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এ সংক্রান্ত কারসাজির তদন্ত হয়।

    গতকালই একটি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই বিষয়টি আলোচনা হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই দামের অস্বাভাবিকতা এবং কারসাজির পেছনে কোনো বাস্তব কারণ নেই। এটি শুধুমাত্র একটি অসাধু প্রকরণ এবং সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    কারাঅ করে এই কারসাজি করেছে তা জানতে চাইলে, উপদেষ্টা বলেন, মূলত খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ী মিলেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম চালিয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি এই বিষয়ের পরীক্ষায় লিপ্ত হয়ে দরিদ্র জনগণের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।